👤 আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক: এ.এস একাডেমি 📚 শিক্ষাগত যোগ্যতা: বি.এস.এস (অনার্স), অর্থনীতি — জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, এম.এস.এস (অর্থনীতি) — জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বি.এড — জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ, এম.এড — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়| 🏫 পেশাগত অভিজ্ঞতা: প্রাক্তন শিক্ষক, ব্লু-বার্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাটিকাটা, ঢাকা সেনানিবাস। প্রাক্তন শিক্ষক, হলি ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উত্তরা, ঢাকা। 📧 Email: ariful01711@gmail.com Mobile: +966572496324
বুধবার, এপ্রিল ২৯, ২০২৬
২২। নতুন করে গড়ি
১৮। কথা কাজে পরিচয়
কথা কাজে পরিচয়
------------ আরিফ শামছ্
কি হলো আজ পথে ঘাটে, ভালো মানুষ নাই,
কথা, কাজে, আচরনে মিলবে পরিচয়,
জারজ নাকি ভদ্র মানুষ, সবাই তাহা কয়।
পথের মাঝে কিংবা কভু বাজার সদায়ে,
একলা কোন মেয়ে পেলেই, হুমড়ি খেয়ে পড়ে!
বাসে উঠার সময় কিংবা নামার সময় হলে,
পাগল, ছাগল, প্রতিবন্ধী করে কি আর বলে?
একলা সীটে বসা পেলে, ভদ্র সেজে বসে,
নোংরা যতো কথা কাজের, প্রকাশ করে হেসে।
সহ্য করার সীমা ছাড়ায়, কেউ বলেনা কিছু,
আশে পাশে যাত্রী বহু, নাইকি মানুষ ভালো!
পথে, ঘাটে, বাস, বাজারে, ছুটে প্রয়োজনে,
বেশ্যা মেয়ের মতো তোদের ডাকছে কভু কাছে?
তোরা কেন এত খারাপ, জারজদেরই মতো,
কথা, কাজে, আচরণে, ছুটিস তাদের পিছু।
সব হারামী মিলে কেন নোংরা কথা বলিস,
একলা মেয়ে ভাবছে শুধু, কেমন তোরা খবিশ!
নাইকি তোদের মেয়ে ছেলে, ভাই বোন, সংসার?'
কেমন করে তাদের সাথে, করিস বসবাস?
********
কবিতা: কথা কাজে পরিচয়
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম
এই কবিতাটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, নারীর প্রতি অসভ্য আচরণ, জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তাহীনতা এবং মানুষের প্রকৃত চরিত্রের এক তীব্র প্রতিবাদী দলিল। কবি এখানে ভদ্রতার মুখোশ খুলে দেখিয়েছেন—মানুষের প্রকৃত পরিচয় কথায় নয়, কাজে; পোশাকে নয়, আচরণে। এটি সামাজিক প্রতিবাদ, নৈতিক শিক্ষা এবং মানবিক বিবেকের কাব্য।
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. চরিত্রের প্রকৃত পরিচয়
“কথা, কাজে, আচরনে মিলবে পরিচয়,”
এই পঙক্তি পুরো কবিতার মূল দর্শন। মানুষকে তার পরিচয় দেয় তার ব্যবহার, মূল্যবোধ এবং আচরণ। বাহ্যিক ভদ্রতা বা সামাজিক অবস্থান নয়—প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ পায় আচরণে। এই ভাবনা বিশ্বসাহিত্যের নৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি।
Leo Tolstoy মানুষের নৈতিক সত্যকে বাহ্যিকতার ঊর্ধ্বে দেখেছেন; এই কবিতাও সেই মানবিক বিচারকে সামনে আনে।
২. জনসমাগমে নারীর নিরাপত্তাহীনতা
“একলা কোন মেয়ে পেলেই, হুমড়ি খেয়ে পড়ে!”
