👤 আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক: এ.এস একাডেমি 📚 শিক্ষাগত যোগ্যতা: বি.এস.এস (অনার্স), অর্থনীতি — জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, এম.এস.এস (অর্থনীতি) — জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বি.এড — জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ, এম.এড — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়| 🏫 পেশাগত অভিজ্ঞতা: প্রাক্তন শিক্ষক, ব্লু-বার্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাটিকাটা, ঢাকা সেনানিবাস। প্রাক্তন শিক্ষক, হলি ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উত্তরা, ঢাকা। 📧 Email: ariful01711@gmail.com Mobile: +966572496324
শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৩
শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৩
রবিবার, ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৩
Bhadughar Kolyan Songstha
https://www.canva.com/design/DAFZl7t7nlA/PG8l6enx8goyNMdS-fkSkg/edit?utm_content=DAFZl7t7nlA&utm_campaign=designshare&utm_medium=link2&utm_source=sharebutton
শনিবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২৩
http://nctb.portal.gov.bd/site/page/c6816afa-4e9f-4bde-8dd0-6d44074baf7f
রবিবার, জানুয়ারি ০৮, ২০২৩
https://youtu.be/7VbB0S2KDZM
বুধবার, ডিসেম্বর ২১, ২০২২
S A Islam Bhuiyan
বুধবার, অক্টোবর ১২, ২০২২
https://arifulislambhuiyan.wordpress.com/2014/12/16/cost-cutting-employees-human-rights/
শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২
মঙ্গলবার, আগস্ট ৩০, ২০২২
https://hashiad.com/
মঙ্গলবার, আগস্ট ০৯, ২০২২
একদুমে সুরা ওয়াদ্দোহা। akdome sura oawddoha. Edi Shaban Afrika.
2022
সোমবার, আগস্ট ০৮, ২০২২
মহাবিশ্বের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ভ্রমন করবো চলুন | Journey To The Edge of The Universe In Bangla |
শুক্রবার, জুলাই ২৯, ২০২২
শনিবার, জুন ১১, ২০২২
ভাদুঘর গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজ এর বিদায়ী শিক্ষার্থীবৃন্দের তরে দুটি কথাঃ
শুক্রবার, মে ২৭, ২০২২
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।আজকের এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে, মেঘনার কন্যা, তিতাসবিধৌত স্বনামধন্য ভাদুঘর গ্রামের প্রিয় অধিবাসীদের তরে দুটি কথাঃ
সোমবার, মে ২৩, ২০২২
ভাদুঘর আইডিয়াল কলেজ বলছি
সোমবার, মে ০৯, ২০২২
Money Exchanges
শুক্রবার, এপ্রিল ২৯, ২০২২
https://www.youtube.com/watch?v=1gM7EE_SIUI
https://www.youtube.com/watch?v=1gM7EE_SIUI
রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২২
https://arifulislambhuiyan.blogspot.com/
https://arifulislambhuiyan.blogspot.com/
বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১
বিপ্লবী (২১)
বিপ্লবী (২১)
আরিফ শামছ্
১৮/০৭/২০১৯ ঈসায়ী সাল।
বিপ্লবী!
হুংকারে তব,
কাঁপে থরথর,
পাতা-পত্তর সম,
পড়েই নিথর।
পথ হারিয়ে ফের,
পালাতে না পেরে,
পথ ভুলে সব,
পায়েই লুটে।
গর্জ নিনাদ,
ঘুচে বিবাদ,
কন্ঠে বাজে,
ত্যাজি স্বর।
নিরাশার জল,
বয় ছল ছল,
ঝর্ণার ওপারে,
স্বপ্ন সকল।
বিপ্লবী!
কন্ঠে তব,
বার বার রব,
তীক্ষ্ণ ধারালো,
তলোয়ার সম।
হবে উচ্চারণ,
গগন বিদারী,
কর্ণ ভেদিয়া,
হিংস্র ব্যাঘ্র,
আসন ছাড়িয়া,
শোনে গর্জন ।
বিপ্লবী!
মার্চের তালে তালে,
পদপিষ্ট পা'তলে,
শত শত পাপ,
নির্বাক পরিতাপ,
করে হা হুতাশ।
অত্যাচারীর পরিণতি,
নির্মম নিষ্ঠুর,
নির্জীব গতিহীন,
হতাশ চোখে,
স্বপ্নের ইতি।
চিরবিপ্লবী!
নূতন করে ফের,
স্বপ্ন বুনন,
চলে অগণন।
স্বপ্ন-সত্যি,
হেরার জ্যোতি,
পাথেয় মোতি,
সবি হবে আপন।
বিপ্লবী!
ঝড়ের গতিতে,
সময়ের আগে,
সবারে ছেড়ে,
জয়ী হবি।
চির বিপ্লবী।
পরাভব মেনে,
সবাই নেবে,
হবেই হবে
তুমিই জয়ী,
চির বিজয়ী।
বিপ্লবী (২০)
বিপ্লবী (২০)
আরিফ শামছ্
১৩/০৫/২০১৮ ঈসায়ী সাল।
বিপ্লবী!
তুমি চিরবিদ্রোহী।
অশান্ত বিশ্বে বল্গাবিহীন,
শান্তি ধরিত্রীর।
যুদ্ধ হবে,
যে যুদ্ধ সবে,
ন্যায়ের পক্ষে,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে,
আগ্রাসীদের শিক্ষা দিয়ে,
অত্যাচারীর জুলুম শেষে,
একটি বিশ্ব হবে।
যে বিশ্বে তোমার আমার,
আমার তোমার সবার,
সব অধিকার রবে।
ভেদ-বিভেদ রয়বেনাকো,
আপন পর বুঝবেনাতো,
সমান সমান হবে।
মানবেনা কেউ সীমারেখা,
স্বার্থপরের চিত্র লেখা,
এক আকাশের তলে,
এক পৃথিবী হলে।
দেশগুলো সব, মাতৃসম,
জগত মাঝে সৃষ্টি যতো,
সুখে দুঃখে, বিপদ যবে,
সবাই সবার হবে।
ভিসা পাসের ঝুট ঝামেলা,
মানবেনা কেউ হর হামেশা,
সকল দেশই আমার দেশ।
বিশ্ব ঘুরে আসবো ফিরে,
নিত্য নতুন খবর দিয়ে,
যাচ্ছে যাবে বেশ।
উচ্চ করি শির,
ঊর্ধ্ব শামশির,
ত্যাজী ঘোড়ার পিঠে।
ত্বড়িত গতিতে,
পলকে ছুটিতে,
জয়ের ঝিলিক ঠোঁটে।
বিপ্লবী!
ঘোর অমানিশি,
বাধার পাষাণ টুটি,
পাগলা অশ্ব ছুটে।
চলে হরদম,
ছুটে দমদম,
সময় প্রাচীর ধ্বসে।
অহোরাত্র দিবানিশি,
ছুটছে বিরামহীন,
বিশ্বাসে নিঃশ্বাসে।
চির বিজয়ী,
চির বিদ্রোহী,
বিপ্লবী শাহী,
বিশ্ব বিজয়ী।
মুক্তির মুক্তিকামী,
চির বিপ্লবী।
বিপ্লবী (১৯)
বিপ্লবী (১৯)
আরিফ শামছ্
২৫/০৪/২০১৮ ঈসায়ী সাল।
বিপ্লবী।
উড়াও ঝান্ডা,
বয়বে হাওয়া,
লাগবে পালে,
লক্ষ্য তরী,
ফিরবে তীরে,
সফল অভিযানে।
শালীনতা,
স্বাধীনতা,
চলবে সাথে,
রাত-বিরাতে,
রুপ অপরুপ,
দৃষ্টি লোলুপ,
পথে ঘাটে,
আঁটবে কুলোপ।
কেউবা বলে পোষাক আশাক,
যেমনি ইচ্ছে, তেমনি পড়ি,
আমার স্বাধীনতা,
দৃষ্টি তোমার খারাপ কেনো,
তাকিয়ে থাকো বদের মতো,
চোখের অধীনতা!
খুব সেজেছি, বাইরে যাবো,
কেউ দেখে তা' পাগল হবে,
ভারী মজা হবে!
হয়তো কভু, মেলবে আঁখি,
ফেলতে পাতা, কেবা কবে,
সবি ভুলে রবে।
দেখতে চাহে, কেউবা দেখায়,
দোষ দেয়া যায় কারে!
রুপের গরব, ভাবে সরব,
রুচির বোনন নজর কাঁড়ে।
শালীনতা হারিয়ে কোথা,
অশালীনের পথে চলে,
কথা কাজে নাই শ্লীলতা,
যায়না দেখা পোশাকে,
লজ্জা বুঝি লুকিয়ে গেলো,
আজব রুচি দেখে।
ছোট বড়, পথিক, মজুর,
মধুর ভাষা, যায়না শোনা।
কেমনে চলে, কীযে বলে,
আপন পরে, ভেদ মানেনা।
আমার চলা, আমার মতো,
স্বাধীন কথা, বেজায় ভালো!
নয়তো একা তুমি ধরায়,
কত মানুষ বিদায় হলো!
চলাচলে, বাক বচনে,
পোশাক-আশাক,
রুচির জেড়ে,
ভুগবে সবে, ভুগবে নিজে,
বাড়ছে অনাচার,
দায় নিবে কে রে ?
শালীন পোশাক,
দৃষ্টি নত,
হেফাজতে শরম গাহ্,
শান্তি পাবে, শান্তি রবে,
কাছের দূরে, আপন পরে,
কাজের মাঝে শাহানশাহ্।
আবার জাগো মুক্তিকামী,
অশালীনের বিদ্রোহী,
সুন্দরের কান্ডারী,
সাজবে ধরা, নতুন সাজে,
সত্য সুন্দর কথা কাজে,
ঝঞ্ঝাবেগে বিপ্লবী।
চির সংগ্রামী।
বিপ্লবী (১৮)
বিপ্লবী (১৮)
আরিফ শামছ্
২৪/০৪/২০১৮ ঈসায়ী সাল।
বিপ্লবী!
আলোর ফোঁয়াড়া,
সচেতন আঁখি,
জাগো ফিরিয়া,
হাতে হাত রাখি।
বিনিদ্র রজনী শেষে,
সোনালী ভোরের আশে,
চিরপ্রত্যয়ী,
চির সংগ্রামী!
