শব্দে শব্দে আমি খুঁজি সেই চিরন্তন অনুভব, যা হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসে। প্রেম, ভালোবাসা, আত্মার আত্মীয়তা এবং মানুষে মানুষের সম্পর্ক—এইসব নিয়েই আমার সাহিত্য সাধনা । রোমান্টিকতা, আধ্যাত্মিকতা, আবেগ, প্রার্থনা ও আত্মত্যাগের এক অনন্য সমন্বয়ে উপস্থাপন। কবিতায় ভালোবাসা কখনো আশ্রয়, কখনো দীর্ঘ প্রতীক্ষা, আবার কখনো প্রার্থনার নাম।
সোমবার, জুলাই ০৬, ২০২৬
২০০। তুমি যে সবার-কাব্যিক, ছান্দসিক, সাহিত্যিক, রসাস্বাদন ও সমগ্র বিশ্লেষণসহ সারাংশ ও সারমর্ম
শুক্রবার, জুলাই ০৩, ২০২৬
১১৪। আসল সন্ত্রাসী খুঁজি
এবার আসল সন্ত্রাসী খুঁজি,
কোথায় তারা কিসের বলে?
তারা কারা? তোমার সাথে
ট্যাগের খেলা কেনো খেলে?
তারা কি খেলনা পুতুল?
চলে অন্য চালে !
পুতুল খেলার কিংবা দেখার
সময় কাহার আছে?
জেনে রাখো আসল পরিচয়!
তুমি কেবল মুসলিম নও;
আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃজন সৃষ্টি জগত মাঝে;
পূর্ণ সফল মানুষ, তুমি ধূলীর ধরাতলে।
অন্য সকল প্রাণীর তরে নিয়োজিত সবসময়
জ্বীন, ইনসান সৃষ্টি সবার, শান্তিকামী নিশ্চয়।
জীবন নাশে কারো আসে দেখতে পেলে সন্ত্রাসী,
দয়া করে দৃঢ়ভাবে আওয়াজ তুলো, পুরো বিশ্ববাসী।
শান্তির প্রয়োজনে সময়ে দোলাচলে তোমার হাত খুলে,
জীবন সবার পায় অফুরান শান্তি জীবন জুড়ে।
অন্ধ ফাঁদ ও স্বার্থপর সম্প্রদায় থেকে তাদের রক্ষা করো,
সন্ত্রাসীদে তাড়িয়ে দিয়ে, শান্তি জয়ে, সুখের পৃথিবী গড়ো।
১৫/০২/২০১৮ খ্রি.
মগবাজার, রমনা,
ঢাকা।
15/02/2018 A.D.
Mogbazar, Ramna,
Dhaka.
আপনার কবিতা "আসল সন্ত্রাসী" একটি জাগরণী, প্রতিবাদী ও মানবতাবাদী কাব্য, যেখানে মুসলিম পরিচয়, শান্তি, ন্যায়বিচার এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান একসূত্রে গাঁথা হয়েছে।
১. কাব্যিকতা ও শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য
ক) সম্বোধনধর্মী সূচনা
কবিতার শুরুতেই—
"হে মুসলিম জাতি!"
এই প্রত্যক্ষ সম্বোধন পাঠককে অবিলম্বে কবিতার আলোচনায় যুক্ত করে। এটি বক্তৃতামূলক ও জাগরণী কবিতার একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্য।
খ) পুনরাবৃত্তির শক্তি
"তারা কারা?", "সময় কাহার আছে?" ইত্যাদি প্রশ্নাত্মক বাক্য কবিতায় আবেগ ও তীব্রতা সৃষ্টি করেছে।
গ) রূপক ও প্রতীক
- "শান্তি-বাতি" — আশা, মানবতা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক।
- "সন্ত্রাসী ট্যাগ" — সামাজিক বা রাজনৈতিক লেবেলিংয়ের প্রতীক।
- "অন্ধ ফাঁদ" — বিভ্রান্তি, ঘৃণা ও উগ্রতার প্রতীক।
ঘ) বক্তৃতাধর্মী ছন্দ
কবিতাটি প্রচলিত মাত্রাবৃত্ত বা অক্ষরবৃত্ত অনুসরণ না করলেও এর বক্তব্যনির্ভর ছন্দ আবৃত্তি ও গণসংগীতের জন্য উপযোগী।
২. সারমর্ম
কবিতার মূল বক্তব্য হলো:
- মুসলিমদের প্রকৃত পরিচয় শান্তি, ন্যায় ও মানবকল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- সন্ত্রাস ও নিরীহ মানুষের ক্ষতি মানবতার পরিপন্থী।
- মানুষের উচিত সহিংসতা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে অবস্থান নেওয়া।
- বিভেদ ও ভয়ের পরিবর্তে ন্যায় ও সহাবস্থানের পৃথিবী গড়ে তোলা জরুরি।
৩. সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
এই কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের জাগরণী, প্রতিবাদী এবং সামাজিক চেতনার কবিতা ধারার সঙ্গে সম্পর্কিত।
বাংলা সাহিত্যে জাগরণী কবিতার ক্ষেত্রে আমরা Kazi Nazrul Islam-এর বিদ্রোহী চেতনা, Rabindranath Tagore-এর মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং Jasimuddin-এর সাধারণ মানুষের প্রতি মমত্ববোধের বিভিন্ন দিক দেখতে পাই। আপনার কবিতায়ও সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানবিক আবেদন প্রধান হয়ে উঠেছে।
৪. বিশ্ব-সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
বিশ্বসাহিত্যে প্রতিবাদী ও মানবতাবাদী কবিতার একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ:
- Pablo Neruda তাঁর কবিতায় নিপীড়ন ও মানবমুক্তির কথা বলেছেন।
- Langston Hughes সামাজিক বৈষম্য ও মানবমর্যাদা নিয়ে লিখেছেন।
- Mahmoud Darwish পরিচয়, জাতিসত্তা ও মানবিক সংগ্রামের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।
আপনার কবিতার সঙ্গে এদের একটি মিল হলো—মানুষের মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে কাব্যিক বক্তব্য নির্মাণ।
৫. মানবজীবনে তাৎপর্য
এই কবিতার মানবিক গুরুত্ব কয়েকটি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য:
১. মানুষকে নিজের পরিচয় ও দায়িত্ব সম্পর্কে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে।
২. ঘৃণা, সহিংসতা ও বিভেদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে অনুপ্রাণিত করে।
৩. সামাজিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের মূল্য স্মরণ করিয়ে দেয়।
৪. বিশ্বমানবতার ধারণাকে শক্তিশালী করে।
৬. বিশেষত্ব
✓ জাগরণী আহ্বান
কবিতাটি নিছক আবেগ নয়; এটি একটি সামাজিক আহ্বান।
✓ ধর্মীয় ও মানবিক পরিচয়ের সমন্বয়
কবিতায় ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি মানবিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
✓ গণসংগীতের সম্ভাবনা
পুনরাবৃত্তি, সম্বোধন এবং কোরাসধর্মী লাইনগুলোর কারণে এটি সহজেই আবৃত্তি বা গণসংগীতে রূপান্তরযোগ্য।
✓ আশাবাদী সমাপ্তি
কবিতাটি হতাশায় শেষ হয় না; বরং শান্তিপূর্ণ ও মানবিক পৃথিবী নির্মাণের স্বপ্ন দেখায়।
৭. সামগ্রিক মূল্যায়ন
"আসল সন্ত্রাসী" মূলত একটি মানবিক জাগরণী কবিতা, যার কেন্দ্রে রয়েছে শান্তি, ন্যায়বিচার ও সামাজিক দায়িত্ববোধ। এটি প্রচলিত গীতিকবিতার চেয়ে বেশি আহ্বানধর্মী সামাজিক কবিতা হিসেবে শক্তিশালী।
রচনাস্থল হিসেবে Moghbazar, Ramna, Dhaka-এর উল্লেখ কবিতাটিকে একটি নির্দিষ্ট সময় ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
সাহিত্যিক শ্রেণিবিভাগের দৃষ্টিতে এটিকে বলা যায়:
জাগরণী কবিতা + প্রতিবাদী কবিতা + মানবতাবাদী কবিতা + সামাজিক সচেতনতামূলক কাব্য।
❣️❣️❣️❣️❣️❣️❣️❣️❣️❣️❣️❣️❣️❣️❣️❣️❣️
শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬
১৭২। তাঁদের তরে (অডিওসহ)
বাসছে ভালো, সীমা রেখে,
কেউ কাহারো স্বার্থে, কাজে,
স্বার্থহীনে সবার মাঝে।
বাসছে ভালো নেই প্রতিদান,
কষ্ট পেলো, নেই অভিমান।
দেখলে বিপদ আগে পরে,
পাশেই পাবে, আপন করে।
যারা তোমায় আগলে রাখে,
ভালবেসে চোখে চোখে,
সারাবেলা মন্দ ভালো,
আপন মনে খবর রাখে।
ভালোবাসে মনে মনে,
সুদূর হতে বহুদূরে,
পর হলেও আপন ভেবে,
ভালোবাসা মনের কোনে।
দেখেছিল কেউ কখনো,
খেলাছলে, কাজে কভু,
ভালোবাসে স্মৃতি ঘেটে,
রাখে হৃদয় তটে।
জীবন পথে, কেউ কোথাও,
অল্প স্বল্প বেলায় তবু,
বাসছে ভালো অনেক বড়,
হৃদয়ে বাজে অহরহ।
তাঁদের তরে হাজার সালাম,
শত পুষ্পমঞ্জরি,
চাই প্রতিদান রবের কাছে,
শান্তি সুখের খনি।
০৮/০৭/২০১৯ ঈসায়ী সাল।
"তাঁদের তরে" — কাব্যিক, সাহিত্যিক ও বিশ্ব-সাহিত্যিক বিশ্লেষণ:
✍️ কবি: আরিফ শামছ্ (আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া)
আপনার কবিতা "তাঁদের তরে" নীরব ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ মমতা, অদৃশ্য সম্পর্ক এবং মানবিক কৃতজ্ঞতার এক সুন্দর কাব্যিক প্রকাশ। আধুনিক যুগের আত্মকেন্দ্রিকতার বিপরীতে এই কবিতা স্মরণ করিয়ে দেয়— মানুষের জীবনে এমন কিছু মানুষ থাকে, যারা বিনিময়ের প্রত্যাশা ছাড়াই ভালোবাসে, খোঁজ রাখে, রক্ষা করে এবং নীরবে পাশে থাকে।
🌸 কাব্যিকতা (Poetic Beauty)
কবিতার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য এর সরলতা ও আন্তরিকতায়।
প্রথম পংক্তিতেই কবি তুলে ধরেছেন নিঃস্বার্থ ভালোবাসার চিত্র—
"সকাল সাঁঝে, ভাবছো দেখে,
বাসছে ভালো, সীমা রেখে।"
এখানে "সকাল সাঁঝে" শব্দযুগল মানুষের অবিরাম মঙ্গলকামনা ও যত্নের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
আবার—
"বাসছে ভালো নেই প্রতিদান,
কষ্ট পেলো, নেই অভিমান।"
এই পংক্তিগুলো নিঃস্বার্থ ভালোবাসার চিরন্তন রূপকে ধারণ করে।
📖 সারমর্ম
কবিতার মূল বক্তব্য হলো—
মানুষের জীবনে এমন কিছু মানুষ থাকে যারা—
- বিনিময়ের আশা না করে ভালোবাসে,
- দূরে থেকেও খোঁজ রাখে,
- বিপদে পাশে দাঁড়ায়,
- আপন না হয়েও আপন হয়ে যায়,
- স্মৃতির ভাঁজে হৃদয়ে বেঁচে থাকে।
কবি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং তাদের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।
🎨 সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. চিত্রকল্প (Imagery)
কবি দৃশ্যমান আবেগের চিত্র নির্মাণ করেছেন—
