সোমবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৫

১২। দাওয়াত



















ছায়া ঘেরা মায়ায় ভরা নজরকারা গ্রামে;
কেউ কি যাবে;শান্তি পেতে দেহ-মন জোরে?
পুবের বিলে শাপলা, শালুক,ছবির মত নদী;
চলছে বয়ে নিরবধি প্রানের তিতাস নদী।


বুকের উপর ট্রেন চলে ভাই সকাল সন্ধ্যা রাতে;
ঢাকা থেকে সিলেট কিংবা ফেনী চট্রগ্রামে;
নীরবতার মান ভাঙ্গিয়া বাজায় খুশির সুর;
মায়ের মতো গ্রামটি যেন আবেগে-আপ্লুত।









কুরুলিয়ার খালটি পাবে গ্রামের উত্তরে;
মিষ্টি আলুর নৌকা কভু বাঁধা সারে সারে।
পীচঢালা সে রাজপথ; মাথার উপর দিয়ে,
দিবা-নিশি চলছে বাহন,যাত্রী বহন করে ।








ঘুমিয়ে আছে পীর-আওলিয়া পরম সোহাগে,
দ্বীনের দাঈ ব্যস্ত সদা সবার সেবার তরে।
পুণ্যকাজে ত্রস্ত পদে কেউ চলে ভাই মসজিদে;
মাদ্রাসাতে কোরান-কিতাব পড়ছে দলে-দলে।


বাহাদুরের ঘর বলে কেউ; কেউবা ভাদুঘর,
পুবের কালে গ্রামের মাঝে ছিল দুটি গর;
গর থেকে হোক; আর ঘর থেকে হউক নামটি ভাদুঘর;
রয়লো দাওয়াত সবার তরে; সারা জনম ভর ।


