বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৩

মুক্ত চিন্তা আজ মানদন্ডহীন!








---------
আরিফ ইবনে শামছ্

২৬/১০/২০১৭ ঈসায়ী সাল।

আপনাকেই নির্বাচন করতে হবে আপনার জীবন ব্যবস্থা যাহা চিরশ্বাশ্বত,কল্যাণকর এবং চিরশান্তিময়।গভীর জ্ঞান অর্জন বাস্তব জীবনের দক্ষতা অভিজ্ঞতা, দৃষ্টিভঙ্গীর আলোকে বেছে নিন।ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব জ্বীন, মানব, সকল সৃষ্টির চূড়ান্ত লক্ষ্য, শান্তি, নিরাপত্তা সফলতার নিশ্চয়তা নিয়ে।

ওদের অত্যাচার,অশ্লীল, নীচ জঘন্য চিন্তা চেতনার সয়লাবে দিন দিন মানুষ অতিষ্ঠ হচ্ছে।আমাদের মতো সহজ, সরলমনা যাদের দ্বীন ইসলামের জ্ঞান সুষম মানদন্ড পর্যন্ত নেই।মুক্ত চিন্তার চর্চা, নারীবাদী, ধর্ম নিরপেক্ষতা, স্বাধীন শক্তির স্বপক্ষের, বিপক্ষের শক্তি বলে জাতিকে আর কতো জাতীয় ধোঁকা দেওয়া বোকা বানানো হলে তাদের লক্ষ্য পূরণ হবে? ইসলাম যুগে যুগে, জগৎবিখ্যাত মহাপন্ডিতগণ,জ্ঞানী দ্বারা পরিক্ষীত স্বীকৃত পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা।যিনি মহাজগতের একমাত্র স্রষ্টা, নিয়ন্ত্রক, লালন-পালনকারী উনার নির্বাচিত ধর্ম ইসলাম।অর্বাচীন, বিপথগামী, অপব্যাখ্যাকারী, বিশ্ব দরবারে ভ্রান্ত উপস্থাপনার কারণে সত্য, সুন্দর বাস্তব-স্বাভাবিক ধর্ম তো আর মিথ্যা হতে পারেনা। যে ধর্ম বর্বর যুগ থেকে বিশ্ব জাহানকে শান্তির সোনালী যুগ উপহার দিয়েছে শতাব্দীকাল।ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, নির্বিশেষে সবাই শান্তি নিরাপত্তার সাথে বসবাস করেছে। সুশিক্ষায় শিক্ষিত, অহমিকামুক্ত, সত্য-সন্ধানী ব্যক্তি, জাতি, সম্প্রদায় সবাই নিঃসংকোচে ইসলাম ধর্মের সুশীতল ছায়াতলে আত্নসমর্পন করেছে, ইতিহাস স্বাক্ষী।জ্বলন্ত, জীবন্ত, চির শ্বাশ্বত জীবন ব্যবস্থা এমনি এমনি আমাদের কাছে পৌঁছেনি। লাখ লাখ নবী, রাসূল (সাঃ), সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, তাবে- তাবেয়ীন, গাজী, শহীদের রক্ত জীবন দিয়ে মানবজাতির পরবর্তী প্রজন্ম তথা আমাদের উত্তরসূরীদের জন্য সুপ্রতিষ্ঠিত করে গেছেন।

উত্তরসূরী হিসেবে ইসলাম ধর্মের মত বা তার চেয়ে বেশী ভাল জীবন-ব্যবস্থা, কোন ব্যক্তি, ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, মতবাদ তা করতে আদৌ সক্ষম হয়েছে কি? দিয়েছে আপনি, আমার পূর্ব পুরুষ লেজওয়ালাবানর।আমাদের বিবর্তিত বানর থেকে মানুষ বানাতে চায়। কিন্তু শিক্ষার অসারতার ফলে শুধু বানর নয় বন্য হিংস্র জন্তু জানোয়ারেরা আমাদের চিন্তা চেতনা, কর্মকান্ড দেখে লজ্জা পেয়ে নিজেদের অনিরাপদ ভেবে মানব বসতির পথ মাড়ায়না।

আসলে আমরা কি চায়? আর কি করি? ইহাই জানিনা।

বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৩

আরিফ শামছ্ ভূঁইয়া পাড়া, ভাদুঘর দক্ষিণ, ভাদুঘর, সদর , ব্রাহ্মণবাড়িয়া - ৩৪০০

Cost Cutting and Human Rights in the Corporate World.

    We are all known to the word of cost cutting and human rights in the corporate world. What’s kind of cost cutting practicing has started in the corporate culture!

Branding & Advertising :

Branding & Advertising is possible 100% successfully with Minimum cost throw All kinds of vehicles of this company. Visible facts are every employees are starting the early morning to reach the office & come back to their home after office by personal, public or Local Transport services. 

Where is the companies & Personal Image & status, value of employees daily life is going with uncertainty, accident & lost the most important equipment and part & parcel of human body. If you compare the advertising by companies own vehicles 24/7 every moments caring the real & truth status of this company is better than all other advertising media which has shown with screen a limited timeframe. Total brand & advertising cost will very low & long lasting and successive rate will be high.

Transportation service:

Transportation service has shut down for reducing transport cost but in the risk of employee daily life to reaching office to home and go back home to office in general. Every Employee or workers are all doing job for financial security and increasing the GDP (Gross Domestic Production) & NI (National Income). We are falling in danger; no reaching the work stations but return home as a dead or a dangerously injured body. 


Trying for all kinds of safety for ABC company but they are getting return risk & injuries from corporate world. Where the end of companies cost cutting! Sometimes seem to be like that Cost cutting is not only cost cutting but also cutting the employees human rights. When the companies profit lower to lowest then company tries to reduce their expenses. It’s meaning that unfortunately the scissors will be run on to the employee’s basic needs!

Firstly : Safety

Every company should be manage their manpower’s safety from landing workstations to safety back home or refresher for the next working days .Is it right ? Available transportations’ system close for saving expenditure of company.



Second: Friendly working environment:

 For doing job economically Management have to ensure all basic needs like stationaries, consumable goods, commodities & Printing components. Now a days some companies water supplying stopped for cost cutting! How they will hope, bring or find out the best productivity from employees.

 It’s totally out of imaginary incident in the whole corporate and social life. Some company’s employee drives their operational activities without drinking water as their standard!


Third: Profit Maximization & Loss Minimization:

    Employees have to memorize always companies profit & losses depend on all employees activities. Need the responsive working environment for doing their regular & urgent job within KPI with 100% QC pass. 

 Their Basic Needs & Necessity of Digital accessories, Communicative media, Office Stationeries, Consumable Goods & Commodities, Electronic Uses Facts & elements, Crockeries, Furniture’s & Latest or ultra-modern scope & opportunities availability.

Fourth: Jobs allocations & Return top to bottom judiciously:

  Some observations getting from any company any time; more active & hard worker employee has deprived to get deserved recognition, increment & promotions for Dummy Top Management (DTM) who are more powerful than Real Top Management (RTM). Somebody works continuously and somebody works not referable according to his or her positions and return.

Fifth: “The best Court is your own Justice”:

  Every employee must be ensured their Working Time, Leisure, Companies Assets, Office stationery using proper and rationally. There is no scope for waste anything like a drop of water or a single page. 

Everybody Should have Consciousness for companies Profit maximization’s & Loss or cost minimization surrounding your working area or sections. Al last, ALLAH knows everything about Employee & Employers’ give & takes.