অন্ধকারে আলোর রেখা,
দিশেহারা খুঁজছে একা।
মন্দ পথে ভালোর দেখা,
মিলবে কভু ভাবছে কেবা!
কেউবা ভুলে পথ হারিয়ে,
পথ খুঁজে যায়, পথ পেড়িয়ে।
সহজ, সরল, সফল পথে,
পথিক চলে, আপন মনে।
মানব মনে! হলো কীযে!
আলো ফেলে আঁধার খুঁজে,
ভালো মতের পথ ছেড়ে,
মন্দ পথেই ঘুরে ফিরে।
অন্ধকারে বিপদ আপদ,
ওৎ পেতে রয় হিংস্র স্বাপদ,
হেলায় ভুলে, খেলার ছলে,
জীবন যাবে, অতল তলে।
সুধা ছেড়ে, গরল পানে,
অসুর নাচে, বেসুর গানে,
মৃত্যু নেশা, জীবন ঘেষা,
সব ভুলিল, মরা বাঁচা।
চলছে জীবন, ভাসছে সবে,
ভালো খারাপ, পথ বিপথে।
কেউ শোনেনা, নিজের কানে,
অন্ধ মাতাল, কিসের টানে।
সমাজ, জাতির, জরা খরা,
মন্দ খারাপ, কালো ধরা,
যাক হারিয়ে, চিরতরে,
নামবে আলো ভুবন জুড়ে।
জাগছে সবে,
হাঁকছে রবে,
ডাকছে জোরে,
পথের পরে,
পবন বেগে,
ছুটতে হবে,
ছুটছে সবে,
চির সংগ্রামী।
চির বিপ্লবী!
বিপ্লবী (১৭)
বিপ্লবী (১৭)
আরিফ শামছ্
১৫/০৭/২০১৯ ঈসায়ী সাল।
বিপ্লবী!
কবি হবি?
বিপ্লবী কবি।
বুকে রবে,
অগ্নিগিরি,
জমবে লাভা,
বাড়বে আভা,
হবে উদগীরণ;
চোক্ষে রবে,
অগ্নি শিখা,
পুঁড়বে নিপীড়ন।
বজ্র ধমকে,
পিলে চমকে,
অত্যাচারী থামবে,
আসবে ফিরে,
বিশ্ব জুড়ে,
শান্তি ধরা আনবে।
নিঃশ্বাসে তোর,
আসবে ভোর,
অত্যাচারী বিফল,
শান্তি সুখে,
নিরাপদে,
রাখবে ধরাতল।
চুপি চুপি,
পড়ছো তুমি,
যাচ্ছো ডুবি,
ছাড়িয়ে সবি!
কেমন কবি,
আঁকছে ছবি,
পড়ি ভাবি,
কবি হবি!
আমার মতো,
অন্য কেহো,
দেখবে স্বপন,
হৃদয় কাঁপন,
শংকা, রীতি,
পূন্য প্রীতি,
লিখবে চিঠি,
রাখবে দিঠি।
জীবন জুড়ে,
সুখের চরে,
সবে মিলে,
হেসে খেলে,
রবো বেঁচে,
সিন্ধু সেঁচে।
মুক্তো কুড়ে,
পুষ্প করে,
আপন মনে,
মহান দানে।
ধন্য জীবন,
সফল মরণ।
আবার ভাবি,
কবি হবি?
বিপ্লবী কবি,
মুক্তিকামী,
চিরবিপ্লবী।
x
বৃহস্পতিবার, জুলাই ০১, ২০২১
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনুদান বিতরণ করবে ‘নগদ’ - দৈনিকশিক্ষা
শুক্রবার, জুন ১১, ২০২১
মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শেখ সম্পাদিত "ঝরা ফুলের গন্ধ" যৌথ কাব্য গ্রন্থে প্রকাশিত (১) শ্বাশ্বত আহ্বাণ এবং (২) "ছন্দ নাবিক।
মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শেখ সম্পাদিত "বিজয়ের উল্লাসে " যৌথ কাব্য গ্রন্থে প্রকাশিত (১) সত্য সন্ধানী এবং (২) বাঙালির স্বাধীনতা (৩) অনুশোচনা (৪) বিজয়ের উল্লাসে (৫) বিদ্রোহী তুমি বিপ্লবী (৬) আজের এই বাংলাদেশ (৭) ভাঙ্গা গড়া।
বৃহস্পতিবার, জুন ১০, ২০২১
বাবুই পাখির মা
বাবুই পাখির মা
আরিফ শামছ্
১০/০৬/২০২১
অর্ধাঙ্গিনীর আপন মা তাই,
ভূলে গেলে আমায়!
স্নেহাদরের নেই তুলনা,
এখন খুঁজে পায়!
নিরাক পড়া ভর দুপুরে,
একলা বিকেলে,
কত স্মৃতি মনে পড়ে,
হর্ষ-বিষাদে।
বাবার কথা আসলে তুমি,
বলতে আমিই বাবা,
বাবা-মায়ের পুরো আদর,
পাবে সবি বাবা।
সত্যি মাগো, এত্তো আদর,
কেমন করে পাবো!
তুমি ও নাই, বাবা ও নাই,
আমরা কোথায় যাবো!
"জামাই! আসবেন কবে"?
এমন করে খোঁজে,
খবর পেলেই বলতে ফোনে,
"এসো সকাল, সাঁঝে"।
ভাদুঘর কতো যায় যে মাগো,
ডাকেনা তো কেউ,
কোথায় আছেন, আসবেন কখন,
বলেনা তো কেউ।
জানালার ঐ কোনে বসে,
অধীর আগ্রহে,
জামাই তোমার আসলো বুঝি,
খুঁজতে বারে বারে!
কোথায় পাবো খুঁজে মাগো?
কেমন আছো মা?
জামাই বলে তোমার মতো,
কেউতো ডাকেনা!
দরদভরা হৃদয়-মনে,
সহজ সরল সম্ভাষণে,
"বাবুই পাখি" সম্বোধনে ,
আর পাবোনা ঘরের কোণে।
ঈদের ছুটি, শীতের ছুটি,
গ্রীষ্মকালে ফলের ছুটি,
'আসবে কবে?কবে ছুটি'?
ডাকবেনা মা আর কী তুমি!
চলছে সবি আগের মতো,
তুমি শুধু নেই,
তোমার বাড়ি আজো আছে,
প্রাণযে তাহার নেই।
মাগো তুমি থেকো সুখে ,
জান্নাতীদের দলে।
আসবো ফিরে সবাই মিলে,
আবার সদলবলে।
মর্জিনা মঞ্জিল
নয়াটোলা, মীরবাগ, ঢাকা।
রবিবার, মার্চ ২১, ২০২১
عارف الإسلام بهيان|ARIFUL ISLAM BHUIYAN | আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া | : বিপ্লবী (১৬)
রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০
আত্মা শীতলকারী কণ্ঠে ৪০ রাব্বানা দোয়া ┇40 Rabbana Dua Recited by Omar H...
রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০
আত্মা শীতলকারী কণ্ঠে ৪০ রাব্বানা দোয়া ┇40 Rabbana Dua Recited by Omar H...
সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২০
বিপ্লবী
https://www.kobitapara.com/2020/08/21/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%ac%e0%a7%80-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be/
শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২০
HONORER
শনিবার, জুন ২০, ২০২০
শুক্রবার, জুন ১৯, ২০২০
Social Media Marketing INTERNET CONCEPTS
সৃষ্টি দেখে চলি
আজো বৃষ্টি ঝড়ে অঝোর ধারায়,
মাঠে ফসল ফলে ,
পূব গগণে আলোর ভোরে,
সকাল অরুপ রুপে।
ভর দুপুরে নানা পাখি,
কুজন রবে ডাকে,
গাছে গাছে পাতার ফাঁকে,
খুঁজে ফিরে কাকে!
স্বস্তি ফিরে, নরম রোদে,
বিকেল যখন নামে,
দিনের বিদায়, দেখছে সবাই,
আলো আঁধার খেলে।
রাতের আকাশ, নিজের বুকে,
সাজায় তারার মেলা,
হাজার তারার ভীড়ে দেখে,
চাঁদের আলোর খেলা।
বিরাম নিয়ে ডাকছে পাখি,
হাঁকছে প্রাণী রাতে,
কেউ ঘুমোল, কেউ ভাবিল,
জাগছে প্রতি প্রাতে।
তোমার কথা, বলবো কোথায়,
কেমন করে বলি,
আল্লাহ তুমি কতো মহান!
সৃষ্টি দেখে চলি।
আরিফ শামছ্
১৯/০৬/২০২০ ঈসায়ী সাল
মীরবাগ, হাতিরঝিল,
ঢাকা।
ওহে আল্লাহ! আমাদের ক্ষমা করুন
আমরা আপনার প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ,
মহাবিশ্বের জন্য ভাল কাজ করতে ব্যর্থ,
মানুষ প্রতি মুহূর্তে লাইনচ্যুত করে,
লোক অধীর আগ্রহে বা অসন্তুষ্টভাবে খারাপ কাজ করে,
আমরা বার্তা দিতে ব্যর্থ,
ও ভাই ও বোন!
এই ভাল, এই খারাপ,
দয়া করে সমস্ত ভাল এবং সেরা জিনিস গ্রহণ করুন।
আপনি যদি জানতে চান কোনটি ভাল এবং খারাপ?
ভাল কাজ শেষ করার পরে, আপনি শারীরিক সুখ এবং মানসিক শান্তি পাবেন।
মুসলমানদের জীবন কল্পনা করুন,
তাদের জীবন শুরু হয়েছে ফাজর সালাত দ্বারা এবং শেষ হয়েছে ইসা সালাত দ্বারা,
তারা কখনও মিথ্যাবাদী বিশ্বাস করে না,
সর্বদা তারা সত্য কথা বলে,
তাদের নবী সত্য ছিলেন,
বাক্য সত্য ছিল,
তাদের পুরো জীবন সুখ এবং আল্লাহর আনুগত্যে পূর্ণ,
সমস্ত মুহুর্তে ভাল-মন্দ সমস্ত পরিস্থিতিতেই
সন্তুষ্ট হৃদয়কে নিশ্চিত করার জন্য তাদের অস্তিত্ব সন্ধান করে।
Oh ALLAH! please forgive us
We are failed to do your given duty,
Failed to do good deed for universe,
Man derails every moment,
Man doing bad deed eagerly or dis-eagerly,
we are failed to do message ,
Oh brother and sister !
This is good, this bad,
Please receive all the good & best things.
