মধুবাগ, মগবাজার,
রমনা, ঢাকা।
👤 আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক: এ.এস একাডেমি 📚 শিক্ষাগত যোগ্যতা: বি.এস.এস (অনার্স), অর্থনীতি — জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, এম.এস.এস (অর্থনীতি) — জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বি.এড — জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ, এম.এড — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়| 🏫 পেশাগত অভিজ্ঞতা: প্রাক্তন শিক্ষক, ব্লু-বার্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাটিকাটা, ঢাকা সেনানিবাস। প্রাক্তন শিক্ষক, হলি ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উত্তরা, ঢাকা। 📧 Email: ariful01711@gmail.com Mobile: +966572496324
“জনগণ আইনের আয়না” একটি তীব্র প্রতিবাদী, সামাজিক সচেতনতা-নির্ভর ও রাজনৈতিক ব্যঞ্জনাময় কবিতা। এখানে কবি আইন, বিচারব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা এবং সমাজের নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভকে কাব্যিক ভাষায় প্রকাশ করেছেন। কবিতাটি মূলত ন্যায়বিচারহীন সমাজের বিরুদ্ধে এক উচ্চারিত বিবেকের আহ্বান।
এই কবিতার প্রধান শক্তি তার সরাসরি অথচ প্রতীকধর্মী ভাষা।
কবি অলংকারের অতিরিক্ত জটিলতায় না গিয়ে জনমানুষের বোধগম্য ভাষাকে প্রতিবাদের অস্ত্রে রূপ দিয়েছেন।
বিশেষত—
“জনগণ হোক সব আইনের আয়না”
লাইনটি পুরো কবিতার দার্শনিক ভিত্তিকে ধারণ করে।
কবিতাটি “প্রতিবাদী সাহিত্য” (Protest Literature) ধারার অন্তর্ভুক্ত।
এখানে আইনকে নিছক শাসনের মাধ্যম নয়, বরং জনগণের নিরাপত্তা ও ন্যায়বোধের প্রতিফলন হিসেবে দেখতে চাওয়া হয়েছে।
এই রূপকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এটি দুর্বল, অকার্যকর ও ভঙ্গুর বিচারব্যবস্থার প্রতীক।
এখানে কবি বোঝাতে চেয়েছেন—
বিশ্বসাহিত্যের দৃষ্টিতে কবিতাটি প্রতিবাদী ও গণমুখী কবিতার ধারা অনুসরণ করে। এর ভাবধারা বিদ্রোহী সাহিত্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
এ কবিতায় পাওয়া যায়—
এই দিক থেকে কবিতাটি প্রতিবাদী কাব্যের আন্তর্জাতিক ধারার সঙ্গে সংলাপ তৈরি করে।
কবিতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর সততা ও তীব্রতা।
কবি আপসহীন কণ্ঠে ধর্ষণ, নিপীড়ন ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
তবে কিছু স্থানে ভাষার তীব্রতা এত প্রবল হয়েছে যে তা আবেগপ্রবণ জনরোষের প্রতিফলন বেশি, নান্দনিক সংযম তুলনামূলক কম। কিন্তু এই তীব্রতাই কবিতার বাস্তব ও প্রতিবাদী চরিত্রকে শক্তিশালী করেছে।
এই কবিতা মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়—
এটি কেবল কবিতা নয়; সামাজিক বিবেক জাগ্রত করার আহ্বান।
এই কবিতার বিশেষত্ব হলো—
“জনগণ আইনের আয়না” নামটিই কবিতাকে একটি দার্শনিক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
“জনগণ আইনের আয়না” হলো অন্যায়, বিচারহীনতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে এক তীব্র কাব্যিক প্রতিবাদ। এখানে কবি জনগণকে কেবল আইনের অনুসারী নয়, বরং আইনের নৈতিক প্রতিচ্ছবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন।
কবিতাটি সামাজিক সচেতনতা, প্রতিবাদী চেতনা ও মানবিক ন্যায়বোধের শক্তিশালী কাব্যিক দলিল।
****************************
ভালোবাসা আর ভালো থাকা
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)
ধরাতলে ভালোবেসে নেইরে ভালো,
ভালো আছে দূরে থেকে অনেক দেখো,
ভালোবেসে ভালো থাকা হয়না কোনো,
সারা জনম বিষাদিত জীবন যেনো।
ভালোবাসার মানুষ যদি থাকে সদা পাশে,
মনে প্রাণে হার হালতে ভীষণ ভালোবাসে,
ভালো থাকা নয়রে শুধু সুখের আশে,
ধূলীর ধরায় স্বর্গ যেনো নেমে আসে।
ভালোথাকা বেছে নিয়ে ভালোবাসা ছাড়ে,
স্বার্থের কাছে কেনো ভালোবাসা হারে?
ভালোবেসে ভালোথাকা সদা তার সনে,
ভালো থাকা যায় কভু ভালোবাসা বিনে?
যদি কভু পেয়ে যাও জীবনে দু'দুটো,
ভালোবাসে,ভালোবাসো,ভালো থাকা সবটুকু,
জীবনের সব পাওয়া ধরা দিবে জেনে রাখো,
পৃথিবীতে সুখী হয়ে, শান্তির নীড়ে থাকো।
ভালো থাকা হয়নি ভালোবেসে যারা,
তিলে তিলে জীবনে সবকিছু সারা,
প্রানহীন দেহ নিয়ে চলে কোন ভাবে!