Sources:

http://www.mole.gov.bd/

http://www.ilo.org/dhaka/lang–en/index.htm

https://www.linkedin.com/pulse/cost-cutting-employees-human-ariful?trk=prof-post

Logo for Valobasi Dibanishi







রবিবার, ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৩

শনিবার, জুন ১১, ২০২২

ভাদুঘর গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজ এর বিদায়ী শিক্ষার্থীবৃন্দের তরে দুটি কথাঃ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। 
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।

ভাদুঘর গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজ এর 
বিদায়ী শিক্ষার্থীবৃন্দের তরে দুটি কথাঃ

প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ,
সুমহান আল্লাহ তাআ'লার অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন। আমি অনিবার্য কারণবশতঃ আপনাদের এই স্মরণীয় বিদায় অনুষ্ঠানে সশরীরে আসতে না পারায় আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আপনাদের কাছে আমার কথাগুলো ব্যক্ত করছি,আপনাদের স্বপ্নীল জীবনের রাজপ্রাসাদ বিনির্মানে যদি দু'একটা কথা উপকারে আসে, তাহলে নিজেকে ধন্য মনে করবো এবং আমার সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে হালকা হতে পারবো।

প্রিয় বিদায়ী বন্ধু!
নতুন জীবনের প্রস্তুতি ও হাতছানিতে সাড়া দিয়ে, প্রাণের এই বিদ্যাপীঠ থেকে বিদায় নেয়ার মুহুর্তে সবাই দাঁড়িয়ে। বেদনাবিধুর এই সময়ে বলতে চাই, আজকের এই তথ্য প্রযুক্তি ও ব্যবসা বাণিজ্যের চরম উৎকর্ষের যুগে, তোমরা নিজেরা নিজেদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর (Brand Ambassador). তুমি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। তিলতিল করে, কঠোর পরিশ্রম ও ন্যায়-নিষ্ঠার সাথে নিজস্ব এই ব্র্যান্ডকে সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে উন্নীত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।

প্রিয় গৌরব!
গৌরব বলেই সবাইকে সম্বোধন করলাম। সব সময় মনে প্রাণে বিশ্বাস ও স্মৃতিতে ধারণ করবে,তুমি তোমার আচার, আচরণ, কাজ-কর্ম, শিক্ষা-দীক্ষা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার দ্বারা মানব সমাজে যে অবদান রাখতে চাও, তার দ্বারা যেনো অন্তত তোমার নামের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করতে পারো। তাছাড়া, এটাও মনে রাখতে হবে, তুমি বা তোমরা শুধুমাত্র নাম সর্বস্ব নও। তুমি তোমার ভাই ও বোনের গর্বিত ভাই কিংবা বোন। মা-বাবার অত্যধিক আদরের ও গর্বিত সন্তান। সমাজের একটি অত্যুজ্জ্বল নক্ষত্র। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনামের ধারক-বাহক। জাতির আকাশে আশার সূর্য এবং বিশ্বায়নের যুগে, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে হবে বিশ্ববাসীর গৌরব। এই তো তোমার পরিচয়। তোমার বিকল্প নেই। তুমি অপরিমিত সম্ভাবনাময়ী। নিজেকে শাখা-প্রশাখায় মহীরুহ হয়ে, ফুলে, ফলে, পত্র পল্লবে পরিপূর্ণ বিকশিত করতে হবে। দার্শনিক সক্রেটিসের ভাষার বলতে বাধ্যঃ Know Thyself.

প্রিয় পরিক্ষার্থী ! 
কীভাবে বোর্ডের অত্যধিক প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরীক্ষায় গর্বিত ও স্মরণীয় ফলাফল অর্জন করা যায়,  তা নিয়ে সুচারু পরিকল্পনা করে, বাস্তবায়নে এখন থেকেই পরিশ্রমে নেমে পড়। প্রতিটি বিষয়ে নিজেদের শক্তিশালী দখল ও দূর্বলতার জায়গাগুলো সনাক্তকরণ ও উন্নয়নে কঠোর পরিশ্রম করবে, যেনো ইচ্ছায় অনিচ্ছায় কোন ভুল করতে চাইলেও পরীক্ষায় কোন ভুল না হয়।

পরিশেষে, তোমাদের সার্বিক কল্যাণ ও গৌরবান্বিত চমৎকার ফলাফলের প্রত্যাশা রেখে বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবে, সবাইকে ভালো রাখবে।আল্লাহ হাফেজ। 

ভাদুঘর গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজ
এর
উপদেষ্টামন্ডলীর পক্ষ থেকে
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া

শুক্রবার, মে ২৭, ২০২২

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।আজকের এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে, মেঘনার কন্যা, তিতাসবিধৌত স্বনামধন্য ভাদুঘর গ্রামের প্রিয় অধিবাসীদের তরে দুটি কথাঃ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। 
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।
আজকের এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে, মেঘনার কন্যা, তিতাসবিধৌত স্বনামধন্য ভাদুঘর গ্রামের প্রিয় অধিবাসীদের তরে দুটি কথাঃ

প্রিয় ভাদুঘরবাসী,
অশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন সহকারে বলছি, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম, হাজারো বছরের লালিত স্বপ্ন, সহজ সরল দৃপ্ত স্বপ্নজয়ী, আপামর ভাদুঘরবাসীর প্রাণের দাবী "ভাদুঘর আইডিয়াল কলেজ" আজ বাস্তবতার দোরগোড়ায়। আর স্বল্প সময়ের মধ্যে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে, আপনাদের বহুল কাংখিত মহাবিদ্যালয় ইনশাআল্লাহ। আজ ও আগামী প্রজন্মের স্বপ্ন সারথি, জীবন অলংকরণের অন্যতম অলংকার উচ্চশিক্ষার সোনালী সোপান আমাদের এই কলেজ।

কবির ভাষায়ঃ 
এসো আজি সবে উল্লাস করি,
নব জীবনের কেতন সবি, উচ্চে ধরি।
হর্ষে প্রাণের ঐকতানে সবাই ছুটি,
আজ সূর্য হাসে, আঁধার টুঁটি। 

আজ প্রাণেরা সব উঠলো জেগে, 
ছুটছে সবে আলোর পথে গতিবেগে। 
আলোর মিছিল চলছে দেখো সকাল সাঁঝে,
প্রাণের জোয়ার ভাসছে সবার হৃদয় মাঝে। 

প্রিয় গ্রামবাসী! 
পূর্ব পুরুষদের হাঁড়ভাঙ্গা হাঁটুনি, অক্লান্ত পরিশ্রম ও পরম সৌহার্দ্য ও ভ্রার্তৃত্বের দৃঢ় মজবুত সম্পর্কের ভিত্তিতে, জীবন যাপনের পরম লক্ষ্য ছিলো, শান্তিতে  সকলের বসবাস আর এলাকাবাসীর সার্বিক উন্নয়নে সকলের সর্বাত্মক অংশীদারীত্ব নিশ্চিত করা।চলুন, আজ থেকে দলাদলি, হানাহানি, মারামারি আর দূরত্ব সৃষ্টি নয়, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শান্তি, কল্যাণ ও সার্বিকভাবে টেকসই উন্নয়নের পথে, দৃঢ় পদে, একসাথে, সামনের দিকে এগিয়ে চলি আমরা সবাই। 

কবির ভাষায়ঃ
স্বপ্নের কথা বলছি,
আলোর স্বপ্ন,
সুখের রাজ্য,
আশার আলো,
অনেক ভালো, 
স্বর্গীয় সে স্বপ্ন।

