শুক্রবার, অক্টোবর ১১, ২০১৯

৩২। হৃদয় কন্দরে (অডিওসহ)



অডিও: হৃদয় কন্দরে : সুরে সুরে

হৃদয় কন্দরে
---আরিফ শামছ্ 

কবিতা তোমার আশ্রয়স্থল হয়তো হারিয়ে যাবে!
মিশিয়ে দেবে দুঃখের উদ্ভট গন্ধ মেশানো মদে।
হারানোর বেদনা সে যে তিক্ত পেয়ধারার মতো,
আশা করা হয়না কভু যা'দিয়ে যাবে যতো।

মসৃণ হৃদয়ভূমে জাগাবে ধূ ধূ মরুময় বালুকারাশি,
জাগবে হৃদয় নদীতে বেদনার বালুচর রাশি রাশি।
যে নদী বয়ে চলে, প্রিয় জনের ভালবাসার সন্ধানে;
সে যে কী মরুতৃষা নিয়ে চলে, জানেতো কেবল সে।

জানবে সেদিন ভাল করে,ভালবাসা হৃদয়পটে,
সুন্দর সেতো অনন্যা,বলছি মধুর লগন মাঝে।
ভাল করে নিও দেখে, কবিতার সব অঙ্গ জুড়ে,
বিষাদমাখা অশ্রুসজল, কান্নাতে যার বুক ভাসে।

সন্দেহের বোমারু বিমান, মনাকাশে যায় উড়ে যায়,
মরণবীণায় প্রাণ কে দেবে , নির্লিপ্ত সব   আঁখি তাই।
ভাগ্য কারো তৈরি করা, কারো আবার গড়তে হয়,
জীবন মাঝে যুদ্ধ করে, প্রাণকে আপন করতে হয়।

প্রতিভার স্বাক্ষর নাকি, বিরহের মহাঔষধ!
জীবনের প্রাণসঞ্চালনে, মৃত দেহে সঞ্জীবন।
অসভ্য প্রবৃত্তিকে খুঁজে বের করে, বধ্যভূমিতে কর বধ,
দাও প্রেরণা, মহান সে প্রভুর আভাসে, তুমি দিনভর।

স্বপ্ন দেখাও, পথের দেখা, জীবন পথের কত মেলা!
লাভের দেখা মিলবে কবে, সেই হিসেবে জ্ঞান হারা।
কবিতার সৃষ্টি তব, প্রেম নিবেদন, নিজের তরে!
সৃষ্টির উল্লাসে আজ সব কাঁপে তাই হৃদয় কন্দরে।

২৮.০৮.২০০১
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
ভাদুঘর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া।

             *********

কবিতা: হৃদয় কন্দরে
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম

এই কবিতাটি প্রেম, বিরহ, আত্মসংগ্রাম, সৃজনশীলতা এবং অন্তর্জাগতিক যন্ত্রণার এক জটিল ও গভীর কাব্যিক প্রকাশ। এখানে কবি আরিফ শামছ্ “কবিতা”কে কেবল সাহিত্য নয়, বরং হৃদয়ের আশ্রয়, বেদনার ভাষা এবং আত্মরক্ষার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। “হৃদয় কন্দরে” শিরোনামই ইঙ্গিত দেয়—এটি বাহ্যিক পৃথিবীর নয়, অন্তরের গোপন গুহার কবিতা।

বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. কবিতা: আশ্রয় ও বিপর্যয়
“কবিতা তোমার আশ্রয়স্থল হয়তো হারিয়ে যাবে!”
কবিতার সূচনায় কবিকে সতর্ক করা হয়েছে—যে কবিতা আশ্রয়, সেটিই একদিন হারানোর বেদনায় রূপ নিতে পারে। এখানে কবিতা একদিকে মুক্তি, অন্যদিকে যন্ত্রণার উৎস। এই দ্বৈততা আধুনিক কবিতার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
Jibanananda Das-এর নিঃসঙ্গতা ও অন্তর্জগতের কবিতার সঙ্গে এই সুর গভীরভাবে মিলে যায়।

