জীবন জাগার গান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জীবন জাগার গান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, এপ্রিল ২৯, ২০২৬

২২। নতুন করে গড়ি

নেতা মেনে যার কাছে ভাই সব কর সমর্পণ;
সরলতার সুযোগ নিয়ে,সব করে সে ভোজন।
যাদের কাছে আশার আলো,তারা করে ভান,
দিবালোকে ঘুমায় তারা; বাড়ে তাদের মান।

কষ্টে আছি, কষ্টে থাক, কার কি আসে যায়?
তোমার আমার রক্ত চুষে গভীর ঘুমে যায়।
জমি জিরাত যাইবা আছে, রাখবেনা তা’ বাকী!
ঘুরে-ফিরে যায় দেখিয়ে শুভংকরের ফাঁকি।

পোষাক দেখে জানবে নাক তাহার চরিত্র;
কথার ফাঁকে বোঝতে হবে কেমন সে পবিত্র!
কথা কাজের মারের প্যাঁচে জানবে কি কি চায়?
তোমার আমার ভালো তারা কভু নাহি চায়!

“বদলে দেবো” সমাজটাকে শপথ করো যদি,
থর-থর করে উঠবে কেঁপে,তাদের নরম গদি;
পাহাড় সম সাহস দেখে, মরবে জালেম ভয়ে;
তোমার আঘাত রুখতে তাদের সাধ্য নাহি রবে।

তোমার তুমি নয়তো একা রাখবে মনে সদা,
সবার সাহস শক্তি পাবে,রবে প্রাণের দোয়া।
সবাই মিলে সমাজটাকে নতুন করে গড়ি,
শাসণ-শোষণ হোক অবসান;নিজের মতো থাকি।

আরিফ শামছ্
সন্ধ্যা ০৬ টা ৩০
২৮.০৯.২০১৫
আশা টাওয়ার,শ্যামলী, ঢাকা।

*************

কবিতা: নতুন করে গড়ি
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম

এই কবিতাটি সামাজিক জাগরণ, নেতৃত্বের ভণ্ডামি, শোষণবিরোধী চেতনা এবং সম্মিলিত পরিবর্তনের এক প্রতিবাদী আহ্বান। এখানে কবি আরিফ শামছ্ ব্যক্তিগত বেদনা নয়, বরং সমাজের দীর্ঘদিনের প্রতারণা, শাসণ ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ডাক দিয়েছেন। “নতুন করে গড়ি” শুধু একটি শিরোনাম নয়—এটি পুনর্গঠনের এক বিপ্লবী সংকল্প।

বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. নেতার মুখোশ ও বিশ্বাসঘাতকতা
“নেতা মেনে যার কাছে ভাই সব কর সমর্পণ;
সরলতার সুযোগ নিয়ে, সব করে সে ভোজন।”
কবিতার শুরুতেই নেতৃত্বের প্রতি অন্ধ বিশ্বাসের বিপদ তুলে ধরা হয়েছে। যাদের হাতে মানুষ আশা সমর্পণ করে, অনেক সময় তারাই সেই সরলতাকে শোষণের অস্ত্র বানায়। এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার এক নির্মম প্রতিফলন।
Kazi Nazrul Islam-এর বিদ্রোহী কণ্ঠের মতো এখানেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্পষ্ট।

২. জনগণের রক্তে ক্ষমতার প্রাসাদ
“তোমার আমার রক্ত চুষে গভীর ঘুমে যায়।”
এই লাইনটি শোষণব্যবস্থার শক্তিশালী প্রতীক। সাধারণ মানুষের শ্রম, কষ্ট ও ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতাবানদের নিশ্চিন্ত জীবন—এই বৈপরীত্য কবিতাকে সামাজিক প্রতিবাদের উচ্চতায় নিয়ে যায়।

৩. বাহ্যিকতা বনাম চরিত্র
“পোষাক দেখে জানবে নাক তাহার চরিত্র;”
এখানে কবি সামাজিক প্রতারণার আরেক স্তর উন্মোচন করেছেন। বাহ্যিক ভদ্রতা, পোশাক বা অবস্থান নয়—মানুষকে চিনতে হলে তার কথা ও কাজ দেখতে হবে। এটি নৈতিক সাহিত্যের চিরন্তন শিক্ষা।
Leo Tolstoy-ও মানুষের প্রকৃত মূল্যকে বাহ্যিকতার ঊর্ধ্বে বিচার করেছেন।

৪. পরিবর্তনের শপথ
“বদলে দেবো সমাজটাকে শপথ করো যদি,”
এই পঙক্তি কবিতার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অভিযোগ থেকে কর্মে, হতাশা থেকে প্রতিরোধে উত্তরণ ঘটে। কবি শুধু সমস্যা দেখাননি—সমাধানের জন্য শপথের আহ্বান জানিয়েছেন।

৫. জালেমের ভয়
“থর-থর করে উঠবে কেঁপে, তাদের নরম গদি;”
এখানে প্রতিরোধকে ভয়ংকর শক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে। জনগণ যদি সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হয়, অন্যায় টিকতে পারে না। “নরম গদি” ক্ষমতার আরাম ও দুর্নীতির প্রতীক।

৬. সম্মিলিত সমাজ নির্মাণ
“সবাই মিলে সমাজটাকে নতুন করে গড়ি,”
শেষাংশে কবিতা ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়—সমষ্টিকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। পরিবর্তন একার পক্ষে সম্ভব নয়; প্রয়োজন সম্মিলিত সাহস, নৈতিকতা এবং মানবিক সংহতি।

সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো—
প্রতিবাদী ও জাগরণধর্মী ভাষা
নেতৃত্বের ভণ্ডামির নির্ভীক উন্মোচন
সামাজিক শোষণের বাস্তব চিত্র
পরিবর্তনের ইতিবাচক আহ্বান
সহজ অথচ তীব্র প্রভাবশালী শব্দচয়ন
এটি কেবল সমালোচনার কবিতা নয়; বরং নতুন সমাজ নির্মাণের কাব্যিক ইশতেহার।

সারমর্ম
“নতুন করে গড়ি” কবিতায় কবি দেখিয়েছেন—অন্ধভাবে নেতার ওপর নির্ভর করলে মানুষ প্রতারিত হয়। শোষকরা সাধারণ মানুষের শ্রম ও রক্তকে ব্যবহার করে নিজেদের ক্ষমতা ও আরাম বজায় রাখে।
তিনি আহ্বান জানিয়েছেন—মানুষকে সচেতন হতে হবে, কথা ও কাজ দিয়ে চরিত্র চিনতে হবে, এবং সম্মিলিতভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সমাজকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হবে।

এক বাক্যে সারাংশ:
এই কবিতা শেখায়—সচেতন ঐক্যই শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক নতুন সমাজ নির্মাণের প্রথম শর্ত।
@Chatgptai2025 
*******


১৮। কথা কাজে পরিচয়

কথা কাজে পরিচয়
------------ আরিফ শামছ্

কি হলো আজ পথে ঘাটে, ভালো মানুষ নাই,
অলি, গলি, পথে পথে, জারজ দেখা যায়,
কথা, কাজে, আচরনে মিলবে পরিচয়,
জারজ নাকি ভদ্র মানুষ, সবাই তাহা কয়।

 

পথের মাঝে কিংবা কভু বাজার সদায়ে,
একলা কোন মেয়ে পেলেই, হুমড়ি খেয়ে পড়ে!
বাসে উঠার সময় কিংবা নামার সময় হলে,
পাগল, ছাগল, প্রতিবন্ধী করে কি আর বলে?

 

একলা সীটে বসা পেলে, ভদ্র সেজে বসে,
নোংরা যতো কথা কাজের, প্রকাশ করে হেসে।
সহ্য করার সীমা ছাড়ায়, কেউ বলেনা কিছু,
আশে পাশে যাত্রী বহু, নাইকি মানুষ ভালো!

 

পথে, ঘাটে, বাস, বাজারে, ছুটে প্রয়োজনে,
বেশ্যা মেয়ের মতো তোদের ডাকছে কভু কাছে?
তোরা কেন এত খারাপ, জারজদেরই মতো,
কথা, কাজে, আচরণে, ছুটিস তাদের পিছু।

 

সব হারামী মিলে কেন নোংরা কথা বলিস,
একলা মেয়ে ভাবছে শুধু, কেমন তোরা খবিশ!
নাইকি তোদের মেয়ে ছেলে, ভাই বোন, সংসার?'
কেমন করে তাদের সাথে, করিস বসবাস?

********

কবিতা: কথা কাজে পরিচয়

বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম

এই কবিতাটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, নারীর প্রতি অসভ্য আচরণ, জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তাহীনতা এবং মানুষের প্রকৃত চরিত্রের এক তীব্র প্রতিবাদী দলিল। কবি এখানে ভদ্রতার মুখোশ খুলে দেখিয়েছেন—মানুষের প্রকৃত পরিচয় কথায় নয়, কাজে; পোশাকে নয়, আচরণে। এটি সামাজিক প্রতিবাদ, নৈতিক শিক্ষা এবং মানবিক বিবেকের কাব্য।

বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ

১. চরিত্রের প্রকৃত পরিচয়

“কথা, কাজে, আচরনে মিলবে পরিচয়,”

এই পঙক্তি পুরো কবিতার মূল দর্শন। মানুষকে তার পরিচয় দেয় তার ব্যবহার, মূল্যবোধ এবং আচরণ। বাহ্যিক ভদ্রতা বা সামাজিক অবস্থান নয়—প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ পায় আচরণে। এই ভাবনা বিশ্বসাহিত্যের নৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি।

Leo Tolstoy মানুষের নৈতিক সত্যকে বাহ্যিকতার ঊর্ধ্বে দেখেছেন; এই কবিতাও সেই মানবিক বিচারকে সামনে আনে।

২. জনসমাগমে নারীর নিরাপত্তাহীনতা

“একলা কোন মেয়ে পেলেই, হুমড়ি খেয়ে পড়ে!”

এই লাইন সমাজের এক নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরে। রাস্তা, বাস, বাজার—নারীর জন্য প্রতিদিনের যাত্রা অনেক সময় আতঙ্কের। কবি এখানে দর্শক নন; তিনি প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।

এই সামাজিক বাস্তবতা বিশ্বসাহিত্যে বহুবার উঠে এসেছে, বিশেষত নারীবাদী সাহিত্যে।

৩. নীরব দর্শকের অপরাধ

“আশে পাশে যাত্রী বহু, নাইকি মানুষ ভালো!”