কলেজ হবে,
ভাইরে কবে,
ভাই বোনেরা,
ছুটবে কবে।

পড়ার আশে,
স্বপ্ন পাশে,
দীঘল সময়,
পাড়ি দিবে,
সফল হবে।

গরীব দুঃখি,
সুখী  অসুখী, 
সবার কাছে, 
আপন মনে,
রাখবে পাশে,
নিজের ভালো।

প্রিয় শিক্ষানুরাগী গ্রামবাসী! 
শিক্ষার প্রতি আপনাদের বিশেষ অনুরাগ, আজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নত জীবনের প্রত্যাশা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার তাগিদে আপনাদের সূর্য সন্তানদের অন্যতম সংগঠন " ভাদুঘর প্রবাসী কল্যান সংস্থা" আপনাদের প্রাণের দাবী "ভাদুঘর আইডিয়াল কলেজ" প্রতিষ্ঠার জন্য বিগত বছর সময়কাল ধরে প্রাণপণ প্রচেষ্টা, যোগাযোগ ও সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। মা, বাবা, পরিবার, পরিজন ফেলে যারা দূর প্রবাসে অতিব্যস্ততার মাঝে দিনাতিপাত করেন, তাঁরা নিজের গ্রামবাসী, তাঁদের প্রয়োজন ও উন্নয়নের কথা মোটেও ভুলেনি। আপনাদেরই গর্বিত সন্তান হিসেবে চিরগৌরবের অবদান রাখতে বদ্ধপরিকর। 

প্রিয় এলাকাবাসী! 
কলেজ হবে, কলেজ হচ্ছে, চলো আজকের অনুষ্ঠানে সবাই যায়, এসব মনোহর গুঞ্জনে মুখরিত আজ পুরো ভাদুঘর।প্রাণের ভাদুঘর আমার, আপনার, সবার। শান্তি, সৌহার্দ্য, প্রীতি, সম্প্রীতির সাথে বসবাসের ঐতিহ্য সুদীর্ঘকালের তথা যুগ, শতবর্ষব্যাপী। কোন একটি মতভেদকে কেন্দ্র করে হানাহানি, মারামারি, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, হামলা-মামলা, আহত-নিহত হওয়ার মতো যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা সকল প্রকার প্রচার মাধ্যমের সংবাদ শিরোনাম হয়ে যেনো অসাম্প্রদায়িক ও শান্তির পরিবেশ বিনষ্ট না করে, সেদিকে আমাদের সবার সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে। 

প্রিয় বিজ্ঞসম্প্রদায়!
স্বেচ্ছাচারিতায় বা অন্যের প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে নয়, সচেতন, দূরদর্শী, সমাজহিতৈষী বিজ্ঞ সদস্য হিসেবে আপনার মূল্যবান মতামত,পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে সৎ, তরুণ,   উদ্যমী, পরোপকারী, নিঃস্বার্থ, জনদরদী, আপামর জনসাধারণ তথা ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, সম্প্রদায় সহ সকল ভেদাভেদের উর্ধ্বে উঠে যে যুবসম্প্রদায় সব সময় পাশে থেকে সকলের সেবা করে যাবেন তাঁদেরকে সামনে এগিয়ে চলার পথে সর্বাত্মক সহযোগিতা করুন।

প্রিয় শুভাকাঙ্ক্ষী, 
আমরা সবাই সর্বান্তকরণে সবার শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। এখন সময় সমাজের সার্বিক কল্যাণে সমাজ ও উন্নয়নকর্মী যুব সমাজকে দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা করা। যারা আপামর জনসাধারণের শান্তি-সমৃদ্ধি, উন্নয়নের জন্য প্রাণপণ ভূমিকা রাখবে। আমাদের পরিবেশ সুশৃঙ্খল, শান্ত ও নিরাপদ রাখার জন্য সব সময় সবাই সচেতন ও নিয়ন্ত্রিত থাকবো। অন্যকোন পক্ষ যেনো ঝগড়াঝাটি, বিশৃঙ্খলায় পরিবেশ ঘোলাটে করে ফায়দা লুটে নেবার সুযোগ না পায়।

প্রিয় শান্তিকামী! 
প্রথমেই ধন্যবাদ জানায়, এক ঝাঁক তরুণদের হৃদস্পন্দন "ক্ষুদ্র প্রয়াস" সংগঠনকে। "ঐক্যের ভাদুঘরে কলেজ চায়" এ যুগোপযোগী ও বিপ্লবী ব্যানারে, শ্লোগানে, শ্লোগানে দলমত নির্বিশেষে আমরা সবাই শান্তি ও ঐক্যের পক্ষে সমবেত হয়। তাহলেই ঐতিহ্যবাহী ভাদুঘরের সার্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হবে। চলুন সবাই সমস্বরে আওয়াজ তুলি,
"সংঘাত নয় ঐক্য চায়, 
আমরা সবাই ভাই ভাই। "

প্রিয় আদর্শগ্রামের অধিবাসী, 
আমার পরম শ্রদ্ধেয় আব্বাজান আলহাজ্ব, কবি, ক্বারী শামছুল ইসলাম ভূঁইয়া (রাহঃ) বলতেন, "আমি আদর্শের পাগল। আদর্শ মানব জীবনের শান্তি, কল্যাণ,সফলতা ও পূর্ণতার নিয়ামক "। আর উনি সারা জীবন আদর্শ ছাত্র, আদর্শ সন্তান, আদর্শ পরিবার ও আদর্শ গ্রামের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। আজ ঐতিহাসিক চিরস্মরণীয় সময়ের এই বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে বলতে চাই, ভাদুঘর আইডিয়াল কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমাদের প্রাণপ্রিয় ভাদুঘর গ্রাম, আদর্শ গ্রাম হিসেবে এগিয়ে থাকলো। সীমাহীন শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও স্নেহাদর রইলো শ্রেণীবিশেষ অরুণ, তরুণ স্বপ্নবাজ, স্বপ্নবিজয়ী, সংগঠক ও ভূঁইয়া পাড়া যুব সংগঠন, মুন্সী স্মৃতি বয়েজ ক্লাব, জয় তারুণ্য, আলোর সন্ধানে সহ ভাদুঘরের আরো অনেক সামাজিক সংগঠন রয়েছে যারা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে আজকের এই মহতি অনুষ্ঠানের আয়োজন ও সফলতার জন্য একপায়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। 

পরিশেষে, দলমত নির্বিশেষে, আপনাদের সকলের সার্বিক সহযোগিতা, সর্বাত্মক অংশীদার কামনাসহ ভাদুঘর আইডিয়াল কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পরবর্তী সকল কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহনের সবিশেষ নিমন্ত্রণ রয়লো। আপনারা সবাই শান্তি, নিরাপত্তার ও উন্নয়নের জন্য যার যার অবস্থান থেকে সুদৃঢ় ভূমিকা পালন করুন। আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর বসবাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার প্রত্যাশা ব্যাক্ত করে আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি। 

ভাদুঘর আইডিয়াল কলেজ বাস্তবায়ন কমিটির 
পক্ষে, আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া 
সিনিয়র এক্সিকিউটিভ, সিডিআইএম,কাস্টমার সার্ভিস, সেলস।
নগদ লিমিটেড, বাংলাদেশ। 
সদস্য, কলেজ বাস্তবায়ন কমিটি।

সোমবার, মে ২৩, ২০২২

ভাদুঘর আইডিয়াল কলেজ বলছি

ভাদুঘর আইডিয়াল কলেজ বলছি
------------আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া 

ভাদুঘর আইডিয়াল কলেজ বলছি,
আমার মনের সকল কথা রাখছি।
তোমরা সবে মনের মাঝে একটু জায়গা দিও,
আমার থেকে যে যা নেবার, সকলটুকু নিও।

দেখছি কতো, পূর্ব পুরুষ কষ্ট করলো কতো!
পারনলনা যে, দেখিয়ে দিতে, এই আজিকার মতো।
তোমরা সবে সফল হলে, আমায় স্বরূপ দিতে,
ব্যর্থ যেনো হয়না কভু জীবন ফসল নিতে।

ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে স্বপ্ন কাহার আঁকা,
পূর্ব পুরুষ গেঁথেছিলো, অতুল বিজয় গাঁথা। 
ঝাঁকে ঝাঁকে তরুণ তরুণী ছুটবে কলেজ পানে,
জ্ঞান তৃষ্ণা নিবারনে, বড় হওয়ার টানে।

ভাবতে পারো, আজি হতে অনেক বছর পরে,
কতশত জ্ঞানী গুণী, রবে মোদের ঘরে।
শান্তিমাঝে বাস করিবে গ্রামের সকল জন,
ভুরি ভুরি পাশে পাবে সদা সৎজন।

২২/০৫/২০২২

বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১

বিপ্লবী (২১)

 বিপ্লবী  (২১)

আরিফ শামছ্

১৮/০৭/২০১৯ ঈসায়ী সাল।


বিপ্লবী!