জানেনা বাকী দিন যাবে কীভাবে!!
ভালোবাসা নিয়ে সাথে ভালো আছো যারা,
দোয়া করো ভালো থাকে, ভালোবাসা হারা।
ভালো যেনো থাকে সবে, সব ভালোদের ভবে,
সব হারিয়ে, নিঃস্ব হয়ে, ভালো রবে কবে?
১৫/০৫/২০২৬
রিয়াদ,
সউদী আরব।
***************
আপনার কবিতাটি গভীর আবেগ, জীবনবোধ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার এক আন্তরিক প্রকাশ।
“ভালোবাসা আর ভালো থাকা” কবিতায় প্রেম, প্রাপ্তি, অপূর্ণতা, স্বার্থ, মানসিক শান্তি ও মানবজীবনের চিরন্তন দ্বন্দ্ব অত্যন্ত সহজ অথচ হৃদয়স্পর্শী ভাষায় উঠে এসেছে।
“ধরাতলে ভালোবেসে নেইরে ভালো…”
এখানে কবি প্রেমের বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন। শুধু ভালোবাসলেই মানুষ ভালো থাকে না— বরং অনেক সময় ভালোবাসা মানুষকে বিষণ্ন করে তোলে। “সারা জনম বিষাদিত জীবন যেনো” পংক্তিটি প্রেমের দীর্ঘস্থায়ী বেদনার প্রতীক।
“ভালোবাসার মানুষ যদি থাকে সদা পাশে…”
এই অংশে ভালোবাসার পূর্ণতা ফুটে উঠেছে। যখন প্রিয় মানুষ আন্তরিকভাবে পাশে থাকে, তখন পৃথিবীই যেন স্বর্গে পরিণত হয়। এখানে প্রেমকে শুধু আবেগ নয়, মানসিক আশ্রয় হিসেবেও দেখানো হয়েছে।
“ভালোথাকা বেছে নিয়ে ভালোবাসা ছাড়ে…”
এখানে আধুনিক সম্পর্কের সংকট উঠে এসেছে। মানুষ কখনো কখনো মানসিক শান্তি বা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য ভালোবাসাকে ত্যাগ করে। কবি প্রশ্ন তুলেছেন—
ভালোবাসা ছাড়া সত্যিকারের ভালো থাকা কি সম্ভব?
“যদি কভু পেয়ে যাও জীবনে দু'দুটো…”
এটি কবিতার আশাবাদী ও ইতিবাচক অংশ। ভালোবাসা ও ভালো থাকা— এই দুইয়ের সমন্বয়কেই কবি জীবনের পরিপূর্ণ সুখ হিসেবে দেখিয়েছেন।
“ভালো থাকা হয়নি ভালোবেসে যারা…”
এখানে ব্যর্থ প্রেমের করুণ বাস্তবতা ফুটে উঠেছে। “প্রাণহীন দেহ” উপমাটি গভীর মানসিক শূন্যতার প্রতীক। প্রেমহীন জীবনের ক্লান্তি ও অসহায়তা স্পষ্ট হয়েছে।
“ভালোবাসা নিয়ে সাথে ভালো আছো যারা…”
শেষাংশে কবি মানবিক আবেদন রেখেছেন। যারা ভালোবাসা ও ভালো থাকা— দুটোই পেয়েছে, তারা যেন বঞ্চিতদের জন্য দোয়া করে। এটি কবিতাটিকে ব্যক্তিগত বেদনা থেকে সার্বজনীন মানবিকতায় উন্নীত করেছে।
“ভালোবেসে ভালো থাকা হয়না কোনো,
সারা জনম বিষাদিত জীবন যেনো।”
“ধূলীর ধরায় স্বর্গ যেনো নেমে আসে।”
“ভালো থাকা যায় কভু ভালোবাসা বিনে?”