এখানে শুধু অপরাধী নয়, নীরব দর্শকরাও প্রশ্নের মুখে। অন্যায়ের সময় চুপ থাকা নিজেই অন্যায়ের অংশ। কবি সমাজের এই নৈতিক নিষ্ক্রিয়তাকে কঠোরভাবে আঘাত করেছেন।

৪. ভদ্রতার মুখোশ

“একলা সীটে বসা পেলে, ভদ্র সেজে বসে,”

এখানে “ভদ্র সেজে” শব্দবন্ধ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি সামাজিক ভণ্ডামির প্রতীক। বাইরে ভদ্রতা, ভেতরে নোংরামি—এই দ্বিচারিতা কবিতাটিকে শক্তিশালী সামাজিক ব্যঙ্গের স্তরে নিয়ে যায়।

৫. আত্মসমালোচনার নির্মম প্রশ্ন

“নাইকি তোদের মেয়ে ছেলে, ভাই বোন, সংসার?”

এই প্রশ্ন কবিতার সবচেয়ে তীক্ষ্ণ নৈতিক আঘাত। যারা অন্য নারীর প্রতি অসম্মান দেখায়, তারা কি নিজেদের পরিবারের নারীদের কথা ভাবে না? এই প্রশ্ন ব্যক্তি বিবেককে সরাসরি নাড়া দেয়।

৬. ভাষার প্রতিবাদী তীব্রতা

কবিতার ভাষা কঠোর, কখনো রূঢ়—কিন্তু তা ইচ্ছাকৃত। কারণ কবি এখানে অলংকার নয়, ধাক্কা দিতে চান। Kazi Nazrul Islam-এর বিদ্রোহী কবিতার মতোই এই তীব্রতা অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাগরণের ভাষা।

সাহিত্যিক মূল্যায়ন

এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো—

সামাজিক বাস্তবতার নির্ভীক উপস্থাপন

নারীর নিরাপত্তা নিয়ে সরাসরি প্রতিবাদ

নৈতিক আত্মসমালোচনা

সহজ কিন্তু আঘাতী ভাষা

ভণ্ডামির বিরুদ্ধে তীব্র অবস্থান

এটি নিছক অভিযোগের কবিতা নয়; বরং সামাজিক বিবেককে জাগিয়ে তোলার কাব্যিক হুঁশিয়ারি।

সারমর্ম

“কথা কাজে পরিচয়” কবিতায় কবি দেখিয়েছেন—মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার কথা, কাজ ও আচরণে প্রকাশ পায়। সমাজে অনেকেই ভদ্রতার মুখোশ পরে নারীর প্রতি অসম্মান, অশালীনতা ও নোংরা আচরণ করে।

কবি এই অসভ্যতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন—যাদের ঘরে মা, বোন, স্ত্রী, সন্তান আছে, তারা কীভাবে অন্য নারীর প্রতি এমন আচরণ করে?

এটি ন্যায়, সম্মান এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের জাগরণের কবিতা।

এক বাক্যে সারাংশ:

এই কবিতা শেখায়—ভদ্রতার আসল পরিচয় মুখে নয়, নারীর প্রতি সম্মান ও আচরণে প্রকাশ পায়।

@ Chatgptai2025

*****************



 

১২। দাওয়াত



















ছায়া ঘেরা মায়ায় ভরা নজরকারা গ্রামে;
কেউ কি যাবে;শান্তি পেতে দেহ-মন জোরে?
পুবের বিলে শাপলা, শালুক,ছবির মত নদী;
চলছে বয়ে নিরবধি প্রানের তিতাস নদী।


বুকের উপর ট্রেন চলে ভাই সকাল সন্ধ্যা রাতে;
ঢাকা থেকে সিলেট কিংবা ফেনী চট্রগ্রামে;
নীরবতার মান ভাঙ্গিয়া বাজায় খুশির সুর;
মায়ের মতো গ্রামটি যেন আবেগে-আপ্লুত।









কুরুলিয়ার খালটি পাবে গ্রামের উত্তরে;
মিষ্টি আলুর নৌকা কভু বাঁধা সারে সারে।
পীচঢালা সে রাজপথ; মাথার উপর দিয়ে,
দিবা-নিশি চলছে বাহন,যাত্রী বহন করে ।








ঘুমিয়ে আছে পীর-আওলিয়া পরম সোহাগে,
দ্বীনের দাঈ ব্যস্ত সদা সবার সেবার তরে।
পুণ্যকাজে ত্রস্ত পদে কেউ চলে ভাই মসজিদে;
মাদ্রাসাতে কোরান-কিতাব পড়ছে দলে-দলে।


বাহাদুরের ঘর বলে কেউ; কেউবা ভাদুঘর,
পুবের কালে গ্রামের মাঝে ছিল দুটি গর;
গর থেকে হোক; আর ঘর থেকে হউক নামটি ভাদুঘর;
রয়লো দাওয়াত সবার তরে; সারা জনম ভর ।