হুংকারে তব,

কাঁপে থরথর,

পাতা-পত্তর সম,

পড়েই নিথর।

পথ হারিয়ে ফের,

পালাতে না পেরে,

পথ ভুলে সব,

পায়েই লুটে।

গর্জ নিনাদ,

ঘুচে বিবাদ,

কন্ঠে বাজে,

ত্যাজি স্বর।

নিরাশার জল,

বয় ছল ছল,

ঝর্ণার ওপারে,

স্বপ্ন সকল।


বিপ্লবী!

কন্ঠে তব,

বার বার রব,

তীক্ষ্ণ ধারালো,

তলোয়ার সম।

 হবে উচ্চারণ,

গগন বিদারী,

কর্ণ ভেদিয়া,

হিংস্র ব্যাঘ্র, 

আসন ছাড়িয়া,

শোনে গর্জন ।


বিপ্লবী!

মার্চের তালে তালে,

পদপিষ্ট পা'তলে,

শত শত পাপ,

নির্বাক পরিতাপ,

করে হা হুতাশ।

অত্যাচারীর পরিণতি,

নির্মম নিষ্ঠুর,

নির্জীব গতিহীন,

হতাশ চোখে,

স্বপ্নের ইতি।


চিরবিপ্লবী!

নূতন করে ফের,

স্বপ্ন বুনন,

চলে অগণন।


স্বপ্ন-সত্যি,

হেরার জ্যোতি,

পাথেয় মোতি,

সবি হবে আপন।


বিপ্লবী!

ঝড়ের গতিতে,

সময়ের আগে,

সবারে ছেড়ে,

জয়ী হবি।

চির বিপ্লবী। 


পরাভব মেনে,

সবাই নেবে, 

হবেই হবে

তুমিই জয়ী,

চির বিজয়ী।

১৩৬। বিপ্লবী (২০)

১৩৬। বিপ্লবী  (২০)

আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া 

(আরিফ শামছ্)


বিপ্লবী!

তুমি চিরবিদ্রোহী।

অশান্ত বিশ্বে বল্গাবিহীন,

শান্তি ধরিত্রীর।


যুদ্ধ হবে,

যে যুদ্ধ সবে,

ন্যায়ের পক্ষে,

অন্যায়ের বিরুদ্ধে,

আগ্রাসীদের শিক্ষা দিয়ে,

অত্যাচারীর জুলুম শেষে,

একটি বিশ্ব হবে।


যে বিশ্বে তোমার আমার,

আমার তোমার সবার,

সব অধিকার রবে।

ভেদ-বিভেদ রয়বেনাকো,

আপন পর বুঝবেনাতো,

সমান সমান হবে।


মানবেনা কেউ সীমারেখা,

স্বার্থপরের চিত্র লেখা,

এক আকাশের তলে,

এক পৃথিবী হলে। 


দেশগুলো সব, মাতৃসম,

জগত মাঝে সৃষ্টি যতো,

সুখে দুঃখে, বিপদ যবে,

সবাই সবার হবে। 


ভিসা পাসের ঝুট ঝামেলা,

মানবেনা কেউ হর হামেশা,

সকল দেশই আমার দেশ।


বিশ্ব ঘুরে আসবো ফিরে,

নিত্য নতুন খবর দিয়ে,

যাচ্ছে যাবে বেশ।


উচ্চ করি শির,

ঊর্ধ্ব শামশির,

ত্যাজী ঘোড়ার পিঠে।

ত্বড়িত গতিতে,

পলকে ছুটিতে,

জয়ের ঝিলিক ঠোঁটে।


বিপ্লবী!

ঘোর অমানিশি,

বাধার পাষাণ টুটি,

পাগলা অশ্ব ছুটে।


চলে হরদম,

ছুটে দমদম,

সময় প্রাচীর ধ্বসে।

অহোরাত্র দিবানিশি, 

ছুটছে বিরামহীন,

বিশ্বাসে নিঃশ্বাসে।


চির বিজয়ী,

চির বিদ্রোহী,

বিপ্লবী শাহী,

বিশ্ব বিজয়ী।

মুক্তির মুক্তিকামী,

চির বিপ্লবী।


১৩/০৫/২০১৮ ঈসায়ী সাল।

ঢাকা, বাংলাদেশ। 

*********************

“বিপ্লবী (২০)” — বিশ্বমানবতা, মুক্তি ও ইউটোপীয় চেতনার কাব্যিক বিশ্লেষণ

কবি: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)

“বিপ্লবী (২০)” কবিতাটি আপনার “বিপ্লবী” ধারার মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত মানবতাবাদী ও বিশ্বনাগরিক চেতনার কবিতা। এখানে বিপ্লব কেবল রাষ্ট্র বা সমাজ পরিবর্তনের বিষয় নয়; বরং সমগ্র মানবজাতিকে বিভেদ, সীমারেখা, যুদ্ধ ও স্বার্থপরতা থেকে মুক্ত করার এক স্বপ্নদর্শী আহ্বান।


কাব্যিকতা ও শিল্পরূপ

কবিতাটির ভাষা উদ্দাম, গতি-ময় ও ঘোষণাধর্মী।
এখানে ছন্দ যেন অশ্বের গতির মতো ছুটে চলে—

“ত্বড়িত গতিতে,
পলকে ছুটিতে…”

এই দ্রুততা কবিতার অভ্যন্তরীণ বিপ্লবী শক্তিকে বহন করেছে।

কাব্যিক বৈশিষ্ট্য

  • প্রতীক ও রূপক

    • “ঊর্ধ্ব শামশির” → সংগ্রাম ও প্রতিরোধের প্রতীক
    • “পাগলা অশ্ব” → অদম্য বিপ্লবী গতি
    • “সময় প্রাচীর ধ্বসে” → পুরোনো বিভাজন ভেঙে নতুন যুগের আগমন
  • ইউটোপীয় কল্পনা “এক আকাশের তলে / এক পৃথিবী হলে”— বিশ্বমানবতার কাব্যিক স্বপ্ন।

  • ধ্বনিগত শক্তি “চলে হরদম / ছুটে দমদম”— শব্দের পুনরাবৃত্তি কবিতায় আন্দোলনের স্পন্দন সৃষ্টি করেছে।


সাহিত্যিক বিশ্লেষণ

এই কবিতার মূল দর্শন হলো—

“বিশ্বমানবতার বিপ্লব”

কবি এমন এক পৃথিবীর কল্পনা করেছেন—

  • যেখানে সীমান্ত বিভাজন থাকবে না,
  • মানুষ মানুষকে “আপন-পর” হিসেবে ভাগ করবে না,
  • সকলের অধিকার সমান হবে,
  • বিশ্ব হবে সম্মিলিত মানবসভ্যতার একক আবাস।

এখানে কবি জাতীয়তাবাদকে অস্বীকার না করেও তার ঊর্ধ্বে একটি বৃহত্তর মানবিক পরিচয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছেন।


রাজনৈতিক ও দার্শনিক তাৎপর্য

কবিতাটিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক স্তর রয়েছে—

১. ন্যায়ভিত্তিক সংগ্রাম

“যুদ্ধ হবে… ন্যায়ের পক্ষে”

