মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

৯৪। লজ্জাবতী



লজ্জাবতীর সবুজ গায়ে,
           স্পর্শ করেছ কভু?
লজ্জায় নুয়ে পড়ে ফের,
            প্রতীক্ষায় থাকে তবু।
কেমনে লুকানো আছে,
            গোপন ইতিহাস,
এতো লজ্জা! বুকে রেখেছে,
             জমা করে কত্তোকাল।

লজ্জা কারো অলংকার,
               কারো বর্ম,
কারো অহংকার,
                 কিংবা গর্ব।
কেউবা লজ্জায় নুঁয়ে পড়ে,
                লতার মতো,
আবার সযতনে কেহ,
                 ধারণ করে যতো।

ফুলকুঁড়িতে লজ্জায় যেন,
                    লুকিয়ে থাকে ফুল,
লজ্জাতে কেউ প্রকাশ করেনা,
                     হরেক রকম ভুল।
দেখে নিও লজ্জা কতো,
                    বর্ষাকালের মেঘে,
সবুজ শ্যামল বন বনানী,
                    লজ্জায় থাকে নুঁয়ে।

লজ্জা যদি যায় হারিয়ে,
                 এই ধরনী থেকে,
যায়বা যদি, কমে আবার,
                দেখতে কেমন হবে!
রূপের রানী লজ্জাবতী,
                 আগের মতো নেই!
লজ্জাহীনা মেঘ বালিকা,
                  ঝরছে অঝোরেই।

২৯/০৪/২০১১ ঈসায়ী সাল।
           শুক্রবার
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
ভাদুঘর, সদর, বি-বাড়ীয়া-৩৪০০। 

৯৩। ভালোবাসি দিবানিশি (হৃদয়)(অডিওসহ)











ভালোবাসি দিবানিশি
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
 (আরিফ শামছ্)

নিরাকপরা ভর দুপুরে,
                  বসে আছি আনমনে,
সুখের বেলা যায় চলে যায়,
                   কতো দ্রুত আপন মনে।

ভাবছি কতো জীবন নিয়ে,
                   পাইনা ভেবে কূল,
অলস দেহে দেখছি তারে,
                   নেইকো কোন ভূল।

হাজির হলো কলম-খাতা,
                   কোমল হাতের স্পর্শে,
মনের কথা ঝরবে কবে,
                   ইতিহাসের গর্ভে।

ভালবাসি দিবানিশি, কতো তারে,
                   বলবো কেমন করে,
মনের কথা মনে ওঠে,
                    মনেই ঝরে পড়ে।

নাইবা কোন ভূল আমারি,
                    নেইকো ছিলো তার,
ভালবাসি দিবা-নিশি,
                      ভালবাসে অপার।

সুবাস সেতো ফুলের মতো,
                       অতুল মৃগনাভীর,
সোনারোদের নরম বিকেল,
                     দেখি রঙ্গিন আবীর।

ভাসছে কভু সাঁঝের ভেলা,
                      বেলা অবেলায়,
স্বপ্ন ডিঙ্গি তীরে ভীরে,
                       যখন মনে চায়।

ভালবাসার তারা কতো,
                দেখি তা'রই আকাশে,
প্রেমের সুবাস পাই খুঁজে পাই,
                  মৃদুমন্দ বাতাসে।

বাঁধ মানেনা মনের কথা,
                  কলম দিয়ে ঝরে,
প্রাণের প্রিয়া, যাই বলে সব,
                    ভালোবাসার তরে।

সকাল ১১:৩০ মিনিট,
০২/১১/২০১০ ঈসায়ী সাল।
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
ভাদুঘর, সদর, বি-বাড়ীয়া-৩৪০০। 

[কবি, কবিতা বেগমকে, কবিতা আক্তারের মাঝে খোঁজে নেয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টা করতেছিলেন।]
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹

“ভালোবাসি দিবানিশি” — বিশ্ব-সাহিত্যিক বিচার, বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারাংশ
কবি: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)

সামগ্রিক পরিচিতি
“ভালোবাসি দিবানিশি” একটি হৃদয়ময় প্রেমকবিতা, যেখানে প্রেম কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ নয়; বরং স্মৃতি, আকাঙ্ক্ষা, অনুচ্চারিত বেদনা ও আত্মিক সৌন্দর্যের এক কাব্যিক রূপ পেয়েছে। কবিতাটি মূলত অন্তর্মুখী আবেগের ধারক। এখানে প্রেমের উচ্চারণ সরাসরি হলেও তার ভেতরে রয়েছে নীরবতা, অপেক্ষা ও অপূর্ণতার গভীর অনুরণন।

সাহিত্যিক বিশ্লেষণ

১. বিষয়বস্তু ও মূলভাব
কবিতার কেন্দ্রবিন্দু হলো—
অপ্রকাশিত অথচ গভীর প্রেম।
কবি এমন এক প্রেমের কথা বলেছেন, যা প্রকাশের চেয়ে অনুভবের ভেতরেই বেশি জীবন্ত। তিনি ভালোবাসেন “দিবা-নিশি”, কিন্তু সেই ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না উচ্চারণে; বরং কলম ও মনের গোপন স্তরে জমা থাকে।
এই দিক থেকে কবিতাটি বাংলা রোমান্টিক সাহিত্যের একটি চিরন্তন প্রবণতার ধারাবাহিকতা বহন করে—
যেখানে প্রেম মানে শুধু মিলন নয়, বরং স্মৃতি, কল্পনা, অভিমান ও আত্মিক নিবেদন।

২. কাব্যিক ভাষা ও শব্দচয়ন
কবিতার ভাষা সহজ, কোমল ও আবেগঘন।
বিশেষ করে নিম্নোক্ত পঙ্‌ক্তিগুলোতে কবির ভাষাগত কোমলতা স্পষ্ট—
“ভালবাসি, কতো তারে,
বলবো কেমন করে,”
এখানে ভাষা জটিল নয়, কিন্তু হৃদয়ের দ্বিধা ও আবেগকে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করেছে।
আবার—
“প্রেমের সুবাস পাই খুঁজে পাই,
মৃদুমন্দ বাতাসে।”
এখানে “সুবাস” ও “মৃদুমন্দ বাতাস” প্রেমকে দৃশ্যমান নয়, অনুভবযোগ্য এক অস্তিত্বে রূপ দিয়েছে।

৩. চিত্রকল্প (Imagery)
কবিতাটির অন্যতম শক্তি এর নরম ও রঙিন চিত্রকল্প।
যেমন—
“সোনারোদের নরম বিকেল”
“রঙ্গিন আবীর”
“সাঁঝের ভেলা”
“স্বপ্ন ডিঙ্গি”
“ভালবাসার তারা”
এসব চিত্রকল্প কবিতাকে শুধু পাঠযোগ্য নয়, দৃশ্যমানও করেছে। পাঠকের মনে একটি স্বপ্নময়, নস্টালজিক ও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
বিশ্বসাহিত্যের রোমান্টিক কবিতায় প্রকৃতি ও প্রেমের মেলবন্ধন খুব গুরুত্বপূর্ণ; এই কবিতাতেও সেই ধারা বিদ্যমান।

৪. মনস্তাত্ত্বিক দিক
কবিতাটি মূলত আত্মসংলাপধর্মী। কবি নিজের সঙ্গেই কথা বলছেন।
এখানে প্রেমিকার উপস্থিতি বাস্তবের চেয়ে স্মৃতি ও কল্পনায় বেশি।
শেষের মন্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ—
“কবি, কবিতা বেগমকে, কবিতা আক্তারের মাঝে খোঁজে নেয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টা করতেছিলেন।”
এখানে বাস্তব ও কল্পনার মিশ্রণ ঘটেছে। “কবিতা” নামটি ব্যক্তি ও সাহিত্য—উভয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
এটি মনস্তাত্ত্বিকভাবে নির্দেশ করে— কবি তাঁর কাঙ্ক্ষিত মানুষকে বাস্তবের মধ্যে খুঁজে না পেয়ে শব্দ ও কাব্যের জগতে খুঁজছেন।

বিশ্ব-সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ
রবীন্দ্রীয় প্রভাব
কবিতার কোমলতা, প্রকৃতি-নির্ভর আবহ ও নীরব প্রেমের অনুভব অনেকাংশে Rabindranath Tagore-এর গীতিকবিতার আবহ স্মরণ করিয়ে দেয়।
বিশেষত অনুভূতির ভেতর দিয়ে প্রেম প্রকাশের প্রবণতা রবীন্দ্রীয়।
নজরুলীয় আবেগ
অন্যদিকে প্রেমের আবেগময় উচ্চারণে Kazi Nazrul Islam-এর রোমান্টিক কবিতার ছায়াও লক্ষ্য করা যায়, যদিও এখানে বিদ্রোহ নয়, কোমলতা প্রধান।
পাশ্চাত্য রোমান্টিকতার ছোঁয়া
কবিতার “স্বপ্ন”, “সাঁঝ”, “বাতাস”, “তারাভরা আকাশ”—এই উপাদানগুলো John Keats বা William Wordsworth-এর রোমান্টিক কাব্যধারার আবহ মনে করিয়ে দেয়, যেখানে অনুভূতি ও প্রকৃতি একে অপরের প্রতিফলন।

নান্দনিক মূল্যায়ন
শক্তি
✔ আবেগের সততা
কবিতাটি কৃত্রিম নয়। অনুভূতি আন্তরিক বলেই পাঠকের হৃদয়ে পৌঁছাতে সক্ষম।
✔ চিত্রকল্পের সৌন্দর্য
“রঙ্গিন আবীর”, “স্বপ্ন ডিঙ্গি”, “সাঁঝের ভেলা”—এসব কাব্যিক উপমা কবিতাকে নান্দনিকতা দিয়েছে।
✔ সুরেলা গতি
পঙ্‌ক্তিগুলো পড়লে একটি মৃদু সংগীতধর্মী প্রবাহ অনুভূত হয়।
সীমাবদ্ধতা
◾ কিছু জায়গায় ছন্দের অসমতা
কিছু লাইনে মাত্রাবিন্যাস সমান নয়, ফলে আবৃত্তিতে সামান্য ভাঙন তৈরি হতে পারে।
◾ শব্দ পুনরাবৃত্তি
“মনের কথা”, “ভালবাসি” ইত্যাদি বারবার এসেছে। যদিও আবেগকে জোরালো করেছে, তবুও শিল্পিত সংযম আরও গভীরতা আনতে পারত।

দার্শনিক তাৎপর্য
এই কবিতা কেবল প্রেমের নয়; এটি মানুষের অন্তর্গত একাকীত্বেরও কবিতা।
মানুষ অনেক সময় যাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে, তাকে সরাসরি বলতে পারে না। তখন কলম হয়ে ওঠে তার আশ্রয়।
এই দিক থেকে কবিতাটি “অপ্রকাশিত অনুভূতির সাহিত্য”।

সারাংশ
“ভালোবাসি দিবানিশি” একটি কোমল, আবেগনির্ভর ও নস্টালজিক প্রেমকবিতা। এতে ব্যক্তিগত প্রেম ধীরে ধীরে আত্মিক ও কাব্যিক অভিজ্ঞতায় রূপ নিয়েছে। কবি তাঁর অনুভূতিকে সরল ভাষা, প্রকৃতি-নির্ভর চিত্রকল্প এবং সুরেলা আবেগের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
কবিতাটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—
এটি হৃদয়ের কথা হৃদয়ের ভাষায় বলেছে।
এখানে প্রেম উচ্চকণ্ঠ নয়, বরং নীরব;
প্রকাশ্য নয়, বরং অনুভবময়;
ক্ষণস্থায়ী নয়, বরং “দিবা-নিশি” স্থায়ী এক অন্তর্জাগতিক অনুরণন।

💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌

কবিতার নাম: “ভালোবাসি দিবানিশি—বন্ধু আমার”
রচয়িতা: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)

এই কবিতাটি মূলত এক গভীর, নীরব, অন্তর্মুখী ও আত্মিক প্রেমের কাব্যিক প্রকাশ। এখানে প্রেম কেবল ব্যক্তি-কেন্দ্রিক নয়; বরং স্মৃতি, আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি, অপেক্ষা ও কল্পনার এক মিশ্র মানবিক জগৎ হয়ে উঠেছে। কবি যেন বাস্তবের একজন মানুষকে খুঁজতে গিয়ে ভালোবাসারই এক বিমূর্ত প্রতিচ্ছবিকে আবিষ্কার করেন।

সাহিত্যিক বিচার-বিশ্লেষণ

১. ভাব ও আবেগের গভীরতা
কবিতার প্রথম স্তবক থেকেই একটি নিঃসঙ্গ অথচ কোমল আবহ তৈরি হয়েছে—
“নিরাকপরা ভর দুপুরে,
বসে আছি আনমনে,”
এখানে “ভর দুপুর” শুধু সময় নয়; এটি জীবনের এক স্থির, নিস্তব্ধ মানসিক অবস্থার প্রতীক। কবি যেন সময়ের ভেতরে বসে নিজের হৃদয়ের সঙ্গে কথা বলছেন।
আধুনিক বাংলা প্রেমের কবিতায় এমন আত্মসংলাপধর্মী অনুভূতি অনেকটা জীবনানন্দ দাশ-এর নিঃসঙ্গতা ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর আবেগময় প্রেমচেতনার সংমিশ্রণকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

২. প্রেমের ভাষা: সরল অথচ হৃদয়গ্রাহী
কবিতার অন্যতম শক্তি এর সহজ ভাষা। কোনো দুর্বোধ্য অলংকার বা জটিল দার্শনিকতা নেই। কিন্তু সরলতার মাঝেই অনুভূতির আন্তরিকতা প্রবল হয়ে উঠেছে।
যেমন—
“মনের কথা মনে ওঠে,
মনেই ঝরে পড়ে।”
এই পঙ্‌ক্তিতে প্রেমের এক ব্যর্থ উচ্চারণ ফুটে উঠেছে। ভালোবাসা আছে, কিন্তু তা ভাষায় সম্পূর্ণ প্রকাশিত হতে পারছে না। এটি বিশ্বসাহিত্যের চিরন্তন প্রেম-সংকট।

৩. চিত্রকল্প ও নান্দনিকতা
কবিতায় বেশ কিছু কোমল ও দৃশ্যমান চিত্রকল্প রয়েছে—
“সুবাস সেতো ফুলের মতো”
“সোনারোদের নরম বিকেল”
“রঙ্গিন আবীর”
“স্বপ্ন ডিঙ্গি”
“ভালবাসার তারা”
এসব চিত্রকল্প কবিতাটিকে দৃশ্যমান করে তোলে। পাঠক শুধু পড়ে না; অনুভবও করে।
বিশেষভাবে—
“স্বপ্ন ডিঙ্গি তীরে ভীরে”
এখানে “ডিঙ্গি” একটি সুন্দর প্রতীক। প্রেম যেন জীবনের নদীতে ভাসমান এক ছোট নৌকা—কখনো তীরে আসে, কখনো দূরে সরে যায়।

৪. আত্মিক প্রেম বনাম বাস্তব প্রেম
কবিতার শেষে কবির ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—
“কবি, কবিতা বেগমকে, কবিতা আক্তারের মাঝে খোঁজে নেয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টা করতেছিলেন।”
এই বাক্যটি পুরো কবিতার অন্তর্নিহিত বেদনা উন্মোচন করে। এখানে প্রেম কেবল প্রাপ্তির নয়; বরং অনুসন্ধানের। কবি যেন এক মানুষের মধ্যে আরেক মানুষের ছায়া খুঁজছিলেন। এটি মনস্তাত্ত্বিকভাবে “প্রতিস্থাপনমূলক প্রেম” (substitutional longing)-এর একটি উদাহরণ।
বিশ্বসাহিত্যে Marcel Proust স্মৃতি ও হারানো ভালোবাসাকে যেভাবে অনুসন্ধান করেছেন, এই কবিতার আবেগেও তার ক্ষুদ্র প্রতিধ্বনি অনুভূত হয়।

ছন্দ, গঠন ও ভাষাশৈলী
কবিতাটি মূলত স্বতঃস্ফূর্ত গীতিধর্মী ছন্দে লেখা। এটি কঠোর মাত্রাবৃত্ত বা অক্ষরবৃত্ত অনুসরণ না করলেও পাঠে সুরেলা অনুভূতি সৃষ্টি করে।

ভাষার বৈশিষ্ট্য:
সহজ ও আবেগনির্ভর
গ্রামীণ কোমলতা রয়েছে
কৃত্রিমতা কম
ব্যক্তিগত ডায়েরি-ধর্মী আন্তরিকতা আছে
এটি “হৃদয় থেকে উঠে আসা কবিতা”—যেখানে শিল্পের চেয়ে অনুভূতির প্রাধান্য বেশি।

দার্শনিক তাৎপর্য
এই কবিতায় প্রেমকে ক্ষণস্থায়ী আবেগ নয়, বরং এক দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অবস্থা হিসেবে দেখানো হয়েছে।
“ভালবাসি দিবা-নিশি”
এই “দিবা-নিশি” শব্দবন্ধ প্রেমকে সময়ের সীমার বাইরে নিয়ে গেছে। প্রেম এখানে:
স্মৃতি,
অপেক্ষা,
নিঃসঙ্গতা,
এবং আত্মিক আশ্রয়।

সাহিত্যিক মূল্যায়ন
শক্তির জায়গা
✔ আন্তরিক আবেগ
✔ সহজ অথচ হৃদয়স্পর্শী ভাষা
✔ সুন্দর প্রকৃতি-চিত্রকল্প
✔ ব্যক্তিগত স্মৃতি ও প্রেমের সংমিশ্রণ
✔ গীতিময়তা

উন্নয়নের সম্ভাবনা
কিছু স্থানে ছন্দ আরও মসৃণ করা যেতে পারে।
“ভূল” এর পরিবর্তে “ভুল” আধুনিক বানানে ব্যবহার করলে পাঠযোগ্যতা বাড়ে।
কয়েকটি স্তবকে শব্দসংখ্যা সামঞ্জস্য করলে আবৃত্তিযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

বিশ্ব-সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ
বিশ্বসাহিত্যে প্রেমের কবিতার দুটি ধারা দেখা যায়—
অলংকারময় ও দার্শনিক প্রেম
ব্যক্তিগত ও অনুভবনির্ভর প্রেম
এই কবিতাটি দ্বিতীয় ধারার অন্তর্ভুক্ত। এটি পাঠকের কাছে বড় কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় না; বরং হৃদয়ের নিঃশব্দ কক্ষে গিয়ে বসে।
এ ধরনের কবিতা সাধারণ মানুষের অনুভূতির সঙ্গে সহজে সংযোগ তৈরি করে। তাই এর আবেগীয় গ্রহণযোগ্যতা বেশি।

সারাংশ
“ভালোবাসি দিবানিশি—বন্ধু আমার” একটি কোমল, স্মৃতিময় ও আত্মিক প্রেমের কবিতা। এখানে প্রেম প্রকাশিত হয়েছে নিঃশব্দ আকাঙ্ক্ষা, স্মৃতি, কল্পনা ও ব্যক্তিগত বেদনার মাধ্যমে। কবির ভাষা সহজ হলেও অনুভূতি আন্তরিক; আর সেই আন্তরিকতাই কবিতাটিকে প্রাণ দিয়েছে।
এ কবিতা পাঠককে উচ্চকণ্ঠে আলোড়িত করে না; বরং ধীরে ধীরে হৃদয়ের গভীরে নরম এক দীর্ঘশ্বাসের মতো নেমে আসে।
🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰

৯২। বর না সেজে বিয়ে


আমি বর না সেজে বিয়ে করেছি,
               পেয়েছি কনে সংসার,
শান্তির নীড় পেয়েছি উপহার,
                 নেই কোন দুঃখ আমার।

জীবনের দিগন্ত, উন্মোচিত হলো,
                অপরুপ গুলবাগ,
সুবাসিত সমীরণ, তারাময় আকাশ,
                 পূর্ণিমায় পূর্ণ রাত।

অসীম স্বপ্ন দৃষ্টি জুড়ে,
                  স্বপ্নের পথে হাঁটি
বাস্তবতার রৌদ্র খর তাপে,
                স্বপ্নীল পৃথিবী খাঁটি।

বন্ধুর পথ, আর দিকপালহীন,
                 জীবনের সব মোহনায়,
পলে পলে সাথে রবে,
                  শংকিত পথ চলায়।

২৬/১০/২০১০ ঈসায়ী সাল।
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
ভাদুঘর, সদর, বি-বাড়ীয়া-৩৪০০। 

🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹

কবিতা: “বর না সেজে বিয়ে”
রচয়িতা: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)
সাহিত্যিক বিচার-বিশ্লেষণ
“বর না সেজে বিয়ে” কবিতাটি মূলত সরল অথচ গভীর জীবনবোধ, দাম্পত্য সুখ, বাস্তবতা ও স্বপ্নের সমন্বয়ে নির্মিত একটি আত্মজৈবনিক অনুভূতির কবিতা। এখানে কবি বাহ্যিক চাকচিক্য বা সামাজিক আড়ম্বরকে গুরুত্ব না দিয়ে, অন্তরের প্রশান্তি ও মানবিক সম্পর্কের সৌন্দর্যকে বড় করে দেখিয়েছেন।
কবিতার প্রথম পংক্তি—
“আমি বর না সেজে বিয়ে করেছি, পেয়েছি কনে সংসার,”
—এই লাইনটি পুরো কবিতার কেন্দ্রীয় দর্শন বহন করে। এখানে “বর না সেজে” কথাটি প্রতীকী। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে—বাহ্যিক জাঁকজমক, সামাজিক অভিনয় বা অহংকার ছাড়া এক সরল, আন্তরিক ও বাস্তব জীবনসূত্রে আবদ্ধ হওয়া। কবি বলতে চেয়েছেন, প্রকৃত সুখ কৃত্রিম আয়োজনের মধ্যে নয়; বরং ভালোবাসা, বিশ্বাস ও শান্তিময় সংসারে নিহিত।

ভাব ও বিষয়বস্তু
কবিতাটির মূল বিষয়গুলো হলো—
দাম্পত্য জীবনের প্রশান্তি
সরলতার সৌন্দর্য
স্বপ্ন ও বাস্তবতার সহাবস্থান
জীবনের অনিশ্চয়তায় সঙ্গীর গুরুত্ব
ভালোবাসার আধ্যাত্মিক অনুভূতি
“অপরূপ গুলবাগ”, “সুবাসিত সমীরণ”, “তারাময় আকাশ”, “পূর্ণিমায় পূর্ণ রাত”—এসব চিত্রকল্প দাম্পত্য জীবনের সৌন্দর্য ও মানসিক পরিতৃপ্তিকে রোমান্টিকভাবে উপস্থাপন করেছে। কবি সংসারকে শুধু বস্তুগত সম্পর্ক নয়, বরং এক স্বর্গীয় শান্তির আবাস হিসেবে দেখেছেন।