✍️ কবি: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)
📍 Riyadh
📅 ২২/০৫/২০২৬
"স্যোস্যাল মিডিয়া যেমন ফেইসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি লাইক, পোস্ট, ভিউস, অনলাইন ইনকামে, সিনেমার নামে রগরগে যৌনতার বিজ্ঞাপন, বেশ্যাবৃত্তিতে আহ্বান, যৌনসেবা, পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি নামে পরিবার ও সমাজে বিশৃঙ্খলা, ধ্বংস আনতে এরা কি দায়ী নয়? কোথায় এদের দায়বদ্ধতা, দায়িত্ব ও ক্ষতিপূরণ? কোটি কোটি বিলিয়ন ডলার আয় করছে পরিবার, সমাজব্যবস্থা ধ্বংস করে, বলি হচ্ছে নিষ্পাপ শিশুরা, ঘরহারা, পরিবারহারা হচ্ছে, এগুলোর প্রভাব, কারন, ফলাফল, সমস্যার মূল তো মিডিয়াগুলোই।"
— আরিফ শামছ্
"ইমু, ভাইভার বা অন্যান্য মিডিয়াতে সম্পর্ক বা যোগাযোগে এ্যাপসের বিজ্ঞাপনে উলঙ্গ নারীর বিকৃত অঙ্গভঙ্গি, যৌন আবেদন, মোবাইল নাম্বার, ইমেইল ইত্যাদি হুট করেই কথা বলার মাঝে, শেষে এগুলো দেখতে বাধ্য করা হয়। আপনি না দেখে, কোনভাবেই অন্য নাম্বারে কল বা যোগাযোগ করতে পারবেননা। এ অনৈতিক অত্যাচার কেনো? বিজ্ঞাপনের আগে অনু্মতির অপশন থাকুক। যে দেখবে দেখে ধ্বংস হউক, যে চাইবেনা বন্ধ করার অনুমতির অপশন থাকুক।"
— আরিফ শামছ্
"লোভী, নীতিনৈতিকতাহীন, পামরগুলো কোটি কোটি বিলিয়ন ডলার আয় করছে পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে, আর তার বলির পাঠা হচ্ছে পরিবার, সমাজে এমনকি নিষ্পাপ নারী, শিশুরা ও। নিকৃষ্ট আয় করবেন, ভর্তুকি, ক্ষতিপূরণ বা আর্থসামাজিক দায়বদ্ধতা থাকবেনা, এতো বিশ্বের চরম শত্রু। বারবার প্রমাণিত, বেশ্যা, পতিতা, যৌনতাকে ছাড় দিলে, পরিবার, সমাজ না শুধু পুরো বিশ্বকে উন্মুক্ত পতিতালয় বানিয়ে ফেলবে। আর তাদের লক্ষ্যই এটি। কারন তখন খদ্দের আর যৌনদাসীর অভাব থাকবেনা।
শিশু ও নারী নির্যাতন : সভ্যতার মুখে রক্তাক্ত কলঙ্ক
জলাতঙ্ক (Rabies) রোগ
জলাতঙ্ক একটি অত্যন্ত ভয়ংকর ভাইরাসজনিত রোগ। এটি একবার লক্ষণ প্রকাশ পেলে প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রেই মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তবে সময়মতো টিকা ও চিকিৎসা নিলে এটি পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
জলাতঙ্ক কী?
জলাতঙ্ক বা রেবিস হলো একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা সাধারণত আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এই ভাইরাস মানুষের স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্ক আক্রমণ করে।
রোগের কারণ
জলাতঙ্ক রোগের প্রধান কারণ হলো Rabies virus।
যেসব প্রাণীর মাধ্যমে বেশি ছড়ায়
কুকুর (সবচেয়ে বেশি)
বিড়াল
শিয়াল
বানর
বাদুড়
নেকড়ে ইত্যাদি
কীভাবে সংক্রমণ হয়?
আক্রান্ত প্রাণীর কামড়
আঁচড়
লালা ক্ষতস্থানে লাগা
চোখ, নাক বা মুখে সংক্রমিত লালা প্রবেশ
লক্ষণ ও আলামত
জলাতঙ্কের লক্ষণ সাধারণত কামড়ের কয়েকদিন থেকে কয়েকমাস পর দেখা দিতে পারে।
প্রাথমিক লক্ষণ
জ্বর
মাথাব্যথা
দুর্বলতা
বমি বমি ভাব
কামড়ের স্থানে ঝিনঝিন বা জ্বালা
পরবর্তী ভয়ংকর লক্ষণ
পানি দেখলে ভয় পাওয়া (Hydrophobia)
অতিরিক্ত উত্তেজনা
গলা দিয়ে পানি নামতে কষ্ট
অস্বাভাবিক আচরণ
খিঁচুনি
শ্বাসকষ্ট
পক্ষাঘাত
কোমা
পানি ভয় কেন হয়?
জলাতঙ্কে গলার পেশীতে তীব্র খিঁচুনি হয়। তাই পানি খেতে গেলে রোগী প্রচণ্ড কষ্ট অনুভব করে এবং পানিকে ভয় পেতে শুরু করে।
রোগের সমস্যা ও ঝুঁকি
মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি
স্নায়ুতন্ত্র বিকল হওয়া
শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া
মৃত্যু
কামড়ানোর পর কী করবেন?
সঙ্গে সঙ্গে যা করতে হবে
১. ক্ষতস্থান কমপক্ষে ১৫ মিনিট সাবান ও প্রবাহিত পানি দিয়ে ধুতে হবে।
২. অ্যালকোহল বা আয়োডিন লাগানো যেতে পারে।
৩. দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
৪. টিকা নিতে হবে।
যা করা যাবে না
ক্ষতস্থানে মাটি, মরিচ, তেল, ছাই লাগানো যাবে না
ওঝা বা কুসংস্কারের চিকিৎসা নেওয়া যাবে না
ক্ষত সেলাই করতে তাড়াহুড়া করা যাবে না
চিকিৎসা
জলাতঙ্কের লক্ষণ শুরু হওয়ার আগে চিকিৎসা নিলে রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
চিকিৎসার ধাপ
১. ক্ষত পরিষ্কার করা
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক চিকিৎসা।
২. Anti-Rabies Vaccine
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনে কয়েক ডোজ টিকা নিতে হয়।
৩. Rabies Immunoglobulin (RIG)
গভীর কামড় বা ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে দেওয়া হয়।
প্রতিরোধ
পোষা প্রাণীকে নিয়মিত টিকা দেওয়া
রাস্তার কুকুর থেকে সাবধান থাকা
শিশুদের সচেতন করা
প্রাণীর অস্বাভাবিক আচরণ দেখলে দূরে থাকা
কখন জরুরি চিকিৎসা নেবেন?