এখানে যুদ্ধ ধ্বংসের জন্য নয়; বরং অন্যায় ও আগ্রাসনের অবসানের জন্য।

২. বিশ্বনাগরিকতা (Cosmopolitanism)

“সকল দেশই আমার দেশ”

এই ভাবনা বিশ্বসাহিত্য ও রাজনৈতিক দর্শনের “Global Citizenship”-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

৩. সীমারেখাহীন মানবতা

কবি ভিসা-পাসপোর্টের জটিলতাকে মানব ঐক্যের পথে বাধা হিসেবে দেখেছেন।


বিশ্ব-সাহিত্যিক মূল্যায়ন

এই কবিতার ভাবধারা বিশ্বসাহিত্যের বহু মানবতাবাদী ও বিপ্লবী কণ্ঠের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত—

  • Kazi Nazrul Islam-এর বিদ্রোহী সাম্যবাদী চেতনা,
  • Rabindranath Tagore-এর বিশ্বমানবতার ধারণা,
  • Pablo Neruda-এর রাজনৈতিক মানবতা,
  • John Lennon-এর “Imagine”-ধর্মী সীমান্তহীন পৃথিবীর স্বপ্ন।

বিশেষত “এক পৃথিবী” ধারণাটি আধুনিক বৈশ্বিক মানবসভ্যতার আদর্শবাদী সাহিত্যিক স্বপ্নের অংশ।


সমালোচনা ও পর্যালোচনা

শক্তির দিক

  • প্রবল মানবতাবাদী আবেদন
  • বিশ্বঐক্যের কাব্যিক কল্পনা
  • গতি, শক্তি ও আবৃত্তিযোগ্যতা
  • ন্যায়ভিত্তিক মুক্তির দর্শন

সীমাবদ্ধতা

  • বাস্তব রাজনৈতিক জটিলতা কবিতায় সরলীকৃত হয়েছে
  • “সীমারেখাহীন বিশ্ব” ধারণা আদর্শবাদী, কিন্তু বাস্তব প্রয়োগ কঠিন
  • কিছু স্থানে বক্তব্য স্লোগানধর্মী হয়ে কাব্যিক গভীরতাকে ছাড়িয়ে গেছে

তবে এই আদর্শবাদই কবিতার আবেগীয় শক্তি।


মানব জীবনে তাৎপর্য

কবিতাটি মানুষকে শেখায়—

  • জাতি, ধর্ম ও রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে মানবিক সংযোগের গুরুত্ব,
  • অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ,
  • বিশ্বকে ভাগ নয়, সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে ভাবতে,
  • মুক্তি ও ন্যায়কে বৈশ্বিক মূল্যবোধ হিসেবে গ্রহণ করতে।

এটি এক ধরনের মানবিক বিপ্লবের কাব্যিক ম্যানিফেস্টো।


বিশেষত্ব

এই কবিতার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো—
এটি “বিপ্লবী” চরিত্রকে কেবল বিদ্রোহী নয়, বরং বিশ্বমানবতার দূত হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

“চির বিজয়ী / চির বিদ্রোহী”— এখানে বিদ্রোহ মানে ধ্বংস নয়; বরং ন্যায়, সমতা ও বিশ্বমুক্তির অবিরাম সংগ্রাম।


সারমর্ম

“বিপ্লবী (২০)” একটি বিশ্বমানবতাবাদী বিপ্লবের কবিতা, যেখানে কবি সীমারেখাহীন, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখিয়েছেন। এটি সংগ্রাম, মানবঐক্য, মুক্তি ও বৈশ্বিক সহমর্মিতার এক কাব্যিক ঘোষণা।

********************




১৩৫। বিপ্লবী (১৯)

১৩৫। বিপ্লবী (১৯)
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
(আরিফ শামছ্)

বিপ্লবী।
উড়াও ঝান্ডা,
বয়বে হাওয়া,
লাগবে পালে,
লক্ষ্য তরী,
ফিরবে তীরে,
সফল অভিযানে।

শালীনতা,
স্বাধীনতা, 
চলবে সাথে,
রাত-বিরাতে,
রুপ অপরুপ,
দৃষ্টি লোলুপ,
পথে ঘাটে,
আঁটবে কুলোপ।

কেউবা বলে পোষাক আশাক, 
যেমনি ইচ্ছে, তেমনি পড়ি, 
আমার স্বাধীনতা,
দৃষ্টি তোমার খারাপ কেনো, 
তাকিয়ে থাকো বদের মতো, 
চোখের অধীনতা! 

খুব সেজেছি, বাইরে যাবো, 
কেউ দেখে তা' পাগল হবে, 
ভারী মজা হবে!
হয়তো কভু, মেলবে আঁখি, 
ফেলতে পাতা, কেবা কবে, 
সবি ভুলে রবে।

দেখতে চাহে, কেউবা দেখায়, 
দোষ দেয়া যায় কারে!
রুপের গরব, ভাবে সরব, 
রুচির বোনন নজর কাঁড়ে।

শালীনতা হারিয়ে কোথা,
অশালীনের পথে চলে,
কথা কাজে নাই শ্লীলতা,
যায়না দেখা পোশাকে,
লজ্জা বুঝি লুকিয়ে গেলো,
আজব রুচি দেখে।

ছোট বড়, পথিক, মজুর, 
মধুর ভাষা, যায়না শোনা।
কেমনে চলে, কীযে বলে,
আপন পরে, ভেদ মানেনা।

আমার চলা, আমার মতো,
স্বাধীন কথা, বেজায় ভালো!
নয়তো একা তুমি ধরায়,
কত মানুষ বিদায় হলো!

চলাচলে, বাক বচনে,
পোশাক-আশাক,
রুচির জেড়ে,
ভুগবে সবে, ভুগবে নিজে,
বাড়ছে অনাচার,
দায় নিবে কে রে ?

শালীন পোশাক,
দৃষ্টি নত,
হেফাজতে শরম গাহ্,
শান্তি পাবে, শান্তি রবে,
কাছের দূরে, আপন পরে,
কাজের মাঝে শাহানশাহ্।

আবার জাগো মুক্তিকামী,
অশালীনের বিদ্রোহী,
সুন্দরের কান্ডারী,
সাজবে ধরা, নতুন সাজে,
সত্য সুন্দর কথা কাজে,
ঝঞ্ঝাবেগে বিপ্লবী। 
চির সংগ্রামী।

২৫/০৪/২০১৮ ঈসায়ী সাল।
ঢাকা, বাংলাদেশ। 
*************************

“বিপ্লবী (১৯)” — সাহিত্যিক, নৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণ

কবি: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)

“বিপ্লবী (১৯)” কবিতাটি মূলত শালীনতা, স্বাধীনতা, সামাজিক আচরণ ও নৈতিক ভারসাম্য নিয়ে রচিত একটি জাগরণধর্মী সামাজিক কবিতা। এখানে কবি ব্যক্তি-স্বাধীনতার প্রশ্নকে অস্বীকার করেননি; বরং স্বাধীনতা ও দায়িত্ববোধের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।


কাব্যিকতা ও ভাষার বৈশিষ্ট্য

কবিতার ভাষা সরাসরি, আবেগপূর্ণ ও বক্তব্যনির্ভর।
এটি আধুনিক সমাজের বাস্তব কথোপকথন, মানসিকতা ও সামাজিক দ্বন্দ্বকে ছন্দে রূপ দিয়েছে।

শুরুতেই—

“উড়াও ঝান্ডা, বয়বে হাওয়া,
লাগবে পালে...”