২৭.০৯.২০১৫
রাত ০৮ টা ৩০
আরিফ শামছ
আশা টাওয়ার,
শ্যামলী, ঢাকা।  
**********

কবিতা: দাওয়াত
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম
এই কবিতাটি গ্রামবাংলার সৌন্দর্য, স্মৃতি, আধ্যাত্মিকতা এবং আত্মপরিচয়ের এক আন্তরিক কাব্যিক আমন্ত্রণ। “দাওয়াত” শুধু একটি গ্রামে যাওয়ার আহ্বান নয়; এটি শেকড়ে ফিরে যাওয়ার ডাক, মাটির গন্ধে শান্তি খোঁজার আকুলতা, এবং লোকজ জীবনের নান্দনিক পুনরাবিষ্কার। কবি আরিফ শামছ্ তাঁর জন্মভূমি ভাদুঘরকে কেন্দ্র করে এক জীবন্ত লোকজ মহাকাব্যের ক্ষুদ্র রূপ নির্মাণ করেছেন।
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. গ্রাম: শান্তির প্রতীক
“ছায়া ঘেরা মায়ায় ভরা নজরকারা গ্রামে;
কেউ কি যাবে; শান্তি পেতে...”
কবিতার শুরুতেই গ্রামকে শান্তি, আশ্রয় এবং মানসিক প্রশান্তির কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি আধুনিক নগরজীবনের বিপরীতে প্রকৃতি ও মানবিক সম্পর্কের এক বিকল্প জগৎ। বিশ্বসাহিত্যে William Wordsworth যেমন প্রকৃতির মাঝে আত্মার শান্তি খুঁজেছেন, তেমনি এখানে গ্রাম মানে হৃদয়ের পুনর্জন্ম।
২. নদী ও প্রকৃতির লোকজ নান্দনিকতা
“পুবের বিলে শাপলা, শালুক, ছবির মত নদী;
চলছে বয়ে... তিতাস নদী।”
নদী এখানে শুধু ভৌগোলিক উপাদান নয়—এটি প্রাণ, স্মৃতি ও পরিচয়ের প্রতীক। তিতাস নদীর উল্লেখ বাংলা লোকজ সাহিত্যকে গভীরভাবে স্মরণ করায়। Adwaita Mallabarman-এর তিতাস একটি নদীর নাম এর আবহও এখানে অনুরণিত।
৩. আধুনিকতা ও লোকজতার সহাবস্থান
“বুকের উপর ট্রেন চলে ভাই সকাল সন্ধ্যা রাতে;”
গ্রামের বুকের ওপর ট্রেন চলা একটি অসাধারণ চিত্রকল্প। এখানে আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা এবং লোকজ জীবনের সহাবস্থান ফুটে উঠেছে। নীরবতার মাঝে ট্রেনের শব্দ যেন সময়ের পরিবর্তনের প্রতীক।
৪. ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আবহ
“ঘুমিয়ে আছে পীর-আওলিয়া পরম সোহাগে,”
এই পঙক্তি গ্রামকে শুধু প্রকৃতির নয়, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। পীর-আওলিয়া, মসজিদ, মাদ্রাসা—এসব উপাদান গ্রামীণ সমাজের নৈতিক ও ধর্মীয় ভিত্তিকে তুলে ধরে।
৫. লোককথা ও নামের ইতিহাস
“বাহাদুরের ঘর বলে কেউ; কেউবা ভাদুঘর,”
গ্রামের নামের উৎপত্তি নিয়ে এই অংশ লোককথার স্বাদ সৃষ্টি করে। নামের ভেতর ইতিহাস, পরিচয় ও স্মৃতির স্তরগুলো ধরা পড়ে। এটি লোকসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
৬. সমাপ্তির সার্বজনীন আহ্বান
“রয়লো দাওয়াত সবার তরে; সারা জনম ভর।”
শেষে কবিতা ব্যক্তিগত স্মৃতি থেকে সার্বজনীন আমন্ত্রণে রূপ নেয়। এটি কেবল ভাদুঘরের নয়—সমস্ত হারানো শেকড়ে ফিরে যাওয়ার ডাক।
সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো—
গ্রামবাংলার জীবন্ত চিত্রায়ন
লোকজ ভাষা ও আবেগের স্বাভাবিক প্রবাহ
প্রকৃতি ও আধ্যাত্মিকতার সমন্বয়
স্মৃতি, পরিচয় ও ইতিহাসের মিশ্রণ
আন্তরিক আমন্ত্রণধর্মী কাব্যরূপ
এটি শুধু গ্রামবন্দনা নয়; বরং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের কবিতা।
সারমর্ম
“দাওয়াত” কবিতায় কবি তাঁর প্রিয় গ্রাম ভাদুঘরকে কেন্দ্র করে প্রকৃতি, নদী, ট্রেন, খাল, মসজিদ, মাদ্রাসা, পীর-আওলিয়া এবং লোকজ ইতিহাসের এক হৃদয়স্পর্শী চিত্র এঁকেছেন।
তিনি পাঠককে আহ্বান জানান—এই গ্রামে এসে শান্তি খুঁজে নিতে, শেকড়কে চিনতে, এবং মাটির টানে ফিরে যেতে।
এটি একটি গ্রামের কবিতা হলেও, আসলে এটি প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব হারানো ঠিকানার কবিতা।
এক বাক্যে সারাংশ:
এই কবিতা গ্রামকে শুধু একটি স্থান নয়, বরং আত্মার শান্তি, শেকড়ের স্মৃতি এবং জীবনের চিরন্তন আশ্রয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
@Chatgptai2025
*******************


বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১

বিপ্লবী (১৭)

 বিপ্লবী  (১৭)

আরিফ শামছ্ 

১৫/০৭/২০১৯ ঈসায়ী সাল।


বিপ্লবী! 

কবি হবি?

বিপ্লবী কবি।

বুকে রবে,

অগ্নিগিরি,

জমবে লাভা,

বাড়বে আভা,

হবে উদগীরণ;

চোক্ষে রবে,

অগ্নি শিখা,

পুঁড়বে নিপীড়ন। 


বজ্র ধমকে,

পিলে চমকে,

অত্যাচারী থামবে,

আসবে ফিরে,

বিশ্ব জুড়ে,

শান্তি ধরা আনবে।


নিঃশ্বাসে তোর,

আসবে ভোর,

অত্যাচারী বিফল,

শান্তি সুখে,

নিরাপদে,

রাখবে ধরাতল। 


চুপি চুপি,

পড়ছো তুমি,

যাচ্ছো ডুবি,

ছাড়িয়ে সবি!