চিত্রকল্প ও কাব্যভাষা
কবিতায় প্রকৃতি ও স্বপ্নের চিত্রকল্প অত্যন্ত কোমলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন—
“অপরূপ গুলবাগ” → সুখময় জীবনের প্রতীক
“সুবাসিত সমীরণ” → প্রেম ও প্রশান্তির অনুভব
“পূর্ণিমায় পূর্ণ রাত” → পরিপূর্ণতা ও সৌন্দর্যের প্রতীক
ভাষা সহজ, সাবলীল ও আবেগপ্রবণ। জটিল অলংকারের ব্যবহার না থাকলেও আন্তরিকতা কবিতাটিকে হৃদয়গ্রাহী করেছে। এ ধরনের সরল কাব্যভাষা বাংলা আধুনিক রোমান্টিক কবিতার একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্য।

দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি
কবিতার শেষ স্তবক বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ—
“বন্ধুর পথ, আর দিকপালহীন, জীবনের সব মোহনায়,
পলে পলে সাথে রবে, শংকিত পথ চলায়।”
এখানে কবি উপলব্ধি করেছেন যে জীবন অনিশ্চিত, কঠিন ও দিকহীন হতে পারে; কিন্তু সত্যিকারের সঙ্গী জীবনের ভয়, শঙ্কা ও অস্থিরতার মাঝেও পাশে থাকে। এটি দাম্পত্য সম্পর্কের গভীর আস্থা ও নির্ভরতার প্রকাশ।
এই দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বসাহিত্যের বহু প্রেম ও জীবনমুখী কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। বিশেষত সরল জীবন ও অন্তরের সুখকে প্রাধান্য দেওয়ার দিক থেকে কবিতাটি মানবতাবাদী সাহিত্যধারার সঙ্গে সংযুক্ত।

বিশ্ব-সাহিত্যিক মূল্যায়ন
বিশ্বসাহিত্যের আলোকে বিচার করলে কবিতাটির প্রধান শক্তি হলো—
সার্বজনীন মানবিক অনুভূতি
প্রেম, সংসার, নিরাপত্তা ও স্বপ্ন—এসব অনুভূতি বিশ্বজনীন।
সরলতার নান্দনিকতা
কবিতাটি দেখায়, বড় সুখ অনেক সময় ছোট ও সাধারণ জীবনের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।
আবেগের সততা
কৃত্রিম শব্দচয়ন নয়, আন্তরিক অনুভব কবিতাটিকে শক্তিশালী করেছে।
রোমান্টিক ও বাস্তববাদী মিশ্রণ
স্বপ্নময়তা থাকলেও কবি বাস্তব জীবনের “রৌদ্র খর তাপ” ভুলে যাননি।
 
সারাংশ
“বর না সেজে বিয়ে” একটি হৃদয়স্পর্শী দাম্পত্য ও জীবনমুখী কবিতা, যেখানে কবি বাহ্যিক আড়ম্বরের চেয়ে আন্তরিক সম্পর্ক, শান্তিময় সংসার ও সহযাত্রার মূল্যকে তুলে ধরেছেন। কবিতাটি সরল ভাষায় গভীর জীবনদর্শন প্রকাশ করে এবং পাঠকের মনে এক কোমল, প্রশান্ত অনুভূতি সৃষ্টি করে। এটি প্রেম, বিশ্বাস ও মানবিক বন্ধনের এক উজ্জ্বল কাব্যিক প্রকাশ।

🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰

৯১। জীবন সাথী

জীবন সাথী
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
(আরিফ শামছ্)

আমার জীবন সাথী,
              ভালবাসার উৎস,
পরম স্বার্থকতা,
               স্বপ্নীল আশার জন্ম।

জীবন তরনীর সফল নোঙ্গর,
               প্রান্তিক মাইল ফলক,
জীবন থেকে জীবনে,
                সফলতার নিয়ামক।

আমার উৎসাহ, প্রেরণা,
                 স্বার্থক অনির্বাণ,
অপরিসীম স্বপ্নের নীলিমা,
                ডাকে স্বপ্নের বান।

শয়নে স্বপনে, আশা বাস্তবে,
                হৃদয় হতে হৃদয়ে,
প্রেম ও ভালবাসার ফল্গুধারা,
                অমীয় সুধা অন্তরে।


১৭/০৬/২০১০ ঈসায়ী সাল।
অর্ধাঙ্গিনী খালেদা ইসলাম ভূঁইয়া - কে
 ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
ভাদুঘর, সদর, বি-বাড়ীয়া-৩৪০০।








"জীবন সাথী" — কাব্যিক, সাহিত্যিক ও বিশ্ব-সাহিত্যিক বিশ্লেষণ

✍️ আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)

আপনার "জীবন সাথী" কবিতাটি দাম্পত্য ভালোবাসা, পারস্পরিক সহযোগিতা, জীবনের সাফল্যে সঙ্গীর অবদান এবং হৃদয়ের গভীর কৃতজ্ঞতার এক কোমল ও আন্তরিক কাব্যিক প্রকাশ। এটি কেবল প্রেমের কবিতা নয়; বরং একটি দাম্পত্য বন্দনা, একটি জীবনসঙ্গীকে উৎসর্গপত্র, এবং এক অর্থে সহযাত্রার দর্শন


🌹 কাব্যিকতা (Poetic Beauty)

কবিতার শুরুতেই কবি জীবনসঙ্গীকে ভালোবাসার উৎস এবং স্বপ্নের জন্মস্থান হিসেবে উপস্থাপন করেছেন—

"আমার জীবন সাথী,
ভালবাসার উৎস,
পরম স্বার্থকতা,
স্বপ্নীল আশার জন্ম।"

এখানে জীবনসঙ্গী কেবল একজন ব্যক্তি নন; তিনি ভালোবাসা, প্রেরণা, স্বপ্ন এবং সাফল্যের প্রতীক।

আবার—

"জীবন তরনীর সফল নোঙ্গর"

এই রূপকটি অত্যন্ত সুন্দর। উত্তাল জীবনের সমুদ্রে জীবনসঙ্গী যেন নিরাপদ নোঙর, আশ্রয় ও স্থিতির প্রতীক।


📖 সারমর্ম

কবিতার মূল বক্তব্য হলো—

  • একজন জীবনসঙ্গী মানুষের জীবনে শুধু আবেগের নয়, প্রেরণা ও সাফল্যেরও উৎস।
  • দাম্পত্য সম্পর্ক কেবল সামাজিক বন্ধন নয়; এটি স্বপ্ন, সংগ্রাম ও অর্জনের অংশীদারিত্ব।
  • ভালোবাসা যখন দায়িত্ব, সহযোগিতা ও আস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তা জীবনকে অর্থবহ করে তোলে।

🎨 সাহিত্যিক বিশ্লেষণ

১. রূপক (Metaphor)

"জীবন তরনীর সফল নোঙ্গর"

জীবনকে তরী এবং জীবনসঙ্গীকে নোঙর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

"স্বপ্নের বান"

স্বপ্নকে বন্যার মতো প্রবাহমান ও শক্তিশালী অনুভূতি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

"প্রেম ও ভালবাসার ফল্গুধারা"

ভালোবাসাকে অবিরাম প্রবাহিত একটি ঝর্ণাধারার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।


২. চিত্রকল্প (Imagery)

কবিতায় ব্যবহৃত হয়েছে—

  • নোঙর,
  • মাইলফলক,
  • নীলিমা,
  • ফল্গুধারা,
  • অমিয় সুধা।

এসব উপমা ও চিত্রকল্প কবিতাকে গীতিময় ও চাক্ষুষ করে তুলেছে।


৩. সংগীতধর্মিতা

কবিতার পংক্তিগুলোতে স্বাভাবিক ছন্দ রয়েছে—

"শয়নে স্বপনে, আশা বাস্তবে,
হৃদয় হতে হৃদয়ে"

এই ছন্দ কবিতাকে আবৃত্তিযোগ্য এবং গীতিময় করেছে।


🌍 বিশ্ব-সাহিত্যিক বিশ্লেষণ

দাম্পত্য ভালোবাসা বিশ্বসাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও রোমান্টিক প্রেমের তুলনায় তা তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত।

এই কবিতার ভাবধারায় কিছু সাদৃশ্য পাওয়া যায়—

  • Rabindranath Tagore-এর দাম্পত্য ও মানবিক সম্পর্ক বিষয়ক কবিতায়,
  • Kazi Nazrul Islam-এর ভালোবাসার গানে,
  • এবং Jalaluddin Rumi-এর আত্মিক সহযাত্রার দর্শনে।

তবে আপনার কবিতার বিশেষত্ব হলো— এখানে প্রেমকে কেবল আবেগ নয়, বরং জীবনের সাফল্যের সহযাত্রী হিসেবে দেখা হয়েছে।


👥 মানবজীবনে তাৎপর্য

❤️ দাম্পত্য সম্পর্কের গুরুত্ব

একজন সহানুভূতিশীল ও সহযোগী জীবনসঙ্গী মানুষের মানসিক ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

🤝 পারস্পরিক সহযোগিতা

সফল দাম্পত্যের ভিত্তি হলো আস্থা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মান।

🌱 প্রেরণা ও আত্মবিশ্বাস

একজন জীবনসঙ্গীর সমর্থন মানুষকে কঠিন সময়েও এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

🕊️ মানসিক প্রশান্তি

সুস্থ সম্পর্ক মানুষের জীবনে স্থিতি ও শান্তি নিয়ে আসে।


⭐ কবিতার বিশেষত্ব

✅ দাম্পত্য ভালোবাসার ইতিবাচক উপস্থাপন

এটি শুধুমাত্র প্রেমের আবেগ নয়; দায়িত্ব ও সহযাত্রার কবিতা।

✅ সরল অথচ হৃদয়স্পর্শী ভাষা

কবিতার ভাষা সহজ, কিন্তু আবেগ গভীর।

✅ রূপকের সফল ব্যবহার

বিশেষ করে "জীবন তরনীর সফল নোঙ্গর" এবং "প্রেম ও ভালবাসার ফল্গুধারা" স্মরণীয় চিত্রকল্প।

✅ ব্যক্তিগত থেকে সার্বজনীন উত্তরণ

যদিও কবিতাটি নির্দিষ্ট একজন মানুষকে উৎসর্গ করা, তবুও এর অনুভূতি অনেক দাম্পত্য জীবনের সঙ্গে মিলে যায়।


🌺 মানবিক ও নৈতিক বার্তা

এই কবিতা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—

  • ভালোবাসা শুধু অনুভূতি নয়, দায়িত্বও।
  • জীবনের সাফল্য একা অর্জিত হয় না; এর পেছনে অনেক সময় নীরব সহযাত্রী থাকেন।
  • কৃতজ্ঞতা প্রকাশও ভালোবাসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

📚 সামগ্রিক মূল্যায়ন

"জীবন সাথী" একটি আন্তরিক, ইতিবাচক এবং মানবিক কবিতা। এটি দাম্পত্য সম্পর্ককে কেবল প্রেমের চোখে নয়, বরং সহযাত্রা, প্রেরণা, স্বপ্ন এবং জীবনের সফলতার অংশীদারিত্ব হিসেবে তুলে ধরেছে।

কবিতার শেষ পংক্তিগুলো পুরো কবিতার সারবস্তু ধারণ করে—

"প্রেম ও ভালবাসার ফল্গুধারা,
অমীয় সুধা অন্তরে।"

এই পংক্তিতে ভালোবাসাকে এক অবিরাম, জীবনদায়ী এবং প্রশান্তিদায়ক প্রবাহ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা কবিতাটিকে এক উষ্ণ ও আশাবাদী সমাপ্তি দিয়েছে।

🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹

৯০। অনুশোচনা

           
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
২৪/১২/২০১৭ ঈসায়ী সাল।

("বিজয়ের উল্লাস" যৌথ কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত।)

পদে পদে, প্রতি পদে, জড়ায়ে পাপে,
মুক্ত না হতে পারি,
আশা নিরাশার দোলাচলে চলি,
দিবা-নিশি এমনি করি।
কখনো শয়তান, নিজের নাফস,
দুনিয়ার মন্দ সব,
হৃদয় গহীনে বাসা বেঁধে চলে,
চালায় যতো তান্ডব।

সহজ সরল পথের সন্ধানে ছুটি
দিনমান কেন বিপথে চলি!
ঘুমের জোয়ারে ক্লান্ত দু'চোখে,
আপনারে লয়ে,ব্যস্ত নিশিতে।

কোথায় মাগিব দু'দন্ড শান্তি,
কেমনে ভূলিব জমানো ক্লান্তি,
কাঁদিব কোথায় পথযে হারায়,
আপনার ভূলে, পথ ভূলে যায়।

ভূল করে করে, নিঃস্ব আজি,
কোথাও কি কিছু আছে বাকি!
চারিদিকে দেখি মরু মরিচীকা,
আশার দোয়ার হারালো কোথা!