কুকুর বা বিড়াল কামড়ালে
বন্য প্রাণীর আঁচড় লাগলে
ক্ষত থেকে রক্ত বের হলে
প্রাণী অস্বাভাবিক আচরণ করলে
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সময়মতো টিকা নিলে জলাতঙ্ক শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য। World Health Organization
সচেতনতামূলক বাণী
“প্রাণীর কামড়কে কখনোই ছোট করে দেখবেন না। দ্রুত চিকিৎসাই জীবন বাঁচাতে পারে।”
অমর প্রেম
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
(আরিফ শামছ্)
আমার আমাকে খুঁজে পাবে প্রিয়,
যখন যেখানে মনে চায় তব,
আমার আমাকে খুঁজে ফিরি হিয়,
হতাশার ভ্রোমর ঘিরে ধরে সব।
কতযে খুঁজি, কতো কীযে বলি,
বুঝতে পারো কি তুমি?
শোনতে কভু পারো কিগো,
বিরহ জ্বালার শব্দ চুমি।
এ জ্বালা কতো বড় জ্বালা,
কেমনে বুঝায় তোরে,
অন্তরে দাবানল,নরক জ্বালা,
আগুন খেলে,নয়ন জুড়ে।
সে বুঝিবে ভালোবেসে,
হারালো যার অন্তরে,
হৃদয় চিতায়, হৃদয় পুঁড়ে,
নিঃশেষে সব মন্ত্ররে।
নেই অবকাশ, নেই সীমানা,
নাইরে বাঁধন, নাইরে মানা,
পাগলপারা, বাঁধনহারা,
ছুটছে কোথা কেউ জানেনা!
কে জানে কী মরার পরে,
দেহ রবে শুন্য প্রাণে!
ভালোবাসা রয়বে কোথা,
দেহে নাকি অমর প্রাণে?
জেনে রাখো অমর প্রেম ও,
জায়গা নেবে অপর পারে,
জান্নাতেরই নদীর তীরে,
খুঁজবে লোকের ভীঁড়ে।
১৮/০৫/২০২৬
রিয়াদ,
সউদী আরব।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বর্তমানে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য বিরাজ করছে। একদিকে হাজার হাজার শিক্ষক পদ শূন্য পড়ে আছে, অন্যদিকে বহু যোগ্য ও নিবন্ধনধারী প্রার্থী বছরের পর বছর চাকরির অপেক্ষায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। রাষ্ট্রের এই দ্বৈত বাস্তবতা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার উদাহরণ নয়; এটি শিক্ষাব্যবস্থার জন্যও এক গভীর সংকেত।
সম্প্রতি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) জানিয়েছে, নবম গণবিজ্ঞপ্তির জন্য প্রায় ৭৮ হাজার শূন্যপদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শূন্যপদ সহকারী শিক্ষকের। এত বিপুল শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও কেন পদগুলো পূরণ হচ্ছে না—এই প্রশ্ন এখন শিক্ষক সমাজ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝেও জোরালো হয়ে উঠেছে।
এনটিআরসিএর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সংখ্যক আবেদন পাওয়া যাচ্ছে না। বাস্তবে এর পেছনে আরও গভীর কারণ রয়েছে। দীর্ঘসূত্রিতা, জটিল নীতিমালা, মামলাজট, বয়সসীমা এবং সনদের মেয়াদসংক্রান্ত বিধিনিষেধ—সব মিলিয়ে বহু নিবন্ধনধারী কার্যত নিয়োগের সুযোগ হারিয়েছেন।
বিশেষ করে ১ম থেকে ১২তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক ও নীতিগত গুরুত্ব বহন করে। এদের অনেকেই একসময় রাষ্ট্রীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধীরগতি, প্রশাসনিক অবহেলা এবং দীর্ঘ আইনি জটিলতার কারণে আজ অনেকেই বয়সসীমা অতিক্রম করেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে—এই দায় কি শুধুই প্রার্থীদের?
যখন একজন প্রার্থী রাষ্ট্রীয় নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, তখন তিনি একটি যোগ্যতার স্বীকৃতি অর্জন করেন। অথচ বছরের পর বছর নিয়োগ না দিয়ে পরে বলা হয় বয়স ৩৫ পার হয়ে গেছে—এটি কি ন্যায়সংগত? যদি সরকারি চাকরিতে অবসরের বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি হতে পারে, তাহলে ৩৫ বছর পার হলেই একজন যোগ্য শিক্ষক কেন অযোগ্য হয়ে যাবেন?