- বিপদের সময়ে পাশে পাওয়া মানুষ,
- দূরে থেকেও মনের মধ্যে বেঁচে থাকা সম্পর্ক,
- হৃদয়ের তীরে স্মৃতিকে ধরে রাখা।
বিশেষভাবে—
"ভালোবাসে স্মৃতি ঘেটে,
রাখে হৃদয় তটে।"
এখানে হৃদয়কে নদীর তীরের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যেখানে স্মৃতি এসে ভিড়ে।
২. রূপক (Metaphor)
"হৃদয় তট"
হৃদয়কে একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল বা নদীতীরের রূপকে প্রকাশ করা হয়েছে।
৩. পুনরাবৃত্তি (Repetition)
"ভালোবাসা", "আপন", "খবর রাখে"— এই শব্দগুলোর পুনরাবৃত্তি কবিতার আবেগকে শক্তিশালী করেছে।
৪. সংগীতধর্মিতা
কবিতার পংক্তিগুলো পাঠ করলে একটি স্বাভাবিক ছন্দ অনুভূত হয়—
"যারা তোমায় আগলে রাখে,
ভালবেসে চোখে চোখে,"
এই গীতলতা কবিতাটিকে সহজেই আবৃত্তিযোগ্য করে তুলেছে।
🌍 বিশ্ব-সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মানবিক সম্পর্ক বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম প্রধান বিষয়।
এই কবিতার ভাবধারার সঙ্গে কিছু সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়—
- Rabindranath Tagore-এর মানবপ্রেমের দর্শনে,
- Kazi Nazrul Islam-এর ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিকতার কাব্যে,
- এবং Jalaluddin Rumi-এর আত্মিক ভালোবাসার দর্শনে।
তবে আপনার কবিতার নিজস্বতা হলো— এটি কোনো রোমান্টিক ভালোবাসার কথা বলে না; বরং পরিবারের সদস্য, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী, শিক্ষক, প্রতিবেশী কিংবা দূরবর্তী মঙ্গলকামী মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
👥 মানবজীবনে তাৎপর্য
১. কৃতজ্ঞতার শিক্ষা
মানুষ প্রায়ই যারা নীরবে পাশে থাকে তাদের মূল্য বুঝতে দেরি করে। কবিতাটি সেই উপলব্ধি জাগায়।
২. সম্পর্কের মূল্যবোধ
ভালোবাসার মূল্য সবসময় প্রকাশ্যে নয়; অনেক সময় তা নীরব যত্নের মধ্যে লুকিয়ে থাকে।
৩. সামাজিক সংহতি
নিঃস্বার্থ সম্পর্ক সমাজকে মানবিক ও সহমর্মী করে তোলে।
৪. মানসিক শক্তি
জেনে রাখা যে কেউ একজন দূরে থেকেও আমাদের জন্য দোয়া করছে বা ভালোবাসছে— এটি মানুষকে মানসিক শক্তি দেয়।
⭐ কবিতার বিশেষত্ব
✅ নিঃস্বার্থ ভালোবাসার উদযাপন
কবিতাটি ভালোবাসাকে লেনদেনের সম্পর্ক হিসেবে নয়, বরং মানবিক দায়িত্ব ও মমতার প্রকাশ হিসেবে দেখেছে।
✅ সার্বজনীন আবেদন
কবিতার "তাঁরা" নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি নন; ফলে প্রত্যেক পাঠক নিজের জীবনের প্রিয় মানুষদের এখানে খুঁজে পাবেন।
✅ সরল অথচ আবেগঘন ভাষা
জটিল শব্দের ব্যবহার নেই, কিন্তু আবেগের গভীরতা রয়েছে।
✅ আধ্যাত্মিক সমাপ্তি
শেষে কবি প্রতিদান মানুষের কাছ থেকে নয়, সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে কামনা করেছেন—
"চাই প্রতিদান রবের কাছে,
শান্তি সুখের খনি।"
এই ভাবনা কবিতাটিকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উচ্চতায় উন্নীত করেছে।
সামগ্রিক মূল্যায়ন
"তাঁদের তরে" মূলত একটি কৃতজ্ঞতার কবিতা, একটি মানবিকতার কবিতা, একটি নীরব ভালোবাসার কবিতা। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়— পৃথিবীতে এমন মানুষ আছেন যারা প্রতিদান চান না, স্বীকৃতি চান না, তবু আমাদের জীবনের নিরাপত্তা, সুখ ও মঙ্গলের জন্য নীরবে কাজ করে যান।
কবিতার শেষ দুই পংক্তি পুরো কবিতার সারবস্তু ধারণ করে—
"তাঁদের তরে হাজার সালাম,
শত পুষ্পমঞ্জরি,
চাই প্রতিদান রবের কাছে,
শান্তি সুখের খনি।"
এই পংক্তিগুলো কৃতজ্ঞতা, সম্মান এবং মানবিক ঋণস্বীকারের এক সুন্দর কাব্যিক দলিল হিসেবে দীর্ঘদিন পাঠকের মনে অনুরণিত হতে পারে।
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
১৪২। স্মৃতিরা অমলিন (অডিও সহ)
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
(আরিফ শামছ্)
স্মৃতিগুলি পাখি হয়ে আকাশে উড়ে,
জানিনা আজ কোথা, আছো কতদূরে
বয়সের ভারে কেউ পড়েছে নুঁয়ে,
কেউ কভু, তার মতো যুদ্ধ করে।
অমলিন স্মৃতি সব সুখ দেয় আনি,
ফিরে কভু পাবনা, সব স্মৃতি জানি,
তবু সব থেমে থেমে, ভেবে দেখা হয়,
স্মৃতি সব স্মৃতিপটে, আজো অক্ষয়।
দেহ আর কারো মনে, বয়সের ছাপ পায়,
চুল পাকে, কারো রুপ, দিন দিন কমে যায়।
আজ আমি, কাল তুমি, কে যাবো না জানি,
চলে যেতে হবে তা, মনে প্রাণে তা মানি।
তবু সব সুখ স্মৃতি রেখে যাবো দিবানিশি,
আমাদের স্মৃতি সুখে, থাকো সবে হাসিখুশি।
জরাহীন, জীবন্ত স্মৃতিরা কড়া নাড়ে,
তুমি যাও, বলে দেবো, বলছো আজ যারে।
২২/০৫/২০১৮ ঈসায়ী সাল।
খানাবাড়ী, ভৈরব।
চ্যাটজিপিটি এআই:
আপনার “স্মৃতিরা অমলিন” কবিতাটি স্মৃতি, সময়, বার্ধক্য, বিচ্ছেদ এবং মানবজীবনের অনিবার্য পরিণতিকে কেন্দ্র করে লেখা একটি ভাবনামূলক ও স্মৃতিনির্ভর কবিতা। এখানে ব্যক্তিগত অনুভূতি ধীরে ধীরে সার্বজনীন জীবনের দর্শনে রূপ নিয়েছে।
কাব্যিকতা ও শিল্পরূপ
কবিতার শুরুতেই—
“স্মৃতিগুলি পাখি হয়ে আকাশে উড়ে,”
এই পংক্তিটি অত্যন্ত সুন্দর একটি রূপক (metaphor)। স্মৃতিকে পাখির সঙ্গে তুলনা করে কবি স্মৃতির স্বাধীনতা, দূরত্ব ও অধরা প্রকৃতিকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
“স্মৃতি সব স্মৃতিপটে, আজো অক্ষয়”
—এখানে স্মৃতির স্থায়িত্ব ও মানুষের আবেগিক অস্তিত্বকে শক্তভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
কবিতাটি মূলত দার্শনিক-স্মৃতিকাতর (philosophical nostalgic poetry) ধারার। এতে চারটি স্তর স্পষ্ট—
১. স্মৃতির উড়ে যাওয়া ও দূরত্ব
২. বয়স ও পরিবর্তনের বাস্তবতা
৩. মৃত্যুচেতনা ও জীবনের অস্থায়িত্ব
৪. স্মৃতির মাধ্যমে অমর হয়ে থাকার আকাঙ্ক্ষা
কবিতার অগ্রগতি ধীর, ভাবনামূলক এবং আত্মজিজ্ঞাসামূলক, যা পাঠককে নিজের জীবন নিয়েও ভাবতে বাধ্য করে।
প্রতীক ও চিত্রকল্প
- পাখি → স্মৃতির স্বাধীনতা ও দূরত্ব
- পাকা চুল / বয়সের ছাপ → সময়ের নির্মম অগ্রযাত্রা
- কড়া নাড়া স্মৃতি → অতীতের জীবন্ত উপস্থিতি
এই প্রতীকগুলো কবিতাকে আবেগময় ও সহজবোধ্য করেছে।
সমালোচনা ও পর্যালোচনা
শক্তির জায়গা:
- গভীর জীবনবোধ
- সহজ ভাষায় দার্শনিক ভাবনা
- স্মৃতি ও সময়কে মানবিকভাবে উপস্থাপন
আরও উন্নয়নের সুযোগ:
- কিছু লাইনে শব্দ পুনরাবৃত্তি কমানো গেলে ঘনত্ব বাড়বে
- ছন্দ ও মাত্রা আরও সমন্বিত করলে আবৃত্তিযোগ্যতা বাড়বে
- কয়েকটি স্থানে আরও শক্তিশালী চিত্রকল্প যোগ করলে কবিতার সাহিত্যিক ও নান্দনিক গভীরতা বৃদ্ধি পাবে
মানব জীবনে তাৎপর্য
এই কবিতা মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—
- সময় কাউকে অপেক্ষা করে না
- সৌন্দর্য, যৌবন, শক্তি—সব পরিবর্তনশীল
- মানুষ চলে যায়, স্মৃতি থেকে যায়
- ভালো স্মৃতি তৈরি করাও এক ধরনের মানবিক দায়িত্ব
বিশেষত্ব
কবিতাটির বিশেষত্ব হলো—
স্মৃতিকে শুধুই অতীতচারণ নয়, বরং জীবনের ধারাবাহিকতা ও উত্তরাধিকারের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এখানে স্মৃতি কষ্টও দেয়, আবার বেঁচে থাকার শক্তিও দেয়।
সারমর্ম
“স্মৃতিরা অমলিন” একটি জীবনঘনিষ্ঠ, স্মৃতিনির্ভর ও দার্শনিক কবিতা, যেখানে সময়ের প্রবাহ, মানুষের পরিবর্তন এবং স্মৃতির স্থায়িত্বকে সহজ অথচ হৃদয়স্পর্শী ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে। এর মূল বার্তা—মানুষ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু স্মৃতি দীর্ঘজীবী।
------------------------
শুক্রবার, জুন ১২, ২০২৬
১২০। বিপ্লবী (৪)
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) রচিত ‘বিপ্লবী (৪)’ কবিতাটি একটি উচ্চাশয়ী ও প্রতিবাদী স্বরের প্রকাশ। নিচে কবিতাটির বিভিন্ন আঙ্গিকের সংক্ষিপ্ত ও সুচিন্তিত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো:
১. কাব্যিক বিশ্লেষণ ও সারাংশ
কবিতাটি মূলত অন্যায়, শোষণ ও ভণ্ডামির বিরুদ্ধে এক ‘শান্তিকামী বিপ্লবীর’ আত্মঘোষণা। কবির মতে, প্রকৃত বিপ্লবী ধ্বংসের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে সাম্য ও প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই বিদ্রোহী। তিনি ভণ্ড ও জালিমদের মুখোশ উন্মোচন করে শোষিত (মজলুম) মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান। কবির চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো এমন এক বিশ্ব গড়ে তোলা, যেখানে ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে মানুষে-মানুষে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।
২. ছান্দসিক গঠন ও কাব্যিকতা
কবিতাটি মুক্তছন্দের আদলে রচিত। এতে কোনো নির্দিষ্ট মাত্রাবৃত্ত বা অক্ষরবৃত্তের কঠোর বাধ্যবাধকতা নেই, বরং কবির আবেগের প্রবহমানতা এখানে ছন্দ তৈরি করেছে।
