👤 আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক: এ.এস একাডেমি 📚 শিক্ষাগত যোগ্যতা: বি.এস.এস (অনার্স), অর্থনীতি — জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, এম.এস.এস (অর্থনীতি) — জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বি.এড — জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ, এম.এড — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়| 🏫 পেশাগত অভিজ্ঞতা: প্রাক্তন শিক্ষক, ব্লু-বার্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাটিকাটা, ঢাকা সেনানিবাস। প্রাক্তন শিক্ষক, হলি ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উত্তরা, ঢাকা। 📧 Email: ariful01711@gmail.com Mobile: +966572496324
বুধবার, এপ্রিল ২৯, ২০২৬
২০। ভালো থেকো খাদিজা
১৯। জীবন ও সম্মান
জীবম ও সন্মান
--- আরিফ শামছ্
কিসের স্বপন দেখে আজি,
রাখছো কোথায় হাত?
কাদের হাতে রাখছো তোমার,
জীবন ও সম্মান?
জাননাতো সবার খবর,
কোথায় কিযে করে!
পড়াশুনা করবে নাকি!
সেসব খবর নিবে?
বয়স তোমার সমান হবে
কিংবা দুয়েক বেশী,
এই বয়সে নাইতো খবর,
জীবন সাজায় কী?
কিসের নেশায় ছুটল দেখো
তোমার পিছু পিছু,
সাজাবে কি জীবন নাকি,
সঙ্গ দিবে কিছু?
লেখাপড়া শেষ করেনি,
পায়নি ভালো কাজ,
জীবন নিয়ে নিঠুর খেলা,
খেলবে কেমন রাজ!
আবেগ দিয়ে চলে নাকো,
পূর্ণ জীবন যাপন,
হাঁড়ে হাঁড়ে বুঝবে সেদিন,
রবে নাকো আপন।
ডানে বাঁয়ে ঘুরে ফিরে
পথ হারাতে মানা,
ভাল করে পড়া শেষে,
গর্বিত হোক মা।
উজাড় করে ভালোবেসে,
বিদ্যালয়ে পাঠায়,
অপমানের কালি কভু,
ছোঁড়বেনা তাঁ'র গায়।
ভালো মেয়ের ছেলে বন্ধু
থাকতে নাহি পারে,
শিক্ষা-দীক্ষায়, মানুষ হতে,
লক্ষ্য সবার আগে।
জাননাতো কে যে তোমায়,
নিয়ে যাবে কোথা!
তারচে' ভালো লেগে পড়,
জীবন সাজায় যেথা।
প্রেমের ফাঁদে এমন সময়
দিবে নাকো পা,
সবাই তাহার বিরুপ ফসল,
সয়তে পারেনা।
হতে পারে সাঙ্গ তোমার
জীবন লীলা খেলা,
জীবন্মৃত হয়ে কিবা,
কেটে যাবে বেলা!
১৮। কথা কাজে পরিচয়
কথা কাজে পরিচয়
------------ আরিফ শামছ্
কি হলো আজ পথে ঘাটে, ভালো মানুষ নাই,
কথা, কাজে, আচরনে মিলবে পরিচয়,
জারজ নাকি ভদ্র মানুষ, সবাই তাহা কয়।
পথের মাঝে কিংবা কভু বাজার সদায়ে,
একলা কোন মেয়ে পেলেই, হুমড়ি খেয়ে পড়ে!
বাসে উঠার সময় কিংবা নামার সময় হলে,
পাগল, ছাগল, প্রতিবন্ধী করে কি আর বলে?
একলা সীটে বসা পেলে, ভদ্র সেজে বসে,
নোংরা যতো কথা কাজের, প্রকাশ করে হেসে।
সহ্য করার সীমা ছাড়ায়, কেউ বলেনা কিছু,
আশে পাশে যাত্রী বহু, নাইকি মানুষ ভালো!