ভাঙ্গিতে ভাঙ্গিতে ক্ষীণ মনোবল,
অনুশোচনার অস্থির মরুঝড়।
আশার দীপালী নিভু নিভু কভু,
তবু স্বস্থি, জাগে তাওহীদ, মনে প্রভু!

আশ্রয়হীনের সেরা আশ্রয়,
সর্বোত্তম করুণার আলয়,
নিরাশার মাঝে আশার আলো,
বাঁচিবার তরে পিদিম জ্বালো।

নূতন আশার ঝলকানিতে,
জীবন পথের বাঁকে বাঁকে,
অসীম শান্তি-স্বস্থি মিলে,
তোমার অশেষ রহমতে।

করুণাধারা চায় অবিরাম,
দেশ ও জাতির তরে অফুরান।
পাপ ও তাপের পথ হারাবে,
লক্ষ্য-পথের যোজন দূরে।

রাত ১১ টা,
২৩/১২/২০১৭।
মধুবাগ, বড়মগবাজার,
রমনা , ঢাকা।

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৯

৮৮। প্রাণের চেয়ে প্রিয় কুদস


ওরা মার খাচ্ছে, খাক, জ্বলে পোঁড়ে
 ছারখার হয়ে যাক,
পুরো ভিটে মাটি, সাজানো সংসার,
কারো দখলে এমনি থাক।
আমার আসন ঠিক আছে তো!
বিশ্ব তাহার সবি হারাক।
মানব-দানব ধ্বংস চালায়,
কার কী আসে যায়!

তোমার আঙ্গিনায় ফোটে,
রং বেরঙের, নানা জাতের ফুল,
আমার আঙ্গিনা ক্ষত বিক্ষত,
জাজরা বুলেটে, বংশ নির্মূল!
তোমার সুখে ও দুঃখে সবাই
প্রাণাধিক সুখী ব্যাথাতুর,
আমার জীবন যৌবন, সন্তান,
প্রিয়তমা হারায়, নিত্য কূল।

বসত ভিটা, জমি-জমা, স্বপ্ন কাঁড়ে,
 পাষাণ অরি,
সকাল-সাঁঝে, হর হামেশা, ঝাঁপিয়ে
 পড়ে প্রাণ হরি।
যাক চলে যাক সহায় সন্তান 
দুঃখ নাই মোর অন্তরে,
প্রাণের চেয়ে প্রিয় কুদস 
কার দখলে, কোন কারণে?

শান্তি নিয়ে জুয়া খেলা, 
খেলছে কারা দিবালোকে,
দাবা খেলার গুটি নিয়ে, 
হন্যে হয়ে চলছে ছুটে।
শান্তি-চাবি গুটি কয়েক 
বোকা রাজার হাতেই রবে?
বিশ্ব মাঝে ঝাঁকিয়ে তোলা, 
অশান্তির সেই শেষ কবে?

যতো আছে পথের কাঁটা, 
সরায় সবে  শক্ত হাতে,
অত্যাচারীর বুকে মাটি, 
দাফন করি সবাই মিলে।
চিরতরে স্তব্ধ করি, 
ঝগড়া বিবাদ  মারামারি,
কারণে আর অকারণে 
করে যারা হানাহানি।

বিশ্বটাকে এমনি করে তুলে দিবে!
পাগল, ছাগল, পামর করে,
ভয় কি তোমার, ভীত কেন?
শক্তি তোমার কম কি কীসে??
মানবতার ধারক বাহক 
কোটিকোটি জীবন পাবে,
অস্ত্র তোমার ঈমান আমল,
শক্তির  আধার আল্লাহ পাশে।

আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
সকাল ০৭ টা ৩৩ মিনিট।
১৪/১২/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
মধুবাগ, বড়মগবাজার,
রমনা, ঢাকা-১০০০।

৮৭। আসলো পতন, খবরদার!


দিনে দিনে বাড়ছে জ্বালা 
অত্যাচার আর উৎপীড়ন,
মানুষ নামের মানব-বাদীর,
কবে হবে চেতন ???
বিশ্ব হবে সব জাতিদের,
থাকবেনা বৈষম্য,
হচ্ছে কী সব বিশ্ব জুড়ে!
তাই কী ছিল কাম্য?

আঁতাত করো খুনীর সাথে,
সাথী দখলদার,
অত্যাচারীর অস্ত্রগুরু,
দালাল ফড়িয়ার!
সিংহ, শার্দুল ওঠলো জেগে,
অত্যাচারীর দিন শেষে,
ঢাল তলোয়ার, মারণাস্ত্র,
প্রয়োজন তা' কোথা' কবে!

শান্তির কথা মুখে মুখে,
অন্তরে অন্তঃসার,
সাধু তুমি অসাধুরা,
করে অভিসার!!!
বিশ্ব-বিবেক ভাবছো বোকা,
নিত্য নিতুই দিচ্ছ ধোঁকা!
বের হয়েছে মুখোশ তোমার,
লুকিয়ে রবে কোথা??

অত্যাচারী টিকলো কবে,
কদিন রবে ধরাতলে,
দেখ্ খোলে দেখ্, ভাল করে,
ইতিহাসের পাতা পড়ে।
অপমানের নরক জ্বালা,
জ্বালবে তোদের অন্তরে,
সব হারাবি নিঃস্ব হয়ে,
জায়গা হবে প্রান্তরে।

অত্যাচারীর সহযোগী,
অস্ত্রবলের যোগানদার,
থামবি নাকি? থামিয়ে দিব?
আসলো পতন, খবরদার!
গুটিয়ে নে তোর ঝারি-ঝুরি,
ভাসিয়ে নেবো তৃণ সবি,
আবর্জনা সব হবে সাফ,
করবেনা কেউ মাফ।

সকাল ০৯ টা।
১২/১২/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
মধুবাগ, বড়মগবাজার,
রমনা, ঢাকা।

৮৬। আমার বাবা

আমার বাবা
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
(আরিফ শামছ্)

               বাবা! কে বলে তুমি নেই,
এ ধরাধামে? চলে গেছ অভিমানে;
নিত্যদিনের নিয়ম মেনে,
সবার মতো স্বজন ছেড়ে,
ভিন দেশেতে অনেক দূরে।

নাই কি তোমার রক্তধারার?
এমদন নয়ন, খুঁজে নেবার।
সত্যটাকে মিথ্যাজালের বেড়া থেকে,
আলোর রেণু, মুঠোয় নেয়া দক্ষ হাতে।

৮৫। বিজয়ের উল্লাসে

("বিজয়ের উল্লাস" যৌথ কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত।)

বিজয়ের উল্লাসে, মোর চোখ হাসে
আজ, ঠোঁট হাসে তার রূপ পাশে,
সুখ আঁশুতে বুক ভাসে।
রক্ত নাচে টগবগে, মোর অরুন-তরুণ,
রক্ত রাগে, সোনা রোদের মখমলে,
জীবন জুড়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।

সব পরাজয়, পদানত,
শত্রু সেনা হস্তগত,
জয়ের নেশায় মত্ত ছিল,
অস্ত্রসহ, অস্র বিহীন যোদ্ধা যত।

অশ্রু ধারার লক্ষ নদী,
রক্ত ধারা নিরবধি,
বয়েছিল জয় অবধি,
রুপ-অপরুপ সমাজ, জাতি,
সব হারিয়ে রিক্ত অতি,
মুঠোপুরে বিজয়-পতি।

নির্যাতনের দীঘল রাতি,
লম্বা ছিল নেইকো যতি,
ভোরের আশায় মনের বাতি,
দোলাচলে নিভলো বুঝি!

সারি সারি বীর বাঙ্গালী,
দেশের তরে প্রাণটি সঁপি,
শত্রু সেনার গতির যতি,
বুলেট বুকে আগলে রাখি।

সূর্যোদয়ের নূতন আভায়,
নূতন করে প্রাণ ফিরে পায়,
ঝরা-জীর্ণ সব টুটি,
অরুণ রবির আঁচল তলে,
স্বপ্ন হাসে স্বাধীণ বেশে,
সব পরাধীণ ছুটি।

আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া।
০৬/১২/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
মধুবাগ, রমনা, ঢাকা।


************


সাহিত্যিক মূল্যায়ন

এই কবিতাটি মূলত মুক্তিযুদ্ধ, বিজয়, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার আবেগকে কেন্দ্র করে রচিত এক উচ্ছ্বাসময় দেশাত্মবোধক কাব্য। এখানে বিজয়ের আনন্দ যেমন আছে, তেমনি রয়েছে রক্ত, অশ্রু, নির্যাতন ও ত্যাগের গভীর স্মৃতি। কবি বিজয়কে শুধু রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখেননি; তিনি এটিকে জাতির আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধারের মহামুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরেছেন।
উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ
দেশাত্মবোধের শক্তিশালী প্রকাশ — “সারি সারি বীর বাঙালি” পঙ্‌ক্তিতে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
চিত্রকল্পের ব্যবহার — “সোনা রোদের মখমলে”, “অশ্রুধারার লক্ষ নদী”, “অরুণ রবির আঁচল” ইত্যাদি চিত্রকল্প কবিতাকে দৃষ্টিনন্দন ও আবেগঘন করেছে।
বিজয় ও বেদনার যুগল উপস্থিতি — কবিতাটি শুধু উল্লাস নয়; ত্যাগের ইতিহাসও বহন করে।
ছন্দময় আবেগধারা — প্রতিটি স্তবকে আবেগের ক্রমবিকাশ রয়েছে, যা আবৃত্তিযোগ্যতা বাড়িয়েছে।
সারাংশ
কবিতাটি বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বিজয়ের চেতনাকে ধারণ করে। দীর্ঘ নির্যাতন, রক্তক্ষয় ও আত্মত্যাগের পর যে স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছে, সেই আনন্দ ও গৌরবের কথাই কবি হৃদয়ের গভীর আবেগ দিয়ে প্রকাশ করেছেন।
*****