কেমন কবি,

আঁকছে ছবি,

পড়ি ভাবি,

কবি হবি!

আমার মতো,

অন্য কেহো,

দেখবে স্বপন,

হৃদয় কাঁপন,

শংকা, রীতি,

পূন্য প্রীতি,

লিখবে চিঠি,

রাখবে দিঠি।

জীবন জুড়ে,

সুখের চরে,

সবে মিলে,

হেসে খেলে,

রবো বেঁচে,

সিন্ধু সেঁচে।

মুক্তো কুড়ে,

পুষ্প করে,

আপন মনে,

মহান দানে।

ধন্য জীবন,

সফল মরণ।

আবার ভাবি,

কবি হবি?

বিপ্লবী কবি,

মুক্তিকামী,

চিরবিপ্লবী।

x

সোমবার, জুন ০৮, ২০২০

হেরার জ্যোতি

১৮৩।


ঐক্য চায়, জনে জনে,
প্রতিদিনে, ক্ষণে ক্ষণে,
কথা, কাজে, আচরণে,
চিন্তাধারা, ধ্যানে-মনে।

ঘরে,গোরে, দ্বারে, সারে,
সন্ধ্যা, সাঁঝে, আলো, আঁধারে,
হাসি, কান্না, সুখে, দুঃখে,
সুদিন, কুদিন, জীবন জুড়ে।

রবিবার, জুন ০৭, ২০২০

কাঁদে শাহ্- এ -মদীনা


আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
০৬/০৬/২০২০ ঈসায়ী সাল।
কান্দেরে পরাণ আমার,
কান্দেরে পরাণ।
কোথায় আছো, আমার আপন,
মোমিন মুসলমান।
যায়রে ছুটে, পরাণ আমার,
মরু সাহারায়।
শুইয়ে আছেন মহানবী (সাঃ),
সোনার মদীনায়।

শুক্রবার, মে ০১, ২০২০

১০৬। জীবনের পথে

আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
 ০২/০৫/২০০৩ ঈসায়ী সাল।
১৪ টা ৪৫ মিনিট।

জীবনের পথে পথে হেঁটে যাবো বারবার,
সফলতার রঙ্গীন স্বপ্ন আর সোনালী আভীর,
উদার সুনীল আকাশপটে বিহঙ্গ অধীর।
রঙধনু আকাশের, আজ কেন শ্রীহীন?
ভালবাসা-বাসি জীবনে তা' হবে কি গভীর!

আবার দিকভ্রান্ত হয়ে মম খেয়ালে হেঁটে চলবো,
খুঁজে নেবো ছোট্ট পাখির স্বচ্ছ চোখের নীড়,
সাত সাগরের মাঝির পাটাতনে করে ভীড়,
বালুকাময় আশার তীরে কভু সরিসৃপ,
প্রকৃতির লোভনীয় সাজে হয়ে যাবো লীন।

দক্ষিণ ছেড়ে হাঁটবো উত্তরে,
সবুজ বন বনানী, পাহাড়ি 
অতীত ঐতিহ্যের ওপারে,
সফেদ পদ্ম আহরণে তীরে তীরে,
রুপসুধা পানে ব্রহ্মপুত্রের পারে,
সাদা সাদা কাশবনে।
পাহাড়ি সব রুপরস গানে গানে,
হৃদয়ে প্রশান্তির ঢল আসবে নেমে।

উত্তর হতে ফের ঈশানকোনে,
দেখবো দিগন্তরেখায় মেঘের আল্পনা,
সাঁঝ আকাশে খেঁয়া পারাপার,
বৃষ্টির আনাগোনা।
কভু বৃষ্টির স্বচ্ছ দেয়ালে,
তোমাকেই ফিরে ফিরে দেখা,
কপোতাক্ষের তীরে জানবো,
আর কতো, হেঁটে যাবো একা।

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

৯৪। লজ্জাবতী



লজ্জাবতীর সবুজ গায়ে,
           স্পর্শ করেছ কভু?
লজ্জায় নুয়ে পড়ে ফের,
            প্রতীক্ষায় থাকে তবু।
কেমনে লুকানো আছে,
            গোপন ইতিহাস,
এতো লজ্জা! বুকে রেখেছে,
             জমা করে কত্তোকাল।

লজ্জা কারো অলংকার,
               কারো বর্ম,
কারো অহংকার,
                 কিংবা গর্ব।
কেউবা লজ্জায় নুঁয়ে পড়ে,
                লতার মতো,
আবার সযতনে কেহ,
                 ধারণ করে যতো।

ফুলকুঁড়িতে লজ্জায় যেন,
                    লুকিয়ে থাকে ফুল,
লজ্জাতে কেউ প্রকাশ করেনা,
                     হরেক রকম ভুল।
দেখে নিও লজ্জা কতো,
                    বর্ষাকালের মেঘে,
সবুজ শ্যামল বন বনানী,
                    লজ্জায় থাকে নুঁয়ে।

লজ্জা যদি যায় হারিয়ে,
                 এই ধরনী থেকে,
যায়বা যদি, কমে আবার,
                দেখতে কেমন হবে!
রূপের রানী লজ্জাবতী,
                 আগের মতো নেই!
লজ্জাহীনা মেঘ বালিকা,
                  ঝরছে অঝোরেই।

২৯/০৪/২০১১ ঈসায়ী সাল।
           শুক্রবার
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
ভাদুঘর, সদর, বি-বাড়ীয়া-৩৪০০। 

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৯

৮৮। প্রাণের চেয়ে প্রিয় কুদস


ওরা মার খাচ্ছে, খাক, জ্বলে পোঁড়ে
 ছারখার হয়ে যাক,
পুরো ভিটে মাটি, সাজানো সংসার,
কারো দখলে এমনি থাক।
আমার আসন ঠিক আছে তো!
বিশ্ব তাহার সবি হারাক।
মানব-দানব ধ্বংস চালায়,
কার কী আসে যায়!