পথে, ঘাটে, বাস, বাজারে, ছুটে প্রয়োজনে,
বেশ্যা মেয়ের মতো তোদের ডাকছে কভু কাছে?
তোরা কেন এত খারাপ, জারজদেরই মতো,
কথা, কাজে, আচরণে, ছুটিস তাদের পিছু।
সব হারামী মিলে কেন নোংরা কথা বলিস,
একলা মেয়ে ভাবছে শুধু, কেমন তোরা খবিশ!
নাইকি তোদের মেয়ে ছেলে, ভাই বোন, সংসার?'
কেমন করে তাদের সাথে, করিস বসবাস?
********
কবিতা: কথা কাজে পরিচয়
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম
এই কবিতাটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, নারীর প্রতি অসভ্য আচরণ, জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তাহীনতা এবং মানুষের প্রকৃত চরিত্রের এক তীব্র প্রতিবাদী দলিল। কবি এখানে ভদ্রতার মুখোশ খুলে দেখিয়েছেন—মানুষের প্রকৃত পরিচয় কথায় নয়, কাজে; পোশাকে নয়, আচরণে। এটি সামাজিক প্রতিবাদ, নৈতিক শিক্ষা এবং মানবিক বিবেকের কাব্য।
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. চরিত্রের প্রকৃত পরিচয়
“কথা, কাজে, আচরনে মিলবে পরিচয়,”
এই পঙক্তি পুরো কবিতার মূল দর্শন। মানুষকে তার পরিচয় দেয় তার ব্যবহার, মূল্যবোধ এবং আচরণ। বাহ্যিক ভদ্রতা বা সামাজিক অবস্থান নয়—প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ পায় আচরণে। এই ভাবনা বিশ্বসাহিত্যের নৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি।
Leo Tolstoy মানুষের নৈতিক সত্যকে বাহ্যিকতার ঊর্ধ্বে দেখেছেন; এই কবিতাও সেই মানবিক বিচারকে সামনে আনে।
২. জনসমাগমে নারীর নিরাপত্তাহীনতা
“একলা কোন মেয়ে পেলেই, হুমড়ি খেয়ে পড়ে!”
এই লাইন সমাজের এক নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরে। রাস্তা, বাস, বাজার—নারীর জন্য প্রতিদিনের যাত্রা অনেক সময় আতঙ্কের। কবি এখানে দর্শক নন; তিনি প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।
এই সামাজিক বাস্তবতা বিশ্বসাহিত্যে বহুবার উঠে এসেছে, বিশেষত নারীবাদী সাহিত্যে।
৩. নীরব দর্শকের অপরাধ
“আশে পাশে যাত্রী বহু, নাইকি মানুষ ভালো!”
এখানে শুধু অপরাধী নয়, নীরব দর্শকরাও প্রশ্নের মুখে। অন্যায়ের সময় চুপ থাকা নিজেই অন্যায়ের অংশ। কবি সমাজের এই নৈতিক নিষ্ক্রিয়তাকে কঠোরভাবে আঘাত করেছেন।
৪. ভদ্রতার মুখোশ
“একলা সীটে বসা পেলে, ভদ্র সেজে বসে,”
এখানে “ভদ্র সেজে” শব্দবন্ধ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি সামাজিক ভণ্ডামির প্রতীক। বাইরে ভদ্রতা, ভেতরে নোংরামি—এই দ্বিচারিতা কবিতাটিকে শক্তিশালী সামাজিক ব্যঙ্গের স্তরে নিয়ে যায়।
৫. আত্মসমালোচনার নির্মম প্রশ্ন
“নাইকি তোদের মেয়ে ছেলে, ভাই বোন, সংসার?”