If you want to know which is good and bad?
after completing good job,You will get physical happiness & mental peace.
Imagine Muslims life,
started their life by Fazar salat and ended day by isa salat,
Never do they believe a liar,
Always do speak they truth,
Their prophet were true,
speeches were truth,
their whole life full of happiness and obedience of ALLAH,
The find their existence to surrender satisfied heart to ALLAH, in good and bad all situations in all moments.
বুধবার, জুন ১০, ২০২০
১৩২। বিপ্লবী (১৬)
বিপ্লবী,
তোমার আকাশ,
শান্ত বাতাস,
চিল শকুনের দখলে।
উদার নীলে,
শত্রু হায়েনার,
বোমারু বিমান ওড়ে।
এক পলকে,
নিচ্ছে কেঁড়ে,
কত শত প্রাণ!
নাইরে কেহ,
বদলা নেয়ার,
রাখবে কারা মান?
মানুষ নামে,
অমানুষে করছে কতো কী?
ধরাতলে নাইরে কেহ,
ধরবে জীবন বাজী!
ঘুমের ঘোরে,
স্বপ্ন ঘিরে,
দিবা স্বপ্ন দেখে!
জাতির তরে,
জীবন ভরে,
বিপ্লবীরা হাঁকে।
রাতের শেষে,
শেষ প্রহরে,
ডাকবে ভোরের পাখি,
মৃত্যু ফাঁদে,
জীবন কাঁদে,
খুলবেনা তাঁর আঁখি।
আশায় আশায়,
আর কতো কাল,
দেখবে মরণ জিল্লতী,
ভাইয়ের বুকে,
ভাই হয়ে আর,
করবে কতো খুন খারাবী।
সময় হলো,
অস্ত্র তুলো,
নিশানা করো শত্রুদের,
মানবতার ধোঁয়া তুলে,
মারছে মানুষ পলে পলে,
জ্বালাও ঘাঁটি বারুদের।
মুক্ত করো আকাশ বাতাস,
প্রিয় বিশ্বভূমি,
মানবতার শত্রু সবে,
সাফ করিবে তুমি।
অস্ত্র সস্ত্র কামান গোলা,
হাজার, কোটি ডোম,
পথ খুঁজে নাও কেমন করে,
পুঁড়বে সবি, ড্রোন।
বিপ্লবী!
এগিয়ে চলে,
সদলবলে,
পবনবেগে,
বিশ্বজয়ে,
চিরসংগ্রামী,
জাগরুক বিপ্লবী।
০৯/০৪/২০১৮ ঈসায়ী সাল।
সারমর্ম (Summary)
কাব্যিকতা ও সাহিত্যিক বিশ্লেষণ (Literary Analysis)
- আঙ্গিক ও ছন্দ: কবিতাটি মূলত অন্ত্যমিল ও মুক্ত ছন্দের মিশ্রণে রচিত। এতে একটি নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সুর ও গতিময়তা রয়েছে।
- শব্দচয়ন ও চিত্রকল্প (Imagery): কবি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং রূপকধর্মী শব্দ ব্যবহার করেছেন। ‘চিল শকুন’, ‘শত্রু হায়েনা’ এবং ‘বোমারু বিমান’ দিয়ে আধুনিক সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবাজদের বোঝানো হয়েছে। অন্যদিকে ‘ভোরের পাখি’ দিয়ে নতুন আশা ও মুক্তির প্রতীক তৈরি করা হয়েছে।
- আবেদন: কবিতাটির মূল সুর ‘আহ্বানমূলক’ (Exhortative)। এটি পাঠককে নিষ্ক্রিয়তা ভেঙে অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করে।
আলোচনা, সমালোচনা ও পর্যালোচনা (Critique & Review)
- ইতিবাচক দিক: কবিতাটিতে সমকালীন বিশ্বের ভূ-রাজনীতি, যুদ্ধবিগ্রহ এবং ড্রোন হামলার মতো আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের নির্মমতার বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। মানবতাবাদের ছদ্মবেশে (‘মানবতার ধোঁয়া তুলে’) যে বৈশ্বিক রাজনীতি চলছে, কবি তা চমৎকারভাবে উন্মোচন করেছেন। কবিতার শেষাংশে বিপ্লবীদের ‘পবনবেগে’ এগিয়ে যাওয়ার বার্তাটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
- সীমাবদ্ধতা বা সমালোচনা: সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, কিছু জায়গায় শব্দের অতি-ব্যবহার বা সরলীকরণ দেখা যায় (যেমন: ‘খুন খারাবী’, ‘অস্ত্র সস্ত্র কামান গোলা’)। তবে কবিতার দ্রোহ ও আবেগের তীব্রতার কারণে এই সামান্য শিথিলতা ঢাকা পড়ে গেছে।
বিশ্ব-সাহিত্যিক মূল্যায়ন (Global Literary Evaluation)
মানব জীবনে তাৎপর্য ও বিশেষত্ব (Significance in Human Life)
- অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে জাগরণ: কবিতাটি মানবজীবনকে শেখায় যে, অন্যায় দেখে চুপ থাকা বা ‘দিবা স্বপ্ন’ দেখা কাপুরুষতা।
- যৌথ শক্তির চেতনা: ‘সদলবলে’ এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে কবি একক প্রচেষ্টার চেয়ে সম্মিলিত আন্দোলনের ওপর জোর দিয়েছেন।
- সচেতনতা: তথাকথিত ‘মানবতার ধোঁয়া’ তোলা ছদ্মবেশী শত্রুদের চিনে নেওয়ার এক বার্তা রয়েছে এখানে, যা বাস্তব জীবনে মানুষকে সচেতন হতে সাহায্য করে।
“বিপ্লবী (১৬)” — কাব্যিক ও সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
কবি: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)
“বিপ্লবী (১৬)” কবিতাটি যুদ্ধ, আগ্রাসন, মানবিক বিপর্যয় এবং প্রতিরোধচেতনার এক তীব্র ও অগ্নিময় কাব্যিক প্রকাশ। এখানে কবি আকাশ, বাতাস, শকুন, বোমারু বিমান, ড্রোন ইত্যাদি প্রতীকের মাধ্যমে আধুনিক যুদ্ধসভ্যতার নিষ্ঠুরতা তুলে ধরেছেন এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের আহ্বান জানিয়েছেন। কবিতাটি একই সঙ্গে প্রতিবাদ, বেদনা ও জাগরণের কণ্ঠস্বর।
কাব্যিকতা ও শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য
১. তীব্র চিত্রকল্প ও প্রতীক
কবিতার শুরুতেই শক্তিশালী প্রতীকী চিত্র—
“তোমার আকাশ,
শান্ত বাতাস,
চিল শকুনের দখলে।”
এখানে “চিল শকুন” শুধু পাখি নয়; বরং যুদ্ধবাজ, লোভী ও ধ্বংসাত্মক শক্তির প্রতীক।
“বোমারু বিমান”, “ড্রোন”, “বারুদ”— আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তির ভয়াবহতাকে কাব্যিকভাবে প্রকাশ করেছে।
২. ধ্বনি ও আবেগের বিস্ফোরণ
কবিতার ভাষা সংক্ষিপ্ত, দ্রুতগতিসম্পন্ন ও বজ্রধ্বনির মতো তীব্র।
“অস্ত্র তুলো”, “জ্বালাও ঘাঁটি”, “মুক্ত করো আকাশ বাতাস”— এসব উচ্চারণ কবিতাকে স্লোগানধর্মী ও আবৃত্তিযোগ্য করেছে।
৩. আলো-অন্ধকারের দ্বন্দ্ব
কবিতায় যুদ্ধের অন্ধকারের বিপরীতে মুক্তির স্বপ্ন রয়েছে।
“রাতের শেষে,
শেষ প্রহরে,
ডাকবে ভোরের পাখি,”
এই অংশে আশাবাদী পুনর্জাগরণের প্রতীক ফুটে উঠেছে।
সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. যুদ্ধবিরোধী মানবিক চেতনা
কবিতাটি মূলত মানবিক সংকটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
কবি দেখিয়েছেন কিভাবে “মানুষ নামে অমানুষ” যুদ্ধ ও ক্ষমতার লোভে মানবতাকে ধ্বংস করছে।
“এক পলকে,
নিচ্ছে কেঁড়ে,
কত শত প্রাণ!”
এই পঙ্ক্তি আধুনিক যুদ্ধের নিষ্ঠুর ও নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞকে তুলে ধরে।
২. বিদ্রোহ ও প্রতিরোধের দর্শন
কবিতার কেন্দ্রীয় শক্তি হলো প্রতিরোধচেতনা।
কবি নিপীড়িত মানুষকে আত্মরক্ষামূলক জাগরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এখানে বিদ্রোহ ধ্বংসের জন্য নয়; বরং স্বাধীনতা ও মানবতার পুনরুদ্ধারের জন্য।
৩. আধুনিক যুদ্ধসভ্যতার সমালোচনা
“ড্রোন”, “বোমারু বিমান”, “কামান গোলা”— এসব উপাদান কবিতাটিকে সমকালীন বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করেছে।
এটি শুধু ঐতিহাসিক যুদ্ধ নয়; আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর আগ্রাসনেরও কাব্যিক প্রতিবাদ।
বিশ্ব-সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার ভাবধারা বিশ্বসাহিত্যের যুদ্ধবিরোধী ও বিপ্লবী কবিতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
- Kazi Nazrul Islam-এর বিদ্রোহী চেতনা,
- Pablo Neruda-এর রাজনৈতিক মানবতাবাদ,
- Mahmoud Darwish-এর দখলদারিত্ববিরোধী বেদনা ও প্রতিরোধচেতনার সঙ্গে এর সাদৃশ্য রয়েছে।
তবে “বিপ্লবী (১৬)” অধিকতর সরাসরি, আবেগপ্রবণ ও গণসংগ্রামমুখী।
সমালোচনা
শক্তির দিক
- শক্তিশালী যুদ্ধবিরোধী চিত্রকল্প।
- আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর আগ্রাসনের প্রতিফলন।
- তীব্র আবেগ ও বিপ্লবী শক্তি।
- সহজ ভাষায় গভীর মানবিক সংকট তুলে ধরা।
সীমাবদ্ধতা
- কিছু স্থানে ভাষা অত্যন্ত সরাসরি ও স্লোগানধর্মী।
- কাব্যিক সূক্ষ্মতার তুলনায় রাজনৈতিক আবেগ বেশি প্রবল।
- “অস্ত্র তোলার” আহ্বানকে রূপক অর্থে প্রতিরোধচেতনা হিসেবে পড়া অধিক উপযোগী; নতুবা এটি সহিংসতার ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাখ্যা তৈরি করতে পারে।
মানব জীবনে তাৎপর্য
এই কবিতা মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়—
- যুদ্ধ ও আগ্রাসন মানবতার জন্য ভয়াবহ।
- নীরবতা অত্যাচারকে শক্তিশালী করে।
- মানবিক স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় সচেতনতা প্রয়োজন।
- অন্ধকারের মধ্যেও মুক্তি ও আশার সম্ভাবনা থাকে।
বিশেষত্ব
- আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তিকে কাব্যিক প্রতীকে রূপান্তর।
- আকাশ ও প্রকৃতির মাধ্যমে স্বাধীনতার ধারণা নির্মাণ।
- যুদ্ধবিরোধী মানবিক প্রতিবাদ ও জাগরণী আহ্বান।
- শক্তিশালী আবৃত্তিযোগ্য ও গণমুখী ভাষা।
সারমর্ম
“বিপ্লবী (১৬)” একটি যুদ্ধবিরোধী, মানবতাবাদী ও জাগরণধর্মী কবিতা, যেখানে কবি আধুনিক আগ্রাসন, ধ্বংস ও মানবিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নিপীড়িত মানুষের আত্মমর্যাদা, স্বাধীনতা ও মানবিক জাগরণের আহ্বান উচ্চারণ করেছেন। কবিতাটির মূল শক্তি নিহিত রয়েছে এর তীব্র প্রতীকী ভাষা, সংগ্রামী আবেগ এবং মুক্ত মানবতার স্বপ্নে।
**********
১৩১। বিপ্লবী (১৫)
বিপ্লবী,
প্রিয় ফুলের,
বুকের মাঝে,
সুবাস মাখা,
পাঁপড়ি গায়ে,
নষ্ট পোকা,
বসত করে,
করছে কতো ক্ষতি!
