বুধবার, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৯

ক্ষান্ত কেন? পান্থ!

৫২। 


পান্থশালায় পথিক কেন? পথ বাকি তোর আর কত?
পথের পরে পথ চলিবে, সফল- বিফল, পথ রে শত।
ক্ষান্ত কেন পান্থ আজি, মলিন বসন আঁকড়ে ধরে,
পানশালাতে নেশার ঘোরে, পাবি কোথায় পথ খুঁজে!
ডাকছে তোরে, হাঁকছে জোরে কোথায় জাতির কান্ডারী?
বেহাল হয়ে, মাতাল হয়ে, কোন তিমিরে পথ হারালি!
লাখে লাখে মারছে মানুষ, পাষন্ড আর বর্বরে,
তাকিয়ে আছে, তোর পানে যে, আছিস কিসে মত্তরে।
ঘর হারিয়ে, সব হারিয়ে, প্রাণটি লয়ে কোনমতে,
বাঁচার আশায় পথ মাড়িয়ে, স্বাপদ-সংকুল বন পেড়িয়ে;
খোলা মাঠের দূর্বাঘাসে, থামছে বাঁচার ত্রিপালে,
আশার নয়ন, সব প্রয়োজন, খোঁজছে
তোমায় চিত্তরে।
পথ দেখাবি, পথের খোঁজে, থাকবি সদা অগ্রণী,
পথ চলাতে, সাহস পাবে, সকল জনা তোর সাথী।
দেখবে স্বপন, বাঁচার তরে, স্বাধীণ বেশে নিজদেশে,
আর কতকাল রয়বে বসে, তোর আশাতে পথ চেয়ে!
চিত্তনাশা ঘোরের নেশা, ওঠরে জেগে সব ছাড়িয়ে,
হৃদ-কাঁপানো, মরন বীণার, বিষের সুর আর ঝংকারে।
এফোড়-ওফোড় দে করে দে, পশুর-অশুর যত্তোরে,
স্বাধীণতার স্বাদ সাথে সার , বাঁধে যেন চিত্তরে।

আরিফ ইবনে শামছ্
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
ভূঁইয়া বাড়ী, বাড়ী# ১২৩৪,
ওয়ার্ড# ১২, গ্রাম: ভাদুঘর,
পোষ্ট: ভাদুঘর-৩৪০০।
থানা:সদর, জিলা: বি.বাড়ীয়া।
০৬/০৯/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
সন্ধ্যা ০৬:৩০ মিনিট।

বিদ্রোহী তুমি, বিপ্লবী!

৫১। 


দ্রোহানলের আগ্নেয়গিরি, বিদ্রোহী তুমি, বিপ্লবী!
বিষের বাঁশি, কে বাজাবি, আইরে ভীষণ ভৈরবী।
একূল ওকূল ভাঙ্গরে দুকূল, নে ভাসিয়ে জালিমরে,
মাথার 'পরে আছড়ে মারিস, পাহাড় সম ঊর্মিরে।
নটরাজের পবন-ভবন, আয়রে ছুটে তড়িৎ বেগে,
দস্যিরাজের দস্যিপনায়, লাগাম টানো বিশ্বরে।
আয়-গতিবেগ, আয়রে ধেয়ে, ধমকে- চমকে ভেঙ্গে যারে,
রক্তচোষা, জন্তু -প্রাণী, মানব-দানব সংহারে।
ঈষাণ কোণে, উড়াও নিশান, কালো মেঘের গর্জরে,
চিতার অনল ধরিয়ে দিবি, দস্যুদেরই অন্তরে।
বিনামেঘের বজ্রবাণে, সাঙ্গ কর জীবনরে,
নৈঋতেরই প্রান্ত কোণে, ভীষণ, পাষাণ, বৌদ্ধরে।
আয় অবিরাম, ঘূর্ণিবায়ূ, সাথী করে ঝড়-টর্নেডো,
কম্পে কম্পে ভূমিকম্পে, আগ্নেয়গিরির ঐ জ্বালামুখ,
যা ছুটে যা মানবতা, বন্দী যেথা প্রকোষ্ঠে,
মানুষরূপী সবজানোয়ার, রক্ত -মাংস ভক্ষণে।
ফেলরে মুছে সব নিশানা, সবকটিরে ধররে,
মরণ জ্বালা, বিষের জ্বালা, জ্বালিয়ে দিবি অন্তরে।
তিলে তিলে দে বুঝিয়ে, অত্যাচারীর পরিণতি,
জালিম, জুলুম, জুলমাতের সব, মৃত্যুবাণে দিবি।
উড়াও পাহাড়, ঝঞ্ঝা বায়ু, ধ্বংস-নাশী সংহর্ত্রী,
জ্বালাও, পোঁড়াও, অমানুষী পাপের তাপের রাজ্যটি।
চালাও প্রবল ধ্বংসলীলা, আকাশ-বাতাস বৈপ্লবী,
পৈশাচিকের দম্ভ-হম্ভ, দে গুঁড়িয়ে বিপ্লবী!

আরিফ ইবনে শামছ্
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
বাড়ী# ১২৩৪, ওয়ার্ড# ১২,
ভাদুঘর, সদর, বি.বাড়ীয়া-৩৪০০।
০৪/০৯/২০১৭ ঈসায়ী সাল।

১৯৪৭ সালের পূর্ব হতে, আজকের এই বাংলাদেশ।

৫০। 


গোলা ভরা ধান ছিল তার,
পুকুর ভরা মাছে।
তলা ছাড়া ঝুড়ি কভু,
মাথা পিছুর ঋণে।
সোনার বাংলার স্বপ্ন গুলো,
অংকুরেতেই শেষ,
দেশ গড়িতে সোনার ছেলে,
ছোট নির্নিমেষ।
দরদীরা আসে মোদের উন্নয়নের তরে,
বৃটিশ, পাকি, ইন্ডিয়ানরা নেই পারে যা লুটে।
দাঁড়ায় যতো মহান নেতা দেশ গড়িবার তরে,
কার খুশিতে, কাদের তরে, জীবন নিচ্ছে কেঁড়ে???
মুজিব বলো, জিয়া বলো, জাতীয় নেতা যারা,
দেশের তরে জীবন দিল, হিংস্র পশুর দ্বারা।
কার ইশারায়, কেমন করে, দেশের নাঁড়ী কাটে,
পারবনাকি মহান প্রাণের, শান্তি এনে দিতে।
আজ প্রয়োজন, বের করে নাও, কারা মোদের শত্রুদল
দেশ- বিদেশের ভাঙ্গে কারা, সোনার-স্বপ্ন-পদ্ম-দল,
মীর জাফরের প্রেতাত্নারা আজো ঘুরেফিরে,
ঘসেটিদের দেখা পাবে, দেশটা যারা বেঁচে।
নাগরিকেরা জিম্মী থাকে, কেউ জাগেনা কভু,
প্রতিবাদের পথ হারিয়ে, মাথা টুকে শুধু।
মুক্তি কোথায় মিলবে সেতো, রয়লো অধরা,
কুক্ষিগত করে রাখে, সব রকমের ক্ষমতা।
সেও শুনি, নাই তাদেরি, তখতে কোন নিজের বল,
ভিনদেশীদের কাঠির ছোঁয়ায়, হয় ক্ষমতার পালা বদল!
আর কতোকাল রয়বে জাতি, স্বাধীণ হয়ে পরাধীণ,
জাতির তরে জাগবে কবে, মুজিব, জিয়া, মহাবীর।
নিজের মতো দেশ সাজাতে পায়না কেন শক্তি বল,
স্বাধিকারের নীরব যাতন, শেষ করিবে কোন সে জন?
থাকবেনাক বাঁধা কোন, সোনার বাংলা গড়তে,
জাতি গড়ার মহান পথে, নেইকো দ্বিধা মরতে।

আরিফ ইবনে শামছ্
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
বাড়ী# ১২৩৪, ওয়ার্ড# ১২,
ভাদুঘর, সদর, বি.বাড়ীয়া-৩৪০০।
০৪/০৯/২০১৭ ঈসায়ী সাল।

আগুন জ্বালা অন্তরে!

৪৮। 


বাজাও রণদামামা, পড়রে আমামা;
মুখে কালিমা, আগুন জ্বালা।
শেষ করে দাও, মানব শত্রু,
মাংস খেকো, বৌদ্ধ ভিখু।
চালাও ঘোড়া, মাররে চাবুক, নিশানা করো শত্রুদের,
নাইরে সময়, শেষ করিতে, শত্রু যারা ধর্ ওদের।
ধর্ হাতে ধর্ ঢাল তলোয়ার, একীনে রাখ আল্লাহু আকবার,
ধুলীর মতোই স্তব্ধ রবে সব আধুনিক অস্ত্রধার।
জ্বালারে জ্বালা আগুণ জ্বালা, আগুন জ্বালা অন্তরে,
পুড়ে ফেল তোর অলস অবস অহেতুক তন্ত্র-মন্ত্ররে।
আর কতকাল পাথর চোখে জাতির মরণ করবি বরণ,
আর কত লাশ, ভাই ও বোনের তোর বুকেতে করবি ধারণ।
সয়বি কতো মা ও বোনের অপমান আর জিল্লতি,
যুদ্ধ ছাড়া, নেই প্রতিবাদ, বুঝবে কবে, চল্ যুঝি।
রক্তে জ্বালা, মরণ জ্বালা, গাজী হওয়ার ইচ্ছারে,
জীবন মরন যুদ্ধ খেলায়, থাকবে জয়ের দ্বারেরে।
এক পলকে থামবে দেখিস, সকল জালিম বৌদ্ধরে,
ঝাটকা মেরে ছিটকে ফেল, যতো বাঁদর ছিঁচকেরে ।।
চল্ ওরে ভাই সামনে চল্, উঁচু করি শির,
নোওয়াবেনা মাথা কোন, আসুক যুদিষ্ঠীর।
মরলে শহীদ, বাঁচলে গাজী, চল্ ধরি ঐ জালিমদের ,
অত্যাচারীর বুক চিড়িয়া, জয় আনিব মজলুমের।

আরিফ ইবনে শামছ্ 
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
বাড়ী# ১২৩৪, ওয়ার্ড# ১২,
ভাদুঘর, সদর, বি.বাড়ীয়া-৩৪০০।
০৪/০৯/২০১৭ ঈসায়ী সাল।

জাগো আবার জাগো!

৪৯. 

এ কোন্ ঘুমে অচেতন, জাগবেনা কি জাগবেনা!
ভাই, বোন, আর শত মাজলুমার, কান্না কানে পৌঁছেনা?
জালিমের দল তোর দ্বারে কই, খুঁজিস কেন হদিস,
সে আশাতেই আছিস বসে! জীবন মরণ ভাবিস!
কাঁদার তরে মানুষ দূরে, পশু পাখি কেউ রবেনা,
পড়বি যখন বিপদ মাঝে, ছুটবিরে তুই পথ পাবিনা।
পরকে আপন করে নিতে, হলি যে তুই স্বার্থপর,
নিজেই নিজের ষোল আনা, পাষাণীর সব পূর্ণ কর।
মানবতার দীক্ষা দিবি, মানবতাই ভূলে গেলি!
এমন হলে, কেমনে চলে, বিশ্ব ধরিত্রী।
বাহুডোরে শান্তি পাবে, সকল জাতি ভেদ-ভূলে,
আজকে তোমার বেহাল দশা, দেখছে সবি বিশ্বরে।
কোথায় তোমার, বীরের জাতি, সত্য ন্যায়ের সাহস,
কোথায় গেল, মটকে ফেলার, জালিমের সব ধর।
জাগো আবার জাগো সবে হায়দরী সে হাঁক ছেড়ে,
পথ হারাবে, জালিম যতো, মরবে পথে প্রান্তরে।
সাহস পাবে, আশার আলো, নির্যাতিত ভাই-বোনে,
আবার ফিরাও পাগলা ঘোড়া,
ছুটতে মুক্তি, কল্যাণে।
নেইকো সময় পিছু ফেরার সামনে বার অগ্রণী,
পাষাণ, জালিম, দানব-মানব,
বিদায় হবে খুনি।

আরিফ ইবনে শামছ্ 
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
বাড়ী# ১২৩৪, ওয়ার্ড# ১২,
ভাদুঘর, সদর, বি.বাড়ীয়া-৩৪০০।
০৪/০৯/২০১৭ ঈসায়ী সাল।

পাষাণের বুক ফাঁড়ি

৪৭। 

বানের জলে সব হারিয়ে ,
নিঃস্ব হয়ে বিশ্ব মাঝে,
শান্তিটুকু খুঁজি;
হউক তা' আরাকানে, 
নির্যাতিত জনপদে, 
জালিমের রক্ত রাঙ্গা, 
পাষাণের বুক ফাঁড়ি।
রক্ত পিচ্ছিল, মৃত্যু পায়ে,
শংকা প্রাণের সাথী,
তবু শান্তিটারে খুঁজি;
বাংলা, ভারত, চীনের মতো,
প্রতিবেশী দেশ কে জানো,
দুর্দিনে কি পেলি।
জীবন মরণ সমান যেথা,
শক্ত করে দাঁড়া,
শান্তি আসবে নামি;
কামড়ে ধর, মরণ কামড়,
দন্ত, আছে, নখ ও আছে,
জ্বালাও প্রাণে শক্তি।।
আজি হতে মরণ বীণা,
নাওতো তুলে শক্ত হাতে,
দেখবে কেমনে থামে,
মরবে নাকো একলা কোন,
জালিম কয়টা সহ,
মৃত্যু নিয়ে খেল।
শান্তি সবার, শান্ত ঘরে,
আনবে ফিরে,
জালিম খতম করে;
কাঁপন ধরাও, মৃত্যুভয়ে,
পালায় যেন, ঊর্ধ্বশ্বাসে,
শান্তি হবেই হবে।
শুরু তোমার করতে হবে,
জালিম বধে অগ্রভাগে,
আসবেনা কেউ মিছে;
মানুষ যারা বীরের মতো,
ধরবে চেঁপে তাদের টুঁটি,
ফিরিশতারা পাশে।
ভয় কি তোমার,
বীরের জাতি,
রক্ত টগবগে,
সাহস তোমার আকাশ সম,
দাঁড়াও তুমি পাহাড় সম,
আসবে বিজয় ঘরে।
আসলো কেবা, হটলো পিছে,
অস্ত্র দিল? ছল করিল?
দেখার সময় কই,
মারতে হবে, জালিম সবি,
বিজয় নেশা, সঙ্গ-সাথী,
করবো সবি জয়।