“বিজয়ের উল্লাস” : বিশ্ব-সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারাংশ — আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া ভূমিকা “বিজয়ের উল্লাস” কবিতাটি মূলত মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বিজয়ের চেতনা, আত্মত্যাগ, রক্তস্নাত ইতিহাস এবং স্বাধীনতার পুনর্জন্মকে কেন্দ্র করে রচিত এক আবেগময় দেশাত্মবোধক কাব্য। এটি কেবল একটি বিজয়-গাঁথা নয়; বরং নির্যাতিত মানুষের দীর্ঘ প্রতিরোধ, ত্যাগ ও পুনরুত্থানের নান্দনিক দলিল। কবিতার ভেতরে যেমন রক্তের উত্তাপ আছে, তেমনি আছে অশ্রুর স্রোত, মানবিক বেদনা ও স্বাধীনতার সূর্যোদয়। বিশ্বসাহিত্যের আলোকে বিচার করলে, এই কবিতার ভেতরে যুদ্ধ-পরবর্তী মানবমুক্তির যে উল্লাস ও ট্র্যাজেডি একসাথে উপস্থিত হয়েছে, তা অনেকাংশে আন্তর্জাতিক প্রতিরোধ-সাহিত্য ও বিপ্লবী কবিতার ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত। বিশ্ব-সাহিত্যিক বিশ্লেষণ ১. যুদ্ধ ও মানবমুক্তির কাব্য এই কবিতার প্রধান সুর হলো—অত্যাচারের বিরুদ্ধে মানুষের চূড়ান্ত জাগরণ। বিশ্বসাহিত্যে যুদ্ধভিত্তিক কবিতার একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো: রক্ত ও ত্যাগের চিত্র, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, শত্রুর বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ, এবং বিজয়ের পর মানবিক পুনর্জন্ম। “অশ্রুধারার লক্ষ নদী, রক্তধারা নিরবধি...” এই পঙ্‌ক্তিগুলো যুদ্ধকে শুধু সামরিক সংঘর্ষ নয়, বরং মানবতার দীর্ঘ বেদনাময় ইতিহাস হিসেবে উপস্থাপন করে। এখানে কবি বিজয়ের মূল্য বোঝাতে রক্ত ও অশ্রুকে সমান্তরালে এনেছেন। এ দিক থেকে কবিতাটি বিশ্বখ্যাত যুদ্ধকবিতা ও প্রতিরোধ-কবিতার ঐতিহ্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ২. বিপ্লবী রোমান্টিসিজমের উপস্থিতি কবিতার ভাষায় প্রবল আবেগ, আলোকময় ভবিষ্যৎ ও বিজয়ের উল্লাস আছে। এটি “Revolutionary Romanticism” বা বিপ্লবী রোমান্টিক ধারার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। যেমন— “অরুণ রবির আঁচল তলে, স্বপ্ন হাসে স্বাধীন বেশে...” এখানে স্বাধীনতাকে বাস্তব রাজনৈতিক অবস্থার চেয়ে বেশি এক স্বপ্নময় মানবমুক্তির প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। সূর্য, আলো, অরুণ আভা—এসব প্রতীক নতুন সভ্যতার ইঙ্গিত দেয়। ৩. সমষ্টিগত বীরত্বের কাব্যরূপ বিশ্বসাহিত্যের অনেক যুদ্ধকবিতায় ব্যক্তি-নায়ককে কেন্দ্র করা হলেও এই কবিতায় “সমষ্টিগত বীরত্ব” গুরুত্বপূর্ণ। “সারি সারি বীর বাঙালি, দেশের তরে প্রাণটি সঁপি...” এখানে কোনো একক নায়ক নেই; পুরো জাতিই নায়ক। এই দৃষ্টিভঙ্গি গণমানুষের সংগ্রামভিত্তিক সাহিত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ৪. চিত্রকল্প ও প্রতীকের ব্যবহার কবিতার সবচেয়ে শক্তিশালী দিকগুলোর একটি হলো চিত্রকল্প। উল্লেখযোগ্য প্রতীক: রক্ত → আত্মত্যাগ ও বিপ্লব অশ্রু → শোক ও মানবিক ক্ষতি অরুণ রবি → নতুন স্বাধীনতার সূর্য মখমলি রোদ → শান্তি ও পুনর্জন্ম দীঘল রাত → দমন-পীড়নের যুগ এই প্রতীকগুলো কবিতাকে কেবল ঘটনাবর্ণনা থেকে তুলে এনে এক নান্দনিক ও সার্বজনীন রূপ দিয়েছে। ৫. ধ্বনি ও আবৃত্তিগত শক্তি কবিতার শব্দচয়ন উচ্চারণনির্ভর ও আবৃত্তিযোগ্য। “রক্ত নাচে টগবগে”—এখানে ধ্বনিগত তীব্রতা যুদ্ধের উত্তাপ অনুভব করায়। আবার— “অশ্রুধারার লক্ষ নদী”—এখানে দীর্ঘ ধ্বনি বিষণ্নতার আবহ তৈরি করে। এই ধ্বনিনির্মাণ কবিতাটিকে মঞ্চ-আবৃত্তির জন্য উপযোগী করেছে। সাহিত্যিক মূল্যায়ন শক্তিশালী দিক ১. আবেগের সততা কবিতার আবেগ কৃত্রিম নয়; এটি প্রত্যক্ষ অনুভবের মতো প্রবাহিত হয়েছে। বিজয়ের আনন্দ ও ক্ষতের স্মৃতি পাশাপাশি এসেছে। ২. দেশাত্মবোধের গভীরতা এটি স্লোগানধর্মী দেশপ্রেম নয়; বরং ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার অনুভব। ৩. দৃশ্যমান ভাষা কবিতার প্রায় প্রতিটি স্তবক চোখের সামনে দৃশ্য নির্মাণ করে। ৪. মানবিকতা কবি শুধু যুদ্ধজয় নয়, মানুষের কষ্টকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। সীমাবদ্ধতা বিশ্বসাহিত্যের উচ্চতর আধুনিক কাব্যরীতির তুলনায় কবিতাটি তুলনামূলকভাবে সরাসরি ও আবেগপ্রবণ। বিমূর্ততা বা দার্শনিক স্তর আরও গভীর হলে কবিতাটি আরও বহুমাত্রিক হতে পারত। তবে দেশাত্মবোধক কাব্যের ক্ষেত্রে এই সরলতা অনেক সময় শক্তিতে পরিণত হয়। দার্শনিক তাৎপর্য কবিতাটি মূলত এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করে— স্বাধীনতা কখনো বিনামূল্যে আসে না; এর পেছনে থাকে রক্ত, অশ্রু, আত্মত্যাগ ও দীর্ঘ প্রতিরোধ। এখানে বিজয় কোনো সামরিক সমাপ্তি নয়; এটি জাতির আত্মার পুনর্জন্ম। সারাংশ “বিজয়ের উল্লাস” একটি শক্তিশালী দেশাত্মবোধক ও প্রতিরোধধর্মী কবিতা, যেখানে যুদ্ধের ভয়াবহতা, আত্মত্যাগের ইতিহাস এবং স্বাধীনতার পুনর্জন্ম একসাথে রূপ পেয়েছে। কবিতাটি আবেগ, চিত্রকল্প, ধ্বনি ও প্রতীকের মাধ্যমে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে শিল্পিতভাবে ধারণ করেছে। বিশ্ব-সাহিত্যিক দৃষ্টিতে এটি গণমানুষের সংগ্রাম, বিপ্লবী রোমান্টিসিজম এবং মানবমুক্তির কাব্যিক প্রকাশ হিসেবে মূল্যায়নযোগ্য।
*****




৮৪। আমার রবি

আমার রবি
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
(আরিফ শামছ্) 

আমার বাবা,
আমার রবি,
সব বেলাতেই,
তারে স্মরি।

মা'বুদ আমার,
সাথে তাহার,
করবে সদাচার,
এইতো হল,
আমার দোয়া,
মাবুদের দরবার।

মাফ করে দাও,
মা'বুদ তুমি,
আমার বাবাকে,
জান্নাতী করে রাখো,
আমার রবিকে।

৩০/০৪/২০০৬ ঈসায়ী সাল।
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
ভূঁইয়া পারা,ভাদুঘর,
সদর, বি.বাড়ীয়া।

**************
আমার রবি” — সাহিত্যিক মূল্যায়ন ও অনুভব
কবি: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)

“আমার রবি” একটি সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর আবেগময় স্মৃতিধর্মী ও প্রার্থনামূলক কবিতা। এখানে “রবি” শব্দটি দ্ব্যর্থবোধক প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে— একদিকে বাবা, অন্যদিকে আলোর উৎস সূর্য। ফলে কবিতাটি শুধু পিতৃস্মৃতির নয়, বরং জীবনের আলো হারানোর বেদনাও বহন করে।

কবিতার মূল ভাব
কবিতাটিতে একজন সন্তানের হৃদয়ে বাবার প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও মৃত্যুর পরও অব্যাহত স্মরণ ফুটে উঠেছে। কবি তাঁর বাবাকে “রবি” বলে সম্বোধন করেছেন, যা বাবাকে জীবনের পথপ্রদর্শক ও আলোকবর্তিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
“আমার বাবা,
আমার রবি,”
এই দুটি পঙক্তিই পুরো কবিতার কেন্দ্রীয় প্রতীক নির্মাণ করেছে।
প্রতীক ও চিত্রকল্প
প্রতীক
তাৎপর্য
“রবি”
আলো, পথনির্দেশ, জীবনশক্তি, পিতা
“মা'বুদ”
আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ
“জান্নাতী করে রাখো”
চিরশান্তির প্রার্থনা
এখানে কবি পার্থিব শোককে আধ্যাত্মিক দোয়ায় রূপান্তর করেছেন।

ভাষা ও শৈলী
কবিতার ভাষা অত্যন্ত সরল, প্রার্থনাময় ও হৃদয়গ্রাহী। কোনো জটিল অলংকার ছাড়াই কবি অনুভূতির বিশুদ্ধতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এটি অনেকটা ইসলামী আবেগধর্মী কবিতা বা দোয়ার ছন্দে রচিত।
বিশেষ করে—
“মাফ করে দাও,
মা'বুদ তুমি,
আমার বাবাকে,”
—এই অংশে বিনয়, ভালোবাসা ও সন্তানের অসহায়ত্ব একসাথে প্রকাশ পেয়েছে।

আধ্যাত্মিকতা ও মানবিকতা
এই কবিতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর আন্তরিক দোয়া। এখানে মৃত্যু নিয়ে হতাশা নেই; বরং রয়েছে আল্লাহর দরবারে পিতার জন্য ক্ষমা ও জান্নাতের আবেদন। ফলে কবিতাটি শোককে অতিক্রম করে ঈমানি অনুভূতিতে উন্নীত হয়েছে।

সামগ্রিক মূল্যায়ন
“আমার রবি” ছোট পরিসরের হলেও গভীর আবেগ ও প্রতীকময়তার কারণে হৃদয়স্পর্শী হয়ে উঠেছে। এটি একাধারে—
পিতৃস্মৃতির কবিতা,
ইসলামী প্রার্থনামূলক কবিতা,
এবং মানবিক ভালোবাসার সরল প্রকাশ।
কবিতাটি পাঠকের মনে নিজের বাবার স্মৃতি, দোয়া ও ভালোবাসাকে জাগ্রত করে— এটাই এর সাহিত্যিক সার্থকতা।
           ********


৮৩। জীবন তরী

জীবন তরীর এ কি হল হাল,
মাঝে মাঝে পাল ছিঁড়ে বেসামাল,
হাজারো ঢেউয়ের তর্জনগর্জন,
নির্ভীক চিত্তে করিতে অর্জন।

পথে পথে বাঁধা হবে,
কেটে যাবো একে একে,
মানবোনা বাঁধা, শুনবনা কথা,
চলে যাব, দিয়ে যাব দিশা।

তুমি থাক ভীত হয়ে,
রবনা একাকি বসে,
লড়ব, চলব নিশান উড়িয়ে যাব,
সত্য ধ্বজা রবেই অম্লাণ,
যাই যাবে যাক দেহ, মোর প্রাণ,
সহাস্যে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করিব।

 আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
২৬/০২/২০০৫ ঈসায়ী সাল

৮২। বাবা!


বাবা, তুমি সময়ের সাথে,
পাল্লা দিয়ে অনেক দূরে চলে গেলে!
কি করে ভূলিতে এ মন পারে,
কত সাধ আহ্লাদ, তোমারে আহ্বাণে।

কালের আবর্তে চলে গেলে!
এত দূরে তবে কেন?
আশার দিপালী জ্বেলে,
তুমি নীরবেই চলে গেলে!