এই প্রশ্ন কবিতার সবচেয়ে তীক্ষ্ণ নৈতিক আঘাত। যারা অন্য নারীর প্রতি অসম্মান দেখায়, তারা কি নিজেদের পরিবারের নারীদের কথা ভাবে না? এই প্রশ্ন ব্যক্তি বিবেককে সরাসরি নাড়া দেয়।
৬. ভাষার প্রতিবাদী তীব্রতা
কবিতার ভাষা কঠোর, কখনো রূঢ়—কিন্তু তা ইচ্ছাকৃত। কারণ কবি এখানে অলংকার নয়, ধাক্কা দিতে চান। Kazi Nazrul Islam-এর বিদ্রোহী কবিতার মতোই এই তীব্রতা অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাগরণের ভাষা।
সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো—
সামাজিক বাস্তবতার নির্ভীক উপস্থাপন
নারীর নিরাপত্তা নিয়ে সরাসরি প্রতিবাদ
নৈতিক আত্মসমালোচনা
সহজ কিন্তু আঘাতী ভাষা
ভণ্ডামির বিরুদ্ধে তীব্র অবস্থান
এটি নিছক অভিযোগের কবিতা নয়; বরং সামাজিক বিবেককে জাগিয়ে তোলার কাব্যিক হুঁশিয়ারি।
সারমর্ম
“কথা কাজে পরিচয়” কবিতায় কবি দেখিয়েছেন—মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার কথা, কাজ ও আচরণে প্রকাশ পায়। সমাজে অনেকেই ভদ্রতার মুখোশ পরে নারীর প্রতি অসম্মান, অশালীনতা ও নোংরা আচরণ করে।
কবি এই অসভ্যতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন—যাদের ঘরে মা, বোন, স্ত্রী, সন্তান আছে, তারা কীভাবে অন্য নারীর প্রতি এমন আচরণ করে?
এটি ন্যায়, সম্মান এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের জাগরণের কবিতা।
এক বাক্যে সারাংশ:
এই কবিতা শেখায়—ভদ্রতার আসল পরিচয় মুখে নয়, নারীর প্রতি সম্মান ও আচরণে প্রকাশ পায়।
@ Chatgptai2025
*****************
১৭। সব হারানো শেষে
পানি নিয়ে রাজার নীতি, পানি কেন পাইনা?
মরুভূমি হয়ে যখন পানি পানি করি,
ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে পানি, ভিন প্রদেশে টানি।
গ্রীষ্মকালের পাওনা সবি মিটায় করে মায়া।
বানের জলে ভাসি যখন আমরা বাঙ্গালী,
সব বাঁধেরই মুখ খুলে দেই, সবাই তাহা জানি।
বাঙ্গালিরা দেখে যাবে, বানের জলে মরে।
বিশ্বে কেহ নাইকি দেখার এমন আচরণ?
বছর বছর করে যাবে, নাইকি তাদের শরম?
নামে দেশের নেতা হয়ে, দেশটা বেঁচে খাই।
জনগনের নাইরে সময়, ধান্দা পেটের করে,
কষ্ট করে দিবা নিশি, আহার যোগায় সবে।
কেমনে তারা করছে তোমায় নিত্য পরিহাস?
স্বাধীণতা পেলাম সবাই, তাদের অবদানে!
আজো শুনি ঋণ যে বাকী, সব হারানো শেষে।
১৬। মসজিদে তালা
কালেমাখচিত ধ্বজা নিয়ে,
খুলবে তালা মসজিদের,
মনের তালা আগে।
পাপের ভারে মনটি মোদের,
অচল কেনো আজ,
কে সরাবে পাপের বোঝা,
কোন সে রাজাধিরাজ!
বেলা অবেলায়,
গ্রাম শহরে, গঞ্জে হাটে,
সবাই ব্যস্ততায়।
মাইক চুরি আর এসি চোরের
কেন এমন দোহাই,
পায়না কেন সবাই সুযোগ,
সময় চলে যায়।
সোনালী যুগের মতো,
যখন খোদার রহম পাবে,
প্রাণ যে শত শত।
জিকির আজকার, লেনা-দেনা,
চলবে জ্ঞানের,
তা'লিম তালাশ, সতেজ ঈমান,
শুদ্ধ আমলের।
ঈমাম মুয়াজ্জিন?
