ভালোবাসি দিবানিশি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ভালোবাসি দিবানিশি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৬

পরিচয়

পরিচয়ঃ

নাম: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
লেখালেখি: আরিফ ইবনে শামছ্
পিতা: বিশিষ্ট সমাজ ও সাহিত্যসেবক, কবি ক্বারী আলহাজ্ব শামছুল ইসলাম ভূঁইয়া (রাহঃ)। সহকারি প্রকৌশলী, বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন (বি.টি এন্ড টি- বি.টি.সি. এল)।
মাতা: মোয়াল্লিমা হালীমা সাদীয়া ভূঁইয়া।
জন্মঃ চট্রগ্রাম বিভাগের তিতাসবিধৌত, সাহিত্য-সংস্কৃতির উর্বরভূমি, সুর সম্রাটের  ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার সদর থানার ভাদুঘর গ্রামের ভূ্ঁইয়া পাড়ার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ৪ঠা মে, ১৯৭৯ সালে জন্ম গ্রহণ করেন।
বয়স: ৪২ বছর।
পেশা: চাকুরী।

পড়াশোনা:
নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়, (৬ ষ্ঠ শ্রেনী) সদর, বি.বাড়ীয়া। ভাদুঘর মাহবুবুল হুদা পৌর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (৭ম-১০ম)।হাবলা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (রেজিষ্ট্রেশন) হতে ১৯৯৫ ঈসায়ী সালে কৃতিত্বের সাথে ১ম বিভাগে পাশ করেন।প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বরাবরই ফার্ষ্ট বয় ছিলেন।১৯৯৭ সালে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করেন।২০০১ সালে,  বি.এস.এস (সন্মান-অর্থনীতি), ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সরকারি কলেজ, ২০০৩ সালে, এম.এস.এস (অর্থনীতি), সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা। বি.এড. বাংলাদেশ টিচার্স ট্রেইনিং কলেজ, ঢাকা (জাতীঃবিঃ), এম.এড (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)।

বাংলা সাহিত্যে অবদানঃ
যুগ্ম সম্পাদক, আধুনিক বাংলা কবিতা সাহিত্য সংস্কৃতির আসর (একটি গতিশীল সাহিত্যভান্ডার)।  প্রাক্তন বিভাগীয় সম্পাদক, সাহিত্য সম্পাদক, মাসিক "বলিতে ব্যাকুল" পরবর্তীতে "তিতাস বার্তা"।

প্রকাশিত লেখা:
সর্বাধিক প্রচারিত স্থানীয় পত্রিকা 'দৈনিক ব্রাহ্মণবাড়ীয়া', 'দৈনিক প্রজাবন্ধু', মাসিক 'বলিতে ব্যাকুল', 'তিতাস বার্তা', ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক 'হক্ব পয়গাম'।
মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শেখ সম্পাদিত "ঝরা ফুলের গন্ধ" যৌথ কাব্য গ্রন্থে  প্রকাশিত (১) শ্বাশ্বত আহ্বাণ এবং (২) "ছন্দ নাবিক।

মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শেখ সম্পাদিত "বিজয়ের উল্লাসে " যৌথ কাব্য গ্রন্থে  প্রকাশিত (১) সত্য সন্ধানী এবং (২) বাঙালির স্বাধীনতা (৩) অনুশোচনা  (৪) বিজয়ের উল্লাসে (৫) বিদ্রোহী তুমি বিপ্লবী (৬) আজের এই বাংলাদেশ (৭) ভাঙ্গা গড়া।

তাসকীন আব্দুল্লাহ এর সংকলন ও সম্পাদনায়  "বাংলার ১০০ কবি ও কবিতা " যৌথ কাব্য গ্রন্থে  প্রকাশিত (১) সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এবং (২) আগুন জ্বালা অন্তরে।

অপ্রকাশিত -
গল্প ১০ টি ও
কবিতা: ৩৫০+

সন্মাননা পত্র প্রাপ্তি :
পাক্ষিক সেরা কবি, আধুনিক বাংলা কবিতার আসর (কবিতাঃ কারবালার শিক্ষা),পাক্ষিক সেরা কবি, আধুনিক বাংলা কবিতা ছড়া ও গানের আসর (কবিতাঃতোরা থামবি কিনা বল।), সাহিত্য জাগরণ বাংলাদেশ (কবিতাঃহৃদয় কন্দরে। কবিতাঃ কবিতা তোমার।), শখের কবিতা সাহিত্য আড্ডা (কবিতাঃ টেকসই মানবতা।কবিতাঃ বিদ্রোহী তুমি বিপ্লবী।)। বাংলাদেশ কবি সংসদ, (সিলেট বিভাগ)। বাংলাদেশ কবি সংসদ, (চট্রগ্রাম বিভাগ) হতে সাহিত্য অঙ্গনে বিশেষ অবদানকৃত স্বরুপ বিশেসন্মাননা পত্র প্রাপ্তি।
বিশেষ সন্মাননাপত্র, এসো কবিতা লিখি (কবিতাঃ জাগাও তুমি জেগে ওঠো!), দিনের (২০-১১-২০১৭) সেরা কবি, বাংলাদেশ কবি পরিষদ (কবিতাঃ বাঙ্গালীর স্বাধীনতা)। আন্তর্জাতিক কবি পরিষদ (আজকের- ০৬-১২-২০১৭- সেরা কবি, কবিতাঃ "জীবন তরী"); ছায়াবীথি (সেরা পোষ্ট- কবিতা ইভেন্টে বিজয়ী- কবিতাঃ "অনাগত সন্তানের আহ্বান"।সমাজ কল্যাণ সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক সপ্তাহের (১৪-১২-২০১৭) সেরা বিজয়ী কবি, ১ম স্থান অধিকারী, (কবিতাঃ আসলে পতন, খবরদার !)
বাংলা সাহিত্য (কবিতা ও গল্পের রস ১৪-১২-২০১৭সাপ্তাহিক সেরা ২৫ এ ৫ম স্থান ( কবিতাঃ আসলে পতন, খবরদার !); বাংলা সাহিত্য (কবিতা ও গল্পের রস ২২-১২-২০১৭সাপ্তাহিক সেরা ২৫ এ ১১ তম স্থান ( কবিতাঃ পরোয়ানা !)প্রজন্ম সাহিত্য সভা (প্রসাস-০৬-০২-২০১৮সপ্তাহের সেরা  ০৫ এ ০৪- কবিতাঃ স্বান্তনা) নকলা উপজেলা সমাজকল্যাণ সাহিত্য পরিষদ, সাপ্তাহিক সম্মাননা ১৬-০২-২০১৮,( কবিতা: ফাগুনের গান); কাব্য প্রেমীদের প্রচার মাধ্যম গল্প কবিতা ও সাহিত্যের আসরবিশেষ সম্মাননা _২২-০২-২০১৮ (কবিতা: প্রিয় বাংলাভাষা); কাব্য কথার মেলা সাহিত্যাঙ্গন, সাপ্তাহিক সেরা ০৫ (কবিতা: এই পৃথিবীর আর্তনাদ); সাহিত্যজগৎ (সকল সাহিত্য প্রেমিদের ঠিকানা), সাপ্তাহিক সেরা ০৫ (কবিতা: বিপ্লবী );শেরপুর সাহিত্য পরিষদ, সাপ্তাহিক সম্মাননা, ২৩-০৩-২০১৮ (কবিতা: বিপ্লবী) ; সাহিত্য সন্ধ্যা, আজকের (২৭-০৩-২০১৮) সেরা কবি, (কবিতা: বিপ্লবী) বাংলা সাহিত্য কবিতা ও গল্পের রস _৩০-০৩-২০১৮সাপ্তাহিক সেরা ২৫ এ  ৪র্থ স্থান ( কবিতাঃবিপ্লবী )। সাপ্তাহিক সেরা ০৭ কবি ও কবিতায় ১ম স্থান, (কবিতা: বিপ্লবী ); সাহিত্যের জাগরণ,আন্তর্জাতিক সাহিত্য সংগঠন, সাপ্তাহিক সম্মাননা, ০১-০৪-২০১৮ (কবিতা: বিপ্লবী)।