আর কতো কাল,
ঘুমিয়ে রবে,
এবার জাগবে কী!
চির সংগ্রামী!
প্রিয় বিপ্লবী!
ফুলের সুবাস প্রিয় সবার,
বাগ-বাগিচা নাই,
ফুলের বাগান গড়বে তুলে,
মাটি, পানি চাই।
জীবন ছাড়া মাটি মাঝে,
হয়না ফুল ও ফসল,
ধরাতলে খরা শেষে,
খোদা দানে জল।
মৃত ভূমি নব সাজে,
নতুন প্রাণে, সবুজ মাঝে,
ফুটছে কতো ফুটবে ফল,
জীবন হবে সফল।
ফুল ফসলে ভরা জমি,
বাহাদুরি করছো তুমি,
আমার আমার বলছো সবি,
কদিন বাদে সব হারাবি।
বলো সবে হর হামেশা,
আল্লাহ পূরণ করবে আশা,
মানছি কিনা সবে,
বলছে যেমন রবে।
তারই দেয়া নেয়ামতে,
চলছে জীবন ভবে,
কৃতজ্ঞতা নাই কাহারো,
কেমনে সঠিক রবে!
ফুলবাগানে মড়ক লেগেছে,
নাইরে ফুলের ঘ্রাণ,
পাঁপড়ি ছিঁড়ে, সুবাস কেঁড়ে,
শেষে নিল প্রাণ।
ভাসছে কীসে তরুণ তরুণী,
নষ্ট প্রেমের মোহে,
আঁধার রাতে, ছেলে মেয়ে,
কোথায় পড়ে থাকে!
খোঁজ খবর রাখে কিনা,
আসল নকল মা,
কোথায় গেলো কিশোর যুবা,
লক্ষী মেয়েটা।
কীযে করে কেমন তাদের,
কাটে জীবন বেলা,
সর্বনাশী, সর্পজাতি,
নষ্টামিতে খেলা।
কেমন করে চলবে সবে,
সুবাস রবে ফুলের বুকে,
ভাবছে কেহ, ফুলে ফলে,
বাগ-বাগিচা ওঠবে ভরে।
বিপ্লবী!
ফুলে ফলে,
বাগান-বাগে,
দীঘল বিপ্লবে,
জরা-খরা,
সব হারাবে,
সতেজ স্বরুপ পাবে।
জাগো সবে জাগো,
চির সংগ্রামী,
মুক্তিকামী,
জাগো হে বিপ্লবী।!
সারমর্ম (Summary)
কাব্যিকতা ও সাহিত্যিক বিশ্লেষণ (Literary Analysis)
- রূপকের ব্যবহার: কবি সমাজকে ‘বাগ-বাগিচা’ এবং তরুণ প্রজন্মকে ‘প্রিয় ফুল’ হিসেবে চিত্রায়িত করেছেন। অনৈতিকতা ও সামাজিক অবক্ষয়কে ‘নষ্ট পোকা’ ও ‘মড়ক’ এর সাথে তুলনা করা হয়েছে।
- ভাষা ও ছন্দ: কবিতাটি সহজ-সরল, অন্ত্যমিলযুক্ত এবং লোকজ ঘরানার শব্দে বিন্যস্ত। তবে এর ভেতরে একটি তীব্র সুর ও গীতিময়তা রয়েছে, যা পাঠককে সহজেই তাড়িত করে।
- ভাববৈচিত্র্য: এখানে যুগপৎভাবে সমাজ সংস্কারের ডাক (বিপ্লব) এবং স্রষ্টার প্রতি সমর্পণের (আধ্যাত্মিকতা) এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে। ‘আমার আমার বলছো সবি’ লাইনের মাধ্যমে কবি জাগতিক মোহ ও অহংকারের ক্ষণস্থায়িত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন।
বিশ্ব-সাহিত্যিক মূল্যায়ন (Global Literary Evaluation)
- রুশ কবি ভ্লাদিমির মায়াকোভস্কি বা বাঙলার সুকান্ত ভট্টাচার্যের মতো এখানেও বিপ্লবের ডাক আছে, তবে এই বিপ্লব কেবল রাজনৈতিক নয়, এটি আত্মিক ও নৈতিক।
- পারস্যের সুফি কবি জালালুদ্দিন রুমি বা শেখ সাদীর মতো এখানেও প্রকৃতির রূপকের আড়ালে স্রষ্টার নেয়ামত ও মানুষের চরম অহংকারের অসারতা প্রকাশ পেয়েছে।
আলোচনা ও পর্যালোচনা (Discussion & Review)
- পারিবারিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা: ‘খোঁজ খবর রাখে কিনা, আসল নকল মা’— এই চরণের মাধ্যমে কবি আধুনিক পরিবারের ভাঙন ও সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের উদাসীনতার এক নির্মম সত্য প্রকাশ করেছেন।
- সমালোচনা: সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে কবিতাটির কিছু জায়গায় শব্দের বিন্যাস ও ছন্দ আরও আঁটসাঁট হতে পারত। তবে এর ভেতরের তীব্র সামাজিক বার্তা ও আবেগের গভীরতা এই টেকনিক্যাল সীমাবদ্ধতাকে ঢেকে দিয়েছে।
মানব জীবনে তাৎপর্য ও বিশেষত্ব (Significance in Human Life)
- বিবেকের জাগরণ: কবিতাটি মানুষকে আত্মজিজ্ঞাসার মুখোমুখি দাঁড় করায়। এটি মনে করিয়ে দেয় যে, বাহ্যিক চাকচিক্য ক্ষণস্থায়ী।
- নৈতিকতার পুনরুদ্ধার: তরুণ সমাজ যখন ‘নষ্ট প্রেমের মোহে’ বা অন্ধকারের দিকে ধাবিত হয়, তখন এই কবিতাটি তাদের আলোর পথ দেখায়।
- কৃতজ্ঞতাবোধ: স্রষ্টার দেয়া নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার মাধ্যমে কীভাবে একটি সমাজ ‘সতেজ স্বরূপ’ ফিরে পেতে পারে, কবিতাটি সেই পথ নির্দেশ করে।
“বিপ্লবী (১৫)” — কাব্যিক ও সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
কবি: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)
“বিপ্লবী (১৫)” কবিতাটি মূলত নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক সংকট, তরুণ সমাজের বিপথগামিতা এবং আত্মিক পুনর্জাগরণের আহ্বানভিত্তিক এক প্রতীকধর্মী বিদ্রোহী কাব্য। এখানে কবি “ফুল”, “বাগান”, “সুবাস”, “পোকা”, “খরা” ইত্যাদি প্রকৃতিনির্ভর প্রতীকের মাধ্যমে সমাজ ও মানবজীবনের নৈতিক অবস্থাকে গভীরভাবে উপস্থাপন করেছেন।
কাব্যিকতা ও শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য
১. প্রতীকধর্মী কাব্যভাষা
এই কবিতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর প্রতীকী নির্মাণ।
- ফুল → পবিত্রতা, সৌন্দর্য ও মানবিক চরিত্রের প্রতীক।
- নষ্ট পোকা → সমাজের ধ্বংসাত্মক প্রবণতা ও নৈতিক অবক্ষয়।
- বাগান → মানবসমাজ ও সভ্যতা।
- খরা ও জল → আত্মিক শূন্যতা ও স্রষ্টার রহমত।
“ফুলবাগানে মড়ক লেগেছে,
নাইরে ফুলের ঘ্রাণ,”
এই পঙ্ক্তি পুরো সমাজের নৈতিক বিপর্যয়কে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে প্রকাশ করেছে।
২. প্রকৃতি ও জীবনদর্শনের সংমিশ্রণ
কবি প্রকৃতির চক্রকে মানবজীবনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
“মৃত ভূমি নব সাজে,
নতুন প্রাণে, সবুজ মাঝে,”
এখানে ধ্বংসের পর পুনর্জন্ম ও আশার দর্শন ফুটে উঠেছে।
৩. আবেগ ও জাগরণধর্মী উচ্চারণ
কবিতাটি শুধুমাত্র অভিযোগ নয়; বরং জাগরণের আহ্বান।
“জাগো সবে জাগো,
চির সংগ্রামী,
মুক্তিকামী,”
এই অংশে কবির বিদ্রোহী ও প্রেরণাদায়ী কণ্ঠ স্পষ্ট।
সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিবাদ
কবিতায় আধুনিক সমাজের ভোগবাদ, নষ্ট প্রেম, তরুণদের পথভ্রষ্টতা ও পারিবারিক অবহেলার চিত্র উঠে এসেছে।
“আঁধার রাতে, ছেলে মেয়ে,
কোথায় পড়ে থাকে!”
