মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৩

১১১। প্রেমের ভালোবাসা

প্রেমের ভালোবাসা
- আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
(আরিফ শামছ্ )

"প্রেমের" নিদহীন বেলা যায়রে কতো,
নেইকো হিসাব তার,
খাবার দাবার কখন, কেবা, 
খাবে কোন কাল।
মন মুকুরে ধ্যানের ছবি, 
কী যে পাগলকরা!
কথা বুঝি অমীয় সুধা, 
নাইরে ক্ষুধা -তৃষা।

দূর জানালায়, পথে পথে, 
খুঁজছে কী না কথার ছলে!
কাজের কথা বলে বলে,
কোন পাঁথারে খুঁজে চলে।
আকাশ বাতাস, চাঁদ সেতারা,
কোকিল বিজন বনে,
মনের কথা বলছে নিতুই,
নিতে প্রিয়জনে।

ফিরে ফিরে, বারে বারে,
পথ চলিছে শত,
ভালবাসার শুনবে কথা,
চাতক পাখির মত।
প্রথম যেদিন দৃষ্টি পড়ে,
মুক্তাখানার 'পরে;
সেদিন থেকে শপথ নিলাম,
দেহ-মনের জোড়ে।

ভালবাসার স্বর্গ আমার,
জীবন-মরণ পণে,
রাখবো পুতঃপবিত্র তা'
নেবো হালাল করে।
ভালোবাসা! সস্তাদরে,
বস্তাভরা নোংড়ামি?
আবেগ যেনো লাগামহীন,
হীন, নীচের নষ্টামি?

কেমন করে আশা করো,
ভালবাসার সুফল!
শান্তিধারা আনবে বয়ে,
করবে জগত উজল।
দুজন হতেই বংশ নদী,
ছুটবে নিশিদিন,
চাও কী কভু, তারা সবাই,
করতে সবি মলিন!

তাই বলে যাই, চলো সবাই,
সত্যিই ভালবাসি,
খোদার দেয়া বিধান মানি,
ধূলায় স্বর্গ রচি।
ঠগ -প্রতারক, মিথ্যা প্রেমিক,
কুলাংগারদের পেলে,
আঁগাছাদের করবে উচ্ছেদ,
সবাই মিশে-মিলে। 

১৪/০২/২০১৮ ঈসায়ী সাল।
মধুবাগ, মগবাজার,
রমনা, ঢাকা।

🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰

“প্রেমের ভালোবাসা” — একটি সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
✍️ কবি
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)
এই কবিতাটি প্রেমকে শুধু আবেগ বা মোহ হিসেবে নয়, বরং নৈতিকতা, পবিত্রতা ও মানবিক দায়িত্ববোধের আলোকে দেখার একটি প্রয়াস। এখানে প্রেম মানে কেবল দু’জন মানুষের আকর্ষণ নয়; বরং আত্মিক বন্ধন, বৈধ সম্পর্কের আকাঙ্ক্ষা এবং সমাজকে সুন্দর করার আহ্বান।
🌸 কবিতার মূলভাব
কবিতার শুরুতেই প্রেমে পড়া মানুষের এক অস্থির, ধ্যানমগ্ন ও আবেগপূর্ণ অবস্থার বর্ণনা এসেছে—
“মন মুকুরে ধ্যানের ছবি,
কী যে পাগলকরা!”
এখানে প্রেমিকের মন সর্বদা প্রিয়জনকে কেন্দ্র করে ঘুরপাক খায়। ক্ষুধা-তৃষ্ণা, সময়-অসময়—সবকিছু যেন অর্থহীন হয়ে পড়ে।
কিন্তু কবি শুধু রোমান্টিক অনুভূতিতে থেমে থাকেননি। তিনি প্রেমকে “হালাল”, “পবিত্র” ও “দায়িত্বপূর্ণ” করার কথা বলেছেন—
“রাখবো পুতঃপবিত্র তা’
নেবো হালাল করে।”
এই অংশে ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিক প্রেমের ধারণা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
🌿 নৈতিক বার্তা
কবিতার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর সামাজিক ও নৈতিক অবস্থান। কবি বর্তমান সময়ের প্রতারণামূলক, ভোগবাদী ও দায়িত্বহীন প্রেমের সমালোচনা করেছেন—
“ভালোবাসা! সস্তাদরে,
বস্তাভরা নোংড়ামি?”
এখানে “সস্তাদরে” শব্দটি আধুনিক সম্পর্কের অবক্ষয়কে ব্যঙ্গ করে। কবি মনে করেন, সত্যিকারের ভালোবাসা কখনোই নোংড়ামি বা প্রতারণার উপর দাঁড়াতে পারে না।
🌙 প্রকৃতি ও চিত্রকল্প
কবিতায় প্রকৃতির ব্যবহার প্রেমের আবেগকে আরো গভীর করেছে—
আকাশ-বাতাস
চাঁদ-সেতারা
কোকিল
চাতক পাখি
এসব উপমা ও চিত্রকল্প বাংলা প্রেমের কবিতার ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
📚 সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য
✨ ভাষা
সহজ, আবেগঘন ও বক্তব্যনির্ভর।
✨ ছন্দ
স্বতঃস্ফূর্ত গীতিময় ধারা রয়েছে, যা আবৃত্তির জন্য উপযোগী।
✨ অলংকার
উপমা
রূপক
অনুপ্রাস
প্রশ্নবোধক ব্যঞ্জনা
✨ ভাবধারা
রোমান্টিকতা + নৈতিকতা + সামাজিক সচেতনতা।
🕊️ সারাংশ
“প্রেমের ভালোবাসা” কবিতায় কবি প্রেমকে একদিকে যেমন হৃদয়ের গভীর অনুভূতি হিসেবে দেখিয়েছেন, অন্যদিকে সেটিকে নৈতিক, বৈধ ও মানবিক সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানিয়েছেন। এটি কেবল প্রেমের কবিতা নয়; বরং আধুনিক সমাজে সত্যিকারের ভালোবাসার এক নৈতিক ঘোষণা।
🖋️ উদ্ধৃতিযোগ্য পঙ্‌ক্তি
“খোদার দেয়া বিধান মানি,
ধূলায় স্বর্গ রচি।”
এ লাইন দু’টি কবিতার দর্শনকে সবচেয়ে সুন্দরভাবে ধারণ করে।
📍 রচনাকাল: ১৪/০২/২০১৮ ঈসায়ী সাল
📍 স্থান: মধুবাগ, মগবাজার, রমনা, ঢাকা।
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Heartfelt Thanks for your valuable comments.

ভালবাসি দিবা-নিশি _সূচীপত্র

ডিজিটাল যুগে যৌনতাকেন্দ্রিক কনটেন্ট: ক্রিয়েটর, দর্শক ও প্রযুক্তি কোম্পানির দায়বদ্ধতা

ডিজিটাল যুগে যৌনতাকেন্দ্রিক কনটেন্ট ও সামাজিক সংকট বিজ্ঞাপন, অ্যালগরিদম, পরিবারব্যবস্থা ও মানবিক দায়বদ্ধতা লেখক: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শ...