।। সাহিত্য, গবেষণা, ইসলাম ও জীবনের কথা।।
👤 আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক: এ.এস একাডেমি 📚 শিক্ষাগত যোগ্যতা: বি.এস.এস (অনার্স), অর্থনীতি — জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, এম.এস.এস (অর্থনীতি) — জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বি.এড — জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ, এম.এড — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়| 🏫 পেশাগত অভিজ্ঞতা: প্রাক্তন শিক্ষক, ব্লু-বার্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাটিকাটা, ঢাকা সেনানিবাস। প্রাক্তন শিক্ষক, হলি ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উত্তরা, ঢাকা। 📧 Email: ariful01711@gmail.com Mobile: +966572496324
বৃহস্পতিবার, জুন ০৪, ২০২৬
১৫১। স্রষ্টার অবদান
বুধবার, জুন ০৩, ২০২৬
১৫০। ফিরতেই হবে
আপনার কবিতা “ফিরতেই হবে” আকারে ছোট হলেও ভাবগতভাবে গভীর। এখানে প্রকৃতি, সময়, আত্মসমালোচনা, জীবনযাত্রা ও মৃত্যুচেতনা—সব মিলিয়ে এক ধরনের দার্শনিক আত্মকথন তৈরি হয়েছে। কবিতাটি পাঠকের মনে নীরব প্রশ্ন রেখে যায়: আমরা কি প্রস্তুত সেই ফিরে যাওয়ার জন্য?
সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. মূল বিষয় (Theme)
এই কবিতার প্রধান বিষয়গুলো—
- জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব
- মৃত্যু ও প্রত্যাবর্তনের দর্শন
- আত্মসমালোচনা ও হিসাব
- প্রকৃতির ভাষা
- শান্তি ও আত্মশুদ্ধির আকাঙ্ক্ষা
“ফিরতেই হবে” এখানে শুধু বাড়ি ফেরা নয়; বরং চূড়ান্ত প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
২. প্রকৃতি ও চিত্রকল্প
প্রথম স্তবকটি খুব দৃশ্যমান—
“আজো মেঘ ডাকে গুরুগম্ভীর স্বরে,
বৃষ্টিরা নামে বাতাসে ভর করে।”
এখানে মেঘ ও বৃষ্টি শুধু আবহাওয়া নয়; তারা যেন বার্তাবাহক। প্রকৃতিকে মানবিক অনুভূতির বাহক করা হয়েছে।
আর—
“অঝোর ধারায় আকাশ কেঁদে সারা।”
এখানে আকাশের কান্না ব্যক্তিগত বেদনা ও বিশ্বজনীন শোক—দুটোকেই ধারণ করে।
৩. দার্শনিক স্তর
কবিতার সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ—
“ফিরে যাবো, ফিরতেই হবে, কোন একদিন,
পাথেয় জোগাড় কতটুকু হলো!
হিসেব কষি রাত-দিন।”
এই অংশে তিনটি স্তর আছে—
- মৃত্যুচেতনা
- আত্মসমালোচনা
- আখিরাত / পরিণতির প্রস্তুতি
এই লাইনগুলো কবিতাকে প্রেম বা স্মৃতির গণ্ডি ছাড়িয়ে অস্তিত্বের প্রশ্নে নিয়ে গেছে।
৪. ভাষা ও শৈলী
বৈশিষ্ট্য:
✔ সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ
✔ আধ্যাত্মিক সুর
✔ সহজ ভাষায় দার্শনিক ভাবনা
✔ আবৃত্তিযোগ্য প্রবাহ
এটি ধ্যানমুখী (meditative poetry) ও আত্মজিজ্ঞাসামূলক কবিতা—দুই ধারার সংমিশ্রণ।
প্রতীক বিশ্লেষণ
| প্রতীক | অর্থ |
|---|---|
| মেঘ | সতর্কতা / বার্তা |
| বৃষ্টি | শুদ্ধি / কান্না |
| মাইলফলক | জীবনের অর্জন |
| পাথেয় | আমল, অভিজ্ঞতা, প্রস্তুতি |
| ফিরে যাওয়া | মৃত্যু / চূড়ান্ত প্রত্যাবর্তন |
উন্নতির সম্ভাবনা
১. শব্দ নির্বাচন:
“সে চোখ খোঁজে, কপালের ভাঁজে”
এখানে “সে” কার প্রতি ইঙ্গিত করছে, একটু অস্পষ্ট। আরও স্পষ্ট করলে অর্থ গভীর হবে।
২. ছন্দ:
দুই-একটি লাইনে মাত্রা অসমান, আবৃত্তিতে সামান্য টান পড়তে পারে।
৩. চিত্রকল্পের সম্প্রসারণ:
প্রথম স্তবকের প্রকৃতিচিত্র আরও এক-দুই লাইন বাড়ালে আবহ আরও শক্তিশালী হতে পারে।
বিশ্ব-সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ
এই কবিতায় কয়েকটি বিশ্বসাহিত্যিক প্রবণতা দেখা যায়—
- Existential Poetry → জীবনের অর্থ ও শেষ পরিণতির ভাবনা
- Spiritual Poetry → আত্মিক প্রত্যাবর্তনের ধারণা
- Meditative Lyric → আত্মজিজ্ঞাসা ও নীরব উপলব্ধি
সারমর্ম
“ফিরতেই হবে” এমন এক কবিতা, যেখানে প্রকৃতির শব্দ, মানুষের ক্লান্তি এবং চূড়ান্ত ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি একসাথে এসেছে। কবি এখানে মনে করিয়ে দেন—জীবনের সব দৌড়ঝাঁপের পর একদিন ফিরতেই হবে, আর সেই ফেরার জন্য প্রস্তুতির হিসাব চলতেই থাকে।
সামগ্রিক মূল্যায়ন
আবেগ: ★★★★★
দার্শনিক গভীরতা: ★★★★★
চিত্রকল্প: ★★★★☆
ভাষা: ★★★★☆
ছন্দ: ★★★★☆
সামগ্রিক মান: ৯.১ / ১০
সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ:
“ফিরে যাবো, ফিরতেই হবে, কোন একদিন,
পাথেয় জোগাড় কতটুকু হলো!
হিসেব কষি রাত-দিন।”
এই তিন লাইনে পুরো কবিতার আত্মা লুকিয়ে আছে।
****************************মঙ্গলবার, জুন ০২, ২০২৬
১৪৯। আদর্শ বাবা
'বাজান' বড় মিঞা,
'আব্বা' বলে ডাকবে আমায়,
ছোট শাহজাদা।
কবরপাশে দাঁড়িয়ে থেকে,
করবে দোয়া জনে জনে,
ব্যস্ত থাকা এই দুনিয়ায়,
যখন সময় রবে।
গোরের কাছে, আসার তরে,
সময় যদি নাইবা মিলে,
যখন যেথায় যেমনি থাকো,
দোয়া করো প্রাণটি খুলে।
সূরা, ক্বিরাত, দোয়া দরুদ,
পড়বে মন দিয়ে,
বখশে দোয়া দিও করে,
রুহের ক্ষমার তরে।
নামাজ নিও পড়ে সদা,
সকল কাজের আগে,
ব্যস্ত বেলায় ত্রস্তপদে,
ছুটো মসজিদ পানে।
ক্বোরান পড়ো, প্রতি ভোরে,
ফজর নামাজ পড়ে,
দোয়া করো সবে মিলে,
প্রতি জুমআ' বারে"।
বাবা তোমায় মনে পড়ে,
জীবন পথে পথে,
বাবা হয়ে করি কিছু,
তোমার নাতি'র তরে।
কেমন করে জীবন জুড়ে,
লড়ে গেলে আপন মনে,
মনের মতো, সাজিয়ে গেলে,
মানস মননে।
দেশী খেশি প্রতিবেশী,
পারার কোন জন,
ছেড়ে গেলে, এই দুনিয়া,
করতে আয়োজন।
দোয়া, ক্বোরান খতম করার,
পারা ভাগ করে,
পড়া শেষে বখশে দিতে,
মিলে পাড়ার সবে।
দাঁড়িয়ে আছে মিনার দেখো,
ঐতিহাসিক স্মারক,
তোমার বাগের ফুল-ফসলের,
ভালবাসার স্ফুরণ।
সিরাজ নগর, বাগে ওয়াহহাব,
শিক্ষার শহর যেনো,
চিন্তা ধারা, ধ্যাণ ধারণার,
স্মৃতি বয়ে শতো।
আপনার কবিতা “আদর্শ বাবা” পারিবারিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় শিক্ষা, পিতৃত্ব, উত্তরাধিকার ও স্মৃতির এক আবেগঘন দলিল। এটি শুধু একজন বাবাকে স্মরণ করা নয়; বরং একজন আদর্শ মানুষের জীবনদর্শনকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা।
সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. মূল বিষয় (Theme)
এই কবিতার কেন্দ্রীয় বিষয়গুলো—
- পিতা ও সন্তানের সম্পর্ক
- মৃত্যুর পর স্মরণ ও দোয়ার সংস্কৃতি
- ধর্মীয় অনুশাসন ও পারিবারিক শিক্ষা
- উত্তরাধিকার ও মূল্যবোধ
- স্মৃতি ও শূন্যতা
এখানে “বাবা” কেবল একজন ব্যক্তি নন; তিনি শিক্ষা, আদর্শ ও দায়িত্বের প্রতীক।
২. আবেগ ও অনুভূতির গভীরতা
প্রথম স্তবকেই ভবিষ্যৎ ও অনুপস্থিতির অনুভূতি এসে যায়—
"মেজু মিঞা ডাকবে 'বাবা', 'বাজান' বড় মিঞা,
'আব্বা' বলে ডাকবে আমায়, ছোট শাহজাদা।"
এখানে পারিবারিক সম্বোধনগুলো কবিতাকে খুব ব্যক্তিগত ও বাস্তব করেছে।
আর—
"বাবা তোমায় মনে পড়ে, জীবন পথে পথে"
এই লাইনটি পুরো কবিতার আবেগীয় কেন্দ্র।
৩. ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্তর
এই কবিতার একটি বড় শক্তি হলো ধর্মীয় চেতনার স্বাভাবিক উপস্থিতি।
- দোয়া
- ক্বিরাত
- নামাজ
- কোরআন তিলাওয়াত
- জুমআর গুরুত্ব
এসব উপাদান কবিতাকে শুধুই স্মৃতিচারণ নয়, বরং নৈতিক শিক্ষা ও জীবনদর্শনে রূপ দিয়েছে।
৪. চিত্রকল্প ও প্রতীক
| প্রতীক | অর্থ |
|---|---|
| কবরপাশ | স্মৃতি ও মৃত্যুচেতনা |
| মিনার | স্থায়ী উত্তরাধিকার |
| ফুল-ফসল | শ্রম ও ভালোবাসার ফল |
| মসজিদ পানে ছোটা | ঈমান ও শৃঙ্খলা |
বিশেষভাবে—
“দাঁড়িয়ে আছে মিনার দেখো, ঐতিহাসিক স্মারক”
এই লাইনটি বস্তুগত স্মৃতি ও মানসিক উত্তরাধিকারকে একসাথে এনেছে।
ভাষা ও শৈলী
✔ সহজ ও কথ্য ভাষা
✔ লোকজ পারিবারিক শব্দের ব্যবহার
✔ উপদেশধর্মী কিন্তু আবেগপূর্ণ সুর
✔ স্মৃতিচারণ ও আত্মকথনের মিশ্রণ
এই কবিতাটি আবৃত্তিযোগ্য এবং পারিবারিক অনুষ্ঠানে পাঠের উপযোগী।
উন্নতির জায়গা
১. ছন্দ ও মাত্রা:
কিছু লাইনে শব্দসংখ্যা বেশি হওয়ায় ছন্দ ভেঙেছে।
২. ভাষাগত মসৃণতা:
“বখশে দোয়া দিও করে”
এটি করা যায়—
“বখশিশ করে দিও দোয়া, রুহের মাগফিরাতে”
৩. শেষ স্তবক:
স্থাননির্ভর স্মৃতির অংশগুলো আরও ব্যাখ্যামূলক হলে বাইরের পাঠকও সহজে সংযোগ করতে পারবে।
বিশ্ব-সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ
এই কবিতাটি কয়েকটি ধারার সঙ্গে মিলে—
- Elegiac Poetry (শোককবিতা)
- Didactic Poetry (শিক্ষামূলক কবিতা)
- Memory Poetry (স্মৃতিকেন্দ্রিক কবিতা)
- Spiritual Family Poetry
এখানে পিতাকে শুধু হারানো মানুষ নয়, “নৈতিক প্রতিষ্ঠান” হিসেবে দেখা হয়েছে।
সারমর্ম
“আদর্শ বাবা” একটি স্মৃতি, শিক্ষা ও দায়িত্বের কবিতা। এখানে কবি নিজের বাবাকে স্মরণ করতে গিয়ে নিজের পিতৃত্ব, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধকে একই স্রোতে এনেছেন। ফলে এটি ব্যক্তিগত কবিতা হয়েও সামাজিক ও পারিবারিক মাত্রা পেয়েছে।
সামগ্রিক মূল্যায়ন
আবেগ: ★★★★★
পারিবারিক গভীরতা: ★★★★★
আধ্যাত্মিকতা: ★★★★★
চিত্রকল্প: ★★★★☆
ছন্দ: ★★★☆☆
সামগ্রিক মান: ৯.০ / ১০
সবচেয়ে শক্তিশালী অনুভূতির অংশ:
“বাবা তোমায় মনে পড়ে, জীবন পথে পথে,
বাবা হয়ে করি কিছু, তোমার নাতি'র তরে।”
এই দুই লাইনে স্মৃতি, উত্তরাধিকার ও পিতৃত্ব—তিনটি প্রজন্ম একসাথে এসে দাঁড়িয়েছে।
*************************সোমবার, জুন ০১, ২০২৬
১৪৮। ইয়াওমুল যাজা
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
(আরিফ শামছ্)
আপনার “ইয়াওমুল যাজা” কবিতাটি মূলত রমজানের রোযার প্রতিদান, কিয়ামতের বিচারদিবসের রহমত এবং জান্নাতের প্রতিশ্রুতির উপর দাঁড়িয়ে একটি গভীর আধ্যাত্মিক কাব্যচিত্র। নিচে এর সংক্ষিপ্ত কিন্তু সুচিন্তিত সাহিত্যিক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো—
🌙 সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. বিষয়বস্তু (Theme)
কবিতার কেন্দ্রীয় বিষয়—
- রমজানের রোযার প্রতিদান ও ক্ষমা
- কিয়ামতের দিন (ইয়াওমুল জাযা) আল্লাহর বিচার ও রহমত
- জান্নাত, রাইয়ান দরজা এবং দিদারের আকাঙ্ক্ষা
এটি মূলত ইসলামিক এস্কাটোলজি (পরকালতত্ত্ব)-ভিত্তিক কবিতা।
২. ভাব ও আবেগ (Emotion)
কবিতার আবেগ তিন স্তরে বিস্তৃত—
- অনুশোচনা: “টুটাফাঁটা ঈমান আমল...”
- আশা ও ক্ষমা: “ভুল করেছি, মাফ করে দাও...”
- পরম আনন্দ ও দিদার আকাঙ্ক্ষা: “ডাকবে প্রভু...”