এখানে কবি উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও সমাজসচেতন পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।
২. নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা
কবিতাটি ধর্মীয় ও নৈতিক চেতনায় গভীরভাবে প্রভাবিত।
“আল্লাহ পূরণ করবে আশা,”
কবি মনে করেন, স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও নৈতিক জীবন ছাড়া সমাজে সত্যিকারের সুবাস ফিরে আসবে না।
৩. মানবিক পুনর্জাগরণের দর্শন
কবিতার মূল লক্ষ্য ধ্বংস নয়; পুনর্গঠন।
কবি চান “ফুলে ফলে ভরা জমি”— অর্থাৎ সুস্থ, সুন্দর ও নৈতিক সমাজব্যবস্থা।
বিশ্ব-সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতাটি বিশ্বসাহিত্যের নৈতিক ও প্রতীকধর্মী কবিতার ধারার সঙ্গে সম্পর্কিত।
- Kazi Nazrul Islam-এর বিদ্রোহী সামাজিক চেতনা,
- Rabindranath Tagore-এর প্রকৃতিনির্ভর মানবতাবাদ,
- Rumi-এর আত্মিক শুদ্ধতার দর্শনের সঙ্গে এর ভাবগত মিল রয়েছে।
তবে এই কবিতা বেশি সরাসরি সামাজিক ভাষ্যধর্মী এবং গণসচেতনতামূলক।
সমালোচনা
শক্তির দিক
- শক্তিশালী প্রতীক ব্যবহার।
- সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের বাস্তব সংকট তুলে ধরা।
- নৈতিক ও আধ্যাত্মিক জাগরণের আহ্বান।
- সহজ ভাষায় গভীর সামাজিক বক্তব্য।
সীমাবদ্ধতা
- কিছু স্থানে বক্তব্য অতিরিক্ত উপদেশমূলক হয়েছে।
- কাব্যিক সংযমের তুলনায় আবেগের প্রবাহ বেশি।
- প্রতীকের শিল্পিত স্তর আরও সূক্ষ্ম হতে পারত।
তবে এই সরলতাই কবিতাটিকে জনমুখী ও সহজবোধ্য করেছে।
মানব জীবনে তাৎপর্য
এই কবিতা মানুষকে শেখায়—
- নৈতিক অবক্ষয় সমাজকে ধ্বংস করে।
- তরুণ সমাজকে সঠিক পথে পরিচালনা জরুরি।
- সুন্দর সমাজ গড়তে আত্মিক ও নৈতিক শুদ্ধতা প্রয়োজন।
- আশা, জাগরণ ও পুনর্গঠন সবসময় সম্ভব।
বিশেষত্ব
- ফুল ও বাগানের মাধ্যমে সমাজের রূপক নির্মাণ।
- বিদ্রোহকে নৈতিক পুনর্জাগরণের রূপ দেওয়া।
- প্রকৃতি, ধর্ম ও সমাজচেতনার সমন্বয়।
- আবৃত্তিযোগ্য ও জনসচেতনতামূলক ভাষা।
সারমর্ম
“বিপ্লবী (১৫)” একটি প্রতীকধর্মী সামাজিক ও নৈতিক জাগরণের কবিতা। এখানে কবি ফুল ও বাগানের রূপকের মাধ্যমে সমাজের অবক্ষয়, তরুণদের বিপথগামিতা এবং মানবিক সংকটকে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে তিনি আশা, আত্মশুদ্ধি ও স্রষ্টামুখী নৈতিক জীবনের আহ্বান জানিয়েছেন। কবিতাটির মূল শক্তি নিহিত রয়েছে এর প্রতীকী ভাষা, সামাজিক সচেতনতা ও পুনর্জাগরণের আশাবাদী চেতনায়।
******************************
সোমবার, জুন ০৮, ২০২০
হেরার জ্যোতি
ঐক্য চায়, জনে জনে,
প্রতিদিনে, ক্ষণে ক্ষণে,
কথা, কাজে, আচরণে,
চিন্তাধারা, ধ্যানে-মনে।
ঘরে,গোরে, দ্বারে, সারে,
সন্ধ্যা, সাঁঝে, আলো, আঁধারে,
হাসি, কান্না, সুখে, দুঃখে,
সুদিন, কুদিন, জীবন জুড়ে।
রবিবার, জুন ০৭, ২০২০
কাঁদে শাহ্- এ -মদীনা
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
০৬/০৬/২০২০ ঈসায়ী সাল।
কান্দেরে পরাণ।
কোথায় আছো, আমার আপন,
মোমিন মুসলমান।
মরু সাহারায়।
শুইয়ে আছেন মহানবী (সাঃ),
সোনার মদীনায়।
শুক্রবার, জুন ০৫, ২০২০
করোনা
গতিশীল চাকা সব,
কেউ কেউ ক্ষুব্ধ,
জমছে চাঁপা ক্ষোভ।
নিজ নিজ কর্ম,
ঘরে বসে করে যায়,
যার যার ধর্ম।
শনিবার, মে ৩০, ২০২০
عارف الإسلام بهيان|ARIFUL ISLAM BHUIYAN | আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া | : Revolutionary-Rebel
Revolutionary-Rebel
শুক্রবার, মে ২৯, ২০২০
১৩০। বিপ্লবী (১৪)
উড়াও নিশান,
বাজাও ভীষণ,
বজ্রযানে বজ্রনাদ,
বিপ্লবীরা জিন্দাবাদ।
আর কতোকাল,
পথের পানে,
রয়বে চেয়ে,
অধীর হয়ে;
ছিঁড়বে গেঁড়ো,
ভাঙ্গবে শিকল,
করবে বিকল,
ঝঞ্ঝা লয়ে।
ঝড়ো হাওয়া,
বয়ে যাওয়া,
আঁধার ঘেরা,
পালযে ছেঁড়া,
পাহাড় ছোঁয়া,
ঊর্মি ধোঁয়া,
আসছে ধেয়ে,
আকাশ ছেঁয়ে।
তারার মেলা,
আলোর খেলা,
যায়না দেখা,
লক্ষ্য রেখা,
মিলবে কোথা,
জাতির নেতা,
জাগবে মানবতা,
নামবে সফলতা।
দিশেহারা জাতি,
জাগছে দিবারাতি,
আসলো বুঝি,
সদলবলে যুঝি,
ঘুমহারা বিদ্রোহী,
মুক্তি পাগল রাহী।
দূরন্ত অশ্বারোহী,
দূর্বার মতি গতি,
বিপ্লবী শাহানশাহী।
দেখছে সবে,
আকাশ পরে,
জমছে মেলা,
মেঘের ভেলা,
তারায় তারায়,
আলোর আভায়,
ভরছে পৃথিবী।
রুপালী আলো,
সোনালী বলো,
সব তাড়ালো,
আঁধার কালো।
বিজয়ী বিপ্লবী।
চির সংগ্রামী,
জাগ্রত বিদ্রোহী।
চির বিপ্লবী।
হয়তো তুমি,
স্বপ্ন চুমি,
কিশোর কিশোরী,
যুবক যুবতী।
অনন্ত যাত্রী,
সচেতন সাস্ত্রী।
তরুণ সেনানী,
জাতির কান্ডারী,
আত্ম বিশ্বাসী।
চির বিদ্রোহী,
চির বিপ্লবী।
০৪/০৪/২০১৮ ঈসায়ী সাল।
সারমর্ম (Summary)
কাব্যিকতা ও সাহিত্যিক বিশ্লেষণ (Literary Analysis)
- ছন্দ ও সুর: কবিতাটি তীব্র গতিময় এবং উদ্দীপনামূলক অন্ত্যমিলপ্রধান (Rhyme) ছন্দে রচিত। ছোট ছোট পঙ্ক্তি এবং শব্দের দ্রুত উচ্চারণ (যেমন: নিশান/ভীষণ, বজ্রযানে/বজ্রনাদ, শিকল/বিকল) কবিতাটিতে একটি যুদ্ধক্ষেত্রের বা রণসঙ্গীতের মতো আবহ তৈরি করেছে।
- রূপক ও প্রতীকের ব্যবহার: কবিতায় ‘আঁধার ঘেরা পাল’, ‘ঝড়ো হাওয়া’ এবং ‘পাহাড় ছোঁয়া ঊর্মি’ হলো সমাজের সংকট ও শোষণের রূপক। অন্যদিকে ‘দূরন্ত অশ্বারোহী’ ও ‘তরুণ সেনানী’ হলো পরিবর্তনের প্রতীক। ‘রূপালী আলো’ ও ‘সোনালী বলো’ দ্বারা কবি মুক্তির পরবর্তী সুন্দর ও সমৃদ্ধ সময়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
- ভাষাশৈলী: শব্দচয়নে তৎসম এবং গতিশীল শব্দের আধিক্য দেখা যায়। ‘বিপ্লবী শাহানশাহী’, ‘অনন্ত যাত্রী’, ‘সচেতন শাস্ত্রী’র মতো শব্দগুলো বিপ্লবীদের এক প্রকার রাজকীয় ও দায়িত্বশীল মর্যাদা প্রদান করেছে।
বিশ্ব-সাহিত্যিক মূল্যায়ন (Global Literary Perspective)
আলোচনা, সমালোচনা ও পর্যালোচনা (Critique)
- সবল দিক (Discussion): কবিতাটির সবচেয়ে বড় শক্তি এর গতি ও ইতিবাচক সমাপ্তি। এটি পাঠককে হতাশ করে না, বরং ‘বিজয়ী বিপ্লবী’র রূপকল্প এঁকে মনে শক্তি যোগায়। কিশোর-কিশোরী ও যুবক-যুবতীদের ‘জাতির কান্ডারী’ ও ‘আত্মবিশ্বাসী’ বলে সম্বোধন করায় এটি তরুণদের মনস্তত্ত্বকে দারুণভাবে আলোড়িত করে।
- দুর্বল দিক (Criticism): কোনো কোনো জায়গায় অন্ত্যমিল ধরে রাখার তাড়নায় শব্দের পর শব্দ খুব দ্রুত বসে গেছে, যার ফলে ভাবের গভীরতা কিছুটা ঢাকা পড়েছে। এছাড়া ‘বিপ্লবী শাহানশাহী’ (রাজকীয় বিপ্লবী) শব্দটি সাম্যবাদী বা গণবিপ্লবের ধারণার সাথে কিছুটা বৈপরীত্য তৈরি করে, কারণ ‘শাহানশাহী’ বা রাজতন্ত্র সাধারণত শোষণের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
মানব জীবনে তাৎপর্য ও বিশেষত্ব (Human Significance)
- তারুণ্যের শক্তি ও দায়িত্ব: কবিতাটি মানব জীবনে অলসতা ও পরনির্ভরশীলতা ঝেড়ে ফেলে আত্মবিশ্বাসী হওয়ার শিক্ষা দেয়। সমাজ বা রাষ্ট্র যখন ‘দিশেহারা’ হয়, তখন তরুণদেরই ‘সচেতন শাস্ত্রী’ বা পাহারাদার হিসেবে জেগে উঠতে হয়।
