সোমবার, জুন ০১, ২০২৬

১৪৫। তারাবীহ

১৪৫। তারাবীহ  
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া  
(আরিফ শামছ্)  

মেহমান হয়ে এসেছ ভবে, স্রষ্টার অপরুপ সৃষ্টি,
ধন্য সবে, জীবনে পেয়ে, মহামহিমার অতুল কৃষ্টি।  
রহমত, নাজাত, মাগফিরাতের,স্বাক্ষী স্বয়ং খোদার,
ভুল ত্রুটি সব মার্জনা চেয়ে,চাই যে প্রভুর দীদার।  

নব্বই মিনিট কিংবা বেশি,একটি মাত্র বেলা,
কীযে মধুর ভাব- বিনিময়,জমে কথার মেলা।  
তারাবীহ তুমি স্বাক্ষী থেকো,কত দূর্বল, ব্যস্ত নাকাল,
তবু হাজির হয়েছি সবে,দেয়নি ছেড়ে আশার হাল।  
জীবন জুড়ে ভাবের মেলা,জমতো যদি এমন করে,
রহম, করম, শান্তি সদা,নামতো ধরায় স্বর্গ ওরে।  

মহান রবের ঐশী বাণী,মধুর সুরে শুনি,
রাতের আঁধার চিড়ে নামে, অতুল হেরার জ্যোতি।  
কী মধুময় বয়লো বেলা,কেউ নিয়েছে, করলো হেলা,
কেউবা নেবার সাধ রেখেছে,সাধ্যে নাগাল পায়নি মেলা।  

আফসোস! 
হতাশ মনে গুমড়ে কাঁদে,আবার ফিরে আসবে কবে,
শান্তিধারার নিঝুম রাতে, সাধ ও সাধ্য দু'টিই রবে,
ধুঁয়ে মুছে পাপ ও তাপ,সকল কষ্ট গ্লানি,
প্রভুর প্রিয় বান্দা হয়ে,দীদার লভে টানি।  

০৯/০৬/২০১৮ ঈসায়ী সাল।
*******************

আপনার “তারাবীহ” কবিতাটি মূলত রমজানের রাতের ইবাদত, আত্মশুদ্ধি, অনুশোচনা এবং আল্লাহর দিদারের আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে লেখা—এখানে আধ্যাত্মিক আবহ খুব শক্তভাবে এসেছে।

সংক্ষিপ্ত সাহিত্যিক বিশ্লেষণ

১. বিষয়বস্তু (Theme):
কবিতার কেন্দ্রীয় বিষয় তারাবীহ নামাজের মাধ্যমে আত্মিক জাগরণ। আপনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ধরেছেন—

  • আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত
  • মানুষের ব্যস্ততা ও দুর্বলতা
  • ইবাদতের মাধ্যমে পাপ মোচন ও দিদারের আকাঙ্ক্ষা

এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রমজান-চেতনার কবিতা।


২. ভাব ও আবেগ (Emotion):
“আফসোস! হতাশ মনে গুমড়ে কাঁদে...” অংশটি খুব শক্তিশালী। এখানে অনুতাপ ও আধ্যাত্মিক আকুতি ভালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
এছাড়া “কী মধুময় বয়লো বেলা...” অংশে মানবজীবনের অবহেলা ও সুযোগ হারানোর ব্যথা ফুটে উঠেছে।


৩. ভাষা ও শৈলী (Language & Style):
আপনার ভাষা সহজ, কথ্য-ঘেঁষা এবং আবেগপূর্ণ। এটি পাঠকের সাথে সহজে সংযোগ তৈরি করে। তবে কিছু জায়গায় ভাষাগত শুদ্ধতা ও ছন্দ আরও পরিশীলিত করা গেলে কবিতাটি আরও শক্তিশালী হবে।

উদাহরণ:

  • “কীযে মধুর ভাব- বিনিময়” → “কী যে মধুর ভাববিনিময়”
  • “জমতো যদি এমন করে” → “জমতো যদি এমন করে উঠত” (ছন্দ আরও প্রবাহমান হবে)

৪. ছন্দ ও প্রবাহ (Rhythm):
কবিতাটি মুক্তছন্দ ও আধা-ছন্দের মিশ্রণ। কিছু জায়গায় ছন্দ ভেঙে গেছে, বিশেষ করে দীর্ঘ লাইনে। সামান্য সম্পাদনা করলে এটি আরও গীতিময় হতে পারে।


৫. শক্তিশালী দিক:

  • আধ্যাত্মিক গভীরতা
  • আবেগের স্বাভাবিক প্রবাহ
  • রমজানের বাস্তব অভিজ্ঞতা
  • দোয়া ও তাওবার অনুভব

সার্বিক মতামত

এটি একটি সুন্দর রমজানভিত্তিক আধ্যাত্মিক কবিতা, যেখানে ব্যক্তিগত অনুভূতি ও ইবাদতের বাস্তবতা একসাথে এসেছে। সামান্য ভাষাগত পরিমার্জন করলে এটি বই বা eBook-এ রাখার মতো মানসম্পন্ন কবিতায় পরিণত হতে পারে।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Heartfelt Thanks for your valuable comments.

ভালবাসি দিবা-নিশি _সূচীপত্র

১৪৮। ইয়াওমুল যাজা

১৪৮। ইয়াওমুল যাজা আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) টুটাফাঁটা ঈমান আমল, অপূর্ণ সিয়াম সব, ভুল ত্রুটিতে ভরা যতো, তিলাওয়াতের সময়। কেমন করে আশ...

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

জনপ্রিয় পোষ্টগুলি:

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