নেতা মেনে যার কাছে ভাই সব কর সমর্পণ;
সরলতার সুযোগ নিয়ে,সব করে সে ভোজন।
যাদের কাছে আশার আলো,তারা করে ভান,
দিবালোকে ঘুমায় তারা; বাড়ে তাদের মান।
কষ্টে আছি, কষ্টে থাক, কার কি আসে যায়?
তোমার আমার রক্ত চুষে গভীর ঘুমে যায়।
জমি জিরাত যাইবা আছে, রাখবেনা তা’ বাকী!
ঘুরে-ফিরে যায় দেখিয়ে শুভংকরের ফাঁকি।
পোষাক দেখে জানবে নাক তাহার চরিত্র;
কথার ফাঁকে বোঝতে হবে কেমন সে পবিত্র!
কথা কাজের মারের প্যাঁচে জানবে কি কি চায়?
তোমার আমার ভালো তারা কভু নাহি চায়!
“বদলে দেবো” সমাজটাকে শপথ করো যদি,
থর-থর করে উঠবে কেঁপে,তাদের নরম গদি;
পাহাড় সম সাহস দেখে, মরবে জালেম ভয়ে;
তোমার আঘাত রুখতে তাদের সাধ্য নাহি রবে।
তোমার তুমি নয়তো একা রাখবে মনে সদা,
সবার সাহস শক্তি পাবে,রবে প্রাণের দোয়া।
সবাই মিলে সমাজটাকে নতুন করে গড়ি,
শাসণ-শোষণ হোক অবসান;নিজের মতো থাকি।
আরিফ শামছ্
সন্ধ্যা ০৬ টা ৩০
২৮.০৯.২০১৫
আশা টাওয়ার,শ্যামলী, ঢাকা।
*************
কবিতা: নতুন করে গড়ি
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম
এই কবিতাটি সামাজিক জাগরণ, নেতৃত্বের ভণ্ডামি, শোষণবিরোধী চেতনা এবং সম্মিলিত পরিবর্তনের এক প্রতিবাদী আহ্বান। এখানে কবি আরিফ শামছ্ ব্যক্তিগত বেদনা নয়, বরং সমাজের দীর্ঘদিনের প্রতারণা, শাসণ ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ডাক দিয়েছেন। “নতুন করে গড়ি” শুধু একটি শিরোনাম নয়—এটি পুনর্গঠনের এক বিপ্লবী সংকল্প।
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. নেতার মুখোশ ও বিশ্বাসঘাতকতা
“নেতা মেনে যার কাছে ভাই সব কর সমর্পণ;
সরলতার সুযোগ নিয়ে, সব করে সে ভোজন।”
কবিতার শুরুতেই নেতৃত্বের প্রতি অন্ধ বিশ্বাসের বিপদ তুলে ধরা হয়েছে। যাদের হাতে মানুষ আশা সমর্পণ করে, অনেক সময় তারাই সেই সরলতাকে শোষণের অস্ত্র বানায়। এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার এক নির্মম প্রতিফলন।
Kazi Nazrul Islam-এর বিদ্রোহী কণ্ঠের মতো এখানেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্পষ্ট।
২. জনগণের রক্তে ক্ষমতার প্রাসাদ
“তোমার আমার রক্ত চুষে গভীর ঘুমে যায়।”
এই লাইনটি শোষণব্যবস্থার শক্তিশালী প্রতীক। সাধারণ মানুষের শ্রম, কষ্ট ও ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতাবানদের নিশ্চিন্ত জীবন—এই বৈপরীত্য কবিতাকে সামাজিক প্রতিবাদের উচ্চতায় নিয়ে যায়।
৩. বাহ্যিকতা বনাম চরিত্র
“পোষাক দেখে জানবে নাক তাহার চরিত্র;”
এখানে কবি সামাজিক প্রতারণার আরেক স্তর উন্মোচন করেছেন। বাহ্যিক ভদ্রতা, পোশাক বা অবস্থান নয়—মানুষকে চিনতে হলে তার কথা ও কাজ দেখতে হবে। এটি নৈতিক সাহিত্যের চিরন্তন শিক্ষা।
Leo Tolstoy-ও মানুষের প্রকৃত মূল্যকে বাহ্যিকতার ঊর্ধ্বে বিচার করেছেন।
৪. পরিবর্তনের শপথ
“বদলে দেবো সমাজটাকে শপথ করো যদি,”
এই পঙক্তি কবিতার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অভিযোগ থেকে কর্মে, হতাশা থেকে প্রতিরোধে উত্তরণ ঘটে। কবি শুধু সমস্যা দেখাননি—সমাধানের জন্য শপথের আহ্বান জানিয়েছেন।
৫. জালেমের ভয়
“থর-থর করে উঠবে কেঁপে, তাদের নরম গদি;”
এখানে প্রতিরোধকে ভয়ংকর শক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে। জনগণ যদি সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হয়, অন্যায় টিকতে পারে না। “নরম গদি” ক্ষমতার আরাম ও দুর্নীতির প্রতীক।
৬. সম্মিলিত সমাজ নির্মাণ
“সবাই মিলে সমাজটাকে নতুন করে গড়ি,”
শেষাংশে কবিতা ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়—সমষ্টিকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। পরিবর্তন একার পক্ষে সম্ভব নয়; প্রয়োজন সম্মিলিত সাহস, নৈতিকতা এবং মানবিক সংহতি।
সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো—
প্রতিবাদী ও জাগরণধর্মী ভাষা
নেতৃত্বের ভণ্ডামির নির্ভীক উন্মোচন
সামাজিক শোষণের বাস্তব চিত্র
পরিবর্তনের ইতিবাচক আহ্বান
সহজ অথচ তীব্র প্রভাবশালী শব্দচয়ন
এটি কেবল সমালোচনার কবিতা নয়; বরং নতুন সমাজ নির্মাণের কাব্যিক ইশতেহার।
সারমর্ম
“নতুন করে গড়ি” কবিতায় কবি দেখিয়েছেন—অন্ধভাবে নেতার ওপর নির্ভর করলে মানুষ প্রতারিত হয়। শোষকরা সাধারণ মানুষের শ্রম ও রক্তকে ব্যবহার করে নিজেদের ক্ষমতা ও আরাম বজায় রাখে।
তিনি আহ্বান জানিয়েছেন—মানুষকে সচেতন হতে হবে, কথা ও কাজ দিয়ে চরিত্র চিনতে হবে, এবং সম্মিলিতভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সমাজকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হবে।
এক বাক্যে সারাংশ:
এই কবিতা শেখায়—সচেতন ঐক্যই শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক নতুন সমাজ নির্মাণের প্রথম শর্ত।
@Chatgptai2025
*******

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Heartfelt Thanks for your valuable comments.