- সংকট কাটার আশ্বাস: মানুষের ব্যক্তিগত বা সামাজিক জীবনে যখন ‘আঁধার কালো’ নেমে আসে, তখন এই কবিতা মনে করিয়ে দেয় যে ঝড়ের পরই ‘তারার মেলা’ ও ‘আলোর খেলা’ শুরু হয়।
- নেতৃত্বের গুরুত্ব: একটি সমাজ বা জাতির সফলতার জন্য একজন যোগ্য, দূরদর্শী এবং মানবিকতাসম্পন্ন ‘জাতির নেতা’ কতটা জরুরি, কবিতাটি সেই সত্যকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।
“বিপ্লবী (১৪)” — কাব্যিক ও সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
কবি: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)
“বিপ্লবী (১৪)” কবিতাটি এক জাগরণধর্মী, উদ্দীপনামূলক ও সংগ্রামী কাব্য, যেখানে কবি বিদ্রোহ, স্বাধীনচেতা মানবতা, যুবশক্তি ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে বজ্রনাদের মতো উচ্চারণ করেছেন। এটি কেবল রাজনৈতিক বিপ্লবের আহ্বান নয়; বরং অন্ধকার, স্থবিরতা ও দিশাহীনতার বিরুদ্ধে এক মানসিক ও আত্মিক জাগরণের কবিতা।
কাব্যিকতা ও শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য
১. ধ্বনিগত শক্তি ও আবৃত্তিযোগ্যতা
কবিতার শুরুতেই তীব্র স্লোগানধর্মী উচ্চারণ—
“উড়াও নিশান,
বাজাও ভীষণ,
বজ্রযানে বজ্রনাদ,
বিপ্লবীরা জিন্দাবাদ।”
এই ছন্দ, অনুপ্রাস ও ধ্বনির গতি কবিতাকে অত্যন্ত আবৃত্তিযোগ্য ও উদ্দীপনাময় করেছে। “বজ্র”, “ঝঞ্ঝা”, “ঝড়ো হাওয়া”, “দূর্বার”— এসব শব্দ কবিতায় শক্তি ও গতি এনেছে।
২. প্রকৃতি ও বিপ্লবের চিত্রকল্প
কবি ঝড়, মেঘ, আকাশ, তারার আলো, পাহাড়, ঊর্মি— এসব প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে বিপ্লবকে মহাজাগতিক শক্তির রূপ দিয়েছেন।
- “পাল যে ছেঁড়া” — সংকট ও ভগ্ন সমাজের প্রতীক।
- “রুপালী আলো, সোনালী বলো, সব তাড়ালো আঁধার কালো” — অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাত্রা।
- “দূরন্ত অশ্বারোহী” — গতিশীল বিপ্লবী যুবশক্তির প্রতীক।
সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. বিদ্রোহী কাব্যধারা
এই কবিতায় বাংলা বিদ্রোহী সাহিত্যের শক্তিশালী ঐতিহ্য প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষত Kazi Nazrul Islam-এর বিদ্রোহী চেতনার অনুরণন অনুভূত হয়।
কবিতার ভাষা সরাসরি, অগ্নিময় ও গণজাগরণমূলক। এখানে কবি জনগণকে জাগিয়ে তুলতে চান।
২. যুবসমাজের প্রতি আহ্বান
কবিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তরুণদের উদ্দেশে আহ্বান—
“কিশোর কিশোরী,
যুবক যুবতী।”
এখানে যুবসমাজকে জাতির ভবিষ্যৎ, পরিবর্তনের চালিকাশক্তি ও আত্মবিশ্বাসী নেতৃত্ব হিসেবে দেখা হয়েছে।
৩. আশা ও আলোর দর্শন
কবিতায় অন্ধকার থাকলেও হতাশা নেই। বরং আলো, বিজয় ও মানবতার প্রত্যাবর্তনের বিশ্বাস প্রবল।
“জাগবে মানবতা,
নামবে সফলতা।”
এই আশাবাদ কবিতাটিকে ধ্বংসের নয়, পুনর্জাগরণের কাব্যে পরিণত করেছে।
বিশ্ব-সাহিত্যিক মূল্যায়ন
বিশ্বসাহিত্যের বিপ্লবী ও জাগরণধর্মী কবিতার সঙ্গে এই কবিতার ভাবগত মিল রয়েছে। যেমন—
- Kazi Nazrul Islam-এর বিদ্রোহী চেতনা,
- Pablo Neruda-এর সংগ্রামী মানবিকতা,
- Walt Whitman-এর গণমানুষ ও মানবসম্ভাবনার উদ্যাপন।
তবে “বিপ্লবী (১৪)” বেশি স্লোগানধর্মী, আবেগপ্রবণ ও জনমুখী, যা একে মঞ্চকাব্য ও গণআবৃত্তির জন্য উপযোগী করে তুলেছে।
সমালোচনা
শক্তির দিক
- প্রবল উদ্দীপনামূলক শক্তি।
- শক্তিশালী ধ্বনি ও ছন্দ।
- যুবসমাজকে জাগানোর স্পষ্ট আহ্বান।
- আলোক ও আশাবাদের প্রতীকী ব্যবহার।
সীমাবদ্ধতা
- কিছু স্থানে ভাবের পুনরাবৃত্তি রয়েছে।
- প্রতীকের গভীরতা আরও সূক্ষ্ম হতে পারত।
- বক্তব্যের তীব্রতা কখনো কখনো কাব্যের কোমলতা কমিয়েছে।
তবে এই তীব্রতাই কবিতাটিকে জাগরণমূলক শক্তি দিয়েছে।
মানব জীবনে তাৎপর্য
এই কবিতা মানুষকে শেখায়—
- অন্ধকার যত গভীর হোক, জাগরণ সম্ভব।
- যুবসমাজই পরিবর্তনের প্রধান শক্তি।
- মানবতা ও আত্মবিশ্বাস ছাড়া মুক্তি আসে না।
- সংগ্রাম ও আশা একে অপরের পরিপূরক।
বিশেষত্ব
- বিপ্লবকে প্রাকৃতিক শক্তির সঙ্গে তুলনা।
- যুবসমাজকেন্দ্রিক জাগরণী আহ্বান।
- উচ্চারণভিত্তিক শক্তিশালী কাব্যভাষা।
- আলো বনাম অন্ধকারের প্রতীকী দ্বন্দ্ব।
সারমর্ম
“বিপ্লবী (১৪)” একটি জাগরণধর্মী বিদ্রোহী কবিতা, যেখানে কবি সমাজের দিশাহীনতা, স্থবিরতা ও অন্ধকারের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মকে জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন। কবিতাটি সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস, মানবতা ও বিজয়ের স্বপ্নে উজ্জীবিত। এর মূল শক্তি নিহিত রয়েছে বজ্রনাদের মতো উচ্চারণ, প্রতীকী আলোকচিত্র ও আশাবাদী বিপ্লবী চেতনার মধ্যে।
*********************১২৯। বিপ্লবী (১৩)
সারমর্ম (Summary)
কাব্যিকতা ও সাহিত্যিক বিশ্লেষণ (Literary Analysis)
- ছন্দ ও সুর: কবিতাটি মূলত অন্ত্যমিলপ্রধান মুক্তক ছন্দে রচিত। এর পঙ্ক্তিগুলোর দৈর্ঘ্য অসমান হলেও একটি অন্তর্নিহিত লয় ও সুরের গতিময়তা রয়েছে (যেমন: আবাদ/সাম্যবাদ, বিধান/গান)।
- রূপক ও প্রতীক: কবি এখানে ‘মুসাফির’ শব্দটিকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যা একই সাথে সত্যান্বেষী এবং সমাজের নীরব দর্শক। ‘ঠুনকো কাঁচের স্বপ্ন’ বলতে কবি ক্ষণস্থায়ী পার্থিব লালসাকে বুঝিয়েছেন। ‘আকাশ ফুঁড়িয়া সুবাস ছড়ানো’ হলো বিপ্লবের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতীক।
- শব্দচয়ন ও দ্বান্দ্বিকতা: কবিতায় একদিকে রয়েছে ‘অগ্নিশর্মা’, ‘চির-বিদ্রোহী’, ‘গর্জে ওঠো’র মতো অগ্নিগর্ভ বিপ্লবী শব্দ; অন্যদিকে রয়েছে ‘জাহান্নাম’, ‘খোদার বিধান’, ‘পুণ্যপথ’, ‘রুহ’—এর মতো সুফি ও ধর্মীয় শব্দাবলী। রাজনৈতিক সাম্যবাদ ও আধ্যাত্মিক শুদ্ধিবাদের এক অভিনব মিশ্রণ ঘটেছে এখানে।
বিশ্ব-সাহিত্যিক মূল্যায়ন (Global Literary Perspective)
আলোচনা, সমালোচনা ও পর্যালোচনা (Critique)
- সবল দিক (Discussion): সমাজের অন্ধকার দিকগুলোর (হোটেল রুমের গোপন লালসা, মেকি প্রেম, অনৈতিকতা) নিখুঁত ও সাহসী চিত্রায়ন কবিতাটিকে বাস্তবমুখী করে তুলেছে। “জীবন দিয়ে, স্বপ্ন কিনে... দেখছে শেষে ফাঁকাবুলি”—লাইনটি জীবনের এক চরম মনস্তাত্ত্বিক সত্যকে প্রকাশ করে।
- দুর্বল দিক (Criticism): সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, ‘সাম্যবাদ’ (যা মূলত একটি ধর্মনিরপেক্ষ বা বস্তুতাবাদী রাজনৈতিক দর্শন) এবং ‘খোদার বিধান/জাহান্নাম’ (যা ধর্মীয় অনুশাসন)—এই দুটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী ধারণাকে একই সমান্তরালে মেলানোর চেষ্টা করা হয়েছে। দর্শনের এই মিশ্রণ কোথাও কোথাও কিছুটা স্ববিরোধী মনে হতে পারে। কিছু জায়গায় অন্ত্যমিল মেলাতে গিয়ে কাব্যিক গাম্ভীর্য কিছুটা শিথিল হয়েছে।
মানব জীবনে তাৎপর্য ও বিশেষত্ব (Human Significance)
- মোহমুক্তি ও আত্মসচেতনতা: আধুনিক যুগে তরুণ সমাজ যেভাবে ‘ক্ষণিক আবেগ’ ও ‘নষ্ট প্রেমের’ মোহে পড়ে ক্যারিয়ার ও জীবন ধ্বংস করছে, এই কবিতা তাদের জন্য একটি ‘ওয়েক-আপ কল’ বা সতর্কবার্তা।