এই লাইন সমাজের এক নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরে। রাস্তা, বাস, বাজার—নারীর জন্য প্রতিদিনের যাত্রা অনেক সময় আতঙ্কের। কবি এখানে দর্শক নন; তিনি প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।
এই সামাজিক বাস্তবতা বিশ্বসাহিত্যে বহুবার উঠে এসেছে, বিশেষত নারীবাদী সাহিত্যে।
৩. নীরব দর্শকের অপরাধ
“আশে পাশে যাত্রী বহু, নাইকি মানুষ ভালো!”
এখানে শুধু অপরাধী নয়, নীরব দর্শকরাও প্রশ্নের মুখে। অন্যায়ের সময় চুপ থাকা নিজেই অন্যায়ের অংশ। কবি সমাজের এই নৈতিক নিষ্ক্রিয়তাকে কঠোরভাবে আঘাত করেছেন।
৪. ভদ্রতার মুখোশ
“একলা সীটে বসা পেলে, ভদ্র সেজে বসে,”
এখানে “ভদ্র সেজে” শব্দবন্ধ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি সামাজিক ভণ্ডামির প্রতীক। বাইরে ভদ্রতা, ভেতরে নোংরামি—এই দ্বিচারিতা কবিতাটিকে শক্তিশালী সামাজিক ব্যঙ্গের স্তরে নিয়ে যায়।
৫. আত্মসমালোচনার নির্মম প্রশ্ন
“নাইকি তোদের মেয়ে ছেলে, ভাই বোন, সংসার?”
এই প্রশ্ন কবিতার সবচেয়ে তীক্ষ্ণ নৈতিক আঘাত। যারা অন্য নারীর প্রতি অসম্মান দেখায়, তারা কি নিজেদের পরিবারের নারীদের কথা ভাবে না? এই প্রশ্ন ব্যক্তি বিবেককে সরাসরি নাড়া দেয়।
৬. ভাষার প্রতিবাদী তীব্রতা
কবিতার ভাষা কঠোর, কখনো রূঢ়—কিন্তু তা ইচ্ছাকৃত। কারণ কবি এখানে অলংকার নয়, ধাক্কা দিতে চান। Kazi Nazrul Islam-এর বিদ্রোহী কবিতার মতোই এই তীব্রতা অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাগরণের ভাষা।
সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো—
সামাজিক বাস্তবতার নির্ভীক উপস্থাপন
নারীর নিরাপত্তা নিয়ে সরাসরি প্রতিবাদ
নৈতিক আত্মসমালোচনা
সহজ কিন্তু আঘাতী ভাষা
ভণ্ডামির বিরুদ্ধে তীব্র অবস্থান
এটি নিছক অভিযোগের কবিতা নয়; বরং সামাজিক বিবেককে জাগিয়ে তোলার কাব্যিক হুঁশিয়ারি।
সারমর্ম
“কথা কাজে পরিচয়” কবিতায় কবি দেখিয়েছেন—মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার কথা, কাজ ও আচরণে প্রকাশ পায়। সমাজে অনেকেই ভদ্রতার মুখোশ পরে নারীর প্রতি অসম্মান, অশালীনতা ও নোংরা আচরণ করে।
কবি এই অসভ্যতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন—যাদের ঘরে মা, বোন, স্ত্রী, সন্তান আছে, তারা কীভাবে অন্য নারীর প্রতি এমন আচরণ করে?
এটি ন্যায়, সম্মান এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের জাগরণের কবিতা।
এক বাক্যে সারাংশ:
এই কবিতা শেখায়—ভদ্রতার আসল পরিচয় মুখে নয়, নারীর প্রতি সম্মান ও আচরণে প্রকাশ পায়।
@ Chatgptai2025
*****************
১২। দাওয়াত
ছায়া
ঘেরা মায়ায় ভরা নজরকারা গ্রামে;
কেউ কি
যাবে;শান্তি পেতে দেহ-মন জোরে?