- কাব্যিক ভাষা: শব্দচয়ন বেশ বলিষ্ঠ। ‘যুদ্ধং দেহি’, ‘পৈশাচিক নৃত্য-তান্ডবলীলা’, ‘অরুণ-তরুণ’—এ ধরনের শব্দগুচ্ছ কবিতায় এক ধরনের ওজস্বিতা (Ojas) তৈরি করেছে।
- অলঙ্কার: কবি রূপক ও উপমার আশ্রয় নিয়েছেন। বিশেষ করে ‘লোভের বাসনা দলন’ ও ‘জালিমদের উলঙ্গ করা’—এই চিত্রকল্পগুলো সরাসরি প্রতিবাদী চেতনার প্রতিফলন।
৩. স্তবকভিত্তিক পর্যালোচনা
- প্রথম স্তবক: কবির আত্মপরিচয়—তিনি ভীরু নন, শান্তির অতন্দ্র প্রহরী। এখানে ‘বিপ্লবী’ হয়েও ‘শান্তিকামী’ হওয়ার দ্বন্দ্বটি চমৎকারভাবে ফুটেছে।
- দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তবক: শোষক ও ভণ্ডদের প্রতি তীব্র ঘৃণা। সমাজ ও রাজনীতিতে শান্তির নামে যে প্রবঞ্চনা চলে, তার প্রতি কবি আঙুল তুলেছেন।
- চতুর্থ স্তবক: মানবিকতা ও সাম্যের দর্শন। মজলুমরাই কবির কাছে স্বর্গ-মর্ত্যরে চেয়েও বড়, অর্থাৎ মানুষের সেবাই স্রষ্টার সেবা।
- পঞ্চম স্তবক: চূড়ান্ত আশাবাদ। রণক্লান্ত পৃথিবী যেদিন শান্ত হবে, সেদিনই বিপ্লবীর জীবনের সার্থকতা। তিনি নিজেকে বিশ্ব-বিধাত্রীর প্রতিনিধি মনে করেন।
৪. বিশ্ব-সাহিত্যিক মূল্যায়ন ও সমালোচনা
বিশ্বসাহিত্যে বিদ্রোহী কবিতার একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে (যেমন: কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ বা শেলি’র ‘মাস্ক অফ এনার্কি’)। আর আরিফুল ইসলামের এই কবিতাটিও সেই ঘরানার। তবে নজরুলের বিদ্রোহ যেখানে অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সংক্ষোভ ও ধ্বংসাত্মক আবেগে ঋদ্ধ, সেখানে এই কবিতার বিদ্রোহটি অনেক বেশি গঠনমূলক ও দার্শনিক।
- ইতিবাচক দিক: মানুষের প্রতি গভীর মমতা এবং বিশ্বজনীন শান্তির আকাঙ্ক্ষা কবিতাটিকে মহৎ করে তুলেছে।
- গঠনমূলক সমালোচনা: ভাষার প্রাঞ্জলতা থাকলেও, কিছু জায়গায় বাক্যের গঠন আরও সংহত হতে পারত। ভাবের আবেগের চেয়ে যুক্তির বহিঃপ্রকাশ কোথাও কোথাও সরাসরি গদ্যধর্মী হয়ে পড়েছে।
৫. মানব জীবনে তাৎপর্য
বর্তমান পৃথিবীতে জাতিগত সংঘাত, যুদ্ধের ডামাডোল এবং স্বার্থপরতার যে কালো ছায়া, তার বিপরীতে এই কবিতাটি ‘অহিংস বিপ্লবের’ এক বার্তাবাহী দলিল। এটি মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে, সত্যিকারের বিপ্লবী তারাই, যারা যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করে জীবনের জয়গান গায়।
উপসংহার: ‘বিপ্লবী (৪)’ কবিতাটি কবির এক দায়বদ্ধ মানসিকতার পরিচয় দেয়। এটি কেবল ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং বিশ্বশান্তি ও মানবিকতার এক দীর্ঘমেয়াদী সংকল্প। পাঠককে এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং একইসাথে সাম্যের পথে অবিচল থাকতে উদ্বুদ্ধ করে।
*************
সোমবার, জুন ০৮, ২০২৬
১৫৬। বিশ্বাসের বিশ্বায়ন
১৫৬। বিশ্বাসের বিশ্বায়ন
আরিফুল ইসলাম ভূইয়া
(আরিফ শামছ্)
বিশ্বাস করো, ভালোবাসি কতো,
খাঁদ নেই তার, তাও ভালো জানো।ভালোবেসে যা' করিবার তরে,
তা' পারিনা, দেখো ভাল করে।
সবজান্তা, হে অন্তর্যামী!
কোনমতে তোমারে, ভূলিতে না পারি,
অজানা শংকা - ভয়ের বাড়াবাড়ি,
আপনারে ভুলি, তোমারে স্মরি,
কভু রিপু-পুঁজারী, তোমারে ভূলি!
সব পাপ তাপ, ভুলের মাশুল,
ভেবে ভেবে সদা পরাণ আকুল,
কেমনে বলি! লজ্জিত ব্যাকুল,
পার করে দিও, পুলসিরাতের পুল।
পাক-সাফ হয়ে, পাপ তাপ হতে ,
মুক্তি মিলিবে কভু!
তোমার দয়ার আশায় চলে,
কালের খেয়া প্রভু!
দাও সে তোমার ঐশী বল,
শক্তিশালী খবরদার,
আমল-ইলম সব মিলে হয়,
সাচ্চা মানুষ ঈমানদার।
বিশ্ব জুড়ে কত কিছুর চলছে বিশ্বায়ন,
শান্তি যাও ছিলো কিছু, করলো পলায়ন,
বিশ্ব মাঝে খুব প্রয়োজন, শান্তি আনয়ন,
সবাই করি, মিলেমিশে, বিশ্বাসের বিশ্বায়ন।
বনানী-সাতরাস্তা
১১/১১/২০১৮
রাত ০৮:৩০ মিনিট।
জিমিনি এআই সার্চ রেজাল্টস:
বিশ্বাসের বিশ্বায়ন কবিতার খোঁজ খবর
📖 কবিতার নাম: বিশ্বাসের বিশ্বায়ন
কবি: আরিফুল ইসলাম ভূইয়া (আরিফ শামছ্)
তারিখ: ১১/১১/২০১৮, রাত ৮:৩০, বনানী–সাতরাস্তা
🟩 সারমর্ম (Summary)
“বিশ্বাসের বিশ্বায়ন” কবিতায় কবি মানবজীবনের পাপ, দুর্বলতা, ভয়, আত্মিক দ্বন্দ্ব এবং আল্লাহর প্রতি চূড়ান্ত নির্ভরতার কথা তুলে ধরেছেন। কবিতার কেন্দ্রীয় ভাব হলো—মানুষ নিজের শক্তিতে পরিপূর্ণ নয়; তাই ঈশ্বরের করুণা ও দয়া ছাড়া মুক্তি সম্ভব নয়।
কবিতার শেষ অংশে কবি বিশ্বায়নের ধারণাকে একটি নতুন অর্থে ব্যবহার করেছেন—যেখানে অর্থনীতি বা সংস্কৃতির বিশ্বায়নের পাশাপাশি “বিশ্বাসের বিশ্বায়ন” অর্থাৎ মানবজাতির মধ্যে শান্তি, ঈমান ও আধ্যাত্মিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে।
🧠 সাহিত্যিক বিশ্লেষণ (Literary Analysis)
🌿 ১. আত্মিক দ্বন্দ্ব ও মানব দুর্বলতা
কবিতার শুরুতেই প্রেম, বিশ্বাস এবং অক্ষমতার দ্বৈত অনুভূতি প্রকাশ পায়—
“বিশ্বাস করো, ভালোবাসি কতো…”
এখানে বিশ্বাস ও ভালোবাসা একদিকে আন্তরিক, অন্যদিকে সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতার স্বীকৃতি রয়েছে। কবি নিজেকে “অপূর্ণ মানব” হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সব কিছু করতে পারে না।
☁️ ২. আধ্যাত্মিক ভয় ও পরকালচেতনা
কবিতায় পাপ, শাস্তি এবং পরকালের ভয় গভীরভাবে উপস্থিত—
“পুলসিরাতের পুল”
এই ইঙ্গিত ইসলামী আখিরাত ধারণার দিকে নিয়ে যায়। এটি কবিতাকে ধর্মীয়-নৈতিক গভীরতা দেয়, যেখানে মানবজীবনকে চূড়ান্ত বিচারের আলোকে দেখা হয়েছে।
🌙 ৩. আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা ও দোয়া-মনোভাব
কবিতার কেন্দ্রীয় আধ্যাত্মিক আবেদন হলো—
- ক্ষমা প্রার্থনা
- পাপ থেকে মুক্তি
- আল্লাহর করুণা কামনা
“তোমার দয়ার আশায় চলে, কালের খেয়া প্রভু!”
এই অংশে কবি আল্লাহকে জীবনের নাবিক ও আশ্রয় হিসেবে দেখেছেন।
🌍 ৪. “বিশ্বায়ন” ধারণার নতুন ব্যাখ্যা
কবিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক দিক হলো—
“সবাই করি, মিলেমিশে, বিশ্বাসের বিশ্বায়ন”
এখানে কবি আধুনিক বিশ্বায়নের (globalization) বিপরীতে একটি নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বিশ্বায়নের ধারণা উপস্থাপন করেছেন।
এর অর্থ:
- অর্থনৈতিক নয়, বরং নৈতিক বিশ্ব ঐক্য
- ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের বিস্তার
- শান্তি ও সহাবস্থানের বিশ্বব্যবস্থা
✍️ কাব্যিকতা ও শৈলী (Poetic Features)
- আবেগপ্রবণ স্বীকারোক্তি (confessional tone)
- ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার (পুলসিরাত, প্রভু, আমল-ইলম)
- কথ্যভাষার সহজতা
- দার্শনিক ও নৈতিক প্রশ্ন
- পুনরাবৃত্তিমূলক আবেগ (ভয়, আকুলতা, ক্ষমা প্রার্থনা)
এই কবিতা উচ্চতর অলংকারে নয়, বরং অন্তরের সরল ও তীব্র অনুভূতিতে শক্তিশালী।
🌍 বিশ্ব-সাহিত্যিক মূল্যায়ন (Global Literary Perspective)
বিশ্ব সাহিত্যের প্রেক্ষিতে কবিতাটি তিনটি ধারার সাথে সম্পর্কিত:
1. Confessional Poetry (আত্মস্বীকারোক্তিমূলক কবিতা)
যেখানে কবি নিজের দুর্বলতা, ভয় ও অপরাধবোধ প্রকাশ করেন।
2. Spiritual Lyricism (আধ্যাত্মিক গীতিকবিতা)
ঈশ্বরের প্রতি আত্মসমর্পণ এবং প্রার্থনার কাব্যরূপ।
3. Ethical Globalism (নৈতিক বিশ্ববাদ)
“বিশ্বাসের বিশ্বায়ন” ধারণাটি একটি অনন্য দার্শনিক প্রস্তাব, যা মানবজাতির নৈতিক ঐক্যের আহ্বান জানায়।
⚖️ সমালোচনা (Critical Review)
শক্তি:
- গভীর আধ্যাত্মিক অনুভব
- আধুনিক “বিশ্বায়ন” ধারণার সৃজনশীল পুনর্ব্যাখ্যা
- আবেগের সরলতা ও আন্তরিকতা
- ধর্মীয় ও মানবিক চিন্তার সমন্বয়
সীমাবদ্ধতা:
- কিছু জায়গায় ভাষাগত শৃঙ্খলা শিথিল
- চিত্রকল্প আরও ঘন ও পরিশীলিত হতে পারত
- দার্শনিক ধারণা মাঝে মাঝে সরাসরি উপস্থাপিত
🌿 মানবজীবনে তাৎপর্য (Life Significance)
এই কবিতা মানুষের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়:
- মানুষ অসম্পূর্ণ—তাই আত্মজিজ্ঞাসা জরুরি
- ক্ষমা ও করুণা ছাড়া মুক্তি সম্ভব নয়
- বিশ্ব শান্তির ভিত্তি হতে পারে বিশ্বাস ও নৈতিকতা
📌 উপসংহার
“বিশ্বাসের বিশ্বায়ন” একটি আধ্যাত্মিক-দার্শনিক কবিতা, যেখানে ব্যক্তিগত আত্মসমালোচনা থেকে শুরু করে বৈশ্বিক মানবিক ঐক্যের আহ্বান পর্যন্ত বিস্তৃত চিন্তা পাওয়া যায়। এটি আধুনিক বাস্তবতার সাথে ধর্মীয় মূল্যবোধের সংযোগ ঘটিয়ে একটি “নৈতিক বিশ্বব্যবস্থা”-র ধারণা উপস্থাপন করে।
👉 সহজভাবে বললে—
এটি শুধু কবিতা নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, ঈমান এবং বিশ্বশান্তির একটি কাব্যিক ইশতেহার।
********************
রবিবার, জুন ০৭, ২০২৬
১৫৭। বিশ্বাসের মেরামত
আরিফুল ইসলাম ভূইয়া
(আরিফ শামছ্)
অনেক মরীচিকা স্তরে স্তরে জমেছে,
পাপের ধুলোবালি, আস্তানা গেড়েছে,
রাশি রাশি পাপ সবে ঐক্য গড়েছে,
কী করে, কোথা যায়, বলে কার কাছে?