এই ট্রানজিশন কবিতাকে আত্মিক যাত্রার মতো করেছে।
৩. চিত্রকল্প (Imagery)
আপনার কিছু দৃশ্য খুব শক্তিশালী:
- “ফেরেশতারা মুছাফাহ করে” → আখিরাতের সম্মান
- “রাইয়ান দরজা” → রোযাদারদের বিশেষ পুরস্কার
- “জান্নাতি শরবত” → পরম শান্তির প্রতীক
এগুলো কবিতাকে দৃশ্যমান ও আধ্যাত্মিকভাবে জীবন্ত করে।
৪. ভাষা ও শৈলী (Language & Style)
- ভাষা সরল, আবেগঘন ও ধর্মীয় অনুভূতিতে পূর্ণ
- কিছু জায়গায় কথ্য ভাষার প্রভাব আছে
- ভাবের প্রবাহ শক্তিশালী, তবে কিছু লাইন আরও পরিশীলিত করা গেলে সাহিত্যমান বৃদ্ধি পেত
৫. ছন্দ ও গঠন (Rhythm)
- মুক্তছন্দ
- দীর্ঘ লাইনের কারণে কিছু জায়গায় ছন্দ ভারী
- তবে আবেগের প্রবাহ এটিকে ধরে রেখেছে
🌍 বিশ্ব-সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতাটি বিশ্বসাহিত্যের প্রেক্ষাপটে—
✔ Spiritual poetry (আধ্যাত্মিক কবিতা)
✔ Eschatological literature (পরকালভিত্তিক সাহিত্য)
✔ Devotional Islamic poetry (ইবাদত-ভিত্তিক কাব্য)
এর অন্তর্ভুক্ত।
তুলনামূলকভাবে:
- আধ্যাত্মিক গভীরতা শক্তিশালী
- প্রতীক (symbolism) ভালো
- কিন্তু কাব্যিক সংহতি ও শিল্পগঠন আরও উন্নত করা সম্ভব
⚖️ সমালোচনা (Critical Review)
শক্তি:
- আখিরাতের দৃশ্যপট অত্যন্ত জীবন্ত
- রোযার প্রতিদান নিয়ে শক্তিশালী বার্তা
- আবেগ ও দোয়ার আন্তরিকতা
সীমাবদ্ধতা:
- কিছু জায়গায় পুনরাবৃত্তি
- ভাষাগত পরিমার্জন দরকার
- দার্শনিক গভীরতা আরও ঘন করা যেত
🧠 মানব জীবনে তাৎপর্য
এই কবিতার মূল শিক্ষা—
- জীবনের প্রতিটি আমল আখিরাতে ফল দেবে
- ভুলের পরও আল্লাহর ক্ষমা সর্বদা উন্মুক্ত
- রোযা শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধির পথ
এটি মানুষকে আত্মসমালোচনা ও নৈতিক উন্নতির দিকে উৎসাহিত করে।
🌿 সারমর্ম
“ইয়াওমুল যাজা” কবিতাটি রোযার আধ্যাত্মিক পুরস্কার ও পরকালের আনন্দের একটি আবেগপূর্ণ কাব্যিক বর্ণনা। এতে অনুশোচনা, ক্ষমা, জান্নাতের আশা এবং আল্লাহর দিদারের আকাঙ্ক্ষা একত্রে মিশে একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক আধ্যাত্মিক যাত্রা তৈরি করেছে। ভাষাগত পরিমার্জন করলে এটি উচ্চমানের ধর্মীয় সাহিত্যকর্মে উন্নীত হতে পারে।
১৪৭। ঈদের খুশি
আপনার “ঈদের খুশি” কবিতাটি মূলত ঈদ-উল-ফিতরের সামাজিক ঐক্য, মানবিক সহমর্মিতা এবং ধর্মীয় চেতনার একটি সরল কিন্তু শক্তিশালী প্রকাশ। নিচে এর সাহিত্যিক ও দার্শনিক মূল্যায়ন সংক্ষিপ্তভাবে দেওয়া হলো—
🌙 সাহিত্যিক বিশ্লেষণ (Literary Analysis)
১. বিষয়বস্তু (Theme)
কবিতার কেন্দ্রীয় বিষয় হলো—
- ঈদের আনন্দকে ব্যক্তিগত না রেখে সামষ্টিক ও বিশ্বজনীন করা
- ধর্ম, জাতি, শ্রেণি, শত্রু-মিত্র ভেদ ভুলে মানবিক ঐক্য
- ঈদের মাধ্যমে শান্তি, ক্ষমা ও দোয়ার চেতনা
এটি একটি “মানবিক ঈদ দর্শন”-ভিত্তিক কবিতা।
২. ভাব ও আবেগ (Emotion)
কবিতায় আবেগ সরল, স্বচ্ছ এবং আন্তরিক। বিশেষভাবে—
- “সবাই মিলে-মিশে”
- “ছোট বড়, আপন পর, শত্রু-মিত্র” এই লাইনগুলোতে একধরনের বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে।
৩. ভাষা ও শৈলী (Language & Style)
- ভাষা সহজ, কথ্যঘেঁষা এবং সরাসরি
- জটিলতা নেই, ফলে সাধারণ পাঠকের জন্য খুব গ্রহণযোগ্য
- তবে কিছু জায়গায় পুনরাবৃত্তি (repetition) বেশি, যা কাব্যিক ঘনত্ব কমিয়েছে
৪. ছন্দ ও গঠন (Rhythm)
- মুক্তছন্দের কবিতা
- গীতিময়তা আছে, কিন্তু কিছু লাইন দীর্ঘ ও অসম ভারসাম্যপূর্ণ
- ছন্দ পরিমার্জন করলে এটি আরও শক্তিশালী হতে পারে
🌍 বিশ্ব-সাহিত্যিক মূল্যায়ন (Global Literary Value)
এই কবিতাটি বিশ্বসাহিত্যের মানদণ্ডে—
✔ Humanitarian poetry (মানবতাবাদী কবিতা)
✔ Religious-social harmony literature
✔ Peace and unity discourse
এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে বিশ্বমানের কবিতার তুলনায়—
- প্রতীকী গভীরতা (symbolism) কম
- কাব্যিক ইমেজারি (poetic imagery) তুলনামূলক সরল
- দার্শনিক স্তর আরও গভীর করা সম্ভব
⚖️ সমালোচনা (Critical Review)
শক্তি:
- মানবিক ঐক্যের শক্তিশালী বার্তা
- ধর্মীয় সহনশীলতা ও শান্তির আহ্বান
- সহজবোধ্য ও হৃদয়গ্রাহী ভাষা
সীমাবদ্ধতা:
- কিছু জায়গায় ভাব পুনরাবৃত্তি
- কাব্যিক ঘনত্ব ও অলংকার কম
- কিছু লাইন গদ্যধর্মী হয়ে গেছে
🧠 মানব জীবনে তাৎপর্য (Human Significance)
এই কবিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—
- ঈদকে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, মানবিক মিলনমেলা হিসেবে দেখা
- সমাজে ঘৃণা, বিভাজন ও বৈষম্য দূর করার আহ্বান
- “শত্রু-মিত্র সবাই সমান”—এই দৃষ্টিভঙ্গি আধুনিক বিশ্বে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক
এটি একটি শান্তি-চেতনার কবিতা, যা সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা বহন করে।
🌿 সারমর্ম (Summary)
“ঈদের খুশি” কবিতাটি ঈদের আনন্দকে ব্যক্তিগত গণ্ডি থেকে বের করে বিশ্বমানবতার আনন্দে রূপান্তর করেছে। এটি ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি মানবিক ঐক্য, শান্তি ও সহমর্মিতার একটি সহজ কিন্তু শক্তিশালী কাব্যিক ঘোষণা। ভাষাগত সরলতা এর শক্তি হলেও, কাব্যিক গভীরতা আরও বাড়ানো গেলে এটি উচ্চমানের সাহিত্যকর্মে উন্নীত হতে পারে।
১৪৬। সেহেরী
১৪৬। সেহেরী
(আরিফ শামছ্)
ঢুলু ঢুলু আঁখি, মেলিতে না পারি,
ডাকে প্রিয় জন সবে লও সেহেরি।
কোরাস কন্ঠে সংগীত গেয়ে পারার নওজোয়ান,
সেহেরি খেতে ডাকে বাঁকে বাঁকে নীরবতা খানখান।
ডাকিয়া চলে স্ব উৎসাহে আদরের ভাই বোন,
কখনো মা, কখনো বাবা, ডাকে নিরলস, নির্ঘুম।
ঘুমের কারণে যদি না পারে খেতে সেহেরী,
তাই চলে সুবহে সাদিক ভরিয়া ডাকাডাকি।
মসজিদের ঐ চিরচেনা মিনার হতে,
ভাসে সতর্ক বাণী,
জাগেনি যারা, জাগাতে তাঁদের,
চলে হামদ, নাত, সুর ধ্বনি।
আর কতো বেলা রয়লো হাতে,
বাকী আছে কোন জন!
তাড়াতাড়ি লও সেহেরী সবে,
সময় অমূল্য ধন।
দিনভর রবে উপবাস সবে,
আল্লাহর হুকুম জানি,
সেহেরী না খেয়ে, মহান হুকুমে,
আসে যদি গাফলতি।
আরজি মোদের, দরবারে খোদার,
কবুল করো, সেহেরী সবার।
রোযা, তারাবীহ, তাসবীহ তাহলীল,
রেজামন্দি চায় আল্লাহর।
০৯/০৬/২০১৮ ঈসায়ী সাল।
আপনার “সেহেরী” কবিতাটি রমজানের একটি খুব জীবন্ত সামাজিক ও আধ্যাত্মিক চিত্র তুলে ধরেছে—বিশেষ করে সেহেরীর ডাক, পারিবারিক অংশগ্রহণ, মসজিদের ঘোষণা এবং রোযার প্রস্তুতির আবহ খুব সুন্দরভাবে এসেছে।
সংক্ষিপ্ত সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. বিষয়বস্তু (Theme):
কবিতার মূল বিষয় রমজানের সেহেরী সময়ের পরিবেশ ও এর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। এখানে তিনটি স্তর দেখা যায়—
- পারিবারিক ও সামাজিক সেহেরীর ডাক
- মসজিদ ও ধর্মীয় পরিবেশ
- রোযার নিয়ত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি
এটি একটি পূর্ণাঙ্গ “রমজান সকালচিত্র”।
২. চিত্রকল্প (Imagery):
আপনার কবিতায় দৃশ্যগুলো খুব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে:
- “ঢুলু ঢুলু আঁখি” → ঘুমঘুম মানবজীবন
- “মসজিদের মিনার হতে ভাসে সতর্ক বাণী” → ধর্মীয় আহ্বান
- “ডাকে নিরলস, নির্ঘুম” → পারিবারিক ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ
এই অংশগুলো কবিতাকে দৃশ্যমান করে তুলেছে।
৩. আবেগ ও মানবিকতা (Emotion):
কবিতার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো পারিবারিক টান—মা, বাবা, ভাই-বোনের ডাক। এটি শুধু ধর্মীয় নয়, বরং সামাজিক ভালোবাসার কবিতাও।
৪. ভাষা ও শৈলী (Language & Style):
ভাষা সহজ, আবেগপ্রবণ এবং বর্ণনাধর্মী। তবে কিছু জায়গায় শব্দচয়ন ও বাক্যগঠন একটু পরিশীলিত করলে কবিতার মান আরও উন্নত হবে।
উদাহরণ:
- “কোরাস কন্ঠে সংগীত গেয়ে পারার নওজোয়ান” → অর্থ কিছুটা অস্পষ্ট; এটি স্পষ্ট করলে ভালো হবে
- “সময় অমূল্য ধন” → খুব ভালো উপমা, শক্তিশালী লাইন
৫. ছন্দ ও গঠন (Rhythm):
কবিতাটি মুক্তছন্দে লেখা, তবে কিছু জায়গায় লাইন দীর্ঘ হওয়ায় প্রবাহ কিছুটা ভারী হয়েছে। সামান্য সংক্ষিপ্ত ও সুশৃঙ্খল করলে এটি আরও গীতিময় হবে।
শক্তিশালী দিক
- রমজানের বাস্তব পরিবেশ
- পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন
- ধর্মীয় অনুভূতির সুন্দর সংমিশ্রণ
- সহজ কিন্তু হৃদয়গ্রাহী ভাষা
সার্বিক মূল্যায়ন
এটি একটি সফল “রমজান সকাল কবিতা”—বিশেষ করে সেহেরীর সামাজিক ও আধ্যাত্মিক চিত্র খুব ভালোভাবে ধরা পড়েছে। সামান্য সম্পাদনা করলে এটি আপনার কবিতা সংকলন বা eBook-এ শক্তিশালী একটি কবিতা হিসেবে জায়গা নিতে পারে।
১৪৫। তারাবীহ
আপনার “তারাবীহ” কবিতাটি মূলত রমজানের রাতের ইবাদত, আত্মশুদ্ধি, অনুশোচনা এবং আল্লাহর দিদারের আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে লেখা—এখানে আধ্যাত্মিক আবহ খুব শক্তভাবে এসেছে।
সংক্ষিপ্ত সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. বিষয়বস্তু (Theme):
কবিতার কেন্দ্রীয় বিষয় তারাবীহ নামাজের মাধ্যমে আত্মিক জাগরণ। আপনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ধরেছেন—
- আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত
- মানুষের ব্যস্ততা ও দুর্বলতা
- ইবাদতের মাধ্যমে পাপ মোচন ও দিদারের আকাঙ্ক্ষা
এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রমজান-চেতনার কবিতা।
২. ভাব ও আবেগ (Emotion):
“আফসোস! হতাশ মনে গুমড়ে কাঁদে...” অংশটি খুব শক্তিশালী। এখানে অনুতাপ ও আধ্যাত্মিক আকুতি ভালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
এছাড়া “কী মধুময় বয়লো বেলা...” অংশে মানবজীবনের অবহেলা ও সুযোগ হারানোর ব্যথা ফুটে উঠেছে।
৩. ভাষা ও শৈলী (Language & Style):
আপনার ভাষা সহজ, কথ্য-ঘেঁষা এবং আবেগপূর্ণ। এটি পাঠকের সাথে সহজে সংযোগ তৈরি করে। তবে কিছু জায়গায় ভাষাগত শুদ্ধতা ও ছন্দ আরও পরিশীলিত করা গেলে কবিতাটি আরও শক্তিশালী হবে।
উদাহরণ:
- “কীযে মধুর ভাব- বিনিময়” → “কী যে মধুর ভাববিনিময়”
- “জমতো যদি এমন করে” → “জমতো যদি এমন করে উঠত” (ছন্দ আরও প্রবাহমান হবে)
৪. ছন্দ ও প্রবাহ (Rhythm):
কবিতাটি মুক্তছন্দ ও আধা-ছন্দের মিশ্রণ। কিছু জায়গায় ছন্দ ভেঙে গেছে, বিশেষ করে দীর্ঘ লাইনে। সামান্য সম্পাদনা করলে এটি আরও গীতিময় হতে পারে।
৫. শক্তিশালী দিক:
- আধ্যাত্মিক গভীরতা
- আবেগের স্বাভাবিক প্রবাহ
- রমজানের বাস্তব অভিজ্ঞতা
- দোয়া ও তাওবার অনুভব
সার্বিক মতামত
এটি একটি সুন্দর রমজানভিত্তিক আধ্যাত্মিক কবিতা, যেখানে ব্যক্তিগত অনুভূতি ও ইবাদতের বাস্তবতা একসাথে এসেছে। সামান্য ভাষাগত পরিমার্জন করলে এটি বই বা eBook-এ রাখার মতো মানসম্পন্ন কবিতায় পরিণত হতে পারে।
প্রেম আর ভালোবাসা কবিতাটির সারমর্ম
কবিতাটির সারাংশ বা সারমর্ম চাই
প্রেম আর ভালোবাসা
___আরিফ শামছ্
দৃষ্টির সীমানায়, হৃদয়ের মোহনায়,
কে এলো? কে যায়?
জান্নাতী সমীরণে, বাসনার ঢেউ ধায়,
চঞ্চলা দোল খায়।
আঁখি দ্বয় তৃপ্ত,অশ্রুতে শিক্ত,
চঞ্চল প্রাণ-মন,
কোন কিছু স্থির নেই,
অস্থির, আনমন।
নাওয়া খাওয়া ভূলে যায়,
চিন্তার শেষ নাই,
সব কিছু এলোমেলো,
নিজেদের ভুলে হায়!
প্রণয়ী চারিপাশে
বারবার দেখা পায়,
কম্পিত মন খুঁজে,
সবকিছু বলি তারে,
কথা লিখে কবিতায়,
ইংগিতে আকারে।
সায় পেলে হবে প্রেম,
না হয় ভালোবাসা।
দু'জনে দু'জনার,
মিলে মিশে একাকার,
সবকিছু হরষে,
ফিরে পায় বারবার।
সুখে সুখ অবিরাম,
জান্নাতী প্রেমে পায়,
মিলেমিশে দুজনের,
জীবনের অভিপ্রায়।
প্রেম রয় কখনো
ইতিহাসের ভাঁগাড়ে,
একপেশে ভালোবাসা,
আজীবন আহারে!
ভালোবেসে ভুলা যায়?
বলিবো কাহারে!!!
মেনে যায় কতোবার,
ভাগ্যের সীমানা,
তুমি কারো হতে পারো,
মন কভু মানেনা।
জানিনা মন তব,
করে কীনা আনচান,
তৃষ্ণায় ছটফটে,
নীরবে আহ্বান।
হৃদয়ের গভীরে,
দগদগে ক্ষতদিয়ে,
ঝরে কতো রক্ত,
দেখাবো কী করে!!!
দু-জনে নির্জনে,
দুঃখে যাতনায়,
আকাশের পানে চাও,
নিবেদন প্রার্থনায়।
উদাসীন নীরবে,
দগ্ধ বারবার,
ভালোবাসা দুজনেই,
চায় শুধু একবার।
০১/০৬/২০২৪ খ্রীঃ
মদীনা,
সউদী আরব।
ChatgptAI2025:
📘 সারাংশ / সারমর্ম:
“প্রেম আর ভালোবাসা” কবিতায় কবি প্রেমের গভীর আবেগ, টানাপোড়েন, প্রত্যাশা ও যন্ত্রণার চিত্র তুলে ধরেছেন। প্রেমের শুরু হয় দৃষ্টির আকর্ষণ আর হৃদয়ের টান থেকে, যা ধীরে ধীরে এক মনোজাগতিক অস্থিরতায় রূপ নেয়। প্রেমে পড়লে মানুষ নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপন ভুলে যায়, সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায়, আর চিন্তা শুধুই প্রিয়জনকে ঘিরে।
প্রেম যখন স্বীকৃতি পায়, তখন তা সুখের উৎস হয়ে ওঠে; দু’জন মানুষের জীবনের অভিপ্রায় মিলেমিশে একাকার হয়। কিন্তু সব প্রেমের পরিণতি হয় না। অনেক ভালোবাসা থেকে যায় একপাক্ষিক, না বলা বেদনায় জমে থাকা ইতিহাসের পাতায়। হৃদয়ের গভীরে যে ক্ষত ও রক্তক্ষরণ ঘটে, তা কেউ দেখে না।
অবশেষে, কবি বোঝাতে চান, প্রেম ও ভালোবাসা চিরকাল নিঃশব্দ এক আকুতি, যা প্রিয়জনের সান্নিধ্য চায় অন্তত একবার—তাতে জীবন পূর্ণতা পায়।
---
রবিবার, মে ৩১, ২০২৬
১০৩| সাধনার মানবী
(আরিফ শামছ্)
তোমার তরে লিখে এ কবিমন
খুঁজে পাই শান্তি অপার।
ক্লান্ত আর বিরক্তিভরা ঢুলুঢুলু চোখে,
বিষাদে তিক্ত ভাঁজ পড়া কপালে,
পড় আর ভাব এ কেমন বিপদ ওরে!!!
এ সবি হতাশ হৃদয়ের আঁকাবাঁকা আল্পনা,
যা সত্যের স্পর্শ নাও পেতে পারে,
তোমার ছাড়পত্র পেলেই হতাশার তুলি আঁকবেনা।
ভালো করেই জানো, উইল করা হলো কবে,
আমার হৃদয়-ভূমি তোমার করে,
সে কি দেখতে পাবেনা দৃষ্টি খুলে!!!