২৭.০৯.২০১৫
রাত ০৮ টা ৩০
আরিফ শামছ
আশা টাওয়ার,
শ্যামলী, ঢাকা।  
**********

কবিতা: দাওয়াত
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম
এই কবিতাটি গ্রামবাংলার সৌন্দর্য, স্মৃতি, আধ্যাত্মিকতা এবং আত্মপরিচয়ের এক আন্তরিক কাব্যিক আমন্ত্রণ। “দাওয়াত” শুধু একটি গ্রামে যাওয়ার আহ্বান নয়; এটি শেকড়ে ফিরে যাওয়ার ডাক, মাটির গন্ধে শান্তি খোঁজার আকুলতা, এবং লোকজ জীবনের নান্দনিক পুনরাবিষ্কার। কবি আরিফ শামছ্ তাঁর জন্মভূমি ভাদুঘরকে কেন্দ্র করে এক জীবন্ত লোকজ মহাকাব্যের ক্ষুদ্র রূপ নির্মাণ করেছেন।
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. গ্রাম: শান্তির প্রতীক
“ছায়া ঘেরা মায়ায় ভরা নজরকারা গ্রামে;
কেউ কি যাবে; শান্তি পেতে...”
কবিতার শুরুতেই গ্রামকে শান্তি, আশ্রয় এবং মানসিক প্রশান্তির কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি আধুনিক নগরজীবনের বিপরীতে প্রকৃতি ও মানবিক সম্পর্কের এক বিকল্প জগৎ। বিশ্বসাহিত্যে William Wordsworth যেমন প্রকৃতির মাঝে আত্মার শান্তি খুঁজেছেন, তেমনি এখানে গ্রাম মানে হৃদয়ের পুনর্জন্ম।
২. নদী ও প্রকৃতির লোকজ নান্দনিকতা
“পুবের বিলে শাপলা, শালুক, ছবির মত নদী;
চলছে বয়ে... তিতাস নদী।”
নদী এখানে শুধু ভৌগোলিক উপাদান নয়—এটি প্রাণ, স্মৃতি ও পরিচয়ের প্রতীক। তিতাস নদীর উল্লেখ বাংলা লোকজ সাহিত্যকে গভীরভাবে স্মরণ করায়। Adwaita Mallabarman-এর তিতাস একটি নদীর নাম এর আবহও এখানে অনুরণিত।
৩. আধুনিকতা ও লোকজতার সহাবস্থান
“বুকের উপর ট্রেন চলে ভাই সকাল সন্ধ্যা রাতে;”
গ্রামের বুকের ওপর ট্রেন চলা একটি অসাধারণ চিত্রকল্প। এখানে আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা এবং লোকজ জীবনের সহাবস্থান ফুটে উঠেছে। নীরবতার মাঝে ট্রেনের শব্দ যেন সময়ের পরিবর্তনের প্রতীক।
৪. ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আবহ
“ঘুমিয়ে আছে পীর-আওলিয়া পরম সোহাগে,”
এই পঙক্তি গ্রামকে শুধু প্রকৃতির নয়, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। পীর-আওলিয়া, মসজিদ, মাদ্রাসা—এসব উপাদান গ্রামীণ সমাজের নৈতিক ও ধর্মীয় ভিত্তিকে তুলে ধরে।
৫. লোককথা ও নামের ইতিহাস
“বাহাদুরের ঘর বলে কেউ; কেউবা ভাদুঘর,”
গ্রামের নামের উৎপত্তি নিয়ে এই অংশ লোককথার স্বাদ সৃষ্টি করে। নামের ভেতর ইতিহাস, পরিচয় ও স্মৃতির স্তরগুলো ধরা পড়ে। এটি লোকসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
৬. সমাপ্তির সার্বজনীন আহ্বান
“রয়লো দাওয়াত সবার তরে; সারা জনম ভর।”
শেষে কবিতা ব্যক্তিগত স্মৃতি থেকে সার্বজনীন আমন্ত্রণে রূপ নেয়। এটি কেবল ভাদুঘরের নয়—সমস্ত হারানো শেকড়ে ফিরে যাওয়ার ডাক।
সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো—
গ্রামবাংলার জীবন্ত চিত্রায়ন
লোকজ ভাষা ও আবেগের স্বাভাবিক প্রবাহ
প্রকৃতি ও আধ্যাত্মিকতার সমন্বয়
স্মৃতি, পরিচয় ও ইতিহাসের মিশ্রণ
আন্তরিক আমন্ত্রণধর্মী কাব্যরূপ
এটি শুধু গ্রামবন্দনা নয়; বরং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের কবিতা।
সারমর্ম
“দাওয়াত” কবিতায় কবি তাঁর প্রিয় গ্রাম ভাদুঘরকে কেন্দ্র করে প্রকৃতি, নদী, ট্রেন, খাল, মসজিদ, মাদ্রাসা, পীর-আওলিয়া এবং লোকজ ইতিহাসের এক হৃদয়স্পর্শী চিত্র এঁকেছেন।
তিনি পাঠককে আহ্বান জানান—এই গ্রামে এসে শান্তি খুঁজে নিতে, শেকড়কে চিনতে, এবং মাটির টানে ফিরে যেতে।
এটি একটি গ্রামের কবিতা হলেও, আসলে এটি প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব হারানো ঠিকানার কবিতা।
এক বাক্যে সারাংশ:
এই কবিতা গ্রামকে শুধু একটি স্থান নয়, বরং আত্মার শান্তি, শেকড়ের স্মৃতি এবং জীবনের চিরন্তন আশ্রয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
@Chatgptai2025
*******************


২২। নতুন করে গড়ি

নেতা মেনে যার কাছে ভাই সব কর সমর্পণ;
সরলতার সুযোগ নিয়ে,সব করে সে ভোজন।
যাদের কাছে আশার আলো,তারা করে ভান,
দিবালোকে ঘুমায় তারা; বাড়ে তাদের মান।

কষ্টে আছি, কষ্টে থাক, কার কি আসে যায়?
তোমার আমার রক্ত চুষে গভীর ঘুমে যায়।
জমি জিরাত যাইবা আছে, রাখবেনা তা’ বাকী!
ঘুরে-ফিরে যায় দেখিয়ে শুভংকরের ফাঁকি।

পোষাক দেখে জানবে নাক তাহার চরিত্র;
কথার ফাঁকে বোঝতে হবে কেমন সে পবিত্র!
কথা কাজের মারের প্যাঁচে জানবে কি কি চায়?
তোমার আমার ভালো তারা কভু নাহি চায়!