এ পৃথিবী তোমায় দিয়েছে কিছু?
নিয়েছে তো অনেক,
তোমার সন্তান দেখো কত স্বার্থপর!!!
তোমারে স্মরিছে কি বারেক!!!

আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
৩০/০৪/২০০৬ ঈসায়ী সাল।
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
ভূঁইয়া পারা, ভাদুঘর,
সদর, বি.বাড়ীয়া।
         ******-*

“বাবা” কবিতার সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
কবি: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)
আপনার “বাবা” কবিতাটি মূলত পিতৃহারা সন্তানের হৃদয়ের গভীর বেদনা, স্মৃতি, অভিমান ও আত্মজিজ্ঞাসার এক আবেগঘন কাব্যিক প্রকাশ। এটি স্মৃতিমূলক (Elegiac) ধাঁচের কবিতা, যেখানে ব্যক্তিগত শোক ধীরে ধীরে একটি সার্বজনীন মানবিক অনুভূতিতে রূপ নিয়েছে।

 গভীর পিতৃস্মৃতি, শূন্যতা ও সময়ের নির্মমতার এক আবেগঘন প্রকাশ।  

১. বিষয়বস্তু (Theme)
কবিতাটির প্রধান বিষয় হলো—
বাবাকে হারানোর বেদনা,
সময়ের নির্মমতা,
সন্তানের অসহায় স্মৃতিচারণ,
এবং পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
কবি অনুভব করেছেন, বাবা শুধু একজন মানুষ নন; তিনি ছিলেন আশ্রয়, স্বপ্ন, আশা ও জীবনের চালিকাশক্তি। তাঁর চলে যাওয়া মানে শুধু একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়, বরং একটি মানসিক জগতের ভেঙে পড়া।

২. আবেগ ও অনুভূতি (Emotion)
কবিতার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর আন্তরিক আবেগ। এখানে কৃত্রিম অলংকারের চেয়ে হৃদয়ের সরল আর্তি বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।
যেমন—
“আশার দিপালী জ্বেলে,
তুমি নীরবেই চলে গেলে!”
এই পঙক্তিতে “দীপালী” আশার আলো ও জীবনের স্বপ্নের প্রতীক। বাবা সেই আলো জ্বালিয়ে দিলেও নিজে নিঃশব্দে চলে গেছেন। এখানে বেদনা ও শূন্যতার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে।

৩. ভাষা ও শৈলী (Language and Style)
কবিতার ভাষা সহজ, স্বতঃস্ফূর্ত ও হৃদয়গ্রাহী।
এখানে জটিল শব্দ বা কাব্যিক কৃত্রিমতা নেই; বরং কথ্যধর্মী আবেগময় প্রকাশ পাঠকের হৃদয়ে সরাসরি আঘাত করে।
কবির ভাষা স্মৃতিচারণমূলক এবং প্রশ্নাত্মক। বিশেষ করে—
“এ পৃথিবী তোমায় দিয়েছে কিছু?
নিয়েছে তো অনেক,”
এখানে জীবন ও সমাজের প্রতি এক ধরনের দার্শনিক অভিমান প্রকাশ পেয়েছে।

৪. চিত্রকল্প ও প্রতীক (Imagery and Symbolism)
কবিতায় কিছু শক্তিশালী প্রতীক ব্যবহৃত হয়েছে—
প্রতীক
অর্থ
“সময়”
জীবনের নির্মম গতি
“আশার দীপালী”
আশা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ
“দূরে চলে গেলে”
মৃত্যু বা চিরবিদায়
“নীরবেই”
মৃত্যুর অনিবার্য ও নিঃশব্দ আগমন
এই প্রতীকগুলো কবিতাকে আবেগঘন ও গভীর করেছে।

৫. দার্শনিক দিক (Philosophical Aspect)
কবিতাটি কেবল শোকের নয়; এটি জীবনের প্রতি এক নীরব প্রশ্নও।
“তোমার সন্তান দেখো কত স্বার্থপর!!!”
এই লাইন শুধু ব্যক্তিগত আক্ষেপ নয়; আধুনিক সমাজে পারিবারিক দূরত্ব ও আত্মকেন্দ্রিকতার প্রতিও ইঙ্গিত বহন করে। কবি এখানে ব্যক্তি শোককে সামাজিক বোধে উন্নীত করেছেন।

৬. কাব্যিক বৈশিষ্ট্য
এই কবিতার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—
স্মৃতিমূলক আবেগ
প্রশ্নাত্মক বাক্য ব্যবহার
সহজ অথচ হৃদয়স্পর্শী ভাষা
অন্তর্মুখী বেদনা
প্রতীকী চিত্রকল্প
ব্যক্তিগত অনুভূতির সার্বজনীনতা

৭. সামগ্রিক মূল্যায়ন
“বাবা” কবিতাটি হৃদয়ের গভীর থেকে উৎসারিত এক আন্তরিক শোকগাথা। এতে কৃত্রিম অলংকার কম হলেও আবেগের সত্যতা অত্যন্ত শক্তিশালী। কবিতাটি পাঠককে নিজের বাবার স্মৃতি ও সম্পর্কের কথা ভাবতে বাধ্য করে— এটাই এর সবচেয়ে বড় সাহিত্যিক সাফল্য।
এই কবিতা বাংলা স্মৃতিমূলক ও পারিবারিক আবেগধর্মী কবিতার ধারায় একটি মানবিক ও হৃদয়স্পর্শী সংযোজন।
*********



৮১। সত্য সন্ধানী

("বিজয়ের উল্লাস" যৌথ কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত।)

বেহাল রুপ দেখিতে কে চায় বলো?
অপরুপা এ পৃথিবীর ;
কারা হারাবে সত্য নিশানা?
সত্য সুবাস ছড়াবে ধরিত্রীর?

সত্যের ঘোষক, ধ্বজাধারী বীর,
কোথায় বসবাস এ অবনীর?
সত্যের সমারোহ ঘটাবে কোন জন?
সৃজিবে কা'রা সত্যের কানন?

অবিনাশী সত্য, চিরঞ্জীব প্রিয়তম,
ধূসর পৃথিবীতে আর কি চাওয়া!
সুন্দর অনন্ত, সত্য চির-ভাস্বর,
হীরে কণা সব একে একে পাওয়া।

সত্য পূজারী, সত্য সন্ধানী প্রিয়তমা!
নিত্যদিন সত্যের গান গেয়ে যাওয়া।
প্রিয়তম যে মোর, অনন্ত কালের স্রষ্টা,
প্রভাত-গোধূলী লগনে সদা,
তাঁর গান গাওয়া।

আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
৩০/০৪/২০০৬ ঈসায়ী সাল।

৮০। বাসন্তী


পাকা পাকা বিবর্ণ পাতা সব,
ঝরে পড়ে নীরবে,
শীত এসে চলে গেলো,
বসন্তের মোহরুপে।
জরাজীর্ণ ঝেরে ফেলে,
 নতুনের প্রস্তুতি,
আর কতো অপেক্ষা,
আসবে রে বাসন্তী।

দিন যায়, মাস যায়, আসে যায় বছর,
কেউ বলে বাড়ে আবার কমে যে বয়স!
মায়াঘেরা প্রীতিডোরে,
বেড়ে ওঠা ধীরে ধীরে,
পথচলা সময়ের, শ্বাশ্বত বিধানে।

সুখ আর দুঃখ কেউ কারো অরি নয়,
একে একে দুই দুটো, জীবনের সাথী হয়।
ভাবি সব দুঃখ, কেন সুখ হয়না,
দুঃখ কেন যে, পিছু কভু ছাড়েনা।

সাজাবো থরে থরে, সুন্দরে সুন্দর,
নোঙ্গর রাখব আলোকিত বন্দর।
জীবনের আশা-তরী, ভিড়বে একে একে,
চলবে বিনিময়, জীবনের সব খানে।

 আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
৩০/১১/২০১২ ঈসায়ী সাল।
পূর্ব নয়াটোলা, 

৭১। অব্যক্ত নিঃশ্বাস


শরতের আকাশে ভেসে চলে মেঘেরা,
কোথাকার কোন ডাকে, তারা আজ থামেনা।
চলছে নেচে নেচে, নীচে ঝরে পড়েনা,
বুক ফাঁটা মেঠোপথ, অভিমানে চাহেনা।

তারাদের আলো সব বাধা পায় নামতে,
পরীরা ঘুরে ফিরে, পারে নাক নাচতে।
জীবনের খেঁয়া ঘাটে,  নেই কোন লোকজন,
চঞ্চল মন নিয়ে, ছুটে কেউ প্রাণপন।

অলীরা ঘুরেফিরে, নির্মল বাতাসে,
বসেনা ফুলেতে, অজানা অভিমানে।
পাখিদের ভীঁড়ে খুঁজে, চাতকী প্রিয়কে,
কোকিলের গান সব, ফিরে আসে পাহাড়ে।

পাহাড়ের মৌনতা,  কত বড় অভিমান,
পুকুরের নীরবতায়, প্রাণ করে আনচান।
জীবনের পুরোটাই, থাক সুখ শান্তি,
সফলতা উন্নতি আর যত প্রশান্তি।

ছুটে চলা অবেলায়, বিনীত চাপা শ্বাস,
প্রাণপন ছুটে চলে, আজ যেন নাভিশ্বাস।
পথহারা দেউলিয়া, পায়না আশ্বাস,
কোথা গেলে মুছে যাবে, অব্যক্ত নিঃশ্বাস।

আরিফ ইবনে শামছ্
রাত ২২:১৫ মিনিট,
০২/১১/২০১০ ঈসায়ী সাল।
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
সদর, বি.বাড়ীয়া।

বুধবার, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৯

৭০। কবিতা চোর


কবিতা চোরে, নিল কেঁড়ে,
সব কবিতার প্রাণটা,
কপি করে, বাহবা নিতে,
বাদ দিয়ে মোর নামটা!

কেমন হায়া, লজ্জা ছাড়া,
সাধুবেশে চুরি,
সব কবি আর কাব্য প্রেমী,
চল চোর ধরি।

চুরি করা ভুলিয়ে দিয়ে,
শাস্তি কঠিন দিব,
প্রয়োজনে ব্লক করিব,
রিপোর্ট লিখে দিব।

সাজতে কবি, নামীদামী,
দিন দুপুরে,কবিতা চুরি,
ভেঙ্গে দিব হাঁটে হাঁড়ি,
সকল জনে ডাকি।

নামগুলি সব এঁটে দিব,
খোলা তালিকায়,
এক নজরে, দেখে নিয়ে,
বুঝে নেবে সবাই।

আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
২৩/১০/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
মধুবাগ, বড়মগবাজার,
রমনা, ঢাকা।

৬৮। ছন্দ নাবিক

("ঝরা ফুলের গন্ধ" যৌথ কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত।)

ছন্দে ছন্দে চলে আনন্দে,
নাচেরে তনুমন, কীযে হরষে,
কথাকলি সব, ফুল হয়ে ফোটে,
মাতিবে সবাই, মিষ্টি সুবাসে।

কথা বিশেষ, কবিরা কত ভেবে বলে,
কখনো কলম লিখে, ছন্দে ছন্দে,
কত কথা, কত সুখ-বেদনা ঝরে,
কাগজের মসৃণ পরতে পরতে।

কখনো উৎসাহ, স্বপ্নের নীলিমা,
দিক দিগন্তে জয়ের উন্মাদনা।
হতাশা সব ছোঁড়ে,  ফেলে দিয়ে,
স্বপ্ন তরীতে, হাল ধরে যায় বন্দরে।