ঠিকানা:
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
ভূঁইয়া পাড়া, বাড়ী# ১২৩৪,
ওয়ার্ড# ১২, গ্রাম: ভাদুঘর,
পোষ্ট: ভাদুঘর-৩৪০০।
থানা:সদর,  জিলা: বি.বাড়ীয়া।
মোবাইল:  ০১৬১০০০৭৯৭০।

শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

পরিচয়: আরিফ শামছ্

লেখক পরিচিতি

আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া

ছদ্মনাম: আরিফ শামছ্

ব্যক্তিগত তথ্য

পিতা: বিশিষ্ট সমাজ ও সাহিত্যসেবক, কবি ক্বারী আলহাজ্ব শামছুল ইসলাম ভূঁইয়া (রাহঃ)

সহকারি প্রকৌশলী, বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন (BT&T / BTCL)

মাতা: মোয়াল্লিমা হালীমা সাদীয়া ভূঁইয়া

স্থায়ী ঠিকানা:

ফখরে বাঙ্গাল নিবাস, বাড়ি# ১২৩৪, ওয়ার্ড# ১২

ভুঁইয়া পাড়া, ভাদুঘর দক্ষিণ

সদর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া

মোবাইল: ০১৬১০০০৭৯৭০

শিক্ষাগত যোগ্যতা

প্রাথমিক শিক্ষা: বরাবরই প্রথম স্থান অধিকার

৬ষ্ঠ শ্রেণি: নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়

৭ম–১০ম: ভাদুঘর মাহবুবুল হুদা পৌর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়

এস.এস.সি (১৯৯৫): হাবলা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (১ম বিভাগ)

এইচ.এস.সি (১৯৯৭): ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সরকারি কলেজ

বি.এস.এস (অনার্স, অর্থনীতি) – ২০০১

এম.এস.এস (অর্থনীতি) – ২০০৩ (সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা)

বি.এড – বাংলাদেশ টিচার্স ট্রেইনিং কলেজ

এম.এড – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এমবিএ / এমএইস – অধ্যয়নরত

পেশাগত অভিজ্ঞতা

শিক্ষকতা ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কাজ

মোবাইল টেলিকম ও ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস খাতে অভিজ্ঞতা

কর্মরত ছিলেন (২০০৮–২০২৩):

ওয়ারিদ টেলিকম

এয়ারটেল লিমিটেড

রবি আজিয়াটা লিমিটেড

নগদ লিমিটেড

(কন্ট্রাকচুয়াল ও পারমানেন্ট উভয় পদে)

সাহিত্যিক পরিচয়

কবি, লেখক ও সাহিত্য সংগঠক

২০০+ কবিতার রচয়িতা

প্রাক্তন বিভাগীয় সম্পাদক ও সাহিত্য সম্পাদক

মাসিক “বলিতে ব্যাকুল”

“তিতাস বার্তা”

প্রকাশিত গ্রন্থ ও লেখা

যৌথ কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত

মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শেখ সম্পাদিত "ঝরা ফুলের গন্ধ" যৌথ কাব্য গ্রন্থে প্রকাশিত 

(১) "শ্বাশ্বত আহ্বাণ" এবং (২) "ছন্দ নাবিক"। 

মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শেখ সম্পাদিত "বিজয়ের উল্লাসে" যৌথ কাব্য গ্রন্থে প্রকাশিত 

(১) সত্য সন্ধানী (২) বাঙালির স্বাধীনতা (৩) বিজয়ের উল্লাসে (৪) অনুশোচনা (৫) বিদ্রোহী তুমি, বিপ্লবী (৬) আজকের এই বাংলাদেশ (৭) ভাঙ্গা গড়া 

সংকলন ও সম্পাদনা: তাসকিন আব্দুল্লাহ "বাংলার ১০০ কবি ও কবিতা" যৌথ কাব্য গ্রন্থে প্রকাশিত "আগুন জ্বালা অন্তরে" |