পুবের
বিলে শাপলা, শালুক,ছবির মত নদী;
চলছে
বয়ে নিরবধি প্রানের তিতাস নদী।
বুকের
উপর ট্রেন চলে ভাই সকাল সন্ধ্যা রাতে;
ঢাকা
থেকে সিলেট কিংবা ফেনী চট্রগ্রামে;
নীরবতার
মান ভাঙ্গিয়া বাজায় খুশির সুর;
মায়ের
মতো গ্রামটি যেন আবেগে-আপ্লুত।
কুরুলিয়ার
খালটি পাবে গ্রামের উত্তরে;
মিষ্টি
আলুর নৌকা কভু বাঁধা সারে সারে।
পীচঢালা
সে রাজপথ; মাথার উপর দিয়ে,
দিবা-নিশি
চলছে বাহন,যাত্রী বহন করে ।
দ্বীনের দাঈ ব্যস্ত সদা সবার সেবার তরে।
পুণ্যকাজে ত্রস্ত পদে কেউ চলে ভাই মসজিদে;
মাদ্রাসাতে কোরান-কিতাব পড়ছে দলে-দলে।
বাহাদুরের
ঘর বলে কেউ; কেউবা ভাদুঘর,
পুবের
কালে গ্রামের মাঝে ছিল দুটি গর;
গর
থেকে হোক; আর ঘর থেকে হউক নামটি ভাদুঘর;
রয়লো দাওয়াত
সবার তরে; সারা জনম ভর ।
২৭.০৯.২০১৫
রাত ০৮
টা ৩০
আরিফ শামছ
আশা
টাওয়ার,
শ্যামলী,
ঢাকা।
**********
কবিতা: দাওয়াত
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম
এই কবিতাটি গ্রামবাংলার সৌন্দর্য, স্মৃতি, আধ্যাত্মিকতা এবং আত্মপরিচয়ের এক আন্তরিক কাব্যিক আমন্ত্রণ। “দাওয়াত” শুধু একটি গ্রামে যাওয়ার আহ্বান নয়; এটি শেকড়ে ফিরে যাওয়ার ডাক, মাটির গন্ধে শান্তি খোঁজার আকুলতা, এবং লোকজ জীবনের নান্দনিক পুনরাবিষ্কার। কবি আরিফ শামছ্ তাঁর জন্মভূমি ভাদুঘরকে কেন্দ্র করে এক জীবন্ত লোকজ মহাকাব্যের ক্ষুদ্র রূপ নির্মাণ করেছেন।
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. গ্রাম: শান্তির প্রতীক
“ছায়া ঘেরা মায়ায় ভরা নজরকারা গ্রামে;
কেউ কি যাবে; শান্তি পেতে...”
কবিতার শুরুতেই গ্রামকে শান্তি, আশ্রয় এবং মানসিক প্রশান্তির কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি আধুনিক নগরজীবনের বিপরীতে প্রকৃতি ও মানবিক সম্পর্কের এক বিকল্প জগৎ। বিশ্বসাহিত্যে William Wordsworth যেমন প্রকৃতির মাঝে আত্মার শান্তি খুঁজেছেন, তেমনি এখানে গ্রাম মানে হৃদয়ের পুনর্জন্ম।
২. নদী ও প্রকৃতির লোকজ নান্দনিকতা
“পুবের বিলে শাপলা, শালুক, ছবির মত নদী;
চলছে বয়ে... তিতাস নদী।”
নদী এখানে শুধু ভৌগোলিক উপাদান নয়—এটি প্রাণ, স্মৃতি ও পরিচয়ের প্রতীক। তিতাস নদীর উল্লেখ বাংলা লোকজ সাহিত্যকে গভীরভাবে স্মরণ করায়। Adwaita Mallabarman-এর তিতাস একটি নদীর নাম এর আবহও এখানে অনুরণিত।
৩. আধুনিকতা ও লোকজতার সহাবস্থান
“বুকের উপর ট্রেন চলে ভাই সকাল সন্ধ্যা রাতে;”
গ্রামের বুকের ওপর ট্রেন চলা একটি অসাধারণ চিত্রকল্প। এখানে আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা এবং লোকজ জীবনের সহাবস্থান ফুটে উঠেছে। নীরবতার মাঝে ট্রেনের শব্দ যেন সময়ের পরিবর্তনের প্রতীক।