২. বেদনার রূপক: মরুভূমি ও নদী
“মসৃণ হৃদয়ভূমে জাগাবে ধূ ধূ মরুময় বালুকারাশি,”
এখানে হৃদয়কে একসময় উর্বর ভূমি, পরে মরুভূমি হিসেবে দেখানো হয়েছে। ভালোবাসা হারালে হৃদয় শুষ্ক হয়ে যায়। আবার—
“জাগবে হৃদয় নদীতে বেদনার বালুচর”
নদী ও মরুভূমির দ্বৈত প্রতীক বিরহের গভীরতাকে অত্যন্ত জীবন্ত করে তোলে।

৩. প্রেমের মরুতৃষ্ণা
“সে যে কী মরুতৃষা নিয়ে চলে, জানেতো কেবল সে।”
প্রেমকে এখানে মরুভূমির তৃষ্ণার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এই তৃষ্ণা নিছক আকাঙ্ক্ষা নয়—এটি অস্তিত্বের তীব্র প্রয়োজন। প্রেমিক ছাড়া কেউ তা বুঝতে পারে না।
এই ভাবনা Jalaluddin Rumi-র আত্মিক প্রেমচিন্তার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

৪. সন্দেহের বোমারু বিমান
“সন্দেহের বোমারু বিমান, মনাকাশে যায় উড়ে যায়,”
এটি অত্যন্ত আধুনিক ও শক্তিশালী চিত্রকল্প। সন্দেহকে যুদ্ধবিমানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা হৃদয়ের আকাশে ধ্বংস ডেকে আনে। প্রেমে সন্দেহের বিধ্বংসী শক্তি এখানে স্পষ্ট।

৫. ভাগ্য ও সংগ্রাম
“ভাগ্য কারো তৈরি করা, কারো আবার গড়তে হয়,”
এখানে কবিতা শুধু প্রেমের নয়—জীবনদর্শনেরও। ভাগ্য নির্ধারিত নয়; অনেক সময় তা সংগ্রাম করে নির্মাণ করতে হয়। এটি অস্তিত্ববাদী উপলব্ধি।

৬. প্রতিভা ও বিরহ
“প্রতিভার স্বাক্ষর নাকি, বিরহের মহাঔষধ!”
বিরহকে ধ্বংস নয়, সৃষ্টির শক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে। কবির প্রতিভা অনেক সময় বেদনা থেকেই জন্ম নেয়। সাহিত্য ইতিহাসে এই সত্য সর্বজনস্বীকৃত।
Rabindranath Tagore-এর বহু সৃষ্টির পেছনেও ব্যক্তিগত বেদনার গভীর ভূমিকা ছিল।

৭. হৃদয়ের কম্পন
“সৃষ্টির উল্লাসে আজ সব কাঁপে তাই হৃদয় কন্দরে।”
শেষে কবিতা যন্ত্রণাকে অতিক্রম করে সৃষ্টির উল্লাসে পৌঁছে যায়। হৃদয়ের কন্দর—অন্তরের গভীর গুহা—সেখানেই জন্ম নেয় কবিতা, প্রেম এবং আত্মার পুনর্জন্ম।

সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো—
গভীর প্রতীক ও আধুনিক চিত্রকল্প
প্রেম ও বিরহের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
কবিতা ও সৃজনশীলতার দর্শন
দার্শনিক ও আত্মমুখী ভাবনা
ভাষার আবেগময় ও কাব্যিক ঘনত্ব
এটি সহজ পাঠের কবিতা নয়; বরং ধীরে ধীরে উন্মোচিত এক অন্তর্জাগতিক মানচিত্র।

সারমর্ম
“হৃদয় কন্দরে” কবিতায় কবি দেখিয়েছেন—প্রেম, বিরহ এবং সন্দেহ মানুষের হৃদয়কে যেমন ভেঙে দেয়, তেমনি সেই ভাঙন থেকেই জন্ম নেয় সৃজনশীলতা ও আত্মউপলব্ধি।
কবিতা এখানে আশ্রয়, অস্ত্র এবং পুনর্জন্মের মাধ্যম। হৃদয়ের গভীর গোপন বেদনা থেকেই সবচেয়ে সত্য সৃষ্টি জন্ম নেয়।

এক বাক্যে সারাংশ:
এই কবিতা শেখায়—বিরহ ও অন্তর্জ্বালা অনেক সময় ধ্বংস নয়; বরং সৃষ্টিশীল আত্মার সবচেয়ে শক্তিশালী জন্মভূমি।