আরিফ ইবনে শামছ্
 ০১/০৯/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
বাড়ী# ১২৩৪, ওয়ার্ড# ১২,
ভাদুঘর, সদর, বি.বাড়ীয়া-৩৪০০।

কুরবানির প্রাণখানি

৪৪। 


কুরবানি দেয় কুরবানি, নয়তো কারো কুলখানি,
গরু, ভেড়া, ছাগল, মহিষ, দোম্বা কিংবা উটখানি,
কেমন প্রিয়, সকল জনের, ভাল করে ভাবতে শিখি,
টাকার মায়া, জীবন বেলা, কেমন প্রিয় একটু ভাবি।
প্রিয় কিছু দেয় উপহার, ভালবাসি যারে,
হউকনা ফুলের মালা কোন, ভালবাসি তারে।
কেউ দিবে তাঁর রক্ত ঢেলে, কেউ দেবে তাঁর প্রাণ,
কেউবা জীবন বাজী রেখে, রাখবে প্রেমের মান।
ভালবাসি কোরান-হাদীস, ভালবাসি দ্বীন,
মনে প্রানে, মেনে চলে, কাটায় রাত দিন।
আল্লাহ হলো প্রাণের মালিক, রাসূল হলো দৃষ্টি,
তাসবীহ পড়ে, দরুদ পাঠে, তাঁহার সকল সৃষ্টি।
প্রিয় হতে প্রিয়তম, কিইবা আছে বাকী?
সকল প্রিয় বিষয়-আশয়, শিখি দিতে সঁপি।
আল্লাহ মহান রাজী কিসে, হবেন বেজায় খুশী,
সহজ-সরল পথে সদা, সকল হুকুম মানি।
অনেক বছর আগে থেকে চলছে প্রাণীর কুরবানি,
রেওয়াজ রীতি আগের মতোই, নাইযে তাহার প্রাণখানি।
জীবনকালে কখন কী যে, প্রিয় হয়ে আসে,
কাজের মেলা, অলস বেলা, সবি যেন মিছে।
দু'তিন দিনের মাঝে কতো, রাখবে বেঁধে কুরবানি?
গরু, ছাগল, দুম্বা, উট আর, মন পশুদের খবর কি?
নয়তো শুধু পশু-প্রাণী, জীবন-যাপন সবখানি,
কর্ম সকল সবার হবে, ভালবাসার কুরবানি।

আরিফ ইবনে শামছ্
২৭/০৮/২০১৭ খ্রীঃ
৪৬। তোরা থামবি কিনা বল!
----------আরিফ ইবনে শামছ্
৩১/০৮/২০১৭ ঈসায়ী
বিকাল ০৪:৩০ মিনিট।
তোরা থামবি কিনা বল!
ছাড়বি কিনা পাষাণ ছল,
মরণ ফাঁদের রক্ত নদী,
কয়টা খাবি বল?
ভাল মানুষ, উঠছে জেগে,
পারবি কিনা বল?
আগুন ঝরা, বহ্নি হাওয়া,
সঙ্গে যাবি চল।
আকাশে বাতাসে, জলে পর্বতে,
ঠাঁই কি তোরা পাবি,
নদী গিরি, বন জঙ্গলে,
পথের দিশা নিবি।
পাতা মরমর, বৃষ্টি ঝরঝর,
বজ্রনিনাদ আসছে ধেয়ে,
কাঁপে থরথর, গিরি সরোবর,
সত্য- ন্যায়; আজ উল্কা বেগে।
হাতে ধরা তোর শাণিত ছোড়া,
তোর বুকেতে বিধবে দেখিস,
ওরে অজ্ঞ, জাহেল মূর্খ,
কেমনে তোরা মানুষ মারিস!
কিশোর, জোয়ান, বৃদ্ধ, যুবা,
আসছে তেড়ে, দেখরে চেয়ে।
জানেনা তারা, পিছু হটা,
সামনে বাড়ে, ঝড়ের বেগে।
শক্ত হাতের ডান্ডা খেয়ে,
সময় এলে শিখবি সবি,
বীরের লাথি, শাস্তি পেয়ে,
মানবতার দীক্ষা নিবি।
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
বাড়ী# ১২৩৪, ওয়ার্ড# ১২,
ভাদুঘর, সদর, বি.বাড়ীয়া-৩৪০০।
৪৫। সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ (সাঃ)
------- আরিফ ইবনে শামছ্
২১/০৯/২০০১ ঈসায়ী সাল
প্রতিটি হৃদয়ের চারিপাশ যবে ঘোর তমসায় ঘেরা,
তোমার প্রেম ভালবাসা, মুগ্ধকর আন্তরীকতা;
সৃজিল আলোর ফোঁয়ারা প্রতিটি হৃদয় জুড়ে,
আঁধারের সব আঁধার উপনীত হলো, নতজানু হয়ে।
সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ! তৃষিত হৃদয়ের আবে জমজম,
দিকভ্রান্ত মানবজাতি খোঁজে পেল দিক দর্শন।
একবিংশ শতাব্দীর এক উম্মতের মরুতৃষা আজ,
তোমাকে হৃদয় ভরে দেখে নিতে দুর্নিবার অভিলাষ।
সহস্র ষড়যন্ত্রের মাঝেও সহাস্য বদনে নেয় প্রস্তুতি,
সুপারিশ তোমার দিশারী হবে, এমনি কালের আকুতি।
বলহীন, কমজোর ঈমানে নয় গড়া মুসলিম জাতি,
অকাতরে সঁপে দিবে প্রান, আসুক বাঁধারা বিপ্লবী।
স্বর্ণ যুগের সাহস নিয়ে লড়তে চাহি রণাঙ্গণে,
দ্বীনের ধ্বজা রাখতে উঁচু, লড়বো সবে প্রাণপনে।
সফলতা ধরা দিবে, প্রভূ যদি রহম করে,
সব কিছু যে চাই করিতে, মহান সে' বিভুর তরে।
চায় হতে যে বিলীন তব ভালবাসার অকূল জলে,
চোখ দুটো যে পাবে জ্যোতি ভালবাসা তব পেলে,
ফুলে ফলে পূর্ণরূপে, পেয়ে যাবে বসন- বিলাস,
কভু যদি পেয়ে যেতাম, স্বপ্ন মাঝে তব দীদার।
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
বাড়ী# ১২৩৪, ওয়ার্ড# ১২,
ভাদুঘর, বি.বাড়ীয়া।
৪৩। তোমরা জাতির অঙ্গ
---------- আরিফ ইবনে শামছ্
২২.০৮.২০১৭
জাগতে হবে, জাগাতে হবে, বড় প্রয়োজন সব সমাজে,
আশার পিদিম কে জ্বালাবে, অরুণ -তরুণ চলরে ছুটে।
উল্কা বেগে, সৃষ্টি নেশা, পবন বেগে চলবি ছুটে,
কোটি প্রাণের মিটাও দাবী, সকল বাঁধা টুটে ।
লও তুলে এক হাতে তোমার বাজাও মরণ বীণ,
অন্য হাতে দিবে দিশা, লক্ষ প্রাণের ঋণ।
পড়া শোনা, জাতির সেবা চলবে সমান তালে,
ধর্ম হবে জীবন বর্ম, বিধান সবি মেনে।
মানবতা, ইনসাফ দেখো, বন্দী পদে পদে ,
সন্ধি করে সত্য নাশে, অপশক্তি সবে,
ন্যায়ের পথে চলছে পথিক, বড়ই নিঃসঙ্গ,
ছুটে চলো রসদ নিয়ে, তোমরা জাতির
অঙ্গ।
ঘরে বাইরে দেখবে যত সকল অনাচার,
শক্ত হাতে পোক্ত করে, শিখাও সদাচার।
ছোট বড় সবার মাঝে, ভালবাসা কোথা'?
বেয়াদবের বেয়াদবি দিবে, দারুণ ব্যাথা!
আবু বকরের (রাঃ) ঈমান নিয়ে চলবে জীবন পথে,
উমরের (রাঃ) সে' শক্তি সাহস রেখো তোমার বুকে,
কোরান প্রীতি উসমানের (রাঃ) মুকুট সম রেখো,
শের এ খোদা আলীর (রাঃ) মত, যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ো।
মহানবীর (সাঃ) সেরা চরিত, এসো ধারণ করি,
শান্তি সুখের সমাজ গড়ি, আল্লাহ হবেন খুশি,
থাকবেনাক ভ্রান্তিবিলাস, কোন অপকর্ম,
জানবে সবে ইসলাম এক শান্তি-প্রিয় ধর্ম।

৪২। বানের জলে মানবতা

 
বিবেক তোমার, আমার, সবার নির্বাসনে গেল নাকি!
বিশ্ব বিবেক মাতাল হয়ে, ঘুমের ঘোরে পড়লো বুঝি!
বিবেক নামের শব্দখানা অভিধানের কোন্ কোনাতে,
প্রাণ আছে কি নেই তা'তে আজ, খবর নিবে কোন সে' জনে।
উজান দেশের বানের পানি, ছেড়ে দিবে যখন খুশি!
মাতবরেরা কোথায় গেলো, কোথায় তাদের গলাবাজি।
মানবতা যায়না পাওয়া, বানের জলে ভাসে,
দুর্গতদের চোখের ভাষা, পড়তে নাহি জানে।
মা হারালো, বোন হারালো, ভাই হারালো শেষে,
পাশে থাকা কচি খোকার, হদিস নাহি মিলে।
সহায় সম্বল, ভিটে মাটি, ফসল সবি জলের তলে,
অশ্রুধারা শুকিয়ে গেছে , তাঁকিয়ে থাকে পাথর চোখে।
কে আছো ভাই, বোন কোন এক, বাড়াবে কোমল হাত,
মানবতা ডুবে গেলো, করে যাও উদ্ধার।
নিজে পারো যা', আরো খোঁজে নাও মিলিয়া সকল জনে,
পাড়া প্রতিবেশী, দেশ-খেশ মিলে, তাঁদের সহায় হতে।

৪১। ভালবাসার সাগরে

২০.০৮.২০১৭ ঈসায়ী সাল

মসজিদে যায় নিয়মিত, কোরান পড়ি অবিরত,
হজ্ব করি আর রোজা রাখি, বিধান মানি সময় মত;
তার পরে ও জান্নাত পাওয়া নইরে সহজ ভাবি যত!
লোকদেখানো ইবাদতে, খোদার রাজী মিলবে কত?
কী করিলে, কীভাবে যে, আল্লাহ আমার হবে,
রাসূল পাকের (সাঃ) দোয়া পাব, সারা জীবন জুড়ে।
প্রাণের চেয়ে বাসতে ভাল, মনে প্রাণে চাহি,
ভালবাসা খাঁটি হবে, কেমন করে জানি?
ভালবাসার সজীবতা চায়গো সদা প্রভু,
প্রিয়তম বান্দা করে, নিও কাছে বিভু,
বিপদ-আপদ, বালা- মুসিবত, যখন যাহা আসে,
সুখে দুঃখে সব সময়ে, শক্তি দিও প্রাণে।
যায়না যেন সরে কভু, অভিমান করে,
জীবন যাপন হয় যেন সে', সহজ সরল পথে।
তোমায় রাজী রাখতে সবি করতে পারি যেন,
মনে- প্রাণে শক্তি সাহস, দিও অবিরত।
জাহান্নামের আগুন মাঝে হাসতে পারি যেনো,
জানবো যখন সদা তুমি, আমার হবে শুধু,
আমার আমি নয়তো আমি, সৃষ্টি প্রিয় তব,
ভালবাসার সাগর মাঝে বিলীন হয়ে যাব।

শনিবার, অক্টোবর ১২, ২০১৯

৪০। শিশির মেলা

বিলিয়ে দিতে তোমার তরে, চাই তনু আর প্রাণ,
ভালবাসা হউকনা জমা, কোমল হৃদের ত্রাণ।
দুরু দুরু বুক চেয়ে যায়, করুণার সে বৃষ্টিধারা,
তোমার প্রেমে মন হারিয়ে, কে হলো আর পাগলপারা?
হলুদ ফুলের মেলা কভু, বসছে কি আর তোমার বাগে?
মনোলোভা অচিন ফুলে, সাজিয়ে দিতে কেউ এসেছে?
হৃদয় সঁপে দরদ ঢেলে, কেউ গেল কি গান গেয়ে,
তোমার মনে স্থায়ী আসন, কে নিল আজ তা' কেড়ে?
শিশির মেলা জমছে মাথায়,  কবে তাহা কেবা জানে;
জানলেনাতো কোন্ মনে সে, বসে থাকে কোন্ সে ধ্যানে?
সব হারাতে চাই কেনো সে,
তোমার হৃদয় জয়ে;
সময় কত যায় বয়ে যায়, জীবন নদীর তটে।
থামবে কভু জীবন যাত্রা এমনি করে কোন কালে?
বিভোর কেন তোমার প্রেমে, যাই খুঁজে তা মুগ্ধ মনে।
জীবন জুড়ে সবার আছে, ভালবাসার শরৎ সকাল;
কেউবা দেখে বুঝতে পারে, যায় যে তাহার সান্ধ্যকাল।
লাগলনা যে সফল হাওয়া, এই হৃদয়ের খোলা দোরে!
চলেনা যে প্রেমের তরী, চলবে কি তা' হাওয়া বিনে?
ভালবাসার জল কি সেঁচে, যাবে তাদের তরে?
ভালবাসে তোমায় যারা, নিজের প্রাণের চেয়ে?
রচনাকাল : ২০.০৯.২০০১
ভাদুঘর,সদর, বি.বাড়ীয়া।

৩৯। ধূসর প্রেম

আরিফ ইবনে শামছ্
৩০.০৮.২০০১

হৃদয়ের অতল গহ্বরে অতন্দ্র প্রহরী সেজে,
সহাস্য কলতান সঙ্গী হয়ে; জীবন নদীর তীরে।
এ কেমন আগমন তব? মনোবাসনার এমনি প্রকাশ;
সহজ অংকটি তোমার বুঝেনাতো সে, আজো ম্রিয়মাণ।
সাধণার মানবী, ভালবাসার উৎসারিত ঝর্ণা;
কেন জাগালে হৃদয়ে তাহার, দ্বারে দিতে ধর্ণা।
পাবনা এ অলীক কথার পুষ্প কভু জাগবেনা?
পেয়ে যাবো এমন ধারার ঊর্মি কি আর ডাকবেনা?
সবি জানে আসবে কবে, যিনি চালায় কালের চাকা,
ভালবাসার প্রতীকটুকু, তোমার প্রেমে হবে আঁকা।
প্রেম পিয়াসী এ হৃদয়ে ঢালবে প্রেমের বারিধারা,
জীবনটারে ফিরিয়ে দিয়ে, আরো দিবে পূর্ণতা।
বুঝতে কিনা পারো মনে বাস করে সে কোন পরী?
ব্যাথার দানে বিষের বাঁশি, বাজায় এ কোন সুন্দরী!!
জীবন জাগার গান কবে কার, পথ হারালো কিসে?
ফিরিয়ে দেয়ার ঢালিখানি, বাঁধ সাধিল শেষে।
জানতে চাহে ঢাললে তুমি, কোন্ মদিরা এই পিয়ালায়?
পথ চলিতে, পথ হারিয়ে,  কোন্ কারণে পথ ভূলে যায়?
চাইনি কভু এমন ধারা, তবু কেন আসলো ঘিরে!
এই অবসাদ; হতাশ মিছিল ; ভালবাসা চাই কি বলে?
আশার স্বপন, হৃদয় কাঁপন, সব মিলিয়ে ছন্দ পতন!
পাব নাকি হৃদয় তলে; কভু প্রমের বর্ষাবরণ!
ফোটবেনা কি প্রেমের ফুলে, ভালবাসার কোমল ছোঁয়া,
ব্যাথার ধূসর ধূলি-বালী ; তোমার প্রেমে হবে ধোঁয়া!!

