বুধবার, মার্চ ২৫, ২০২৬

কবি ও কবিতা


— আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)

মানুষের জীবনে কিছু নাম থাকে—যেগুলো শুধু নাম নয়, একেকটা ঋতু।
কবির জীবনে সেই নামটি ছিল—কবিতা।
অনেক বছর আগে, এক বিকেলের আলোয় তাদের পরিচয় হয়েছিল। কলেজ ক্যাম্পাসে শিউলি ফুল পড়ে ছিল, বাতাসে ছিল তরুণ বয়সের স্বপ্ন। কবি তখন বুঝতে পারেনি, সেই দিনের হাসি একদিন তার সমগ্র জীবনের নীরব ব্যথা হয়ে থাকবে।
কবিতা খুব সাধারণ মেয়ে ছিল না।
তার চোখে ছিল নদীর মতো গভীরতা, কথায় ছিল অদ্ভুত শান্তি। সে যখন কথা বলত, মনে হতো পৃথিবীর সব শব্দ যেন একটু থেমে যায়।
কবি তখনই বুঝেছিল—
সে হারিয়ে গেছে।

ধীরে ধীরে তাদের বন্ধুত্ব এক অদৃশ্য আলোর মধ্যে ঢুকে গেল। কেউ কাউকে বড় বড় কথা বলেনি। “ভালোবাসি” শব্দটাও খুব বেশি উচ্চারিত হয়নি।
তবু দুজনেই জানত—
তারা একে অপরের।
কিন্তু পৃথিবী সবসময় প্রেমিকদের জন্য তৈরি হয় না।
বাস্তবতা একদিন দরজায় এসে দাঁড়াল।
দুই পরিবার, সামাজিক অবস্থান, ভবিষ্যতের হিসাব—সব মিলিয়ে তাদের সামনে এক কঠিন সিদ্ধান্ত এসে পড়ল।
কেউ বিদ্রোহ করল না।
কেউ নাটকীয়ভাবে পৃথিবী ভাঙার শপথ নিল না।
শুধু একদিন নীরবে তারা আলাদা হয়ে গেল।
সময় তারপর তার নিজের পথে হাঁটতে লাগল।
বছর কেটে গেল।

কবিতা এখন অন্য এক জীবনের মানুষ।
স্বামী আছে।
সন্তান আছে।
একটি পূর্ণ সংসার।
কবি নিজেও এখন এক সংসারের মানুষ।
তার স্ত্রী আছে।
সন্তান আছে।
বাইরের পৃথিবী থেকে দেখলে—সবকিছুই স্বাভাবিক।
কিন্তু মানুষের হৃদয় কি কখনো পুরোপুরি সামাজিক নিয়ম মেনে চলে?
রাতের নীরবতায় কখনো কখনো কবি নিজের ভেতরে একটি প্রশ্ন শুনতে পায়।
সে কি সত্যিই মুক্ত?
তার স্ত্রী তাকে ভালোবাসে।
তার সন্তান তার পৃথিবী।
তবু হৃদয়ের গভীরে কোথাও একটি নাম এখনো নিঃশব্দে জেগে থাকে—
কবিতা।
কবির মনে হয়, কবিতার প্রেম যেন তার হৃদয়ের জমিতে এক মহীরুহ হয়ে গেছে।
সময়ের ঝড় গেছে।
বছরের বৃষ্টি গেছে।
তবু সেই বৃক্ষের শিকড় আরও গভীরে ঢুকে গেছে।
এই সত্য কখনো কখনো তাকে ভয় পাইয়ে দেয়।

সে নিজেকেই প্রশ্ন করে—
সব প্রেমিক কি একসময় ব্যর্থ প্রেমিক হয়ে যায়?
আর তারপর কি তারা নিজেদের অজান্তেই স্ত্রীর কাছে ভণ্ড বা প্রতারক স্বামী হয়ে ওঠে?
কবি জানে—সে প্রতারণা করতে চায় না।
সে তার স্ত্রীকে অসম্মান করতে চায় না।
সে তার সংসার ভাঙতে চায় না।
তবু হৃদয়ের ইতিহাস কি কখনো মুছে ফেলা যায়?
একদিন রাতে কবি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল।
আকাশে চাঁদ উঠেছে।
তার ছেলে ঘুমিয়ে গেছে।
স্ত্রী রান্নাঘরে ব্যস্ত।
হঠাৎ কবির মনে হলো—
মানুষের জীবনে দুটি সত্য থাকে।
একটি বাস্তবতা।
আরেকটি স্মৃতি।
বাস্তবতা আমাদের জীবন চালায়।
আর স্মৃতি আমাদের আত্মাকে ধরে রাখে।
কবিতা এখন তার জীবনের বাস্তবতা নয়।
কিন্তু সে তার আত্মার একটি নীরব অধ্যায়।
কবি দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
তারপর ঘরে ফিরে গেল।
তার সন্তানকে জড়িয়ে ধরল।
তার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে হাসল।
কারণ সে জানে—
মানুষের জীবনে সব ভালোবাসা একসাথে বাঁচে না।
কিছু ভালোবাসা সংসার হয়ে ওঠে।
আর কিছু ভালোবাসা—
শুধু কবিতা হয়ে থাকে।

--------সমাপ্ত-------
 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Heartfelt Thanks for your valuable comments.

বিপ্লবী ০১

বিপ্লবী ০১
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ০২

বিপ্লবী ০২
ARIFUL ISLAM BHUIYAN (Arif Shams)

বিপ্লবী ০৩

বিপ্লবী ০৩
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ০৪

বিপ্লবী ০৪
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ০৫

বিপ্লবী ০৫
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ০৬

বিপ্লবী ০৬
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ০৭

বিপ্লবী ০৭
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ০৮

বিপ্লবী ০৮
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ০৯

বিপ্লবী ০৯
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১০

বিপ্লবী ১০
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১১

বিপ্লবী ১১
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১২

বিপ্লবী ১২
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১৩

বিপ্লবী ১৩
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১৪

বিপ্লবী ১৪
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১৪

বিপ্লবী ১৪
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১৫

বিপ্লবী ১৫
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১৬

বিপ্লবী ১৬
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১৭

বিপ্লবী ১৮

বিপ্লবী ১৮
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১৯

বিপ্লবী ১৯
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ২০

বিপ্লবী ২০
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ২১

বিপ্লবী ২১
আরিফ শামছ্

সাধনার মানবী

সাধনার মানবী
আরিফ শামছ্

ভালবাসি দিবা-নিশি _সূচীপত্র

১৮৪। শান্তি কানন

১৮৪। শান্তি কানন আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) মোরা সাচ্চা মুসলমান,  করি শান্তির আহ্বাণ,  হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান, মানুষ সবাই সমান।...

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

জনপ্রিয় পোষ্টগুলি:

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