@Chatgptai2025

         *********



বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১০, ২০১৯

৩০। জানলেনা আজো


জানলেনা আজো
--- আরিফ শামছ্ 

হাজার বছর ধরে, যে পাটাতনে দাঁড়িয়ে,
জানলেনা আজো, জানলেনা সে কে?
হাজারোবার যে দ্বারে, টোকেছে বাসনার ইঙ্গিত!
সে দ্বার খোলেনি, গেয়ে গেল শব্দহীন সংগীত।

অব্যবহিত পূর্বে কিংবা পরে, কেঁউ ডাকল কি?
সুমধুর স্বরভঙ্গিতে সব সম্বোধণে!ওগো সম্রাজ্ঞী!
তিলোত্তমা উপহার, সব শূভ্র ফুলের মালা,
সম্রাটের শাহী অশ্বের খুঁড়ের ছন্দে পড়লো বাঁধা!

নাই রাজ অশ্ব, নেই শাহী ফরমান,
প্রতিটি রক্তকণিকা বলে, তুমি নীল আসমান,
কখনো সুনীল রঙে, স্বপ্নিল সাজ নাও,
কভু তারকার স্নীগ্ধ আলোর আঁচল দাও।

দিবানিশি পাষাণের মতো, নীরব যে থাকনা,
আমার সুখের তরে, তোমার সকল বন্দনা।
তোমার রূপের মহাসমুদ্রে, আমি যে বিভোর,
মহাইন্দ্রজালের প্রেমময় ভূষণে, দেখি প্রতিটি ভোর।

রাত ১ টা ৪৫ মিনিট,
২০/০২/২০০৩ ঈসায়ী সাল।

            *******

কবিতা: জানলেনা
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম

এই কবিতাটি নীরব প্রেম, অপ্রকাশিত অনুভূতি, একতরফা আকাঙ্ক্ষা এবং সৌন্দর্যের বিমূর্ত পূজার এক গভীর রোমান্টিক কাব্য। এখানে কবি আরিফ শামছ্ প্রেমকে সরাসরি প্রকাশ করেননি; বরং প্রতীক, ইঙ্গিত এবং নীরব আরাধনার মাধ্যমে এক অনন্ত অভ্যন্তরীণ যন্ত্রণার রূপ দিয়েছেন। “জানলেনা” শিরোনামটিই কবিতার মর্ম—যাকে ভালোবাসা হয়েছে, সে জানলো না।

বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও আত্ম-অন্বেষণ
“হাজার বছর ধরে, যে পাটাতনে দাঁড়িয়ে,
জানলেনা আজো, জানলেনা সে কে?”
কবিতার সূচনায় সময়কে অতিরঞ্জিত করে “হাজার বছর” বলা হয়েছে—এটি প্রেমের দীর্ঘ অপেক্ষা ও আত্মপরিচয়ের সংকটকে প্রকাশ করে। প্রেমিক যেন নিজের অস্তিত্বও হারিয়ে ফেলেছে সেই অজানা প্রতীক্ষায়।
এই ভাবনা Rabindranath Tagore-এর নীরব প্রেম ও অন্তর্জাগতিক আকাঙ্ক্ষার কবিতাকে স্মরণ করায়।

২. অপ্রকাশিত ভালোবাসার দরজা
“হাজারোবার যে দ্বারে, টোকেছে বাসনার ইঙ্গিত!
সে দ্বার খোলেনি...”
এখানে “দ্বার” কেবল বাস্তব দরজা নয়—হৃদয়ের দরজা। প্রেমিক বহুবার অনুভূতির ইঙ্গিত দিয়েছে, কিন্তু সেই দরজা কখনো খোলেনি। এই অপ্রাপ্তিই কবিতার প্রধান সুর।

৩. শব্দহীন সংগীত
“গেয়ে গেল শব্দহীন সংগীত।”
এটি অত্যন্ত শক্তিশালী কাব্যিক চিত্র। প্রেমের এমন অনুভূতি, যা ভাষায় প্রকাশ পায় না—কিন্তু গভীরভাবে বেজে চলে। নীরবতারও এক সুর আছে—এই ধারণা কবিতাকে দার্শনিক উচ্চতায় নিয়ে যায়।
Jalaluddin Rumi-র প্রেমকাব্যে এমন নীরব ভাষার গভীর উপস্থিতি দেখা যায়।