৩৮। সম্পর্ক

ফোনের অপর প্রান্তে অভিযোগ,
"এইভাবে কি সম্পর্ক রাখা যায়"?
সাবলীল জবাব, হ্যাঁ। প্রয়োজন
আর অপ্রয়োজনে এ দাবী সবার।
অভিমানী কন্ঠ নীরব, নিথর, হতচকিত!
"কি জানি বুঝিনা আমি এতোসব"।
দিন যায়, মাস যায়, ঘুরে যে বছর,
বন্ধু কিংবা আত্মার কেউ রাখে কার খবর?
ব্যস্ত দুনিয়ায় নাই সময় নাই নাই,
"পথে হল দেখা, বলা হল কথা-চল যাই",
আঁড়ালে চোখের, দূর হতে দূরে যারা,
না পাওয়ার নানা বাহানা, খুঁজে ফিরে তারা!
সচেষ্ট কেউ সুখের রাজ্য গঠনে, কেউ দখলে,
কেউ মত্ত কচিশিশুদের অজানা রাজ্য আবিষ্কারে।
কেউ ব্যস্ততার মহাপ্লাবণে, খুঁজে লক্ষ্য-বন্দর,
কেউ ছুটে নাভিঃশ্বাসে পৌঁছিতে বাতি-ঘর।
সংসার করে কেউ, সংসার গড়ে,  সরবে, নিভৃতে,
শত বেদনারা চাঁপা পড়ে, সে সুখেরই আলিঙ্গনে।
স্মৃতির ঝলকে কেউ খুঁজে পায় তৃপ্তির মহাসুখ,
কেউ ভূলে যায়, কেউ পারেনা, ভূলিতে সঞ্চিত দুঃখ।
তবু আছরে পড়ে, বেশুমার ঊর্মিমালা জীবনের উপকূলে,
বড়ই অভিমানে কভু, হিংস্র আগ্রাসে তীব্র গতিবেগে।
পাহাড় সম ব্যাথার পাহাড় ফিরছে বারেবারে,
অভিমানের ফানুস ফেটে, ছুটছে তীরের পানে।

৩৭। ভাই হারিয়ে

ধরাতলে আগমনে আজান দিল খুশি মনে,
ভাবছি বসে ধূলীর ধরায়, গোছল, নামাজ বাকি আছে।
শোক সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে চলে গেলে
বিভুর কাছে,
"আসতে হবে আমার মতোই যখন তোমার সময় হবে"।
সারা বেলা কাঁদলো আকাশ,
নিথর, নীরব, সব দেহ -প্রাণ।
আশার তরী, ডুবল আজি,
শোক-সবুরে, তোমায় খুঁজি।
প্রদীপ সম ছিলে তুমি, বলছে ইমাম, সবে,
নিভে গেলো চেরাগ, কেন? কিসের
অভিমানে!
পি.এ.টি.সি'র গাছ গাছালী নিথর মাথা নত,
শোকের কথা বলে যেত, যদি ভাষা পেত।
কি হারাল, কি যে হল, ডাকছে মাথার 'পরে,
যমকুলি আর অন্য পাখি, কাঁদছে পালা করে।
সবাই যখন দাঁড়িয়ে গেল, তোমার জানাজায়,
শোকাহত পাখিগুলো চুপটি করে ধায়।
শোকানলে সবাই দেখো, করছে হাহাকার,
মাফের তরে করছে দোয়া,  খুলে মন-প্রাণ।
"কোমলমতি ছেলে মেয়ে প্রভুর জিম্মায়,
পরিবারের সকল কিছু দেখো পরওয়া
তোমার দেয়া মুসিবতে শক্তি, সাহস দিও।
এমন কিছু নাইবা করি, তুমি নারাজ হবে,
তোমার দেয়া সরল পথে, থাকি যেন সবে।
শোকাতুরা মনে প্রভু! চায়গো তোমার কাছে,
অপার দয়ায়, রেখো তাঁরে, জান্নাতী করে।
তাঁহার মতোই সবার তরে, জীবন যেন গড়ি,
সুখে- দুঃখে সব মানুষের, আপন হয়ে থাকি।
১২.০৮.২০১৭
শনিবার
দুপুর ০১ টা ২৬।

৩৬। সিগন্যালের গ্যাঁড়াকলে

পীচঢালা রাজপথ ছাড়িয়া অভিমানে,
নৌকায় চলিলাম জ্যামের, অত্যাচারে।
সময় বড় বেশী স্মার্ট  হয়ে গেল আজ,
তাড়া খেয়ে পিছু ছুটি, লাগে যে লাজ।
নাই কেহ দেখিবার? করেনাতো সমাধান,
জীবনের কত বেলা, অপচয় বেশুমার।
লেইট খায় কখনো, কেটে নেয় বেতনের,
কখনোবা পুরোটাই হাতছাড়া মেজাজের।
ক্লাশ আর লেকচার কিংবা পরীক্ষা,
সময়ের পরে গেলে, ব্যাহত শিক্ষা।
চাকরি পেতে হলে কর লাফ-ঝাঁপ,
লেইট করে হলে গেলে,পাবে নাক মাফ।
মাথা ব্যাথা নেই কারো, কোন রুপকল্প,
শোনা যায় লুটেপুটে, সব খাওয়ার গল্প।
জনগনের ভাড়া সব, যায় কার পকেটে,
প্রতি বছর দেখে যায়, সবকিছু লোকসানে।
লেখাপড়া, চলাফেরা, বসবাস শান্তিতে!!!
চাকরি, সেবাদান, সব যায় পাল্টে।
বিনোদন, দাওয়াতের বেজে যায় বারোটা,
সিগনালের গ্যাঁড়াকলে শহুরে জীবনটা।

শুক্রবার, অক্টোবর ১১, ২০১৯

৩৫। সাগর পাড়ে

পূব আকাশে উঠলো জেগে রঙধনুটা হঠাৎ হেসে,
দেখতে পাবে হরেক রঙে প্রেমের রাণী বসছে ধ্যানে।
বাস করে তার প্রেমের পুরুষ, পৃথিবীরই প্রান্তকোণে,
ভাবছে বসে কেমন আছে, চিত্র আঁকে হৃদয় পটে।
জানেনাতো নদীর বুকে বইছে কি জল আগের মতো,
দল বেঁধে কি মাছ ভাসে তার, গভীর বুকের অতল তলে।
ফুটলো কি ফুল; হৃদয় কাঁড়া হাসি দিয়ে বাগান মাঝে,
পসরা আজো সাজায় কিনা! প্রেমিক হৃদয় আমার তরে।
বাস করে সে আকাশ পরী, তাদের ধরা আকাশ পাড়ে,
হয়না যখন ডাকা তারে, পৌঁছবে সেথায় কেমন করে?
হাসছো কেন দিবানিশি, হৃদয় লুটে অচিনপুরে,
খেলছে দেখো দেহমাঝে গভীর কাঁপন বারেবারে।
জানলেনা তো হৃদয় মাঝে, আছে এ কোন পূর্ণতা!
দেখলে প্রকাশ হবে তাহা, শুধুই কেবল শূন্যতা,
আশার পালে লাগছে হাওয়া, এ যে আজি কল্পনা,
কভু কী আর আঁকা হবে হৃদয়পটে আল্পনা।
তোমার আশা মিলবে সবি, একই নদীর মোহনাতে,
গড়বো সুখের জলের নীড়, সুদূর দেশের সাগর পাড়ে।
থাকবেনাতো আপন পর, লাগবেনা কেউ পিছু কারো,
শান্তি সুখে রবে সদা, মনে প্রাণে শান্তি যতো।

৩৪। সফেন পদ্ম

মুখোমুখি আজ জটিল ধারায় কোন সে পথে;
ধেয়ে যাব; একাকী কূজন রবের লেশ ধরে,
থাকবেনাতো মাথার 'পরে, মহীরুহের ছায়া কোন,
ডাকবে ডাহুক ঝিঁঝিঁ পোঁকা, চলতে হবে ধীর।
কোথাও হবে নিকচ আঁধার, ভয়াবহ সন্ধ্যাবেলা,
থাকবে আবার সৈকতে, বিজন ভূমির প্রেমের মেলা,
নাহি পাবে শান্তি কিছু, হেথায়-হোথায় বৃথাই  ঘুরে,
অমাবস্যার আঁধার রবে, হৃদয় ভরে, পূর্ণিমাতে!
হয়তো কভু পড়বে মনে; প্রিয়তমারর কথার বাঁকে,
দেখেছিলে প্রিয় বদন, উঠতো হেসে খিলখিলিয়ে।
পাবে কি সেই প্রেমের পদ্ম, থাকতো যাহা সদা পাশে!
দেখলে তোমায় পদ্মখানি, সফেন রঙে ওঠতো হেসে।
আকাশ ভরা জমতো আভীর; তোমার এমন বসন দেখে,
হৃদয় কেঁড়ে ছুটতো পাখি, মাথার পরে গগণ জুড়ে,
কালো মেঘের আনাগোনা তোমার মুখে হতো যবে,
তন্ত্রী গুলো পড়তো তখন ভীষণ ঝড়ের  ঘূর্ণিপাকে।
তোমার দেখা ধুমকেতু কি? জাগবে আবার হৃদয়াকাশে,
জমবে আবার প্রেমের মেলা! সে কি রবে কল্পনাতে?
জানলেনা তো মনের খবর!
বুঝলেনা যে ঋতুবদল!
আসছে ধেয়ে জীবন জুড়ে, কাল-বৈশাখী ভেঙ্গে আগল। রবে কল্পনাতে?
জানলেনা তো মনের খবর! বুঝলেনা যে ঋতুবদল!
আসছে ধেয়ে জীবন জুড়ে, কাল-বৈশাখী ভেঙ্গে আগল।

৩৩। হৃদয় কন্দরে

কবিতা তোমার আশ্রয়স্থল হয়তো হারিয়ে যাবে!
মিশিয়ে দেবে দুঃখের উদ্ভট গন্ধ মেশানো মদে।
হারানোর বেদনা সে যে তিক্ত পেয়ধারার মতো,
আশা করা হয়না কভু যা'দিয়ে যাবে যতো।
মসৃণ হৃদয়ভূমে জাগাবে ধূ ধূ মরুময় বালুকারাশি,
জাগবে হৃদয় নদীতে বেদনার বালুচর রাশি রাশি।
যে নদী বয়ে চলে, প্রিয় জনের ভালবাসার সন্ধানে;
সে যে কী মরুতৃষা নিয়ে চলে, জানেতো কেবল সে।
জানবে সেদিন ভাল করে,ভালবাসা হৃদয়পটে,
সুন্দর সেতো অনন্যা,বলছি মধুর লগন মাঝে।
ভাল করে নিও দেখে, কবিতার সব অঙ্গ জুড়ে,
বিষাদমাখা অশ্রুসজল, কান্নাতে যার বুক ভাসে।
সন্দেহের বোমারু বিমান, মনাকাশে যায় উড়ে যায়,
মরণবীণায় প্রাণ কে দেবে , নির্লিপ্ত সব   আঁখি তাই।
ভাগ্য কারো তৈরি করা, কারো আবার গড়তে হয়,
জীবন মাঝে যুদ্ধ করে, প্রাণকে আপন করতে হয়।
প্রতিভার স্বাক্ষর নাকি, বিরহের মহাঔষধ!
জীবনের প্রাণসঞ্চালনে, মৃত দেহে সঞ্জীবন।
অসভ্য প্রবৃত্তিকে খুঁজে বের করে, বধ্যভূমিতে কর বধ,
দাও প্রেরণা, মহান সে প্রভুর আভাসে,
তুমি দিনভর।
স্বপ্ন দেখাও, পথের দেখা, জীবন পথের কত মেলা!
লাভের দেখা মিলবে কবে, সেই হিসেবে জ্ঞান হারা।
কবিতার সৃষ্টি তব, প্রেম নিবেদন, নিজের তরে!
সৃষ্টির উল্লাসে আজ সব কাঁপে তাই হৃদয় কন্দরে।
২৮.০৮.২০০১
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
ভাদুঘর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া।

