ভালোবাসি দিবানিশি
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
(আরিফ শামছ্)
নিরাকপরা ভর দুপুরে,
বসে আছি আনমনে,
সুখের বেলা যায় চলে যায়,
কতো দ্রুত আপন মনে।
ভাবছি কতো জীবন নিয়ে,
পাইনা ভেবে কূল,
অলস দেহে দেখছি তারে,
নেইকো কোন ভূল।
হাজির হলো কলম-খাতা,
কোমল হাতের স্পর্শে,
মনের কথা ঝরবে কবে,
ইতিহাসের গর্ভে।
ভালবাসি, কতো তারে,
বলবো কেমন করে,
মনের কথা মনে ওঠে,
মনেই ঝরে পড়ে।
নাইবা কোন ভূল আমারি,
নেইকো ছিলো তার,
ভালবাসি দিবা-নিশি,
ভালবাসে অপার।
সুবাস সেতো ফুলের মতো,
অতুল মৃগনাভীর,
সোনারোদের নরম বিকেল,
দেখি রঙ্গিন আবীর।
ভাসছে কভু সাঁঝের ভেলা,
বেলা অবেলায়,
স্বপ্ন ডিঙ্গি তীরে ভীরে,
যখন মনে চায়।
ভালবাসার তারা কতো,
দেখি তা'রই আকাশে,
প্রেমের সুবাস পাই খুঁজে পাই,
মৃদুমন্দ বাতাসে।
বাঁধ মানেনা মনের কথা,
কলম দিয়ে ঝরে,
প্রাণের প্রিয়া, যাই বলে সব,
ভালোবাসার তরে।
সকাল ১১:৩০ মিনিট,
০২/১১/২০১০ ঈসায়ী সাল।
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
ভাদুঘর, সদর, বি-বাড়ীয়া-৩৪০০।
বসে আছি আনমনে,
সুখের বেলা যায় চলে যায়,
কতো দ্রুত আপন মনে।
ভাবছি কতো জীবন নিয়ে,
পাইনা ভেবে কূল,
অলস দেহে দেখছি তারে,
নেইকো কোন ভূল।
হাজির হলো কলম-খাতা,
কোমল হাতের স্পর্শে,
মনের কথা ঝরবে কবে,
ইতিহাসের গর্ভে।
ভালবাসি, কতো তারে,
বলবো কেমন করে,
মনের কথা মনে ওঠে,
মনেই ঝরে পড়ে।
নাইবা কোন ভূল আমারি,
নেইকো ছিলো তার,
ভালবাসি দিবা-নিশি,
ভালবাসে অপার।
সুবাস সেতো ফুলের মতো,
অতুল মৃগনাভীর,
সোনারোদের নরম বিকেল,
দেখি রঙ্গিন আবীর।
ভাসছে কভু সাঁঝের ভেলা,
বেলা অবেলায়,
স্বপ্ন ডিঙ্গি তীরে ভীরে,
যখন মনে চায়।
ভালবাসার তারা কতো,
দেখি তা'রই আকাশে,
প্রেমের সুবাস পাই খুঁজে পাই,
মৃদুমন্দ বাতাসে।
বাঁধ মানেনা মনের কথা,
কলম দিয়ে ঝরে,
প্রাণের প্রিয়া, যাই বলে সব,
ভালোবাসার তরে।
সকাল ১১:৩০ মিনিট,
০২/১১/২০১০ ঈসায়ী সাল।
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
ভাদুঘর, সদর, বি-বাড়ীয়া-৩৪০০।
[কবি, কবিতা বেগমকে, কবিতা আক্তারের মাঝে খোঁজে নেয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টা করতেছিলেন।]
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
“ভালোবাসি দিবানিশি” — বিশ্ব-সাহিত্যিক বিচার, বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারাংশ
কবি: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)
সামগ্রিক পরিচিতি