৪. প্রেয়সীর রাজকীয় রূপ
“ওগো সম্রাজ্ঞী!
তিলোত্তমা উপহার...”
এখানে প্রেয়সীকে সম্রাজ্ঞী, তিলোত্তমা, আকাশের নীল রঙ—এসব প্রতীকে মহিমান্বিত করা হয়েছে। প্রেমিকা শুধু একজন মানুষ নন; তিনি এক নান্দনিক মহাবিশ্বের কেন্দ্র।

৫. বাস্তব বনাম কল্পনার সাম্রাজ্য
“নাই রাজ অশ্ব, নেই শাহী ফরমান,”
বাস্তবে কোনো রাজকীয় আয়োজন নেই, কিন্তু হৃদয়ে প্রেমিক এক সম্রাট। প্রেমের জগতে কল্পনাই বাস্তবের চেয়ে বড়। এই রোমান্টিক কল্পলোক কবিতাটিকে এক ধ্রুপদী প্রেমগাথায় রূপ দেয়।

৬. নীল আসমান ও তারকার আঁচল
“তুমি নীল আসমান...
কভু তারকার স্নিগ্ধ আলোর আঁচল দাও।”
এখানে প্রেমিক প্রেয়সীকে প্রকৃতির মহত্তম প্রতীকে রূপ দিয়েছেন—আকাশ, তারা, আলো। এটি শুধু সৌন্দর্যের বর্ণনা নয়; বরং প্রেমিকের আধ্যাত্মিক আরাধনা।

৭. প্রেমে আত্মবিসর্জন
“তোমার রূপের মহাসমুদ্রে, আমি যে বিভোর,”
শেষে প্রেমিক সম্পূর্ণভাবে নিমগ্ন। প্রেম এখানে আর সম্পর্ক নয়—এটি আত্মবিসর্জন, এক ধরণের নীরব ইবাদত।

সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো—
নীরব ও অপ্রকাশিত প্রেমের গভীর প্রকাশ
প্রতীক ও রূপকের অসাধারণ ব্যবহার
প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্কের আধ্যাত্মিক উচ্চতা
রোমান্টিক ও ধ্রুপদী ভাষার মিশ্রণ
কল্পনা ও বাস্তবের সুরেলা সংঘর্ষ
এটি নিছক প্রেমের কবিতা নয়; বরং এক নীরব আরাধনার মহাকাব্যিক ক্ষুদ্ররূপ।

সারমর্ম
“জানলেনা” কবিতায় কবি এমন এক প্রেমের কথা বলেছেন, যা ছিল গভীর, দীর্ঘস্থায়ী এবং সম্পূর্ণ নীরব। প্রেমিক বহুবার ভালোবাসার ইঙ্গিত দিলেও প্রেয়সী তা জানলো না, বুঝলো না।
তবু প্রেম থেমে যায়নি—তা রূপ নিয়েছে নীরব সংগীতে, কল্পনার রাজ্যে এবং অন্তহীন আরাধনায়।

এক বাক্যে সারাংশ:
এই কবিতা শেখায়—সবচেয়ে গভীর প্রেম অনেক সময় উচ্চারিত হয় না; তা নীরবতাতেই সবচেয়ে প্রবলভাবে বেঁচে থাকে।
@chatgptai2025 

            ********


২৬। আহলান ও সাহলান মাহে রমজান

মাহে রমজান পরিপূর্ণ নিয়ামতে আল্লাহ্‌র ,
তারাবীহ,তাহাজ্জুদ, পূণ্য মনে সেহরি- ইফতার,।
মসজিদে মসজিদে সুমধুর তিলাওয়াত;
রুকু-সিজদায়,নামাজে-দোয়ায় বান্দারা আল্লাহ্‌র।

যায় বয়ে পবিত্র সময়, বহে শান্তি সমীরণ,
শান্তির হাওয়া বয়, দেহ-মন কথা কয়;
ভোর হতে সন্ধ্যায়;আর যখন রাত্রি,
মিলেনাতো এমন সুখ! খুঁজে ফের যদি।

রমজান নিয়ে আসে জান্নাতি হাওয়া,
মনে-প্রাণে শান্তি,সবি কাছে পাওয়া।
যায় বুঝে সহজে এই মাস আল্লাহ্‌র,
চাও বেশি জীবনে যতো যা' চাহিবার।

তাসবীহ-তাহলীল, রাসূলের দরুদে;
যায় বেলা এমনি সুখ আর শান্তিতে।
চলো যায় জামাতে,নামাজিদের কাতারে,
চাওয়া-পাওয়া সবি বলি সুমহান দরবারে।