৩২। সান্ত্বনা

[মেঘনার কন্যা খ্যাত তিতাস বিধৌত, শিল্প-কলা, সাহিত্য-সংস্কৃতির সূতিকাগার, প্রখ্যাত  ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সবুজ-শ্যামল ভূমি শহীদী রক্তে সিক্ত - রঞ্জিত; ২০০১ সালে ফতোয়া রক্ষার আন্দোলনে ০৬ জন বীর মুজাহিদ  শাহাদাৎবরণকারী ভাইদের স্মরণে। সুমহান আল্লাহ তাআ'লা এর বিনিময়ে সত্য-ন্যায়ের তথা ইনসাফের রাজত্ব ক্বায়েম করুক।]
আম্মা! তুমি কেঁদোনা আর,
চোখদুটি ভরে তুলোনা লোনাজলে;
পাঁপড়ি চোখের সিক্ত করোনা অশ্রুতে;
মনের পৃথিবীকে ধূ ধূ মরুভূমি করোনা।
আমি ছিলামনা কিছু দিন আগে,
তোমার পাশে নয়নতারা হয়ে?
কাটায়েছি শৈশব কৈশোর তোমার কোলেতে।
মাগো! আমি মরিনি জানো!
সৌভাগ্য আর নিঃসীম সুখ-ভোগ,
সুদর্শণা ললনারা দিয়েছে হাতছানি,
যাদেরকে জানি রুপসী- অপ্সরী।
যাদের ভালবাসা প্রতিটি মুহুর্তে,
ঘিরে রেখেছে আমায়,
বাঁচিয়ে রেখেছে।
সে'ভালবাসার সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের প্রলোভনে,
স্থির থাকতে পারিনি;
আর তাই পড়লাম লুটিয়ে।
আল্লাহর সেনা হয়ে,
তপ্ত লৌহ বুকে রেখে,
কে মানিতে চায় বলো মা!
ধৃষ্টতা খোদার সাথে?
মহান প্রভূর সেই ঝর্ণাধারায়,
সবার আগেই চলে এলাম।
তুমি কাঁদো কেন বারবার?
দেখোনা চলে কত খেয়া পারাপার!
অধীর আগ্রহে মুক্তির দাবী নিয়ে,
বসে আছি মা, এসো ওপারে।।
আল্লাহকে ভূলোনা,
পথ তাঁর ছেড়ে দিওনা,
এ পথেই মুক্তির দিশা,
মিলে যাবে একদিন।
বাবাকে ভূলে যায়নি,
বলো আমরা সবাই আছি,
একইসাথে চলি সদলবলে,
প্রভুর রাজ্যে, তাঁ'রই সান্নিধ্যে।
যে যা'ই বলে যাকনা কিছু,
শুনোনা বিভ্রান্তের তরে শুধু,
সব অপচেষ্টার উপস্থাপন,
করে যায় নর পিশাচের দল।
ঢেলেছি তপ্ত খুন, রাখো মা'রে জেনে,
কোরআন হাদীসেরে ভালবাসি বলে।
পেয়ে গেছি আজ সব নিঃসন্দেহে,
বিজয়ী কেতন ইসলামের,
দেখো, উড়বে দেশে দেশে।।
০৬.০২.২০০১
তোফায়েল আজম রোড,
শহীদবাড়ীয়া (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া)

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১০, ২০১৯

৩১। জানলেনা

হাজার বছর ধরে, যে পাটাতনে দাঁড়িয়ে,
জানলেনা আজো, জানলেনা সে কে?
হাজারোবার যে দ্বারে, টোকেছে বাসনার ইঙ্গিত!
সে দ্বার খোলেনি, গেয়ে গেল শব্দহীন সংগীত।
অব্যবহিত পূর্বে কিংবা পরে, কেঁউ ডাকল কি?
সুমধুর স্বরভঙ্গিতে সব সম্বোধণে!ওগো সম্রাজ্ঞী!
তিলোত্তমা উপহার, সব শূভ্র ফুলের মালা,
সম্রাটের শাহী অশ্বের খুঁড়ের ছন্দে পড়লো বাঁধা!
নাই রাজ অশ্ব, নেই শাহী ফরমান,
প্রতিটি রক্তকণিকা বলে, তুমি নীল আসমান,
কখনো সুনীল রঙে, স্বপ্নিল সাজ নাও,
কভু তারকার স্নীগ্ধ আলোর আঁচল দাও,
দিবানিশি পাষাণের মতো, নীরব যে থাকনা,
আমার সুখের তরে, তোমার সকল বন্দনা।
তোমার রূপের মহাসমুদ্রে, আমি যে বিভোর,
মহাইন্দ্রজালের প্রেমময় ভূষণে, দেখি প্রতিটি ভোর।
রাত ১ টা ৪৫ মিনিট,
২০/০২/২০০৩ ঈসায়ী সাল।

৩০। !!! জাগবে কবে, বীরের জাতি !!!

কলম তোমার ভোঁতা কেন? মুখে নেই কোন রা!!
ভয় কি তোমার দেশ কাঁড়িবে ! রোহিঙ্গা না বৌদ্ধরা ?
তাকাও! তোমার আপন জনের মুখটি বারেক দেখো,
কারো আঘাত সইবে কভু, নীরবে তা' ভেবো !!!
যালিম - জুলুম করছে কেমন !!! তাকাও মায়ানমানমারে,
মানব শত্রু বৌদ্ধরা আজ আসল পরিচয়ে।
"প্রাণী হত্যা মহাপাপ", অভিনয়ের বানী !!!
মানুষ খেকু বৌদ্ধদের সব, দেখছে বিশ্ববাসী !!!
বিশ্ব মাঝে তাকাও তুমি মুসলিমরা কি নয়রে প্রাণী???
ইরাক,সুদান,আরাকান, কাশ্মীর , হচ্ছে সেথায় কি ???
বিশ্ব মোড়ল চুপটি কেন? করছে   কিসের কাজ !!!
চাও কি তুমি বিশ্ব মাঝে , মানবতা  নিপাত যাক।
নেতা কোথায় ? কে দাঁড়াবে? মজলুমের পাশে বলো?
ঘরে বাইরে মারছে সবে, শূন্য উঠান দেখো !!!
নাইকি তোমার রক্ত, মাংস, মরলো বিশ্ব বিবেক?
চলো ভাইরে জানাজাতে, দাফন করি তাদের।
মারছে আজি সারে সারে,  নিঠুর অত্যাচারে,
তিলে তিলে দিচ্ছে ঠেলে, ভয়াল  মৃত্যুকূপে।
আর কতো দিন দেখে যাবে মরন জ্বালা নীরব চোখে,
বাদ-প্রতিবাদ, ন্যায়ের যুদ্ধে, বীরের জাতি জাগবে কবে?
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
বাড়ী# ১২৩৪, ওয়ার্ড# ১২,
ভাদুঘর, সদর, বি.বাড়ীয়া-৩৪০০।

২৯। জাগাও তুমি, জেগে ওঠো !


--------আরিফ ইবনে শামছ্
               ২২.১১.১৬ ঈসায়ী সাল।
                              বিকাল ৫:১৫।
পূর্বে তোমার ঈমান- অস্ত্র সবি ছিল চোখ ধাঁধানো;
আজ কি হলো ভাইরে তোমার, সব কিছুতেই হেয় হারালো !
হালাল ছেড়ে হারাম খেয়ে, নাই ঈমানের দৃঢ়তা,
প্রতিবাদী কণ্ঠে কেনো দ্রোহের আগুন জ্বলেনা !
সাহস খনি হারিয়ে গেলো, নাকি কাউকে সঁপে দিলি !!!
ভীরু ভীরু ত্রস্তপদে বাঁচবে নিজে? না কা'রে বাঁচাবি?
দুর্বলতার সুযোগ পেয়ে, চামচিকারা কী করে !!!
শের এ খোদার ঘুম ভাঙ্গানো; উচিত হবে কবে???
নাও তব সে পূর্ণ ঈমান, বর্ম পড় আমলের,
নাও তুলে সেই তলোয়ার, রাঙ্গানো ঐ বিশ্বাসের।
মুক্ত তোমায় করবেনা কেউ, মারবে বেঁধে বেঁধে,
বিশ্বাস যদি নাইবা হবে, তাকাও বিশ্ব মাঝে।
জাগাও তুমি, জেগে ওঠো সিংহ শার্দূল সব,
ঝাঁপিয়ে পড়ো, বিদায় করো পাষাণ পাপী যত।
যালিমদের আজ দাও পাঠিয়ে, অগ্নি- ভরা খাঁদে,
ন্যায়ের খড়গ কত নিঠুর দেখুক বিশ্ব-সবে।
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
বাড়ী# ১২৩৪, ওয়ার্ড# ১২,
ভাদুঘর, সদর, বি.বাড়ীয়া-৩৪০০।

২৮। ফেরেশতাদের বাগানে

কোকিলের কুহু কূহু, তটিনীর কলরব;
সবুজের সমারোহ, সাজানো যতোসব।
ফুলে ভরা থরে থরে, মনোহর বাগিচা,
হার মানিবে নীরবে, বারেক এসে দেখনা। 
কচিকাঁচার মিলন মেলা, ফেরেশতাদের বাগানে,
কে যাবে ভাই, শান্তি পেতে, সকাল দুপুর সাঁঝে,
শুনতে পাবে ঐশী কালাম, অতি মধুর সুরে,
মহানবীর (সাঃ) বাণী বাজে, কচিকাঁচার স্বরে।
ধূলীর ধরায় স্বর্গ যদি, দেখতে চাওরে কভু,
ছড়িয়ে থাকা বিশ্ব মাঝে, মাদ্রাসাতেই এসো।
নয়কো একা, বন্ধু সহ, আপনজনা নিয়ে,
মনেপ্রাণে শুনে নিতে, শান্তি সুধা পানে।
আলেম, হাফেজ, ক্বারি সাহেব ইসলামের রাহবর,
তৈরি হচ্ছে দ্বীনের দাঈ, যুগের মান্যবর।
উঁচু করে ধরবে তাঁরা, ধ্বজা ইসলামের,
সগৌরবে পৌঁছে দিতে, বাণী ইহসানের।
  
  নিবেদক,
আরিফ ইবনে শামছ
তারিখঃ ২৩.১১.২০১৬
সময়ঃ রাত ১২টা ৩০ মিনিট।
ঢাকা, বাংলাদেশ।

২৭। আহলান সাহলান মাহে রমজান"

মাহে রমজান পরিপূর্ণ নিয়ামতে আল্লাহ্‌র ,
তারাবীহ,তাহাজ্জুদ, পূণ্য মনে সেহরি- ইফতার,।
মসজিদে মসজিদে সুমধুর তিলাওয়াত;
রুকু-সিজদায়,নামাজে-দোয়ায় বান্দারা আল্লাহ্‌র।
যায় বয়ে পবিত্র সময়, বহে শান্তি সমীরণ,
শান্তির হাওয়া বয়, দেহ-মন কথা কয়;
ভোর হতে সন্ধ্যায়;আর যখন রাত্রি,
মিলেনাতো এমন সুখ! খুঁজে ফের যদি।
রমজান নিয়ে আসে জান্নাতি হাওয়া,
মনে-প্রাণে শান্তি,সবি কাছে পাওয়া।
যায় বুঝে সহজে এই মাস আল্লাহ্‌র,
চাও বেশি জীবনে যতো যা' চাহিবার।
তাসবীহ-তাহলীল, রাসূলের দরুদে;
যায় বেলা এমনি সুখ আর শান্তিতে।
চলো যায় জামাতে,নামাজিদের কাতারে,
চাওয়া-পাওয়া সবি বলি সুমহান দরবারে।
আরিফ ইবনে শামছ
০৬.০৬.২০১৬
১৯.২৬
আশা টাওয়ার, শ্যামলী, ঢাকা।

২৪। বিজয়ী কাব্য-গাঁথা

বাংলাদেশের কোটি প্রানের,
চাওয়া-পাওয়া একটি জয়,
আকাশে বাতাসে, ধ্বনি–প্রতিধ্বনি ভাসে 
“হবেই হবে জয়”।

বিজয়ের মাস, বিজয়ী শক্তি আছে,
পেশীতে হালাল শক্তি,
বলে বলে পতন নিশ্চিত;
বিরোধী শিবিরের সেনা-সেনাপতি।

কত কি যে চায় আল্লাহর কাছে;
জীবনের বেলা-ভূমে,
চলো দুহাত তুলি তাসকিন ভাইয়ের মতো 
শুধু জয় চেয়ে চেয়ে।

পতাকা মোদের উড়বেই আকাশে
বিজয়ী নিশান বেশে,                        
গ্যালারী,ঘরে,অলিতে গলিতে,
প্রাণ রবে অস্থির, বিজয়ী উল্লাসে।

ছক্কা চারের মারের জোয়ারে,
পালাবে সব জরা-জীর্ণতা,
ছন্দে ছন্দে মনের আনন্দে,
বিজয়ী কাব্য-গাঁথা।

ভূল-ত্রুটিকে জানাবে ছুটি,
“গর্জে ওঠো বাংলাদেশ”,
তোমাদের মাঝে বাংলা কে পায়,
ভূলে সব ভেদ-বিভেদ।

রান আউট আজ ভুলে যারে ভাই,
রান নিবি পায় পায়,
বাঘের হিসাব কেমন পাঁকা,
বুঝিয়ে দেবে, কড়ায়-গন্ডায়।

কেমন থাবা বাঘের থাবা,
বুঝবে তারা’, পড়বে যারা,
বিজয়ী হয়ে বীরের বেশে,
ফিরিতে চায় খেলা শেষে।

আরিফ শামছ্ 
দুপুর ০৩ টা ৩০
০৬.০৩.২০১৬
আশা টাওয়ার,শ্যামলী, ঢাকা।

          **********

কবিতা: বিজয়ী কাব্যগাঁথা 
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম

এই কবিতাটি বিজয়, জাতীয় গৌরব, ক্রীড়াচেতনা এবং সমষ্টিগত উচ্ছ্বাসের এক উদ্দীপ্ত কাব্য। এখানে কবি আরিফ শামছ্ খেলাধুলার আবেগ—বিশেষত ক্রিকেটের ভাষা ও জাতীয় অনুভূতিকে মিলিয়ে এক ধরনের উৎসবমুখর জাতীয়তাবাদী কবিতা নির্মাণ করেছেন। “বিজয়ী কাব্যগাঁথা” কেবল খেলার জয় নয়, বরং জাতির আত্মবিশ্বাস ও ঐক্যের প্রতীক।

বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ

১. জাতীয় জয়ের স্বপ্ন
“বাংলাদেশের কোটি প্রানের,
চাওয়া-পাওয়া একটি জয়,”
এই পঙক্তি পুরো কবিতার কেন্দ্র। এখানে “একটি জয়” শুধু খেলার জয় নয়—এটি সমগ্র জাতির আবেগ, আশা ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। সমষ্টিগত আকাঙ্ক্ষা কবিতাকে জাতীয় কাব্যধারায় উন্নীত করেছে।

২. উচ্ছ্বাস ও প্রতিধ্বনি
“আকাশে বাতাসে, ধ্বনি–প্রতিধ্বনি ভাসে ‘হবেই হবে জয়’।”
এখানে পরিবেশও যেন আবেগে অংশ নেয়। আকাশ-বাতাস—সবকিছু বিজয়ের স্লোগানে মুখর। এটি একধরনের collective emotional imagery, যা গণমনস্তত্ত্বের কাব্যিক রূপ।

৩. ক্রীড়ার ভাষায় যুদ্ধের রূপক
“বলে বলে পতন নিশ্চিত;
বিরোধী শিবিরের সেনা-সেনাপতি।”
এখানে ক্রিকেটকে যুদ্ধের রূপকে উপস্থাপন করা হয়েছে। খেলাকে সংগ্রাম, প্রতিপক্ষকে শত্রু বাহিনী হিসেবে দেখানো—এটি ক্রীড়া সাহিত্যের সাধারণ কিন্তু শক্তিশালী কৌশল।

৪. ধর্মীয় আবেগ ও দোয়ার সংযোগ
“চলো দুহাত তুলি তাসকিন ভাইয়ের মতো
শুধু জয় চেয়ে চেয়ে।”
এখানে দোয়া ও খেলাধুলার আবেগ একত্র হয়েছে। ধর্মীয় ভঙ্গিতে হাত তোলা এবং খেলোয়াড়কে অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে দেখানো কবিতাটিকে জনপ্রিয় সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করেছে।

৫. জাতীয় পতাকা ও উল্লাস
“পতাকা মোদের উড়বেই আকাশে
বিজয়ী নিশান বেশে,”
পতাকা এখানে শুধু রাষ্ট্রীয় প্রতীক নয়—এটি গর্ব, পরিচয় এবং বিজয়ের চূড়ান্ত চিহ্ন। এই চিত্রকল্প জাতীয়তাবাদী কবিতার ঐতিহ্যকে স্মরণ করায়।

৬. ক্রিকেট ও জাতির আবেগ
“ছক্কা চারের মারের জোয়ারে
পালাবে সব জরা-জীর্ণতা,”
খেলার প্রতিটি মুহূর্তকে জীবনের জয়-পরাজয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ছক্কা-চার এখানে শুধু রান নয়—এটি হতাশা থেকে মুক্তির প্রতীক।

৭. ঐক্য ও বিভেদের অবসান
“ভূলে সব ভেদ-বিভেদ।”
এই লাইন কবিতার মানবিক বার্তা। বিজয়ের আনন্দে জাতি এক হয়ে যায়—রাজনীতি, বিভেদ, মতভেদ সব পেছনে পড়ে থাকে। এটি সামাজিক সংহতির আহ্বান।

সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো—
জাতীয় আবেগ ও ক্রীড়াচেতনার শক্তিশালী মিশ্রণ
ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে রূপক নির্মাণ
উচ্ছ্বাসপূর্ণ ও স্লোগানধর্মী ভাষা
ঐক্য ও বিজয়ের বার্তা
সহজ, প্রাণবন্ত ও গণমানুষের ভাষা
এটি উচ্চমাত্রার দার্শনিক কবিতা নয়; বরং গণআবেগ, উৎসব এবং জাতীয় উচ্ছ্বাসের কাব্যিক প্রকাশ।

সারমর্ম
“বিজয়ী কাব্যগাঁথা” কবিতায় কবি বাংলাদেশের মানুষের ক্রিকেট জয়ের স্বপ্ন, আবেগ এবং উল্লাসকে কাব্যিকভাবে প্রকাশ করেছেন। এখানে জয় শুধু খেলার ফল নয়—এটি জাতির গর্ব, ঐক্য এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।
কবি দেখিয়েছেন—বিজয়ের মুহূর্তে মানুষ এক হয়, পতাকা উড়ে, আর হৃদয়ে জাগে এক অনির্বচনীয় আনন্দ।

এক বাক্যে সারাংশ:
এই কবিতা শেখায়—বিজয় শুধু খেলার নয়, এটি একটি জাতির ঐক্য, গর্ব ও আত্মবিশ্বাসের উচ্ছ্বাসময় প্রকাশ।

         ********




২০। ভালো থেকো খাদিজা

ভালো থেকো খাদিজা
-------আরিফ শামছ্ 

ভালো থেকো অনেক ভালো,
জান্নাতী হয়ে,
কেমন করে চলে গেলে,
কিসের অভিমানে!

জানবোনা আর সবার খবর,
কোথায় কেমন আছে?
চলে গেলি এত্তো দূরে,
পায়না যেন খোঁজে।

ভালো থাকিস খোদার দয়ায়,
হুর পরীদের মাঝে,
দোয়া করিস সবার তরে
জান্নাত যেনো মিলে।

জানতে কভু পারিনিকো 
কেমন তোরা ছিলে,
স্বামী সন্তান খেশ পড়শী 
সবার সাথে মিলে।

মাফ করে দিস উদার মনে,
এমন পাষাণ যারা!
ভাবতে কভু পারিনিক
জীবন হবে সারা!

আরকি কভু স্মৃতির দুয়ার,
খুলবে শৈশবের!
মাহবুবা আর তোরা সবার,
টিফিন উপভোগের।

প্রথম তোমায় পেয়েছিলাম,
তৃতীয় শ্রেণীর ক্রমে,
আমি তখন সবার শেষে,
ডাবল প্রমোশনে।

প্রথম ক্রমিক কেমন করে,
করব দখল আমি
সেই ভাবনায় মজেছিলাম,
তখন সহপাঠী।

সেইযে তোমার সাথে হল,
ভাল করে চেনা,
পুতঃমনে চলছি সবাই,
নেইকো লেনাদেনা।

তোমার মতোই মনে পড়ে,
সবাই কেমন আছে?
মনির, নাজির, আওলাদ, আক্তার,
আশিক, রহীম সবে।

বোরহান, ফায়েজ, হুমায়ূন
ছফিউল্লাহ আর ইসমাইল,
জীবন, ছবি, বেবী আর 
জয়নাল আবেদীন।

কে যে কোথায় কেমন আছে,
আল্লাহ ভালো জানে,
দ্বীন-দুনিয়ার সফলতায়,
সবাই যেনো থাকে।

(প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহপাঠিনী ও চাচাতো বোন মরহুমা মোছাম্মৎ খাদিজা আক্তার এর ইন্তেকালে।)

********
কবিতা: ভালো থেকো খাদিজা
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম

এই কবিতাটি স্মৃতি, শোক, শৈশব, হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক এবং পরকালের দোয়ার এক গভীর মানবিক কাব্য। এখানে মৃত্যু কেবল বিচ্ছেদ নয়—এটি স্মৃতির দরজা খুলে দেয়, মানুষকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় শৈশবের নির্দোষ দিনগুলোতে। কবি আরিফ শামছ্ তাঁর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহপাঠিনী ও চাচাতো বোন মরহুমা খাদিজা আক্তারের মৃত্যুতে যে শোক প্রকাশ করেছেন, তা ব্যক্তিগত হলেও তার অনুভূতি সর্বজনীন।

বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. বিদায়ের কোমল ভাষা
“ভালো থেকো অনেক ভালো,
জান্নাতী হয়ে,”
কবিতার শুরুতেই মৃত্যু নিয়ে কোনো কঠোর শব্দ নেই; আছে কোমল বিদায়। “ভালো থেকো” যেন জীবিতের নয়, আত্মার প্রতি শেষ ভালোবাসা। এটি ইসলামী শোকচেতনার সৌন্দর্য—বিচ্ছেদের মাঝেও দোয়া।
বিশ্বসাহিত্যে Khalil Gibran মৃত্যু ও বিচ্ছেদকে আত্মার যাত্রা হিসেবে দেখেছেন; এই কবিতাতেও সেই মমতা রয়েছে।

২. অনন্ত দূরত্বের বেদনা
“চলে গেলি এত্তো দূরে,
পায়না যেন খোঁজে।”
এখানে মৃত্যু মানে দূরত্ব—যে দূরত্বে খোঁজ নেওয়া যায় না। এটি অত্যন্ত সহজ অথচ গভীর বেদনার প্রকাশ। এই পঙক্তি পাঠককে ব্যক্তিগত ক্ষতির অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করে।

৩. জান্নাতের কল্পনা ও প্রার্থনা
“ভাল থাকিস খোদার দয়ায়,
হুর পরীদের মাঝে,”
এখানে শোক হতাশা নয়; বরং আশাবাদী ঈমান। মৃত প্রিয়জনের জন্য জান্নাত কামনা ইসলামী সাহিত্যিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কবি দুঃখকে দোয়ায় রূপ দিয়েছেন।

৪. শৈশবের দরজা
“আরকি কভু স্মৃতির দুয়ার,
খুলবে শৈশবের!”
এই লাইন পুরো কবিতার আবেগীয় কেন্দ্র। মৃত্যু মানুষকে শুধু একজনকে হারায় না—শৈশবের একটি অংশও হারিয়ে যায়। টিফিন ভাগাভাগি, স্কুলের বেঞ্চ, সহপাঠীর প্রতিযোগিতা—এসব স্মৃতি হঠাৎ জীবন্ত হয়ে ওঠে।
এটি Marcel Proust-এর স্মৃতিনির্ভর সাহিত্যিক অনুভূতির কথা স্মরণ করায়।

৫. সহপাঠী থেকে আত্মীয়: সম্পর্কের বহুস্তর
“প্রথম তোমায় পেয়েছিলাম,
তৃতীয় শ্রেণীর ক্রমে,”
এখানে সম্পর্কের বিকাশ ফুটে উঠেছে—সহপাঠী, আত্মীয়, স্মৃতির অংশ। এই বহুমাত্রিক সম্পর্ক কবিতাটিকে ব্যক্তিগত ডায়েরি থেকে সাহিত্যিক গভীরতায় উন্নীত করেছে।

৬. শেষাংশে সমষ্টিগত প্রার্থনা
“দ্বীন-দুনিয়ার সফলতায়,
সবাই যেনো থাকে।”
কবি শুধু খাদিজার জন্য নয়—সব পুরোনো বন্ধুদের জন্য দোয়া করেন। ব্যক্তিগত শোক থেকে সমষ্টিগত মমতায় উত্তরণ এই কবিতার সৌন্দর্য্য।

সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো—
শোকের কোমল ও মর্যাদাপূর্ণ প্রকাশ
শৈশব স্মৃতির জীবন্ত পুনরাবির্ভাব
ইসলামী দোয়া ও পরকালের বিশ্বাস
ব্যক্তিগত অথচ সর্বজনীন আবেগ
সহজ, স্বচ্ছ এবং হৃদয়স্পর্শী ভাষা
এটি শুধু শোকের কবিতা নয়; বরং স্মৃতির মাধ্যমে মানুষকে নতুনভাবে অনুভব করার কাব্য।

সারমর্ম
“ভালো থেকো খাদিজা” কবিতায় কবি মরহুমা খাদিজা আক্তারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জান্নাত কামনা করেছেন, শৈশবের স্মৃতি স্মরণ করেছেন, এবং পুরোনো সহপাঠীদের কথা মনে করে জীবনের অস্থায়িত্ব উপলব্ধি করেছেন।
কবিতাটি শেখায়—মৃত্যু মানুষকে দূরে নিয়ে যায়, কিন্তু স্মৃতি তাকে হৃদয়ের ভেতর আরও কাছে এনে দেয়।

এক বাক্যে সারাংশ:
এই কবিতা শেখায়—প্রিয়জন চলে গেলেও, স্মৃতি ও দোয়া তাকে হৃদয়ের ভেতর চিরজীবিত রাখে।
**********




১৯। জীবন ও সম্মান

জীবম ও সন্মান
--- আরিফ শামছ্

কিসের স্বপন দেখে আজি,
রাখছো কোথায় হাত?
কাদের হাতে রাখছো তোমার,
জীবন ও সম্মান?

জাননাতো সবার খবর,
কোথায় কিযে করে!
পড়াশুনা করবে নাকি!
সেসব খবর নিবে?

বয়স তোমার সমান হবে
কিংবা দুয়েক বেশী,
এই বয়সে নাইতো খবর,
জীবন সাজায় কী?

কিসের নেশায় ছুটল দেখো
তোমার পিছু পিছু,
সাজাবে কি জীবন নাকি,
সঙ্গ দিবে কিছু?

লেখাপড়া শেষ করেনি,
পায়নি ভালো কাজ,
জীবন নিয়ে নিঠুর খেলা,
খেলবে কেমন রাজ!

আবেগ দিয়ে চলে নাকো,
পূর্ণ জীবন যাপন,
হাঁড়ে হাঁড়ে বুঝবে সেদিন,
রবে নাকো আপন।

ডানে বাঁয়ে ঘুরে ফিরে
পথ হারাতে মানা,
ভাল করে পড়া শেষে,
গর্বিত হোক মা।

উজাড় করে ভালোবেসে,
বিদ্যালয়ে পাঠায়,
অপমানের কালি কভু,
ছোঁড়বেনা তাঁ'র গায়।

ভালো মেয়ের ছেলে বন্ধু
থাকতে নাহি পারে,
শিক্ষা-দীক্ষায়, মানুষ হতে,
লক্ষ্য সবার আগে।

জাননাতো কে যে তোমায়,
নিয়ে যাবে কোথা!
তারচে' ভালো লেগে পড়,
জীবন সাজায় যেথা।

প্রেমের ফাঁদে এমন সময়
দিবে নাকো পা,
সবাই তাহার বিরুপ ফসল,
সয়তে পারেনা।

হতে পারে সাঙ্গ তোমার
জীবন লীলা খেলা,
জীবন্মৃত হয়ে কিবা,
কেটে যাবে বেলা!