“ভালোবাসি দিবানিশি” একটি হৃদয়ময় প্রেমকবিতা, যেখানে প্রেম কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ নয়; বরং স্মৃতি, আকাঙ্ক্ষা, অনুচ্চারিত বেদনা ও আত্মিক সৌন্দর্যের এক কাব্যিক রূপ পেয়েছে। কবিতাটি মূলত অন্তর্মুখী আবেগের ধারক। এখানে প্রেমের উচ্চারণ সরাসরি হলেও তার ভেতরে রয়েছে নীরবতা, অপেক্ষা ও অপূর্ণতার গভীর অনুরণন।
সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. বিষয়বস্তু ও মূলভাব
কবিতার কেন্দ্রবিন্দু হলো—
অপ্রকাশিত অথচ গভীর প্রেম।
কবি এমন এক প্রেমের কথা বলেছেন, যা প্রকাশের চেয়ে অনুভবের ভেতরেই বেশি জীবন্ত। তিনি ভালোবাসেন “দিবা-নিশি”, কিন্তু সেই ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না উচ্চারণে; বরং কলম ও মনের গোপন স্তরে জমা থাকে।
এই দিক থেকে কবিতাটি বাংলা রোমান্টিক সাহিত্যের একটি চিরন্তন প্রবণতার ধারাবাহিকতা বহন করে—
যেখানে প্রেম মানে শুধু মিলন নয়, বরং স্মৃতি, কল্পনা, অভিমান ও আত্মিক নিবেদন।
২. কাব্যিক ভাষা ও শব্দচয়ন
কবিতার ভাষা সহজ, কোমল ও আবেগঘন।
বিশেষ করে নিম্নোক্ত পঙ্ক্তিগুলোতে কবির ভাষাগত কোমলতা স্পষ্ট—
“ভালবাসি, কতো তারে,
বলবো কেমন করে,”
এখানে ভাষা জটিল নয়, কিন্তু হৃদয়ের দ্বিধা ও আবেগকে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করেছে।
আবার—
“প্রেমের সুবাস পাই খুঁজে পাই,
মৃদুমন্দ বাতাসে।”
এখানে “সুবাস” ও “মৃদুমন্দ বাতাস” প্রেমকে দৃশ্যমান নয়, অনুভবযোগ্য এক অস্তিত্বে রূপ দিয়েছে।
৩. চিত্রকল্প (Imagery)
কবিতাটির অন্যতম শক্তি এর নরম ও রঙিন চিত্রকল্প।
যেমন—
“সোনারোদের নরম বিকেল”
“রঙ্গিন আবীর”
“সাঁঝের ভেলা”
“স্বপ্ন ডিঙ্গি”
“ভালবাসার তারা”
এসব চিত্রকল্প কবিতাকে শুধু পাঠযোগ্য নয়, দৃশ্যমানও করেছে। পাঠকের মনে একটি স্বপ্নময়, নস্টালজিক ও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
বিশ্বসাহিত্যের রোমান্টিক কবিতায় প্রকৃতি ও প্রেমের মেলবন্ধন খুব গুরুত্বপূর্ণ; এই কবিতাতেও সেই ধারা বিদ্যমান।
৪. মনস্তাত্ত্বিক দিক
কবিতাটি মূলত আত্মসংলাপধর্মী। কবি নিজের সঙ্গেই কথা বলছেন।
এখানে প্রেমিকার উপস্থিতি বাস্তবের চেয়ে স্মৃতি ও কল্পনায় বেশি।
শেষের মন্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ—
“কবি, কবিতা বেগমকে, কবিতা আক্তারের মাঝে খোঁজে নেয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টা করতেছিলেন।”
এখানে বাস্তব ও কল্পনার মিশ্রণ ঘটেছে। “কবিতা” নামটি ব্যক্তি ও সাহিত্য—উভয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
এটি মনস্তাত্ত্বিকভাবে নির্দেশ করে— কবি তাঁর কাঙ্ক্ষিত মানুষকে বাস্তবের মধ্যে খুঁজে না পেয়ে শব্দ ও কাব্যের জগতে খুঁজছেন।