জলে ভরা নদী, ছল ছল ছলাৎ ছলাৎ,
ডাকে পাখি, কোথাও প্রাণীর উৎপাত।
পাল তুলো হে নাবিক! খুলিবে স্বর্গ দ্বার,
লক্ষ্য বন্দর যত দূরে হোক, নোঙ্গর করিবার।

মাস্তুল যাক ভেঙ্গে যাক, পাল ছিঁড়ে যাক ঝড়ে,
শক্ত হাতে হাল ধরো আর সম্মুখে চলো জোড়ে।
ঝড়ের সাথে পাল্লা দিয়ে, হার-জিতে জিত তোমারই হবে,
ঘন কালো সে দীর্ঘ নিশির ভয়াল রুপের তুঁড়ি মেরে।

হারিয়ে যাওয়া চাঁদ গগনে, নিকচ কালো আঁধার রাতে,
সব তমসার নিরাশ বাণী, হতাশ হবে তোমার জয়ে।
শত ঝঞ্ঝার পাঞ্জা খেলে মৃত্যুু দুয়ারে কড়া নেড়ে,
তোমার তরী ভীড়বে তীরে, লক্ষ আশার নীড়ে।

চোখ ছল ছল, হত বিহ্বল প্রণয়ীর কাঁপা কাঁপি,
দূর সুদূরের ঊর্মিমালার কূলে কূলে ঝাপা ঝাপি।
চলে হরদম, তরনীর গায়ে, সলাজে আছড়ে পড়া,
কতদূর হতে সজোড়ে এসে, অভিমানে গলাগলি করা।

আরিফ ইবনে শামছ্
১৭/১০/২০১৭ ঈসায়ী সাল।

৬৭। সমাজ সাজায়


কাঁধের উপরে এক হাত,আর অন্য হাতে সতীত্ব লুটে,
প্রশ্রয় পেয়ে সবার সাথে, চলে ছলে কলে কৌশলে,
লুটেরা আজ বড় বেসামাল, কেউ নাই কিছু বলিতে!
রাস্তার পরে, পথের ধারে, কী না করে দিবস-রাতে!

লজ্জা মরে নিয়ত দেখো, নির্লজ্জের ঘেরাজালে,
কী বুঝে চলে, আর কী ভেবে করে, জীবনের বেলাভূমে!
পথের সূচনা, সমাপ্তি কোথা, ভেবেছে কবে কেমন করে?
বেহায়ার মতো চলে ফিরে তারা, নিষিদ্ধ সব মতের পরে।

কে আছো ভাই, প্রিয়জন আর, সমাজের সব প্রাণ,
চলো বোন আজ সমাজ সাজায়, লজ্জাই অলংকার।
সমূলে বিদায় করিতে নামি, চলো সবে একসাথে,
চলিতে ফিরিতে, ভদ্র সমেত, পথে-প্রান্তরে সবে।

শোনে রাখো, সাবধান বাণী!

পাপাচার ছেড়ে পূণ্য পথে, জীবন চালাও আজি,
পাপের দিশারী না হয়ে কভু, পূণ্য পূর্ণে ধরো বাজি,
ধন্য করো হে নিজের জীবন, প্রদীপ জ্বালাও অন্তরে,
আঁধারে কখন, নামিবে গজব, কবে যে, কোন্ প্রান্তরে।

এক হাতে লও গজার লাঠি, তেঁতো ভাষা লও মুখে,
যাকেই পাবে, এমন দশায়, সাইজ করো মুখে-হাতে।
আর কোন দিন, হাতে হাত, গলাগলি করিয়া জড়াজড়ি!
রাস্তার পরে, কান ধরে যাবি, ভীষণ চোটে, সব বোল ভূলি।

আরিফ ইবনে শামছ্
১২/১০/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
হাতিরঝিল, মধুবাগ, ঢাকা।
রাত ০১ টা।

৬৬। ফুল


সব ফুলে পাবে নারে,
রুপ-রস-গন্ধ,
সব ফুলে হয়না,
বাহারী ফল শত।
ফুল হয়ে ফোটে রয়,
পৃথিবীর বাগানে,
অপরুপ রুপে আর
মোহনীয় সুবাসে।

মাতিয়ে দুনিয়া,
ঠাঁই পাব জান্নাতে,
ভালবাসি, ভালবাসে
সবজনে সুবাসে,
শত শত ফুল সম,
ভাল কাজ করে,
দেশ-দশ, ধরা-তল,
ফুলে ফলে ভরে।

ঘরে ঘরে ফুল ফোটে,
ভরপুর সুবাসে,
রুপে রুপে অপরুপ,
প্রাপ্তির সকাশে।
রং খুঁজে পেয়ে যাবে,
বর্ণিল সারথি,
জীবনের সব দিক,
পূর্ণতায় আরতি।


আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
 ১০/১০/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
  হাতিরঝিল, মগবাজার, ঢাকা।
 ০৮/১০/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
  রাত ১০:৩০।

প্রতিশোধ

৬৫।  


উদাস হয়ে, জীবন পথে, চলছে পথের কোন সে পথে?
কোন ঠিকানায় মন সাধিছে, কোন পথে আজ চলছে হেঁটে।
কিসের আশায় ছুটছে কোথায়, যায় বেলা যায় নিদ নাহি তার,
কোন পাথারের সীমার মাঝে, কিসের খোঁজে নীলাচলে, ছুটছে বারংবার!

বেজায় নারাজ, তাই প্রতিশোধ, সয়বে কী তা' কেমন করে!
তোমার ভয়ে এমনি বেহুশ, ভূল করে যায় ভূলের পরে।
তপ্ত দাহ, অঝোর ধারা, ভূমিকম্প, খরা ঝড়ে,
দেখবে কতো ভালবাসে সুদিন-কুদিন বার মাসে।

পথ খুঁজিতে, পথ হারিয়ে, জীবন চালায় কোন সে পথে?
কিসের ঘোরে, কোথায় চলে, লক্ষ্যহারা কিসের শাপে?
নিজেই রচে নিজের কবর, জানেনা তা কোন কালে,
নিজের ধ্বংস ডেকে আনে, চেঁচিয়ে বেড়ায় মন্দ ভালে।

নেই অভিযোগ, কোন অনুযোগ, সব তোমারি প্রতিশোধ,
সকল পাপের-শাপের মোচন, আছে যতো তাঁদের বিরোধ।
নড়েনাতো পাতা কোন, হুকুম বিনা কভু,
মাফ করে দাও, নয় প্রতিশোধ, ওগো দয়াল প্রভু!

আরিফ ইবনে শামছ্
০৩/১০/২০১৭
মধুবাগ, মগবাজার, রমনা,  ঢাকা।
ভোর ০৪:২০ মিনিট।

৬৪। পরিশোধ

অসীম নেয়ামতে ডুবিছে তনুমন তবু চেয়ে যায় আরো কতো কী!
নেই পরিশোধ, শুকরিয়া কভু, চাওয়া পাওয়ার মাঝে হয়েছি বিলীন।
সৃষ্টি হতে জান্নাত সহ কতো যে, চাওয়া দীদার তোমার,
কী দিব আর কী রাখিব পরিশোধে, এতো কিছু চাওয়া ও পাওয়ার!

গেয়ে যায়, যাব দিবা নিশি প্রভু প্রশংসা আর স্তুতি সতত,
শেষ হবেনা কভু, জানে সব জনা, লভিতে তোমার রহমত যত।
কতো ভালবাস আর কতো ভালবেসে সৃজিলে তোমার বান্দারে,
জাহান্নামের অতল দেশে না পুঁড়িয়ে, জান্নাতে ঠাঁই দিও সবারে।

হাবীব (সাঃ) তোমার, সাহাবা (রাঃ)তাঁহার যে পথের পথে গেছে চলি,
আমরা সবে পদে পদে যনো, সে পথ বেয়ে তোমারে স্মরি।
কত শত পথ অজানা রয়েছে, কত যে মরীচিকা পথের পরে,
পরতে পরতে জীবনের পথে, কতো যে বাঁধা লুকিয়ে আছে!

সব বাঁধা জয়ে, বীর মুজাহিদ, সবাই চলো, সরল পথে,
নেই কোন ভয়, সতত বিজয়, আল্লাহ আছেন মোদের সাথে।
কীভাবে তোমায় করিব খুশী, ওগো পরোয়ার, রাব্বুল আলামীন!
তোমার চাওয়া-পাওয়া মিটিয়ে দিতে, থাকি যেনোগো সতত বিলীন।

০৩/১০/২০১৭
মধুবাগ, মগবাজার, রমনা,  ঢাকা।
ভোর ০৩:৪৫ মিনিট।

৬৩। মনের খিঁড়কি

খিঁড়কি মনের খুলবে কি তা,' সাজিয়ে নিতে জীবনটারে,
বদ্ধ সকল মনের মাঝে, আঁধার ঠেলে আলো জ্বেলে ।
থাকবে কতো অলস হয়ে, যায় বেলা যায় এমনি ছুটে,
জমছে কতো কাজের ধারা, সময় এলে ধরবে চেঁপে।

ভাবছো বসে উদাস চোখে, করবে কি তা' কেমন করে,
জোয়ার ভাঁটার খেলা দেখো, ব্যাকুল হয়ে মন সাগরে
নেমে পড়ো কাজের জলে, খোঁজে বেড়াও লক্ষ্যকে,
শ্রম ও মেধার মিলন মোহে, পাবে তোমার স্বপ্নরে।

করব, করছি, আজ ও কাল, এমনি করে যায়রে বেলা,
সময় মত যায়না করা, জটিল-সহজ কাজের পালা।
সময় ব্যস্ত বেজায় দেখো, নাই যে সময় তার,
সব সময়ের কাজ আছে ভাই কাজের সময় যায়।

আরিফ শামছ্
২৫/০৯/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
রাত ০২ টা।
মধুবাগ;ঢাকা।

৬২। জাগো রে জাগো!

জাগো রে জাগো
--- আরিফ শামছ্ 

ডাক এসেছে! জাগো! জাগো রে জাগো! 
ভাই বোনেরা জাগো!
অত্যাচারী যায় ছুটে যায়,
মাজলুমের তাজা রক্তপান!