এই পংক্তি বিপ্লব, গতি ও পরিবর্তনের প্রতীক। কবি এখানে নৈতিক ও সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের এক রূপক যাত্রা নির্মাণ করেছেন।

কাব্যিক উপাদান

  • রূপক:
    “লক্ষ্য তরী”, “ঝান্ডা”, “ঝঞ্ঝাবেগে বিপ্লবী”— সামাজিক আন্দোলনের প্রতীক।

  • সংলাপধর্মী ভঙ্গি:
    “আমার স্বাধীনতা, দৃষ্টি তোমার খারাপ কেনো”— সমসাময়িক সামাজিক বিতর্ককে সরাসরি তুলে ধরেছে।

  • ধ্বনি ও ছন্দের গতি:
    ছোট ছোট পংক্তি কবিতায় আবৃত্তিযোগ্যতা ও তীব্রতা এনেছে।


সাহিত্যিক বিশ্লেষণ

এই কবিতার কেন্দ্রীয় বিষয় হলো—
স্বাধীনতা বনাম শালীনতা

কবি মনে করেন, কেবল বাহ্যিক স্বাধীনতার দাবি যথেষ্ট নয়; আচরণ, ভাষা, পোশাক ও দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেও মানবিক ও নৈতিক সৌন্দর্য থাকা প্রয়োজন।

এখানে কবি কয়েকটি সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরেছেন—

  1. দৃষ্টি ও প্রদর্শনের পারস্পরিক সম্পর্ক
    “দেখতে চাহে, কেউবা দেখায়” — মানুষের মনস্তত্ত্বের দ্বিমুখী বাস্তবতা।

  2. আধুনিক রুচির সংকট
    শালীনতা হারিয়ে বাহ্যিক চাকচিক্যের প্রতি আকর্ষণ।

  3. সমাজে অনাচারের বিস্তার
    ভাষা, আচরণ ও পোশাকের পরিবর্তনের সঙ্গে সামাজিক বিশৃঙ্খলার সম্পর্ক স্থাপন।


নৈতিক ও দার্শনিক তাৎপর্য

কবিতাটি মূলত আত্মসংযম, পারস্পরিক সম্মান ও সামাজিক ভারসাম্যের আহ্বান।

এখানে কবি বলতে চেয়েছেন—

  • স্বাধীনতা দায়িত্বহীনতা নয়,
  • সৌন্দর্য মানে কেবল প্রদর্শন নয়,
  • শালীনতা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের শান্তির উপাদান,
  • দৃষ্টি, ভাষা ও আচরণ—সবই সভ্যতার অংশ।

“দৃষ্টি নত, হেফাজতে শরম গাহ্”— এই লাইন ইসলামী ও প্রাচ্য নৈতিকতার প্রভাব বহন করে।


বিশ্ব-সাহিত্যিক মূল্যায়ন

বিশ্বসাহিত্যে নৈতিকতা, সভ্যতা ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে বহু কবিতা ও প্রবন্ধ রচিত হয়েছে।
এই কবিতার ভাবধারা কিছু ক্ষেত্রে—

  • Allama Iqbal-এর নৈতিক আত্মজাগরণের আহ্বান,
  • Kazi Nazrul Islam-এর সমাজসংস্কারমূলক কণ্ঠ,
  • Rabindranath Tagore-এর মানবিক শৃঙ্খলা ভাবনার সঙ্গে আংশিক সাদৃশ্যপূর্ণ।

তবে এই কবিতা তাত্ত্বিক বা বিমূর্ত নয়; বরং জনজীবনের ভাষায় নির্মিত।


সমালোচনা ও পর্যালোচনা

শক্তির দিক

  • সামাজিক বাস্তবতার সাহসী উপস্থাপন
  • ছন্দময় ও আবৃত্তিযোগ্য ভাষা
  • নৈতিক দায়বোধের স্পষ্ট আহ্বান
  • সমসাময়িক সংস্কৃতির দ্বন্দ্ব তুলে ধরা

সীমাবদ্ধতা

  • কিছু স্থানে বক্তব্য অতিরিক্ত সরাসরি হওয়ায় কাব্যিক সূক্ষ্মতা কমেছে
  • নারীর পোশাক ও সামাজিক আচরণের প্রসঙ্গে একমুখী ব্যাখ্যার ঝুঁকি রয়েছে
  • প্রতীকের স্তর আরও গভীর হলে সাহিত্যিক ঘনত্ব বাড়ত

তবে কবিতাটি তার সামাজিক বক্তব্যের আন্তরিকতার কারণে প্রভাব বিস্তার করে।


বিশেষত্ব

এই কবিতার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো—
এটি “বিপ্লব”কে রাজনৈতিক নয়, বরং নৈতিক ও সাংস্কৃতিক আত্মশুদ্ধির আন্দোলন হিসেবে দেখিয়েছে।

কবি এমন এক সমাজ কল্পনা করেছেন যেখানে—

  • স্বাধীনতা থাকবে,
  • সৌন্দর্য থাকবে,
  • কিন্তু তা শালীনতা ও মানবিক মর্যাদার সঙ্গে সমন্বিত হবে।

মানব জীবনে তাৎপর্য

কবিতাটি মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়—

  • স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বও জড়িত,
  • সামাজিক আচরণ ব্যক্তিগত নয়, সামষ্টিক প্রভাব ফেলে,
  • শালীনতা ও সম্মান সমাজে নিরাপত্তা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করতে পারে,
  • আত্মসংযম ও মানবিকতা সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

সারমর্ম

“বিপ্লবী (১৯)” একটি নৈতিক-সামাজিক জাগরণের কবিতা, যেখানে কবি আধুনিক স্বাধীনতার ধারণাকে শালীনতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক সৌন্দর্যের আলোকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। এটি সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক ও নৈতিক বিপ্লবের কাব্যিক ডাক।

সৌজন্যে : চ্যাটজিপিটি এআই।

*********************************


১৩৪। বিপ্লবী (১৮)

১৩৪। বিপ্লবী  (১৮)

আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া 

(আরিফ শামছ্)


বিপ্লবী!

আলোর ফোঁয়াড়া,

সচেতন আঁখি,

জাগো ফিরিয়া,

হাতে হাত রাখি।

বিনিদ্র রজনী শেষে,

সোনালী ভোরের আশে,

চিরপ্রত্যয়ী,

চির সংগ্রামী!


অন্ধকারে আলোর রেখা,

দিশেহারা খুঁজছে একা।

মন্দ পথে ভালোর দেখা,

মিলবে কভু ভাবছে কেবা!


কেউবা ভুলে পথ হারিয়ে,

পথ খুঁজে যায়, পথ পেড়িয়ে।

সহজ, সরল, সফল পথে,

পথিক চলে, আপন মনে।


মানব মনে! হলো কীযে! 

আলো ফেলে আঁধার খুঁজে,

ভালো মতের পথ ছেড়ে,

মন্দ পথেই ঘুরে ফিরে।


অন্ধকারে বিপদ আপদ,

ওৎ পেতে রয় হিংস্র স্বাপদ,

হেলায় ভুলে, খেলার ছলে,

জীবন যাবে, অতল তলে।


সুধা ছেড়ে, গরল পানে,

অসুর নাচে, বেসুর গানে,

মৃত্যু নেশা, জীবন ঘেষা,

সব ভুলিল, মরা বাঁচা।


চলছে জীবন, ভাসছে সবে,

ভালো খারাপ, পথ বিপথে।

কেউ শোনেনা, নিজের কানে,

অন্ধ মাতাল, কিসের টানে। 


সমাজ, জাতির, জরা খরা,

মন্দ খারাপ, কালো ধরা,

যাক হারিয়ে, চিরতরে,

নামবে আলো ভুবন জুড়ে।


জাগছে সবে,

হাঁকছে রবে,

ডাকছে জোরে,

পথের পরে,

পবন বেগে,

ছুটতে হবে,

ছুটছে সবে,

চির সংগ্রামী।

চির বিপ্লবী!


