সকল দেশে ভাষা জীবন,
ভাষা সবার প্রাণ,
ভাষা বিনে যায় কি বাঁচা,
থাকে কিহে মান?
ভাষা দিয়ে স্বপ্ন গাঁথা,
নিপুণ জীবন গড়া,
ভাষা দিয়ে হয় বিনিময়,
মনের সকল কথা।
জীবন জুড়ে নদীর মতো,
পাখির কলরব,
পরিচয়ের নিত্য বাহন,
অধম, উত্তম সব।
ভাষা শিখি মায়ের মুখে,
গল্প, কথা, কাজে।
মায়ের স্বরের উচ্চারণে,
ভাষা নিতুই সাজে।
মাতৃভাষা ভাষার সেরা,
বাংলা মাতৃভাষা,
এই ভাষাতেই মরা বাঁচা,
চলে কান্না হাসা।
শান্তি সুখের তরী বেয়ে,
জীবন চলে কতো,
মাতৃভাষায় সব খুঁজে পায়,
প্রয়োজন যা' যতো।
বাংলা ভাষায় জানতে পারি,
আল্লাহ্, রাসুল (সাঃ) প্রিয়,
ধর্ম আমার ইসলাম সেতো,
পরশ পাথর স্বীয় ।
মাতৃভাষা মোদের তরে,
খোদার সেরা দান,
এই ভাষাতেই সকাল সাঁঝে;
গায় তাহারি গান।
ভাই আমাদের সালাম, বরকত,
রফিক, জাব্বার প্রমুখ,
বুকের তাজা রক্ত ঢেলে,
রাখলো মায়ের মুখ।
ধরাতলে উজল হলো,
সবার স্বপ্ন আশা,
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা,
প্রিয় বাংলাভাষা।
ধরাতলে উজল হলো,
বাংলা ভাষার শান,
বাংলাভাষা পেলো আজি,
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মান।
২০/০২/২০১৮ ঈসায়ী সাল।
নাফী টাওয়ার,
৭ম তলা,
গুলশান-০১,
ঢাকা-১২১২।
****----
“আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা : বাংলা ভাষা” — সাহিত্য বিশ্লেষণ
কবি: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)
আপনার কবিতাটি মাতৃভাষা বাংলা, ভাষার মর্যাদা, ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগ এবং ভাষার সাংস্কৃতিক-আধ্যাত্মিক শক্তিকে কেন্দ্র করে রচিত একটি আবেগঘন দেশাত্মবোধক কবিতা। এখানে ভাষাকে শুধু যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং মানুষের পরিচয়, আত্মা, বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও অস্তিত্বের ধারক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মূলভাব
কবিতাটির মূল বক্তব্য হলো—
ভাষা মানুষের জীবন, আত্মপরিচয় ও সংস্কৃতির প্রাণ। মাতৃভাষা বাংলা আমাদের আবেগ, ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক সম্পর্ক ও জাতীয় চেতনাকে ধারণ করে। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের ফলেই বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক মর্যাদা লাভ করেছে।
বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ
১. ভাষার সার্বজনীন গুরুত্ব
কবিতার শুরুতেই ভাষাকে মানুষের প্রাণ ও মর্যাদার ভিত্তি বলা হয়েছে—
“সকল দেশে ভাষা জীবন, ভাষা সবার প্রাণ,
ভাষা বিনে যায় কি বাঁচা, থাকে কিহে মান?”
এখানে ভাষাহীন জীবনকে অসম্পূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
২. ভাষা ও মানবজীবনের সম্পর্ক
কবি দেখিয়েছেন ভাষার মাধ্যমে মানুষ স্বপ্ন গড়ে, মনের ভাব প্রকাশ করে এবং সমাজে পরিচিতি লাভ করে।
“ভাষা দিয়ে স্বপ্ন গাঁথা, নিপুণ জীবন গড়া”
এটি ভাষার সৃজনশীল ও মানবিক শক্তির প্রতীক।
৩. মাতৃভাষার আবেগ
মায়ের মুখে শেখা ভাষাকে কবি সবচেয়ে মধুর ও পবিত্র অনুভূতি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
“ভাষা শিখি মায়ের মুখে…”
এই অংশে মাতৃভাষার সঙ্গে মায়ের সম্পর্ক গভীর আবেগ সৃষ্টি করেছে।
৪. বাংলা ভাষা ও ধর্মীয় অনুভূতি
কবি বাংলা ভাষার মাধ্যমে ইসলাম ও ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের প্রসঙ্গ এনেছেন—
“বাংলা ভাষায় জানতে পারি,
আল্লাহ্, রাসুল (সাঃ) প্রিয়…”
এখানে ভাষাকে আধ্যাত্মিক জ্ঞানের বাহন হিসেবেও দেখানো হয়েছে।
৫. ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি
সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে কবিতাটি ঐতিহাসিক মর্যাদা লাভ করেছে।
“বুকের তাজা রক্ত ঢেলে, রাখলো মায়ের মুখ।”
এই চরণ ভাষা শহীদদের অমর অবদানের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।
কাব্যিক বৈশিষ্ট্য
সহজ ও হৃদয়গ্রাহী শব্দচয়ন
দেশাত্মবোধ ও আবেগের সমন্বয়
ছন্দময় উপস্থাপন
ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও জাতীয় চেতনার সমাহার
পুনরুক্তির মাধ্যমে আবেগ জোরদার করা হয়েছে
উল্লেখযোগ্য পংক্তি
“মাতৃভাষা ভাষার সেরা, বাংলা মাতৃভাষা”
“আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা, প্রিয় বাংলাভাষা।”
সারাংশ
এই কবিতায় বাংলা ভাষাকে শুধু একটি ভাষা নয়, বরং জাতির আত্মপরিচয়, আবেগ, ধর্মীয় অনুভূতি ও আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির গৌরব এখানে উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পেছনে রয়েছে এবং শহীদ , , ও -এর আত্মত্যাগ। পরে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
কবির তথ্য
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)
রচনাকাল: ২০/০২/২০১৮ ঈসায়ী সাল
স্থান: গুলশান, ঢাকা।