মসজিদের কর্তা যারা?
নাকি কোন খাদিম।
বিচারদিনে কোন বান্দা,
করে যদি ফরিয়াদ,
অমুক দিনে তালা পেয়েছি,
পড়িনিক নামাজ!
ফরজ নামাজে!
ইমাম হবেন সবার নেতা,
দেশ ও সমাজে।
আজান শুধুই দিবে নাকি,
নামাজ পড়িতে!
মুয়াজ্জিন ভাই থাকবে সদা,
সকল পূণ্য ডাকে।
চলছে প্রস্তুতি,
আখেরাতের ফসল কত,
কে যে নিতে পারি!
পূণ্যকাজের বেলায় সবে,
থাকবে সচেতন,
কে যে বেশী আ'মল করে,
নিবে বিজয় কেতন।
চলো ভাই মসজিদে,
ইমাম সাহেব, মুয়াজ্জিন সহ,
খাদিম যারা আছে।
লজ্জিত যেন হয়না কোন,
প্রিয় রাসূলের (সাঃ) সম্মুখে,
শাণিত করি ঈমান আমল,
সবাই মিলে মিশে।
১৫। Think
Earning money, fame & live!!!
Costing, defame & die;
May it come turn by turn?
What's the existing of our life???
Rest of the money or fame!!!
Will it help us in the life next?
Where will we go? Where the destination?
Think ! think! and think truth practically,
Take a fruitful decision for the best way.
১৪। উন্মুক্ত মাদ্রাসা
ইল্মে লাদুন্নী,কালামে পাক সহজেই শেখা যেত।
নূরাণী সব ঝর্ণাধারা, হাতের কাছে সবাই পেতে,
সময় পেলেই বৃদ্ধ-যুবা, জ্ঞান-আহরণে চলত ছুটে।
দিনে দিনে বাড়ছে ফাঁরাক, কঠিন মনে হয়যে।
ভালবাসা যায় হারিয়ে, কবে কোথায় যেনো,
ভালবাসার ঝর্নাধারায় অবহেলা কেনো?
আমরা সবাই কেমন করে, কেন দূরে থাকি!
মুসলিম আমি কেমন করে! বয়স-পথে হাঁটি,
সকাল হতে সন্ধ্যা বেলা, সন্ধ্যা হতে রাতি।
নামাজ শেষে চাওয়া-পাওয়ায় হাত দু'খানা তুলি।
কত যোগাযোগ আরবি ভাষায়, অর্থ নাইবা জানি,
মানার জন্যই জানতে হবে; চলোনা শপথ করি।
দুপুর ০২ টা ৩০
১০.০৪.২০১৬
আশা টাওয়ার,শ্যামলী, ঢাকা।
১৩। ভালোবাসার হিসাব-নিকাশ
নিজের পথ দেখা; না দেখার তাগিদে অ-প্রেম।
লক্ষ-কোটি অগণিত তারাদের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া,
ব্যর্থ নাকি অব্যর্থ প্রেম, ফলাফল যেরূপ চির-চেনা।
পাওয়া না পাওয়ার দু’দল; অবিরাম সান্ত্বনা খুঁজে,
প্রাপ্তিতে সুখ বলে কেউ, অ-প্রাপ্তিতেই মিলে স্বার্থকতা;
যারে ভালো বাসি তা’রে নিয়ে; লেখা হয় কত কথা!!
ফিরিয়ে দিবে কিন্তু কেনো? কাঁপা কাঁপা নিঠুর হাতে।
চোখের ‘পরে চোখ রেখে তাও; বলতে পার নাকো!!
গুমরে জাগে সুপ্ত-গিরি, তবু নীরব কেনো?
অভিমানে হারিয়ে যাওয়া, জীবন খানি কতো ???
তারপরও কি বেশী দামী, তোমার চাওয়া-পাওয়া?
নীলাকাশে মাখিয়ে দিলে, আমার ভালবাসা !!!