৪. ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আবহ
“ঘুমিয়ে আছে পীর-আওলিয়া পরম সোহাগে,”
এই পঙক্তি গ্রামকে শুধু প্রকৃতির নয়, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। পীর-আওলিয়া, মসজিদ, মাদ্রাসা—এসব উপাদান গ্রামীণ সমাজের নৈতিক ও ধর্মীয় ভিত্তিকে তুলে ধরে।
৫. লোককথা ও নামের ইতিহাস
“বাহাদুরের ঘর বলে কেউ; কেউবা ভাদুঘর,”
গ্রামের নামের উৎপত্তি নিয়ে এই অংশ লোককথার স্বাদ সৃষ্টি করে। নামের ভেতর ইতিহাস, পরিচয় ও স্মৃতির স্তরগুলো ধরা পড়ে। এটি লোকসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
৬. সমাপ্তির সার্বজনীন আহ্বান
“রয়লো দাওয়াত সবার তরে; সারা জনম ভর।”
শেষে কবিতা ব্যক্তিগত স্মৃতি থেকে সার্বজনীন আমন্ত্রণে রূপ নেয়। এটি কেবল ভাদুঘরের নয়—সমস্ত হারানো শেকড়ে ফিরে যাওয়ার ডাক।
সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো—
গ্রামবাংলার জীবন্ত চিত্রায়ন
লোকজ ভাষা ও আবেগের স্বাভাবিক প্রবাহ
প্রকৃতি ও আধ্যাত্মিকতার সমন্বয়
স্মৃতি, পরিচয় ও ইতিহাসের মিশ্রণ
আন্তরিক আমন্ত্রণধর্মী কাব্যরূপ
এটি শুধু গ্রামবন্দনা নয়; বরং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের কবিতা।
সারমর্ম
“দাওয়াত” কবিতায় কবি তাঁর প্রিয় গ্রাম ভাদুঘরকে কেন্দ্র করে প্রকৃতি, নদী, ট্রেন, খাল, মসজিদ, মাদ্রাসা, পীর-আওলিয়া এবং লোকজ ইতিহাসের এক হৃদয়স্পর্শী চিত্র এঁকেছেন।
তিনি পাঠককে আহ্বান জানান—এই গ্রামে এসে শান্তি খুঁজে নিতে, শেকড়কে চিনতে, এবং মাটির টানে ফিরে যেতে।
এটি একটি গ্রামের কবিতা হলেও, আসলে এটি প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব হারানো ঠিকানার কবিতা।
এক বাক্যে সারাংশ:
এই কবিতা গ্রামকে শুধু একটি স্থান নয়, বরং আত্মার শান্তি, শেকড়ের স্মৃতি এবং জীবনের চিরন্তন আশ্রয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
@Chatgptai2025
*******************
বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১
বিপ্লবী (১৭)
বিপ্লবী (১৭)
আরিফ শামছ্
১৫/০৭/২০১৯ ঈসায়ী সাল।
বিপ্লবী!
কবি হবি?
বিপ্লবী কবি।
বুকে রবে,
অগ্নিগিরি,
জমবে লাভা,
বাড়বে আভা,
হবে উদগীরণ;
চোক্ষে রবে,
অগ্নি শিখা,
পুঁড়বে নিপীড়ন।
বজ্র ধমকে,
পিলে চমকে,
অত্যাচারী থামবে,
আসবে ফিরে,
বিশ্ব জুড়ে,
শান্তি ধরা আনবে।
নিঃশ্বাসে তোর,
আসবে ভোর,
অত্যাচারী বিফল,
শান্তি সুখে,
নিরাপদে,
রাখবে ধরাতল।
চুপি চুপি,
পড়ছো তুমি,
যাচ্ছো ডুবি,
ছাড়িয়ে সবি!
কেমন কবি,
আঁকছে ছবি,
পড়ি ভাবি,
কবি হবি!