সাধনার মানবী তুমি, জানো তাহা ভাল,
স্বপ্ন বিলাস আমার জীবন,
স্বপ্নের পুরোধা, প্রাণের স্পন্দন,
বিমূর্ত প্রতীক আমার বাস্তবতার,
সে কে জানো? শুধুই তুমি।
এ হৃদয় হাসি খুশি আজিকার,
তোমার শুধু তোমার।
২২ টা ২৫ মিনিট।
ফ.বা.নি. ভাদুঘর, বি-বাড়ীয়া-৩৪০০।
বারুদের জবাব
বারুদের জবাব
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
(আরিফ শামছ্)
জ্বালাময়ী বক্তৃতা, স্লোগান আর মিছিল নয়,
প্রতিবাদী-গণমিছিল, দুর্বল নিন্দে আর কী হয়?
তোমাদের অশ্রুতে ছাপিয়ে যায় সাত মহাসাগর,
বজ্র নিনাদে খাঁন খাঁন হয় পাহাড়, ভুমিতল !
কী যায় আসে! ভাবে অমানুষ পাষণ্ড বর্বর,
নারী শিশু হত্যায় গতি তীব্র হতে তীব্রতর ।
নাই ভয়, নিষ্ঠূর জাতি মানুষ কেমনে হয় ?
মানুষ হইয়া মানুষ মারে জনম জনম ভর!!!
অশ্রু নয় অস্রে কথা বলো, আসল মানুষ যারা,
বারুদের জবাব বারুদে হবে, জীবন করো সারা।
মানুষ হইয়া অমানুষেরে দাও কঠিন জবাব সবে,
পাপের পাহাড়,পাষাণ জাতি ধ্বংস হবেই হবে।
ঠাঁই দাঁড়িয়ে কথা শোনার, নাইরে সময় নাই,
মুহুর্মুহু কামান-গোলায়, লাশের মিছিল যায়।
পায়ের শৃঙ্খল, বাঁধার আগল, ভাঙ্গরে পাগল ভাঙ,
মানুষ জাতি গভীর ঘুমে, ভাঙ্গরে নিদ্ আজ ভাঙ।
তাকবীর তোল, গগন বিদারী, জোড় কদমে সামনে চল্,
সীমারেখা সব পদপিষ্ট করে,পবন বেগে, বজ্র দল ।
ডাকছে নারী, কাঁদছে শিশু, মরছে মানুষ অকাতরে,
বীরের জাতি,ঝড়ের বেগে,জয়ের নেশায় ছোটছে তেড়ে।
জালিম জুলুম ইতি হবে, ইহুদি নিরুদ্দেশ,
চরম শিক্ষা দিতেই হবে, এবার সময় শেষ।
জালিমের সাথে জালিম নেতার টুঁটি চেঁপে ধরো,
অমানুষ হয়ে মানবতার ভণ্ডামি বন্ধ করো।
৩০/০৩/২০২৪
মদীনা, সউদী আরব।
*****************************
ChatgptAI
আপনার কবিতা “বারুদের জবাব” তীব্র ক্ষোভ, প্রতিবাদ, যুদ্ধ, নিপীড়নবিরোধী অবস্থান এবং মানবিক বেদনার এক জ্বালাময়ী প্রকাশ। কবিতাটি আবেগে শক্তিশালী, তবে এর ভাষা ও আহ্বানে সহিংস প্রতিরোধের প্রবল উপস্থিতি আছে—যা সাহিত্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণের বিষয়।
সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. মূল বিষয় (Theme)
কবিতার কেন্দ্রীয় বিষয়গুলো—
নিপীড়ন ও দমননীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
যুদ্ধ ও মানবিক বিপর্যয়
নারী-শিশুর দুর্ভোগ
প্রতিশোধ বনাম ন্যায়বিচারের প্রশ্ন
ক্রোধের রাজনৈতিক ভাষা
এটি মূলত একটি প্রতিরোধধর্মী (resistance poetry) কবিতা।
২. আবেগের তীব্রতা
প্রথম থেকেই কবিতাটি উচ্চকণ্ঠ ও বিস্ফোরক—
“জ্বালাময়ী বক্তৃতা, স্লোগান আর মিছিল নয়”
এখানে হতাশা ও ক্ষোভকে সরাসরি ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে।
আর—
“ডাকছে নারী, কাঁদছে শিশু, মরছে মানুষ অকাতরে”
এই লাইনগুলো মানবিক ট্র্যাজেডির আবেগীয় কেন্দ্র তৈরি করে।
৩. চিত্রকল্প ও প্রতীক
বারুদ → প্রতিরোধ / ধ্বংস / প্রতিশোধের প্রতীক
অশ্রু → অসহায়তা ও মানবিক বেদনা
শৃঙ্খল → দমন ও বন্দিত্ব
বজ্র, ঝড় → শক্তি ও গণআবেগ
এই প্রতীকগুলো কবিতার নাটকীয়তা বাড়িয়েছে।
৪. ভাষা ও শৈলী
✔ স্লোগানধর্মী ভাষা
✔ উচ্চ আবেগঘন বাক্য
✔ পুনরাবৃত্তি ও আহ্বানধর্মী গঠন
✔ মঞ্চে আবৃত্তির উপযোগী ছন্দ
এই কবিতার ভাষা আন্দোলনী কবিতা বা প্রতিবাদী কবিতার ধারার কাছাকাছি।
সমালোচনামূলক মূল্যায়ন
কবিতার শক্তি আছে, কিন্তু কিছু জায়গায় ভাবার সুযোগও আছে।
শক্তি:
✅ শক্তিশালী আবেগ
✅ প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর
✅ দৃশ্যমান চিত্রকল্প
✅ মানবিক কষ্টের উপস্থিতি
উন্নতির জায়গা:
⚠ কিছু অংশে সহিংস প্রতিশোধের ভাষা প্রাধান্য পেয়েছে, যা কবিতার মানবিক বার্তাকে ছাপিয়ে যেতে পারে।
⚠ “বারুদের জবাব বারুদে হবে” ধরনের লাইন প্রতিরোধের আবেগ দেখালেও, ন্যায়বিচার, মানবতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের দিকটিও যুক্ত করলে কবিতার গভীরতা বাড়তে পারে।
⚠ কয়েকটি স্থানে ছন্দ ও মাত্রা আরও পরিশীলিত করা যায়।
বিশ্ব-সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ
এই কবিতার ভেতরে কয়েকটি সাহিত্যিক প্রবণতা দেখা যায়—
War Poetry → যুদ্ধ ও ধ্বংসের অভিজ্ঞতা
Resistance Poetry → নিপীড়নের বিরুদ্ধে কণ্ঠ
Political Poetry → রাজনৈতিক আবেগ ও অবস্থান
Revolutionary Tone → পরিবর্তনের আহ্বান
তবে বিশ্বসাহিত্যের অনেক শক্তিশালী প্রতিবাদী কবিতা ক্রোধের পাশাপাশি মানবতা, ন্যায়বিচার ও ভবিষ্যতের আশাকেও জায়গা দেয়—সেই ভারসাম্য যোগ করলে কবিতাটি আরও বিস্তৃত পাঠকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে পারে।
সারমর্ম
“বারুদের জবাব” হলো ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও অসহায় মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর এক উচ্চকণ্ঠ কবিতা। এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মানুষের কষ্ট; তবে কবিতার ভাষা প্রতিশোধের আহ্বান ও মানবিক বেদনার মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি করে।
সামগ্রিক মূল্যায়ন:
আবেগ: ★★★★★
প্রতিবাদী শক্তি: ★★★★★
চিত্রকল্প: ★★★★☆
মানবিক গভীরতা: ★★★★☆
ছন্দ: ★★★☆☆
সামগ্রিক মান: ৮.২ / ১০
এই কবিতাটি সবচেয়ে বেশি কাজ করে যখন এটি মানুষের যন্ত্রণা দেখায়; সবচেয়ে বিতর্কিত হয় যখন এটি প্রতিশোধকে সমাধান হিসেবে সামনে আনে।
******************
শনিবার, মে ৩০, ২০২৬
পথ হারিয়ে যাওয়া
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
(আরিফ শামছ্)
দিনদুপুরে সন্ধ্যারাতে দেখছি কেমন সবি।
নয়ন খুলে দেখে চলে, প্রেমের ঊষা রবি,
সেই ছবিটায় আটকে থাকে মগ্ন ধ্যানের কবি।
ভাগ্য যাহার রয়না পাশে, ছিনিয়ে নিবে কারা!
পারিনাযে খোদার বিধান এমনি ছেড়ে দিতে,
হৃদয় মাঝে ঝড় বয়ে যায়, ভাগ্য মেনে নিতে।
বন্ধু সবে কত করে বুঝায় কত ভাবে,
সব ভুলে যা, খোদার দয়ায়, মুক্তি মিলে যাবে।
সবি ছিলো কপাল আমার, স্মৃতি বেসামাল,
কেমন করে বুঝায় সবে,অসীম ব্যথার জাল।
হাসি খুশি দিবানিশি, সুখী জীবন ভরে।
তোমার খুঁজে পথ চলিতে ব্যাকুল মনপ্রাণ ,
তোমায় পেয়ে, তৃপ্ত চোখে, করতো সুধা পান।
এক মোহনায় হয়নি দেখা,পথ হারিয়ে যাওয়া।
রক্ত ঝরে আখি পরে, ঝাপসা চোখে,মনের ভুলে,
চলছে পথিক, দিক বিদ্বিক, কোন পাথারে হেলেদুলে।
ফিরবেনাতো কোন দিনই, যায়না কেহ ফেরার তরে,
থাকার কথা রয়লে তবে, থেকে যেতে আপন করে।
পারলে তুমি, তোমার মতো, চলতে পথে নির্দ্বিধায়!
সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে, পথে পথে অনেক দায়।
৩০/০৫/২০২৬
রিয়াদ, সউদী আরব।
+++++++++++++
চ্যাটজিপিটি :
আপনার কবিতা “পথ হারিয়ে যাওয়া” প্রেম, নিয়তি, স্মৃতি, আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও আত্মসমর্পণের এক আবেগঘন কাব্যভাষ্য। এখানে ব্যক্তিগত বেদনা শুধু ব্যক্তিগত থাকে না; তা ধীরে ধীরে দার্শনিক ও মানবিক অভিজ্ঞতায় রূপ নেয়। নিচে সাহিত্যিক, বিশ্ব-সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম তুলে ধরছি।
সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. বিষয়বস্তু (Theme Analysis)
কবিতার প্রধান বিষয়গুলো হলো—
হারানো প্রেম ও স্মৃতির ভার
ভাগ্য ও তাকদীরের প্রতি আত্মসমর্পণ
মানসিক দ্বন্দ্ব ও গ্রহণযোগ্যতা
আধ্যাত্মিক বিশ্বাস বনাম মানবিক আকাঙ্ক্ষা
বিচ্ছেদ ও পথ হারানোর অনুভূতি
“পথ হারিয়ে যাওয়া” এখানে শুধু সম্পর্ক হারানো নয়; এটি জীবনের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য হারানোর প্রতীক।
২. চিত্রকল্প (Imagery)
প্রথম স্তবকেই শক্তিশালী মানসিক দৃশ্য তৈরি হয়েছে—
“মনের মুকুরে ওঠে পড়ে একটি দারুণ ছবি”
“মনের মুকুর” (আয়না) শব্দবন্ধ স্মৃতির প্রতিফলনকে দৃশ্যমান করে।
আর—
“নয়ন খুলে দেখে চলে, প্রেমের ঊষা রবি”
এখানে “ঊষা রবি” প্রেমকে সূর্যের মতো আলোকদায়ী শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
৩. ধর্মীয় ও দার্শনিক স্তর
আপনার কবিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো আধ্যাত্মিকতা ও ভাগ্যবোধ।
“গাছের পাতা নড়ে নাতো খোদার বিধান ছাড়া”
এই লাইনটি বিশ্বাস, তাকদীর ও নিয়ন্ত্রণহীনতার অনুভূতিকে একত্র করেছে।
এখানে প্রেম কেবল মানবিক অনুভূতি নয়; বরং ঈশ্বরনির্ধারিত পরীক্ষাও।
৪. ভাষা ও শৈলী
শৈলীর বৈশিষ্ট্য:
✔ সহজ ও আবেগনির্ভর ভাষা
✔ পুনরাবৃত্তির ব্যবহার
✔ লোকজ ও আধ্যাত্মিক শব্দভাণ্ডার
✔ আত্মকথনধর্মী স্বর (confessional tone)
আপনার কবিতায় আধুনিক বাংলা রোমান্টিক কবিতা ও লোকজ কাব্যভাষার সংমিশ্রণ দেখা যায়।
৫. প্রতীক বিশ্লেষণ
প্রতীক
অর্থ
মুকুর
স্মৃতির আয়না
ঊষা রবি
প্রেম ও আশা
ঝড়
অন্তর্দ্বন্দ্ব
পথিক
জীবনযাত্রী মানুষ
পথ হারানো
লক্ষ্য, প্রেম বা পরিচয় হারানো
বিশ্ব-সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
এই কবিতার কিছু বৈশ্বিক সাহিত্যিক মিল লক্ষ্য করা যায়—
Romantic Tradition
আপনার কবিতার আবেগ, স্মৃতি ও ব্যক্তিগত যন্ত্রণা রোমান্টিক ধারার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
Confessional Poetry
নিজস্ব অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত কষ্ট ও অভ্যন্তরীণ স্বীকারোক্তি—এগুলো confessional কবিতার বৈশিষ্ট্য বহন করে।
Existential Undertone
“চলছে পথিক, দিক বিদ্বিক…”
এই অংশে মানুষের অস্তিত্বগত অনিশ্চয়তা ফুটে ওঠে।
Sufi / Spiritual Echo
ভাগ্য, খোদার বিধান, আত্মসমর্পণ—এসব কবিতাকে আধ্যাত্মিক মাত্রা দিয়েছে।
শক্তি ও উন্নতির জায়গা
শক্তি
✅ আবেগের সততা
✅ স্মৃতি ও নিয়তির সংমিশ্রণ
✅ সহজ ভাষায় গভীর অনুভব
✅ ধর্মীয় অনুভূতি ও মানবিক বেদনার ভারসাম্য
উন্নতির জায়গা
⚠ কিছু লাইনে মাত্রাবৃত্ত অসমান হয়েছে
⚠ “দিক বিদ্বিক” অংশে ধ্বনিগত মসৃণতা আনা যায়
⚠ কয়েকটি স্থানে নতুন উপমা যোগ করলে কাব্যিক ঘনত্ব বাড়বে
সারমর্ম
“পথ হারিয়ে যাওয়া” মূলত এমন এক মানুষের আত্মকথা, যে ভালোবাসা হারিয়েছে, স্মৃতির ভার বহন করছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভাগ্য ও সৃষ্টিকর্তার বিধানকে মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এখানে প্রেম ব্যর্থ হলেও অনুভূতি বেঁচে থাকে; মানুষ পথ হারালেও চলা থামে না।
সামগ্রিক মূল্যায়ন
আবেগ: ★★★★★
চিত্রকল্প: ★★★★☆
ভাষা: ★★★★☆
দার্শনিক গভীরতা: ★★★★★
ছন্দ ও গঠন: ★★★☆☆
সামগ্রিক মান: ৮.৭ / ১০
শেষ লাইনের অনুভূতিটাই পুরো কবিতার সারবস্তু বহন করে—
“সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে, পথে পথে অনেক দায়।”
এই লাইন কবিতাটিকে শুধু প্রেমের কবিতা রাখেনি; এটিকে জীবনের কবিতায় পরিণত করেছে।
*************
শুক্রবার, মে ২৯, ২০২৬
উপন্যাস: ভালোবাসি দিবানিশি
অধ্যায় ১: প্রথম দেখা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি অনার্স কলেজের ভর্তি কার্যক্রমের দিন। কলেজ চত্বরে উৎসবের আমেজ। ছেলেরা এক পাশে, মেয়েরা আরেক পাশে লাইনে দাঁড়িয়ে ভর্তি ফর্ম জমা দিচ্ছে। গ্রীষ্মের রোদে ভিজে থাকা দুপুরবেলা হলেও, আরিফের মনে আজ অন্য রকম উত্তাপ। অর্থনীতিতে অনার্স ফার্স্ট ইয়ার ভর্তি হতে এসেছে সে। চোখের কোনে হঠাৎ এক জোড়া কাজল কালো চোখ ধরা পড়ে।
মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে দুই-তিন বান্ধবীকে নিয়ে, তার দৃষ্টিতে আত্মবিশ্বাস আর চোখেমুখে এক অপার্থিব সৌন্দর্য। আরিফ চোখ সরাতে পারছে না। যেন সময় থেমে গেছে। চারপাশের কোলাহল, লাইনের শব্দ, সূর্যের তাপ—সব কিছু ম্লান। সে যেন ঢুকে পড়েছে অন্য এক জগতে। প্রথম দেখায় এমন অনুভব? এমন মোহ?
তাঁর নাম জানতে বাকি নেই বেশিদিন। পরের সপ্তাহেই কলেজের ক্লাস শুরু। উদ্বোধনী ক্লাসে সবাই একে একে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে। আরিফ যেন আগেই অপেক্ষায় ছিল। অবশেষে, মেয়েটি দাঁড়াল—"আমার নাম “কবিতা বেগম।"
এই নাম যেন আরিফের হৃদয়ে অক্ষরে অক্ষরে গেঁথে গেল। মুহূর্তেই মনে হলো, তার জীবনে এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। প্রেমের বীজ কি এভাবেই জন্ম নেয়? বিনা পূর্বাভাসে?