“বদলে দেবো” সমাজটাকে শপথ করো যদি,
থর-থর করে উঠবে কেঁপে,তাদের নরম গদি;
পাহাড় সম সাহস দেখে, মরবে জালেম ভয়ে;
তোমার আঘাত রুখতে তাদের সাধ্য নাহি রবে।

তোমার তুমি নয়তো একা রাখবে মনে সদা,
সবার সাহস শক্তি পাবে,রবে প্রাণের দোয়া।
সবাই মিলে সমাজটাকে নতুন করে গড়ি,
শাসণ-শোষণ হোক অবসান;নিজের মতো থাকি।

আরিফ শামছ্
সন্ধ্যা ০৬ টা ৩০
২৮.০৯.২০১৫
আশা টাওয়ার,শ্যামলী, ঢাকা।

*************

কবিতা: নতুন করে গড়ি
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম

এই কবিতাটি সামাজিক জাগরণ, নেতৃত্বের ভণ্ডামি, শোষণবিরোধী চেতনা এবং সম্মিলিত পরিবর্তনের এক প্রতিবাদী আহ্বান। এখানে কবি আরিফ শামছ্ ব্যক্তিগত বেদনা নয়, বরং সমাজের দীর্ঘদিনের প্রতারণা, শাসণ ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ডাক দিয়েছেন। “নতুন করে গড়ি” শুধু একটি শিরোনাম নয়—এটি পুনর্গঠনের এক বিপ্লবী সংকল্প।

বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. নেতার মুখোশ ও বিশ্বাসঘাতকতা
“নেতা মেনে যার কাছে ভাই সব কর সমর্পণ;
সরলতার সুযোগ নিয়ে, সব করে সে ভোজন।”
কবিতার শুরুতেই নেতৃত্বের প্রতি অন্ধ বিশ্বাসের বিপদ তুলে ধরা হয়েছে। যাদের হাতে মানুষ আশা সমর্পণ করে, অনেক সময় তারাই সেই সরলতাকে শোষণের অস্ত্র বানায়। এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার এক নির্মম প্রতিফলন।
Kazi Nazrul Islam-এর বিদ্রোহী কণ্ঠের মতো এখানেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্পষ্ট।

২. জনগণের রক্তে ক্ষমতার প্রাসাদ
“তোমার আমার রক্ত চুষে গভীর ঘুমে যায়।”
এই লাইনটি শোষণব্যবস্থার শক্তিশালী প্রতীক। সাধারণ মানুষের শ্রম, কষ্ট ও ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতাবানদের নিশ্চিন্ত জীবন—এই বৈপরীত্য কবিতাকে সামাজিক প্রতিবাদের উচ্চতায় নিয়ে যায়।

৩. বাহ্যিকতা বনাম চরিত্র
“পোষাক দেখে জানবে নাক তাহার চরিত্র;”
এখানে কবি সামাজিক প্রতারণার আরেক স্তর উন্মোচন করেছেন। বাহ্যিক ভদ্রতা, পোশাক বা অবস্থান নয়—মানুষকে চিনতে হলে তার কথা ও কাজ দেখতে হবে। এটি নৈতিক সাহিত্যের চিরন্তন শিক্ষা।
Leo Tolstoy-ও মানুষের প্রকৃত মূল্যকে বাহ্যিকতার ঊর্ধ্বে বিচার করেছেন।

৪. পরিবর্তনের শপথ
“বদলে দেবো সমাজটাকে শপথ করো যদি,”
এই পঙক্তি কবিতার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অভিযোগ থেকে কর্মে, হতাশা থেকে প্রতিরোধে উত্তরণ ঘটে। কবি শুধু সমস্যা দেখাননি—সমাধানের জন্য শপথের আহ্বান জানিয়েছেন।