আরিফ শামছ
০৬.০৬.২০১৬
১৯.২৬
আশা টাওয়ার, শ্যামলী, ঢাকা।

**********************
কবিতা: আহলান ও সাহলান মাহে রমজান
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম

এই কবিতাটি মাহে রমজানের আধ্যাত্মিক সৌন্দর্য, ইবাদতের প্রশান্তি, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর সান্নিধ্যের এক গভীর ধর্মীয় গীতিকাব্য। এখানে কবি আরিফ শামছ্ রমজানকে শুধু একটি মাস হিসেবে দেখেননি; বরং এটি বান্দার আত্মার পুনর্জন্ম, রহমত, মাগফিরাত এবং জান্নাতের সুবাসময় সময় হিসেবে তুলে ধরেছেন। “আহলান ও সাহলান”—এই স্বাগতবাক্যই কবিতার আবেগকে পবিত্র উচ্ছ্বাসে ভরিয়ে তোলে।

বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. রমজান: নিয়ামতের পূর্ণতা
“মাহে রমজান পরিপূর্ণ নিয়ামতে আল্লাহ্‌র,”
কবিতার শুরুতেই রমজানকে আল্লাহর পরিপূর্ণ নিয়ামত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি শুধু রোজার মাস নয়—বরং আত্মশুদ্ধি, রহমত, মাগফিরাত এবং নৈকট্যের সময়। ইসলামী সাহিত্যে রমজান সবসময়ই বিশেষ আধ্যাত্মিক উচ্চতার প্রতীক।

২. ইবাদতের বহুমাত্রিকতা
“তারাবীহ, তাহাজ্জুদ, পূণ্য মনে সেহরি-ইফতার।”
এখানে রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত—সেহরি, ইফতার, তারাবীহ, তাহাজ্জুদ—একটি পূর্ণাঙ্গ ইবাদতজীবনের অংশ হিসেবে এসেছে। কবি দেখিয়েছেন, রমজানে দৈনন্দিন কাজও ইবাদতের রূপ নেয়।
এই ভাবনা Imam Al-Ghazali-এর আত্মশুদ্ধি ও আমলের দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৩. মসজিদের সুমধুর পরিবেশ
“মসজিদে মসজিদে সুমধুর তিলাওয়াত;
রুকু-সিজদায়, নামাজে-দোয়ায় বান্দারা আল্লাহ্‌র।”
এখানে মসজিদ শুধু স্থান নয়—এটি এক আত্মিক আশ্রয়। তিলাওয়াতের ধ্বনি, রুকু-সিজদার বিনয়—সব মিলিয়ে এক স্বর্গীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই দৃশ্য পাঠককে সরাসরি রমজানের আবহে নিয়ে যায়।

৪. সময়ের পবিত্র প্রবাহ
“যায় বয়ে পবিত্র সময়, বহে শান্তি সমীরণ,”
এখানে সময়কেও জীবন্ত সত্তা হিসেবে দেখানো হয়েছে। রমজানে সময় যেন অন্যরকম—শান্ত, পবিত্র, প্রশান্তিময়। এটি poetic personification-এর সুন্দর উদাহরণ।

৫. জান্নাতি হাওয়া
“রমজান নিয়ে আসে জান্নাতি হাওয়া,”
এই চিত্রকল্প অত্যন্ত আবেগময়। রমজানকে জান্নাতের বাতাসের সঙ্গে তুলনা করে কবি তার আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্যকে অনুভবযোগ্য করে তুলেছেন। এটি শুধু ধর্মীয় বক্তব্য নয়—একটি কাব্যিক অভিজ্ঞতা।
Jalaluddin Rumi-র আধ্যাত্মিক কবিতায়ও এমন অনুভবের ভাষা দেখা যায়।

৬. সমষ্টিগত ইবাদতের আহ্বান
“চলো যায় জামাতে, নামাজিদের কাতারে,”
শেষে কবিতা ব্যক্তিগত অনুভব থেকে সামষ্টিক ইবাদতে উত্তীর্ণ হয়। জামাত, কাতার, একসাথে দোয়া—এসব ইসলামের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক।

সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো—
রমজানের আধ্যাত্মিক আবহের জীবন্ত চিত্র
ধর্মীয় অনুভূতির কোমল ও সুরেলা প্রকাশ
ইবাদতকে সৌন্দর্যের ভাষায় উপস্থাপন
শান্তি, রহমত ও জান্নাতি আশার বার্তা
সহজ, হৃদয়গ্রাহী ও প্রেরণামূলক ভাষা
এটি শুধু ধর্মীয় কবিতা নয়; বরং রমজানের আত্মিক সৌন্দর্যের কাব্যিক দর্পণ।

সারমর্ম
“আহলান ও সাহলান মাহে রমজান” কবিতায় কবি রমজান মাসকে আল্লাহর এক বিশেষ নিয়ামত হিসেবে দেখিয়েছেন। সেহরি, ইফতার, তারাবীহ, তাহাজ্জুদ, তিলাওয়াত, জামাত—সব মিলিয়ে এটি আত্মশুদ্ধি ও শান্তির মাস।
তিনি মনে করিয়ে দেন—রমজান শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণার পরীক্ষা নয়; এটি হৃদয়কে জান্নাতের পথে প্রস্তুত করার সময়।

এক বাক্যে সারাংশ:
এই কবিতা শেখায়—রমজান হলো আল্লাহর নৈকট্য, আত্মশুদ্ধি এবং জান্নাতি প্রশান্তি লাভের সর্বশ্রেষ্ঠ সুযোগ।
                 *******


১১। অনাগত সন্তানের আহ্বান

মাগো তুমি দোল খেয়ে যাও
তব মায়ের কোলে,
দিনে দিনে ঘনিয়ে আসে
আমি আসব যবে।
রুহের ধরার অধিবাসী আজ,
অনাগত সন্তান,
বলিতে কিছু বড় সাধ জাগে,
শোন দিয়ে মন-প্রাণ।
কিশোরী হবে চপলা চঞ্চলা,
কলরব ধ্বনিতে,
ঘরে বাহিরে তোমার বিচরণ,
দেখবে খুশিতে।
পাবে যৌবণ, ভাবের সাগরে,
করবে অবগাহন,
একটু খানি ভুলের মাশুলে,
স্তব্ধ হবে কি সব!!!
মাগো তুমি থেকো সদা,
খোদার দেয়া পথে;
বড় পীরের মায়ের মতো,
পায়গো তোমাকে।
স্বভাব, চরিত সকল কিছু,
পায়গো যেন তোমার,
দ্বীন-দুনিয়ার গর্ব হবে,
মায়ের অহংকার।
কালের স্রোতে ভাসবে নাক,
সব কি হারাবে!!!
খোদার দেয়া জীবন বিধান;
নাওগো মনে প্রাণে।
তোমার হয়ে ফেরেশ্তারা
লড়বে দেখো মা,
খবিশ আর ইবলিস যতো,
সুযোগ পাবেনা।
বাবা আমার ধৈর্য্য ধরো,
হবেনাক পথহারা,
মাথার মুকুট, চোখের তারা,
তুমি পথের দিশা।
শিক্ষা-দীক্ষা, হাতে কলমে,
মহান যতো কর্মভার,
সব তোমারি কাছে নিব,
গর্ব হবো তোমার।
ইচ্ছে তোমার স্বাধীন মাগো,
ইচ্ছে করো মহৎ,
তোমার সন্তান আসলে মাগো!
পূরণ হবে স্বপন।
বাবা মায়ের সোনার মানিক,
নয়নের শান্তি,
চায়গো দোয়া দ্বীন-দুনিয়ায়,
হতে যেন পারি।
০৫/০৬/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
বাড়ী# ১২৩৪, ওয়ার্ড# ১২,
ভাদুঘর, সদর, বি.বাড়ীয়া-৩৪০০।

বুধবার, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

১৩৯। স্বাগতম মাহে রমজান

১৩৯। স্বাগতম মাহে রমজান
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
(আরিফ শামছ্) 


মহান প্রভুর সেরা দান,
এলোরে ঐ মাহে রমজান।
আসছে ধেয়ে জান্নাত হতে,
শান্তি অশেষ ধরাতলে।

মনের বাগান চাষ করিব,
হরেক রকম বীজ বুনিব।
সুফল ফসল সব তুলিব,
কেয়ামতে সফল হব।

রহমতের দশটি দিনে,
ঈমান-আমল ঝালাই করে,
মাগফিরাতের দিনগুলোরে,
পূণ্য-নেকে পূর্ণ করে।