পত্রিকায় প্রকাশিত

দৈনিক ব্রাহ্মণবাড়ীয়া

দৈনিক প্রজাবন্ধু

মাসিক বলিতে ব্যাকুল

তিতাস বার্তা

হক্ব পয়গাম

সম্মাননা ও পুরস্কার

পাক্ষিক সেরা কবি (একাধিকবার)

আধুনিক বাংলা কবিতা আসর

বাংলাদেশ কবি পরিষদ

আন্তর্জাতিক কবি পরিষদ

সাহিত্য জাগরণ বাংলাদেশ

বাংলাদেশ কবি সংসদ (সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগ)

বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনে সাপ্তাহিক/মাসিক সেরা কবি

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কবিতা:

কারবালার শিক্ষা

বিদ্রোহী তুমি বিপ্লবী

বাঙ্গালীর স্বাধীনতা

জীবন তরী

অনাগত সন্তানের আহ্বান

বংশ পরিচিতি (ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট)

বৃহত্তর বিভাগ ময়মনসিংহের অন্তর্গত বেলগাঁও থানার দিলালপুরে বসবাস করতেন পাঁচ ভাই।দুই ভাই দ্বীনের কাজে বা ভ্রমনের উদ্দ্যেশ্যে দিলালপুর থেকে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া (ত্রিপুরা) জেলার সদর থানার অন্তর্গত ভাদুঘর গ্রামে আসেন।প্রাকৃতিক পরিবেশের অপূর্ব লীলানিকেতনের মোহে মোহাবিষ্ট হয়ে ভ্রাতাদ্বয় স্থায়ী বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন ভাদুঘরে।"বংশ পরম্পরায় দ্বীন ধর্মের প্রচার প্রসার, অলি-আল্লাহদের খেদমত ও ইহসানের সুবাদে ধারণা মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় যে, ভ্রমণে নয়, দ্বীন ধর্ম প্রচার বা ইসলামের দাওয়াত নিয়েই দুই ভাই এসেছিলেন"।

অনলাইন উপস্থিতি

Facebook: https://www.facebook.com/ariful.bhuiyan.bd/⁠�

LinkedIn: https://www.linkedin.com/in/arifulislambhuiyan/⁠�

Twitter: https://www.twitter.com/arifulbhuiyan12⁠�

YouTube: https://www.youtube.com/c/arifbhuiyan01711⁠�

কপিরাইট

All Copyright Reserved by:

আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া

ফখরে বাঙ্গাল নিবাস, ভাদুঘর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া।

শুক্রবার, জুন ২৭, ২০২৫

মধুর যন্ত্রণা

মধুর যন্ত্রণা
— আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ)

ভুলতে পারি না, তাঁকে ভোলা যায় না,
কেন এমন করি, তাও বুঝি না!
স্মৃতির ঝাঁপি খুলে ধরি সবসময়—
এই কেমন মধুর যন্ত্রণা!!!

নামটি উচ্চারিত হলেই থেমে যায় নিঃশ্বাস,
চোখের সামনে ভেসে উঠে সাদা ওড়নায় ঢাকা মুখ।
হাতে কলম, ঠোঁটে নীরবতা,
তবু হৃদয়ে ছিল কাব্যের পূর্ণ বিকাশ।

চোখে তার ছায়া, কণ্ঠে মায়াবী ধ্বনি,
বলে যেত অজস্র না বলা কথা এক দৃষ্টিতে।
আমি শুনতাম, বুঝতাম, অনুভব করতাম—
কিন্তু বলিনি কিছু, ছিল এক প্রহেলিকা জগতে।

মোছাম্মত কবিতা বেগম—তুমি কি জানো?
তোমার অনুপস্থিতি আমার প্রতিটি উপস্থিতিতে বসবাস,
তুমি না থেকেও আছো প্রতিটি নিঃশ্বাসে,
তুমি চলে গিয়েও রয়ে গেছো গোপন ইতিহাসে।

দিন যায়, রাত আসে, যুগ পেরোয় ধীরে,
তবু ভুলতে পারি না সেই ঈদের সন্ধ্যা,
যেদিন বলেছিলে, “আমাকে ভুলে যেও”—
শুধু হেসেছিলাম… কাঁদি নাই তখন, এখন কাঁদাও প্রতিনিয়ত।

আজো তুমি আছো আমার নামাজের দোয়ায়,
আছো কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি শব্দে,
আছো শহীদের শেষ চিঠির অক্ষরে—
আছো, কিন্তু নেই!

ভুলতে পারি না, জানি না ভুলবো কি না,
কেন এমন ভালোবাসা, বুঝতে পারি না।
তবু স্মৃতির ঝাঁপি খুলে ধরি বারবার—
এই ভালোবাসা, এই বেদনা…একান্তই আমার।
---

শুক্রবার, মে ১৬, ২০২৫

গল্প : ভালোবাসি দিবানিশি

 ভূমিকা: প্রেম, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব—এই তিনটি শব্দ মানব জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন, কোমল ও সংবেদনশীল অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব করে। কিছু সম্পর্ক শুরু হয় নিঃশব্দে, গড়ে ওঠে হৃদয়ের গভীরে, এবং শেষ হয় নিঃশেষে, কিন্তু রেখে যায় অম্লান স্মৃতির ছাপ। এই প্রবন্ধে এমনই এক বাস্তব প্রেমকাহিনীর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে—আরিফ ও কবিতার গল্প।

 

অনুচ্ছেদ ১: প্রেমের বীজ রোপণ ঘটনা শুরু ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি অনার্স কলেজে, অর্থনীতিতে প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার দিন। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আরিফের চাহনির গন্তব্য ছিল কবিতার কাজল কালো নয়ন। সেখানে জন্ম নেয় মুগ্ধতা, স্পন্দন, আর অনুভবের এক নতুন জগৎ। প্রথম ক্লাসেই দেখা হওয়া, অবাক হওয়া, এবং ধীরে ধীরে হৃদয়ের ভিতরে ভালোলাগার বীজ অঙ্কুরিত হওয়া—এসবই এক তরতাজা প্রেমের শুরুর চিত্র।