আমার মতো,
অন্য কেহো,
দেখবে স্বপন,
হৃদয় কাঁপন,
শংকা, রীতি,
পূন্য প্রীতি,
লিখবে চিঠি,
রাখবে দিঠি।
জীবন জুড়ে,
সুখের চরে,
সবে মিলে,
হেসে খেলে,
রবো বেঁচে,
সিন্ধু সেঁচে।
মুক্তো কুড়ে,
পুষ্প করে,
আপন মনে,
মহান দানে।
ধন্য জীবন,
সফল মরণ।
আবার ভাবি,
কবি হবি?
বিপ্লবী কবি,
মুক্তিকামী,
চিরবিপ্লবী।
x
সোমবার, জুন ০৮, ২০২০
হেরার জ্যোতি
ঐক্য চায়, জনে জনে,
প্রতিদিনে, ক্ষণে ক্ষণে,
কথা, কাজে, আচরণে,
চিন্তাধারা, ধ্যানে-মনে।
ঘরে,গোরে, দ্বারে, সারে,
সন্ধ্যা, সাঁঝে, আলো, আঁধারে,
হাসি, কান্না, সুখে, দুঃখে,
সুদিন, কুদিন, জীবন জুড়ে।
রবিবার, জুন ০৭, ২০২০
কাঁদে শাহ্- এ -মদীনা
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
০৬/০৬/২০২০ ঈসায়ী সাল।
কান্দেরে পরাণ।
কোথায় আছো, আমার আপন,
মোমিন মুসলমান।
মরু সাহারায়।
শুইয়ে আছেন মহানবী (সাঃ),
সোনার মদীনায়।
শুক্রবার, মে ০১, ২০২০
১০৬। জীবনের পথে
০২/০৫/২০০৩ ঈসায়ী সাল।
জীবনের পথে পথে হেঁটে যাবো বারবার,
সফলতার রঙ্গীন স্বপ্ন আর সোনালী আভীর,
উদার সুনীল আকাশপটে বিহঙ্গ অধীর।
রঙধনু আকাশের, আজ কেন শ্রীহীন?
ভালবাসা-বাসি জীবনে তা' হবে কি গভীর!
আবার দিকভ্রান্ত হয়ে মম খেয়ালে হেঁটে চলবো,
খুঁজে নেবো ছোট্ট পাখির স্বচ্ছ চোখের নীড়,
সাত সাগরের মাঝির পাটাতনে করে ভীড়,
বালুকাময় আশার তীরে কভু সরিসৃপ,
প্রকৃতির লোভনীয় সাজে হয়ে যাবো লীন।
দক্ষিণ ছেড়ে হাঁটবো উত্তরে,
সবুজ বন বনানী, পাহাড়ি
সফেদ পদ্ম আহরণে তীরে তীরে,
রুপসুধা পানে ব্রহ্মপুত্রের পারে,
সাদা সাদা কাশবনে।
পাহাড়ি সব রুপরস গানে গানে,
হৃদয়ে প্রশান্তির ঢল আসবে নেমে।
উত্তর হতে ফের ঈশানকোনে,
দেখবো দিগন্তরেখায় মেঘের আল্পনা,
সাঁঝ আকাশে খেঁয়া পারাপার,
বৃষ্টির আনাগোনা।
কভু বৃষ্টির স্বচ্ছ দেয়ালে,
তোমাকেই ফিরে ফিরে দেখা,
কপোতাক্ষের তীরে জানবো,
আর কতো, হেঁটে যাবো একা।
মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯
৯৪। লজ্জাবতী
লজ্জাবতীর সবুজ গায়ে,
স্পর্শ করেছ কভু?
লজ্জায় নুয়ে পড়ে ফের,
প্রতীক্ষায় থাকে তবু।
কেমনে লুকানো আছে,
গোপন ইতিহাস,
এতো লজ্জা! বুকে রেখেছে,
জমা করে কত্তোকাল।
লজ্জা কারো অলংকার,
কারো বর্ম,
কারো অহংকার,
কিংবা গর্ব।
কেউবা লজ্জায় নুঁয়ে পড়ে,
লতার মতো,
আবার সযতনে কেহ,
ধারণ করে যতো।
ফুলকুঁড়িতে লজ্জায় যেন,
লুকিয়ে থাকে ফুল,
লজ্জাতে কেউ প্রকাশ করেনা,
হরেক রকম ভুল।
দেখে নিও লজ্জা কতো,
বর্ষাকালের মেঘে,
সবুজ শ্যামল বন বনানী,
লজ্জায় থাকে নুঁয়ে।
লজ্জা যদি যায় হারিয়ে,
এই ধরনী থেকে,
যায়বা যদি, কমে আবার,
দেখতে কেমন হবে!