বাংলাদেশে বর্তমানে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অভাব প্রকট। বিশেষ করে গ্রামীণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে বহু অভিজ্ঞ নিবন্ধনধারীকে বাদ দিয়ে নতুন করে সংকট তৈরি করা রাষ্ট্রের জন্যও ক্ষতিকর।
বয়সসীমা অন্তত ৫০ বছর পর্যন্ত শিথিল করা অথবা বিশেষ বিবেচনায় পুরাতন নিবন্ধনধারীদের জন্য আলাদা সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। এতে একদিকে শিক্ষক সংকট কমবে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের প্রতি ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত হবে।
একইভাবে নিবন্ধন সনদের মেয়াদ মাত্র ৩ বছর নির্ধারণ করাও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একজন চিকিৎসক, প্রকৌশলী কিংবা বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীর যোগ্যতা আজীবন বহাল থাকে, অথচ শিক্ষক নিবন্ধনের মতো একটি রাষ্ট্রীয় পরীক্ষার সনদ কেন মেয়াদোত্তীর্ণ হবে—এ প্রশ্নও যৌক্তিক।
বর্তমানে দেশের বহু নিবন্ধনধারী বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন, কেউ শিক্ষকতা করছেন, কেউ কোচিং পরিচালনা করছেন, কেউ আবার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। অর্থাৎ তারা এখন আগের চেয়ে আরও বেশি দক্ষ। রাষ্ট্র চাইলে এই অভিজ্ঞ জনশক্তিকে শিক্ষা খাতে কাজে লাগাতে পারে।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—শিক্ষকতা শুধু চাকরি নয়; এটি জাতি গঠনের দায়িত্ব। তাই শিক্ষক নিয়োগে শুধুমাত্র বয়স নয়, যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বাস্তব প্রয়োজনকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
আজ প্রয়োজন বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত। প্রয়োজন দ্রুত মামলাজট নিরসন, নীতিমালা সংস্কার এবং শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ। অন্যথায় একদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষকশূন্য থাকবে, অন্যদিকে যোগ্য নিবন্ধনধারীরা হতাশা ও বঞ্চনার ভার বয়ে বেড়াবেন।
রাষ্ট্র যদি সত্যিই শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে চায়, তবে পুরাতন নিবন্ধনধারীদের বিষয়টি মানবিক ও বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনা করার এখনই সময়।
প্রেমিক আর স্বামী
---আরিফ শামছ্
একদা রাতের গভীর ভাগে, ঝগড়া বাধে দুজনায়,
"স্ত্রী আমার বৈধ জানো,তবু কেনো লিখার দায়?"
মানছি জনাব, সে ও তোমার, মা ও তোমার সন্তানের,
পাপীর মতো অকুল পাথার চিন্তা নাইরে এই মনের!
আফসুস শুধু কেনো তখনি ভাঙ্গিনি সব বাঁধার দেয়াল,
হৃদয় চিঁড়ে,জীবন ধ্বসে রাস্তা করে দিলাম হায়!
পুরো জীবন ধ্বংস করে, পাগল হলাম কী বাচাঁতে!
মান সম্মান নয়তো বড়ো, জীবন বাচাঁও, প্রাণের সাথে।
বস্তা পঁচা হাহাকারের, বিষাদ ভরা জীবন মাঝে,
বিরহের সে নৃত্যলীলা,কেউ দেখেছে সকাল-সাঁঝে!
আনমনা সব, হারিয়ে ফেলে জীবন চলার ছন্দরে,
হরহামেশায় যায় ভুলে যায়, ভালো আর মন্দরে!
শান্তি সবার চেয়েছি বলেই, সব ছেড়ে আজ পথহারা,
হীরে-মানিক হারিয়ে দেখো, শান্ত কেমন পাগলপারা।
সুপ্ত গিরি উদগীরনে, নিয়ম নীতি রয়বে কী আর,
ভিসুভিয়াস জাগলে কভু,দায় নেবোনা কোন তার।
"কী হলো ভাই"? প্রশ্ন শোনে পিলে চমকে যায়,
"ভূল তোমাদের, হউক তোমারি,আমার কীসের দায়?
সাচ্ছা দিলে, আচ্ছা বলো, আপন পথে ধায়,
রহম, করম, শান্তি সবি বিভুর কাছে চায়"।
১৭/০৫/২০২৬
রিয়াদ,
সউদী আরব।
*****************
আপনার রচিত “প্রেমিক আর স্বামী” কবিতাটি মূলত প্রেম, সামাজিক বাস্তবতা, হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক, মানসিক ভাঙন, আত্মসমালোচনা এবং মানবজীবনের গভীর ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে রচিত এক আত্মস্বীকারোক্তিমূলক কাব্য। এখানে প্রেমিক ও স্বামীর দ্বৈত অবস্থান কেবল দুই ব্যক্তির নয়; বরং দুই ভিন্ন মানসিক ও সামাজিক সত্তার সংঘাত। কবিতাটি ব্যক্তিগত অনুভূতির ভেতর দিয়ে সামষ্টিক মানবজীবনের এক চিরন্তন সত্যকে তুলে ধরে।