ক্লাস চলতে থাকলো। কবিতার প্রতি আরিফের মুগ্ধতা ধীরে ধীরে গভীর হতে থাকলো। তার চলন, বলন, হাসি, চোখের ভাষা—সবই যেন আরিফকে টেনে নিচ্ছে এক গভীর আবেগের দিকে।
কিন্তু সে নিজের ভেতরের এই অনুভব গোপন রাখে। সহপাঠী হিসেবে কবিতার প্রতি সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে চায়। তবু, মন বড় অদ্ভুত। বারবার তাকিয়ে থাকে, সে বুঝতে পারে না, কেন এতটা টানে এই মেয়েটির দিকে।
সেই প্রথম দেখা, সেই কাজল কালো চোখ—আরিফের জীবনে এক নতুন সূর্যোদয়ের নাম।
তুমি আসবে বলে
----- আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
আমার আকাশে নেই মেঘের আনাগোনা,
নেই বিদ্যুৎ চমকানোর ঘনঘটা,
সুস্পষ্ট নীল আসমান নির্বাক হয়ে,
দিবা-নিশি তব প্রতীক্ষায় প্রহর গুনে।
তুমি সাজাবে তারে,
মনের মাধুরী ঢেলে,
অপ্সরীরা দলে দলে,
তোমার আঙ্গিনায় রবে।
দেখ কেমন সাজহীন বাগান,
হারিয়ে ফেলেছে ভ্রমর,
নিত্যদিনের গান,
সবুজ দূর্বাঘাস সব অনাদরে রয় পড়ে,
ফ্যাঁকাসে হলেও টিকে রয়,
তুমি আসবে বলে।
তোমার ভালবাসায় খোঁজে পাবে,
সঞ্জীবনী সুধা জীবনে,
ফের উঠে দাঁড়াবার,
সাজাতে অপরুপা আরবার।
২১/১১/২০০২ ঈসায়ী সাল।
রাত ১৩ টা ২০ মিনিট।
📘 সারাংশ / সারমর্ম
“তুমি আসবে বলে” কবিতায় কবি গভীর প্রেম ও প্রত্যাশার আবেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, প্রিয়জনের অনুপস্থিতিতে চারপাশের প্রকৃতি নিস্তেজ হয়ে পড়েছে—আকাশে নেই মেঘ, বাগানে নেই সৌন্দর্য, ভ্রমর নেই, গান নেই। তবুও সেই প্রিয়জন একদিন আসবেন—এই আশাতেই সবকিছু এখনো টিকে আছে। কবি বিশ্বাস করেন, প্রিয়জনের ভালোবাসাই হবে জীবনের সঞ্জীবনী শক্তি, যা আবার জীবনকে সাজাবে, সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনবে। কবিতাটি প্রতীক্ষা, প্রেম এবং জীবনের প্রতি আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির এক কাব্যিক প্রতিফলন।
উপন্যাস: ভালোবাসি দিবানিশি
অধ্যায় ২: অপরিচয়ের মধ্যে সম্পর্ক
সকালের ঝিরঝিরে আলো মিশে গেছে ক্লাসরুমের জানালার কাঁচে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি অনার্স কলেজের অর্থনীতির প্রথম বর্ষের প্রথম ক্লাস। চারপাশে নতুন মুখ, নতুন উৎসাহ, নতুন আবেগ। আরিফ কিছুটা সংকোচ আর বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে চারপাশে—এই কি তবে তার স্বপ্নের শুরু?
চোখ গিয়ে আটকে গেলো এক চেনা অবয়বে। হ্যাঁ, সেই মেয়েটি—যাকে ভর্তির দিন কাউন্টারের সামনে দেখেছিল। কাজল কালো চোখ, মাথায় ওড়না, কাঁধে বইয়ের ব্যাগ, ঠোঁটে মৃদু হাসি। মনে হলো সময় যেন থেমে গেল। হৃদয়ের এক কোণে নিঃশব্দে যেন প্রেমের প্রথম বীজ অঙ্কুরিত হচ্ছে।
“কবিতা “নাম তার—সেটা বোঝা গেলো পরিচিতি পর্বে।
“আমি কবিতা, ফেনি থেকে এসেছি। অর্থনীতির প্রতি আগ্রহ থেকে এই সাবজেক্ট বেছে নিয়েছি।”
আরিফের বুকের ভেতর ধকধক করে ওঠে। “ফেনি থেকে এসেছে?”—বিস্ময়ের সঙ্গে যেন হৃদয়ে গড়িয়ে পড়ে একরাশ আনন্দ। নিজেই জানে না কেন, এই সাধারণ পরিচয়েই হৃদয়ে ঢেউ খেলে যাচ্ছে।
ক্লাস শেষ হলে আরিফ বের হয়ে আসে। তবু চোখ বারবার খোঁজে তাকে। ভীড়ের ভেতর এক চিলতে চোখাচোখি হয় কি হয় না—সে এক দুর্বোধ্য আকর্ষণ। আরিফ ভাবছে, “এ কেমন অনুভব? আমি কি তাকে চিনি? না, আমি তাকে শুধু অনুভব করতে শুরু করেছি।”
চরিত্রের গভীরতা:
আরিফ — সংবেদনশীল, মমতাশীল, নিঃশব্দ প্রেমিক। অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকলেও অনুভবের গভীরতায় সমৃদ্ধ। হৃদয়ে যে প্রেম গড়ে উঠছে, তার উৎস কোথায় জানে না, তবে অনুভব করছে।
“কবিতা “— আত্মস্থ, রুচিশীল, ভাবগম্ভীর। তার চাহনিতে আভিজাত্য আর আত্মসম্মানের দীপ্তি। সে কারো প্রেমে পড়েছে কি না, বোঝা যায় না, তবে তার উপস্থিতিই আরিফের জীবনে প্রেমের শুরুর রূপরেখা এঁকে দিচ্ছে।
পরিবেশ চিত্রণ:
সরকারি কলেজের বিশাল ক্যাম্পাস, ধূলিমলিন বেঞ্চ, কাঁচের জানালায় এসে পড়া সূর্যের আলো, আর ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহে ভরা প্রথম দিনের হালকা উত্তেজনা—সবকিছু মিলিয়ে এক নিখুঁত পটভূমি গড়ে তোলে।
এই অধ্যায়টি হলো সেই সংবেদনশীল সময়ের কথা, যেখানে একটা চাহনি, একটা নাম, একটা পরিচয়—চিরন্তন ভালোবাসার বীজ বপন করে দেয়।
ভালোবাসি দিবা-নিশি
-আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
নিরাকপরা ভর দুপুরে,
বসে আছি আনমনে,
সুখের বেলা যায় চলে যায়,
কতো দ্রুত আপন মনে।
ভাবছি কতো জীবন নিয়ে,
পাইনা ভেবে কূল,
অলস দেহে দেখছি তারে,
নেইকো কোন ভূল।
হাজির হলো কলম-খাতা,
কোমল হাতের স্পর্শে,
মনের কথা ঝরবে কবে,
ইতিহাসের গর্ভে।
ভালবাসি, কতো তারে,
বলবো কেমন করে,
মনের কথা মনে ওঠে,
মনেই ঝরে পড়ে।
নাইবা কোন ভূল আমারি,
নেইকো ছিলো তার,
ভালবাসি দিবা-নিশি,
ভালবাসে অপার।
সুবাস সেতো ফুলের মতো,
অতুল মৃগনাভীর,
সোনারোদের নরম বিকেল,
দেখি রঙ্গিন আবীর।
ভাসছে কভু সাঁঝের ভেলা,
বেলা অবেলায়,
স্বপ্ন ডিঙ্গি তীরে ভীরে,
যখন মনে চায়।
ভালবাসার তারা কতো,
দেখি তা'রই আকাশে,
প্রেমের সুবাস পাই খুঁজে পাই,
মৃদুমন্দ বাতাসে।
বাঁধ মানেনা মনের কথা,
কলম দিয়ে ঝরে,
প্রাণের প্রিয়া, যাই বলে সব,
ভালোবাসার তরে।
সকাল ১১:৩০ মিনিট,
০২/১১/২০১০ ঈসায়ী সাল।
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
ভাদুঘর, সদর, বি-বাড়ীয়া-৩৪০০।
📘 সারাংশ / সারমর্ম
“ভালোবাসি দিবা-নিশি” কবিতায় কবি নিজের অনুভূতি ও ভালোবাসার এক অমলিন চিত্র তুলে ধরেছেন। কবি একটি নির্জন দুপুরে বসে আছেন, এবং তার মন বিচলিতভাবে তার প্রিয়জনের কথা ভাবছে। তিনি ভাবছেন, কিভাবে সেই ভালোবাসা প্রকাশ করবেন, যেটি তার হৃদয়ে ভীষণভাবে জমে আছে। কবি অনুভব করছেন, তার ভালোবাসা এক ধরনের অমলিন সৌন্দর্যের মতো, যা দিন-রাত, সকাল-বিকেল, সর্বদা প্রবাহিত হয়ে চলেছে। কবির কলমের মাধ্যমে তার অন্তরের অনুভূতিগুলো একেকটি কথার মাধ্যমে প্রেমিকাকে জানানো হচ্ছে। কবি বিশ্বাস করেন, প্রেম কখনো কোনো ভুল নয়, এটি এক অপরূপ অনুভূতি যা কখনো শেষ হয় না।
কবিতাটি প্রেমের সৌন্দর্য, অনুভূতির গভীরতা এবং কল্পনার সাথে বাস্তবতার সংমিশ্রণ।
উপন্যাস: ভালোবাসি দিবানিশি
অধ্যায় ৩: ধীরে ধীরে হৃদয়ের কাছাকাছি
নতুন ক্লাস, নতুন পাঠ্যক্রম, প্রতিদিনের রুটিনে এক অদৃশ্য নিয়মিততা তৈরি হতে শুরু করে। কিন্তু এই সাধারণ নিয়মে অল্প অল্প করে ব্যতিক্রম হয়ে ওঠে “কবিতা “আর আরিফের উপস্থিতি। ক্লাসে পাশাপাশি না বসলেও, চোখ দু’টি যেন প্রতিনিয়ত খুঁজে ফেরে একে অন্যকে। হয়তো কারো চোখে পড়েনা, কিন্তু হৃদয়ের দরজায় প্রতিদিন একটু করে কড়া নাড়ে সম্পর্কের এক নতুন ব্যঞ্জনা।
একদিন লাইব্রেরির বারান্দায় আরিফ চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল—হাতের বইটা খুলে রাখলেও মন পড়ে ছিল কোথায় যেন। হঠাৎ পাশেই দাঁড়ায় কবিতা, তার হাতে 'Development Economics'। হালকা এক দৃষ্টি বিনিময় হয়।
—"এই অধ্যায়টা বুঝেছো?"
কবিতার সরল প্রশ্ন।
—"একটু বুঝেছি, তবে পুরোপুরি না।"
আরিফের উত্তর বিনয়ী, যেন বুকের গহীন থেকে কোনো শব্দ উঠে আসে না।
একটা বই, একটা প্রশ্ন, আর সেই উত্তর—সেখানে যেন এক অদৃশ্য বন্ধনের সূচনা। ধীরে ধীরে দুজনের মাঝে বাড়ে কথাবার্তা। গ্রুপ স্টাডির নামে ক্লাসের ফাঁকে ছোট ছোট আলোচনা, কখনো ল্যাবের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, কখনো কলেজ মাঠের চায়ের দোকানে একসাথে দেখা হয়ে যাওয়া।
কবিতার হাসি যেন এক অন্যরকম আরাম নিয়ে আসে আরিফের মনে। আরিফ বোঝে, সে শুধু মোহে আটকে নেই—তাকে ভালো লাগছে। একটা শ্রদ্ধা, একটা অদ্ভুত টান।
একদিন কলেজের পিছনের বটগাছটার নিচে বসে ছিল আরিফ, চোখে গভীর চিন্তার ছাপ। “কবিতা “পাশে এসে বসলো।
—"চুপচাপ কেন?"
—"ভেবেছিলাম তুমি আসবে না আজ।"
—"কেন যাবো না? ক্লাস আছে তো। আর বন্ধুদেরও তো দরকার হয়।"
‘বন্ধু’ শব্দটা কানে বাজলো। তবে তাতে কোনো ব্যথা নয়, বরং এক ধরনের শান্তি। ভালোবাসার শুরু তো হয় বন্ধুত্ব থেকেই। আরিফ জানে, সে কোনো তাড়াহুড়ো করতে চায় না। সে শুধু প্রতিটি মুহূর্তকে অনুভব করতে চায়—কবিতার সঙ্গে কাটানো সময়কে মনে গেঁথে রাখতে চায়।
চরিত্রের রূপায়ণ:
আরিফ — ধীরে ধীরে বুঝতে পারছে যে তার ভালোবাসা নিছক আকর্ষণ নয়। প্রতিটি কথোপকথনে, প্রতিটি হাসিতে সে কবিতার মধ্যে খুঁজে পাচ্ছে এক প্রগাঢ় আত্মিক বন্ধন।
“কবিতা “— সরল, মৃদুভাষী কিন্তু আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন। তার বন্ধুত্বের পরিধি সীমিত, কিন্তু যার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে, তার মধ্যে দায়িত্ববোধ প্রবল।
প্রেক্ষাপটের আবহ:
কলেজের লাইব্রেরি, ক্লাসরুম, মাঠের আশেপাশে ঘোরাফেরা—এগুলো যেন রঙিন চিত্রপটের মতো। সাধারণ ছাত্রজীবনের প্রতিটি উপাদানেই হৃদয়ের আবেগ লুকিয়ে আছে, আর সেই আবেগই ভালোবাসার ভিত্তি গড়ে দিচ্ছে।
এই অধ্যায়ে “কবিতা “আর আরিফ শুধু বন্ধু হয়ে ওঠে না, বরং একটি অদৃশ্য বন্ধনে আবদ্ধ হতে শুরু করে—যা সময়ের সাথে সাথে হৃদয়ের গভীরে চেপে বসে।
প্রিয় তোমায়
--আরিফ শামছ্
১৩-সেপ্টেম্বর-২০২০ ঈসায়ী সাল।
ভালোবাসার সবটুকু রেখে গেলাম
তোমার তরে,
পূর্ণ হিয়া মজেছে যে, প্রেম সাগরের
অতল তলে,
তৃষা তৃষা মরুতৃষা, মরুভূমির
চারণভূমে,
একটু সুখের পরশ লাগি,
হারায় মরন ঘুমে।
তোমার প্রেমে পাগল-পারা,
হয়যে কেবল দিশেহারা,
ভালো করে পথের ধারা,
ধরতে বেলা সারা।
ভোরের পাখি মধুর সুরে,
তোমার কথা যায় স্মরে,
পূবাকাশে রোদের মেলা,
অভিমানী মেঘের ভেলা।
নিরাক পড়া ভর দুপুরে,
মানব বিহীন বিজনভূমে,
সবুজ পাতার আঁড়াল থেকে,
মধুর সুরে কোকিল ডাকে।
খুঁজছে রবে, ভাবছে কবে,
প্রিয় তোমায় দেখবে সবে,
তোমায় পেলে ধন্য হবে,
জীবন মরণ সফল ভবে।
হাতিরঝিল,
ঢাকা।
📘 সারাংশ / সারমর্ম
"প্রিয় তোমায়" কবিতায় কবি গভীর প্রেমের অনুভূতি ও আকুতি প্রকাশ করেছেন। তিনি তার প্রিয়জনকে তার প্রেমের সমস্ত কিছু উৎসর্গ করে দিয়েছেন এবং তার হৃদয়ের গভীরে এক অতল সাগরের মতো প্রেম লুকিয়ে রেখেছেন। কবি মরুতৃষায় ভোগা, একাকী অপেক্ষার অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন, যেখানে এক মুহূর্তের সুখের জন্য তার অন্তর আকুল।
কবি তার প্রিয়জনের প্রেমে পাগল হয়ে গেছেন, এবং সেই প্রেম তাকে পথহীন, দিশাহীন করে তুলেছে। তবে, এই অবস্থাতেও কবি তার প্রিয়জনকে অনুভব করে, ভোরের পাখির গান, পূবাকাশের রোদের আলো এবং একাকী প্রকৃতির সৌন্দর্য মাঝে তার প্রিয়জনের কথা স্মরণ করছেন। কবি আশা করছেন, একদিন তাদের মিলন হবে, এবং সে মিলনে জীবন ও মরণের সফলতা আসবে।
এটি একটি প্রেমের কবিতা, যেখানে কবি তার প্রেমের অন্তর্গত যন্ত্রণা, আকাঙ্ক্ষা এবং মিলনের প্রতি গভীর আশা প্রকাশ করেছেন।
উপন্যাস: ভালোবাসি দিবানিশি
অধ্যায় ৪: বিরহ ও অভিমান
দিনগুলো কেটে যাচ্ছিলো নিঃশব্দ অথচ স্বপ্নে মোড়া এক বন্ধুত্বের বন্ধনে। “কবিতা “ও আরিফ যেন একে অপরের ছায়া হয়ে উঠছিল ধীরে ধীরে। কিন্তু কোনো গল্পই একটানা মসৃণ হয় না, আর কোনো অনুভবই চিরকাল নির্লিপ্ত থাকে না।
কলেজের পরীক্ষার আগে কবিতার পরিবারে ঘটে এক দুঃসহ ঘটনা—তার পিতা ইন্তেকাল করেন। এক আকস্মিক শোক কবিতার জীবনে ছায়া ফেলে।
খবরটা শুনে আরিফের বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে। তবে সে তখন ছিল ফেনীতে, এক বন্ধুর জোরাজুরিতে বেড়াতে গিয়েছিলো। ফিরে এসে জানতে পারে সেই শোকসংবাদের কথা।
পিয়াসের মুখে শোনে—““কবিতা “খুব ভেঙে পড়েছে। বলেছে, ‘আরিফ জানলেও আসেনি!’”
আরিফ যেন পাথর হয়ে যায়। ফেনী থেকে ফিরে সে পিয়াসকে নিয়ে যায় কবিতার বাড়িতে।
কিন্তু ততক্ষণে অভিমানের দেয়াল গড়ে উঠেছে।
চোখে চোখ পড়ে, কিন্তু সেখানে নেই আর সেই চিরচেনা মায়া—আছে তিক্ততা, আছে জিজ্ঞাসা।
—"তুমি না এসে পারলে?"