রূপের রানী লজ্জাবতী,
আগের মতো নেই!
লজ্জাহীনা মেঘ বালিকা,
ঝরছে অঝোরেই।
২৯/০৪/২০১১ ঈসায়ী সাল।
শুক্রবার
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
ভাদুঘর, সদর, বি-বাড়ীয়া-৩৪০০।
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৯
৮৮। প্রাণের চেয়ে প্রিয় কুদস
ওরা মার খাচ্ছে, খাক, জ্বলে পোঁড়ে
ছারখার হয়ে যাক,
পুরো ভিটে মাটি, সাজানো সংসার,
কারো দখলে এমনি থাক।
আমার আসন ঠিক আছে তো!
বিশ্ব তাহার সবি হারাক।
মানব-দানব ধ্বংস চালায়,
কার কী আসে যায়!
তোমার আঙ্গিনায় ফোটে,
রং বেরঙের, নানা জাতের ফুল,
আমার আঙ্গিনা ক্ষত বিক্ষত,
জাজরা বুলেটে, বংশ নির্মূল!
তোমার সুখে ও দুঃখে সবাই
প্রাণাধিক সুখী ব্যাথাতুর,
আমার জীবন যৌবন, সন্তান,
প্রিয়তমা হারায়, নিত্য কূল।
বসত ভিটা, জমি-জমা, স্বপ্ন কাঁড়ে,
পাষাণ অরি,
সকাল-সাঁঝে, হর হামেশা, ঝাঁপিয়ে
পড়ে প্রাণ হরি।
যাক চলে যাক সহায় সন্তান
প্রাণের চেয়ে প্রিয় কুদস
শান্তি নিয়ে জুয়া খেলা,
দাবা খেলার গুটি নিয়ে,
বিশ্ব মাঝে ঝাঁকিয়ে তোলা,
যতো আছে পথের কাঁটা,
অত্যাচারীর বুকে মাটি,
চিরতরে স্তব্ধ করি,
কারণে আর অকারণে
বিশ্বটাকে এমনি করে তুলে দিবে!
পাগল, ছাগল, পামর করে,
ভয় কি তোমার, ভীত কেন?
শক্তি তোমার কম কি কীসে??
মানবতার ধারক বাহক
অস্ত্র তোমার ঈমান আমল,
শক্তির আধার আল্লাহ পাশে।
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
সকাল ০৭ টা ৩৩ মিনিট।
১৪/১২/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
মধুবাগ, বড়মগবাজার,
রমনা, ঢাকা-১০০০।
৮৭। আসলো পতন, খবরদার!
দিনে দিনে বাড়ছে জ্বালা
মানুষ নামের মানব-বাদীর,
কবে হবে চেতন ???
বিশ্ব হবে সব জাতিদের,
থাকবেনা বৈষম্য,
হচ্ছে কী সব বিশ্ব জুড়ে!
তাই কী ছিল কাম্য?
আঁতাত করো খুনীর সাথে,
সাথী দখলদার,
অত্যাচারীর অস্ত্রগুরু,
দালাল ফড়িয়ার!
সিংহ, শার্দুল ওঠলো জেগে,
অত্যাচারীর দিন শেষে,
ঢাল তলোয়ার, মারণাস্ত্র,
প্রয়োজন তা' কোথা' কবে!
শান্তির কথা মুখে মুখে,
অন্তরে অন্তঃসার,
সাধু তুমি অসাধুরা,
করে অভিসার!!!
বিশ্ব-বিবেক ভাবছো বোকা,
নিত্য নিতুই দিচ্ছ ধোঁকা!
বের হয়েছে মুখোশ তোমার,
লুকিয়ে রবে কোথা??