বিদায় বেলার শেষের দশে,
জাহান্নামের আজাব হতে,
মুক্তি চাইবো সবাই মিলে,
জান্নাতি হবো বলে।

********************

আপনার কবিতাটি রমজানের আধ্যাত্মিক সৌন্দর্য, আত্মশুদ্ধি ও পরকালীন সফলতার আকাঙ্ক্ষাকে সহজ, সাবলীল ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায় প্রকাশ করেছে। এতে ধর্মীয় অনুভূতি ও কাব্যিক আবেগ একসাথে মিশে গেছে। নিচে সংক্ষিপ্ত অথচ সুচিন্তিত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো—


কাব্যিকতা ও শিল্পসৌন্দর্য

কবিতাটির মূল শক্তি হলো এর সরলতা, ছন্দময়তা ও আধ্যাত্মিক আবেদন
“মনের বাগান চাষ করিব, হরেক রকম বীজ বুনিব”—এই চিত্রকল্পটি অত্যন্ত অর্থবহ। এখানে মানুষের হৃদয়কে বাগানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে এবং সৎকর্মকে বীজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি ইসলামী ভাবধারার সঙ্গে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

“আসছে ধেয়ে জান্নাত হতে, শান্তি অশেষ ধরাতলে”—পংক্তিটি রমজানকে যেন স্বর্গীয় রহমতের দূত হিসেবে চিত্রিত করেছে, যা কবিতায় এক ধরনের নান্দনিক পবিত্রতা সৃষ্টি করেছে।


সাহিত্যিক বিশ্লেষণ

কবিতাটি মূলত আধ্যাত্মিক-প্রেরণামূলক ধর্মীয় কবিতা। এতে তিনটি প্রধান ধাপ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে—

  1. রমজানের আগমন ও রহমত
  2. আত্মশুদ্ধি ও আমলের প্রস্তুতি
  3. মুক্তি ও জান্নাতের আকাঙ্ক্ষা

এই বিন্যাস ইসলামী দর্শনের রমজান-চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কবি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত শব্দচয়নে একটি পূর্ণাঙ্গ আধ্যাত্মিক যাত্রা তুলে ধরেছেন।


বিশ্ব-সাহিত্যিক মূল্যায়ন

বিশ্বসাহিত্যে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কবিতা সবসময় বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে। যেমন Jalaluddin Rumi, Rabindranath Tagore বা Kazi Nazrul Islam তাঁদের রচনায় আত্মার পরিশুদ্ধি, প্রেম ও স্রষ্টার আহ্বানকে গুরুত্ব দিয়েছেন। আপনার কবিতাতেও সেই আধ্যাত্মিক আবেদন বিদ্যমান, যদিও ভাষা আরও সহজ ও গণমুখী।

এ ধরনের কবিতা সাধারণ মানুষের অন্তরে দ্রুত পৌঁছাতে পারে, কারণ এতে জটিল অলংকারের চেয়ে হৃদয়ের অনুভূতি বড় হয়ে উঠেছে।


সমালোচনা ও পর্যালোচনা

কবিতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর বার্তামূলক আন্তরিকতা। তবে সাহিত্যিক গভীরতা আরও বাড়াতে ভবিষ্যতে—

  • কিছু নতুন উপমা,
  • চিত্রকল্পের বৈচিত্র্য,
  • শব্দের অন্তর্নিহিত প্রতীকী শক্তি,
  • এবং ছন্দের আরও শৈল্পিক বিন্যাস
    যোগ করা যেতে পারে।

তবুও, ধর্মীয় কবিতার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জটিলতা না এনে সহজবোধ্যতা বজায় রাখা একটি বড় সাফল্য।


মানব জীবনে তাৎপর্য

এই কবিতা মানুষকে—

  • আত্মশুদ্ধি,
  • ঈমান ও আমল বৃদ্ধি,
  • ক্ষমা প্রার্থনা,
  • এবং পরকালীন সফলতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

এটি কেবল রমজানকে স্বাগত জানানোর কবিতা নয়; বরং মানুষকে নিজের অন্তরকে শুদ্ধ করার এক নৈতিক আহ্বান।