- ভোগের চেয়ে ত্যাগের মহিমা: কবি মনে করিয়ে দিয়েছেন, স্বপ্ন জীবনের চেয়ে বড় নয়। আত্মত্যাগের মাধ্যমেই সমাজে প্রকৃত ‘সাম্যবোধ’ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
- নৈতিক পুনরুত্থান: আইন দিয়ে সমাজ পরিবর্তন সম্ভব নয়, যতক্ষণ না মানুষের ‘রুহ’ বা আত্মা পুণ্যপথে ধাবিত হচ্ছে। সৎ জীবনসঙ্গী (মাছুম পতি) এবং পবিত্র বংশধারা (পুতঃ রবে কুল) বজায় রাখার মাধ্যমে একটি সুস্থ পারিবারিক ও সামাজিক বলয় তৈরির তাগিদ রয়েছে এখানে।
“বিপ্লবী (১৩)” — কাব্যিক ও সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
কবি: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)
“বিপ্লবী (১৩)” কবিতাটি সামাজিক সাম্য, নৈতিক শুদ্ধতা, আত্মজাগরণ ও আধ্যাত্মিক মানবতাবাদের সমন্বয়ে নির্মিত এক বিদ্রোহী কাব্য। এখানে কবি কেবল রাজনৈতিক সাম্যবাদের কথা বলেননি; বরং নৈতিকতা, পবিত্র প্রেম, আত্মসংযম ও মানবিক পুনর্জাগরণের মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
কাব্যিকতা ও শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য
১. ছন্দময় উচ্চারণ ও আবৃত্তিযোগ্যতা
কবিতার ভাষা প্রবল আবেগপূর্ণ, স্লোগানধর্মী এবং উচ্চারণে শক্তিশালী।
যেমন—
“গাহি সাম্যের গান,
করি সমতা বিধান,”
এই ধরণের পুনরাবৃত্তিমূলক ধ্বনি কবিতাকে গণজাগরণমূলক আবৃত্তির উপযোগী করেছে।
২. প্রতীক ও চিত্রকল্প
কবি বিভিন্ন প্রতীকের মাধ্যমে সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও সম্ভাব্য পুনর্জাগরণকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
- “বাঁধার পাহাড় চূর্ণ-বিচূর্ণ” — সামাজিক শোষণ ও বাধা ভাঙার প্রতীক।
- “দুর্গন্ধ” — নৈতিক পচন ও সামাজিক অবক্ষয়ের রূপক।
- “সেরা বাগে সুবাস সেরা ফুল” — পবিত্র ও নৈতিক জীবনের প্রতীকী চিত্র।
৩. আবেগ ও দর্শনের মিশ্রণ
কবিতায় বিদ্রোহ আছে, কিন্তু তা ধ্বংসাত্মক নয়; বরং নৈতিক পুনর্গঠনের আহ্বান।
কবি মানুষের ভুল, মোহ ও ক্ষণিক আবেগের বিপরীতে আত্মশুদ্ধির পথ দেখিয়েছেন।
সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. সাম্যবাদ বনাম সাম্যবোধ
এখানে “সাম্যবাদ” কেবল রাজনৈতিক মতবাদ নয়; বরং নৈতিক ও মানবিক সমতার ধারণা।
“সাম্যবোধের বিপ্লবী।”
এই একটি পঙ্ক্তিই কবিতার মূল দর্শনকে ধারণ করে।
কবি এমন এক সমাজ চান যেখানে মানুষে মানুষে মর্যাদা, নৈতিকতা ও সহমর্মিতা থাকবে।
২. নৈতিক সমাজচেতনা
কবিতায় আধুনিক সমাজের ভোগবাদ, অবৈধ সম্পর্ক, আত্মবিধ্বংসী জীবন ও নৈতিক বিচ্যুতির সমালোচনা করা হয়েছে।
“প্রেম প্রীতি, সস্তা গীতি,
নষ্ট প্রেমের, ভ্রষ্ট নীতি,”
এই অংশে কবি ক্ষণস্থায়ী মোহ ও ভোগকেন্দ্রিক সম্পর্কের বিপরীতে পবিত্র প্রেম ও আত্মিক সম্পর্ককে মূল্য দিয়েছেন।
৩. আধ্যাত্মিক ও ইসলামী ভাবধারা
কবিতাজুড়ে ইসলামী নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক দর্শনের গভীর প্রভাব রয়েছে।
“খোদার বিধান”, “পূণ্য”, “জাহান্নাম”, “রুহ”— এসব শব্দ কবিতাকে ধর্মীয়-নৈতিক কাব্যে রূপ দিয়েছে।
এখানে মানবমুক্তি কেবল সামাজিক নয়; আত্মিক মুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব-সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতায় তিনটি প্রধান সাহিত্যধারার সমন্বয় দেখা যায়—
- বিদ্রোহী সাহিত্য — Kazi Nazrul Islam-এর চেতনার মতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাগরণ।
- মানবতাবাদী সাহিত্য — Rabindranath Tagore-এর মতো মানবিক সমাজস্বপ্ন।
- সুফিবাদী আধ্যাত্মিকতা — Rumi-এর মতো আত্মশুদ্ধি ও প্রেমের দর্শন।
তবে কবিতাটি বিশ্বসাহিত্যের তুলনায় বেশি সরাসরি বক্তব্যনির্ভর এবং গণজাগরণমূলক।
সমালোচনা
শক্তির দিক
- শক্তিশালী সামাজিক ও নৈতিক বার্তা।
- সহজ ভাষায় গভীর দার্শনিক বক্তব্য।
- আবৃত্তিযোগ্যতা ও গণমানুষের গ্রহণযোগ্যতা।
- সাম্যবাদকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক অর্থে পুনর্ব্যাখ্যা।
সীমাবদ্ধতা
- কিছু অংশ অতিরিক্ত উপদেশমূলক হয়ে গেছে।
- কাব্যিক প্রতীকের গভীরতা আরও বিস্তৃত হতে পারত।
- শিল্পিত বিমূর্ততার চেয়ে বক্তব্যের প্রাধান্য বেশি।
তবে এই সরলতাই কবিতাটিকে সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য ও প্রভাবশালী করেছে।
মানব জীবনে তাৎপর্য
এই কবিতা মানুষকে শেখায়—
- সত্যিকারের সাম্য নৈতিকতা ছাড়া সম্ভব নয়।
- ক্ষণিক মোহ মানুষকে ধ্বংসের পথে নেয়।
- আত্মশুদ্ধি ও মানবিকতা সমাজ পরিবর্তনের মূল শক্তি।
- ভালোবাসা ও নৈতিক চেতনা ছাড়া সভ্যতা টেকসই নয়।
বিশেষত্ব
- “সাম্যবাদ” ধারণাকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মাত্রায় উন্নীত করা।
- সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কাব্যিক প্রতিবাদ।
- বিপ্লবকে আত্মশুদ্ধি ও মানবিক জাগরণের সঙ্গে যুক্ত করা।
- সহজ, আবেগপূর্ণ ও জনমুখী ভাষা।
সারমর্ম
“বিপ্লবী (১৩)” একটি নৈতিক-মানবতাবাদী বিদ্রোহের কবিতা, যেখানে কবি সমাজের অবক্ষয়, ভোগবাদ ও আত্মবিনাশী প্রবণতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সাম্য, আত্মশুদ্ধি ও পবিত্র মানবিক জীবনের আহ্বান জানিয়েছেন। কবিতাটি সামাজিক পরিবর্তনের পাশাপাশি আত্মিক জাগরণের গুরুত্ব তুলে ধরে এবং ভালোবাসা, নৈতিকতা ও সাম্যের ভিত্তিতে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখায়।
*************১২৮। বিপ্লবী (১২)
১. সারমর্ম (Summary)
২. কাব্যিকতা ও নন্দনতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ (Poetic & Aesthetic Analysis)
- ছন্দ ও সুর: কবিতাটি প্রধানত স্বরবৃত্ত ছন্দের সহজ-সরল ও তরল চালে আবর্তিত। অন্ত্যমিলের সাবলীল ব্যবহার (যেমন: বিপ্লবী/বিশ্বটারে/ভালোবাসি/মিশি/দিবানিশি) কবিতাটিকে অত্যন্ত পঠনযোগ্য ও শ্রুতিমধুর করেছে।
- সুফিবাদী আধ্যাত্মিকতা ও চিত্রকল্প: কবিতাটিতে সুফি সাহিত্যের চিরন্তন আধ্যাত্মিক ভাবধারা (Mysticism) ফুটে উঠেছে। জান্নাত, হুর-পরী, গিলমান এবং সর্বোপরি 'দীদারে খোদা' বা স্রষ্টার দর্শনের আধ্যাত্মিক চিত্রকল্প কবি অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
৩. সাহিত্যিক বিশ্লেষণ (Literary Analysis)
- বিপ্লবের নতুন সংজ্ঞা: সাধারণত সাহিত্য বা রাজনীতিতে 'বিপ্লব' বা 'বিদ্রোহ' বলতে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম বা ক্ষমতার পরিবর্তনকে বোঝায়। কিন্তু এই কবিতায় কবি বিপ্লবের একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ইতিবাচক সংজ্ঞা দিয়েছেন—তা হলো "ভালোবাসার বিপ্লবী"।
- সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা: "সৃষ্টি সবি সবাই আপন, নেই যে আপন পর" — এই চরণের মাধ্যমে কবি উপনিষদের 'বসুধৈব কুটুম্বকম' (বিশ্বই আমার পরিবার) কিংবা লালন-নজরুলের সাম্যবাদী দর্শনেরই প্রতিফলন ঘটিয়েছেন, যেখানে ধর্মের সংকীর্ণতা পেরিয়ে মানবতা ও সৃষ্টিকে ভালোবাসাই পরম ধর্ম।