তোমার আঙ্গিনায় ফোটে,
রং বেরঙের, নানা জাতের ফুল,
আমার আঙ্গিনা ক্ষত বিক্ষত,
জাজরা বুলেটে, বংশ নির্মূল!
তোমার সুখে ও দুঃখে সবাই
প্রাণাধিক সুখী ব্যাথাতুর,
আমার জীবন যৌবন, সন্তান,
প্রিয়তমা হারায়, নিত্য কূল।

বসত ভিটা, জমি-জমা, স্বপ্ন কাঁড়ে,
 পাষাণ অরি,
সকাল-সাঁঝে, হর হামেশা, ঝাঁপিয়ে
 পড়ে প্রাণ হরি।
যাক চলে যাক সহায় সন্তান 
দুঃখ নাই মোর অন্তরে,
প্রাণের চেয়ে প্রিয় কুদস 
কার দখলে, কোন কারণে?

শান্তি নিয়ে জুয়া খেলা, 
খেলছে কারা দিবালোকে,
দাবা খেলার গুটি নিয়ে, 
হন্যে হয়ে চলছে ছুটে।
শান্তি-চাবি গুটি কয়েক 
বোকা রাজার হাতেই রবে?
বিশ্ব মাঝে ঝাঁকিয়ে তোলা, 
অশান্তির সেই শেষ কবে?

যতো আছে পথের কাঁটা, 
সরায় সবে  শক্ত হাতে,
অত্যাচারীর বুকে মাটি, 
দাফন করি সবাই মিলে।
চিরতরে স্তব্ধ করি, 
ঝগড়া বিবাদ  মারামারি,
কারণে আর অকারণে 
করে যারা হানাহানি।

বিশ্বটাকে এমনি করে তুলে দিবে!
পাগল, ছাগল, পামর করে,
ভয় কি তোমার, ভীত কেন?
শক্তি তোমার কম কি কীসে??
মানবতার ধারক বাহক 
কোটিকোটি জীবন পাবে,
অস্ত্র তোমার ঈমান আমল,
শক্তির  আধার আল্লাহ পাশে।

আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
সকাল ০৭ টা ৩৩ মিনিট।
১৪/১২/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
মধুবাগ, বড়মগবাজার,
রমনা, ঢাকা-১০০০।

৮৭। আসলো পতন, খবরদার!


দিনে দিনে বাড়ছে জ্বালা 
অত্যাচার আর উৎপীড়ন,
মানুষ নামের মানব-বাদীর,
কবে হবে চেতন ???
বিশ্ব হবে সব জাতিদের,
থাকবেনা বৈষম্য,
হচ্ছে কী সব বিশ্ব জুড়ে!
তাই কী ছিল কাম্য?

আঁতাত করো খুনীর সাথে,
সাথী দখলদার,
অত্যাচারীর অস্ত্রগুরু,
দালাল ফড়িয়ার!
সিংহ, শার্দুল ওঠলো জেগে,
অত্যাচারীর দিন শেষে,
ঢাল তলোয়ার, মারণাস্ত্র,
প্রয়োজন তা' কোথা' কবে!

শান্তির কথা মুখে মুখে,
অন্তরে অন্তঃসার,
সাধু তুমি অসাধুরা,
করে অভিসার!!!
বিশ্ব-বিবেক ভাবছো বোকা,
নিত্য নিতুই দিচ্ছ ধোঁকা!
বের হয়েছে মুখোশ তোমার,
লুকিয়ে রবে কোথা??

অত্যাচারী টিকলো কবে,
কদিন রবে ধরাতলে,
দেখ্ খোলে দেখ্, ভাল করে,
ইতিহাসের পাতা পড়ে।
অপমানের নরক জ্বালা,
জ্বালবে তোদের অন্তরে,
সব হারাবি নিঃস্ব হয়ে,
জায়গা হবে প্রান্তরে।

অত্যাচারীর সহযোগী,
অস্ত্রবলের যোগানদার,
থামবি নাকি? থামিয়ে দিব?
আসলো পতন, খবরদার!
গুটিয়ে নে তোর ঝারি-ঝুরি,
ভাসিয়ে নেবো তৃণ সবি,
আবর্জনা সব হবে সাফ,
করবেনা কেউ মাফ।

সকাল ০৯ টা।
১২/১২/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
মধুবাগ, বড়মগবাজার,
রমনা, ঢাকা।

৮৫। বিজয়ের উল্লাসে

("বিজয়ের উল্লাস" যৌথ কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত।)

বিজয়ের উল্লাসে, মোর চোখ হাসে
আজ, ঠোঁট হাসে তার রূপ পাশে,
সুখ আঁশুতে বুক ভাসে।
রক্ত নাচে টগবগে, মোর অরুন-তরুণ,
রক্ত রাগে, সোনা রোদের মখমলে,
জীবন জুড়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।

সব পরাজয়, পদানত,
শত্রু সেনা হস্তগত,
জয়ের নেশায় মত্ত ছিল,
অস্ত্রসহ, অস্র বিহীন যোদ্ধা যত।

অশ্রু ধারার লক্ষ নদী,
রক্ত ধারা নিরবধি,
বয়েছিল জয় অবধি,
রুপ-অপরুপ সমাজ, জাতি,
সব হারিয়ে রিক্ত অতি,
মুঠোপুরে বিজয়-পতি।

নির্যাতনের দীঘল রাতি,
লম্বা ছিল নেইকো যতি,
ভোরের আশায় মনের বাতি,
দোলাচলে নিভলো বুঝি!