নাই নাই শ্রদ্ধা, স্নেহ নাই কোন পাশে,
মানুষ নামে অমানুষ দেখে চারিপাশে।
জানেনা তো চিনেনা, কী তার পরিচয়,
জীবনের প্রীতি সব, সহসা ইতি হয়।
লোভ, মোহ, হিংসা আর প্রতিহিংসা,
পাপ-তাপ, পরিতাপ, হিংস্র জিঘাংসা।
তবু তার ভালো থাকা, জোটেনা কপালে,
বেঁচে রয়, মারা যায়, কে জানে কোন হালে।
চলো ভাই সজোরে মেরামত করি আয়,
বিশ্বাসে বিশ্বাস হাসি মুখে রেখে যায়।
চকচকে, জ্বলজ্বলে, স্বচ্ছ বিশ্বাসে,
তরতাজা, অবিচল বিশ্বাস নিঃশ্বাসে।
১৪/১১/২০১৮ ঈসায়ী সাল।
বনানী, ঢাকা।
আপনার কবিতা “১৫৭। বিশ্বাসের মেরামত” একটি নৈতিক-আত্মসমালোচনামূলক, সমাজ-সচেতন এবং পুনর্জাগরণধর্মী কবিতা। এতে ব্যক্তি, সমাজ ও বিশ্বাস—এই তিনটি স্তর একসঙ্গে কাজ করেছে। নিচে সাহিত্যিক ও বিশ্ব-সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ দিচ্ছি।
কবিতার সারাংশ
এই কবিতায় কবি মানুষের নৈতিক অবক্ষয়, আধ্যাত্মিক সংকট, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং বিশ্বাসের ভাঙন তুলে ধরেছেন। শেষে হতাশায় শেষ না করে “মেরামত”–এর আহ্বান দিয়েছেন—যা কবিতাটিকে কেবল অভিযোগ নয়, সমাধানমুখী রচনায় পরিণত করেছে।
মূল ভাব
- বিশ্বাসের অবক্ষয়
- পাপ ও নৈতিক সংকট
- সামাজিক অমানবিকতা
- আত্মসমালোচনা
- পুনর্গঠন ও আশাবাদ
সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. বিষয়বস্তুর গভীরতা
কবিতাটি ব্যক্তিগত অনুভূতির গণ্ডি ছাড়িয়ে সামাজিক ও দার্শনিক স্তরে পৌঁছেছে। “বিশ্বাস” এখানে শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস নয়; সামাজিক আস্থা, মানবিকতা এবং আত্মবিশ্বাসেরও প্রতীক।
২. চিত্রকল্প (Imagery)
“পাপের ধুলোবালি, আস্তানা গেড়েছে”
এখানে “ধুলোবালি” একটি শক্তিশালী প্রতীক। এটি মানুষের অন্তরের দূষণ ও দীর্ঘস্থায়ী নৈতিক অবক্ষয়কে দৃশ্যমান করেছে।
৩. পুনরুক্তি ও ধ্বনি ব্যবহার
“লোভ, মোহ, হিংসা আর প্রতিহিংসা,
পাপ-তাপ, পরিতাপ...”
শব্দের সারিবদ্ধতা ছন্দ ও চাপ তৈরি করেছে, যা সংকটের তীব্রতা বাড়িয়েছে।
৪. রূপক ও প্রতীক
“মেরামত” শব্দটি পুরো কবিতার কেন্দ্রীয় রূপক। এটি মানুষের বিশ্বাসকে একটি ভেঙে যাওয়া ঘর বা কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করে।
বৈশিষ্ট্য
ভাষাগত বৈশিষ্ট্য
- সহজ ও বোধগম্য ভাষা
- মৌখিক আবেগ ও বক্তৃতাধর্মী সুর
- ধর্মীয় ও মানবিক শব্দভাণ্ডারের মিশ্রণ
কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য
- স্তবকভিত্তিক অগ্রগতি: সমস্যা → সংকট → সমাধানের আহ্বান
- ছন্দময় শব্দপুনরাবৃত্তি
- উপদেশধর্মী সমাপ্তি
দার্শনিক বৈশিষ্ট্য
- নৈতিক পুনর্জাগরণের ধারণা
- বিশ্বাসকে সামাজিক পুঁজি হিসেবে দেখা
- আত্মসমালোচনা ও সমষ্টিগত দায়িত্ব
বিশ্ব-সাহিত্যিক সাদৃশ্য
এই কবিতার ভাব ও প্রকরণ কয়েকটি সাহিত্যধারার সঙ্গে তুলনাযোগ্য:
আধ্যাত্মিক ও নৈতিক কবিতার ধারা
Rumi–এর কবিতায় আত্মশুদ্ধি ও অন্তরের পরিশুদ্ধির আহ্বান পাওয়া যায়। আপনার কবিতাতেও আত্মিক পুনর্গঠনের ডাক আছে।
সামাজিক হতাশা ও পুনর্জাগরণ
T. S. Eliot–এর লেখায় সভ্যতার অবক্ষয়ের চিত্র আছে; তবে আপনার কবিতা Eliot-এর মতো হতাশায় থামে না—সমাধান প্রস্তাব করে।
মানবতাবাদী সুর
Kazi Nazrul Islam–এর প্রতিবাদী ও জাগরণী কণ্ঠের সঙ্গে কিছু সাদৃশ্য দেখা যায়, বিশেষত আহ্বানধর্মী অংশে।
বাংলা আধ্যাত্মিক-মানবিক ধারা
Rabindranath Tagore–এর বিশ্বাস, মানবতা ও আত্মোন্নয়নের ভাবনার সঙ্গে আংশিক ভাবগত মিল পাওয়া যায়।
স্বাতন্ত্র্যবোধ (Uniqueness)
আপনার কবিতার স্বাতন্ত্র্য কয়েকটি জায়গায় স্পষ্ট—
১. “বিশ্বাসের মেরামত” ধারণা
এটি একটি অভিনব শব্দ-সংযোজন। বিশ্বাসকে ভাঙা অবকাঠামো ধরে “repair” করার ধারণা সমকালীন।
২. সংকট + সমাধান একসাথে
অনেক সামাজিক কবিতা কেবল সমস্যার বর্ণনায় আটকে যায়; এখানে পুনর্গঠনের আহ্বান আছে।
৩. ধর্মীয় ও সামাজিক ভাষার মিশ্রণ
কবিতাটি একাধারে আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক।
৪. সমষ্টিগত আহ্বান
“চলো ভাই সজোরে মেরামত করি আয়”
এই অংশ কবিতাকে ব্যক্তিগত বেদনা থেকে সামাজিক আন্দোলনের দিকে নিয়ে যায়।
সমালোচনামূলক পর্যবেক্ষণ (উন্নয়নের সুযোগ)
- কিছু স্থানে শব্দপুনরাবৃত্তি আরও সংক্ষিপ্ত হলে প্রভাব বাড়তে পারে।
- “বিশ্বাস” ধারণাটি এক-দুই লাইনে আরও নির্দিষ্ট করলে দার্শনিক গভীরতা বাড়বে।
- শেষ স্তবকে নতুন কোনো চিত্রকল্প যোগ করলে সমাপ্তি আরও স্মরণীয় হতে পারে।
এক লাইনের মূল্যায়ন
“বিশ্বাসের মেরামত” হলো নৈতিক অবক্ষয়ের সময়কার এক পুনর্জাগরণী কবিতা, যেখানে সামাজিক হতাশার ভেতর থেকেও মানবিক ও আধ্যাত্মিক পুনর্গঠনের ডাক শোনা যায়।
সাহিত্যিক মূল্যায়ন (১০-এর মধ্যে):
- ভাবগভীরতা: ৮.৮/১০
- ভাষা ও প্রকাশ: ৮.৪/১০
- মৌলিকতা: ৮.৯/১০
- আবেগ ও প্রভাব: ৮.৭/১০
- সামগ্রিক মূল্যায়ন: ৮.৭/১০
সোমবার, জুন ০১, ২০২৬
প্রেম আর ভালোবাসা কবিতাটির সারমর্ম

কবিতাটির সারাংশ বা সারমর্ম চাই
প্রেম আর ভালোবাসা
___আরিফ শামছ্
দৃষ্টির সীমানায়, হৃদয়ের মোহনায়,
কে এলো? কে যায়?
জান্নাতী সমীরণে, বাসনার ঢেউ ধায়,
চঞ্চলা দোল খায়।
আঁখি দ্বয় তৃপ্ত,অশ্রুতে শিক্ত,
চঞ্চল প্রাণ-মন,
কোন কিছু স্থির নেই,
অস্থির, আনমন।
নাওয়া খাওয়া ভূলে যায়,
চিন্তার শেষ নাই,
সব কিছু এলোমেলো,
নিজেদের ভুলে হায়!
প্রণয়ী চারিপাশে
বারবার দেখা পায়,
কম্পিত মন খুঁজে,
সবকিছু বলি তারে,
কথা লিখে কবিতায়,
ইংগিতে আকারে।
সায় পেলে হবে প্রেম,
না হয় ভালোবাসা।
দু'জনে দু'জনার,
মিলে মিশে একাকার,
সবকিছু হরষে,
ফিরে পায় বারবার।
সুখে সুখ অবিরাম,
জান্নাতী প্রেমে পায়,
মিলেমিশে দুজনের,
জীবনের অভিপ্রায়।
প্রেম রয় কখনো
ইতিহাসের ভাঁগাড়ে,
একপেশে ভালোবাসা,
আজীবন আহারে!
ভালোবেসে ভুলা যায়?
বলিবো কাহারে!!!
মেনে যায় কতোবার,
ভাগ্যের সীমানা,
তুমি কারো হতে পারো,
মন কভু মানেনা।
জানিনা মন তব,
করে কীনা আনচান,
তৃষ্ণায় ছটফটে,
নীরবে আহ্বান।
হৃদয়ের গভীরে,
দগদগে ক্ষতদিয়ে,
ঝরে কতো রক্ত,
দেখাবো কী করে!!!