কবিতার প্রশ্নে তীক্ষ্ণতা, ভরাট অভিমান।
আরিফ কিছু বলতে পারে না, শুধু চেয়ে থাকে। গলায় যেন শব্দ আটকে যায়। সে চায় বুঝাতে—সে দূরে ছিল, জানতে পারেনি। কিন্তু কবিতার চোখে তখন শুধুই ব্যথা। তার কাছে ব্যাখ্যার চেয়ে অনুভূতির চিহ্নটাই জরুরি ছিল।
সেই দিনের পর, দুজনের মধ্যে একটা নীরব দেয়াল গড়ে ওঠে।
তবে দেয়াল হলেও তা কখনো ঘৃণার ছিল না—তা ছিল হতাশা ও চরম মায়ায় মোড়া এক কষ্টের ছায়া।
একদিন আখাউড়া শহীদ স্মৃতি কলেজে, টিউবওয়েলের পাশে অজু করছিল আরিফ। হঠাৎ পেছন থেকে “কবিতা “এসে দাঁড়ায়।
—"চাপকল আমি চাপি, তুমি অজু করো।"
তবে সে দিনের স্নিগ্ধতা আর আগের মত ছিল না।
ওর চাহনি তীক্ষ্ণ, অথচ কোমল। অজু করার প্রতিটি ফোঁটা পানি যেন আরিফের হৃদয়ের ক্ষতকে ছুঁয়ে যাচ্ছিল।
সে বুঝতে পারছিল, একধরনের ভালোবাসা এখন অভিমান হয়ে হৃদয়ে জমেছে।
ভালোবাসা এখন আর শুধু একতরফা আকর্ষণ নয়—এটা এখন দায়িত্ব, প্রত্যাশা, অনুভূতির গভীর সমীকরণ।
চরিত্রগত উন্নয়ন:
আরিফ — আজ সে বুঝেছে, ভালোবাসা শুধু সুন্দর মুহূর্তের নাম নয়; এতে আছে দায়িত্বের পালা, আছে না-পারার অপরাধবোধ। সে নিজেকে দোষী ভাবছে, অথচ সত্যি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।
“কবিতা “— আবেগপ্রবণ, কিন্তু আত্মমর্যাদাশীল। ভালোবাসে, অভিমান করে—তবে তার অনুভব শুদ্ধ। সে সহজে ভুলে যেতে পারে না।
আবহ:
এই অধ্যায়ে আবেগ অনেক তীব্র হয়ে ওঠে। প্রতিটি দৃষ্টিবিনিময়, প্রতিটি মৌনতা যেন হৃদয়ের কফিনে পেরেক ঠুকে দেয়। প্রেম আর অভিমান এখানে পাশাপাশি অবস্থান করে, যেন একে অপরকে ছায়ার মতো অনুসরণ করে।
ধূসর প্রেম
---------- আরিফ শামছ্
৩০.০৮.২০০১
হৃদয়ের অতল গহ্বরে অতন্দ্র প্রহরী সেজে,
সহাস্য কলতান সঙ্গী হয়ে; জীবন নদীর তীরে।
এ কেমন আগমন তব? মনোবাসনার এমনি প্রকাশ;
সহজ অংকটি তোমার বুঝেনাতো সে, আজো ম্রিয়মাণ।
সাধণার মানবী, ভালবাসার উৎসারিত ঝর্ণা;
কেন জাগালে হৃদয়ে তাহার, দ্বারে দিতে ধর্ণা।
পাবনা এ অলীক কথার পুষ্প কভু জাগবেনা?
পেয়ে যাবো এমন ধারার ঊর্মি কি আর ডাকবেনা?
সবি জানে আসবে কবে, যিনি চালায় কালের চাকা,
ভালবাসার প্রতীকটুকু, তোমার প্রেমে হবে আঁকা।
প্রেম পিয়াসী এ হৃদয়ে ঢালবে প্রেমের বারিধারা,
জীবনটারে ফিরিয়ে দিয়ে, আরো দিবে পূর্ণতা।
বুঝতে কিনা পারো মনে বাস করে সে কোন পরী?
ব্যাথার দানে বিঁশের বাঁশি, বাজায় এ কোন সুন্দরী!!
জীবন জাগার গান কবে কার, পথ হারালো কিসে?
ফিরিয়ে দেয়ার ঢালিখানি, বাঁধ সাধিল শেষে।
জানতে চাহে ঢাললে তুমি, কোন্ মদিরা এই পিয়ালায়?
পথ চলিতে, পথ হারিয়ে, কোন্ কারণে পথ ভূলে যায়?
চাইনি কভু এমন ধারা, তবু কেন আসলো ঘিরে!
এই অবসাদ; হতাশ মিছিল ; ভালবাসা চাই কি বলে?
আশার স্বপন, হৃদয় কাঁপন, সব মিলিয়ে ছন্দ পতন!
পাব নাকি হৃদয় তলে; কভু প্রমের বর্ষাবরণ!
ফোটবেনা কি প্রেমের ফুলে, ভালবাসার কোমল ছোঁয়া,
ব্যাথার ধূসর ধূলি-বালী ; তোমার প্রেমে হবে ধোঁয়া!!
📘 সারাংশ / সারমর্ম
“ধূসর প্রেম” কবিতায় কবি প্রেমের জটিলতা, ক্ষতির অনুভূতি এবং এক ধরনের হতাশা প্রকাশ করেছেন। কবি তার হৃদয়ের গহ্বরে প্রিয়জনের আগমনের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন, কিন্তু সেই আগমনটি তাঁর জন্য এক রহস্য হয়ে রইল। কবি ভালোবাসার জটিলতা এবং অসম্পূর্ণতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে প্রিয়জনের প্রেম তাকে কখনো পূর্ণতা দেয়, আবার কখনো তাকে ব্যথায় আচ্ছন্ন করে।
কবির কথায়, প্রেমের ফুল কখনো ফুটবে না, ভালোবাসার কোমল ছোঁয়া পাওয়া যাবে না, কারণ সেই প্রেমের পথ যেন কখনোই সঠিকভাবে মিলছে না। কবি বুঝতে পারছেন, প্রেম তার জন্য একটি অব্যক্ত যন্ত্রণা, যেখানে তার অনুভূতিগুলি এক ধূসর আকারে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। কবি এক প্রকার হতাশার মধ্যে হারিয়ে গেছেন, যেখানে ভালোবাসার আশা ও বাস্তবতা মিলে এক অস্থির, অস্পষ্ট অবস্থায় পরিণত হয়েছে।
কবিতাটি প্রেমের পীড়িত অবস্থার এক সূক্ষ্ম চিত্র, যেখানে কবি প্রেমের দুর্বলতা, ক্ষতির দুঃখ এবং হৃদয়ের অস্থিরতা প্রকাশ করেছেন।
উপন্যাস: ভালোবাসি দিবানিশি
অধ্যায় ৫: শেষ প্রস্তাব ও নিঃশব্দ প্রতিরোধ
সময় তখন গড়িয়েছে অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের দিকে। ক্লাস, পরীক্ষার প্রস্তুতি আর নিঃশব্দভাবে গড়ে ওঠা এক সম্পর্কের ভার—সব মিলিয়ে যেন এক অস্থির সময়। আরিফ দিনকে দিন অনুভব করছিল, কবিতাকে সে আর শুধু "ভালোবাসে" না—সে ওকে জীবনের অপরিহার্য অংশ বলে বিশ্বাস করে ফেলেছে।
এই বিশ্বাস, এই নিঃশর্ত চাওয়া থেকেই জন্ম নেয় এক সাহসী সিদ্ধান্ত।
সে নিজের চাচাতো দুলাভাইয়ের মাধ্যমে কবিতার পরিবারের কাছে প্রস্তাব পাঠায়—বিয়ের প্রস্তাব।
প্রস্তাব পৌঁছানোর পর যা ঘটে, তা যেন বজ্রপাতের মতো:
কবিতার বড়ভাই হঠাৎ করেই অন্যত্র বিয়ের ব্যবস্থা করে ফেলে, যেন সব বন্ধ দরজার চাবি হারিয়ে যায়।
প্রতিবাদ করেনি কেউ। না কবিতা, না আরিফ।
কারণ?
উভয়েই ছিল রক্ষণশীল, আত্মমর্যাদাশীল, পারিবারিক আদর্শে গড়া মানুষ।
তারা জানতো—একটা ঝাঁজালো প্রেম হয়তো পরিবার ভাঙতে পারে, সমাজের আঙুল তুলতে পারে। কিন্তু তারা কোনোদিনই নায়ক বা ভিলেন হতে আসেনি, তারা এসেছিলো পরস্পরের নিঃশব্দ আশ্রয় হয়ে উঠতে।
আরিফের হৃদয় চিৎকার করে উঠলেও মুখে সে একফোঁটা শব্দ করলো না।
“কবিতা “থেকেও যেন হারিয়ে গেলো তার জীবনের গলিঘুঁজিতে।
প্রতি রাতে তার চোখ ভিজে থাকত। বুকের ভেতর জমা হতে থাকত চাপা দীর্ঘশ্বাস, হৃদয়ের হাহাকার আর শব্দহীন আর্তনাদ।
তবু সে কিছুই বলেনি—কারণ সে জানত, কোনো যোগাযোগ যদি কবিতার জীবনে অশান্তি আনে, তবে সেই যোগাযোগের চেয়ে নীরব ভালোবাসা শ্রেয়।
তবু সে হাল ছাড়ে না। অনেক বছর পর, ফেসবুকে খুঁজে পায় কবিতার প্রোফাইল—"Kobita Begum"।
একেকটা পোস্টে আরিফ চুপিচুপি দিয়ে যায় একটা লাভ রিয়েক্ট, কখনো একটা ছোট মন্তব্য।
আশা করে, হয়তো “কবিতা “বুঝবে, আরেকটা সাড়া দেবে।
কিন্তু একদিন হঠাৎ সেই প্রোফাইলটা আর খুঁজে পাওয়া গেলো না।
না বন্ধু তালিকায়, না সার্চে।
এক নিঃশব্দ প্রতিরোধ যেন ওর সমস্ত ভালোবাসা মুছে দেয়ার চেষ্টা করলো।
তবু কি ভালোবাসা মুছে ফেলা যায়?
আরিফ জানে, যায় না।
সংলাপের ঝলক:
আরিফের বন্ধু পিয়াস:
— "কবিতার ভাইয়েরা অনেক কড়া মানুষ। তুমি সরাসরি কিছু করবা না প্লিজ। ওর কষ্ট হোক, সেটাও তুই চাস না, তাই না?"
আরিফ:
— "আমি শুধু চাই “কবিতা “ভালো থাকুক। ওর হাসিমুখটা যেন না ম্লান হয়, তাতেই আমি শান্তি পাই।"
আবহ:
এই অধ্যায় এক মৃদু ঝড়ের মতো।
এখানে তীব্র আবেগ নেই, আছে তীব্র নিয়ন্ত্রণ। প্রেমের চূড়ান্ত প্রকাশ নয়, বরং তার আত্মত্যাগের প্রতিচ্ছবি।
যেখানে হৃদয়ের শব্দকে রুদ্ধ করে ভালোবাসাকে সম্মান জানানো হয়।
চিরচেনা
- আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া।
বিশ্বময় ছড়িয়ে দেবো, ভালবাসার গান,
তুমি বিশাল স্বপ্ন-তরু, আমার হৃদিরাজ।
তারকাপুঞ্জে নিখুঁতভাবে, আঁকা তোমার ছবি,
আকাশ পটে, আবীর মাখা লিখছে কেমন কবি।
ঝড়ের তোড়ে, মূর্ছা গেলো বীর প্রতীকের সাধ,
ভেবেছিলাম নরম রোদে, রাখবো আমার হাত,
ইটের ভাঁটা রক্ত মাখা, অগ্নি মুখে বিদ্রোহী,
অবুঝ প্রেমের বাঁধনহারা, মন হলোরে আসামী।
অভিলাষী মন যে, তোমার স্বচ্ছ জলের মতো,
অভিমানী বারিধারা ঝরায় অবিরত।
বাঁধার পাহাড় আপোষহীনা ভীঁড়ের মেলা,
অবোধ নদীর শুষ্ক চরে ভাসবে ভেলা।
জমে উঠুক আকাশ পরে কালোমেঘের ফনা,
ব্যাথার এটম উর্ধ্বে উঠে ছড়াক ত্যাজিকণা,
মিশিয়ে দেয়ার পরে দেখো হৃদয় আস্তানা,
তোমার তরে থাকবে সেজে সতেজ চিরচেনা।
📘 সারাংশ / সারমর্ম
“চিরচেনা” কবিতায় কবি তার প্রিয়জনের প্রতি গভীর ভালোবাসা, আকাঙ্ক্ষা এবং আবেগের প্রকাশ করেছেন। কবি তার হৃদয়ের গভীরতাকে, ভালোবাসার অনুভূতিকে বিশাল স্বপ্নের মতো আকাশের তারকায় আঁকা ছবি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি তার প্রিয়জনকে জীবনের অমূল্য রত্ন মনে করেন, যার ছবি তার হৃদয়ে চিরকাল ধরে থাকবে।
কবিতাতে আছে এক ধরনের যন্ত্রণা ও সংগ্রাম, যেখানে কবি জীবনের কঠিন বাস্তবতার সাথে একে অপরকে জড়িয়ে দেখছেন। কবি কখনো প্রেমের প্যাঁচে আটকে পড়া, কখনো আবার অবুঝ মন দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে না পারার ব্যথা অনুভব করছেন। তার প্রিয়জনের জন্য হৃদয়ে এক চিরচেনা স্থিরতা এবং প্রেমের অব্যক্ত সত্য থাকে, যা তাকে সময়ের সাথে আরো বেশি ঘনীভূত করে তোলে।
কবিতাটি প্রেমের নানা রূপ ও অনুভূতির সংগ্রামে পূর্ণ, যেখানে ভালোবাসার প্রতি এক অকৃত্রিম আনুগত্য এবং এর অস্থিরতা ও যন্ত্রণা এক সঙ্গে মিশে গেছে।
উপন্যাস: ভালোবাসি দিবানিশি
অধ্যায় ৬: সওগাতের পংক্তি ও রমজানের শেষ কবিতা
রমজানের পবিত্রতা তখন চারদিকে ছড়িয়ে। শহরের রাস্তায় দৃষ্টি পড়ে চুড়ি, আতর, কদম ফুল আর খেজুরের স্টলে। মসজিদে মসজিদে তারাবির ধ্বনি, ইফতারের ব্যস্ততা আর আত্মশুদ্ধির মুহূর্তে এক মন খারাপের মানুষ—আরিফ।
সে জানে, “কবিতা “দূরে, অনেক দূরে। কিন্তু তার অনুভবের পরিধি ছাড়িয়ে যায় দেশ, দূরত্ব আর বাস্তবতাকে।
তাই, সে এক পবিত্র কাজ হাতে নেয়—কবিতার জন্য লিখে চলে একের পর এক কবিতা।
একটা করে কবিতা যেন একেকটা মোনাজাত, একটা করে পঙক্তি যেন চোখের অশ্রুর অনুবাদ।
এই কবিতাগুলোই একত্র করে নাম দেয়—"রমজানের সওগাত"।
"সওগাত"—উপহার।
হ্যাঁ, একান্ত নিজের হৃদয়ের শ্রেষ্ঠ উপহার।
শব্দের উপাসনায় সে তুলে আনে কবিতার জন্য হৃদয় নিংড়ানো ব্যথা, প্রার্থনা, ভালোবাসা।
কবিতার খাতায় প্রতিটি ছত্র সে লেখে ভেতরের কষ্টের ছায়া মেখে—
“তোমার চোখের জলে আমার সেহরির শিহরণ,
ইফতারে ঢেউ ওঠে হৃদয়ের রোজা ভাঙায়।”
“কবিতা “হয়তো পড়েছে, হয়তো পড়ে নাই।
তবে আরিফ জানে, সেই কবিতা আর দোয়াগুলো আজও ভেসে বেড়ায় বাতাসে।
তাকে কেউ দেখে না, বোঝে না, তবু সে কাব্য লেখে।
এই লেখাই তার প্রেম, এই লেখাই তার ইবাদত।
চিঠির স্মৃতি:
এক সন্ধ্যায়, রমজানের দশম দিন, আরিফ পায় কবিতার পাঠানো সেই একমাত্র চিঠি।
সেই চিঠি—যেটা ভালোবাসার নয়, একটা বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার শেষ প্রার্থনা।
চিঠিতে লেখা ছিল—
“ভালবেসে কি পেলে জানতে চেয়েছিলে, ব্যাথা ছাড়া আর কিছুই বোধ হয় পাওনি। ক্ষমা চাইছি তার জন্য। কেন যে তুমি আমাকে ভালোবাসতে গেলে?”
আরিফ চিঠিটা পড়েছিল বারবার।
প্রতিবার পড়ার পর চোখ ভিজে গিয়েছিল।
তবু চিঠির শেষে লেখা “ভাল থেকো” শব্দদুটোই তার কাছে হয়ে দাঁড়ায় সবচেয়ে মূল্যবান আশীর্বাদ।
সংলাপের ঝলক:
আরিফ (নিজের সাথে, এক রাতে):
— “তুমি বলেছিলে—তোমার কাছে আব্বা মৃত নয়।
আমি বলি, তুমিও মরে যাওনি। তুমি আছো—এই কবিতার প্রতিটি লাইনে, আমার দোয়ায়, আমার নিঃশ্বাসে।”
আবহ:
এই অধ্যায় শুদ্ধ ভালোবাসার তীর্থভূমি।
এখানে আরিফ প্রেমিক নয়, একজন আরাধক।
যে ভালোবাসাকে প্রাপ্তির হাত থেকে মুক্তি দিয়েছে, তাকে প্রার্থনায় রূপ দিয়েছে।
এটি সেই প্রেম, যা শব্দে বাঁধা হলেও, ঈদের চাঁদ দেখার মতো দূর থেকে দেখা যায়, ছোঁয়া যায় না।
অগোছালো কবিতা
___আরিফ শামছ্
ভালোবাসা,
নীরবে অশ্রু বিসর্জন,
সোনালী স্বপ্ন, আশাতরী ভগ্ন,
হারানোর অর্জন!