১৮.০২.২০১৬;
বৃহঃস্পতিবার;
সোনালীবাগ,
বড়-মগবাজার,রমনা,ঢাকা।
১২। দাওয়াত
ছায়া
ঘেরা মায়ায় ভরা নজরকারা গ্রামে;
কেউ কি
যাবে;শান্তি পেতে দেহ-মন জোরে?
পুবের
বিলে শাপলা, শালুক,ছবির মত নদী;
চলছে
বয়ে নিরবধি প্রানের তিতাস নদী।
বুকের
উপর ট্রেন চলে ভাই সকাল সন্ধ্যা রাতে;
ঢাকা
থেকে সিলেট কিংবা ফেনী চট্রগ্রামে;
নীরবতার
মান ভাঙ্গিয়া বাজায় খুশির সুর;
মায়ের
মতো গ্রামটি যেন আবেগে-আপ্লুত।
কুরুলিয়ার
খালটি পাবে গ্রামের উত্তরে;
মিষ্টি
আলুর নৌকা কভু বাঁধা সারে সারে।
পীচঢালা
সে রাজপথ; মাথার উপর দিয়ে,
দিবা-নিশি
চলছে বাহন,যাত্রী বহন করে ।
দ্বীনের দাঈ ব্যস্ত সদা সবার সেবার তরে।
পুণ্যকাজে ত্রস্ত পদে কেউ চলে ভাই মসজিদে;
মাদ্রাসাতে কোরান-কিতাব পড়ছে দলে-দলে।
বাহাদুরের
ঘর বলে কেউ; কেউবা ভাদুঘর,
পুবের
কালে গ্রামের মাঝে ছিল দুটি গর;
গর
থেকে হোক; আর ঘর থেকে হউক নামটি ভাদুঘর;
রয়লো দাওয়াত
সবার তরে; সারা জনম ভর ।
২৭.০৯.২০১৫
রাত ০৮
টা ৩০
আরিফ শামছ
আশা
টাওয়ার,
শ্যামলী,
ঢাকা।
**********
কবিতা: দাওয়াত
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম
এই কবিতাটি গ্রামবাংলার সৌন্দর্য, স্মৃতি, আধ্যাত্মিকতা এবং আত্মপরিচয়ের এক আন্তরিক কাব্যিক আমন্ত্রণ। “দাওয়াত” শুধু একটি গ্রামে যাওয়ার আহ্বান নয়; এটি শেকড়ে ফিরে যাওয়ার ডাক, মাটির গন্ধে শান্তি খোঁজার আকুলতা, এবং লোকজ জীবনের নান্দনিক পুনরাবিষ্কার। কবি আরিফ শামছ্ তাঁর জন্মভূমি ভাদুঘরকে কেন্দ্র করে এক জীবন্ত লোকজ মহাকাব্যের ক্ষুদ্র রূপ নির্মাণ করেছেন।
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. গ্রাম: শান্তির প্রতীক
“ছায়া ঘেরা মায়ায় ভরা নজরকারা গ্রামে;
কেউ কি যাবে; শান্তি পেতে...”