 

অনুচ্ছেদ ২: জীবন ও মৃত্যু—সম্পর্কের ধাক্কা কবিতার বাবার মৃত্যু সেই প্রেমের ভুবনে প্রথম বড় ধাক্কা। আরিফের পক্ষে ফেনি থেকে খবর না পেয়ে উপস্থিত না হওয়া আর কবিতার অভিমানী প্রশ্ন—"তুমি না এসে পারলে?"—এই বাক্যেই যেনো হাজারটা বিষণ্নতা লুকিয়ে আছে। ভালোবাসার গভীরতা তখনই বোঝা যায় যখন চোখের জল হয়ে যায় অনুভবের ভাষা।

 

অনুচ্ছেদ ৩: অনুচ্চারিত মুহূর্তে ভালোবাসা আখাউড়ার এক স্মৃতি—টিউবওয়েলের পাশে দাঁড়িয়ে অযু করার দৃশ্য। এমন এক সাধারণ মুহূর্তে অসাধারণ সৌন্দর্য আবিষ্কার করা যায় কেবল প্রেমিকের চোখেই। আরিফের বর্ণনায় কবিতার সেই রূপ যেনো হৃদয়স্পর্শী কাব্যের মতোই।

 

অনুচ্ছেদ ৪: প্রস্তাব ও প্রতিরোধ চাচাতো দুলাভাইয়ের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠানো হলেও পরিবারের সামাজিক রক্ষণশীলতা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। অন্য জায়গায় তড়িঘড়ি বিয়ে—এ যেনো প্রেমের করুণ পরিণতির পূর্বাভাস। তবু কোনো ঝামেলা না করা, সম্মান বজায় রাখা, এই নায়কোচিত আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রমাণ করে ভালোবাসা মানেই প্রাপ্তি নয়, আত্মত্যাগ।

 

অনুচ্ছেদ ৫: ছিন্ন যোগাযোগের বেদনাবিধুরতা ফেসবুকে খুঁজে পাওয়া, কিছু প্রতিক্রিয়া জানানো, এবং এরপর ব্লক করে দেওয়া—এই রূপকথার বাস্তবতায় ফিরে আসা। যেনো ভালোবাসা এখন কেবল স্মৃতি, স্মৃতিতে এখন কেবল নিঃসঙ্গতা।

 

অনুচ্ছেদ ৬: উপহার ও কবিতার সাক্ষী "রমজানের সওগাত" নামে উপহার দেওয়া কবিতা যেনো ভালোবাসার প্রতীকচিহ্ন, অব্যক্ত অনুভবের ছন্দময় স্বাক্ষর। সেসব কবিতা আজও হৃদয় কাঁপায়, চোখে জল আনে।

 

অনুচ্ছেদ ৭: চূড়ান্ত বিচ্ছেদ আরিফ যখন মাস্টার্স পরীক্ষা দিচ্ছিল, তখন কবিতার বিয়ে হয়। ভাগ্য যেনো দুইজনকে এক রেখায় আনলো না, বরং দুই ভিন্ন পৃথিবীর দিকে চালিত করলো। কোনো অভিযোগ নয়, কেবল তাকদীরের ওপর আস্থা রেখে সংযমে মিশে থাকা এক ব্যর্থ প্রেমের চূড়ান্ত অধ্যায়।

 

অনুচ্ছেদ ৮: অনন্ত স্মরণে কবিতা, আজো ভুলতে পারেনি আরিফ। ভুলা যায় না। প্রেম যেমন অক্ষরহীন কবিতা, তেমনি কবিতা হয়ে আছেন তার হৃদয়ের শ্রেষ্ঠতম পঙ্‌ক্তি। যতদিন প্রেম শব্দটি উচ্চারিত হবে, ততদিন ভালোবাসা দিবানিশি-র কবিতার থাকবে আরিফের হৃদয়মণ্ডলে।

 

উপসংহার: এই গল্প কোনো সাধারণ ভালোবাসার নয়। এটি একটি আত্মত্যাগময়, গভীর, তীব্র ভালোবাসার দলিল। সমাজ, পরিবার, সংস্কার, বিশ্বাস, সব কিছুর মাঝে দাঁড়িয়ে ভালোবাসার এই গল্প হৃদয়বিদারক হলেও অনন্য। আরিফ ও কবিতার এই প্রেম কেবল ব্যর্থতার কাহিনী নয়, তা এক আদর্শ প্রেমের ছায়া, স্মৃতির ধ্বনি, এবং চিরন্তন মানবিকতার পরিচয়।

রবিবার, জুন ৩০, ২০২৪

৮৮। প্রাণের চেয়ে প্রিয় কুদস

ওরা মার খাচ্ছে, খাক, জ্বলে পোঁড়ে

 ছারখার হয়ে যাক,

পুরো ভিটে মাটি, সাজানো সংসার,

কারো দখলে এমনি থাক।

আমার আসন ঠিক আছে তো,

বিশ্ব তাহার সবি হারাক।

মানব-দানব ধ্বংস চালায়,

কার কী আসে যায়।

তোমার আঙ্গিনায় ফোটে, 

রং বেরঙের, নানা জাতের ফুল,

আমার আঙ্গিনা ক্ষত বিক্ষত, 

জাজরা বুলেটে, বংশ নির্মূল!

তোমার সুখে ও দুঃখে সবাই 

প্রাণাধিক সুখী ব্যাথাতুর,

আমার জীবন যৌবন, সন্তান,

প্রিয়তমা হারায়, নিত্য কূল।

বসত ভিটা, জমি-জমা, স্বপ্ন কাঁড়ে,

 পাষাণ অরি,

সকাল-সাঁঝে, হর হামেশা, ঝাঁপিয়ে

 পড়ে প্রাণ হরি।

যাক চলে যাক সহায় সন্তান দুঃখ নাই

 মোর অন্তরে,

প্রাণের চেয়ে প্রিয় কুদস, কার দখলে,

 কোন কারণে?