বিশ্ব-সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ
রবীন্দ্রীয় প্রভাব
কবিতার কোমলতা, প্রকৃতি-নির্ভর আবহ ও নীরব প্রেমের অনুভব অনেকাংশে Rabindranath Tagore-এর গীতিকবিতার আবহ স্মরণ করিয়ে দেয়।
বিশেষত অনুভূতির ভেতর দিয়ে প্রেম প্রকাশের প্রবণতা রবীন্দ্রীয়।
নজরুলীয় আবেগ
অন্যদিকে প্রেমের আবেগময় উচ্চারণে Kazi Nazrul Islam-এর রোমান্টিক কবিতার ছায়াও লক্ষ্য করা যায়, যদিও এখানে বিদ্রোহ নয়, কোমলতা প্রধান।
পাশ্চাত্য রোমান্টিকতার ছোঁয়া
কবিতার “স্বপ্ন”, “সাঁঝ”, “বাতাস”, “তারাভরা আকাশ”—এই উপাদানগুলো John Keats বা William Wordsworth-এর রোমান্টিক কাব্যধারার আবহ মনে করিয়ে দেয়, যেখানে অনুভূতি ও প্রকৃতি একে অপরের প্রতিফলন।
নান্দনিক মূল্যায়ন
শক্তি
✔ আবেগের সততা
কবিতাটি কৃত্রিম নয়। অনুভূতি আন্তরিক বলেই পাঠকের হৃদয়ে পৌঁছাতে সক্ষম।
✔ চিত্রকল্পের সৌন্দর্য
“রঙ্গিন আবীর”, “স্বপ্ন ডিঙ্গি”, “সাঁঝের ভেলা”—এসব কাব্যিক উপমা কবিতাকে নান্দনিকতা দিয়েছে।
✔ সুরেলা গতি
পঙ্ক্তিগুলো পড়লে একটি মৃদু সংগীতধর্মী প্রবাহ অনুভূত হয়।
সীমাবদ্ধতা
◾ কিছু জায়গায় ছন্দের অসমতা
কিছু লাইনে মাত্রাবিন্যাস সমান নয়, ফলে আবৃত্তিতে সামান্য ভাঙন তৈরি হতে পারে।
◾ শব্দ পুনরাবৃত্তি
“মনের কথা”, “ভালবাসি” ইত্যাদি বারবার এসেছে। যদিও আবেগকে জোরালো করেছে, তবুও শিল্পিত সংযম আরও গভীরতা আনতে পারত।
দার্শনিক তাৎপর্য
এই কবিতা কেবল প্রেমের নয়; এটি মানুষের অন্তর্গত একাকীত্বেরও কবিতা।
মানুষ অনেক সময় যাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে, তাকে সরাসরি বলতে পারে না। তখন কলম হয়ে ওঠে তার আশ্রয়।
এই দিক থেকে কবিতাটি “অপ্রকাশিত অনুভূতির সাহিত্য”।
সারাংশ
“ভালোবাসি দিবানিশি” একটি কোমল, আবেগনির্ভর ও নস্টালজিক প্রেমকবিতা। এতে ব্যক্তিগত প্রেম ধীরে ধীরে আত্মিক ও কাব্যিক অভিজ্ঞতায় রূপ নিয়েছে। কবি তাঁর অনুভূতিকে সরল ভাষা, প্রকৃতি-নির্ভর চিত্রকল্প এবং সুরেলা আবেগের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
কবিতাটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—
এটি হৃদয়ের কথা হৃদয়ের ভাষায় বলেছে।
এখানে প্রেম উচ্চকণ্ঠ নয়, বরং নীরব;
প্রকাশ্য নয়, বরং অনুভবময়;
ক্ষণস্থায়ী নয়, বরং “দিবা-নিশি” স্থায়ী এক অন্তর্জাগতিক অনুরণন।
💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌
কবিতার নাম: “ভালোবাসি দিবানিশি—বন্ধু আমার”
রচয়িতা: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)