********

কবিতা: জীবন ও সম্মান বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম
এই কবিতাটি কৈশোর, আবেগ, শিক্ষা, আত্মসম্মান, পারিবারিক মর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ গঠনের এক সতর্কতামূলক কাব্য। এখানে কবি বিশেষত তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশ্যে জীবনবোধের একটি নৈতিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। প্রেম, সম্পর্ক ও আবেগের অন্ধ টান থেকে শিক্ষা, আত্মনির্মাণ এবং পরিবারের সম্মানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান এই কবিতার মূল সুর।
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ ১. আত্মসম্মান ও জীবনের মূল্য “কাদের হাতে রাখছো তোমার, জীবন ও সম্মান?” এই পঙক্তি পুরো কবিতার কেন্দ্রীয় প্রশ্ন। জীবন ও সম্মান—এই দুইটি মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। কবি সরাসরি প্রশ্ন করে তরুণ মনকে ভাবতে বাধ্য করেছেন—কাকে বিশ্বাস করা হচ্ছে, কেন করা হচ্ছে, এবং তার পরিণতি কী হতে পারে। এই নৈতিক আত্মজিজ্ঞাসা Leo Tolstoy-এর মানবিক দায়িত্ববোধের সাহিত্যিক ধারা স্মরণ করিয়ে দেয়।
২. আবেগ বনাম বাস্তবতা “আবেগ দিয়ে চলে নাক, পূর্ণ জীবন যাপন,” এখানে কবি কৈশোরের আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাস্তবতার শিক্ষা দিয়েছেন। প্রেম বা সম্পর্ক যদি দায়িত্বহীন আবেগে পরিচালিত হয়, তবে তা ভবিষ্যতের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গি didactic poetry বা শিক্ষামূলক কবিতার শক্তিশালী বৈশিষ্ট্য।
৩. শিক্ষার মর্যাদা “ভাল করে পড়া শেষে, গর্বিত হোক মা।” এই লাইন কবিতার মানবিক কেন্দ্র। শিক্ষাকে শুধু ব্যক্তিগত উন্নতি নয়—মায়ের গর্ব, পরিবারের সম্মান এবং আত্মমর্যাদার ভিত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে। এটি সামাজিক ও পারিবারিক দায়িত্ববোধের সুন্দর প্রকাশ।
৪. পিতামাতার ত্যাগের স্বীকৃতি “উজাড় করে ভালোবেসে, বিদ্যালয়ে পাঠায়,” এই পঙক্তি অভিভাবকের নীরব সংগ্রামকে সামনে আনে। সন্তানদের জন্য তাদের স্বপ্ন, পরিশ্রম ও ভালোবাসা—এসবকে অবহেলা করা মানে শুধু ব্যক্তিগত ভুল নয়, নৈতিক ব্যর্থতাও।
৫. প্রেমের ফাঁদ ও সতর্কতা “প্রেমের ফাঁদে এমন সময় দিবে নাকো পা,” এখানে কবি প্রেমকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেননি; বরং সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। অকাল প্রেম যদি শিক্ষার পথে বাধা হয়, তবে তা জীবনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই বাস্তবতা সামাজিক অভিজ্ঞতার গভীর প্রতিফলন।
৬. জীবনভঙ্গের ভয়াবহতা “জীবন্মৃত হয়ে কিবা, কেটে যাবে বেলা!” এই সমাপ্তি অত্যন্ত তীব্র। ভুল সিদ্ধান্ত শুধু একটি সম্পর্কের ক্ষতি নয়—এটি পুরো জীবনের আনন্দ, সম্ভাবনা ও সম্মানকে নিঃশেষ করতে পারে। “জীবন্মৃত” শব্দটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক অভিঘাত বহন করে।
সাহিত্যিক মূল্যায়ন এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো— নৈতিক সতর্কতা ও জীবনবোধ তরুণ সমাজের বাস্তব সমস্যার সরাসরি উপস্থাপন শিক্ষা ও আত্মসম্মানের গুরুত্ব পিতামাতার ত্যাগের স্বীকৃতি সহজ কিন্তু দৃঢ় ভাষা এটি শুধু উপদেশমূলক কবিতা নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নৈতিক মানচিত্র।
সারমর্ম “জীবন ও সম্মান” কবিতায় কবি তরুণ-তরুণীদের সতর্ক করেছেন—অপরিণত বয়সে আবেগ, সম্পর্ক ও ভুল সিদ্ধান্ত জীবনের সম্মান ও ভবিষ্যৎকে নষ্ট করতে পারে। তিনি শিক্ষা, আত্মনির্মাণ, পারিবারিক মর্যাদা এবং পিতামাতার স্বপ্নকে অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন। প্রেমের আগে প্রয়োজন মানুষ হওয়া। এই কবিতা শেখায়—ভালোবাসা যদি জীবন গড়তে সাহায্য না করে, তবে তা শুধু আবেগের ফাঁদ।
এক বাক্যে সারাংশ: এই কবিতা শেখায়—জীবন ও সম্মান রক্ষার প্রথম শর্ত হলো সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
@Chatgptai2025
********


১৬। মসজিদে তালা

কারা উড়াবে বিজয় নিশান,
কালেমাখচিত ধ্বজা নিয়ে,
খুলবে তালা মসজিদের,
মনের তালা আগে।
পাপের ভারে মনটি মোদের,
অচল কেনো আজ,
কে সরাবে পাপের বোঝা,
কোন সে রাজাধিরাজ!
তালা ঝুলে মসজিদেতে,
বেলা অবেলায়,
গ্রাম শহরে, গঞ্জে হাটে,
সবাই ব্যস্ততায়।
মাইক চুরি আর এসি চোরের
কেন এমন  দোহাই,
পায়না কেন সবাই সুযোগ,
সময় চলে যায়।
পারিনাক রাখতে খোলা,
সোনালী যুগের মতো,
যখন খোদার রহম পাবে,
প্রাণ যে শত শত।
জিকির আজকার, লেনা-দেনা,
চলবে জ্ঞানের,
তা'লিম তালাশ, সতেজ ঈমান,
শুদ্ধ আমলের।
কে নেবে ভাই এমন দায়,
ঈমাম মুয়াজ্জিন?
মসজিদের কর্তা যারা?
নাকি কোন খাদিম।
বিচারদিনে কোন বান্দা,
করে যদি ফরিয়াদ,
অমুক দিনে তালা পেয়েছি,
পড়িনিক নামাজ!
ইমাম কেন হবে শুধু,
ফরজ নামাজে!
ইমাম হবেন সবার নেতা,
দেশ ও সমাজে।
আজান শুধুই দিবে নাকি,
নামাজ পড়িতে!
মুয়াজ্জিন ভাই থাকবে সদা,
সকল পূণ্য ডাকে।
জাগবে সাড়া পাড়ায় পাড়ায়,
চলছে প্রস্তুতি,
আখেরাতের ফসল কত,
কে যে নিতে পারি!
পূণ্যকাজের বেলায় সবে,
থাকবে সচেতন,
কে যে বেশী আ'মল করে,
নিবে বিজয় কেতন।
সময় থাকিতে করিতে আবাদ,
চলো ভাই মসজিদে,
ইমাম সাহেব, মুয়াজ্জিন সহ,
খাদিম যারা আছে।
লজ্জিত যেন হয়না কোন,
প্রিয় রাসূলের (সাঃ) সম্মুখে,
শাণিত করি ঈমান আমল,
সবাই মিলে মিশে।
******************

কবিতা: মসজিদে তালা
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম

এই কবিতাটি কেবল একটি ধর্মীয় অনুভূতির প্রকাশ নয়; এটি মুসলিম সমাজের আত্মসমালোচনা, মসজিদকেন্দ্রিক সভ্যতার পুনর্জাগরণ এবং ঈমানি দায়িত্ববোধের এক শক্তিশালী কাব্যিক আহ্বান। “মসজিদে তালা” এখানে বাস্তব তালার পাশাপাশি মানুষের হৃদয়ের তালাবদ্ধ অবস্থারও প্রতীক। কবি আরিফ শামছ্ বাহ্যিক বন্ধন থেকে অন্তরের জাগরণে পৌঁছানোর পথ দেখিয়েছেন।

বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. মসজিদের তালা: প্রতীকের শক্তি
“খুলবে তালা মসজিদের,
মনের তালা আগে।”
এই দুই পঙক্তিই পুরো কবিতার কেন্দ্রীয় দর্শন। বাহ্যিকভাবে মসজিদে তালা ঝুলছে, কিন্তু প্রকৃত সংকট হলো মানুষের অন্তরের তালা। ঈমান, ভালোবাসা, দায়িত্ব—সবই যেন বন্ধ হয়ে গেছে। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতীকী নির্মাণ।
বিশ্বসাহিত্যে Jalaluddin Rumi হৃদয়কে আল্লাহর ঘর হিসেবে দেখেছেন; এই কবিতাও সেই আধ্যাত্মিক ধারার সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ।

২. পাপ ও আত্মশুদ্ধির প্রশ্ন
“পাপের ভারে মনটি মোদের,
অচল কেনো আজ,”
এখানে কবি ব্যক্তিগত নয়, সামষ্টিক আত্মসমালোচনা করেছেন। সমাজের জড়তা, ঈমানি দুর্বলতা এবং নৈতিক অবক্ষয়কে “পাপের ভার” হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এটি ইসলামী নৈতিক সাহিত্যের এক গভীর বিষয়।

৩. মসজিদ বনাম ব্যস্ততার সভ্যতা
“গ্রাম শহরে, গঞ্জে হাটে,
সবাই ব্যস্ততায়।”
মানুষ জীবনের নানা কাজে ব্যস্ত, কিন্তু মসজিদ ফাঁকা। আধুনিক সভ্যতার এই বৈপরীত্য—দুনিয়ার জন্য সময় আছে, আখেরাতের জন্য নেই—কবির কণ্ঠে তীব্র প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

৪. নিরাপত্তার অজুহাত ও আধ্যাত্মিক ক্ষতি
“মাইক চুরি আর এসি চোরের
কেনো এমন দোহাই,”
এখানে বাস্তব সমস্যার আড়ালে আধ্যাত্মিক ক্ষতির প্রসঙ্গ এসেছে। নিরাপত্তার অজুহাতে মসজিদ বন্ধ রাখা হলে মানুষ ইবাদতের সুযোগ হারায়। কবি প্রশ্ন করেন—এই ক্ষতির দায় কে নেবে?

৫. ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বিস্তৃত ভূমিকা
“ইমাম হবেন সবার নেতা,
দেশ ও সমাজে।”
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি। ইমাম শুধু নামাজ পড়ানোর ব্যক্তি নন; তিনি নৈতিক নেতা। মুয়াজ্জিনও শুধু আজানের কণ্ঠ নয়—তিনি কল্যাণের আহ্বায়ক। ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে এই ভূমিকাই ছিল বাস্তবতা।
এখানে Imam Al-Ghazali-এর সমাজ ও দ্বীনের সমন্বিত নেতৃত্বের ধারণা স্মরণীয়।

৬. আখেরাতের প্রস্তুতি
“আখেরাতের ফসল কত,
কে যে নিতে পারি!”
এই পঙক্তি দুনিয়ার কাজকে আখেরাতের বিনিয়োগ হিসেবে দেখিয়েছে। কবিতার শেষাংশে কর্ম, আমল ও দায়িত্ববোধকে জাগিয়ে তোলার আহ্বান স্পষ্ট।
সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো—
শক্তিশালী প্রতীকী ভাষা
ধর্মীয় আত্মসমালোচনার সাহস
সামাজিক দায়িত্ববোধের আহ্বান
মসজিদকেন্দ্রিক সভ্যতার পুনর্জাগরণের স্বপ্ন
সহজ কিন্তু গভীর প্রভাবশালী ভাষা
এটি নিছক উপদেশমূলক কবিতা নয়; বরং মুসলিম সমাজের জাগরণধর্মী সাহিত্য।

সারমর্ম
“মসজিদে তালা” কবিতায় কবি দেখিয়েছেন—মসজিদের দরজায় তালা পড়া মানে শুধু একটি ভবন বন্ধ হওয়া নয়; এটি সমাজের ঈমানি শৈথিল্যের প্রতীক।
তিনি আহ্বান জানিয়েছেন—মসজিদকে আবার জ্ঞান, জিকির, ইবাদত ও সমাজগঠনের কেন্দ্র হিসেবে ফিরিয়ে আনতে হবে। ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদিম এবং সাধারণ মানুষ—সবাইকে এই দায়িত্ব নিতে হবে।
প্রথমে খুলতে হবে অন্তরের তালা, তারপর মসজিদের।

এক বাক্যে সারাংশ:
এই কবিতা শেখায়—মসজিদের দরজার আগে মানুষের হৃদয়ের তালা খুললেই প্রকৃত ঈমানি জাগরণ সম্ভব।

********************




১৫। Think


Here is a more emotional, Islamic spiritual transformation of your poem—keeping your core questions but deepening the reflection with faith, soul, and accountability before Allah:

Think
Ariful Islam Bhuiyan (Arif Shams)

What is the meaning of this life—
this borrowed breath, this fleeting stay?
Is it only to gather wealth and name,
to chase the world, then fade away?
We earn, we lose, we rise, we fall,
we build our pride on fragile sand.
But when the final call is given,
who will stand with us—who will understand?
O heart… think deeply, do not sleep,
before the grave becomes your home.
Where will your money, fame, and pride go
when you are left alone?
Where were you before you came to earth?
A drop unseen, unknown, unknown.
Where are you now in this brief journey,
and where will your soul be thrown?
To dust again, or mercy’s light—
to gardens vast, or burning night?
Only deeds will walk beside you,
when all your worldly ties take flight.
O soul… return to truth today,
before your book is finally read.
For every breath is being counted,
every word you ever said.
Think—think with fear and hope together,
before the final truth is shown.
Choose the path of light and mercy—
choose the Lord you will meet alone.