সারি সারি বীর বাঙ্গালী,
দেশের তরে প্রাণটি সঁপি,
শত্রু সেনার গতির যতি,
বুলেট বুকে আগলে রাখি।

সূর্যোদয়ের নূতন আভায়,
নূতন করে প্রাণ ফিরে পায়,
ঝরা-জীর্ণ সব টুটি,
অরুণ রবির আঁচল তলে,
স্বপ্ন হাসে স্বাধীণ বেশে,
সব পরাধীণ ছুটি।

আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া।
০৬/১২/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
মধুবাগ, রমনা, ঢাকা।


************


সাহিত্যিক মূল্যায়ন

এই কবিতাটি মূলত মুক্তিযুদ্ধ, বিজয়, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার আবেগকে কেন্দ্র করে রচিত এক উচ্ছ্বাসময় দেশাত্মবোধক কাব্য। এখানে বিজয়ের আনন্দ যেমন আছে, তেমনি রয়েছে রক্ত, অশ্রু, নির্যাতন ও ত্যাগের গভীর স্মৃতি। কবি বিজয়কে শুধু রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখেননি; তিনি এটিকে জাতির আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধারের মহামুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরেছেন।
উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ
দেশাত্মবোধের শক্তিশালী প্রকাশ — “সারি সারি বীর বাঙালি” পঙ্‌ক্তিতে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
চিত্রকল্পের ব্যবহার — “সোনা রোদের মখমলে”, “অশ্রুধারার লক্ষ নদী”, “অরুণ রবির আঁচল” ইত্যাদি চিত্রকল্প কবিতাকে দৃষ্টিনন্দন ও আবেগঘন করেছে।
বিজয় ও বেদনার যুগল উপস্থিতি — কবিতাটি শুধু উল্লাস নয়; ত্যাগের ইতিহাসও বহন করে।
ছন্দময় আবেগধারা — প্রতিটি স্তবকে আবেগের ক্রমবিকাশ রয়েছে, যা আবৃত্তিযোগ্যতা বাড়িয়েছে।
সারাংশ
কবিতাটি বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বিজয়ের চেতনাকে ধারণ করে। দীর্ঘ নির্যাতন, রক্তক্ষয় ও আত্মত্যাগের পর যে স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছে, সেই আনন্দ ও গৌরবের কথাই কবি হৃদয়ের গভীর আবেগ দিয়ে প্রকাশ করেছেন।
*****