এই কবিতাটি মূলত এক গভীর, নীরব, অন্তর্মুখী ও আত্মিক প্রেমের কাব্যিক প্রকাশ। এখানে প্রেম কেবল ব্যক্তি-কেন্দ্রিক নয়; বরং স্মৃতি, আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি, অপেক্ষা ও কল্পনার এক মিশ্র মানবিক জগৎ হয়ে উঠেছে। কবি যেন বাস্তবের একজন মানুষকে খুঁজতে গিয়ে ভালোবাসারই এক বিমূর্ত প্রতিচ্ছবিকে আবিষ্কার করেন।
সাহিত্যিক বিচার-বিশ্লেষণ
১. ভাব ও আবেগের গভীরতা
কবিতার প্রথম স্তবক থেকেই একটি নিঃসঙ্গ অথচ কোমল আবহ তৈরি হয়েছে—
“নিরাকপরা ভর দুপুরে,
বসে আছি আনমনে,”
এখানে “ভর দুপুর” শুধু সময় নয়; এটি জীবনের এক স্থির, নিস্তব্ধ মানসিক অবস্থার প্রতীক। কবি যেন সময়ের ভেতরে বসে নিজের হৃদয়ের সঙ্গে কথা বলছেন।
আধুনিক বাংলা প্রেমের কবিতায় এমন আত্মসংলাপধর্মী অনুভূতি অনেকটা জীবনানন্দ দাশ-এর নিঃসঙ্গতা ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর আবেগময় প্রেমচেতনার সংমিশ্রণকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
২. প্রেমের ভাষা: সরল অথচ হৃদয়গ্রাহী
কবিতার অন্যতম শক্তি এর সহজ ভাষা। কোনো দুর্বোধ্য অলংকার বা জটিল দার্শনিকতা নেই। কিন্তু সরলতার মাঝেই অনুভূতির আন্তরিকতা প্রবল হয়ে উঠেছে।
যেমন—
“মনের কথা মনে ওঠে,
মনেই ঝরে পড়ে।”
এই পঙ্ক্তিতে প্রেমের এক ব্যর্থ উচ্চারণ ফুটে উঠেছে। ভালোবাসা আছে, কিন্তু তা ভাষায় সম্পূর্ণ প্রকাশিত হতে পারছে না। এটি বিশ্বসাহিত্যের চিরন্তন প্রেম-সংকট।
৩. চিত্রকল্প ও নান্দনিকতা
কবিতায় বেশ কিছু কোমল ও দৃশ্যমান চিত্রকল্প রয়েছে—
“সুবাস সেতো ফুলের মতো”
“সোনারোদের নরম বিকেল”
“রঙ্গিন আবীর”
“স্বপ্ন ডিঙ্গি”
“ভালবাসার তারা”
এসব চিত্রকল্প কবিতাটিকে দৃশ্যমান করে তোলে। পাঠক শুধু পড়ে না; অনুভবও করে।
বিশেষভাবে—
“স্বপ্ন ডিঙ্গি তীরে ভীরে”
এখানে “ডিঙ্গি” একটি সুন্দর প্রতীক। প্রেম যেন জীবনের নদীতে ভাসমান এক ছোট নৌকা—কখনো তীরে আসে, কখনো দূরে সরে যায়।
৪. আত্মিক প্রেম বনাম বাস্তব প্রেম
কবিতার শেষে কবির ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—
“কবি, কবিতা বেগমকে, কবিতা আক্তারের মাঝে খোঁজে নেয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টা করতেছিলেন।”
এই বাক্যটি পুরো কবিতার অন্তর্নিহিত বেদনা উন্মোচন করে। এখানে প্রেম কেবল প্রাপ্তির নয়; বরং অনুসন্ধানের। কবি যেন এক মানুষের মধ্যে আরেক মানুষের ছায়া খুঁজছিলেন। এটি মনস্তাত্ত্বিকভাবে “প্রতিস্থাপনমূলক প্রেম” (substitutional longing)-এর একটি উদাহরণ।