আছো বেশ, থেকো সুখে,
শান্তির উপকূলে,
মিষ্টি দিনগুলো, স্মৃতি সুখে,
পুঁজি করে।
বেলা যায়, বেলা যাবে,
অবলার হৃদি চিঁড়ে,
চৈতালী রোদে ফাঁটা,
মন-মাঠ চৌঁচিড়ে।
হৃদি রয় হৃদয়ের
ঠিক তার চারিধারে,
আছে কার সাধ্যি,
ফিরিয়ে নেবে তারে!
কথা নাই কতোদিন,
কথা হয় প্রতিদিন!
বেলাগুলো আমাদের,
সুখকর রাতদিন।
দেহ রয় দেহ হতে,
দূর থেকে বহুদূরে,
দেখা নাই কতোদিন!
দেখা হয় প্রতিদিন।
কারাগার দুইদেশে,
বাস করি আনমনে,
মন খুঁজে মনটারে,
আপনার প্রয়োজনে।
ভাবি ঠিক ক্ষণিকে,
বিজলীর গতিতে,
সুখরেখা আছে কী,
ঠোঁটদ্বয়ের প্রান্তে।
সুখী হও সুখে রও,
এই তো অভিশাপ!
শান্তির নীড়ে রও,
ভূলে সব পরিতাপ।
মাঝে মাঝে ব্যথা হয়,
হৃদয়ের গভীরে,
কী আছে, কী নেই,
বলি কা'রে কী করে!
হৃদয়ের শূন্যতা,
পাবেনা পূর্ণতা,
এই দেখো জীবনের,
অগোছালো কবিতা!
৩১/০৫/২০২৪
মদীনা,
সউদী আরব।
📘 সারাংশ / সারমর্ম
“অগোছালো কবিতা” কবিতায় কবি প্রেম, হারানো আশা এবং জীবনের অস্থিরতা ও যন্ত্রণার একটি জটিল চিত্র তুলে ধরেছেন। কবি প্রেমের ক্ষতির অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন, যেখানে ভালোবাসা নীরবে অশ্রু বিসর্জন এবং সোনালী স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার মাধ্যমে দুঃখের স্বাদ লাভ করছে। তবে কবি প্রিয়জনকে সুখে থাকার শুভেচ্ছা জানিয়ে, অতীতের স্মৃতি নিয়ে শান্তির উপকূলে সান্ত্বনা খোঁজার চেষ্টা করছেন।
কবিতার মধ্যে রয়েছে এক ধরনের মেলাঞ্জ—বয়সের পরিপ্রেক্ষিতে হারানো সম্পর্ক, গভীর অনুভূতিতে পূর্ণ অশ্রু, দেহ-মনের দূরত্ব এবং এক ধরনের অব্যক্ত যন্ত্রণা। কবি মনে করেন, সুখের সময় দ্রুত চলে যায়, আর মাঝে মাঝে ব্যথা হয়, হৃদয়ের গভীরে এক শূন্যতা তৈরি হয়, যা পূর্ণতা পায় না। কবির কাছে জীবনের এই অগোছালো কবিতা এক অপ্রকাশিত অনুভূতির আকার নিয়েছে, যা শুধুমাত্র তার অন্তরে বিরাজমান। কবিতাটির মাধ্যমে কবি তার অন্তরের অস্থিরতা এবং সৃষ্টির অগোছালো কিন্তু আন্তরিক প্রেমের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
উপন্যাস: ভালোবাসি দিবানিশি
অধ্যায় ৭: মাস্টার্স পরীক্ষা ও হৃদয়ের গণিত
মাস্টার্স পরীক্ষার ঠিক আগের দিনগুলোতে আরিফের জীবন যেন একটি ভারসাম্যহীন পাল্লার মতো। একদিকে ভবিষ্যতের দায়িত্ব, আরেকদিকে অতীতের হৃদয়খণ্ডিত স্মৃতি। সে চেষ্টা করে মনোযোগ ধরে রাখতে, বইয়ের পাতায় চোখ রাখে, কিন্তু মনের ভেতর কবিতার মুখচ্ছবি বারবার উদিত হয়, যেন প্রতিটি অনুচ্ছেদে তার নাম লেখা।
ক্যাম্পাসের বিকেল:
জহুরুল হকের পাঠাগার থেকে বের হয়ে আরিফ এক বিকেলে হোস্টেলের দিকে হাঁটছিল। হঠাৎ বন্ধুর ফোন—
"দোস্ত, শুনছিস? কবিতার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে!"
আরিফ থমকে দাঁড়ায়।
পায়ের নিচের ধুলো যেন এক মুহূর্তে উড়ে গিয়ে তাকে শূন্যে রেখে দেয়।
"কার সাথে?"
"ঢাকার মীরপুরের এক প্রতিষ্ঠিত ছেলের সাথে। খুব দ্রুত হবে সব।"
আরিফ কিছু বলে না। ফোনটা কেটে যায়, কিন্তু ভেতরে তার হৃদয়ের সমস্ত সংযোগ যেন থেমে যায়।
রাতের সংলাপ (আত্মকথন):
আরিফ:
“আজ যখন আমি রাত জেগে পড়ার চেষ্টা করছি, ঠিক এই মুহূর্তে হয়তো ওর গায়ে হলুদের প্রস্তুতি চলছে… হ্যাঁ, আমার ভালোবাসার মানুষটিকে আমি কোনদিনের মতো চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেললাম। কিন্তু আমি কী করতে পারতাম?
আমি তো ওর পরিবারের চোখে এক 'সহপাঠী' মাত্র, আর ওর ভাইয়ের চোখে হয়তো এক অসম প্রেমিক।”
আবহ ও বর্ণনা:
সেই রাত আরিফ কাটায় চোখের জলে। ভোরের আলো উঠলেও তার ভেতরটা রয়ে যায় নিঃসাড়, ধূসর।
তবুও সে পরীক্ষা দেয়—কারণ মা বলেছিল,
“বাবা, প্রেম করেছিস—ভালো কথা। কিন্তু নিজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করিস না।”
আরিফ জানে, এখন নিজের বেঁচে থাকার দায়িত্ব তারই। ভালোবাসা চলে গেছে, কিন্তু আত্মসম্মানটা রেখে দিতে হবে।
পরীক্ষার খাতায় লেখা উত্তরগুলোর মাঝে সে খুঁজে ফেরে সেই প্রশ্ন—
“তাকদীর কি সত্যিই এমনই নিষ্ঠুর হয়?”
অধ্যায়ের শেষাংশে অনুভব:
তাকে কেউ ডাকেনি, সে নিজেও আর ডাকেনি।
বিয়ে হয়ে গেলো—বুকের ভেতর একটা নদী চিরতরে শুকিয়ে গেল।
কিন্তু একটা নাম, একটা স্মৃতি, একটা চোখের ভাষা, আর একটা কবিতার খাতা—সে রেখে দিলো চিরদিনের জন্য নিজের ভেতর।
উপন্যাস: ভালোবাসি দিবানিশি
অধ্যায় ৮: ভুলিনি, ভুলতে পারিনি
সময় গড়িয়ে যায়, ক্যালেন্ডারের পাতা বদলায়। কিন্তু কিছু অনুভূতির কোনো মেয়াদ থাকে না—ঠিক যেমন আরিফের ভালোবাসা।
যেদিন থেকে “কবিতা “চিরতরে দূরে চলে গেল, আরিফের হৃদয় যেন আর আগের মতো হাসে না।
তবুও বাইরে থেকে কেউ বুঝবে না।
সে এখন এক সফল পরীক্ষার্থী, সমাজের চোখে সম্ভাবনাময় তরুণ।
কিন্তু অন্তরের আঙিনায় সে আজও এক পরাজিত প্রেমিক—নীরব, নিঃশব্দ, তবুও গভীর ভালোবাসায় পূর্ণ।
একলা রাতের সংলাপ (আত্মকথন):
“তাকে ভুলে যেতে বলো? কাকে? সেই কবিতাকে, যে আমার চোখের ভাষা বোঝার আগেই চোখ নামিয়ে নিতো?
যে একদিন আমার চোখের সামনে দাঁড়িয়ে চাপকল চাপছিল আর বলেছিল, ‘তুমি সামনে অজু করো’,
আর আমি শুধু তাকিয়েছিলাম তার রূপে, তার ভদ্রতায়, তার অলৌকিক শীতলতায়?”
আরিফ আজও মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করে তাকে দেখে।
রমজানে লিখে দেওয়া সেই কবিতাগুলোর পাতাগুলো সে আজও রেখে দিয়েছে যত্ন করে।
"রমজানের সওগাত"—প্রেমের সবচাইতে পবিত্র উপহার, যেটা সে দিয়েছিল কবিতার হৃদয়ের উদ্দেশ্যে।
সে জানে, সেই কবিতাগুলো কেউ পড়ে না, বুঝে না—তবুও এগুলো তার জীবনের সবচেয়ে সত্য অনুভব।
সামাজিক বাস্তবতা ও অন্তর্দাহ:
একদিন ফেসবুকে হঠাৎ কিছু ছবি দেখতে পায় সে।
“কবিতা “এখন পরিবার নিয়ে দুবাই থাকে। সুখী, প্রতিষ্ঠিত।
সে তার প্রোফাইল ব্লক করে দিয়েছে, যেন আরিফ লাইক বা মন্তব্য না করতে পারে।
আরিফ অভিমান করে না।
সে শুধু জানে—
"ভালোবাসা কখনো ফেইসবুক রিঅ্যাকশন চায় না। ভালোবাসা মাপা যায় না রেসিপ্রোকশনে।
ভালোবাসা একতরফা হলেও পবিত্র হতে পারে। আর আমি তো তাকে দিবানিশি ভালোবেসেছি।"
আরিফ জানে, পৃথিবীতে এমন অনেক প্রেম আছে যেগুলোর শুরু হয় কিন্তু সমাপ্তি হয় না।
আর অনেক ভালোবাসা থাকে যা দাফন হয় জীবন্ত হৃদয়ের কবরখানায়।
তার প্রেম, তার কবিতা, তার কষ্ট সবই আজও জীবিত—একান্তই তার নিজের জন্য।
"ভুলিনি, ভুলতে পারিনি। আমৃত্যু পারবো না।
ভালোবাসা আমার জন্য কেবল একটি নাম নয়—এ এক সাধনা।
আর সে সাধনার দেবী কবিতা, চিরদিন আমার হৃদয়-আকাশের পূর্ণিমা হয়ে রবে।"
প্রেম আর ভালোবাসা
___আরিফ শামছ্
দৃষ্টির সীমানায়, হৃদয়ের মোহনায়,
কে এলো? কে যায়?
জান্নাতী সমীরণে, বাসনার ঢেউ ধায়,
চঞ্চলা দোল খায়।
আঁখি দ্বয় তৃপ্ত,অশ্রুতে শিক্ত,
চঞ্চল প্রাণ-মন,
কোন কিছু স্থির নেই,
অস্থির, আনমন।
নাওয়া খাওয়া ভূলে যায়,
চিন্তার শেষ নাই,
সব কিছু এলোমেলো,
নিজেদের ভুলে হায়!
প্রণয়ী চারিপাশে
বারবার দেখা পায়,
কম্পিত মন খুঁজে,
সবকিছু বলি তারে,
কথা লিখে কবিতায়,
ইংগিতে আকারে।
সায় পেলে হবে প্রেম,
না হয় ভালোবাসা।
দু'জনে দু'জনার,
মিলে মিশে একাকার,
সবকিছু হরষে,
ফিরে পায় বারবার।
সুখে সুখ অবিরাম,
জান্নাতী প্রেমে পায়,
মিলেমিশে দুজনের,
জীবনের অভিপ্রায়।
প্রেম রয় কখনো
ইতিহাসের ভাঁগাড়ে,
একপেশে ভালোবাসা,
আজীবন আহারে!
ভালোবেসে ভুলা যায়?
বলিবো কাহারে!!!
মেনে যায় কতোবার,
ভাগ্যের সীমানা,
তুমি কারো হতে পারো,
মন কভু মানেনা।
জানিনা মন তব,
করে কীনা আনচান,
তৃষ্ণায় ছটফটে,
নীরবে আহ্বান।
হৃদয়ের গভীরে,
দগদগে ক্ষতদিয়ে,
ঝরে কতো রক্ত,
দেখাবো কী করে!!!
দু-জনে নির্জনে,
দুঃখে যাতনায়,
আকাশের পানে চাও,
নিবেদন প্রার্থনায়।
উদাসীন নীরবে,
দগ্ধ বারবার,
ভালোবাসা দুজনেই,
চায় শুধু একবার।
০১/০৬/২০২৪ খ্রীঃ
মদীনা,
সউদী আরব।
📘 সারাংশ / সারমর্ম
“প্রেম আর ভালোবাসা” কবিতায় কবি প্রেমের গভীর আবেগ, টানাপোড়েন, প্রত্যাশা ও যন্ত্রণার চিত্র তুলে ধরেছেন। প্রেমের শুরু হয় দৃষ্টির আকর্ষণ আর হৃদয়ের টান থেকে, যা ধীরে ধীরে এক মনোজাগতিক অস্থিরতায় রূপ নেয়। প্রেমে পড়লে মানুষ নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপন ভুলে যায়, সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায়, আর চিন্তা শুধুই প্রিয়জনকে ঘিরে।
প্রেম যখন স্বীকৃতি পায়, তখন তা সুখের উৎস হয়ে ওঠে; দু’জন মানুষের জীবনের অভিপ্রায় মিলেমিশে একাকার হয়। কিন্তু সব প্রেমের পরিণতি হয় না। অনেক ভালোবাসা থেকে যায় একপাক্ষিক, না বলা বেদনায় জমে থাকা ইতিহাসের পাতায়। হৃদয়ের গভীরে যে ক্ষত ও রক্তক্ষরণ ঘটে, তা কেউ দেখে না।
অবশেষে, কবি বোঝাতে চান, প্রেম ও ভালোবাসা চিরকাল নিঃশব্দ এক আকুতি, যা প্রিয়জনের সান্নিধ্য চায় অন্তত একবার—তাতে জীবন পূর্ণতা পায়।
উপন্যাস: ভালোবাসি দিবানিশি
অধ্যায় ৯: কাব্যের কান্না, হৃদয়ের খাতা
ভালোবাসা অনেক রকম হয়—কেউ বলে সেটা সুখের, কেউ বলে যন্ত্রণার।
আরিফের কাছে ভালোবাসা একধরনের শুদ্ধ আরাধনা।
যেটা সে শব্দে, কবিতায়, দীর্ঘশ্বাসে, চুপচাপ চোখের জলে ধরে রেখেছে।
সেই ভালোবাসা রূপ নিয়েছে শত শত কবিতায়।
প্রত্যেকটি কবিতা যেন কবিতার অদৃশ্য প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
কবিতার জন্ম
রাত গভীর হলে, শহরের কোলাহল থেমে গেলে
আরিফ তার হাতের ডায়েরি খুলে বসে।
ডায়েরির পাতায় ছড়িয়ে পড়ে হৃদয়ের রক্তমাখা শব্দগুলো—
“তুমি নেই তবু আছো,
শব্দহীন এক উপস্থিতি হয়ে।
যে ভালোবাসা কখনো বলিনি,
সে-ই তো এখন আমার কবিতা।”
এই কবিতাগুলো শুধু লেখা নয়, এগুলো আরিফের বুক ফাটা চিৎকার।
প্রকাশ করতে পারেনি কবিতার সামনে, তাই কবিতাই হলো তার মুক্তির মাধ্যম।
“রমজানের সওগাত” – সেই উপহার
কবিতাকে একবারই কবিতা উপহার দিয়েছিল—
একটি ক্ষুদ্র পাণ্ডুলিপি, নাম “রমজানের সওগাত”।
সেখানকার প্রতিটি কবিতা ছিল সংযম, ভালোবাসা, হৃদয়ের আকুতি আর আত্মসমর্পণের প্রতিচ্ছবি।
আরিফ জানে না সে এগুলো যত্নে রেখেছে কিনা, কখনো পড়েছে কিনা।
তবুও তার বিশ্বাস—একটা সময় কবিতার হৃদয়ে এই শব্দগুলো কোনো না কোনোভাবে দোলা দিয়েছিল।
কবিতার অনুপস্থিতি, কবিতার নির্ভরতা
আজ “কবিতা “নেই, থাকলেও অধরা।
তবুও কবিতার পাতায় সে রয়ে গেছে চিরস্মৃত হয়ে।
আরিফ ভাবে,
“ভালোবাসার মানুষ হারিয়ে গেলে কেবল স্মৃতি থাকে না,
থাকে তার ছায়া—কবিতার ছায়া, অনুভবের ছায়া।”
কাব্যিক উপলব্ধি
“তাকে আর কিছু বলার নেই,
তবুও প্রতিটি কবিতা তাকে বলেই লেখা।
সে জানে না আমি আজো তার কথা ভাবি,
তবুও সে আমার সকল অনুভবের প্রেরণা।”
আরিফের হৃদয় এখন কাগজে লেখা আবেগ, একা ঘুমের বিছানায় ভিজে বালিশ,
আর কবিতার প্রতি পাতায় উচ্চারিত একটিমাত্র নাম—কবিতা।
আরিফ শামছ্
১৮-জুন-২০২১
হয়তো সেদিন খুঁজবে সবে,
আবার তুমি আসবে কবে?