শান্তি নিয়ে জুয়া খেলা, খেলছে কারা

 দিবালোকে,

দাবা খেলার গুটি নিয়ে, হন্যে হয়ে 

 চলছে ছুটে।

শান্তি-চাবি গুটি কয়েক বোকা রাজার

 হাতেই রবে?

বিশ্ব মাঝে ঝাঁকিয়ে তোলা, অশান্তির

 সেই শেষ কবে?

যতো আছে পথের কাঁটা, সরায় সবে

 শক্ত হাতে,

অত্যাচারীর বুকে মাটি, দাফন করি

 সবাই মিলে।

চিরতরে স্তব্ধ করি, ঝগড়া বিবাদ

 মারামারি,

কারণে আর অকারণে করে যারা

 হানাহানি।

বিশ্বটাকে এমনি করে তুলে দিবে!

পাগল, ছাগল, পামর করে,

ভয় কি তোমার, ভীত কেন?

শক্তি তোমার কম কি কীসে??

মানবতার ধারক বাহক কোটি 

কোটি জীবন পাবে,

অস্ত্র তোমার ঈমান আমল, 

শক্তির  আধার আল্লাহ পাশে।


----- আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া

১৪/১২/২০১৭ ঈসায়ী সাল।

সকাল ০৭ টা ৩৩ মিনিট।

১৪/১২/২০১৭ ঈসায়ী সাল।

মধুবাগ, বড়মগবাজার,

রমনা, ঢাকা-১০০০।


বুধবার, মে ২৯, ২০২৪

৮৫. বিজয়ের উল্লাসে


বিজয়ের উল্লাসে, মোর চোখ হাসে
আজ, ঠোঁট হাসে তার রূপ পাশে,
সুখ আঁশুতে বুক ভাসে।
রক্ত নাচে টগবগে, মোর অরুন-তরুণ,
রক্ত রাগে, সোনা রোদের মখমলে,
জীবন জুড়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।
সব পরাজয়, পদানত,
শত্রু সেনা হস্তগত,
জয়ের নেশায় মত্ত ছিল,
অস্ত্রসহ, অস্র বিহীন যোদ্ধা শত।
অশ্রু ধারার লক্ষ নদী,
রক্ত ধারা নিরবধি,
বয়েছিল জয় অবধি,
রুপ-অপরুপ সমাজ, জাতি,
সব হারিয়ে রিক্ত অতি,
মুঠোপুরে বিজয়-পতি।
নির্যাতনের দীঘল রাতি,
লম্বা ছিল নেইকো যতি,
ভোরের আশায় মনের বাতি,
দোলাচলে নিভলো বুঝি!
সারি সারি বীর বাঙ্গালী,
দেশের তরে প্রাণটি সঁপি,
শত্রু সেনার গতির যতি,
বুলেট বুকে আগলে রাখি।
সূর্যোদয়ের নূতন আভায়,
নূতন করে প্রাণ ফিরে পায়,
ঝরা-জীর্ণ সব টুটি,
অরুণ রবির আঁচল তলে,
স্বপ্ন হাসে স্বাধীণ বেশে,
সব পরাধীণ ছুটি।

---আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া।
০৬/১২/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
মধুবাগ, রমনা, ঢাকা।



রবিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৩

০৭। ভালোবেসে কাছে যেতে

ভালোবেসে আল্লাহ পাঠাল দুনিয়ায়,
ভালোবেসে আরো কাছে যেতে,
দীদার লাভে ধন্য জীবন; লভিতে দু'জাহানে।
যুগে যুগে নবী রাসূল পাঠালেন সকল বান্দার লাগি,
কত ভালবাসার প্রিয় বান্দারা! এই পথ হারাল বুঝি!!!
ভূল করে করে জানা-অজানা, দুঃখের পথে হেঁটে চলে!
বন্ধুর কোথা, বিপদসংকুল পথ কেউকি
জেনেছে আগে,
তবু পথ চলে, মোহগ্রস্থের ন্যায় সসীম-অসীম পথে।
দরদমাখা দৃষ্টি যে থাকে, প্রিয় বান্দার 'পরে।
দেহ মন আর সমাজ পরিবার, নিয়ে সব একসাথে,
কেমন করিয়া স্বর্গ সুখের শান্তি সমেত
বাঁচিয়া রবে।
নিয়ম নীতি, স্বাধীন পরাধীন, রাজা প্রজা সব আছে,
রাজার রাজা মহারাজা সব দেখেন
তাহা কাছ থেকে।
কে ন্যায় আর অন্যায় করিল দিয়ে দেখে সব বল,
ধৈর্য্য কাহারা ধরিল, কঠিন বিপদ- আপদে শত।
কেবা হাজিরা দিল নিয়মিত খোদার ঘর মসজিদে,
হালাল খেয়ে কজনইবা চলছে, সদা হালাল পথে।
এলেম নিয়ে হেলেমের জোড়ে কারা করে পুকুরচুরি,
লেবাস ধরে কারা করে, স্রষ্টার সাথে জুয়াচুরি।
এমন কিছু বলনাযে, করতে যাহা পারনাযে,
বড়ই ঘৃণার কাছে আল্লাহর,মিল না থাকে কথা কাজে।
পরোপকারী স্বার্থহীন যেন, সদা থাকি মানবের পাশে,
দয়ালু মনে সদাচার সহ হৃষ্টচিত্তে সবার আশে।
খালি হাতে কেউ ফিরেনা কভু তোমার বান্দা হতে,
শক্তি দাও, সাহস যোগাও, হায়াত শেষের আগে।

-----আরিফ ইবনে শামছ
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
বাড়ী# ১২৩৪, ওয়ার্ড# ১২,
ভাদুঘর, সদর, বি.বাড়ীয়া-৩৪০০।