বিশ্বসাহিত্যে Marcel Proust স্মৃতি ও হারানো ভালোবাসাকে যেভাবে অনুসন্ধান করেছেন, এই কবিতার আবেগেও তার ক্ষুদ্র প্রতিধ্বনি অনুভূত হয়।
ছন্দ, গঠন ও ভাষাশৈলী
কবিতাটি মূলত স্বতঃস্ফূর্ত গীতিধর্মী ছন্দে লেখা। এটি কঠোর মাত্রাবৃত্ত বা অক্ষরবৃত্ত অনুসরণ না করলেও পাঠে সুরেলা অনুভূতি সৃষ্টি করে।
ভাষার বৈশিষ্ট্য:
সহজ ও আবেগনির্ভর
গ্রামীণ কোমলতা রয়েছে
কৃত্রিমতা কম
ব্যক্তিগত ডায়েরি-ধর্মী আন্তরিকতা আছে
এটি “হৃদয় থেকে উঠে আসা কবিতা”—যেখানে শিল্পের চেয়ে অনুভূতির প্রাধান্য বেশি।
দার্শনিক তাৎপর্য
এই কবিতায় প্রেমকে ক্ষণস্থায়ী আবেগ নয়, বরং এক দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অবস্থা হিসেবে দেখানো হয়েছে।
“ভালবাসি দিবা-নিশি”
এই “দিবা-নিশি” শব্দবন্ধ প্রেমকে সময়ের সীমার বাইরে নিয়ে গেছে। প্রেম এখানে:
স্মৃতি,
অপেক্ষা,
নিঃসঙ্গতা,
এবং আত্মিক আশ্রয়।
সাহিত্যিক মূল্যায়ন
শক্তির জায়গা
✔ আন্তরিক আবেগ
✔ সহজ অথচ হৃদয়স্পর্শী ভাষা
✔ সুন্দর প্রকৃতি-চিত্রকল্প
✔ ব্যক্তিগত স্মৃতি ও প্রেমের সংমিশ্রণ
✔ গীতিময়তা
উন্নয়নের সম্ভাবনা
কিছু স্থানে ছন্দ আরও মসৃণ করা যেতে পারে।
“ভূল” এর পরিবর্তে “ভুল” আধুনিক বানানে ব্যবহার করলে পাঠযোগ্যতা বাড়ে।
কয়েকটি স্তবকে শব্দসংখ্যা সামঞ্জস্য করলে আবৃত্তিযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্ব-সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ
বিশ্বসাহিত্যে প্রেমের কবিতার দুটি ধারা দেখা যায়—
অলংকারময় ও দার্শনিক প্রেম
ব্যক্তিগত ও অনুভবনির্ভর প্রেম
এই কবিতাটি দ্বিতীয় ধারার অন্তর্ভুক্ত। এটি পাঠকের কাছে বড় কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় না; বরং হৃদয়ের নিঃশব্দ কক্ষে গিয়ে বসে।
এ ধরনের কবিতা সাধারণ মানুষের অনুভূতির সঙ্গে সহজে সংযোগ তৈরি করে। তাই এর আবেগীয় গ্রহণযোগ্যতা বেশি।
সারাংশ
“ভালোবাসি দিবানিশি—বন্ধু আমার” একটি কোমল, স্মৃতিময় ও আত্মিক প্রেমের কবিতা। এখানে প্রেম প্রকাশিত হয়েছে নিঃশব্দ আকাঙ্ক্ষা, স্মৃতি, কল্পনা ও ব্যক্তিগত বেদনার মাধ্যমে। কবির ভাষা সহজ হলেও অনুভূতি আন্তরিক; আর সেই আন্তরিকতাই কবিতাটিকে প্রাণ দিয়েছে।
এ কবিতা পাঠককে উচ্চকণ্ঠে আলোড়িত করে না; বরং ধীরে ধীরে হৃদয়ের গভীরে নরম এক দীর্ঘশ্বাসের মতো নেমে আসে।
🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰
২৪১১০২ ৭:৩০
"আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ"