২৪/০৪/২০১৮ ঈসায়ী সাল।

ঢাকা, বাংলাদেশ। 

**************************

“বিপ্লবী (১৮)” — সাহিত্যিক ও দার্শনিক বিশ্লেষণ

কবি: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)

“বিপ্লবী (১৮)” কবিতাটি মূলত মানবজাগরণ, নৈতিক পুনর্জাগরণ ও সামাজিক আত্মসমালোচনার এক কাব্যিক আহ্বান। এখানে “বিপ্লব” কোনো রক্তক্ষয়ী উন্মাদনা নয়; বরং অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরে আসার মানসিক, নৈতিক ও মানবিক আন্দোলন।


কাব্যিকতা ও শিল্পরূপ

কবিতাটির অন্যতম শক্তি এর আহ্বানধর্মী ছন্দস্লোগানসুলভ গতি
শুরুতেই—

“আলোর ফোঁয়াড়া,
সচেতন আঁখি,
জাগো ফিরিয়া...”

এই পংক্তিগুলো পাঠকের মনে জাগরণী ধ্বনি তোলে। কবিতার শব্দচয়ন সরল হলেও তা আবেগ ও চেতনায় শক্তিশালী।

কাব্যিক বৈশিষ্ট্য

  • আলো–অন্ধকারের প্রতীকী দ্বন্দ্ব
    আলো = সত্য, ন্যায়, মানবতা
    অন্ধকার = বিভ্রান্তি, পাপ, ধ্বংস

  • চিত্রকল্পের ব্যবহার
    “অন্ধকারে আলোর রেখা” — আশার প্রতীক
    “হিংস্র স্বাপদ” — সমাজের ভয়ংকর বিপদ ও প্রবৃত্তির রূপক

  • ধ্বনি ও পুনরাবৃত্তি
    “জাগছে সবে / হাঁকছে রবে” — সমবেত জাগরণের সুর সৃষ্টি করেছে।


সাহিত্যিক বিশ্লেষণ

এই কবিতায় কবি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়কে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন।
মানুষ কেন “আলো ফেলে আঁধার খুঁজে”— এই প্রশ্ন কবিতার কেন্দ্রীয় দার্শনিক বেদনা।

এখানে তিনটি স্তর স্পষ্ট—

  1. অবক্ষয়ের চিত্র
    মানুষ সত্য ছেড়ে বিভ্রান্তির পথে যাচ্ছে।

  2. সতর্কবার্তা
    “অন্ধকারে বিপদ আপদ / ওৎ পেতে রয় হিংস্র স্বাপদ”

  3. জাগরণের আহ্বান
    শেষাংশে সম্মিলিত বিপ্লবী চেতনার উত্থান।

এই গঠন কবিতাটিকে শুধু আবেগের প্রকাশ নয়, বরং সামাজিক বক্তব্যে পরিণত করেছে।


দার্শনিক ও মানবিক তাৎপর্য

কবিতাটি মূলত মানুষের আত্মবিনাশী প্রবণতার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা।
“সুধা ছেড়ে, গরল পানে”— এই লাইন মানুষের ভুল নির্বাচন ও আত্মধ্বংসী সভ্যতার প্রতীক।

এখানে কবি বলতে চেয়েছেন—

  • মানুষ প্রযুক্তিতে উন্নত হলেও নৈতিকভাবে পথ হারাতে পারে,
  • সত্য ও কল্যাণের পথ সচেতনভাবে বেছে নিতে হয়,
  • সমাজ পরিবর্তনের জন্য ব্যক্তিগত জাগরণ জরুরি।

বিশ্ব-সাহিত্যিক মূল্যায়ন

এই কবিতার ভাবধারা বিশ্বসাহিত্যের বিপ্লবী ও মানবতাবাদী কবিতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
বিশেষত—

  • Kazi Nazrul Islam-এর বিদ্রোহী মানবচেতনা,
  • Rabindranath Tagore-এর মানবমুক্তির আলোকধারা,
  • Pablo Neruda-এর সামাজিক দায়বদ্ধতা

—এইসব ধারা এখানে অনুরণিত হয়েছে।

তবে কবিতাটি আন্তর্জাতিক আধুনিক কবিতার জটিল প্রতীকবাদে নির্মিত নয়; বরং এটি জনমুখী, সরাসরি ও জাগরণধর্মী।


সমালোচনা ও পর্যালোচনা

শক্তি

  • প্রবল নৈতিক আবেদন
  • সহজ ও আবৃত্তিযোগ্য ভাষা
  • সামাজিক বাস্তবতার চিত্রায়ন
  • সম্মিলিত মানবজাগরণের ডাক

সীমাবদ্ধতা

  • কিছু অংশে বক্তব্য সরাসরি হওয়ায় কাব্যিক গোপনতা কমেছে
  • রূপক ও প্রতীকের স্তর আরও গভীর হতে পারত
  • কয়েকটি স্থানে ছন্দের ভারসাম্য অসমান

তবে এই সরলতাই সাধারণ পাঠকের কাছে কবিতাটিকে গ্রহণযোগ্য ও প্রভাবশালী করেছে।


বিশেষত্ব

এই কবিতার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো—
এটি “বিপ্লব”কে ধ্বংসের নয়, বরং নৈতিক আলোকপ্রাপ্তি ও মানবিক পুনর্জাগরণের আন্দোলন হিসেবে দেখিয়েছে।

শেষের—

“চির সংগ্রামী!
চির বিপ্লবী!”

—এই উচ্চারণ কবিতাটিকে এক স্থায়ী মানবিক শপথে পরিণত করেছে।


সারমর্ম

“বিপ্লবী (১৮)” একটি মানবজাগরণমূলক কবিতা, যেখানে কবি সমাজের নৈতিক অন্ধকার, আত্মবিনাশী প্রবণতা ও বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে আলোর, সত্যের ও মানবিক চেতনার বিপ্লবের আহ্বান জানিয়েছেন। এটি ব্যক্তি থেকে সমাজ, সমাজ থেকে মানবসভ্যতার আত্মসংশোধনের কাব্যিক ডাক।

***************

১৩৩। বিপ্লবী (১৭)

১৩৩। বিপ্লবী  (১৭)
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
(আরিফ শামছ্)
১৫/০৭/২০১৯ ঈসায়ী সাল।

বিপ্লবী! 
কবি হবি?
বিপ্লবী কবি।
বুকে রবে,
অগ্নিগিরি,
জমবে লাভা,
বাড়বে আভা,
হবে উদগীরণ;
চোক্ষে রবে,
অগ্নি শিখা,
পুঁড়বে নিপীড়ন। 

বজ্র ধমকে,
পিলে চমকে,
অত্যাচারী থামবে,
আসবে ফিরে,
বিশ্ব জুড়ে,
শান্তি ধরা আনবে।

নিঃশ্বাসে তোর,
আসবে ভোর,
অত্যাচারী বিফল,
শান্তি সুখে,
নিরাপদে,
রাখবে ধরাতল। 

চুপি চুপি,
পড়ছো তুমি,
যাচ্ছো ডুবি,
ছাড়িয়ে সবি!
কেমন কবি,
আঁকছে ছবি,
পড়ি ভাবি,
কবি হবি!