********

কবিতা: ভালোবেসে কাছে যেতে বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম
এই কবিতাটি আধ্যাত্মিক প্রেম, আত্মশুদ্ধি, মানবিক দায়িত্ব এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক গভীর কাব্যিক প্রার্থনা। এখানে ভালোবাসা শুধু পার্থিব আবেগ নয়; বরং স্রষ্টার দিকে প্রত্যাবর্তনের পথ। কবিতাটি ইসলামী দর্শন, নৈতিক আত্মসমালোচনা এবং মানবসেবার সমন্বয়ে এক অনন্য ভাবধারার সৃষ্টি করেছে।
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ ১. প্রেমের আধ্যাত্মিক রূপ “ভালবেসে আল্লাহ পাঠাল দুনিয়ায়, ভালবেসে আরো কাছে যেতে,” এই সূচনা সরাসরি সুফিবাদী ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত। এখানে ভালোবাসা মানে দেহগত আকর্ষণ নয়—এটি স্রষ্টার সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক। বিশ্বসাহিত্যে Jalaluddin Rumi-এর কবিতায় যেমন প্রেম মানে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া, তেমনি এই কবিতায়ও ভালোবাসা হলো দিদার লাভের আকাঙ্ক্ষা। ২. নবী-রাসূলের পথ ও মানবভ্রষ্টতা “যুগে যুগে নবী রাসূল পাঠালেন সকল বান্দার লাগি,” এখানে কবি মানবজাতির ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। নবীদের আগমন ছিল হেদায়েতের জন্য, কিন্তু মানুষ পথ হারিয়েছে। এই আত্মসমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ইসলামী সাহিত্য এবং নৈতিক দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ৩. দুনিয়ার মোহ ও আত্মসংগ্রাম “তবু পথ চলে, মোহগ্রস্থের ন্যায় সসীম-অসীম পথে।” এই পঙক্তিতে মানুষের বিভ্রান্ত জীবনচক্র ফুটে উঠেছে। দুনিয়ার মোহ, সীমিত জীবনের মাঝে অসীমের খোঁজ—এটি Al-Ghazali-এর আত্মজিজ্ঞাসামূলক দর্শনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ৪. ন্যায়-অন্যায় ও জবাবদিহিতা “রাজার রাজা মহারাজা সব দেখেন তাহা কাছ থেকে।” এখানে আল্লাহকে সর্বোচ্চ বিচারক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মানুষের প্রতিটি কাজ, ন্যায়-অন্যায়, ধৈর্য, ইবাদত—সবকিছুই তাঁর দৃষ্টির মধ্যে। এই ভাব বিশ্বধর্মীয় সাহিত্যে নৈতিক জবাবদিহিতার কেন্দ্রীয় ধারণা। ৫. ধর্মীয় ভণ্ডামির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ “লেবাস ধরে কারা করে, স্রষ্টার সাথে জুয়াচুরি।” এই লাইন অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ও প্রতিবাদী। বাহ্যিক ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে ভণ্ডামি ও প্রতারণার বিরুদ্ধে এটি শক্তিশালী কাব্যিক আঘাত। Kazi Nazrul Islam-এর বিদ্রোহী চেতনার সঙ্গে এর সাদৃশ্য লক্ষ্যণীয়। ৬. মানবসেবা ও দোয়ার সমাপ্তি “পরোপকারী স্বার্থহীন যেন, সদা থাকি মানবের পাশে,” শেষাংশে কবিতা প্রার্থনায় পরিণত হয়েছে। আল্লাহর নৈকট্য মানে শুধু ইবাদত নয়—মানুষের পাশে দাঁড়ানোও ইবাদত। এটি ইসলামের সামাজিক ন্যায়ের সৌন্দর্যকে প্রকাশ করে।
সাহিত্যিক মূল্যায়ন এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো— আধ্যাত্মিক গভীরতা ইসলামী নৈতিক দর্শনের শক্তিশালী উপস্থাপন আত্মসমালোচনা ও সামাজিক সচেতনতা সহজ অথচ গভীর ভাষা প্রার্থনাময় সমাপ্তি এটি শুধু ধর্মীয় কবিতা নয়; বরং আত্মার জাগরণ, সমাজের সংশোধন এবং মানবিক দায়িত্বের কাব্য।
সারমর্ম “ভালোবেসে কাছে যেতে” কবিতায় কবি দেখিয়েছেন—মানুষকে আল্লাহ ভালোবেসে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, আর মানুষের কাজ হলো সেই ভালোবাসার প্রতিদানে সৎ জীবন, ন্যায়পথ, ইবাদত ও মানবসেবার মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন করা। দুনিয়ার মোহ, ভণ্ডামি, অন্যায় ও আত্মভ্রষ্টতার মাঝেও মানুষকে ফিরে আসতে হবে সত্য, হালাল, দয়া ও দায়িত্বের পথে। এটি প্রেমের কবিতা, তবে সেই প্রেমের গন্তব্য আল্লাহ।
এক বাক্যে সারাংশ: এই কবিতা শেখায়—আল্লাহর ভালোবাসা লাভের পথ হলো সত্য, ইবাদত, ন্যায় ও মানবসেবার জীবন।

**********

০৫। জীবন যেখানে যেমন



প্রেম ও প্রীতি আসল দিঠি,
প্রেমিক হৃদয় কোথায় খুঁজি?
কোথায় পাবগো প্রেমের হিয়া?
কহিব কথা পরাণ ভরিয়া!!
এমন গোধূলী, কাঁচা সোনা রোদ,
এঁদো ডোবাজল, একলা ডাহুক,
রিমঝিম টিপটপ বিষটি কোথা,
কথাকলি সব রবে কি হেথা???
বিনিদ্র রজনী সাতকাহন কি হবে?
নিশির নিশা পেড়িয়ে ভোর যে কবে?
দখিনা মলয় তপ্তদেহে বারিসিঞ্চনে;
আসবে কবে বারিরাশি সঙ্গে করে।
চায়লে কি গো ফুল ফুটিবে অরুণ প্রাতে,
গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হবে, খুশির ঝিলিক তাতে।
ডাকবে কোকিল বিজন বনে, একলা পথে,
ভাবের পথে হাঁটবে তুমি, উদাস মনে।

----------- আরিফ ইবনে শামছ্
২০.০৭.২০১৭ ঈসায়ী সাল
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
বাড়ী# ১২৩৪, ওয়ার্ড# ১২,
ভাদুঘর, বি.বাড়ীয়া-৩৪০০।

