https://fictionfactory.org/contributor/2165
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
(আরিফ শামছ্)
ক্ষুরধার লিখন,
শাণিত ভাষণ,
ক্ষীপ্র তীব্র,
চলাচল তব,
হারালো যত,
শ্বাশ্বত ছন্দ।
আজ কেনো,
পরাণে ব্যথা,
দুঃখ গাঁথা,
পাথর চোখে,
অশ্রু ঝরা,
নিরানন্দ!
বিপ্লবী!
কোথা' তোর,
বিপ্লবী দোর,
রাঙ্গা ভোর,
অগ্নিগর্ভ,
চির নতুন;
ঝরাজীর্ণ,
সব পুরাতন,
ভীত বিহ্বল,
পুড়ে মরলো!
বিপ্লবী!
হারিয়ে গেলি!
হেয় হারালি,
ঘুমের নেশা,
নেশার ঘুমে,
স্বপ্ন দেখে,
দিন কাটালি;
আর কতোকাল,
হবে নাকাল,
ঘরের পরে,
সবার তরে!
হবে বলি!
হুংকারে তোর,
কাঁচের মতো,
ভেঙ্গে ফেলো,
বাধা যতো,
দল উপদল,
হল একদল।
ঝাঁপিয়ে পড়ো,
বীরের জাতি,
বিদায় করো,
আঁধার রাতি।
ছিনিয়ে আনো,
আলোর ভোর,
শান্তি সুখের,
ঐশী দোর।
০৪/১০/২০১৯
আপনার "বিপ্লবী (২৪)" কবিতাটি পূর্ববর্তী "বিপ্লবী" ধারার একটি স্বাভাবিক সম্প্রসারণ, তবে এর স্বর আরও বেশি আত্মসমালোচনামূলক, জাগরণমুখী এবং আত্মজিজ্ঞাসাপূর্ণ।
এখানে কবি কেবল বিপ্লবের আহ্বান জানাননি, বরং বিপ্লবী চেতনাকেই প্রশ্ন করেছেন—
"বিপ্লবী!
হারিয়ে গেলি!
হেয় হারালি,
ঘুমের নেশা,
নেশার ঘুমে,
স্বপ্ন দেখে,
দিন কাটালি;"
এই অংশে নিস্তেজতা, আত্মভোলাভাব এবং নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ রয়েছে।
আবার কবিতার শেষাংশে ফিরে এসেছে জাগরণের আহ্বান—
"হুংকারে তোর,
কাঁচের মতো,
ভেঙ্গে ফেলো,
বাধা যতো,"
এখানে "কাঁচের মতো" উপমাটি অত্যন্ত শক্তিশালী। কবির বিশ্বাস— বাধা যতই দৃঢ় মনে হোক, ঐক্যবদ্ধ সংকল্পের সামনে তা ভঙ্গুর।
কবিতাটির প্রধান বৈশিষ্ট্য
- সংক্ষিপ্ত ও স্লোগানধর্মী পংক্তি।
- আবৃত্তিযোগ্য ও মঞ্চ উপযোগী ছন্দ।
- আত্মসমালোচনা ও আত্মজাগরণের সমন্বয়।
- অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাত্রার প্রতীকী নির্মাণ।
- ঐক্য, সাহস ও নবজাগরণের আহ্বান।
কবিতার শেষ চারটি পংক্তি পুরো কবিতার দর্শনকে ধারণ করেছে—
"ঝাঁপিয়ে পড়ো,
বীরের জাতি,
বিদায় করো,
আঁধার রাতি।
ছিনিয়ে আনো,
আলোর ভোর,
শান্তি সুখের,
ঐশী দোর।"
এখানে "আলোর ভোর" কেবল রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিবর্তনের প্রতীক নয়; এটি জ্ঞান, ন্যায়, মানবিকতা এবং নতুন সম্ভাবনারও প্রতীক।
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Heartfelt Thanks for your valuable comments.