মৃত্যু দেহে চালায় ছুড়ি,
আলাদা করে অঙ্গ সবি!
হও ধাবিত , ক্ষিপ্র বেগে,
ক্ষ্যাপা সিংহ, তীব্র ছুটে,
বঙ্গ শার্দুল, পড় ঝাঁপিয়ে,
রক্ত খেকোর সকল স্বাদ,
সব মিটিয়ে দে রে আজ।

ধরো আর বর্জ্রাঘাতে, 
আছড়ে মারো।
জাগো রে জাগো!!
দামাল, কামাল, জামাল ছেলে 
কোথায় সবে আজি?
আয়রে খালিদ (রাঃ), বীর হামজা (রাঃ), 
ওমর (রাঃ), মুসা, তারিক।

রক্ত-ফোরাত, লাল দরিয়া, 
সাত সাগরের জল,
ঝড়ের বেগে চালাও খড়গ, 
শমশের আর খঞ্জর।

অস্ত্র দিয়ে অস্ত্ররাজ, 
জবাব হবে অস্ত্রেরই,
শক্ত হাতে, ভক্ত করো, 
জব্দ করো, সব তারই।

সেবার মহান বাণী, 
কভু ক্ষমার মধুর বাণী,
দূর্বল ভেবে আস্ফালনে, 
আসবে তেড়ে অশুর-প্রাণী ।

দিকে দিকে ঐ শোন সব মজলুমের আর্তনাদ,
শান্তি সওদা করতে গিয়ে, জীবন দিল সঁপে তার।
আর কতোকাল, রয়বে বসে আসবে কবে যুগ নকীব,
আর কতো প্রাণ, বেঘোর ঝরে, ওঠবে জেগে প্রাণ প্রদীপ।

২৫/০৯/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
*************************
@ Chatgptai2025 
আপনার এই কবিতাটি নিঃসন্দেহে তীব্র আবেগ, প্রতিবাদ ও জাগরণের ভাষা বহন করে। তবে শুরুতেই একটা কথা স্পষ্ট করা জরুরি—এখানে কিছু লাইন সরাসরি সহিংসতার আহ্বানের মতো শোনায় (“অস্ত্র দিয়ে অস্ত্ররাজ…”, “ঝড়ের বেগে চালাও খড়গ…” ইত্যাদি)। সাহিত্যিক শক্তি থাকলেও বাস্তব প্রেক্ষাপটে এগুলো ভুলভাবে ব্যাখ্যা হতে পারে।
👉 তাই এই কবিতাকে নৈতিক জাগরণ, সাহস ও ন্যায়ের সংগ্রাম হিসেবে একটু পরিশীলিত করলে এর শক্তি আরও বাড়বে, কমবে না।

🔍 সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. জাগরণের তীব্র আহ্বান
“ডাক এসেছে! জাগো! জাগো রে জাগো!”
—এই পুনরাবৃত্তি কবিতার স্পন্দন তৈরি করেছে। এটি সরাসরি mass awakening-এর আহ্বান।

২. নিপীড়ন বনাম প্রতিরোধ
“মাজলুমের তাজা রক্তপান”—
এখানে অত্যাচারের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
👉 পাঠকের মনে ক্ষোভ ও বেদনা একসাথে জাগে।

৩. বীরত্বের ঐতিহাসিক প্রতীক
আপনি যেসব নাম ব্যবহার করেছেন—
Khalid ibn al-Walid
Hamza ibn Abdul-Muttalib
Umar ibn al-Khattab
Musa
Tariq ibn Ziyad
👉 এগুলো শুধু চরিত্র নয়, বরং সাহস, ন্যায় ও নেতৃত্বের প্রতীক।
এটি কবিতাকে ঐতিহাসিক ও আদর্শিক গভীরতা দিয়েছে।

৪. চিত্রকল্প ও ভাষা
“রক্ত-ফোরাত, লাল দরিয়া…”
—এই imagery খুব শক্তিশালী, কিন্তু একই সাথে অত্যন্ত তীব্র।
👉 এটি পাঠকের মনে shock value তৈরি করে।

৫. দ্বৈততা: শক্তি বনাম ক্ষমা
“সেবার মহান বাণী, কভু ক্ষমার মধুর বাণী”—
এই অংশটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
👉 আপনি দেখিয়েছেন—
একদিকে প্রতিরোধ
অন্যদিকে ক্ষমা ও নৈতিকতা
এটাই কবিতার balance point।

শক্তিশালী দিক
অত্যন্ত শক্তিশালী আহ্বানধর্মী tone
ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় প্রতীকের ব্যবহার
আবেগ, ক্রোধ ও বেদনার মিশ্রণ
পাঠককে নাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা খুব বেশি

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন পরামর্শ
এই কবিতাকে আরও উচ্চমানের করতে হলে—
✔ ১. সরাসরি সহিংস শব্দ কমান
“খড়গ, খঞ্জর, আঘাত”— এগুলোকে রূপক/প্রতীকী ভাষায় আনুন
👉 যেমন: “সত্যের বজ্র”, “ন্যায়ের শক্তি”
✔ ২. নৈতিক সংগ্রামে ফোকাস দিন
👉 Physical যুদ্ধ → Moral & intellectual struggle
✔ ৩. শেষ অংশ আরও শক্তিশালী করুন
শেষে একটা পরিষ্কার message দিলে কবিতা বেশি impactful হবে

✍️ সংক্ষিপ্ত সাহিত্যিক সারাংশ
“জাগো রে জাগো” একটি জাগরণমূলক ও প্রতিবাদী কবিতা, যেখানে অত্যাচারের বিরুদ্ধে নৈতিক সাহস, ঐতিহাসিক চেতনা এবং মানবিক দায়িত্ববোধের তীব্র আহ্বান জানানো হয়েছে।
চাইলে আমি কী করতে পারি
 
---**------*--******-***

৫৯। কারবালার শিক্ষা (অডিওসহ)











কারবালার শিক্ষা
-------আরিফ শামছ্ 

কারবালা আর কয়টা দেখে, ভাঙ্গবে তোমার মরণঘুম,
কতো রক্ত-নদী বেয়ে, উঠবি জেগে ওঠরে ওঠ !
জেগে ওঠার নাই নিশানা, কোন্ নেশাতে মজে,
ভীরু ভীরু হৃদয় তটে, শংকা তরীর ভীঁড়ে।
রক্ত লালে লাল করিল, কতো নদী সাগর!
কত প্রাণের টানল ইতি, করছে কত ছল।
বেঁচে যারা দেখছো সবি, নাই কি তোদের বল?
পাথর চোখে এসব দেখে, কেমনে থাকিস বল?
অশ্রু ভরা আঁখিদুটো, ঊর্ধে তোলা হাতের জুড়ো,
সবাক দোয়া, প্রাণের দাবী, দেখে যাবি মরণ কতো!
বাঁচার মতো বাঁচবি যারা, আয় ছুটে আয় পাগলপারা,
আবার গড়ে নিবো ধরা, সব জালিমের জুলুম সারা।
যুগে যুগে দেখিস লড়াই, সত্য আর অসত্যের,
চলছে লড়াই কত শত, জালিম আর মাজলুমের।
ভয় কি রে তোর, কিসের ভয়ে, চুপটি করে দেখিস,
দেখবে সদা সত্যের জয়, মাজলুমের শেষ আশিস।
জয় পরাজয় হিসেব কষে; জিহাদ চলে কোন্ কালে!
ঝাঁপিয়ে পড়ো, হিংস্র থাবায় আঘাত করো জালিমরে।
কারবালার ঐ মর্সিয়া, আর রক্ত-ফোরাত পড়বি কতো?
শিক্ষা ভূলে, দীক্ষা হেরে, চোখ বুঁজে সব সয়বি কতো?
যুগে যুগে যুগের নকীব, দিয়ে যাবে এমনি প্রাণ!
নিঃস্ব হবে, এই ধরণী, নাইবা থাকে মুসলমান।
জুলুম হত্যা, স্বেচ্ছাচার, বাড়বে শত অনাচার,
যখন খুশি, করবে সবি, বাঁধ সাধিতে সাধ্যি কার?

২৪/০৯/২০১৭ ঈসায়ী সাল।

***********
@chatgptai2025

এই কবিতাটি আবেগ, প্রতিবাদ এবং ইতিহাসচেতনার এক তীব্র সম্মিলন। “কারবালার শিক্ষা” শুধু একটি ঘটনার স্মরণ নয়—এটি মূলত নৈতিক জাগরণ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং আত্মসমালোচনার আহ্বান।
🔍 সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. ঐতিহাসিক প্রতীক ও চেতনা কবিতার কেন্দ্রবিন্দু Battle of Karbala—যা ইসলামী ইতিহাসে সত্য ও অন্যায়ের সংঘর্ষের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীক। এখানে কারবালা কেবল অতীত নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য এক জীবন্ত শিক্ষা।
২. জাগরণের তীব্র আহ্বান “ভাঙ্গবে তোমার মরণঘুম” — এই লাইনটি পুরো কবিতার tone সেট করে। কবি প্রশ্নের মাধ্যমে পাঠককে নাড়া দেন: কেন আমরা এখনো জেগে উঠছি না? কত রক্ত দেখলে আমাদের বিবেক জাগবে? এখানে ভাষা সরাসরি, তীক্ষ্ণ এবং প্ররোচনামূলক।
৩. জালিম বনাম মাজলুম দ্বন্দ্ব “সত্য আর অসত্য”, “জালিম আর মাজলুম”—এই দ্বৈততা কবিতার মূল কাঠামো তৈরি করেছে। এটি কেবল ধর্মীয় নয়, বরং সার্বজনীন ন্যায়-অন্যায়ের লড়াই।
৪. আবেগ ও প্রতিবাদের সংমিশ্রণ “অশ্রু ভরা আঁখিদুটো…” অংশে গভীর বেদনা আছে, কিন্তু সেই বেদনা স্থির নয়—তা রূপ নেয় কর্মের আহ্বানে: “আয় ছুটে আয় পাগলপারা…” এই রূপান্তরই কবিতাটিকে শক্তিশালী করেছে।
৫. বিপ্লবী ভাষা ও সতর্কতা শেষ স্তবকে কবি একটি ভয়াবহ ভবিষ্যতের ছবি আঁকেন— অন্যায় বাড়বে মানুষ নিঃস্ব হবে নীরবতা সবকিছু ধ্বংস করবে এটি এক ধরনের moral warning।
শক্তিশালী দিক শক্তিশালী ঐতিহাসিক প্রতীক (কারবালা) সরাসরি ও প্রভাবশালী ভাষা আবেগ + প্রতিবাদ + দিকনির্দেশনা একসাথে পাঠককে নাড়া দেওয়ার ক্ষমতা খুব বেশি
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ কবিতার কিছু লাইনে সরাসরি “আঘাত করো”, “ঝাঁপিয়ে পড়ো” ধরনের ভাষা আছে—এগুলো সাহিত্যিকভাবে শক্তিশালী হলেও বাস্তব জীবনে সহিংসতার আহ্বান হিসেবে ভুলভাবে ব্যাখ্যা হতে পারে।
👉 আপনি চাইলে এগুলোকে নৈতিক সংগ্রাম, সত্যের পক্ষে অবস্থান, ও আত্মশুদ্ধির ভাষায় আরও পরিশীলিত করা যায়—যাতে কবিতাটি আরও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা পায়।
✍️ সংক্ষিপ্ত সাহিত্যিক সারাংশ “কারবালার শিক্ষা” হলো একটি জাগরণমূলক, প্রতিবাদী ও নৈতিক আহ্বানধর্মী কবিতা—যেখানে ইতিহাসের করুণ ট্র্যাজেডি বর্তমান মানবতার বিবেক জাগানোর হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
*************

বিপ্লবী ০১

বিপ্লবী ০১
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ০২

বিপ্লবী ০২
ARIFUL ISLAM BHUIYAN (Arif Shams)

বিপ্লবী ০৩

বিপ্লবী ০৩
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ০৪

বিপ্লবী ০৪
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ০৫

বিপ্লবী ০৫
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ০৬

বিপ্লবী ০৬
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ০৭

বিপ্লবী ০৭
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ০৮

বিপ্লবী ০৮
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ০৯

বিপ্লবী ০৯
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১০

বিপ্লবী ১০
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১১

বিপ্লবী ১১
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১২

বিপ্লবী ১২
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১৩

বিপ্লবী ১৩
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১৪

বিপ্লবী ১৪
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১৪

বিপ্লবী ১৪
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১৫

বিপ্লবী ১৫
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১৬

বিপ্লবী ১৬
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১৭

বিপ্লবী ১৮

বিপ্লবী ১৮
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১৯

বিপ্লবী ১৯
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ২০

বিপ্লবী ২০
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ২১

বিপ্লবী ২১
আরিফ শামছ্

সাধনার মানবী

সাধনার মানবী
আরিফ শামছ্

ভালবাসি দিবা-নিশি _সূচীপত্র

২০০। তুমি যে সবার-কাব্যিক, ছান্দসিক, সাহিত্যিক, রসাস্বাদন ও সমগ্র বিশ্লেষণসহ সারাংশ ও সারমর্ম

অডিও: তুমি যে সবার ২০০। তুমি যে সবার আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া            (আরিফ শামছ্)             তুমি তো নও তোমার ওগো, তুমি যে সবার! সৃষ্টি তুমি...

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

জনপ্রিয় পোষ্টগুলি:

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