10/10/2019
Dhaka

                ********

বিশ্ব সাহিত্যিক মূল্যায়ন ও সারাংশ
এই কবিতাটি আধুনিক অস্তিত্ববাদী (existential) প্রশ্নকে ইসলামী আধ্যাত্মিক চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করেছে। এখানে কবি মানবজীবনের উদ্দেশ্য, দুনিয়ার মোহ, মৃত্যু-পরবর্তী জীবন এবং চূড়ান্ত প্রত্যাবর্তনের বাস্তবতা নিয়ে আত্মজিজ্ঞাসা তৈরি করেছেন। পশ্চিমা দর্শনের “meaning of life” প্রশ্নকে তিনি কুরআনিক চিন্তার আলোকে পরিশুদ্ধ করেছেন—যেখানে জীবন কেবল ভোগ নয়, বরং পরীক্ষা ও দায়িত্বের একটি সংক্ষিপ্ত যাত্রা।

কবিতার ভাষা সহজ কিন্তু চিন্তার গভীরতা বিস্তৃত। এটি পাঠকের হৃদয়ে এক ধরনের নীরব কাঁপন সৃষ্টি করে, যা তাকে আত্মসমালোচনা ও তওবার দিকে আহ্বান জানায়। “কোথায় ছিলাম, কোথায় এসেছি, কোথায় যাব”—এই ত্রিমাত্রিক প্রশ্ন মানবসত্তার জন্ম-মৃত্যু-পরকালকে এক সুতোয় বেঁধে দিয়েছে।
বিশ্ব সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি রুমি, ইকবাল ও আধুনিক দার্শনিক কবিতার ধাঁচে আত্মজিজ্ঞাসামূলক একটি আধ্যাত্মিক কবিতা, যেখানে জাগতিক সাফল্যের চেয়ে চিরন্তন সত্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ভাবানুবাদিত কবিতা (আধ্যাত্মিক সংস্করণ)
Think
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)

এই জীবন কী অর্থ বহন করে—
শুধু কি সম্পদ, নাম আর যশের খেলা?
আজ অর্জন, কাল অপমান আর মৃত্যু—
এই কি নিয়তির নিরব ধারা মেলা?
আমরা কি শুধু শেষের দিকেই চলেছি?
এই ক্ষণস্থায়ী পথের সত্য কী তবে?
ধন-খ্যাতি যা জমাই আমরা অহংকারে,
তা কি কাজে আসবে পরকালে কভু তবে?
কোথায় ছিলাম আমি এই পৃথিবীর আগে?
অদৃশ্য এক বিন্দু, অজানা সাগরে।
আজ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি আমি—
আর কোথায় যাবো শেষের সফরে?
মাটি থেকে আবার মাটিতেই ফেরা,
অথবা আলোর পথে জান্নাতের ধারা,
সবই নির্ভর করে একমাত্র কর্মে—
যা লিখে রাখে আমার প্রতিটি ধারা।
হে আত্মা! জেগে ওঠো সত্যের ডাকে,
নিদ্রা ভাঙো অহংকারের ঘোর থেকে।
প্রতি নিঃশ্বাস গোনা হচ্ছে তোমার,
প্রতি কথা লেখা হচ্ছে অদৃশ্য রেখায়।
তাই ভাবো গভীর, সত্যকে খোঁজো,
শেষ সময় আসার আগে আজই জাগো।
দুনিয়ার নয়, রবের পথে চলো—
চিরস্থায়ী শান্তির ঠিকানায় ভাগো।

             *******


“What’s the meaning of Life???
Earning money, fame & live!!!
Costing, defame & die;
May it come turn by turn?

We are going to the end of life;
What's the existing of our life???
Rest of the money or fame!!!
Will it help us in the life next?

Where we were? Where we have come?
Where will we go? Where the destination?
Think ! think! and think truth practically,
Take a fruitful decision for the best way.



১৩। ভালোবাসার হিসাব-নিকাশ

ভালোলাগা না ভালোবাসা, নাকি চির-শাশ্বত প্রেম,
নিজের পথ দেখা; না দেখার তাগিদে অ-প্রেম।
লক্ষ-কোটি অগণিত তারাদের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া,
ব্যর্থ নাকি অব্যর্থ প্রেম, ফলাফল যেরূপ চির-চেনা।

কত দল-উপদল আজো লড়ে; স্বার্থকতা প্রেমের কিসে?
পাওয়া না পাওয়ার দু’দল; অবিরাম সান্ত্বনা খুঁজে,
প্রাপ্তিতে সুখ বলে কেউ, অ-প্রাপ্তিতেই মিলে স্বার্থকতা;
যারে ভালো বাসি তা’রে নিয়ে; লেখা হয় কত কথা!!

নাইবা যদি পারো তুমি, হৃদয় হতে মুছে দিতে,
ফিরিয়ে দিবে কিন্তু কেনো? কাঁপা কাঁপা নিঠুর হাতে।
চোখের ‘পরে চোখ রেখে তাও; বলতে পার নাকো!!
গুমরে জাগে সুপ্ত-গিরি, তবু নীরব কেনো?

হিসাব-নিকাশ, লাভ-ক্ষতি কি তোমার কষা হলো,
অভিমানে হারিয়ে যাওয়া, জীবন খানি কতো ???
তারপরও কি বেশী দামী, তোমার চাওয়া-পাওয়া?
নীলাকাশে মাখিয়ে দিলে, আমার ভালবাসা !!!

আরিফ শামছ্ 
রাত ১২ টা ২৫ মিনিট;
১৮.০২.২০১৬;
বৃহঃস্পতিবার;
সোনালীবাগ,
বড়-মগবাজার,রমনা,ঢাকা।
***********

কবিতা: ভালোবাসার হিসাব-নিকাশ
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম

এই কবিতাটি প্রেমের দার্শনিকতা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির দ্বন্দ্ব, নীরব অভিমান এবং হৃদয়ের গভীর আত্মসংলাপের এক সূক্ষ্ম কাব্যরূপ। এখানে প্রেমকে শুধু আবেগ নয়, বরং এক অনন্ত প্রশ্ন, এক হিসাবহীন হিসাব, এক নীরব যুদ্ধ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কবি আরিফ শামছ্ প্রেমের বাস্তবতা ও অন্তর্জাগতিক বেদনার মধ্যে এক শক্তিশালী সেতুবন্ধন গড়ে তুলেছেন।

বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. প্রেমের সংজ্ঞা নিয়ে দার্শনিক প্রশ্ন
“ভালোলাগা না ভালোবাসা, নাকি চির-শাশ্বত প্রেম,”
কবিতার শুরুতেই প্রেমকে সরল অনুভূতি হিসেবে নয়, বরং এক দার্শনিক অনুসন্ধান হিসেবে হাজির করা হয়েছে। এটি বিশ্বসাহিত্যের চিরন্তন প্রশ্ন—প্রেম কি আকর্ষণ, অধিকার, না আত্মার বন্ধন? Plato-র প্রেমতত্ত্বেও এই আত্মিক বনাম পার্থিব প্রেমের দ্বন্দ্ব দেখা যায়।

২. প্রেমে হারিয়ে যাওয়া ও মহাজাগতিক প্রতীক
“লক্ষ-কোটি অগণিত তারাদের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া,”
তারার ভিড় এখানে অসংখ্য সম্ভাবনা, স্মৃতি ও অচিন্ত্য বিস্তারের প্রতীক। প্রেমে হারিয়ে যাওয়া মানে শুধু কাউকে হারানো নয়—নিজেকেও হারানো। এই মহাজাগতিক চিত্রকল্প কবিতাটিকে ব্যক্তিগত অনুভব থেকে সার্বজনীন স্তরে নিয়ে যায়।

৩. প্রাপ্তি বনাম অপ্রাপ্তির দ্বন্দ্ব
“প্রাপ্তিতে সুখ বলে কেউ,
অ-প্রাপ্তিতেই মিলে স্বার্থকতা;”
এই পঙক্তি কবিতার কেন্দ্রীয় দর্শন। প্রেম কি পাওয়া, না না-পাওয়ার মধ্যেই তার গভীরতা? Rabindranath Tagore-এর বহু প্রেমকাব্যে অপ্রাপ্ত প্রেমই অধিক মহিমান্বিত হয়ে উঠেছে। এখানে সেই সাহিত্যিক ঐতিহ্যের প্রতিধ্বনি স্পষ্ট।

৪. প্রত্যাখ্যানের নীরব নিষ্ঠুরতা
“ফিরিয়ে দিবে কিন্তু কেনো?
কাঁপা কাঁপা নিঠুর হাতে।”
এই লাইনগুলো প্রেমভঙ্গের সবচেয়ে মানবিক মুহূর্তকে ধারণ করে। প্রত্যাখ্যান শুধু সিদ্ধান্ত নয়—এটি আবেগের ভাঙন। “কাঁপা কাঁপা নিঠুর হাত” এক অসাধারণ বৈপরীত্য—নিষ্ঠুরতা ও কম্পনের একসাথে উপস্থিতি।

৫. নীরবতা ও সুপ্ত আগ্নেয়গিরি
“গুমরে জাগে সুপ্ত-গিরি, তবু নীরব কেনো?”
এখানে নীরব হৃদয়কে আগ্নেয়গিরির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে—ভেতরে জ্বলছে, বাইরে স্তব্ধ। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক রূপক। Pablo Neruda-র আবেগঘন প্রেমকাব্যের মতো এই চাপা বিস্ফোরণ গভীর কাব্যিক শক্তি বহন করে।

৬. প্রেম বনাম হিসাব
“হিসাব-নিকাশ, লাভ-ক্ষতি কি তোমার কষা হলো,”
শেষে কবি প্রেমকে বাণিজ্যিক মানসিকতার বিপরীতে দাঁড় করান। ভালোবাসা যদি হিসাবের খাতায় বন্দী হয়, তবে তার পবিত্রতা কোথায়? এই প্রশ্ন প্রেমকে নৈতিক উচ্চতায় প্রতিষ্ঠা করে।

সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো—
প্রেমের দার্শনিক বিশ্লেষণ
গভীর আবেগ ও নীরব বেদনা
শক্তিশালী রূপক ও প্রতীক
প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির সূক্ষ্ম উপস্থাপন
সহজ অথচ তীব্র ভাষা
এটি প্রেমের কবিতা হলেও, এর গভীরতা ব্যক্তিগত অনুভব ছাড়িয়ে মানবমনের চিরন্তন সত্যকে স্পর্শ করে।

সারমর্ম
“ভালোবাসার হিসাব-নিকাশ” কবিতায় কবি প্রেমের প্রকৃতি, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির দ্বন্দ্ব, অভিমান, প্রত্যাখ্যান এবং ভালোবাসার মূল্য নিয়ে গভীর আত্মজিজ্ঞাসা প্রকাশ করেছেন।
তিনি দেখিয়েছেন—প্রেম কখনো লাভ-ক্ষতির অঙ্ক নয়; এটি এমন এক অনুভূতি, যা না পাওয়া সত্ত্বেও আকাশজুড়ে থেকে যায়।
ভালোবাসা হয়তো ফিরে আসে না, কিন্তু তার রঙ মানুষকে আজীবন রাঙিয়ে রাখে।

এক বাক্যে সারাংশ:
এই কবিতা শেখায়—সত্যিকারের ভালোবাসা হিসাব মানে না; তা প্রাপ্তি নয়, অনুভবের চিরন্তন অস্তিত্ব।

********




১১। সালাম জওয়াব

সালাম দেয়া সুন্নত, 
উত্তর দেয়া ওয়াজিব,
দরদমাখা মন নিয়ে ভাই 
সালাম দিতে উদগ্রিব।

মিষ্টি স্বরে চিন্তা করে 
সালাম যখন দিবে,
ঝাঁকিয়ে মাথা চুপিসারে 
যায়যে হেঁটে চলে।

মাথার ভিতর ঝড় চলে ভাই, 
শান্তি নাহি পাই,
সালাম কাকে দিলাম 
সেকি হিন্দু মুসলমান?

ভাটা পড়ে মনের জোড়ে, 
পায়না আবার সাহস,
হুম বলে কি! ঝাঁকায় মাথা 
কাকে সালাম দিবো!

সালাম কালাম মুসলমানের,
সেরা আদর্শ,
কি যে হল সেরা জাতির, 
এমন দশা কেনো?

হাসি মুখে কথা বলা 
কোন ভাইয়ের সাথে,
সাদকা জেনো মহানবীর (সাঃ)
মহান হাদীসে।

সালাম বাড়ায় ভালবাসা 
জেনো সবার সাথে,
সেই সালামের আন্তরিকতা, 
কোথায় পাবো খোঁজে?