৫. জালেমের ভয়
“থর-থর করে উঠবে কেঁপে, তাদের নরম গদি;”
এখানে প্রতিরোধকে ভয়ংকর শক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে। জনগণ যদি সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হয়, অন্যায় টিকতে পারে না। “নরম গদি” ক্ষমতার আরাম ও দুর্নীতির প্রতীক।

৬. সম্মিলিত সমাজ নির্মাণ
“সবাই মিলে সমাজটাকে নতুন করে গড়ি,”
শেষাংশে কবিতা ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়—সমষ্টিকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। পরিবর্তন একার পক্ষে সম্ভব নয়; প্রয়োজন সম্মিলিত সাহস, নৈতিকতা এবং মানবিক সংহতি।

সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো—
প্রতিবাদী ও জাগরণধর্মী ভাষা
নেতৃত্বের ভণ্ডামির নির্ভীক উন্মোচন
সামাজিক শোষণের বাস্তব চিত্র
পরিবর্তনের ইতিবাচক আহ্বান
সহজ অথচ তীব্র প্রভাবশালী শব্দচয়ন
এটি কেবল সমালোচনার কবিতা নয়; বরং নতুন সমাজ নির্মাণের কাব্যিক ইশতেহার।

সারমর্ম
“নতুন করে গড়ি” কবিতায় কবি দেখিয়েছেন—অন্ধভাবে নেতার ওপর নির্ভর করলে মানুষ প্রতারিত হয়। শোষকরা সাধারণ মানুষের শ্রম ও রক্তকে ব্যবহার করে নিজেদের ক্ষমতা ও আরাম বজায় রাখে।
তিনি আহ্বান জানিয়েছেন—মানুষকে সচেতন হতে হবে, কথা ও কাজ দিয়ে চরিত্র চিনতে হবে, এবং সম্মিলিতভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সমাজকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হবে।

এক বাক্যে সারাংশ:
এই কবিতা শেখায়—সচেতন ঐক্যই শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক নতুন সমাজ নির্মাণের প্রথম শর্ত।
@Chatgptai2025 
*******


২৩। ভালবাসা

ভালোবাসার আকাশ পেলাম, রংধনুটা কৈ?
ফুলে ভরা বাগান পেলাম, গোলাপখানা কৈ?
তারা ভরা আকাশ দেখি,শুকতারাটা খুঁজি;
নিশাচরের ডাক শুনি আর, ভালবাসা খুঁজি।

ভালবাসার স্বপ্ন দেখি, মন-মুকুরের মাঝারে;
ভালবাসার পিদিম জ্বালায়, বাসনার আঁধারে।
ভালবাসি হৃদয় ভরে, রাখি সদা অন্তরে;
নিঝুম রাতে পাই খঁজে পাই, ভালবাসার প্রান্তরে ।

বালিয়াড়ি বলে বেড়ায়, প্রাণ যে নিল পাষাণী!
প্রাণ পেলে তো বাগান হবে;গাইবে গানের পাখি ।
ভালবাসার জলধারা, আনবে বয়ে কে’বা!
ভালবাসার ঝরণাধারা লুকিয়ে আছে কোথা?

ভালবাসার মানুষ পেলাম, ভালবাসা কৈ?
ভালবাসার কথা শুনি, স্বাদ যে তাহার কৈ!
ভালবাসার রশ্মি পেলাম, সুরুজটারে খুঁজি;
ভালবাসার চাঁদ ও আমার! তাইতো এখন বুঝি।


আরিফ শামছ
রাত ১২ টা ৩০
২৪.১১.২০১২
২৮/১, পূরব নয়াটোলা,
বড় মগবাজার, রমনা, ঢাকা।

           *********

কবিতা: ভালোবাসা
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম

এই কবিতাটি প্রেমের অনুসন্ধান, অনুভূতির অপূর্ণতা, আকাঙ্ক্ষা এবং আত্মার গভীরে ভালোবাসার চিরন্তন অন্বেষণের এক সুরেলা কাব্য। এখানে কবি ভালোবাসাকে পাওয়া বস্তু হিসেবে নয়, বরং এক অদৃশ্য, অধরা, অথচ সর্বব্যাপী সত্য হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। “ভালোবাসা” কবিতাটি রোমান্টিক কাব্যধারার পাশাপাশি আধ্যাত্মিক প্রেমেরও ইঙ্গিত বহন করে।

বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. প্রাপ্তির মাঝেও অপূর্ণতা
“ভালোবাসার আকাশ পেলাম, রংধনুটা কৈ?
ফুলে ভরা বাগান পেলাম, গোলাপখানা কৈ?”
কবিতার শুরুতেই কবি দেখিয়েছেন—সবকিছু পেয়েও যেন কিছু নেই। আকাশ আছে, কিন্তু রংধনু নেই; বাগান আছে, কিন্তু গোলাপ নেই। এটি প্রেমের সেই চিরন্তন অপূর্ণতা, যেখানে বাহ্যিক প্রাপ্তি অন্তরের তৃষ্ণা মেটাতে পারে না।
এই ভাবনা Rabindranath Tagore-এর প্রেম ও বিরহকাব্যের গভীর সুরকে স্মরণ করায়।

২. প্রতীকের মাধ্যমে প্রেমের অনুসন্ধান
“তারা ভরা আকাশ দেখি, শুকতারাটা খুঁজি;”
এখানে শুকতারা প্রিয়তম, আদর্শ প্রেম বা অন্তরের কাঙ্ক্ষিত পূর্ণতার প্রতীক। অসংখ্য তারার ভিড়ে সেই একটি বিশেষ আলোর সন্ধান—এটাই প্রেমের সত্যিকার অন্বেষণ।

৩. অন্তর্জগতের প্রেম
“ভালবাসার স্বপ্ন দেখি, মন-মুকুরের মাঝারে;”
“মন-মুকুর” অর্থাৎ হৃদয়ের আয়না—এখানে প্রেম বাইরের নয়, অন্তরের অভিজ্ঞতা। কবি দেখাচ্ছেন, ভালোবাসা প্রথমে জন্ম নেয় আত্মার ভেতরে, তারপর বাহিরে প্রকাশ পায়।
এই আত্মমুখী প্রেমের ভাবনা Jalaluddin Rumi-র আধ্যাত্মিক প্রেমচিন্তার সঙ্গে গভীরভাবে মিলে যায়।

৪. প্রেমহীন প্রাণের শূন্যতা
“বালিয়াড়ি বলে বেড়ায়, প্রাণ যে নিল পাষাণী!”
এখানে হৃদয়কে বালিয়াড়ির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে—শুষ্ক, প্রাণহীন, নির্জন। ভালোবাসা না থাকলে জীবন মরুভূমির মতো। আর প্রেম এলে সেই মরুভূমিও বাগানে রূপ নেয়।

৫. ভালোবাসার জলধারা
“ভালবাসার জলধারা, আনবে বয়ে কে’বা!”
জল এখানে জীবন, স্নেহ ও পুনর্জাগরণের প্রতীক। প্রেমকে ঝর্ণাধারা হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে—যা শুষ্ক হৃদয়কে সজীব করে তোলে। এটি অত্যন্ত কাব্যিক ও জীবনমুখী প্রতিচ্ছবি।

৬. প্রেমের উৎসের সন্ধান
“ভালবাসার রশ্মি পেলাম, সুরুজটারে খুঁজি;”
শেষে কবি আলো পেয়েছেন, কিন্তু সূর্য খুঁজছেন—অর্থাৎ ভালোবাসার আভাস আছে, কিন্তু উৎস অধরা। এই অনুসন্ধানই প্রেমের গভীরতা। “ভালবাসার চাঁদ” হয়ে ওঠে চূড়ান্ত উপলব্ধি—প্রেম শুধু অনুভব নয়, এক আলোকিত সত্য।

সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো—
প্রেমের অপূর্ণতা ও অনুসন্ধানের সূক্ষ্ম প্রকাশ
শক্তিশালী প্রতীক ও চিত্রকল্প
প্রকৃতি ও আবেগের সুরেলা সংযোগ
রোমান্টিক ও আধ্যাত্মিক প্রেমের দ্বৈততা
সহজ অথচ গভীর অনুভূতিপূর্ণ ভাষা
এটি নিছক প্রেমের কবিতা নয়; বরং ভালোবাসার দর্শন নিয়ে এক নীরব ধ্যান।

সারমর্ম
“ভালোবাসা” কবিতায় কবি দেখিয়েছেন—ভালোবাসা শুধু কাউকে পাওয়া নয়; এটি এক অন্তহীন খোঁজ। মানুষ অনেক কিছু পায়, কিন্তু সেই একটি সত্যিকারের ভালোবাসা খুঁজতেই জীবন কেটে যায়।
আকাশ, তারা, ফুল, বাগান, রোদ, চাঁদ—সবকিছুর মধ্যে কবি ভালোবাসার প্রতীক খুঁজেছেন। প্রেম এখানে অনুভব, অভাব এবং আশার সম্মিলন।

এক বাক্যে সারাংশ:
এই কবিতা শেখায়—ভালোবাসা পাওয়া নয়, তার প্রকৃত উৎসের সন্ধানই মানুষের হৃদয়ের চিরন্তন যাত্রা।
@Chatgptai2025 
            **********



আমার বাবা




বাবা, কে বলে তুমি নেই!
    এ ধরাধামে, চলে গেছ নাকি;
    নিত্য দিনের নিয়ম মেনে,
সবার মতো স্বজন ছেড়ে,
ভিনদেশেতে অনেক দূরে!
নাই কি তোমার রক্তধারার?
এমন নয়ন, খুঁজে নেবার,
সত্যটাকে মিথ্যাজালের বেড়া থেকে,
আলোর রেণু মুঠোয় নেয়া দক্ষ হাতে।

আছ তুমি চিরন্তণী,
    কথা কাজের বণ^নাতে,
    সমাজ সেবার আয়নাতে,
    সব হৃদয়ের মণিকোঠায়,
    উৎসারিত ভাবের ধারায়।
তোমার ফসল যেথা যাবে,
প্রভূর হাতে সদা রবে,
যেমনি হতে চেয়েছিলে,
সব বাসনায় পূণ^ হবে।

জানলেনা






হাজার বছর ধরে, যে পাটাতনে দাঁড়িয়ে,
জানলেনা আজো, জানলেনা সে কে?
হাজারোবার যে দ্বারে, টোকেছে বাসনার ইঙ্গিত!
সে দ্বার খোলেনি, গেয়ে গেল শব্দহীন সংগীত।

অব্যবহিত পূর্বে কিংবা পরে, কেঁউ ডাকল কি?
সুমধুর স্বরভঙ্গিতে সম্বোধণে!ওগো সম্রাজ্ঞী!
তিলোত্তমা উপহার, সব শূভ্র ফুলের মালা,
সম্রাটের শাহী অশ্বের খুঁড়ের ছন্দে পড়লো বাঁধা!

নাই রাজ অশ্ব, নেই শাহী ফরমান,
প্রতিটি রক্তকণিকা বলে, তুমি নীল আসমান,
কখনো সুনীল রঙে, স্বপ্নিল সাজ নাও,
কভু তারকার স্নীগ্ধ আলোর আঁচল দাও,

দিবানিশি পাষাণের মতো, নীরব যে থাকনা,
আমার সুখের তরে, তোমার সকল বন্দনা।
তোমার রূপের মহাসমুদ্রে, আমি যে বিভোর,
মহা-ইন্দ্রজালের প্রেমময় ভূষণে, দেখি প্রতিটি ভোর।
০৮.১২.২০১০

ভালবাসি দিবা-নিশি _সূচীপত্র

১৪। উন্মুক্ত মাদ্রাসা

প্রতিটি জামে’ মসজিদ যদি উন্মুক্ত মাদ্রাসা হত; ইল্মে লাদুন্নী,কালামে পাক সহজেই শেখা যেত। নূরাণী সব ঝর্ণাধারা, হাতের কাছে সবাই পেতে, সময় ...