বুধবার, মে ২০, ২০২৬

জলাতঙ্ক (Rabies) রোগ ও সচেতনতা

 জলাতঙ্ক (Rabies) রোগ

জলাতঙ্ক একটি অত্যন্ত ভয়ংকর ভাইরাসজনিত রোগ। এটি একবার লক্ষণ প্রকাশ পেলে প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রেই মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তবে সময়মতো টিকা ও চিকিৎসা নিলে এটি পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

জলাতঙ্ক কী?

জলাতঙ্ক বা রেবিস হলো একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা সাধারণত আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এই ভাইরাস মানুষের স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্ক আক্রমণ করে।

রোগের কারণ

জলাতঙ্ক রোগের প্রধান কারণ হলো Rabies virus।

যেসব প্রাণীর মাধ্যমে বেশি ছড়ায়

কুকুর (সবচেয়ে বেশি)

বিড়াল

শিয়াল

বানর

বাদুড়

নেকড়ে ইত্যাদি

কীভাবে সংক্রমণ হয়?

আক্রান্ত প্রাণীর কামড়

আঁচড়

লালা ক্ষতস্থানে লাগা

চোখ, নাক বা মুখে সংক্রমিত লালা প্রবেশ

লক্ষণ ও আলামত

জলাতঙ্কের লক্ষণ সাধারণত কামড়ের কয়েকদিন থেকে কয়েকমাস পর দেখা দিতে পারে।

প্রাথমিক লক্ষণ

জ্বর

মাথাব্যথা

দুর্বলতা

বমি বমি ভাব

কামড়ের স্থানে ঝিনঝিন বা জ্বালা

পরবর্তী ভয়ংকর লক্ষণ

পানি দেখলে ভয় পাওয়া (Hydrophobia)

অতিরিক্ত উত্তেজনা

গলা দিয়ে পানি নামতে কষ্ট

অস্বাভাবিক আচরণ

খিঁচুনি

শ্বাসকষ্ট

পক্ষাঘাত

কোমা

পানি ভয় কেন হয়?

জলাতঙ্কে গলার পেশীতে তীব্র খিঁচুনি হয়। তাই পানি খেতে গেলে রোগী প্রচণ্ড কষ্ট অনুভব করে এবং পানিকে ভয় পেতে শুরু করে।

রোগের সমস্যা ও ঝুঁকি

মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি

স্নায়ুতন্ত্র বিকল হওয়া

শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া

মৃত্যু

কামড়ানোর পর কী করবেন?

সঙ্গে সঙ্গে যা করতে হবে

১. ক্ষতস্থান কমপক্ষে ১৫ মিনিট সাবান ও প্রবাহিত পানি দিয়ে ধুতে হবে।

২. অ্যালকোহল বা আয়োডিন লাগানো যেতে পারে।

৩. দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

৪. টিকা নিতে হবে।

যা করা যাবে না

ক্ষতস্থানে মাটি, মরিচ, তেল, ছাই লাগানো যাবে না

ওঝা বা কুসংস্কারের চিকিৎসা নেওয়া যাবে না

ক্ষত সেলাই করতে তাড়াহুড়া করা যাবে না

চিকিৎসা

জলাতঙ্কের লক্ষণ শুরু হওয়ার আগে চিকিৎসা নিলে রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

চিকিৎসার ধাপ

১. ক্ষত পরিষ্কার করা

এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক চিকিৎসা।

২. Anti-Rabies Vaccine

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনে কয়েক ডোজ টিকা নিতে হয়।

৩. Rabies Immunoglobulin (RIG)

গভীর কামড় বা ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে দেওয়া হয়।


প্রতিরোধ

পোষা প্রাণীকে নিয়মিত টিকা দেওয়া

রাস্তার কুকুর থেকে সাবধান থাকা

শিশুদের সচেতন করা

প্রাণীর অস্বাভাবিক আচরণ দেখলে দূরে থাকা

কখন জরুরি চিকিৎসা নেবেন?

কুকুর বা বিড়াল কামড়ালে

বন্য প্রাণীর আঁচড় লাগলে

ক্ষত থেকে রক্ত বের হলে

প্রাণী অস্বাভাবিক আচরণ করলে


গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সময়মতো টিকা নিলে জলাতঙ্ক শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য। World Health Organization

সচেতনতামূলক বাণী

“প্রাণীর কামড়কে কখনোই ছোট করে দেখবেন না। দ্রুত চিকিৎসাই জীবন বাঁচাতে পারে।”



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Heartfelt Thanks for your valuable comments.

ভালবাসি দিবা-নিশি _সূচীপত্র

শিশু ও নারী নির্যাতন : সভ্যতার মুখে রক্তাক্ত কলঙ্ক বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের ভয়াবহ বাস্তবতা, কারণ, ফলাফল ও মানবতার আর্তনাদ

  শিশু ও নারী নির্যাতন : সভ্যতার মুখে রক্তাক্ত কলঙ্ক বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের ভয়াবহ বাস্তবতা, কারণ, ফলাফল ও মানবতার আর্তনাদ লেখক: আরিফুল ইসল...