দু-জনে নির্জনে,
দুঃখে যাতনায়,
আকাশের পানে চাও,
নিবেদন প্রার্থনায়।
উদাসীন নীরবে,
দগ্ধ বারবার,
ভালোবাসা দুজনেই,
চায় শুধু একবার।
০১/০৬/২০২৪ খ্রীঃ
মদীনা,
সউদী আরব।
ChatgptAI2025:
📘 সারাংশ / সারমর্ম:
“প্রেম আর ভালোবাসা” কবিতায় কবি প্রেমের গভীর আবেগ, টানাপোড়েন, প্রত্যাশা ও যন্ত্রণার চিত্র তুলে ধরেছেন। প্রেমের শুরু হয় দৃষ্টির আকর্ষণ আর হৃদয়ের টান থেকে, যা ধীরে ধীরে এক মনোজাগতিক অস্থিরতায় রূপ নেয়। প্রেমে পড়লে মানুষ নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপন ভুলে যায়, সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায়, আর চিন্তা শুধুই প্রিয়জনকে ঘিরে।
প্রেম যখন স্বীকৃতি পায়, তখন তা সুখের উৎস হয়ে ওঠে; দু’জন মানুষের জীবনের অভিপ্রায় মিলেমিশে একাকার হয়। কিন্তু সব প্রেমের পরিণতি হয় না। অনেক ভালোবাসা থেকে যায় একপাক্ষিক, না বলা বেদনায় জমে থাকা ইতিহাসের পাতায়। হৃদয়ের গভীরে যে ক্ষত ও রক্তক্ষরণ ঘটে, তা কেউ দেখে না।
অবশেষে, কবি বোঝাতে চান, প্রেম ও ভালোবাসা চিরকাল নিঃশব্দ এক আকুতি, যা প্রিয়জনের সান্নিধ্য চায় অন্তত একবার—তাতে জীবন পূর্ণতা পায়।
---
রবিবার, মে ৩১, ২০২৬
১০৩| সাধনার মানবী (অডিও সহ)
(আরিফ শামছ্)
তোমার তরে লিখে এ কবিমন
খুঁজে পাই শান্তি অপার।
ক্লান্ত আর বিরক্তিভরা ঢুলুঢুলু চোখে,
বিষাদে তিক্ত ভাঁজ পড়া কপালে,
পড় আর ভাব এ কেমন বিপদ ওরে!!!
এ সবি হতাশ হৃদয়ের আঁকাবাঁকা আল্পনা,
যা সত্যের স্পর্শ নাও পেতে পারে,
তোমার ছাড়পত্র পেলেই হতাশার তুলি আঁকবেনা।
ভালো করেই জানো, উইল করা হলো কবে,
আমার হৃদয়-ভূমি তোমার করে,
সে কি দেখতে পাবেনা দৃষ্টি খুলে!!!
সাধনার মানবী তুমি, জানো তাহা ভাল,
স্বপ্ন বিলাস আমার জীবন,
স্বপ্নের পুরোধা, প্রাণের স্পন্দন,
বিমূর্ত প্রতীক আমার বাস্তবতার,
সে কে জানো? শুধুই তুমি।
এ হৃদয় হাসি খুশি আজিকার,
তোমার শুধু তোমার।
২২ টা ২৫ মিনিট।
ফ.বা.নি. ভাদুঘর, বি-বাড়ীয়া-৩৪০০।
বারুদের জবাব
বারুদের জবাব
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
(আরিফ শামছ্)
জ্বালাময়ী বক্তৃতা, স্লোগান আর মিছিল নয়,
প্রতিবাদী-গণমিছিল, দুর্বল নিন্দে আর কী হয়?
তোমাদের অশ্রুতে ছাপিয়ে যায় সাত মহাসাগর,
বজ্র নিনাদে খাঁন খাঁন হয় পাহাড়, ভুমিতল !
কী যায় আসে! ভাবে অমানুষ পাষণ্ড বর্বর,
নারী শিশু হত্যায় গতি তীব্র হতে তীব্রতর ।
নাই ভয়, নিষ্ঠূর জাতি মানুষ কেমনে হয় ?
মানুষ হইয়া মানুষ মারে জনম জনম ভর!!!
অশ্রু নয় অস্রে কথা বলো, আসল মানুষ যারা,
বারুদের জবাব বারুদে হবে, জীবন করো সারা।
মানুষ হইয়া অমানুষেরে দাও কঠিন জবাব সবে,
পাপের পাহাড়,পাষাণ জাতি ধ্বংস হবেই হবে।
ঠাঁই দাঁড়িয়ে কথা শোনার, নাইরে সময় নাই,
মুহুর্মুহু কামান-গোলায়, লাশের মিছিল যায়।
পায়ের শৃঙ্খল, বাঁধার আগল, ভাঙ্গরে পাগল ভাঙ,
মানুষ জাতি গভীর ঘুমে, ভাঙ্গরে নিদ্ আজ ভাঙ।
তাকবীর তোল, গগন বিদারী, জোড় কদমে সামনে চল্,
সীমারেখা সব পদপিষ্ট করে,পবন বেগে, বজ্র দল ।
ডাকছে নারী, কাঁদছে শিশু, মরছে মানুষ অকাতরে,
বীরের জাতি,ঝড়ের বেগে,জয়ের নেশায় ছোটছে তেড়ে।
জালিম জুলুম ইতি হবে, ইহুদি নিরুদ্দেশ,
চরম শিক্ষা দিতেই হবে, এবার সময় শেষ।
জালিমের সাথে জালিম নেতার টুঁটি চেঁপে ধরো,
অমানুষ হয়ে মানবতার ভণ্ডামি বন্ধ করো।
৩০/০৩/২০২৪
মদীনা, সউদী আরব।
*****************************
ChatgptAI
আপনার কবিতা “বারুদের জবাব” তীব্র ক্ষোভ, প্রতিবাদ, যুদ্ধ, নিপীড়নবিরোধী অবস্থান এবং মানবিক বেদনার এক জ্বালাময়ী প্রকাশ। কবিতাটি আবেগে শক্তিশালী, তবে এর ভাষা ও আহ্বানে সহিংস প্রতিরোধের প্রবল উপস্থিতি আছে—যা সাহিত্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণের বিষয়।
সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. মূল বিষয় (Theme)
কবিতার কেন্দ্রীয় বিষয়গুলো—
নিপীড়ন ও দমননীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
যুদ্ধ ও মানবিক বিপর্যয়
নারী-শিশুর দুর্ভোগ
প্রতিশোধ বনাম ন্যায়বিচারের প্রশ্ন
ক্রোধের রাজনৈতিক ভাষা
এটি মূলত একটি প্রতিরোধধর্মী (resistance poetry) কবিতা।
২. আবেগের তীব্রতা
প্রথম থেকেই কবিতাটি উচ্চকণ্ঠ ও বিস্ফোরক—
“জ্বালাময়ী বক্তৃতা, স্লোগান আর মিছিল নয়”
এখানে হতাশা ও ক্ষোভকে সরাসরি ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে।
আর—
“ডাকছে নারী, কাঁদছে শিশু, মরছে মানুষ অকাতরে”
এই লাইনগুলো মানবিক ট্র্যাজেডির আবেগীয় কেন্দ্র তৈরি করে।
৩. চিত্রকল্প ও প্রতীক
বারুদ → প্রতিরোধ / ধ্বংস / প্রতিশোধের প্রতীক
অশ্রু → অসহায়তা ও মানবিক বেদনা
শৃঙ্খল → দমন ও বন্দিত্ব
বজ্র, ঝড় → শক্তি ও গণআবেগ
এই প্রতীকগুলো কবিতার নাটকীয়তা বাড়িয়েছে।
৪. ভাষা ও শৈলী
✔ স্লোগানধর্মী ভাষা
✔ উচ্চ আবেগঘন বাক্য
✔ পুনরাবৃত্তি ও আহ্বানধর্মী গঠন
✔ মঞ্চে আবৃত্তির উপযোগী ছন্দ
এই কবিতার ভাষা আন্দোলনী কবিতা বা প্রতিবাদী কবিতার ধারার কাছাকাছি।
সমালোচনামূলক মূল্যায়ন
কবিতার শক্তি আছে, কিন্তু কিছু জায়গায় ভাবার সুযোগও আছে।
শক্তি:
✅ শক্তিশালী আবেগ
✅ প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর
✅ দৃশ্যমান চিত্রকল্প
✅ মানবিক কষ্টের উপস্থিতি
উন্নতির জায়গা:
⚠ কিছু অংশে সহিংস প্রতিশোধের ভাষা প্রাধান্য পেয়েছে, যা কবিতার মানবিক বার্তাকে ছাপিয়ে যেতে পারে।
⚠ “বারুদের জবাব বারুদে হবে” ধরনের লাইন প্রতিরোধের আবেগ দেখালেও, ন্যায়বিচার, মানবতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের দিকটিও যুক্ত করলে কবিতার গভীরতা বাড়তে পারে।
⚠ কয়েকটি স্থানে ছন্দ ও মাত্রা আরও পরিশীলিত করা যায়।
বিশ্ব-সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ
এই কবিতার ভেতরে কয়েকটি সাহিত্যিক প্রবণতা দেখা যায়—
War Poetry → যুদ্ধ ও ধ্বংসের অভিজ্ঞতা
Resistance Poetry → নিপীড়নের বিরুদ্ধে কণ্ঠ
Political Poetry → রাজনৈতিক আবেগ ও অবস্থান
Revolutionary Tone → পরিবর্তনের আহ্বান
তবে বিশ্বসাহিত্যের অনেক শক্তিশালী প্রতিবাদী কবিতা ক্রোধের পাশাপাশি মানবতা, ন্যায়বিচার ও ভবিষ্যতের আশাকেও জায়গা দেয়—সেই ভারসাম্য যোগ করলে কবিতাটি আরও বিস্তৃত পাঠকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে পারে।
সারমর্ম
“বারুদের জবাব” হলো ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও অসহায় মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর এক উচ্চকণ্ঠ কবিতা। এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মানুষের কষ্ট; তবে কবিতার ভাষা প্রতিশোধের আহ্বান ও মানবিক বেদনার মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি করে।
সামগ্রিক মূল্যায়ন:
আবেগ: ★★★★★
প্রতিবাদী শক্তি: ★★★★★
চিত্রকল্প: ★★★★☆
মানবিক গভীরতা: ★★★★☆
ছন্দ: ★★★☆☆
সামগ্রিক মান: ৮.২ / ১০
এই কবিতাটি সবচেয়ে বেশি কাজ করে যখন এটি মানুষের যন্ত্রণা দেখায়; সবচেয়ে বিতর্কিত হয় যখন এটি প্রতিশোধকে সমাধান হিসেবে সামনে আনে।
******************
শনিবার, মে ৩০, ২০২৬
পথ হারিয়ে যাওয়া (অডিও সহ)
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
(আরিফ শামছ্)
দিনদুপুরে সন্ধ্যারাতে দেখছি কেমন সবি।
নয়ন খুলে দেখে চলে, প্রেমের ঊষা রবি,
সেই ছবিটায় আটকে থাকে মগ্ন ধ্যানের কবি।
ভাগ্য যাহার রয়না পাশে, ছিনিয়ে নিবে কারা!