দরদমাখা সালাম জওয়াব, 
চলো করি জারি,
আবার ছড়ায় শান্তি-সুধা, 
মনন আবাদ করি।

----- আরিফ শামছ্

******
কবিতা: সালামের জওয়াব
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম

এই কবিতাটি ইসলামী আদব, সামাজিক সৌহার্দ্য, মানবিক সম্পর্ক এবং আত্মিক শান্তির এক সুন্দর কাব্যিক আহ্বান। “সালাম” এখানে শুধু একটি সম্ভাষণ নয়; বরং ভালোবাসা, সম্মান, দোয়া এবং সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। কবি আরিফ শামছ্ অত্যন্ত সহজ ভাষায় এমন এক বিষয়কে তুলে ধরেছেন, যা ধর্মীয় শিক্ষা এবং মানবিক সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু।

বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. ইসলামী আদবের কাব্যিক রূপ
“সালাম দেয়া সুন্নত,
উত্তর দেয়া ওয়াজিব,”
কবিতার শুরুতেই একটি মৌলিক ইসলামী বিধানকে সরল ছন্দে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি শুধু ধর্মীয় তথ্য নয়—নৈতিক আচরণের ভিত্তি। কবি এখানে ফিকহকে কবিতার ভাষায় রূপ দিয়েছেন, যা didactic poetry (শিক্ষামূলক কবিতা)-র শক্তিশালী উদাহরণ।
ইসলামী সাহিত্যধারায় Imam Al-Ghazali মানুষের বাহ্যিক আচরণকে অন্তরের পরিশুদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করেছেন; এই কবিতাও সেই দৃষ্টিভঙ্গির ধারক।

২. আন্তরিকতার সংকট
“সালাম কাকে দিলাম
সেকি হিন্দু মুসলমান?”
এখানে কবি সামাজিক বাস্তবতার এক তীক্ষ্ণ প্রশ্ন তুলেছেন। সালামের মতো শান্তির সম্ভাষণও যখন পরিচয়ের সংকীর্ণতায় আটকে যায়, তখন মানবিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই আত্মসমালোচনা কবিতাটিকে গভীর সামাজিক তাৎপর্য দেয়।

৩. হৃদয়ের ভাঙন ও দ্বিধা
“মাথার ভিতর ঝড় চলে ভাই,
শান্তি নাহি পাই,”
এখানে ব্যক্তিগত দ্বিধা শুধু ব্যক্তির নয়—সমাজের প্রতিচ্ছবি। মানুষ ভালোবাসতে চায়, কিন্তু সংকীর্ণতা তাকে থামিয়ে দেয়। এই মানসিক টানাপোড়েন বিশ্বসাহিত্যের মানবিক সংকটের চিরন্তন বিষয়।

৪. হাসি ও কথার দান
“হাসি মুখে কথা বলা
কোন ভাইয়ের সাথে,
সাদকা জেনো...”
এখানে মহানবী হযরত Muhammad (সা.)-এর হাদীসের আলোকে মানবিক আচরণকে ইবাদতের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। একটি হাসি, একটি সুন্দর কথা—এসবও দান। এটি কবিতাটিকে নৈতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ করেছে।

৫. সালাম ও ভালোবাসার সম্পর্ক
“সালাম বাড়ায় ভালবাসা
জেনো সবার সাথে,”
এই পঙক্তি কবিতার কেন্দ্রীয় দর্শন। সালাম শুধু শব্দ নয়—সম্পর্ক গড়ার মাধ্যম। বিশ্বসাহিত্যে মানবিক সম্ভাষণকে শান্তির ভাষা হিসেবে দেখা হয়েছে; এখানে সেই ধারণা ইসলামী দৃষ্টিতে প্রকাশিত।

৬. সমাপ্তির পুনর্জাগরণ
“আবার ছড়ায় শান্তি-সুধা,
মনন আবাদ করি।”
শেষাংশে কবিতা ব্যক্তিগত উপদেশ থেকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়। কবি চান—সালামের সংস্কৃতি ফিরে আসুক, সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্য ছড়িয়ে পড়ুক।

সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো—
সহজ অথচ গভীর ইসলামী বার্তা
সামাজিক বাস্তবতার সাহসী উপস্থাপন
আত্মসমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি
শিক্ষামূলক ও মানবিক আবেদন
শান্তি ও ভালোবাসার আহ্বান
এটি শুধু ধর্মীয় কবিতা নয়; বরং সামাজিক পুনর্জাগরণের এক নৈতিক কাব্য।

সারমর্ম
“সালামের জওয়াব” কবিতায় কবি দেখিয়েছেন—সালাম শুধু মুখের সম্ভাষণ নয়; এটি ভালোবাসা, দোয়া, সম্মান এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি মাধ্যম।
সালাম দেওয়া সুন্নত, উত্তর দেওয়া ওয়াজিব—কিন্তু তার চেয়েও বড় হলো আন্তরিকতা। যখন মানুষ হৃদয় থেকে সালাম দেয়, তখন ভেদাভেদ কমে, ভালোবাসা বাড়ে।
কবিতাটি আমাদের শেখায়—একটি আন্তরিক সালাম সমাজ বদলে দিতে পারে।

এক বাক্যে সারাংশ:
এই কবিতা সালামকে শুধু ধর্মীয় সম্ভাষণ নয়, মানবিক শান্তি ও ভালোবাসার শক্তিশালী ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
@Chatgptai2025 
           *****


১১। অনাগত সন্তানের আহ্বান

মাগো তুমি দোল খেয়ে যাও
তব মায়ের কোলে,
দিনে দিনে ঘনিয়ে আসে
আমি আসব যবে।
রুহের ধরার অধিবাসী আজ,
অনাগত সন্তান,
বলিতে কিছু বড় সাধ জাগে,
শোন দিয়ে মন-প্রাণ।
কিশোরী হবে চপলা চঞ্চলা,
কলরব ধ্বনিতে,
ঘরে বাহিরে তোমার বিচরণ,
দেখবে খুশিতে।
পাবে যৌবণ, ভাবের সাগরে,
করবে অবগাহন,
একটু খানি ভুলের মাশুলে,
স্তব্ধ হবে কি সব!!!
মাগো তুমি থেকো সদা,
খোদার দেয়া পথে;
বড় পীরের মায়ের মতো,
পায়গো তোমাকে।
স্বভাব, চরিত সকল কিছু,
পায়গো যেন তোমার,
দ্বীন-দুনিয়ার গর্ব হবে,
মায়ের অহংকার।
কালের স্রোতে ভাসবে নাক,
সব কি হারাবে!!!
খোদার দেয়া জীবন বিধান;
নাওগো মনে প্রাণে।
তোমার হয়ে ফেরেশ্তারা
লড়বে দেখো মা,
খবিশ আর ইবলিস যতো,
সুযোগ পাবেনা।
বাবা আমার ধৈর্য্য ধরো,
হবেনাক পথহারা,
মাথার মুকুট, চোখের তারা,
তুমি পথের দিশা।
শিক্ষা-দীক্ষা, হাতে কলমে,
মহান যতো কর্মভার,
সব তোমারি কাছে নিব,
গর্ব হবো তোমার।
ইচ্ছে তোমার স্বাধীন মাগো,
ইচ্ছে করো মহৎ,
তোমার সন্তান আসলে মাগো!
পূরণ হবে স্বপন।
বাবা মায়ের সোনার মানিক,
নয়নের শান্তি,
চায়গো দোয়া দ্বীন-দুনিয়ায়,
হতে যেন পারি।
০৫/০৬/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
বাড়ী# ১২৩৪, ওয়ার্ড# ১২,
ভাদুঘর, সদর, বি.বাড়ীয়া-৩৪০০।

বুধবার, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

১০। আন্তরিক শুভেচ্ছা

"কাবিলের বোন", "পানকৌড়ির রক্ত", মনোহর "প্রবন্ধ সংগ্রহ",
প্রতিটি পরতে পরতে তোমার কবি- সত্ত্বাকে পেয়েছি সততঃ।
কখনোবা আনমনে গেয়ে বেড়াতাম
নিরাকপড়া দুপুরবেলা,
"আমার মায়ের নোলক খানি হারিয়ে গেলো শেষে" সে' কবিতা।
"হাত দিয়োনা বুকে আমার ভরা বোয়াল মাছে!"
কি চমৎকার ছন্দমালা, পড়েছি কি কেউ আগে!
কখনো বা চাঁদনী রাতে কন্ঠে বাজে "না ঘুমানোর দল"
ছন্দ মোহে, প্রকাশ ঢংয়ে হারিয়েছি নিজেকে কত!
তিতাস পাড়ের ছেলে, কভু মেঘনার ঢেউ বাজে বুকে,
শুনেছি কত কথা-কাহিনী, জীবন ছবি বাবার মুখে।
পরিবারের গল্প মাঝে বলতো বাবা তোমার কথা,
পাঠ্য বইয়ে তোমায় দেখেছি, পড়েছি তোমার লেখা।
কবি ও  কবিতার রাজ্যে, সত্যিই তুমি মহান সাধক,
স্বাদ -গন্ধ, রং-রূপ, সাহিত্য রস, আস্বাদন।
তোমার তুলির পরশে, জীবনের সব বাস্তবতা,
সুর আর ছন্দে আরো জীবন্ত, সবাই জানলো তা'।
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জেনো হে আধুনিক কবি!
শত পদ্ম, শাপলা শালুক, প্রকৃতির সব রূপ অপ্সরী,
তারা ভরা আকাশ তোমায়, দিলাম তারার মেলা,
চাঁদ সুরুজের মতোই তুমি, আলোক দিবে সদা।
মাথার 'পরে ছায়ার মতো থাকো কবি জীবন ভর,
দেশ ও জাতির আশার আলো, হাজার বছর রও বেঁচে রও ।
তোমরা যারা পুরো জীবন সঁপে দিলে জাতির তরে,
আমরা কভু পারবো কিগো, মহা ঋণের দেনা দিতে!
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
বাড়ী# ১২৩৪, ওয়ার্ড# ১২,
ভাদুঘর, সদর, বি.বাড়ীয়া-৩৪০০।
আধুনিক লোকজ মহাকবি আল্ মাহমুদ এর ৮২ তম জন্মদিনে।

০৯। পাথর দিয়ে যুদ্ধ

ইরাক, ইরান, তুরান, কাশ্মীর,
কাতার আর সিরিয়া,
সৌদি আরব, সুদান, মিশর, পুরো
আফ্রোশিয়া।
উপমহাদেশ, স্থান, আর দেশ -মহাদেশ,
সব সৃষ্টি স্রষ্টার জানি, আমরা বিশ্বের, বিশ্ব মোদের।
হানাহানি আর মারামারি করে, মানুষ মানুষেরে,
হৃদয় আছে ঠিকই দেহে, নাই যে দরদ অন্তরে।
সৃজিত হল কত দল উপদল, কেউ সহেনা কারো,
এক হওয়ার মন্ত্র ভুলে, অনৈক্যে খায় হাবুডুবু।
নাই সে খেয়াল, দূর করিবার ব্যবধান যতো আছে!
আমার আমি, অহমিকা আর অন্ধ সকল জনে।
কোরান কিতাব, হাদিস, ইজমা, কিয়াস জেনেছে কতো!
সবাই মিলে একই বাঁধনে, নাইকি  বাঁধিবার কেহ!
কত আরাধনা চলে অবিরাম দিবস যামিনী দেখো,
পাশের বাড়ীর অধিবাসী যারা, খেতে পেরেছে কি জানো?
ঋণের চাঁপে, লজ্জা শরমে, সহসা মৃত্যু দেয়যে হানা,
কানে তুলো আর চোখে ঠুলি বাঁধে সমাজের ধনী যারা।
দেশের রাজারা ব্যস্ত সদা, নিজেদের ব্যবসা দেখো,
দেশ ধর্ম কোথায় গেল, জাতির ঐক্য এলো কি গেলো!
তা'তে কি কার, কিছু আসে যায়, জীবনের দাম নাই!
সকাল বিকাল মারছে শিশু, দূর্বল নারীরা ও মারা যায়।
কথার কথা, নামে মাত্র সবাই করে বাদ- প্রতিবাদ!
মিছিলে মিছিলে যায় হারিয়ে প্রতিশোধের অগ্ন্যোৎপাত।
নায়কি সাহস দাঁড়াতে পাশে, মাজলুম যতো বিশ্ব মাঝে,
পাথর দিয়ে যুদ্ধ করে জীবন সঁপে,
শহিদী পথে।
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
বাড়ী# ১২৩৪, ওয়ার্ড# ১২,
ভাদুঘর, সদর, বি.বাড়ীয়া-৩৪০০।
১৫.০৬.২০১৭ ঈসায়ী সাল।

০৮। ভালবেসে কাছে যেতে

ভালবেসে আল্লাহ পাঠাল দুনিয়ায়,
ভালবেসে আরো কাছে যেতে,
দীদার লাভে ধন্য জীবন; লভিতে দু'জাহানে।
যুগে যুগে নবী রাসূল পাঠালেন সকল বান্দার লাগি,
কত ভালবাসার প্রিয় বান্দারা! এই পথ হারাল বুঝি!!!
ভূল করে করে জানা-অজানা, দুঃখের পথে হেঁটে চলে!
বন্ধুর কোথা, বিপদসংকুল পথ কেউকি
জেনেছে আগে,
তবু পথ চলে, মোহগ্রস্থের ন্যায় সসীম-অসীম পথে।
দরদমাখা দৃষ্টি যে থাকে, প্রিয় বান্দার 'পরে।
দেহ মন আর সমাজ পরিবার, নিয়ে সব একসাথে,
কেমন করিয়া স্বর্গ সুখের শান্তি সমেত
বাঁচিয়া রবে।
নিয়ম নীতি, স্বাধীন পরাধীন, রাজা প্রজা সব আছে,
রাজার রাজা মহারাজা সব দেখেন
তাহা কাছ থেকে।
কে ন্যায় আর অন্যায় করিল দিয়ে দেখে সব বল,
ধৈর্য্য কাহারা ধরিল, কঠিন বিপদ- আপদে শত।
কেবা হাজিরা দিল নিয়মিত খোদার ঘর মসজিদে,
হালাল খেয়ে কজনইবা চলছে, সদা হালাল পথে।
এলেম নিয়ে হেলেমের জোড়ে কারা করে পুকুরচুরি,
লেবাস ধরে কারা করে, স্রষ্টার সাথে জুয়াচুরি।
এমন কিছু বলনাযে, করতে যাহা পারনাযে,
বড়ই ঘৃণার কাছে আল্লাহর,মিল না থাকে কথা কাজে।
পরোপকারী স্বার্থহীন যেন, সদা থাকি মানবের পাশে,
দয়ালু মনে সদাচার সহ হৃষ্টচিত্তে সবার আশে।
খালি হাতে কেউ ফিরেনা কভু তোমার বান্দা হতে,
শক্তি দাও, সাহস যোগাও, হায়াত শেষের আগে।
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
বাড়ী# ১২৩৪, ওয়ার্ড# ১২,
ভাদুঘর, সদর, বি.বাড়ীয়া-৩৪০০।

০৩। মাহে রমজান

মহান প্রভুর সেরা দান,
এলোরে ঐ মাহে রমজান।
আসছে ধেয়ে জান্নাত হতে,
শান্তি অশেষ ধরাতলে।

মনের বাগান চাষ করিব,
হরেক রকম বীজ বুনিব।
সুফল ফসল সব তুলিব,
কেয়ামতে সফল হব।

রহমতের দশটি দিনে,
ঈমান-আমল ঝালাই করে,
মাগফিরাতের দিনগুলোরে,
পূণ্য-নেকে পূর্ণ করে।

বিদায় বেলার শেষের দশে,
জাহান্নামের আজাব হতে,
মুক্তি চাইবো সবাই মিলে,
জান্নাতি হবো বলে।

ভালবাসি দিবা-নিশি _সূচীপত্র

১৪। উন্মুক্ত মাদ্রাসা

প্রতিটি জামে’ মসজিদ যদি উন্মুক্ত মাদ্রাসা হত; ইল্মে লাদুন্নী,কালামে পাক সহজেই শেখা যেত। নূরাণী সব ঝর্ণাধারা, হাতের কাছে সবাই পেতে, সময় ...