পরিতাপের ঋণ শোধনে,
ছুটবে সবে কোন্ যতনে।
মরলে পরে কবর গাহে,
অশ্রু ফেলে দোয়া মাগে,
একা ফেলে ফিরে গেহে,
একই সত্য সবাই দেখে।
হারিয়ে মানিক খুঁজে ফিরে,
হেথায় হোথায় জীবন ঘিরে,
আপন পরের দরদ নিয়ে,
অশ্রু মুছে, বিদায় দিয়ে।
বাঁচার সময় হাতটি ধরো,
সুখে দুঃখে ভরসা করো,
সফলতায় জীবন ভরো,
ঋণের ভার হালকা ধরো।
তোমার তুমি সবাই দেখে,
নিজেই যেমন গড়ছো নিজে,
খু্ঁজে পাবে সবার মাঝে,
চলন, বলন, সকল কাজে।
একটু হাসির ঝিলিক ছোঁয়া,
শ্রান্ত মনে শান্তি ছাওয়া,
সবার খুশি সবার দোয়া,
দো-জাহানে পরম পাওয়া।
ঢাকা।
📘 সারাংশ / সারমর্ম
"হয়তো সেদিন" কবিতায় কবি জীবনের অস্থিরতা, হারানো সময় এবং মৃত্যুর পরবর্তী উপলব্ধির কথা তুলে ধরেছেন। কবি মনে করেন, হয়তো একদিন, মানুষ তার প্রিয়জনদের ফিরে পাবে, তবে সেই দিন যখন অনেক কিছু হারানো হয়ে যাবে, তখন শুধুমাত্র দোয়া ও স্মৃতি বেঁচে থাকবে। মৃত্যুর পর আমরা অনেক সময় শোক জানাতে গিয়ে সত্যের সাথে মুখোমুখি হই।
কবিতে কবি মানবজীবনের অস্থিরতা ও পিছুটান, ঋণের ভার এবং পরস্পরের প্রতি দায়বদ্ধতা উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে একে অপরকে ভরসা দিতে হবে, ভালোবাসা, হাসি, শান্তি এবং দোয়ার মাধ্যমে জীবনকে পূর্ণতা দিতে হবে। কবি আশা করেন, আমাদের কর্ম, কথাবার্তা এবং আচরণই ভবিষ্যতের দুনিয়া তৈরি করবে, এবং এই প্রক্রিয়ায় পরম শান্তি পাওয়া যাবে।
এটি একটি দার্শনিক কবিতা, যা জীবনের উদ্দেশ্য, হারানো সময়, পরস্পরের প্রতি দায়িত্ব এবং মৃত্যুর পরবর্তী উপলব্ধির কথা বলে।
উপন্যাস: ভালোবাসি দিবানিশি
অধ্যায় ১০: একটি অশ্রুজলেই সমাপ্ত নয় ভালোবাসা
ভালোবাসা কখনো সময়ের কাছে হেরে যায়,
কখনো সমাজের কাছে,
আবার কখনো হারিয়ে যায় নীরবতার গভীর গহ্বরে।
কিন্তু একবার যদি ভালোবাসা জন্ম নেয় হৃদয়ে—
তাকে কি এত সহজে সমাপ্তি বলা যায়?
বিচ্ছেদের পরে যে শূন্যতা…
“কবিতা “চলে গেছে, বহু দূরে—স্বামীর সংসারে, সন্তানের দায়িত্বে।
আরিফ রয়ে গেছে তার চিরপরিচিত শহরে, কিন্তু এক ভিন্ন ভূগোলে—
যেখানে প্রতি সন্ধ্যা একাকীত্বে ডুবে যায়,
প্রতি সকালে হৃদয়ের গোপন কান্না নিয়ে নতুন দিন শুরু হয়।
ভেতরে-ভেতরে সে জানে,
এই সম্পর্কের “সমাপ্তি” শব্দটা বাহ্যিক—
কারণ মনে আজো কবিতার জন্য জায়গাটা ঠিক আগের মতোই পূর্ণ।
ভালোবাসা মানে কেবল পাওয়া নয়
ভালোবাসা মানেই তো একে অপরকে ধরা, ছোঁয়া, পাশে থাকা নয়।
ভালোবাসা মানে অনুভব—
চোখ বুজে মনে পড়ে যাওয়া,
পুরনো ছবির মতো মনের ফ্রেমে কবিতার হাসি ঝলমল করে ওঠা।
“তুমি নেই আমার পাশে,
তবু প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার অস্তিত্ব।
এই ভালোবাসা মৃত্যু পর্যন্ত রবে,
কারণ এটুকুই তো আমার প্রাপ্তি।”
সম্পর্ক না থাকলেও, অনুভবের অবসান নেই
“কবিতা “হয়তো আর কোনোদিন যোগাযোগ করবে না।
ফেসবুকে ব্লক করা, ছবি লুকিয়ে ফেলা, যোগাযোগ বন্ধ—
এসব বাহ্যিক ব্যবধান আরিফের হৃদয়ের অনুভূতিকে থামাতে পারেনি।
তার প্রতিটি কবিতার অনুপ্রেরণা আজো কবিতা,
তার জীবনের প্রতিটি নিঃসঙ্গ মুহূর্তে সে আজো কবিতাকে খোঁজে—
কখনো তার দেয়া চিঠির বাক্যে,
কখনো সেই ফেনীর বাড়ির স্মৃতিতে,
আবার কখনো শুধুই এক দীর্ঘশ্বাসে।
অনন্ত প্রেমের দাগ
ভালোবাসার মানুষ অনেকেই ভুলে যায়—
আরিফ পারেনি।
ভুলে যেতে চায়নি।
ভুলে যাওয়া তার প্রেমের অপমান মনে হয়।
এই প্রেম ছিল মৌন, নিষ্পাপ, নিঃস্বার্থ।
তাই তো এখনো তার কবিতার বইয়ের পাতায় লেখা থাকে—
“ভালোবাসি দিবানিশি—
তোমার নাম না নিয়েই,
তোমার মুখ মনে রেখেই,
আমার জীবনের একমাত্র কবিতা তুমি।”
স্বপ্নের আর্তনাদ!
---------- আরিফ শামছ্
১৮/০৫/২০১৯ ঈসায়ী সাল
স্বপ্নে আজো স্বপ্নের ব্যবচ্ছেদ,
করে যাও অবিরাম,
টলেনা কী শোনে প্রাণ,
স্বপ্নের আর্তনাদ!
বিশ্বাস ও প্রেমের ফল্গুধারা,
অবিরত বয়তো নদী,
স্বপ্ন পেতো জীবন তাহার,
প্রাণ পিয়াসী হতে যদি।
আকাশ মাঝে খোঁজতে কভু,
চাইনি কভু চাইবোনা,
সুখেই আছো, সুখে থাকো,
বাঁধার দড়ি বাঁধবোনা।
আমায় কেনো স্বপ্ন মাঝে,
হুঁশ-বেহুঁশে ব্যস্ত রও,
লেনাদেনা রয়লে বাকী!
ষোলো আনাই বোঝে লও।
তবু তোমায় রাখতে খুশি,
দেখতে চাহে নয়ন দু'টি,
সুখ সাগরে ভেসে বেড়াও,
সাথে তোমার জুটি।
দূরে থাকো, কাছেই রাখো,
জানতে কভু চাইবোনা।
তোমার গড়া সুখ-ধরাতে,
আপদ কভু রাখবোনা।
জানি তুমি নয়তো দোষী,
আমার ও তা' নয়,
নিয়ন্ত্রনে দেহ তোমার,
মনটা মনের হয়।
প্রাণের সাথে প্রাণের মিলন,
কে ফেরাবে বলো!
দূর বহুদূর, রও যতদূর,
স্বাধীন প্রাণে চলো।
সকাল ১১:৩০
মীরবাগ, ঢাকা।
📘 সারাংশ / সারমর্ম
“স্বপ্নের আর্তনাদ” কবিতায় কবি স্বপ্ন, ভালোবাসা এবং জীবনের অস্পষ্টতার মধ্যে এক গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রকাশ করেছেন। কবি স্বপ্নের মাঝে এক ধরনের যন্ত্রণা অনুভব করছেন, যেখানে আত্মার আর্তনাদ এবং হৃদয়ের অব্যক্ত আকাঙ্ক্ষা প্রতিধ্বনিত হয়। কবি প্রেম, বিশ্বাস এবং জীবনের চাহিদার মাধ্যমে আত্মপরিচয়ের সন্ধানে রয়েছেন, তবে তিনি সেই স্বপ্নের মধ্যে কষ্ট এবং অসহায়ত্ব অনুভব করছেন।
কবির ভাষায়, জীবন এবং সম্পর্কের মাঝে বাঁধা ও অস্থিরতা রয়েছে, যেখানে তিনি কখনো সুখের আশা করেন, আবার কখনো সেই সুখের সাথে বিরুদ্ধতায় থাকেন। কবি প্রিয়জনকে কাছে রাখতে চান, তবে সাথেই স্বাধীনতা ও পরস্পরের স্বাধীনতা এবং আত্মবিশ্বাসের গুরুত্ব দেন। কবি জানান, আত্মা এবং মন যখন একত্রিত হয়, তখনই জীবনের পূর্ণতা আসে। তবে সে পূর্ণতা অর্জনের পথে নানা বাধা ও অনিশ্চয়তা রয়েছে, যার মধ্যে কষ্টের স্বপ্ন এবং পরস্পরের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টি উঠে আসে।
কবিতাটি জীবনের অব্যক্ত স্বপ্নের আর্তনাদ এবং মানবিক সম্পর্কের ভিতরের দ্বন্দ্ব ও আশা-নিরাশার চিত্র।
উপন্যাস: ভালোবাসি দিবানিশি
অধ্যায় ১১: চিঠির ছায়া, কবিতার আলো
ফিরে দেখা—একটি চিঠি, একটি জীবন
রাত গভীর।
আরিফ নিঃশব্দে নিজের ছোট্ট বুকশেলফ থেকে একটা পুরনো খাম টেনে নেয়।
ধূলি জমেছে ওপরে।
কিন্তু ভেতরের চিঠিটা ঠিক আগের মতোই স্পষ্ট, জীবন্ত—
কবিতার লেখা প্রথম এবং একমাত্র হাতে লেখা চিঠি।
খাম খুলতেই পুরোনো আতর-গন্ধে এক মুহূর্তে ঘরভর্তি হয়ে ওঠে কবিতার উপস্থিতি।
আরিফ চোখ বন্ধ করে… শুনতে পায় সেই কণ্ঠস্বর—
“বিয়ের ব্যাপারে আর প্রশ্ন করোনা। এটা আমার পক্ষে কখনো সম্ভব হবেনা…”
“তুমি না এসে পারলে?”
“ভালবেসে কি পেলে জানতে চেয়েছিলে, ব্যাথা ছাড়া আর কিছুই বোধ হয় পাওনি…”
চোখের কোণে একফোঁটা জল ঝরে পড়ে।
প্রতিজ্ঞা—ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখা
চিঠির প্রতিটি বাক্য যেন রক্তে লেখা,
প্রেম নয়—একটা সংগ্রামের ইতিহাস।
আরিফ জানে, সে তো কারো সংসার ভাঙতে চায়নি,
সে তো শুধু চেয়েছিল একটা জীবন—
যেখানে তারা দুজন হাঁটবে একসাথে, হাতে হাত রেখে, সমাজের ভয় না পেয়ে।
তা হয়নি—হতেই দেয়নি নিয়তি।
কিন্তু আজ আরিফ সিদ্ধান্ত নেয়,
এই চিঠি আর এই প্রেম সে আর নিজের ভেতরে আটকে রাখবে না।
সে কলম হাতে নেয়, তার কবিতার খাতাটা সামনে খুলে বসে।
চিঠির প্রতিটি বাক্য থেকে জন্ম নেয় একেকটি নতুন কবিতা—
চুপ থাকা কথাগুলোর সুর তুলে ধরে।
“চিঠির অক্ষরে তুমি ছিলে,
আমি ছিলাম ফাঁকা লাইনের নিচে—
আজ সব কথা জুড়ে দিলাম কাব্যে,
প্রেমের ইতিহাস এবার প্রকাশ্যে।”
‘ভালোবাসি দিবানিশি’—শুধু তার নয়, সবার জন্য
আরিফ সিদ্ধান্ত নেয়, সে এবার এই গল্প, এই ভালোবাসা প্রকাশ করবে—
একটা বই হবে,
নাম হবে “ভালোবাসি দিবানিশি”।
একটা না বলা প্রেমের ইতিহাস—
যা বলবে সমাজের চাপে না বলা অসংখ্য হৃদয়ের কথা।
সে জানে, “কবিতা “কখনো আর ফিরবে না।
কিন্তু সে থাকবে, এই গল্পে, এই কবিতায়, এই চিঠির ভাঁজে—
চিরকাল, চিরদিন।
উপসংহার
ভালোবাসা সবসময় না-পাওয়ার মধ্যে নয়,
ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে সেই চিঠির পাতায়,
সেই অপেক্ষার নিঃশ্বাসে,
সেই মনের কান্নায় যা কেউ দেখে না।
আরিফের এই উপন্যাস শেষ হয় না,
কারণ সে জানে—প্রেমের কোনো শেষ নেই।
“যদি আর দেখা না হয়,
এই চিঠিটুকুই সাক্ষ্য রাখবে—
আমি তোমায় ভালোবেসেছিলাম, দিবানিশি।”
নিজের পথ দেখা; না দেখার তাগিদে অ-প্রেম।
লক্ষ-কোটি অগণিত তারাদের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া,
ব্যর্থ নাকি অব্যর্থ প্রেম, ফলাফল যেরূপ চির-চেনা।
কত দল-উপদল আজো লড়ে; স্বার্থকতা প্রেমের কিসে?
পাওয়া না পাওয়ার দু’দল; অবিরাম সান্ত্বনা খুঁজে,
প্রাপ্তিতে সুখ বলে কেউ, অ-প্রাপ্তিতেই মিলে স্বার্থকতা;
যারে ভাল বাসি তা’রে নিয়ে; লেখা হয় কত কথা!!
নাইবা যদি পারো তুমি, হৃদয় হতে মুছে দিতে,
ফিরিয়ে দিবে কিন্তু কেন? কাঁপা কাঁপা নিঠুর হাতে।
চোখের ‘পরে চোখ রেখে তাও; বলতে পার নাকো!!
গুমরে জাগে সুপ্ত-গিরি, তবু নীরব কেনো?
হিসাব-নিকাশ, লাভ-ক্ষতি কি তোমার কষা হলো,
অভিমানে হারিয়ে যাওয়া, জীবন খানি কত ???
তারপরও কি বেশী দামী, তোমার চাওয়া-পাওয়া?
নীলাকাশে মাখিয়ে দিলে, আমার ভালবাসা !!!
--আরিফ শামছ
রাত ১২ টা ২৫ মিনিট;
১৮.০২.২০১৬;
বৃহঃস্পতিবার;
সোনালীবাগ,
বড়-মগবাজার,রমনা,ঢাকা।
কবি আরিফ শামছ তাঁর এই কবিতায় প্রেম, ভালোবাসা এবং হারানোর গভীর অনুভূতি তুলে ধরেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন — ভাললাগা, ভালবাসা, না চিরন্তন প্রেম— কোনটা প্রকৃত? প্রেমে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির দ্বন্দ্ব, আত্মসমর্পণ আর প্রত্যাখ্যান, আর তারই মাঝে মানব হৃদয়ের চিরন্তন আকুলতা প্রকাশ পেয়েছে।
তারাদের মতো অসংখ্য মানুষের মাঝে এক বিশেষ মানুষকে খুঁজে পাওয়া, তাকে ভালোবাসা, কিন্তু তবু তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া — এই অভিজ্ঞতা কবিকে তীব্র আবেগে আচ্ছন্ন করেছে। তবু প্রেম কি ব্যর্থ? না কি তার মাঝেও থাকে এক ধরনের সার্থকতা? কেউ বলে প্রাপ্তিতেই সুখ, কেউবা বলে অপ্রাপ্তিতেই আছে গভীর অর্থ।
কবি তাঁর ভালোবাসার মানুষকে ভুলতে না পারার যন্ত্রণায় কাতর, কিন্তু তবুও সে ফিরে আসবে না — এই নিষ্ঠুর বাস্তবতাও কবি কবিতায় তুলে ধরেছেন। প্রেমের হিসাব-নিকাশে হারিয়ে যাওয়া জীবনের মূল্যবান সময়, আর তার বিপরীতে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার নিঃসীম বিস্তার — সব মিলিয়ে কবি এক গভীর প্রেমবোধ, বেদনা ও আত্মসমর্পণের চিত্র আঁকেন।
মূল বক্তব্য:
ভালোবাসা শুধু পাওয়ার নয়, কখনো না পাওয়ার মধ্যেও এক ধরনের গভীর সার্থকতা আছে। আর সেই প্রেম হৃদয়ে রয়ে যায়, নীলাকাশের মতো বিশাল হয়ে — চির-অম্লান, চির-জীবন্ত।
১৪০। ভুলে যেতে চাই
অগোছালো কবিতা _আরিফ শামছ্
নীরবে অশ্রু বিসর্জন,
সোনালী স্বপ্ন, আশাতরী ভগ্ন,
হারানোর অর্জন!
আছো বেশ, থেকো সুখে,
শান্তির উপকূলে,
মিষ্টি দিনগুলো, স্মৃতি সুখে,
পুঁজি করে।
বেলা যায়, বেলা যাবে,
অবলার হৃদি চিঁড়ে,
চৈতালী রোদে ফাঁটা,
মন-মাঠ চৌঁচিড়ে।
হৃদি রয় হৃদয়ের
ঠিক তার চারিধারে,
আছে কার সাধ্যি,
ফিরিয়ে নেবে তারে!
কথা নাই কতোদিন,
কথা হয় প্রতিদিন!
বেলাগুলো আমাদের,
সুখকর রাতদিন।
দেহ রয় দেহ হতে,
দূর থেকে বহুদূরে,
দেখা নাই কতোদিন!
দেখা হয় প্রতিদিন।
কারাগার দুইদেশে,
বাস করি আনমনে,
মন খুঁজে মনটারে,
আপনার প্রয়োজনে।
ভাবি ঠিক ক্ষণিকে,
বিজলীর গতিতে,
সুখরেখা আছে কী,
ঠোঁটদ্বয়ের প্রান্তে।
সুখী হও সুখে রও,
এই তো অভিশাপ!
শান্তির নীড়ে রও,
ভূলে সব পরিতাপ।
মাঝে মাঝে ব্যথা হয়,
হৃদয়ের গভীরে,
কী আছে, কী নেই,
বলি কা'রে কী করে!
হৃদয়ের শূন্যতা,
পাবেনা পূর্ণতা,
এই দেখো জীবনের,
অগোছালো কবিতা!