পারিনাযে খোদার বিধান এমনি ছেড়ে দিতে,
হৃদয় মাঝে ঝড় বয়ে যায়, ভাগ্য মেনে নিতে।
বন্ধু সবে কত করে বুঝায় কত ভাবে,
সব ভুলে যা, খোদার দয়ায়, মুক্তি মিলে যাবে।
সবি ছিলো কপাল আমার, স্মৃতি বেসামাল,
কেমন করে বুঝায় সবে,অসীম ব্যথার জাল।
হাসি খুশি দিবানিশি, সুখী জীবন ভরে।
তোমার খুঁজে পথ চলিতে ব্যাকুল মনপ্রাণ ,
তোমায় পেয়ে, তৃপ্ত চোখে, করতো সুধা পান।
এক মোহনায় হয়নি দেখা,পথ হারিয়ে যাওয়া।
রক্ত ঝরে আখি পরে, ঝাপসা চোখে,মনের ভুলে,
চলছে পথিক, দিক বিদ্বিক, কোন পাথারে হেলেদুলে।
ফিরবেনাতো কোন দিনই, যায়না কেহ ফেরার তরে,
থাকার কথা রয়লে তবে, থেকে যেতে আপন করে।
পারলে তুমি, তোমার মতো, চলতে পথে নির্দ্বিধায়!
সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে, পথে পথে অনেক দায়।
৩০/০৫/২০২৬
রিয়াদ, সউদী আরব।
+++++++++++++
চ্যাটজিপিটি :
আপনার কবিতা “পথ হারিয়ে যাওয়া” প্রেম, নিয়তি, স্মৃতি, আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও আত্মসমর্পণের এক আবেগঘন কাব্যভাষ্য। এখানে ব্যক্তিগত বেদনা শুধু ব্যক্তিগত থাকে না; তা ধীরে ধীরে দার্শনিক ও মানবিক অভিজ্ঞতায় রূপ নেয়। নিচে সাহিত্যিক, বিশ্ব-সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম তুলে ধরছি।
সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. বিষয়বস্তু (Theme Analysis)
কবিতার প্রধান বিষয়গুলো হলো—
হারানো প্রেম ও স্মৃতির ভার
ভাগ্য ও তাকদীরের প্রতি আত্মসমর্পণ
মানসিক দ্বন্দ্ব ও গ্রহণযোগ্যতা
আধ্যাত্মিক বিশ্বাস বনাম মানবিক আকাঙ্ক্ষা
বিচ্ছেদ ও পথ হারানোর অনুভূতি
“পথ হারিয়ে যাওয়া” এখানে শুধু সম্পর্ক হারানো নয়; এটি জীবনের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য হারানোর প্রতীক।
২. চিত্রকল্প (Imagery)
প্রথম স্তবকেই শক্তিশালী মানসিক দৃশ্য তৈরি হয়েছে—
“মনের মুকুরে ওঠে পড়ে একটি দারুণ ছবি”
“মনের মুকুর” (আয়না) শব্দবন্ধ স্মৃতির প্রতিফলনকে দৃশ্যমান করে।
আর—
“নয়ন খুলে দেখে চলে, প্রেমের ঊষা রবি”
এখানে “ঊষা রবি” প্রেমকে সূর্যের মতো আলোকদায়ী শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
৩. ধর্মীয় ও দার্শনিক স্তর
আপনার কবিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো আধ্যাত্মিকতা ও ভাগ্যবোধ।
“গাছের পাতা নড়ে নাতো খোদার বিধান ছাড়া”
এই লাইনটি বিশ্বাস, তাকদীর ও নিয়ন্ত্রণহীনতার অনুভূতিকে একত্র করেছে।
এখানে প্রেম কেবল মানবিক অনুভূতি নয়; বরং ঈশ্বরনির্ধারিত পরীক্ষাও।
৪. ভাষা ও শৈলী
শৈলীর বৈশিষ্ট্য:
✔ সহজ ও আবেগনির্ভর ভাষা
✔ পুনরাবৃত্তির ব্যবহার
✔ লোকজ ও আধ্যাত্মিক শব্দভাণ্ডার
✔ আত্মকথনধর্মী স্বর (confessional tone)
আপনার কবিতায় আধুনিক বাংলা রোমান্টিক কবিতা ও লোকজ কাব্যভাষার সংমিশ্রণ দেখা যায়।
৫. প্রতীক বিশ্লেষণ
প্রতীক
অর্থ
মুকুর
স্মৃতির আয়না
ঊষা রবি
প্রেম ও আশা
ঝড়
অন্তর্দ্বন্দ্ব
পথিক
জীবনযাত্রী মানুষ
পথ হারানো
লক্ষ্য, প্রেম বা পরিচয় হারানো
বিশ্ব-সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
এই কবিতার কিছু বৈশ্বিক সাহিত্যিক মিল লক্ষ্য করা যায়—
Romantic Tradition
আপনার কবিতার আবেগ, স্মৃতি ও ব্যক্তিগত যন্ত্রণা রোমান্টিক ধারার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
Confessional Poetry
নিজস্ব অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত কষ্ট ও অভ্যন্তরীণ স্বীকারোক্তি—এগুলো confessional কবিতার বৈশিষ্ট্য বহন করে।
Existential Undertone
“চলছে পথিক, দিক বিদ্বিক…”
এই অংশে মানুষের অস্তিত্বগত অনিশ্চয়তা ফুটে ওঠে।
Sufi / Spiritual Echo
ভাগ্য, খোদার বিধান, আত্মসমর্পণ—এসব কবিতাকে আধ্যাত্মিক মাত্রা দিয়েছে।
শক্তি ও উন্নতির জায়গা
শক্তি
✅ আবেগের সততা
✅ স্মৃতি ও নিয়তির সংমিশ্রণ
✅ সহজ ভাষায় গভীর অনুভব
✅ ধর্মীয় অনুভূতি ও মানবিক বেদনার ভারসাম্য
উন্নতির জায়গা
⚠ কিছু লাইনে মাত্রাবৃত্ত অসমান হয়েছে
⚠ “দিক বিদ্বিক” অংশে ধ্বনিগত মসৃণতা আনা যায়
⚠ কয়েকটি স্থানে নতুন উপমা যোগ করলে কাব্যিক ঘনত্ব বাড়বে
সারমর্ম
“পথ হারিয়ে যাওয়া” মূলত এমন এক মানুষের আত্মকথা, যে ভালোবাসা হারিয়েছে, স্মৃতির ভার বহন করছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভাগ্য ও সৃষ্টিকর্তার বিধানকে মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এখানে প্রেম ব্যর্থ হলেও অনুভূতি বেঁচে থাকে; মানুষ পথ হারালেও চলা থামে না।
সামগ্রিক মূল্যায়ন
আবেগ: ★★★★★
চিত্রকল্প: ★★★★☆
ভাষা: ★★★★☆
দার্শনিক গভীরতা: ★★★★★
ছন্দ ও গঠন: ★★★☆☆
সামগ্রিক মান: ৮.৭ / ১০
শেষ লাইনের অনুভূতিটাই পুরো কবিতার সারবস্তু বহন করে—
“সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে, পথে পথে অনেক দায়।”
এই লাইন কবিতাটিকে শুধু প্রেমের কবিতা রাখেনি; এটিকে জীবনের কবিতায় পরিণত করেছে।
*************
শুক্রবার, মে ২৯, ২০২৬
১৪০। ভুলে যেতে চাই (অডিও সহ)
১৯৬। অগোছালো কবিতা _আরিফ শামছ্ (অডিও সহ)
নীরবে অশ্রু বিসর্জন,
সোনালী স্বপ্ন, আশাতরী ভগ্ন,
হারানোর অর্জন!
আছো বেশ, থেকো সুখে,
শান্তির উপকূলে,
মিষ্টি দিনগুলো, স্মৃতি সুখে,
পুঁজি করে।
বেলা যায়, বেলা যাবে,
অবলার হৃদি চিঁড়ে,
চৈতালী রোদে ফাঁটা,
মন-মাঠ চৌঁচিড়ে।
হৃদি রয় হৃদয়ের
ঠিক তার চারিধারে,
আছে কার সাধ্যি,
ফিরিয়ে নেবে তারে!
কথা নাই কতোদিন,
কথা হয় প্রতিদিন!
বেলাগুলো আমাদের,
সুখকর রাতদিন।
দেহ রয় দেহ হতে,
দূর থেকে বহুদূরে,
দেখা নাই কতোদিন!
দেখা হয় প্রতিদিন।
কারাগার দুইদেশে,
বাস করি আনমনে,
মন খুঁজে মনটারে,
আপনার প্রয়োজনে।
ভাবি ঠিক ক্ষণিকে,
বিজলীর গতিতে,
সুখরেখা আছে কী,
ঠোঁটদ্বয়ের প্রান্তে।
সুখী হও সুখে রও,
এই তো অভিশাপ!
শান্তির নীড়ে রও,
ভূলে সব পরিতাপ।
মাঝে মাঝে ব্যথা হয়,
হৃদয়ের গভীরে,
কী আছে, কী নেই,
বলি কা'রে কী করে!
হৃদয়ের শূন্যতা,
পাবেনা পূর্ণতা,
এই দেখো জীবনের,
অগোছালো কবিতা!
৩১/০৫/২০২৪
মদীনা,
সউদী আরব।
এই কবিতাটি—"অগোছালো কবিতা"—নামে ঠিক যেমন, অনুভবেও তেমন। যেন একজন মানুষ নিজের ভেতরের অগোছালো ব্যথাগুলো কাগজে ছড়িয়ে দিয়েছে, বিনা সাজে, বিনা বাঁধনে, অথচ একেবারে সত্যি।
“ভালোবাসা,
নীরবে অশ্রু বিসর্জন,
সোনালী স্বপ্ন, আশাতরী ভগ্ন,
হারানোর অর্জন!”
এই চারটি লাইনেই পুরোটাই ধরা—প্রেমের নিরবতা, কষ্ট, প্রত্যাশার ভাঙাচোরা বাস্তবতা।
আর এইটা—
"দেহ রয় দেহ হতে,
দূর থেকে বহুদূরে,
দেখা নাই কতোদিন!
দেখা হয় প্রতিদিন।"
এটা এমন একটা অনুভূতির প্রকাশ, যা কেবল কেউ হারিয়ে ফেলেছে বলেই বুঝতে পারে।
আপনার কবিতাগুলো শুধু ব্যথা নয়—এই ব্যথাকে সাহস করে কবিতায় রূপান্তর করার এক অসাধারণ মানসিক শক্তির প্রকাশ।
-------------------
১৪১। বাবুই পাখির মা
আরিফ শামছ্
১০/০৬/২০২১
অর্ধাঙ্গিনীর আপন মা তাই,
ভূলে গেলে আমায়!
স্নেহাদরের নেই তুলনা,
এখন খুঁজে পায়!
নিরাক পড়া ভর দুপুরে,
একলা বিকেলে,
কত স্মৃতি মনে পড়ে,
হর্ষ-বিষাদে।
বাবার কথা আসলে তুমি,
বলতে আমিই বাবা,
বাবা-মায়ের পুরো আদর,
পাবে সবি বাবা।
সত্যি মাগো, এত্তো আদর,
কেমন করে পাবো!
তুমি ও নাই, বাবা ও নাই,
আমরা কোথায় যাবো!
"জামাই! আসবেন কবে"?
এমন করে খোঁজে,
খবর পেলেই বলতে ফোনে,
"এসো সকাল, সাঁঝে"।
ভাদুঘর কতো যায় যে মাগো,
ডাকেনা তো কেউ,
কোথায় আছেন, আসবেন কখন,
বলেনা তো কেউ।
জানালার ঐ কোনে বসে,
অধীর আগ্রহে,
জামাই তোমার আসলো বুঝি,
খুঁজতে বারে বারে!
কোথায় পাবো খুঁজে মাগো?
কেমন আছো মা?
জামাই বলে তোমার মতো,
কেউতো ডাকেনা!
দরদভরা হৃদয়-মনে,
সহজ সরল সম্ভাষণে,
"বাবুই পাখি" সম্বোধনে ,
আর পাবোনা ঘরের কোণে।
ঈদের ছুটি, শীতের ছুটি,
গ্রীষ্মকালে ফলের ছুটি,
'আসবে কবে?কবে ছুটি'?
ডাকবেনা মা আর কী তুমি!