অত্যাচারী টিকলো কবে,
কদিন রবে ধরাতলে,
দেখ্ খোলে দেখ্, ভাল করে,
ইতিহাসের পাতা পড়ে।
অপমানের নরক জ্বালা,
জ্বালবে তোদের অন্তরে,
সব হারাবি নিঃস্ব হয়ে,
জায়গা হবে প্রান্তরে।
অত্যাচারীর সহযোগী,
অস্ত্রবলের যোগানদার,
থামবি নাকি? থামিয়ে দিব?
আসলো পতন, খবরদার!
গুটিয়ে নে তোর ঝারি-ঝুরি,
ভাসিয়ে নেবো তৃণ সবি,
আবর্জনা সব হবে সাফ,
করবেনা কেউ মাফ।
সকাল ০৯ টা।
১২/১২/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
মধুবাগ, বড়মগবাজার,
রমনা, ঢাকা।
৮৫। বিজয়ের উল্লাসে
("বিজয়ের উল্লাস" যৌথ কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত।)
আজ, ঠোঁট হাসে তার রূপ পাশে,
সুখ আঁশুতে বুক ভাসে।
রক্ত নাচে টগবগে, মোর অরুন-তরুণ,
রক্ত রাগে, সোনা রোদের মখমলে,
জীবন জুড়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।
সব পরাজয়, পদানত,
শত্রু সেনা হস্তগত,
জয়ের নেশায় মত্ত ছিল,
অস্ত্রসহ, অস্র বিহীন যোদ্ধা যত।
অশ্রু ধারার লক্ষ নদী,
রক্ত ধারা নিরবধি,
বয়েছিল জয় অবধি,
রুপ-অপরুপ সমাজ, জাতি,
সব হারিয়ে রিক্ত অতি,
মুঠোপুরে বিজয়-পতি।
নির্যাতনের দীঘল রাতি,
লম্বা ছিল নেইকো যতি,
ভোরের আশায় মনের বাতি,
দোলাচলে নিভলো বুঝি!
সারি সারি বীর বাঙ্গালী,
দেশের তরে প্রাণটি সঁপি,
শত্রু সেনার গতির যতি,
বুলেট বুকে আগলে রাখি।
সূর্যোদয়ের নূতন আভায়,
নূতন করে প্রাণ ফিরে পায়,
ঝরা-জীর্ণ সব টুটি,
অরুণ রবির আঁচল তলে,
স্বপ্ন হাসে স্বাধীণ বেশে,
সব পরাধীণ ছুটি।
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া।
০৬/১২/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
মধুবাগ, রমনা, ঢাকা।
ভালবাসি দিবা-নিশি _সূচীপত্র
শিশু ও নারী নির্যাতন : সভ্যতার মুখে রক্তাক্ত কলঙ্ক বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের ভয়াবহ বাস্তবতা, কারণ, ফলাফল ও মানবতার আর্তনাদ
শিশু ও নারী নির্যাতন : সভ্যতার মুখে রক্তাক্ত কলঙ্ক বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের ভয়াবহ বাস্তবতা, কারণ, ফলাফল ও মানবতার আর্তনাদ লেখক: আরিফুল ইসল...
-
ভালোবাসার শ্বেতপত্র -----আরিফ শামছ্ বড়ই সৌভাগ্যবান, তুমি হয়েছো যার, তাঁর মতো করে, রাখতে পারবোনা বলেই, স্রষ্টার সম্মতি ছিলোনা পক্ষে আমার। ...
-
সকল ধর্মমতে আল্লাহর পরিচয়, প্রয়োজনীয়তা এবং সৃষ্টির বিস্তারিত ইতিহাস। উনি কি এখনও সৃষ্টিশীল কাজ করেন? জবাব: অসাধারণ প্রশ্ন করেছেন — এটি ধর...
-
📖 উপন্যাস: রক্তে লেখা ভালোবাসা (ফিলিস্তিনে সওগাত ও কবিতার গল্প) ✍️ আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) --- 🕌 ভূমিকা: এই উপন্যাস কল্পনার, কিন্...