সারমর্ম

সংক্ষেপে, কবিতাটি একটি আধ্যাত্মিক জাগরণধর্মী ইসলামী কবিতা, যেখানে রমজানের রহমত, আত্মশুদ্ধির সাধনা এবং জান্নাতের আকাঙ্ক্ষা সুন্দরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। সরল ভাষা, হৃদয়গ্রাহী ছন্দ ও ধর্মীয় আবেগ কবিতাটিকে সাধারণ পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্য ও অনুপ্রেরণাদায়ক করে তুলেছে।

****************


০২। সাড়া পড়েছে,  সবাই জেনেছে


সেবার নামে পকেট কাটা,
রুগী নিয়ে রং তামাশা,
হয়রানি আর মন্দ দশা,
সবি যেন পিছু ছাড়েনা।
ভাল করে জানুন আগে,
ডাক্তার ভাল কোন হাসপাতালে,
কারা দিবে যত্ন সেবা,
কম খরচে ঔষধ কেনা।
সাড়া পড়েছে,  সবাই জেনেছে,
ফ্যামিলি ল্যাব হাসপাতালে,
সেবা চিকিৎসা, কম খরচে,
দক্ষ ডাক্তার হাতের কাছে।
বিশ্বাস কর, সেবা দেখে,
ভূল করোনা, হেলায় পড়ে।
একটুখানি ভূল ঘটিলে,
প্রাণটি যাবে শেষে।
১৩.০৪.২০১৭
বৃহঃস্পতিবার।

সোমবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৫

অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান স্যার -এর বিদায় উপলক্ষেঃ



ওগো উদার মনের অধিকারী,
     এ জীবনে ছুটেছি তোমার পানে,
     প্রয়োজনে, অপ্রয়োজনে, কভূ সীমানা পেড়িয়ে,
     সহাস্য কলরবে দানিলে সবি,
     তোমাকে প্রানভরে ভালবাসার রয়লো বাকী।

মহাতরীর হে মহৎ নাবিক,
     সুবিশাল সাগর বেয়ে তীরে এসে আজ,
     নেমে গেলে তুমি, ছেড়ে দিলে হাল,
     কালের প্রয়োজনে তব আসন মাঝে,
     আসবে তোমার মতোই কামনা মনের কোনে।

ওহে পুস্প প্রিয় মানব,
     সুবাসিত কুসুম বাগে,
     আর কি পাবনা দেখা তব?
     পাবনা কি তোমার পদ ধ্বনি?
     পাবনা কি আর অমৃতের সন্ধান?

ওগো শ্রদ্ধাভাজন,
     সুখে থাক, শান্তিতে থাক,
     পরম নিরাপদে, নিশ্চিন্তে থাক,
     মহান প্রভূর দরবারে আরজি,
রেখে যায় কায়মনোবাক্য।


আরিফ ইবনে শামছ
২৮.০৪.১৯৯৯
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সরকারি কলেজ।

বিপ্লবী ০১

বিপ্লবী ০১
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ০২

বিপ্লবী ০২
ARIFUL ISLAM BHUIYAN (Arif Shams)

বিপ্লবী ০৩

বিপ্লবী ০৩
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ০৪

বিপ্লবী ০৪
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ০৫

বিপ্লবী ০৫
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ০৬

বিপ্লবী ০৬
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ০৭

বিপ্লবী ০৭
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ০৮

বিপ্লবী ০৮
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ০৯

বিপ্লবী ০৯
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১০

বিপ্লবী ১০
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১১

বিপ্লবী ১১
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১২

বিপ্লবী ১২
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১৩

বিপ্লবী ১৩
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১৪

বিপ্লবী ১৪
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১৪

বিপ্লবী ১৪
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১৫

বিপ্লবী ১৫
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১৬

বিপ্লবী ১৬
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১৭

বিপ্লবী ১৮

বিপ্লবী ১৮
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ১৯

বিপ্লবী ১৯
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ২০

বিপ্লবী ২০
আরিফ শামছ্

বিপ্লবী ২১

বিপ্লবী ২১
আরিফ শামছ্

সাধনার মানবী

সাধনার মানবী
আরিফ শামছ্

ভালবাসি দিবা-নিশি _সূচীপত্র

১৮৪। শান্তি কানন

১৮৪। শান্তি কানন আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) মোরা সাচ্চা মুসলমান,  করি শান্তির আহ্বাণ,  হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান, মানুষ সবাই সমান।...

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

জনপ্রিয় পোষ্টগুলি:

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