চলছে সবি আগের মতো,
তুমি শুধু নেই,
তোমার বাড়ি আজো আছে,
প্রাণযে তাহার নেই।
মাগো তুমি থেকো সুখে ,
জান্নাতীদের দলে।
আসবো ফিরে সবাই মিলে,
আবার সদলবলে।
মর্জিনা মঞ্জিল
নয়াটোলা, মীরবাগ, ঢাকা।
****************
আপনার “বাবুই পাখির মা” কবিতাটি মূলত শোক, স্মৃতি, পারিবারিক স্নেহ, শাশুড়ি-মা ও জামাইয়ের মানবিক সম্পর্ক, এবং অনুপস্থিতির বেদনা—এসবের এক আবেগঘন দলিল। এটি ব্যক্তিগত স্মৃতিকে সার্বজনীন অনুভূতিতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। নিচে সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর বিশ্লেষণ দিচ্ছি—
কাব্যিকতা ও আবেগের শক্তি
কবিতাটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ। এখানে কৃত্রিমতা নেই; বরং স্মৃতি ও শূন্যতার সরাসরি প্রকাশ আছে।
“তুমি ও নাই, বাবা ও নাই, / আমরা কোথায় যাবো!”
—এই লাইনগুলো পারিবারিক আশ্রয় হারানোর গভীর শূন্যতাকে অত্যন্ত সহজভাবে প্রকাশ করেছে।
“বাবুই পাখি” সম্বোধনটি কবিতার কেন্দ্রীয় প্রতীক। এটি শুধু একটি ডাক নয়, বরং স্নেহ, আশ্রয়, ঘর, সম্পর্ক ও হারিয়ে যাওয়া সময়ের রূপক।
সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
এই কবিতাটি স্মৃতিকাতর (nostalgic) ও শোকধর্মী পারিবারিক কবিতা। এর গঠন কয়েকটি আবেগিক স্তরে এগিয়েছে—
১. হারানোর উপলব্ধি
২. স্মৃতিচারণ
৩. সম্পর্কের উষ্ণতা পুনরুদ্ধার
৪. শূন্যতার মুখোমুখি হওয়া
৫. পরকালীন পুনর্মিলনের আশা
এখানে কথোপকথনধর্মী ভঙ্গি কবিতাকে জীবন্ত করেছে। “জামাই! আসবেন কবে?”—এই ধরনের সংলাপ পাঠককে দৃশ্যের ভেতরে নিয়ে যায়।
প্রতীক ও চিত্রকল্প
- “বাবুই পাখি” → স্নেহময় পরিচয়, ঘর, মায়া ও কোমলতার প্রতীক
- জানালার কোণে বসে থাকা → অপেক্ষা ও প্রত্যাশার চিত্র
- ফলের ছুটি, ঈদের ছুটি → পারিবারিক পুনর্মিলনের সাংস্কৃতিক স্মৃতি
এগুলো কবিতাকে ব্যক্তিগত স্মৃতির বাইরে সামাজিক বাস্তবতায় যুক্ত করেছে।
সমালোচনা ও পর্যালোচনা
শক্তির জায়গা:
- আন্তরিকতা খুব প্রবল
- ভাষা সহজ ও হৃদয়গ্রাহী
- পারিবারিক সম্পর্কের উষ্ণতা স্পষ্ট
আরও উন্নয়নের জায়গা:
- কিছু লাইনে পুনরাবৃত্তি আছে, সেগুলো সংক্ষিপ্ত করলে ঘনত্ব বাড়বে
- কয়েকটি অংশে মাত্রা/ছন্দ অসম, সেটি শোধরালে আবৃত্তিযোগ্যতা আরও বাড়বে
- কিছু প্রতীক আরও বিস্তৃত করা গেলে সাহিত্যিক গভীরতা বাড়তে পারে
মানব জীবনে তাৎপর্য
এই কবিতা মনে করিয়ে দেয়—
- মানুষ চলে যায়, কিন্তু তার ব্যবহার থেকে যায়
- আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্তের বাইরেও গড়ে ওঠে
- শোক শুধু কান্না নয়, স্মৃতি সংরক্ষণেরও একটি পথ
- বয়োজ্যেষ্ঠদের উপস্থিতি পরিবারের আবেগিক কেন্দ্র
বিশেষত্ব
এই কবিতার বিশেষত্ব হলো—
শাশুড়ি-মা ও জামাইয়ের সম্পর্ককে এত মানবিক, স্নেহপূর্ণ ও ব্যক্তিগতভাবে তুলে ধরা বাংলা কবিতায় খুব বেশি দেখা যায় না। এই দিকটি কবিতাটিকে আলাদা পরিচয় দেয়।
সারমর্ম
“বাবুই পাখির মা” একটি স্মৃতি-নির্ভর, আবেগঘন ও পারিবারিক শোককবিতা, যেখানে হারিয়ে যাওয়া একজন মমতাময়ী মানুষের অনুপস্থিতি শুধু একজন ব্যক্তির নয়, পুরো পরিবারের শূন্যতা হয়ে উঠেছে। কবিতার প্রাণ তার সরলতা, আন্তরিকতা ও স্মৃতির গভীরতায়।
------------------
বুধবার, মে ২৭, ২০২৬
১৩৮। বুঝবে সেদিন
১৩৮। বুঝবে সেদিন
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
(আরিফ শামছ্)
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
(আরিফ শামছ্)
রক্ত বয়ে বন্যা হয়ে,
মরু বালি ভিজে,
সয়তে না আর পারে কেহ,
অশ্রু ঝরে পড়ে।
কচি কাঁচা, শিশু নারী,
মরছে দিবানিশি,
অধিকারের নিত্য দাফন,
চালায় অহর্নিশি।
ভাবছো কেহ, তাদের হয়ে,
অস্ত্র দেবে, যুদ্ধে যাবে!
ভাবতে থাকো, পৌঁছবে খাঁদে,
জাহান্নামেই রবে।
নারী শিশুর আর্তনাদে,
বাঁচা মরার করুণ ডাকে,
কেউ দিলেনা সাড়া শোনে,
চলছো তুমি চলছে সবে।
ভুলেই গেলে, ভুলবে ভুলে,
ভাই ভাই, তোমরা সবে,
একদেহ এক প্রাণ,
তোমার ডাকে নাইবা এলে,
মোমিন মুসলমান।বুঝবে সেদিন তোমার হলে,
ভাই ভাই, তোমরা সবে,
একদেহ এক প্রাণ,
তোমার ডাকে নাইবা এলে,
মোমিন মুসলমান।
২৮/০৭/২০১৮ ঈসায়ী সাল।
ঢাকা।
********************
“বুঝবে সেদিন” — মানবতা, নীরবতা ও বিবেকের আর্তনাদের কাব্যিক বিশ্লেষণ
কাব্যিকতা ও ভাষার শক্তি
শুরুতেই—
মরু বালি ভিজে,”
কাব্যিক উপাদান
রক্তের বন্যা → গণহত্যা ও অব্যাহত সহিংসতা
অধিকারের দাফন → মানবাধিকারের মৃত্যু
“আর্তনাদে”, “করুণ ডাকে”— শব্দগুলো কবিতায় শোক ও অসহায়তার সুর তৈরি করেছে।
“ভাবছো কেহ, তাদের হয়ে…” — পাঠকের বিবেককে সরাসরি প্রশ্ন করে।
সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
“অন্যের কষ্টকে নিজের কষ্ট হিসেবে অনুভব করার মানবিক দায়িত্ব”
- নির্যাতিত মানুষ শুধু সংবাদ নয়,
- শিশু ও নারীর মৃত্যু শুধু পরিসংখ্যান নয়,
- নীরবতা কখনো কখনো অন্যায়ের সহযোগী হয়ে দাঁড়ায়।
দার্শনিক ও মানবিক তাৎপর্য
মানুষ অনেক সময় অন্যের বেদনা অনুভব করে না, যতক্ষণ না সেই বেদনা নিজের জীবনে আসে।
বিশ্ব-সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার ভাবধারা কিছু ক্ষেত্রে স্মরণ করিয়ে দেয়—
- Mahmoud Darwish-এর নিপীড়িত মানুষের বেদনা,
- Kazi Nazrul Islam-এর প্রতিবাদী মানবতা,
- Pablo Neruda-এর যুদ্ধবিরোধী চেতনা।
সমালোচনা ও পর্যালোচনা
শক্তির দিক
- মানবিক বেদনার তীব্র প্রকাশ
- সংক্ষিপ্ত অথচ প্রভাবশালী বক্তব্য
- সামাজিক ও ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ববোধের আহ্বান
- পাঠকের বিবেককে নাড়া দেয়
- কিছু বক্তব্য সরাসরি হওয়ায় কাব্যিক রহস্য কমেছে
- রাজনৈতিক বাস্তবতার গভীর বিশ্লেষণের চেয়ে আবেগ বেশি প্রাধান্য পেয়েছে
- প্রতীকের স্তর আরও বিস্তৃত হতে পারত
মানব জীবনে তাৎপর্য
- অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকা উচিত নয়,
- মানবিক সহমর্মিতা ছাড়া সভ্যতা টিকে না,
- যুদ্ধের সবচেয়ে বড় শিকার সাধারণ মানুষ,
- অন্যের কষ্ট অনুভব করতে না পারলে একদিন নিজের কষ্টও কেউ অনুভব করবে না।
বিশেষত্ব
এটি কোনো জটিল দর্শনের কবিতা নয়; বরং সরাসরি মানব বিবেকের দরজায় কড়া নাড়া এক আর্তনাদ।
সারমর্ম
*********************
কবি: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)
“বুঝবে সেদিন” কবিতাটি একটি গভীর মানবিক বেদনা, প্রতিবাদ ও আত্মসমালোচনার কবিতা। এখানে যুদ্ধ, নির্যাতন, শিশু-নারীর মৃত্যু এবং বিশ্বমানবতার নীরবতা—সব মিলিয়ে কবি এক করুণ বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন পাঠককে।
কবিতাটির ভাষা সরল, সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত আবেগঘন।
“রক্ত বয়ে বন্যা হয়ে,
এই চিত্রকল্প ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ ও রক্তপাতকে দৃশ্যমান করে তোলে। মরুভূমির বালু রক্তে ভিজে যাওয়ার চিত্র শুধু ভৌগোলিক নয়; এটি মানবসভ্যতার বিবেক রক্তাক্ত হওয়ার প্রতীক।
-
রূপক:
-
ধ্বনি ও আবেগ:
-
প্রশ্নাত্মক আঘাত:
এই কবিতার মূল বিষয় হলো—
কবি দেখিয়েছেন—
“ভাই ভাই, তোমরা সবে / একদেহ এক প্রাণ”— এই লাইন ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধের পাশাপাশি সার্বজনীন মানবিক ঐক্যের বার্তা বহন করে।
কবিতাটি মানুষের একটি চিরন্তন দুর্বলতা তুলে ধরে—
শেষের লাইন—
“বুঝবে সেদিন তোমার হলে…”
এখানে কবি গভীর নৈতিক সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সহানুভূতি শুধু আবেগ নয়; এটি মানবতার ভিত্তি।
যুদ্ধ, নিপীড়ন ও মানবিক বিপর্যয় নিয়ে বিশ্বসাহিত্যে বহু কবিতা রচিত হয়েছে।
যদিও ভাষা ও গঠন সরল, কিন্তু আবেগীয় আবেদন শক্তিশালী।
তবে কবিতার মূল শক্তি তার আন্তরিকতা ও মানবিক চিৎকারে।
কবিতাটি শেখায়—
এই কবিতার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো—
এখানে কবি কেবল প্রতিবাদ করেননি, মানুষকে মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।
“বুঝবে সেদিন” একটি মানবিক প্রতিবাদী কবিতা, যেখানে যুদ্ধ, নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কবি সহমর্মিতা, ঐক্য ও মানবিক দায়িত্ববোধের আহ্বান জানিয়েছেন। এটি এমন এক কাব্যিক সতর্কবার্তা, যা বলে— অন্যের কান্না উপেক্ষা করলে একদিন নিজের কান্নারও কোনো উত্তর মিলবে না।
মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬
স্মৃতির পোস্ট-মর্টেম (অডিওসহ)
স্মৃতির পোস্ট-মর্টেম
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
(আরিফ শামছ্)
স্মৃতির আকাশ পাতাল, এপার ওপার,
সব দখলে তোমার,
কোথাও সূর্য হাসে, পুঞ্জ মেঘ ভাসে,
স্মৃতির বাঁশরি বাজে বারবার।
কখনো কালো মেঘের ঘনঘটা, বিদ্যুৎ চমকায়,
মনপ্রাণ ভরে কান্না করে, আকাশ বৃষ্টি ঝরায়।
কি সুখ কি দুঃখ কে খুঁজে কার কবে?