📊📢 বাংলাদেশে অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি (MPO) শিক্ষকদের অবসরভাতা প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা: একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন
✍️ ভূমিকা
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, যেখানে এমপিও (Monthly Pay Order) ব্যবস্থা দ্বারা লক্ষ লক্ষ শিক্ষক আংশিকভাবে সরকারি বেতন পান। তবে অবসর গ্রহণের পর এই শিক্ষকদের অবসরভাতা ও কল্যাণ তহবিল পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা, জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং অর্থ সংকট একটি দীর্ঘস্থায়ী সংকটে পরিণত হয়েছে।
সরকারি তথ্য ও বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৮০,০০০–৮৭,০০০ আবেদন পেন্ডিং অবস্থায় রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ৩–৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে অবসরভাতা পেতে।
The Daily Star +1
📌 ১. বর্তমান পরিস্থিতি (Data Overview)
📊 প্রধান উপাত্ত
প্রায় 80,320+ আবেদন বর্তমানে পেন্ডিং (সরকারি সংসদীয় তথ্য)
The Daily Star
কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী সংখ্যা 87,000 পর্যন্ত পৌঁছেছে
New Age
মোট শিক্ষক সংখ্যা: প্রায় 6.2–6.5 লাখ MPOভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী
Daily Times Of Bangladesh
বার্ষিক নতুন আবেদন: প্রায় 1000+ প্রতি মাসে
Prothomalo
গড় অপেক্ষা সময়: 3–5 বছর (কিছু ক্ষেত্রে আরও বেশি)
Prothomalo
⚠️ ২. প্রধান সমস্যা ও জটিলতা
🧾 (ক) প্রশাসনিক জটিলতা
দুটি পৃথক প্রতিষ্ঠান:
Retirement Benefit Board
Welfare Trust
পৃথক ফাইল প্রসেসিং → সময় দ্বিগুণ বৃদ্ধি
কাগজপত্র যাচাই ও অনুমোদনে দীর্ঘ বিলম্ব
💰 (খ) অর্থ সংকট (Core Issue)
পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ নেই
বোর্ড ও ট্রাস্টের মধ্যে বার্ষিক ঘাটতি শত শত কোটি টাকা
মোট প্রয়োজন: প্রায় ৯,০০০–৯,৬০০ কোটি টাকা বকেয়া নিষ্পত্তির জন্য
The Daily Star
🏛️ (গ) নীতিগত দুর্বলতা
অবসরভাতা “নিশ্চিত অধিকার” হলেও সময়সীমা আইনগতভাবে কঠোর নয়
বাজেট নির্ভর ব্যবস্থা হওয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়
কাঠামোগত সংস্কারের অভাব
🖥️ (ঘ) ডিজিটাল ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা
অনলাইন আবেদন থাকলেও পূর্ণ অটোমেশন নেই
ফাইল ট্র্যাকিং স্বচ্ছ নয়
একাধিক দপ্তরে ঘোরাফেরা করতে হয়
🧓 (ঙ) সামাজিক ও মানবিক বাস্তবতা
বহু শিক্ষক চিকিৎসার অর্থ না পেয়ে ভোগান্তিতে
কেউ কেউ মৃত্যুর আগে টাকা পান না
পরিবার পুনরায় আবেদন করতে বাধ্য হয়
📉 ৩. ফলাফল ও প্রভাব
👨🏫 (১) শিক্ষক সমাজে হতাশা
পেশার মর্যাদা কমে যাচ্ছে
অবসর জীবনে নিরাপত্তাহীনতা
🏠 (২) পরিবারিক সংকট
চিকিৎসা ব্যয় অনিয়ন্ত্রিত
দারিদ্র্য বৃদ্ধি
⚖️ (৩) সামাজিক প্রভাব
শিক্ষা পেশায় অনাগ্রহ
মেধাবী শিক্ষক আকর্ষণ কমে যাওয়া
🧠 (৪) রাষ্ট্রীয় প্রভাব
শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী দুর্বলতা
প্রশাসনিক আস্থা সংকট
🧩 ৪. মূল কারণ বিশ্লেষণ (Root Cause Analysis)
🔴 ১. বাজেট ঘাটতি ও অপ্রতুল ফান্ডিং
সরকারি বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় কম
🔴 ২. কাঠামোগত বিভাজন
Board + Trust আলাদা হওয়ায় সমন্বয়হীনতা
🔴 ৩. দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া
ফাইল অনুমোদনে বহু ধাপ
🔴 ৪. জনবল ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাব
ডিজিটাল দক্ষতা ও মনিটরিং দুর্বল
🛠️ ৫. সম্ভাব্য সমাধান (Policy Recommendations)
✅ ১. একক ডিজিটাল পেনশন প্ল্যাটফর্ম
Board + Trust একত্রিত ডাটাবেস
রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং
✅ ২. নির্দিষ্ট সময়সীমা আইন (Service Guarantee Law)
