সোমবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৫

জানলেনা






হাজার বছর ধরে, যে পাটাতনে দাঁড়িয়ে,
জানলেনা আজো, জানলেনা সে কে?
হাজারোবার যে দ্বারে, টোকেছে বাসনার ইঙ্গিত!
সে দ্বার খোলেনি, গেয়ে গেল শব্দহীন সংগীত।

অব্যবহিত পূর্বে কিংবা পরে, কেঁউ ডাকল কি?
সুমধুর স্বরভঙ্গিতে সম্বোধণে!ওগো সম্রাজ্ঞী!
তিলোত্তমা উপহার, সব শূভ্র ফুলের মালা,
সম্রাটের শাহী অশ্বের খুঁড়ের ছন্দে পড়লো বাঁধা!

নাই রাজ অশ্ব, নেই শাহী ফরমান,
প্রতিটি রক্তকণিকা বলে, তুমি নীল আসমান,
কখনো সুনীল রঙে, স্বপ্নিল সাজ নাও,
কভু তারকার স্নীগ্ধ আলোর আঁচল দাও,

দিবানিশি পাষাণের মতো, নীরব যে থাকনা,
আমার সুখের তরে, তোমার সকল বন্দনা।
তোমার রূপের মহাসমুদ্রে, আমি যে বিভোর,
মহা-ইন্দ্রজালের প্রেমময় ভূষণে, দেখি প্রতিটি ভোর।
০৮.১২.২০১০

অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান স্যার -এর বিদায় উপলক্ষেঃ



ওগো উদার মনের অধিকারী,
     এ জীবনে ছুটেছি তোমার পানে,
     প্রয়োজনে, অপ্রয়োজনে, কভূ সীমানা পেড়িয়ে,
     সহাস্য কলরবে দানিলে সবি,
     তোমাকে প্রানভরে ভালবাসার রয়লো বাকী।

মহাতরীর হে মহৎ নাবিক,
     সুবিশাল সাগর বেয়ে তীরে এসে আজ,
     নেমে গেলে তুমি, ছেড়ে দিলে হাল,
     কালের প্রয়োজনে তব আসন মাঝে,
     আসবে তোমার মতোই কামনা মনের কোনে।

ওহে পুস্প প্রিয় মানব,
     সুবাসিত কুসুম বাগে,
     আর কি পাবনা দেখা তব?
     পাবনা কি তোমার পদ ধ্বনি?
     পাবনা কি আর অমৃতের সন্ধান?

ওগো শ্রদ্ধাভাজন,
     সুখে থাক, শান্তিতে থাক,
     পরম নিরাপদে, নিশ্চিন্তে থাক,
     মহান প্রভূর দরবারে আরজি,
রেখে যায় কায়মনোবাক্য।


আরিফ ইবনে শামছ
২৮.০৪.১৯৯৯
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সরকারি কলেজ।

২১। বাসন্তী ভাবনা





প্রতিটি বসন্ত যেন ফুলেল বিন্যাস,
ভ্রম্ররের গুঞ্জন আর কোকিলের
কুহু-কুহু তানে ভরপুর থাকে।

আঁকাবাঁকা নদীর স্বাধীনতার মূর্তপ্রতীক,
সুমধুর তার কলতান,
বিকেলের সোনালী রোদ,
সবি যেন সাথে রবে ।

সকালের কাঁচা সোনা রোদ,
নিরাক পরা দুপুরের নীরবতা,
দু’দুটো পাখি ডাকা নিঝুম সন্ধ্যায়,
কে যায় কারে খোঁজে।

মধ্য রজনীতে নিথর নীরবতায়,
শংকাহীন উৎফুল্ল হৃদয়ে,
পাখিরা সব ঘুমিয়ে পড়ে,
নিশ্চিন্তে স্ব স্ব নীড়ে।

২৬.০২.২০০৫
মাটিকাটা বাজার,
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট,
ঢাকা । 

      ********

কবিতা: বাসন্তী ভাবনা
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম

এই কবিতাটি প্রকৃতি, ঋতুচেতনা, নীরব সৌন্দর্য এবং অন্তর্মুখী প্রশান্তির এক সূক্ষ্ম গীতিকবিতা। “বাসন্তী ভাবনা” শিরোনামেই আছে পুনর্জন্ম, সৌন্দর্য ও প্রাণের নবজাগরণের ইঙ্গিত। কবি আরিফ শামছ্ বসন্তকে শুধু ঋতু হিসেবে দেখেননি; বরং অনুভূতির এক জাগ্রত ভূমি, যেখানে প্রকৃতি ও মানুষের অন্তর্জগৎ একে অপরের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।

বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. বসন্ত: পুনর্জন্মের প্রতীক
“প্রতিটি বসন্ত যেন ফুলেল বিন্যাস,”
এই প্রথম পঙক্তিতেই বসন্তকে শুধু সময় নয়, এক নান্দনিক বিন্যাস হিসেবে দেখা হয়েছে। ফুলের সাজ, প্রকৃতির পুনরুত্থান এবং হৃদয়ের উন্মেষ—সব মিলিয়ে বসন্ত এখানে নবজন্মের প্রতীক।
বিশ্বসাহিত্যে William Wordsworth প্রকৃতির মধ্যে আত্মার জাগরণ খুঁজেছেন; এই কবিতাতেও বসন্ত সেই আত্মিক পুনর্জাগরণের বাহক।

২. শব্দের সংগীতধর্মিতা
“ভ্রম্ররের গুঞ্জন আর
কোকিলের কুহু-কুহু তানে”
এখানে প্রকৃতি শুধু দৃশ্যমান নয়—শ্রাব্যও। ভ্রমরের গুঞ্জন, কোকিলের ডাক—এই ধ্বনিগুলো কবিতায় সংগীতের আবহ সৃষ্টি করে। এটি lyric poetry বা গীতিকবিতার মূল বৈশিষ্ট্য।

৩. নদী ও স্বাধীনতার প্রতীক
“আঁকাবাঁকা নদীর স্বাধীনতার মূর্তপ্রতীক,”
নদীকে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে দেখানো অত্যন্ত শক্তিশালী চিত্রকল্প। নদীর বাঁক, প্রবাহ এবং অবিরাম চলা মানুষের মুক্তচেতনার প্রতিরূপ। বাংলা সাহিত্যে নদী মানে জীবন, স্মৃতি ও স্বাধীনতা—এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়।
Jibanananda Das-এর প্রকৃতিচেতনার সঙ্গে এই ভাবনার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

৪. সময়ের নীরব সৌন্দর্য
“সকালের কাঁচা সোনা রোদ,
নিরাক পরা দুপুরের নীরবতা,”
দিনের বিভিন্ন সময়কে আলাদা অনুভূতির রঙে উপস্থাপন করা হয়েছে। সকাল মানে সম্ভাবনা, দুপুর মানে স্থিরতা, সন্ধ্যা মানে অনুসন্ধান, রাত মানে প্রশান্তি। এটি সময়কে আবেগে রূপান্তরের কাব্যিক কৌশল।

৫. সন্ধ্যার প্রশ্নময়তা
“দু’দুটো পাখি ডাকা নিঝুম সন্ধ্যায়,
কে যায় কারে খোঁজে।”
এই পঙক্তি প্রকৃতির মধ্যে মানবিক একাকিত্বের প্রতিফলন। সন্ধ্যার নিস্তব্ধতায় প্রশ্ন জাগে—কে কাকে খোঁজে? এটি প্রেম, স্মৃতি ও অস্তিত্বের এক গভীর প্রতীকী প্রশ্ন।

৬. রাত্রির শান্তি ও আশ্রয়
“পাখিরা সব ঘুমিয়ে পড়ে,
নিশ্চিন্তে স্ব স্ব নীড়ে।”
শেষে কবিতা এক প্রশান্ত আশ্রয়ে পৌঁছায়। পৃথিবীর সব অস্থিরতার পর প্রত্যাবর্তন ঘটে নীড়ে—এটি নিরাপত্তা, বিশ্বাস এবং শান্তির প্রতীক।

সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো—
প্রকৃতির সূক্ষ্ম ও জীবন্ত চিত্রায়ন
গীতিকবিতার সুরেলা গঠন
সময় ও ঋতুর আবেগময় রূপায়ণ
প্রতীকী ও দার্শনিক গভীরতা
সংযত অথচ হৃদয়গ্রাহী ভাষা
এটি নিছক প্রকৃতির বর্ণনা নয়; বরং প্রকৃতির ভেতর আত্মার নীরব সংলাপ।

সারমর্ম
“বাসন্তী ভাবনা” কবিতায় কবি বসন্তের ফুল, পাখি, নদী, রোদ, সন্ধ্যা ও রাতের নীরবতার মাধ্যমে এক শান্ত, সুন্দর ও আত্মমগ্ন জগত নির্মাণ করেছেন।
এখানে প্রকৃতি শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়—এটি মানুষের অনুভূতি, স্মৃতি ও প্রশান্তির আশ্রয়। বসন্ত মানে শুধু ঋতু নয়; এটি জীবনের নবজাগরণ।

এক বাক্যে সারাংশ:
এই কবিতা বসন্তকে প্রকৃতির ঋতু নয়, হৃদয়ের পুনর্জন্ম ও প্রশান্তির এক চিরন্তন উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

*******

ভালবাসি দিবা-নিশি _সূচীপত্র

১৪। উন্মুক্ত মাদ্রাসা

প্রতিটি জামে’ মসজিদ যদি উন্মুক্ত মাদ্রাসা হত; ইল্মে লাদুন্নী,কালামে পাক সহজেই শেখা যেত। নূরাণী সব ঝর্ণাধারা, হাতের কাছে সবাই পেতে, সময় ...