“বিজয়ের উল্লাস” : বিশ্ব-সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারাংশ — আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া ভূমিকা “বিজয়ের উল্লাস” কবিতাটি মূলত মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বিজয়ের চেতনা, আত্মত্যাগ, রক্তস্নাত ইতিহাস এবং স্বাধীনতার পুনর্জন্মকে কেন্দ্র করে রচিত এক আবেগময় দেশাত্মবোধক কাব্য। এটি কেবল একটি বিজয়-গাঁথা নয়; বরং নির্যাতিত মানুষের দীর্ঘ প্রতিরোধ, ত্যাগ ও পুনরুত্থানের নান্দনিক দলিল। কবিতার ভেতরে যেমন রক্তের উত্তাপ আছে, তেমনি আছে অশ্রুর স্রোত, মানবিক বেদনা ও স্বাধীনতার সূর্যোদয়। বিশ্বসাহিত্যের আলোকে বিচার করলে, এই কবিতার ভেতরে যুদ্ধ-পরবর্তী মানবমুক্তির যে উল্লাস ও ট্র্যাজেডি একসাথে উপস্থিত হয়েছে, তা অনেকাংশে আন্তর্জাতিক প্রতিরোধ-সাহিত্য ও বিপ্লবী কবিতার ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত। বিশ্ব-সাহিত্যিক বিশ্লেষণ ১. যুদ্ধ ও মানবমুক্তির কাব্য এই কবিতার প্রধান সুর হলো—অত্যাচারের বিরুদ্ধে মানুষের চূড়ান্ত জাগরণ। বিশ্বসাহিত্যে যুদ্ধভিত্তিক কবিতার একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো: রক্ত ও ত্যাগের চিত্র, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, শত্রুর বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ, এবং বিজয়ের পর মানবিক পুনর্জন্ম। “অশ্রুধারার লক্ষ নদী, রক্তধারা নিরবধি...” এই পঙ্‌ক্তিগুলো যুদ্ধকে শুধু সামরিক সংঘর্ষ নয়, বরং মানবতার দীর্ঘ বেদনাময় ইতিহাস হিসেবে উপস্থাপন করে। এখানে কবি বিজয়ের মূল্য বোঝাতে রক্ত ও অশ্রুকে সমান্তরালে এনেছেন। এ দিক থেকে কবিতাটি বিশ্বখ্যাত যুদ্ধকবিতা ও প্রতিরোধ-কবিতার ঐতিহ্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ২. বিপ্লবী রোমান্টিসিজমের উপস্থিতি কবিতার ভাষায় প্রবল আবেগ, আলোকময় ভবিষ্যৎ ও বিজয়ের উল্লাস আছে। এটি “Revolutionary Romanticism” বা বিপ্লবী রোমান্টিক ধারার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। যেমন— “অরুণ রবির আঁচল তলে, স্বপ্ন হাসে স্বাধীন বেশে...” এখানে স্বাধীনতাকে বাস্তব রাজনৈতিক অবস্থার চেয়ে বেশি এক স্বপ্নময় মানবমুক্তির প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। সূর্য, আলো, অরুণ আভা—এসব প্রতীক নতুন সভ্যতার ইঙ্গিত দেয়। ৩. সমষ্টিগত বীরত্বের কাব্যরূপ বিশ্বসাহিত্যের অনেক যুদ্ধকবিতায় ব্যক্তি-নায়ককে কেন্দ্র করা হলেও এই কবিতায় “সমষ্টিগত বীরত্ব” গুরুত্বপূর্ণ। “সারি সারি বীর বাঙালি, দেশের তরে প্রাণটি সঁপি...” এখানে কোনো একক নায়ক নেই; পুরো জাতিই নায়ক। এই দৃষ্টিভঙ্গি গণমানুষের সংগ্রামভিত্তিক সাহিত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ৪. চিত্রকল্প ও প্রতীকের ব্যবহার কবিতার সবচেয়ে শক্তিশালী দিকগুলোর একটি হলো চিত্রকল্প। উল্লেখযোগ্য প্রতীক: রক্ত → আত্মত্যাগ ও বিপ্লব অশ্রু → শোক ও মানবিক ক্ষতি অরুণ রবি → নতুন স্বাধীনতার সূর্য মখমলি রোদ → শান্তি ও পুনর্জন্ম দীঘল রাত → দমন-পীড়নের যুগ এই প্রতীকগুলো কবিতাকে কেবল ঘটনাবর্ণনা থেকে তুলে এনে এক নান্দনিক ও সার্বজনীন রূপ দিয়েছে। ৫. ধ্বনি ও আবৃত্তিগত শক্তি কবিতার শব্দচয়ন উচ্চারণনির্ভর ও আবৃত্তিযোগ্য। “রক্ত নাচে টগবগে”—এখানে ধ্বনিগত তীব্রতা যুদ্ধের উত্তাপ অনুভব করায়। আবার— “অশ্রুধারার লক্ষ নদী”—এখানে দীর্ঘ ধ্বনি বিষণ্নতার আবহ তৈরি করে। এই ধ্বনিনির্মাণ কবিতাটিকে মঞ্চ-আবৃত্তির জন্য উপযোগী করেছে। সাহিত্যিক মূল্যায়ন শক্তিশালী দিক ১. আবেগের সততা কবিতার আবেগ কৃত্রিম নয়; এটি প্রত্যক্ষ অনুভবের মতো প্রবাহিত হয়েছে। বিজয়ের আনন্দ ও ক্ষতের স্মৃতি পাশাপাশি এসেছে। ২. দেশাত্মবোধের গভীরতা এটি স্লোগানধর্মী দেশপ্রেম নয়; বরং ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার অনুভব। ৩. দৃশ্যমান ভাষা কবিতার প্রায় প্রতিটি স্তবক চোখের সামনে দৃশ্য নির্মাণ করে। ৪. মানবিকতা কবি শুধু যুদ্ধজয় নয়, মানুষের কষ্টকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। সীমাবদ্ধতা বিশ্বসাহিত্যের উচ্চতর আধুনিক কাব্যরীতির তুলনায় কবিতাটি তুলনামূলকভাবে সরাসরি ও আবেগপ্রবণ। বিমূর্ততা বা দার্শনিক স্তর আরও গভীর হলে কবিতাটি আরও বহুমাত্রিক হতে পারত। তবে দেশাত্মবোধক কাব্যের ক্ষেত্রে এই সরলতা অনেক সময় শক্তিতে পরিণত হয়। দার্শনিক তাৎপর্য কবিতাটি মূলত এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করে— স্বাধীনতা কখনো বিনামূল্যে আসে না; এর পেছনে থাকে রক্ত, অশ্রু, আত্মত্যাগ ও দীর্ঘ প্রতিরোধ। এখানে বিজয় কোনো সামরিক সমাপ্তি নয়; এটি জাতির আত্মার পুনর্জন্ম। সারাংশ “বিজয়ের উল্লাস” একটি শক্তিশালী দেশাত্মবোধক ও প্রতিরোধধর্মী কবিতা, যেখানে যুদ্ধের ভয়াবহতা, আত্মত্যাগের ইতিহাস এবং স্বাধীনতার পুনর্জন্ম একসাথে রূপ পেয়েছে। কবিতাটি আবেগ, চিত্রকল্প, ধ্বনি ও প্রতীকের মাধ্যমে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে শিল্পিতভাবে ধারণ করেছে। বিশ্ব-সাহিত্যিক দৃষ্টিতে এটি গণমানুষের সংগ্রাম, বিপ্লবী রোমান্টিসিজম এবং মানবমুক্তির কাব্যিক প্রকাশ হিসেবে মূল্যায়নযোগ্য।
*****




ভালবাসি দিবা-নিশি _সূচীপত্র

শিশু ও নারী নির্যাতন : সভ্যতার মুখে রক্তাক্ত কলঙ্ক বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের ভয়াবহ বাস্তবতা, কারণ, ফলাফল ও মানবতার আর্তনাদ

  শিশু ও নারী নির্যাতন : সভ্যতার মুখে রক্তাক্ত কলঙ্ক বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের ভয়াবহ বাস্তবতা, কারণ, ফলাফল ও মানবতার আর্তনাদ লেখক: আরিফুল ইসল...