কবিতার শুরুতেই গ্রামকে শান্তি, আশ্রয় এবং মানসিক প্রশান্তির কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি আধুনিক নগরজীবনের বিপরীতে প্রকৃতি ও মানবিক সম্পর্কের এক বিকল্প জগৎ। বিশ্বসাহিত্যে William Wordsworth যেমন প্রকৃতির মাঝে আত্মার শান্তি খুঁজেছেন, তেমনি এখানে গ্রাম মানে হৃদয়ের পুনর্জন্ম।
২. নদী ও প্রকৃতির লোকজ নান্দনিকতা
“পুবের বিলে শাপলা, শালুক, ছবির মত নদী;
চলছে বয়ে... তিতাস নদী।”
নদী এখানে শুধু ভৌগোলিক উপাদান নয়—এটি প্রাণ, স্মৃতি ও পরিচয়ের প্রতীক। তিতাস নদীর উল্লেখ বাংলা লোকজ সাহিত্যকে গভীরভাবে স্মরণ করায়। Adwaita Mallabarman-এর তিতাস একটি নদীর নাম এর আবহও এখানে অনুরণিত।
৩. আধুনিকতা ও লোকজতার সহাবস্থান
“বুকের উপর ট্রেন চলে ভাই সকাল সন্ধ্যা রাতে;”
গ্রামের বুকের ওপর ট্রেন চলা একটি অসাধারণ চিত্রকল্প। এখানে আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা এবং লোকজ জীবনের সহাবস্থান ফুটে উঠেছে। নীরবতার মাঝে ট্রেনের শব্দ যেন সময়ের পরিবর্তনের প্রতীক।
৪. ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আবহ
“ঘুমিয়ে আছে পীর-আওলিয়া পরম সোহাগে,”
এই পঙক্তি গ্রামকে শুধু প্রকৃতির নয়, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। পীর-আওলিয়া, মসজিদ, মাদ্রাসা—এসব উপাদান গ্রামীণ সমাজের নৈতিক ও ধর্মীয় ভিত্তিকে তুলে ধরে।
৫. লোককথা ও নামের ইতিহাস
“বাহাদুরের ঘর বলে কেউ; কেউবা ভাদুঘর,”
গ্রামের নামের উৎপত্তি নিয়ে এই অংশ লোককথার স্বাদ সৃষ্টি করে। নামের ভেতর ইতিহাস, পরিচয় ও স্মৃতির স্তরগুলো ধরা পড়ে। এটি লোকসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
৬. সমাপ্তির সার্বজনীন আহ্বান
“রয়লো দাওয়াত সবার তরে; সারা জনম ভর।”
শেষে কবিতা ব্যক্তিগত স্মৃতি থেকে সার্বজনীন আমন্ত্রণে রূপ নেয়। এটি কেবল ভাদুঘরের নয়—সমস্ত হারানো শেকড়ে ফিরে যাওয়ার ডাক।
সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো—
গ্রামবাংলার জীবন্ত চিত্রায়ন
লোকজ ভাষা ও আবেগের স্বাভাবিক প্রবাহ
প্রকৃতি ও আধ্যাত্মিকতার সমন্বয়
স্মৃতি, পরিচয় ও ইতিহাসের মিশ্রণ
আন্তরিক আমন্ত্রণধর্মী কাব্যরূপ
এটি শুধু গ্রামবন্দনা নয়; বরং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের কবিতা।
সারমর্ম
“দাওয়াত” কবিতায় কবি তাঁর প্রিয় গ্রাম ভাদুঘরকে কেন্দ্র করে প্রকৃতি, নদী, ট্রেন, খাল, মসজিদ, মাদ্রাসা, পীর-আওলিয়া এবং লোকজ ইতিহাসের এক হৃদয়স্পর্শী চিত্র এঁকেছেন।
তিনি পাঠককে আহ্বান জানান—এই গ্রামে এসে শান্তি খুঁজে নিতে, শেকড়কে চিনতে, এবং মাটির টানে ফিরে যেতে।
এটি একটি গ্রামের কবিতা হলেও, আসলে এটি প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব হারানো ঠিকানার কবিতা।
এক বাক্যে সারাংশ:
এই কবিতা গ্রামকে শুধু একটি স্থান নয়, বরং আত্মার শান্তি, শেকড়ের স্মৃতি এবং জীবনের চিরন্তন আশ্রয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
@Chatgptai2025
*******************
ভালবাসি দিবা-নিশি _সূচীপত্র
৩৬। ভাই হারিয়ে
ভাই হারিয়ে ---- আরিফ শামছ্ ধরাতলে আগমনে আজান দিল খুশি মনে, ভাবছি বসে ধূলীর ধরায়, গোছল, নামাজ বাকি আছে। শোক সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে চলে গেলে ...