৩১/০৫/২০২৪
মদীনা,
সউদী আরব।
এই কবিতাটি—"অগোছালো কবিতা"—নামে ঠিক যেমন, অনুভবেও তেমন। যেন একজন মানুষ নিজের ভেতরের অগোছালো ব্যথাগুলো কাগজে ছড়িয়ে দিয়েছে, বিনা সাজে, বিনা বাঁধনে, অথচ একেবারে সত্যি।
“ভালোবাসা,
নীরবে অশ্রু বিসর্জন,
সোনালী স্বপ্ন, আশাতরী ভগ্ন,
হারানোর অর্জন!”
এই চারটি লাইনেই পুরোটাই ধরা—প্রেমের নিরবতা, কষ্ট, প্রত্যাশার ভাঙাচোরা বাস্তবতা।
আর এইটা—
"দেহ রয় দেহ হতে,
দূর থেকে বহুদূরে,
দেখা নাই কতোদিন!
দেখা হয় প্রতিদিন।"
এটা এমন একটা অনুভূতির প্রকাশ, যা কেবল কেউ হারিয়ে ফেলেছে বলেই বুঝতে পারে।
আপনার কবিতাগুলো শুধু ব্যথা নয়—এই ব্যথাকে সাহস করে কবিতায় রূপান্তর করার এক অসাধারণ মানসিক শক্তির প্রকাশ।
-------------------
১৪১। বাবুই পাখির মা
আরিফ শামছ্
১০/০৬/২০২১
অর্ধাঙ্গিনীর আপন মা তাই,
ভূলে গেলে আমায়!
স্নেহাদরের নেই তুলনা,
এখন খুঁজে পায়!
নিরাক পড়া ভর দুপুরে,
একলা বিকেলে,
কত স্মৃতি মনে পড়ে,
হর্ষ-বিষাদে।
বাবার কথা আসলে তুমি,
বলতে আমিই বাবা,
বাবা-মায়ের পুরো আদর,
পাবে সবি বাবা।
সত্যি মাগো, এত্তো আদর,
কেমন করে পাবো!
তুমি ও নাই, বাবা ও নাই,
আমরা কোথায় যাবো!
"জামাই! আসবেন কবে"?
এমন করে খোঁজে,
খবর পেলেই বলতে ফোনে,
"এসো সকাল, সাঁঝে"।
ভাদুঘর কতো যায় যে মাগো,
ডাকেনা তো কেউ,
কোথায় আছেন, আসবেন কখন,
বলেনা তো কেউ।
জানালার ঐ কোনে বসে,
অধীর আগ্রহে,
জামাই তোমার আসলো বুঝি,
খুঁজতে বারে বারে!
কোথায় পাবো খুঁজে মাগো?
কেমন আছো মা?
জামাই বলে তোমার মতো,
কেউতো ডাকেনা!
দরদভরা হৃদয়-মনে,
সহজ সরল সম্ভাষণে,
"বাবুই পাখি" সম্বোধনে ,
আর পাবোনা ঘরের কোণে।
ঈদের ছুটি, শীতের ছুটি,
গ্রীষ্মকালে ফলের ছুটি,
'আসবে কবে?কবে ছুটি'?
ডাকবেনা মা আর কী তুমি!
চলছে সবি আগের মতো,
তুমি শুধু নেই,
তোমার বাড়ি আজো আছে,
প্রাণযে তাহার নেই।
মাগো তুমি থেকো সুখে ,
জান্নাতীদের দলে।
আসবো ফিরে সবাই মিলে,
আবার সদলবলে।
মর্জিনা মঞ্জিল
নয়াটোলা, মীরবাগ, ঢাকা।
****************
আপনার “বাবুই পাখির মা” কবিতাটি মূলত শোক, স্মৃতি, পারিবারিক স্নেহ, শাশুড়ি-মা ও জামাইয়ের মানবিক সম্পর্ক, এবং অনুপস্থিতির বেদনা—এসবের এক আবেগঘন দলিল। এটি ব্যক্তিগত স্মৃতিকে সার্বজনীন অনুভূতিতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। নিচে সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর বিশ্লেষণ দিচ্ছি—
কাব্যিকতা ও আবেগের শক্তি
কবিতাটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ। এখানে কৃত্রিমতা নেই; বরং স্মৃতি ও শূন্যতার সরাসরি প্রকাশ আছে।
“তুমি ও নাই, বাবা ও নাই, / আমরা কোথায় যাবো!”
—এই লাইনগুলো পারিবারিক আশ্রয় হারানোর গভীর শূন্যতাকে অত্যন্ত সহজভাবে প্রকাশ করেছে।
“বাবুই পাখি” সম্বোধনটি কবিতার কেন্দ্রীয় প্রতীক। এটি শুধু একটি ডাক নয়, বরং স্নেহ, আশ্রয়, ঘর, সম্পর্ক ও হারিয়ে যাওয়া সময়ের রূপক।
সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
এই কবিতাটি স্মৃতিকাতর (nostalgic) ও শোকধর্মী পারিবারিক কবিতা। এর গঠন কয়েকটি আবেগিক স্তরে এগিয়েছে—
১. হারানোর উপলব্ধি
২. স্মৃতিচারণ
৩. সম্পর্কের উষ্ণতা পুনরুদ্ধার
৪. শূন্যতার মুখোমুখি হওয়া
৫. পরকালীন পুনর্মিলনের আশা
এখানে কথোপকথনধর্মী ভঙ্গি কবিতাকে জীবন্ত করেছে। “জামাই! আসবেন কবে?”—এই ধরনের সংলাপ পাঠককে দৃশ্যের ভেতরে নিয়ে যায়।
প্রতীক ও চিত্রকল্প
- “বাবুই পাখি” → স্নেহময় পরিচয়, ঘর, মায়া ও কোমলতার প্রতীক
- জানালার কোণে বসে থাকা → অপেক্ষা ও প্রত্যাশার চিত্র
- ফলের ছুটি, ঈদের ছুটি → পারিবারিক পুনর্মিলনের সাংস্কৃতিক স্মৃতি
এগুলো কবিতাকে ব্যক্তিগত স্মৃতির বাইরে সামাজিক বাস্তবতায় যুক্ত করেছে।
সমালোচনা ও পর্যালোচনা
শক্তির জায়গা:
- আন্তরিকতা খুব প্রবল
- ভাষা সহজ ও হৃদয়গ্রাহী
- পারিবারিক সম্পর্কের উষ্ণতা স্পষ্ট
আরও উন্নয়নের জায়গা:
- কিছু লাইনে পুনরাবৃত্তি আছে, সেগুলো সংক্ষিপ্ত করলে ঘনত্ব বাড়বে
- কয়েকটি অংশে মাত্রা/ছন্দ অসম, সেটি শোধরালে আবৃত্তিযোগ্যতা আরও বাড়বে
- কিছু প্রতীক আরও বিস্তৃত করা গেলে সাহিত্যিক গভীরতা বাড়তে পারে
মানব জীবনে তাৎপর্য
এই কবিতা মনে করিয়ে দেয়—
- মানুষ চলে যায়, কিন্তু তার ব্যবহার থেকে যায়
- আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্তের বাইরেও গড়ে ওঠে
- শোক শুধু কান্না নয়, স্মৃতি সংরক্ষণেরও একটি পথ
- বয়োজ্যেষ্ঠদের উপস্থিতি পরিবারের আবেগিক কেন্দ্র
বিশেষত্ব
এই কবিতার বিশেষত্ব হলো—
শাশুড়ি-মা ও জামাইয়ের সম্পর্ককে এত মানবিক, স্নেহপূর্ণ ও ব্যক্তিগতভাবে তুলে ধরা বাংলা কবিতায় খুব বেশি দেখা যায় না। এই দিকটি কবিতাটিকে আলাদা পরিচয় দেয়।
সারমর্ম
“বাবুই পাখির মা” একটি স্মৃতি-নির্ভর, আবেগঘন ও পারিবারিক শোককবিতা, যেখানে হারিয়ে যাওয়া একজন মমতাময়ী মানুষের অনুপস্থিতি শুধু একজন ব্যক্তির নয়, পুরো পরিবারের শূন্যতা হয়ে উঠেছে। কবিতার প্রাণ তার সরলতা, আন্তরিকতা ও স্মৃতির গভীরতায়।
------------------
ভালবাসি দিবা-নিশি _সূচীপত্র
১৫১। স্রষ্টার অবদান
১৫১। স্রষ্টার অবদান আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) সরবে নীরবে,করজোড়ে, ভালোবাসি তোমারে, পরম পুলকে, শ্রদ্ধাভরে, ভাবি নীরালায়, ভীষণ করে, ব...
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ
-
সাহিত্যের জাগরণ "সাপ্তাহিক সেরা সাত" আসসালামু আলাইকুম। "সাহিত্য হোক নতুনত্বের বারিধারা- সাহিত্য হোক সৎ সভ্যতার কথা বলা।...
-
হামাস-ইসরায়েল সংঘাত, আরেকটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্ব? | Israel-palestine Crisis ফিলিস্তিনি-ইসরাইল নতুন যুদ্ধ || প্রতিশোধ নেও...
-
বিশ্বব্যাপী স্ট্রোক একটি প্রধান মৃত্যুর কারণ, এবং কাজের সম্পর্কিত কারণে এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ঘটে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আন্ত...
-
-Ariful Islam Bhuiyan. I love him who is my creator, Guardian & well wisher. I have no qualification for placing my obediency to p...
-
চ্যাটজিপিটি কি? চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) হল একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক ভাষা মডেল, যা OpenAI দ্বারা উন্নয়ন করা হয়েছে। এটি GPT (Generat...
-
ChatGpt: এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) হল এমন একটি প্রযুক্তি, যা কম্পিউটার এবং মেশিনকে মানুষের মতো চিন্তা করতে, ...
-
মন মাতানো, প্রাণ জুড়ানো, গান শোনো, ক্লান্তি দূরে, শ্রান্তি পাবে, শান্তি পাবে জানো। --আরিফ শামছ্ shorts/74cqSa9OJUg?si=8CEXnpPjnRqGkU3f জন্...
-
ভালোবাসার শ্বেতপত্র -----আরিফ শামছ্ বড়ই সৌভাগ্যবান, তুমি হয়েছো যার, তাঁর মতো করে, রাখতে পারবোনা বলেই, স্রষ্টার সম্মতি ছিলোনা পক্ষে আমার। ...
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ
-
পথ হারিয়ে যাওয়া আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) মন মুকুরে ওঠে পড়ে একটি দারুণ ছবি, দিনদুপুরে সন্ধ্যারাতে দেখছি কেমন সবি। নয়ন খুলে দেখে ...
-
১০৩। সাধনার মানবী আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) প্রচন্ড লোভ আমার তোমাকে দেখার, তোমার তরে লিখে এ কবিমন খুঁজে পাই শান্তি অপার। ক্লান্ত...
-
কবিতাটির সারাংশ বা সারমর্ম চাই প্রেম আর ভালোবাসা ___আরিফ শামছ্ দৃষ্টির সীমানায়, হৃদয়ের মোহনায়, কে এলো? কে যায়? জান্নাতী সমীরণে, বাসনার ঢেউ ...
-
ভুলে যেতে চাই আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) আমি চাই, ভুলে যেতে— তোমার স্মৃতিগুলো দূরে ঠেলে দিতে, কিন্তু এই অবুঝ মন বারবার ফিরে যায়, মোহময...
-
বারুদের জবাব আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) জ্বালাময়ী বক্তৃতা, স্লোগান আর মিছিল নয়, প্রতিবাদী-গণমিছিল, দুর্বল নিন্দে আর কী হয়? তোমাদে...
-
ঈদযাত্রা: মহাসড়কে যাত্রীর চাপ, বৃষ্টিতে ভোগান্তি “শৃঙ্খলা মানে নিরাপত্তা, নিয়ম মানে স্বস্তি” ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক, শহর, বাজ...
-
১৫০। ফিরতেই হবে আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) আজো মেঘ ডাকে গুরুগম্ভীর স্বরে, বৃষ্টিরা নামে বাতাসে ভর করে। কী বার্তা পড়িয়ে শোনায়, মর্ম...
-
১৪৯। আদর্শ বাবা আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) "মেজু মিঞা ডাকবে 'বাবা', 'বাজান' বড় মিঞা, 'আব্বা' বলে ডাকবে...
-
ভালোবাসা আর ভালো থাকা আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) ধরাতলে ভালোবেসে নেইরে ভালো, ভালো আছে দূরে থেকে অনেক দেখো, ভালোবেসে ভালো থাকা হয়ন...
-
স্মৃতির পোস্ট-মর্টেম আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) স্মৃতির আকাশ পাতাল, এপার ওপার, সব দখলে তোমার, কোথাও সূর্য হাসে, পুঞ্জ মেঘ ভাসে, স...
জনপ্রিয় পোষ্টগুলি:
-
ঈদযাত্রা: মহাসড়কে যাত্রীর চাপ, বৃষ্টিতে ভোগান্তি “শৃঙ্খলা মানে নিরাপত্তা, নিয়ম মানে স্বস্তি” ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক, শহর, বাজ...
-
পথ হারিয়ে যাওয়া আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) মন মুকুরে ওঠে পড়ে একটি দারুণ ছবি, দিনদুপুরে সন্ধ্যারাতে দেখছি কেমন সবি। নয়ন খুলে দেখে ...
-
স্মৃতির পোস্ট-মর্টেম আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) স্মৃতির আকাশ পাতাল, এপার ওপার, সব দখলে তোমার, কোথাও সূর্য হাসে, পুঞ্জ মেঘ ভাসে, স...
-
শিক্ষক সংকট নিরসনে ১ম–১২তম নিবন্ধনধারীদের বিষয়ে বাস্তবমুখী প্রস্তাবনা প্রস্তাবক: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) ১ম শিক্ষক নিবন্ধনধারী প্রে...
-
১০৩। সাধনার মানবী আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) প্রচন্ড লোভ আমার তোমাকে দেখার, তোমার তরে লিখে এ কবিমন খুঁজে পাই শান্তি অপার। ক্লান্ত...
-
আসনবিহীন ও আসনসহ ট্রেন টিকিটের সমান মূল্য: বাংলাদেশ রেলব্যবস্থায় ন্যায্যতা, মানবাধিকার, ভোক্তাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আলোকে একটি বিশ্...
-
শিশু ও নারী নির্যাতন : সভ্যতার মুখে রক্তাক্ত কলঙ্ক বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের ভয়াবহ বাস্তবতা, কারণ, ফলাফল ও মানবতার আর্তনাদ লেখক: আরিফুল ইসল...
-
১১৭। এই পৃথিবীর আর্তনাদ! আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) পৃথিবীর আলো বাতাস, প্রকৃতির অকৃপণ দানে, হয়েছো বড়ো অনেক, শাসক, রাজা, সম্রাট মা...
-
ভালোবাসা আর ভালো থাকা আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) ধরাতলে ভালোবেসে নেইরে ভালো, ভালো আছে দূরে থেকে অনেক দেখো, ভালোবেসে ভালো থাকা হয়ন...
-
কবিতাটির সারাংশ বা সারমর্ম চাই প্রেম আর ভালোবাসা ___আরিফ শামছ্ দৃষ্টির সীমানায়, হৃদয়ের মোহনায়, কে এলো? কে যায়? জান্নাতী সমীরণে, বাসনার ঢেউ ...
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ
-
ভালোবাসার শ্বেতপত্র -----আরিফ শামছ্ বড়ই সৌভাগ্যবান, তুমি হয়েছো যার, তাঁর মতো করে, রাখতে পারবোনা বলেই, স্রষ্টার সম্মতি ছিলোনা পক্ষে আমার। ...
-
সকল ধর্মমতে আল্লাহর পরিচয়, প্রয়োজনীয়তা এবং সৃষ্টির বিস্তারিত ইতিহাস। উনি কি এখনও সৃষ্টিশীল কাজ করেন? জবাব: অসাধারণ প্রশ্ন করেছেন — এটি ধর...
-
ঈদযাত্রা: মহাসড়কে যাত্রীর চাপ, বৃষ্টিতে ভোগান্তি “শৃঙ্খলা মানে নিরাপত্তা, নিয়ম মানে স্বস্তি” ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক, শহর, বাজ...
-
উপন্যাস: ভালোবাসি দিবানিশি অধ্যায় ১: প্রথম দেখা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি অনার্স কলেজের ভর্তি কার্যক্রমের দিন। কলেজ চত্বরে উৎসবের আমেজ। ছেল...
-
পৃথিবীর সমস্ত মহাসাগরের নিচেই পাহাড় ও পর্বতশ্রেণী রয়েছে, তবে প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean) -এর নিচে সবচেয়ে বেশি পর্বতমালা ও আগ্নেয়গিরি রয়...
-
সকল আধ্যাত্মিক বিষযগুলো সকল বাস্তব বিষয়ে পরিপূর্ণতা আনে। আধ্যাত্মিকের বিষয়ে সকলের উদাসীনতা, অবহেলা কেনো? এর পিছনে কাদের এবং কিসের ষড়যন্ত্র? ...
-
পথ হারিয়ে যাওয়া আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) মন মুকুরে ওঠে পড়ে একটি দারুণ ছবি, দিনদুপুরে সন্ধ্যারাতে দেখছি কেমন সবি। নয়ন খুলে দেখে ...
-
প্রশ্নটি প্রতিশোধ বা সহিংসতার পক্ষে নয়, বরং খুনের রাজনীতি বন্ধ করে সত্য, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার পথ জানতে চাওয়া—এটা খুবই গুরুত্বপূর...
-
তুমি আসবে বলে আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া। (আরিফ শামছ্) আমার আকাশে নেই মেঘের আনাগোনা, নেই বিদ্যুৎ চমকানোর ঘনঘটা, সুস্পষ্ট নীল আসমান ন...
-
কবিতাটির সারাংশ বা সারমর্ম চাই প্রেম আর ভালোবাসা ___আরিফ শামছ্ দৃষ্টির সীমানায়, হৃদয়ের মোহনায়, কে এলো? কে যায়? জান্নাতী সমীরণে, বাসনার ঢেউ ...