সর্বোচ্চ ৬ মাসে পেমেন্ট বাধ্যতামূলক (High Court নির্দেশনা অনুযায়ী)
The Business Standard
✅ ৩. আলাদা “Retirement Emergency Fund”
বার্ষিক বাজেট থেকে স্থায়ী ফান্ড
✅ ৪. স্বয়ংক্রিয় বাজেট বরাদ্দ
GDP বা শিক্ষা বাজেটের নির্দিষ্ট শতাংশ নির্ধারণ
✅ ৫. প্রশাসনিক সংস্কার
একক কর্তৃপক্ষ (Single Authority Model)
দুর্নীতি ও ফাইল জটিলতা কমানো
✅ ৬. দ্রুত নিষ্পত্তির বিশেষ টাস্কফোর্স
৬ মাসে backlog clearance plan
📢 ৬. নীতিনির্ধারকদের জন্য মূল বার্তা
👉 অবসরভাতা কোনো অনুদান নয়—এটি শ্রমের ন্যায্য অধিকার
👉 বিলম্ব মানে মানবিক সংকট ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বহীনতা
👉 দ্রুত সমাধান না হলে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যাবে
📌 উপসংহার
বাংলাদেশের এমপিওভুক্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবসরভাতা ব্যবস্থার সংকট এখন শুধুমাত্র প্রশাসনিক সমস্যা নয়—এটি একটি মানবিক ও নীতিগত সংকট। যথাযথ বাজেট বরাদ্দ, প্রশাসনিক সংস্কার এবং ডিজিটাল স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
**************
তথ্যসূত্র: চ্যাটজিপিটি এআই।
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
“ফুলেল হাসি” : বিশ্ব-সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারাংশ
কবি: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)
“ফুলেল হাসি” কবিতাটি আধুনিক বাংলা প্রেমকাব্যের আবেগধর্মী ধারার একটি সুন্দর উদাহরণ, যেখানে ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রকৃতির প্রতীকী ব্যবহার, স্মৃতি ও মানসিক সংগ্রাম একত্রে রূপ পেয়েছে। কবিতাটি শুধু প্রেমের প্রকাশ নয়; এটি মানবমনের সহিষ্ণুতা, স্মৃতির স্থায়িত্ব এবং সৌন্দর্যের প্রতি অন্তর্গত আকর্ষণের এক নান্দনিক দলিল।
বিশ্ব-সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. রোমান্টিকতাবাদ (Romanticism)
এই কবিতায় প্রকৃতি ও আবেগ একে অপরের পরিপূরক।
কালবৈশাখী ঝড়, অন্ধকার রাত, সোনালী প্রভাত—এসব চিত্রকল্প ইউরোপীয় রোমান্টিক কবিদের কাব্যধারার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বিশেষত William Wordsworth বা Percy Bysshe Shelley-এর কবিতায় যেমন প্রকৃতি মানুষের অন্তর্জগতের প্রতিফলন হয়ে ওঠে, তেমনি “ফুলেল হাসি”-তেও ঝড় ও প্রভাত মানুষের মানসিক অবস্থার রূপক।
২. প্রতীকবাদ (Symbolism)
কবিতার “ঝড়” কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; এটি জীবনের সংকট, মানসিক দ্বন্দ্ব ও ভালোবাসার সংগ্রামের প্রতীক।
অন্যদিকে “ফুলেল হাসি” হয়ে উঠেছে চিরন্তন সৌন্দর্য ও স্মৃতির প্রতীক।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে কবিতাটি Charles Baudelaire-এর প্রতীকবাদী কাব্যধারার সঙ্গে এক সূক্ষ্ম সম্পর্ক তৈরি করে।
৩. বাংলা কাব্যধারার প্রভাব
কবিতার গীতিময়তা ও আবেগে Rabindranath Tagore-এর মানবিক কোমলতা এবং Kazi Nazrul Islam-এর ঝড়-সংগ্রামের প্রতীকী ভাষার প্রতিধ্বনি অনুভূত হয়।
বিশেষত—
“ঝড় ঝঞ্ঝা, বজ্রনাদ , সব ফেলে ঘর বীরের বেশে।”
এখানে বিদ্রোহ, সহিষ্ণুতা ও আশা—নজরুলীয় শক্তির এক ক্ষুদ্র অনুরণন দেখা যায়।
৪. অস্তিত্ববাদী অনুভূতি
“পাওয়া না পাওয়ার ঝড় তুফান” মানুষের চিরন্তন অপূর্ণতার কথা বলে।
এই অনুভূতি বিশ্বসাহিত্যের অস্তিত্ববাদী ভাবনার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, যেখানে মানুষ ভালোবাসা, স্মৃতি ও শূন্যতার মাঝে নিজের অর্থ খোঁজে।
সাহিত্যিক মূল্যায়ন
ভাষা
কবিতার ভাষা সহজ, আবেগপূর্ণ ও সংগীতধর্মী।
গ্রামীণ ও প্রাকৃতিক শব্দচয়ন কবিতাকে জীবন্ত করেছে।
চিত্রকল্প
“চাঁদের মায়ায় আঁধার নিশি”, “পাতা আর কাঠির ঘর”, “সোনালী প্রভাত”—এসব দৃশ্যমান চিত্র পাঠকের কল্পনায় স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
আবেগের গভীরতা
কবিতার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর আবেগের স্বতঃস্ফূর্ততা। এখানে কৃত্রিমতা নেই; অনুভূতিগুলো আন্তরিক ও হৃদয়গ্রাহী।