***********

প্রেম, প্রকৃতি ও প্রতীক্ষার এক অপূর্ব মিশ্রণে রচিত এই কবিতাটি হৃদয়ের গভীর আকাঙ্ক্ষা, অনুভবের অনন্ত অনুসন্ধান এবং ভালোবাসার নির্মল আহ্বানকে প্রকাশ করেছে। এখানে প্রেম শুধু ব্যক্তি-নির্ভর নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে আত্মার এক অন্তর্লীন সংলাপ।
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন ১. প্রেমের দার্শনিক অনুসন্ধান “প্রেম ও প্রীতি আসল দিঠি, প্রেমিক হৃদয় কোথায় খুঁজি?” এই সূচনাই কবিতাটিকে সাধারণ প্রেমের আবেগ থেকে উচ্চতর এক দার্শনিক স্তরে নিয়ে যায়। এখানে প্রেম শুধু সম্পর্ক নয়—এটি সত্য, উপলব্ধি, আত্মার দর্শন। বিশ্বসাহিত্যে Rabindranath Tagore-এর প্রেমকাব্যে যেমন প্রেম আত্মিক মুক্তির পথ, তেমনি এই কবিতাতেও প্রেম আত্মার আশ্রয়।
২. প্রকৃতির প্রতীকী ব্যবহার “এমন গোধূলী, কাঁচা সোনা রোদ, এঁদো ডোবাজল, একলা ডাহুক,” প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান এখানে অনুভূতির প্রতীক। গোধূলী মানে অপেক্ষা, ডাহুক মানে নিঃসঙ্গতা, রিমঝিম বৃষ্টি মানে অন্তর্লীন অশ্রু। Jibanananda Das-এর মতো প্রকৃতিকে আবেগের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
৩. অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার রাত্রি “বিনিদ্র রজনী সাতকাহন কি হবে?” এখানে রাত মানে শুধু সময় নয়, মানসিক যন্ত্রণা। অনিদ্রা, প্রতীক্ষা, ভোরের অপেক্ষা—এসব বিশ্বসাহিত্যের চিরন্তন প্রেমকাব্যের প্রধান উপাদান। John Keats-এর কবিতার মতো এখানে সৌন্দর্য ও বেদনা পাশাপাশি অবস্থান করছে।
৪. ভাষার সংগীতধর্মিতা “গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হবে, খুশির ঝিলিক তাতে।” এই পঙক্তিগুলো শুধু অর্থ নয়, সুরও বহন করে। শব্দের ধ্বনি, অনুপ্রাস, ছন্দ—সব মিলিয়ে এটি গীতিকবিতার স্বাদ সৃষ্টি করেছে। বাংলা কাব্যের ঐতিহ্যে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী বৈশিষ্ট্য।
৫. প্রেমের আশাবাদী সমাপ্তি “ভাবের পথে হাঁটবে তুমি, উদাস মনে।” শেষে প্রেম বেদনায় শেষ হয়নি; বরং এক অন্তর্মুখী যাত্রায় রূপ নিয়েছে। এটি প্রেমকে কেবল প্রাপ্তি নয়, উপলব্ধি হিসেবে দেখিয়েছে।
সাহিত্যিক মূল্যায়ন এই কবিতার মূল শক্তি হলো: ভাবের কোমলতা প্রকৃতির জীবন্ত ব্যবহার সহজ অথচ কাব্যময় ভাষা প্রেমের আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা সংগীতধর্মী ছন্দ এটি উচ্চকণ্ঠ প্রেমের কবিতা নয়; বরং নীরব হৃদয়ের দীর্ঘশ্বাস। এতে লোকজ আবহ, আধুনিক অনুভব এবং শাশ্বত প্রেম একত্রে উপস্থিত।

♥♥♥♥♥♥♥♥♥ সারমর্ম
কবিতাটি প্রেমের প্রকৃত অর্থ খুঁজে ফেরার এক অন্তরযাত্রা। প্রেমিক হৃদয়ের সন্ধান, প্রকৃতির মাঝে অনুভূতির প্রতিফলন, নিঃসঙ্গ প্রতীক্ষা, এবং শেষ পর্যন্ত আশা—সব মিলিয়ে এটি এক গভীর আবেগময় প্রেমকাব্য। এখানে প্রেম মানে শুধু কাউকে পাওয়া নয়; বরং নিজেকে অনুভব করা, অপেক্ষার সৌন্দর্য বোঝা, এবং হৃদয়ের ভাষা শুনতে শেখা।
এক বাক্যে সারাংশ: এই কবিতা প্রেমকে মানুষ নয়, অনুভূতির এক চিরন্তন আশ্রয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣♣

সোমবার, এপ্রিল ১০, ২০২৩

সময় লেগেছে, হৃদয় ভেংগেছে; কষ্ট দিয়েছি, হৃদয় ভেংগেছি !!!

                                                                                                                       ২৪১১০২    ৭:৩০  

                                        "আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ"

মরুভূমির শুভাশিত বাতাসের শুভেচ্ছা রইলো। আশা করি গতকালের মতো আজ ও ভালো আছো। গত কালের কথা এজন্য বললাম যে, কোন দিনই তোমাকে কেমন আছো প্রশ্নটা করে ভালো আছি উত্তরটা পাইনি ,গতকাল ছাড়া। ১০ ই রমজানে চিঠি পাওয়ার পর চিঠি মোতাবেক তানজিমের কাজটা করলাম। 

কিভাবে তোমার সাথে কথা বলতে হবে বলত, খুব কর্কশভাবে বুঝি তাইনা। অন্যরা আমাকে বলে আপনার মত অভিনয় করতে আমি পারিনা। তাদের বেলায় আমি বলব তারা আমাকে চেনেনা জানেনা তাই এ ধরনের কথা বলতে পারে। কিন্তু তুমি কি করে বল যে আমি তোমার সাথে অভিনয় করি। তোমার প্রতিটা প্রশ্নের উত্তরেই আমাকে নাবোধক উত্তর দিতে হয়। আর তাতে তোমার চোখ লাল হয়ে পানি জমে যায়। তাই সহজে কোনো কথার উত্তর না দিয়ে আমি চুপ থাকতে চাই। কারণ কি করে তোমাকে এত কষ্ট দিব, যে তুমি এত ভালোবাসো। কিন্তু তুমি তাতে নাকি আরো বেশি কষ্ট পাও। 