এইতো জীবন চলে,স্মৃতির মোহে ডুবে।
স্মৃতির পোস্ট-মর্টেম চলে, সময়ের ছুড়ি
আর বিরহের কাচি দিয়ে,
রিপোর্টে আসে জীবন্ত হত্যাকারী,
তুমি শুধু তুমি প্রিয়ে।
কাছে কিবা দূরে রও, কথা কও বা না কও,
স্মৃতির পিঞ্জিরায় বন্দী করেছো,
ভালোবেসে কাছে এসে, একসাথে বসবাসে,
স্বপ্নের নির্বাসন দিয়েছো!
আমা হতে বহুদূরে, বাস্তবের খেয়া চরে,
ভিন গ্রহে আছো বেঁচে,
পরম সান্ত্বনা তবু তুমি আছো জানি,
সুখ শান্তি পায় খোঁজে।
জানিনা তোমার মনের খবর কি আসে কি যায়,
স্মৃতির বিরহ ব্যথায় মনে পড়ে কি কথায় কথায়?
আনমনে তনুমন, বারবার স্মৃতিতে হারায়,
নিষ্পাপ স্মৃতিতে কি খুঁজে আর কী পায়!
২৬/০৫/২০২৬
রিয়াদ,
সউদী আরব।
ভালবাসি দিবা-নিশি _সূচীপত্র
২০০। তুমি যে সবার-কাব্যিক, ছান্দসিক, সাহিত্যিক, রসাস্বাদন ও সমগ্র বিশ্লেষণসহ সারাংশ ও সারমর্ম
অডিও: তুমি যে সবার ২০০। তুমি যে সবার আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) তুমি তো নও তোমার ওগো, তুমি যে সবার! সৃষ্টি তুমি...
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ
-
সাহিত্যের জাগরণ "সাপ্তাহিক সেরা সাত" আসসালামু আলাইকুম। "সাহিত্য হোক নতুনত্বের বারিধারা- সাহিত্য হোক সৎ সভ্যতার কথা বলা।...
-
হামাস-ইসরায়েল সংঘাত, আরেকটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্ব? | Israel-palestine Crisis ফিলিস্তিনি-ইসরাইল নতুন যুদ্ধ || প্রতিশোধ নেও...
-
বিশ্বব্যাপী স্ট্রোক একটি প্রধান মৃত্যুর কারণ, এবং কাজের সম্পর্কিত কারণে এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ঘটে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আন্ত...
-
-Ariful Islam Bhuiyan. I love him who is my creator, Guardian & well wisher. I have no qualification for placing my obediency to p...
-
অডিও: পথ হারিয়ে যাওয়া: সুরে সুরে পথ হারিয়ে যাওয়া আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) মন মুকুরে ওঠে পড়ে একটি দারুণ ছবি, দিনদুপুরে সন্ধ্যারাত...
-
চ্যাটজিপিটি কি? চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) হল একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক ভাষা মডেল, যা OpenAI দ্বারা উন্নয়ন করা হয়েছে। এটি GPT (Generat...
-
ChatGpt: এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) হল এমন একটি প্রযুক্তি, যা কম্পিউটার এবং মেশিনকে মানুষের মতো চিন্তা করতে, ...
-
মন মাতানো, প্রাণ জুড়ানো, গান শোনো, ক্লান্তি দূরে, শ্রান্তি পাবে, শান্তি পাবে জানো। --আরিফ শামছ্ shorts/74cqSa9OJUg?si=8CEXnpPjnRqGkU3f জন্...
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ
-
Housing Business: 1 কাঠার সামান্য কম জায়গা, টিন সেট 3টি রুম করা আছে এবং সামনে রাস্তার সাথে দোকান আছে মূল্য 1 কোটি 20 লক্ষ টাকা | লোহা...
-
মহান আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন জাতিকে তাদের অবাধ্যতা, কুফর, পাপাচার ও নবীদের অস্বীকারের কারণে শাস্তি দিয়েছেন। এই শাস্তিগুলোর মধ্যে আগুন বা দাবা...
-
অডিও: অনন্ত কালের অন্তিম রেখায় অনন্তকালের অন্তিম রেখায় আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) কবিতা বেগম: প্রিয়তম! তোমাকে ভুলতে যেয়ে তাবৎ দুনিয়াকে...
-
অডিও: তাকবীর ধ্বনি তাকবীর ধ্বনি নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার। গগন বিদারী, তাকবীর ধ্বনি, সমস্বরে আওয়াজ তুলি। নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার। ।...
-
অডিও : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ । । শোন হে! মানব জাতি! জ্বীন ইনসান,জীব জন্তু সকলে, যুগে যুগে এই কালিমা লয়ে, লাখ ...
-
ভূমিকা: প্রেম, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব—এই তিনটি শব্দ মানব জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন, কোমল ও সংবেদনশীল অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব করে। কিছু সম্পর্ক শুরু হ...
-
অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরতা, মানবিক সহযোগিতা ও ন্যায়ভিত্তিক বৈশ্বিক শান্তি তত্ত্ব (একটি সমন্বিত বৈশ্বিক শান্তি, ন্যায় ও সহাবস্থান মডেল) বৈশ...
-
🇧🇩 বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থান: রাষ্ট্রগঠন, গণতন্ত্র ও বিরোধী দলের অপরিহার্য ভূমিকা ভূমিকা বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।...
-
অডিও: ভালোবাসি দিবানিশি : সুরে সুরে ভালোবাসি দিবানিশি আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) নিরাকপরা ভর দুপুরে, বসে আছি আনমন...
জনপ্রিয় পোষ্টগুলি:
-
অডিও : ভালোবাসার সিংহদ্বার ভালোবাসার সিংহদ্বার আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) ভালোবাসো কি? প্রশ্নের জবাব বড্ড দেরী! তাতে ...
-
অডিও: সত্য ন্যায়ের ঝান্ডাধারী ১৭৮। সত্য-ন্যায়ের ঝান্ডাধারী আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) মাথার 'পরে, সপ্ত আকাশ, আরশে আজীম জানো, স্বয...
-
অডিও: কালেমা খচিত পতাকা উড়ে কালেমা খচিত পতাকা উড়ে কালেমা খচিত পতাকা উড়ে আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) ভয় নাই হে মানবজাতি, ভয় নাই কোন আর, ...
-
অডিও: কারবালার শিক্ষা কারবালার শিক্ষা -------আরিফ শামছ্ কারবালা আর কয়টা দেখে, ভাঙ্গবে তোমার মরণঘুম, কতো রক্ত-নদী বেয়ে, উঠবি জেগে ওঠরে ওঠ !...
-
১৭৯। সঠিক পথে আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) স্রষ্টা নহে তুমি কভু , সৃষ্টি তুমি মহান প্রভুর। সেই সুবাদে সৃষ্টি শুধু,অহং রাখো দূর। চলনা ভ...
-
অডিও লিংক: স্বপ্নের অপমৃত্যু : সুরে সিরে স্বপ্নের অপমৃত্যু --আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) প্রতি রাতে আকাশের গায়, অসংখ্য তারার মেলা দে...
-
অডিও: সুখের দিঠি: সুরে সুরে ১৬১। সুখের দিঠি আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) নীলাকাশে শুভ্র মেঘ, স্নিগ্ধ আলোয় বিশ্ব বেশ, সুখের তরী, চাতক খো...
-
অডিও: ভালোবাসার পরোয়ানা : সুরে সুরে ভালোবাসার পরোয়ানা আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) ২২/১২/২০১৭ ঈসায়ী সাল। ভালবাসা ভরে থাক, প্রতিটি অন্তর...
-
কবিতা পারা ১৭৪। বিপ্লবী! (২২) আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) বিপ্লবী! ভাবছো কিছু? কীযে হলো? নারী, শিশু! নাইরে কেনো? শান্তি নিরাপ...
-
অডিও: হে প্রিয় রাসূল (সাঃ)! কবি আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (যাঁর ছদ্মনাম আরিফ শামছ্) মূলত অনুভূতির কবি হিসেবে পরিচিত এবং তাঁর কবিতায় আধ্যাত্মিকতা...
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ
-
অডিও: পথ হারিয়ে যাওয়া: সুরে সুরে পথ হারিয়ে যাওয়া আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) মন মুকুরে ওঠে পড়ে একটি দারুণ ছবি, দিনদুপুরে সন্ধ্যারাত...
-
অডিও: সাধনার মানবী: সুরে সুরে ১০৩। সাধনার মানবী আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) প্রচন্ড লোভ আমার তোমাকে দেখার, তোমার তরে লিখে এ কবিমন খ...
-
অডিও: ভালোবাসার শ্বেতপত্র ভালোবাসার শ্বেতপত্র -----আরিফ শামছ্ বড়ই সৌভাগ্যবান, তুমি হয়েছো যার, তাঁর মতো করে, রাখতে পারবোনা বলেই, স্রষ্টার ...
-
অডিও: ভুলে যেতে চাই: সুরে সুরে ভুলে যেতে চাই আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) আমি চাই, ভুলে যেতে— তোমার স্মৃতিগুলো দূরে ঠেলে দিতে, কিন্তু এই...
-
সকল ধর্মমতে আল্লাহর পরিচয়, প্রয়োজনীয়তা এবং সৃষ্টির বিস্তারিত ইতিহাস। উনি কি এখনও সৃষ্টিশীল কাজ করেন? জবাব: অসাধারণ প্রশ্ন করেছেন — এটি ধর...
-
আমি শাহজালাল, শাহপরান, বায়েজীদ বোস্তামী, খান জাহান (রাহঃ)। আমি রবি ঠাকুর, বিদ্রোহী নজরুল, বিপ্লবী মাজলুম, জীবনান্দ, ফররুখ, আমার খুনের সাত ...
-
ঈদযাত্রা: মহাসড়কে যাত্রীর চাপ, বৃষ্টিতে ভোগান্তি “শৃঙ্খলা মানে নিরাপত্তা, নিয়ম মানে স্বস্তি” ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক, শহর, বাজ...
-
উপন্যাস: ভালোবাসি দিবানিশি অধ্যায় ১: প্রথম দেখা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি অনার্স কলেজের ভর্তি কার্যক্রমের দিন। কলেজ চত্বরে উৎসবের আমেজ। ছেল...
-
অডিও: তুমি আসবে বলে তুমি আসবে বলে আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া। (আরিফ শামছ্) আমার আকাশে নেই মেঘের আনাগোনা, নেই বিদ্যুৎ চমকানোর ঘনঘটা, সুস্পষ্ট নীল...
-
কবিতাটির সারাংশ বা সারমর্ম চাই প্রেম আর ভালোবাসা ___আরিফ শামছ্ দৃষ্টির সীমানায়, হৃদয়ের মোহনায়, কে এলো? কে যায়? জান্নাতী সমীরণে, বাসনার ঢেউ ধ...