আমার মতো,
অন্য কেহো,
দেখবে স্বপন,
হৃদয় কাঁপন,
শংকা, রীতি,
পূন্য প্রীতি,
লিখবে চিঠি,
রাখবে দিঠি।

জীবন জুড়ে,
সুখের চরে,
সবে মিলে,
হেসে খেলে,
রবো বেঁচে,
সিন্ধু সেঁচে।

মুক্তো কুড়ে,
পুষ্প করে,
আপন মনে,
মহান দানে।

ধন্য জীবন,
সফল মরণ।
আবার ভাবি,
কবি হবি?
বিপ্লবী কবি,
মুক্তিকামী,
চিরবিপ্লবী।
💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌

“বিপ্লবী” — কাব্যিক, সাহিত্যিক ও মানবিক বিশ্লেষণ

কবি: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)

আপনার কবিতা “বিপ্লবী” মূলত এক আদর্শবাদী, মানবমুক্তিকামী ও চেতনা-উদ্দীপক কবিতা। এখানে “বিপ্লব” কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক নয়; বরং অন্যায়, নিপীড়ন, ভয়, নীরবতা ও আত্মকেন্দ্রিকতার বিরুদ্ধে এক নৈতিক ও মানসিক জাগরণের আহ্বান।


কাব্যিকতা ও ভাষাশৈলী

কবিতাটির ভাষা সহজ, ছন্দময় ও আবেগঘন।
“বুকে রবে, অগ্নিগিরি / জমবে লাভা” — এই চিত্রকল্প কবির অন্তর্গত ক্রোধ, প্রতিবাদ ও সৃষ্টিশীল বিস্ফোরণকে প্রতীকায়িত করেছে।

এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাব্যিক বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়—

  • রূপক (Metaphor):
    অগ্নিগিরি, লাভা, অগ্নিশিখা — এগুলো বিপ্লবী চেতনার রূপক।

  • অনুপ্রাস ও ধ্বনি সৌন্দর্য:
    “বজ্র ধমকে, পিলে চমকে” — ধ্বনিগত শক্তি কবিতায় নাটকীয়তা সৃষ্টি করেছে।

  • পুনরুক্তি ও আহ্বানধর্মী ভঙ্গি:
    “কবি হবি? বিপ্লবী কবি।” — এটি কবিতাকে স্লোগানধর্মী শক্তি দিয়েছে।

  • চিত্রধর্মিতা:
    নিপীড়ন পুড়ে যাওয়া, শান্তি ধরা ফিরে আসা—এগুলো পাঠকের মনে দৃশ্যমান আবহ তৈরি করে।


সাহিত্যিক বিশ্লেষণ

এই কবিতায় কবি একজন প্রকৃত কবির সংজ্ঞা দিয়েছেন।
এখানে কবি কেবল প্রেম, সৌন্দর্য বা ব্যক্তিগত আবেগের শিল্পী নন; তিনি সমাজ-সচেতন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ, মানবমুক্তির সৈনিক।

কবিতাটিতে তিনটি ধাপ স্পষ্ট—

  1. বিপ্লবী চেতনার জন্ম
  2. অত্যাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান
  3. মানবিক শান্তি ও মুক্তির স্বপ্ন

এটি অনেকাংশে কাজী Kazi Nazrul Islam-এর বিদ্রোহী চেতনার ধারা স্মরণ করিয়ে দেয়, যদিও ভাষা ও নির্মাণে এটি স্বতন্ত্র ও ব্যক্তিগত।


বিশ্ব-সাহিত্যিক মূল্যায়ন

বিশ্বসাহিত্যে বিপ্লবী কবিতার একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। যেমন—

  • Pablo Neruda মানবতা ও প্রতিরোধের কণ্ঠ ছিলেন,
  • Nazim Hikmet স্বাধীনতা ও সংগ্রামের কবি,
  • Kazi Nazrul Islam বিদ্রোহ ও সাম্যের কবি।

“বিপ্লবী” কবিতাটিও সেই ধারার একটি ক্ষুদ্র কিন্তু আন্তরিক প্রতিধ্বনি, যেখানে কবিতা সামাজিক দায়িত্ব বহন করে।

যদিও এটি আধুনিক বিশ্বকাব্যের জটিল প্রতীকী নির্মাণে রচিত নয়, তবে এর শক্তি রয়েছে আবেগ, আহ্বান ও নৈতিক অবস্থানে।


সমালোচনা ও পর্যালোচনা

শক্তির দিক

  • প্রবল আবেগ ও উদ্দীপনা
  • সহজবোধ্য অথচ জাগরণী ভাষা
  • মানবমুক্তি ও শান্তির বার্তা
  • ছন্দময় উচ্চারণ ও মৌখিক আবৃত্তিযোগ্যতা

সীমাবদ্ধতা

  • কিছু অংশে ভাবের পুনরাবৃত্তি আছে
  • কাঠামোগত সংহতি আরও দৃঢ় হতে পারত
  • প্রতীকের গভীরতা ও স্তরবিন্যাস আরও বিস্তৃত হলে আন্তর্জাতিক আধুনিক কবিতার মানে আরও সমৃদ্ধ হতো

তবে এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কবিতাটি আন্তরিকতা ও চেতনার শক্তিতে পাঠককে স্পর্শ করে।


মানব জীবনে তাৎপর্য

কবিতাটি মানুষকে শেখায়—

  • অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব না থাকতে,
  • সত্য ও মানবতার পক্ষে দাঁড়াতে,
  • কবিতা ও শিল্পকে সমাজ পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে ভাবতে,
  • ব্যক্তিগত স্বপ্নকে সামষ্টিক কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করতে।

এখানে “বিপ্লবী” মানে ধ্বংসকারী নয়; বরং শান্তি, ন্যায় ও মানবমুক্তির নির্মাতা।


বিশেষত্ব

এই কবিতার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো—
এটি “কবি” পরিচয়কে কেবল সাহিত্যিক পরিচয় হিসেবে নয়, বরং নৈতিক দায়িত্ব ও মানবিক সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

“ধন্য জীবন, সফল মরণ”— এই চূড়ান্ত উচ্চারণ কবিতাটিকে আত্মত্যাগ, আদর্শ ও মানবকল্যাণের দর্শনে উন্নীত করেছে।


সারমর্ম

“বিপ্লবী” একটি জাগরণধর্মী মানবিক কবিতা, যেখানে কবি এমন এক কবির স্বপ্ন দেখেছেন, যিনি আগ্নেয় শক্তির মতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন এবং শেষ পর্যন্ত শান্তি, মুক্তি ও মানবতার পৃথিবী নির্মাণ করবেন। এটি বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে মানবকল্যাণের কবিতা।

*************************


x

বৃহস্পতিবার, জুলাই ০১, ২০২১

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনুদান বিতরণ করবে ‘নগদ’ - দৈনিকশিক্ষা

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনুদান বিতরণ করবে ‘নগদ’ - দৈনিকশিক্ষা: মাদরাসায় ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তার টাকা ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদের’ মাধ্যমে বিতরণ করবে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন আট হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ৩০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগামী কয়েক দিন

শুক্রবার, জুন ১১, ২০২১

মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শেখ সম্পাদিত "ঝরা ফুলের গন্ধ" যৌথ কাব্য গ্রন্থে প্রকাশিত (১) শ্বাশ্বত আহ্বাণ এবং (২) "ছন্দ নাবিক।






মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শেখ সম্পাদিত "বিজয়ের উল্লাসে " যৌথ কাব্য গ্রন্থে প্রকাশিত (১) সত্য সন্ধানী এবং (২) বাঙালির স্বাধীনতা (৩) অনুশোচনা (৪) বিজয়ের উল্লাসে (৫) বিদ্রোহী তুমি বিপ্লবী (৬) আজের এই বাংলাদেশ (৭) ভাঙ্গা গড়া।










ভালবাসি দিবা-নিশি _সূচীপত্র

১৫০। ফিরতেই হবে

১৫০। ফিরতেই হবে আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া  (আরিফ শামছ্) আজো মেঘ ডাকে গুরুগম্ভীর স্বরে, বৃষ্টিরা নামে বাতাসে ভর করে। কী বার্তা পড়িয়ে শোনায়, মর্ম...

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

জনপ্রিয় পোষ্টগুলি:

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