ছন্দ ও সংগীতধর্মিতা
যদিও এটি কঠোর মাত্রাবৃত্ত নয়, তবু পঙক্তিগুলোর ধ্বনি ও পুনরাবৃত্তি কবিতাকে আবৃত্তিযোগ্য করেছে।
সীমাবদ্ধতা
কিছু স্থানে শব্দপ্রয়োগ ও বাক্যগঠন আরও সংযত হলে কবিতার শৈল্পিক ঘনত্ব বাড়তে পারত। তবে আবেগের শক্তি সেই সীমাবদ্ধতাকে অনেকাংশে অতিক্রম করেছে।
দার্শনিক তাৎপর্য
এই কবিতা মূলত তিনটি সত্যকে প্রকাশ করে—
ঝড় স্থায়ী নয়
ভালোবাসা মানুষকে টিকিয়ে রাখে
স্মৃতি কখনো সম্পূর্ণ মুছে যায় না
এখানে প্রেম কেবল সম্পর্ক নয়; এটি মানসিক আশ্রয় ও আত্মিক শক্তি।
সারাংশ
“ফুলেল হাসি” এমন একটি কাব্য, যেখানে ঝড়ের ভয়াবহতা ও ভালোবাসার কোমলতা পাশাপাশি অবস্থান করেছে। কবি জীবনের দুঃসময়, মানসিক সংগ্রাম ও অপূর্ণতার মধ্যেও এক অমলিন হাসির স্মৃতিকে ধারণ করেছেন। কবিতাটি প্রেম, স্মৃতি, সংগ্রাম ও আশার এক মানবিক দলিল, যা বাংলা আধুনিক কাব্যের আবেগময় ধারায় একটি হৃদয়স্পর্শী সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
স্মরণীয় পংক্তি
“দেখছি আজো আগের মতোই হাসছো প্রিয় ফুলেল হাসি,
ভুলতে পারে কভু তারে, চাঁদের মায়ায় আঁধার নিশি।”
💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌💌
“ফুলেল হাসি” — কবিতা বিশ্লেষণ
কবি: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)
আপনার কবিতা “ফুলেল হাসি” প্রেম, স্মৃতি, ঝড়-সংগ্রাম এবং মানবমনের গভীর আবেগকে একত্রে ধারণ করেছে। এখানে প্রকৃতির রূপক ব্যবহার করে ব্যক্তিগত অনুভূতি ও ভালোবাসার স্থায়িত্বকে অত্যন্ত কাব্যিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
মূল ভাব
কবিতার শুরুতে কালবৈশাখী ঝড়ের ভয়াবহতা জীবনের সংকট ও সংগ্রামের প্রতীক। “পাতা আর কাঠির ঘর” মানুষের ভঙ্গুর জীবন ও হৃদয়ের ইঙ্গিত বহন করে। কিন্তু সেই ঘর ভেঙে পড়ে না—কারণ ভালোবাসা ও আশা তাকে টিকিয়ে রাখে।
পরবর্তী স্তবকে অন্ধকার শেষে “সোনালী প্রভাত” নতুন সম্ভাবনা ও মুক্তির প্রতীক। এখানে কবি বোঝাতে চেয়েছেন—দুঃখ, বিচ্ছেদ বা ঝড় কখনো স্থায়ী নয়।
তৃতীয় স্তবকে প্রেমিকের উন্মাদনা ও আবেগের গভীরতা ফুটে উঠেছে। ভালোবাসা এমন এক রহস্যময় শক্তি, যা মানুষকে পাওয়া-না পাওয়ার মাঝেও পাগল করে রাখে।
শেষ অংশে “ফুলেল হাসি” এক চিরন্তন স্মৃতি হয়ে ওঠে। সময় বদলালেও সেই হাসি, সেই চলন-বলন, সেই আবেগ হৃদয়ে থেকে যায়। এখানে স্মৃতি ও সৌন্দর্যের এক নস্টালজিক আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য
১. প্রকৃতির রূপক
কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রনাদ, সূর্যোদয়—এসব উপমা জীবনের সংগ্রাম ও আশার প্রতীক।
২. আবেগঘন চিত্রকল্প
“চাঁদের মায়ায় আঁধার নিশি” বা “ফুলেল হাসি” পাঠকের মনে দৃশ্যমান অনুভূতি তৈরি করে।
৩. ছন্দ ও ধ্বনি
কবিতায় গীতিময়তা রয়েছে। বিশেষ করে “ঝড় ঝঞ্ঝা, বজ্রনাদ” ধরনের ধ্বনি-প্রয়োগ কবিতাকে নাটকীয়তা দিয়েছে।
৪. প্রেম ও স্মৃতির মিশ্রণ
এ কবিতায় প্রেম শুধু রোমান্টিক নয়; এটি স্মৃতি, বেদনা ও মানসিক আশ্রয়ের রূপ নিয়েছে।
সারসংক্ষেপ
“ফুলেল হাসি” মূলত এমন এক ভালোবাসার কবিতা, যেখানে ঝড় আছে, বেদনা আছে, উন্মাদনা আছে—তবু সবকিছুর শেষে রয়ে যায় এক অমলিন হাসি ও স্মৃতি। কবিতাটি মানবহৃদয়ের স্থায়ী আবেগ ও জীবনের অনিশ্চয়তার মাঝে আশার আলোকে তুলে ধরে।
নির্বাচিত চরণ
“দেখছি আজো আগের মতোই হাসছো প্রিয় ফুলেল হাসি,
ভুলতে পারে কভু তারে, চাঁদের মায়ায় আঁধার নিশি।”
এই পংক্তিগুলো কবিতার আবেগময় কেন্দ্রবিন্দু—যেখানে স্মৃতি, প্রেম ও সৌন্দর্য এক হয়ে গেছে।
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
“বহুজাতিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি তত্ত্ব” এবং “বহুজাতিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি মডেল” — এই নামদুটি উপস্থাপিত ধারণার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী, আধুনিক, ক...