ভালবেসে কি পেলে জানতে চেয়েছিলে, ব্যাথা ছাড়া আর কিছুই বোধ হয় পাওনি। ক্ষমা চাইছি তার জন্য। কেন যে তুমি আমাকে ভালোবাসতে গেলে। কি দেখেছিলে শূণ্যের মাঝে, কিছুই দিতে পারিনি। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিও। নতুবা অভিশাপ দিও আশীর্বাদ হিসাবেই মেনে নিব। ভালোবাসি কিনা জানতে চাও? এটা আমিও জানিনা। তবে তোমার কথা খুব মনে পড়ে , আর কষ্ট পাই।  জানিনা এটাকে ভালবাসা বলে কিনা। 

বিয়ের ব্যাপারে আর প্রশ্ন করোনা। এটা আমার পক্ষে কখনো সম্ভব হবেনা। এর একমাত্র কারণ আব্বার আদেশ, নির্দেশ ও আদর্শ। তোমার কাছে আব্বা মৃত হতে পারে। কিন্তু বিশ্বাস করো আব্বা আগের চেয়ে আরো বেশী আমাদের শাসন করেন , বেশী কাছে থাকেন। মুহূর্তের জন্য ও দূরে যাননা। কাজেই অনুরোধ করবো তুমি কখনো আমাকে আব্বার অবাধ্য হতে বলবেনা। এমন কোনো কাজ করতে কখনো বলবেনা যা আব্বা চাইতেননা। আর আমার পক্ষে ও সম্ভব হবেনা। বিয়ে ভাগ্যে থেকে থাকলে বংশের অন্যান্য মেয়েদের যেভাবে হয় তাদের মতোই হবে। তুমি জানোনা আমাদের বাড়ির কয়েকটি মেয়ের জীবনে ও প্রেম এসেছিলো এবং গভীর ও হয়েছিলো। কিন্তু তাদের সফল হতে দেয়া হয়নি। কাজেই জোড় অনুরোধ থাকবে কখনো আর এ ব্যাপারে প্রশ্ন করবেনা।

বন্ধু আমার ,
কোন শর্ত দিয়ে আমাদের বন্ধুত্ব হয়নি। কাজেই এই মধুর সম্পর্কটা ভেঙে দিওনা। বন্ধুত্বের হাত মিলিয়ে এগিয়ে যাও। যেখানে বিন্দুমাত্র দুঃখ থাকবেনা। সুখ দুঃখের অংশীদার হতে পারবে। 

লিখতে অনেক সময় লেগেছে, হৃদয় ভেংগেছে। অনেক কষ্ট দিয়েছি, হৃদয় ভেংগেছি। আবার ও ক্ষমা চাইছি। মোবারক হউক তোমার জীবনে এই মাহে রমজান। ভাল থেকো, তোমার পাশের অটোটাকে সালাম দিও। দোয়া রইলো।

বুধবার, অক্টোবর ২০, ২০২১

অনন্য মহাপুরুষ (সাঃ)

 

অনন্য মহাপুরুষ (সাঃ)

------আরিফ শামছ্

২০-অক্টোবর-২০২১ ঈসায়ী সাল

 

প্রতিটি হৃদয়ের চারিপাশ যবে ঘোর তমসায় ঘেরা,

তোমার প্রেম ভালবাসা, মুগ্ধকর আন্তরীকতা;

সৃজিল আলোর ফোঁয়ারা প্রতিটি হৃদয় জুড়ে,

আঁধারের সব আঁধার উপনীত হলো, নতজানু হয়ে।

 

অনন্য মহাপুরুষ! তৃষিত হৃদয়ের আবে জমজম,

দিকভ্রান্ত মানবজাতি খোঁজে পেল দিক দর্শন।

একবিংশ শতাব্দীর এক উম্মতের মরুতৃষা আজ,

তোমাকে হৃদয় ভরে দেখে নিতে দুর্নিবার অভিলাষ।

 

সহস্র ষড়যন্ত্রের মাঝেও সহাস্য বদনে নেয় প্রস্তুতি,

সুপারিশ তোমার দিশারী হবে, এমনি কালের আকুতি।

বলহীন, কমজোর ঈমানে নয় গড়া মুসলিম জাতি,

অকাতরে সঁপে দিবে প্রান, আসুক বাঁধারা বিপ্লবী।

 

স্বর্ণ যুগের সাহস নিয়ে লড়তে চাহি রণাঙ্গণে,

দ্বীনের ধ্বজা রাখতে উঁচু, লড়বো সবে প্রাণপনে।

সফলতা ধরা দিবে, প্রভূ যদি রহম করে,

সব কিছু যে চাই করিতে, মহান সে' বিভুর তরে।

 

চায় হতে যে বিলীন তব ভালবাসার অকূল জলে,

চোখ দুটো যে পাবে জ্যোতি ভালবাসা তব পেলে,

ফুলে ফলে পূর্ণরূপে, পেয়ে যাবে বসন- বিলাস,

কভু যদি পেয়ে যেতাম, স্বপ্ন মাঝে তব দীদার।

 

ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,

বাড়ী# ১২৩৪, ওয়ার্ড# ১২,

ভাদুঘর, বি.বাড়ীয়া।

ভালবাসি দিবা-নিশি _সূচীপত্র

ভালোবাসি দিবা-নিশি _সূচীপত্র

ভালবাসি দিবা-নিশি _সূচীপত্র   [১৩/০৪/২০১৭ - ০৯/০১/২০১৯]                [০০১-১০৪] ০১। ১৪২৩ বলছি ০২। এলরে মাহে রমজান!  ০৩। ভালোবাসা আর শংকায় ব...