মরুভূমির শুভাশিত বাতাসের শুভেচ্ছা রইলো। আশা করি গতকালের মতো আজ ও ভালো আছো। গত কালের কথা এজন্য বললাম যে, কোন দিনই তোমাকে কেমন আছো প্রশ্নটা করে ভালো আছি উত্তরটা পাইনি ,গতকাল ছাড়া। ১০ ই রমজানে চিঠি পাওয়ার পর চিঠি মোতাবেক তাসনীমের কাজটা করলাম।
কিভাবে তোমার সাথে কথা বলতে হবে বলত, খুব কর্কশভাবে বুঝি তাইনা। অন্যরা আমাকে বলে আপনার মত অভিনয় করতে আমি পারিনা। তাদের বেলায় আমি বলব তারা আমাকে চেনেনা জানেনা তাই এ ধরনের কথা বলতে পারে। কিন্তু তুমি কি করে বল যে আমি তোমার সাথে অভিনয় করি। তোমার প্রতিটা প্রশ্নের উত্তরেই আমাকে নাবোধক উত্তর দিতে হয়। আর তাতে তোমার চোখ লাল হয়ে পানি জমে যায়। তাই সহজে কোনো কথার উত্তর না দিয়ে আমি চুপ থাকতে চাই। কারণ কি করে তোমাকে এত কষ্ট দিব, যে তুমি এত ভালোবাসো। কিন্তু তুমি তাতে নাকি আরো বেশি কষ্ট পাও।
ভালবেসে কি পেলে জানতে চেয়েছিলে, ব্যাথা ছাড়া আর কিছুই বোধ হয় পাওনি। ক্ষমা চাইছি তার জন্য। কেন যে তুমি আমাকে ভালোবাসতে গেলে। কি দেখেছিলে শূণ্যের মাঝে, কিছুই দিতে পারিনি। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিও। নতুবা অভিশাপ দিও আশীর্বাদ হিসাবেই মেনে নিব। ভালোবাসি কিনা জানতে চাও? এটা আমিও জানিনা। তবে তোমার কথা খুব মনে পড়ে , আর কষ্ট পাই। জানিনা এটাকে ভালবাসা বলে কিনা।
বিয়ের ব্যাপারে আর প্রশ্ন করোনা। এটা আমার পক্ষে কখনো সম্ভব হবেনা। এর একমাত্র কারণ আব্বার আদেশ, নির্দেশ ও আদর্শ। তোমার কাছে আব্বা মৃত হতে পারে। কিন্তু বিশ্বাস করো আব্বা আগের চেয়ে আরো বেশী আমাদের শাসন করেন , বেশী কাছে থাকেন। মুহূর্তের জন্য ও দূরে যাননা। কাজেই অনুরোধ করবো তুমি কখনো আমাকে আব্বার অবাধ্য হতে বলবেনা। এমন কোনো কাজ করতে কখনো বলবেনা যা আব্বা চাইতেননা। আর আমার পক্ষে ও সম্ভব হবেনা। বিয়ে ভাগ্যে থেকে থাকলে বংশের অন্যান্য মেয়েদের যেভাবে হয় তাদের মতোই হবে। তুমি জানোনা আমাদের বাড়ির কয়েকটি মেয়ের জীবনে ও প্রেম এসেছিলো এবং গভীর ও হয়েছিলো। কিন্তু তাদের সফল হতে দেয়া হয়নি। কাজেই জোড় অনুরোধ থাকবে কখনো আর এ ব্যাপারে প্রশ্ন করবেনা।
বন্ধু আমার ,
কোন শর্ত দিয়ে আমাদের বন্ধুত্ব হয়নি। কাজেই এই মধুর সম্পর্কটা ভেঙে দিওনা। বন্ধুত্বের হাত মিলিয়ে এগিয়ে যাও। যেখানে বিন্দুমাত্র দুঃখ থাকবেনা। সুখ দুঃখের অংশীদার হতে পারবে।
লিখতে অনেক সময় লেগেছে, হৃদয় ভেংগেছে। অনেক কষ্ট দিয়েছি, হৃদয় ভেংগেছি। আবার ও ক্ষমা চাইছি। মোবারক হউক তোমার জীবনে এই মাহে রমজান। ভাল থেকো, তোমার পাশের অটোটাকে সালাম দিও। দোয়া রইলো।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Heartfelt Thanks for your valuable comments.