৪. বিশ্ব-সাহিত্যিক মূল্যায়ন (Global Literary Evaluation)
- রুমি যেভাবে মনে করতেন স্রষ্টাকে পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হলো নিখাদ প্রেম বা ভালোবাসা, এই কবিতাতেও সেই একই সুর ধ্বনিত হয়েছে। বিশ্ব-সাহিত্যের 'ডিভাইন লাভ' (Divine Love) বা ঐশ্বরিক প্রেমের যে ধারা রয়েছে, এই কবিতাটি সেই ধারার একটি আধুনিক এবং সহজবোধ্য সংযোজন।
৫. আলোচনা, সমালোচনা ও পর্যালোচনা (Discussion & Critique)
| দিক | ইতিবাচক আলোচনা (Strength) | গঠনমূলক সমালোচনা (Weakness) |
|---|---|---|
| ভাব ও বার্তা | ঘৃণামুক্ত বিশ্ব এবং সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসার বার্তাটি বর্তমান যুদ্ধবিদ্ধস্ত পৃথিবীর জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী। | কবিতাটির শেষাংশে ধর্মীয় পরিভাষা (যেমন: আল্লাহু আকবার) এবং জান্নাতের বিবরণ ব্যবহারের কারণে এর সার্বজনীন মানবিক সুরটি কিছুটা নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। |
| ভাষা ও শৈলী | ভাষা অত্যন্ত সহজ, সাবলীল এবং সাধারণ পাঠকের হৃদয়ে সরাসরি দাগ কাটার মতো। | কিছু কিছু জায়গায় শব্দের পুনরাবৃত্তি (যেমন: ভালোবাসি, সুখে, দুঃখে) কবিতার নান্দনিক গভীরতাকে কিছুটা হালকা করেছে। |
৬. মানব জীবনে তাৎপর্য ও বিশেষত্ব (Human Significance)
- জীবনবোধ ও পরকাল সচেতনতা: মানুষ যে এই পৃথিবীতে কেবলই "চলন্ত মুসাফির", এই চিরন্তন সত্যটি মানুষকে অহংকার ও লোভ থেকে দূরে রাখার এক মহা ওষুধ।
- সহমর্মিতা শিক্ষা: "সবার দুঃখে, দুঃখী হবো" — এই দর্শন মানুষকে স্বার্থপরতা ভুলে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক শিক্ষা দেয়।
“বিপ্লবী (১২)” — কাব্যিক ও সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
কবি: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)
“বিপ্লবী (১২)” কবিতাটি পূর্ববর্তী প্রতিবাদী ও সংগ্রামী চেতনার ধারাবাহিকতায় রচিত হলেও এখানে কবি বিদ্রোহকে রূপান্তর করেছেন ভালোবাসা, মানবতা ও আধ্যাত্মিক জাগরণের বিপ্লবে। এটি কেবল রাজনৈতিক বা সামাজিক বিদ্রোহ নয়; বরং আত্মিক, নৈতিক ও মানবিক বিপ্লবের কাব্য।
কাব্যিকতা ও শৈল্পিক সৌন্দর্য
১. প্রেম ও বিপ্লবের সংমিশ্রণ
কবিতার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো— “বিপ্লব” শব্দটিকে ধ্বংস নয়, ভালোবাসা ও মানবমুক্তির শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা।
“ভালোবাসার বিপ্লবী!
ভালোবাসায় তুলবো গড়ে,
নতুন করে, বিশ্বটারে।”
এখানে কবি বিপ্লবকে সহিংসতার নয়, বরং মানবিক পুনর্গঠনের প্রতীক করেছেন।
২. আধ্যাত্মিক আবেগ ও ধর্মীয় চেতনা
কবিতাজুড়ে স্রষ্টাপ্রেম, মানবপ্রেম ও পরকালীন বিশ্বাসের গভীর ছাপ রয়েছে।
“স্রষ্টাকে ভালোবাসি।
তাঁর সৃজিত সকল সৃষ্টি,
জীবন জুড়ে ভালোবাসি।”
এই পঙ্ক্তিগুলোতে সুফিবাদী মানবপ্রেমের প্রতিধ্বনি শোনা যায়। স্রষ্টার প্রতি প্রেমকে সৃষ্টির প্রতি মমতায় রূপান্তর করা হয়েছে।
৩. ধ্বনি, ছন্দ ও আবৃত্তিযোগ্যতা
কবিতার পঙ্ক্তিগুলো ছোট ছোট, প্রবাহমান ও আবেগঘন। “চিরবিপ্লবী”, “চিরবিদ্রোহী”, “আল্লাহু আকবার”— এসব উচ্চারণ কবিতাকে আবৃত্তিমূলক শক্তি দিয়েছে।
সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. মানবতাবাদী দর্শন
কবি মানুষের মধ্যে বিভাজন নয়, ঐক্য দেখতে চান।
“সৃষ্টি সবি সবাই আপন,
নেই যে আপন পর।”
এই দর্শন বিশ্বমানবতার ধারণার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ধর্ম, জাতি, শ্রেণি ও ভৌগোলিক সীমার বাইরে গিয়ে মানুষকে এক পরিবার হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে।
২. সুফি ও ইসলামী সাহিত্যধারার প্রভাব
কবিতায় ইসলামী আধ্যাত্মিকতার প্রবল প্রভাব রয়েছে। জান্নাত, হুর, গিলমান, দিদারে খোদা— এসব উপমা ইসলামী কল্পলোক ও আধ্যাত্মিক সাহিত্যের উপাদান বহন করে।
এখানে Jalal ad-Din Muhammad Rumi-এর প্রেমময় আধ্যাত্মিক মানবতাবাদের ছায়া অনুভূত হয়।
৩. জীবনদর্শন
মানুষকে “চলন্ত মুসাফির” হিসেবে দেখানো হয়েছে—
“বিশ্বমাঝে সবে,
স্বল্পকালে রবে,
চলন্ত মুসাফির।”
এটি জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব ও পরকালীন চেতনার গভীর দার্শনিক উপলব্ধি প্রকাশ করে।
বিশ্ব-সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতা বিশ্বসাহিত্যের আধ্যাত্মিক ও মানবতাবাদী কাব্যধারার সঙ্গে সম্পর্কিত।
যেমন—
- Rabindranath Tagore মানবপ্রেম ও বিশ্বমানবতার কথা বলেছেন,
- Kazi Nazrul Islam বিদ্রোহ ও সাম্যের বাণী উচ্চারণ করেছেন,
- Rumi স্রষ্টাপ্রেমকে মানবপ্রেমে রূপ দিয়েছেন।
“বিপ্লবী (১২)” এই তিন ধারার সংমিশ্রণধর্মী এক মানবিক-আধ্যাত্মিক কাব্যরূপ ধারণ করেছে।
সমালোচনা
শক্তির দিক
- মানবতা ও ভালোবাসার ইতিবাচক বার্তা।
- সহজ অথচ আবেগময় ভাষা।
- ধর্মীয় ও মানবিক চেতনার সমন্বয়।
- আবৃত্তিযোগ্য ও অনুপ্রেরণামূলক ধ্বনি।
সীমাবদ্ধতা
- কিছু স্থানে বক্তব্য সরাসরি উপদেশধর্মী হয়ে গেছে।
- কাব্যিক রূপক ও প্রতীকের গভীরতা আরও বিস্তৃত হতে পারত।
- ধর্মীয় উপাদান বেশি থাকায় বহুমাত্রিক পাঠকের জন্য ব্যাখ্যার প্রয়োজন হতে পারে।
তবে এই সরলতাই কবিতাটিকে সাধারণ পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্য করেছে।
মানব জীবনে তাৎপর্য
এই কবিতা মানুষকে শেখায়—
- সত্যিকারের বিপ্লব ভালোবাসার মাধ্যমে আসে।
- মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নয়, সহমর্মিতা প্রয়োজন।
- স্রষ্টাপ্রেম ও মানবপ্রেম একে অপরের পরিপূরক।
- জীবন ক্ষণস্থায়ী; তাই ঘৃণার বদলে মমতা জরুরি।
বিশেষত্ব
- “বিপ্লব” শব্দকে ভালোবাসা ও মানবতার দর্শনে রূপান্তর।
- ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও বিশ্বমানবতার মেলবন্ধন।
- সহজ ভাষায় গভীর নৈতিক ও দার্শনিক বক্তব্য।
- আবেগ, ধর্মীয় অনুভূতি ও মানবিক চেতনার একত্র প্রকাশ।
সারমর্ম
“বিপ্লবী (১২)” মূলত ভালোবাসা, মানবতা ও স্রষ্টাপ্রেমের এক আধ্যাত্মিক বিপ্লবের কবিতা। এখানে কবি ঘৃণা, জুলুম ও বিভেদের বিপরীতে সহমর্মিতা, ঐক্য ও শান্তির বিশ্ব কল্পনা করেছেন। কবিতাটি মানুষকে আত্মিক জাগরণ, মানবপ্রেম ও নৈতিক জীবনের পথে আহ্বান জানায়। এর মূল শক্তি নিহিত রয়েছে ভালোবাসাকে বিপ্লবের সর্বোচ্চ রূপ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মধ্যে।
******************
ভালবাসি দিবা-নিশি _সূচীপত্র
একাডেমিকভাবে MSPT-কে আরও শক্তিশালী করতে যা প্রয়োজন
উপস্থাপিত MSPT (Multinational Security and Prosperity Theory & Model) একটি উচ্চাভিলাষী, মানবিক ও বহুমাত্রিক বৈশ্বিক সহযোগিতা কাঠামো হি...
-
ভালোবাসার শ্বেতপত্র -----আরিফ শামছ্ বড়ই সৌভাগ্যবান, তুমি হয়েছো যার, তাঁর মতো করে, রাখতে পারবোনা বলেই, স্রষ্টার সম্মতি ছিলোনা পক্ষে আমার। ...
-
সকল ধর্মমতে আল্লাহর পরিচয়, প্রয়োজনীয়তা এবং সৃষ্টির বিস্তারিত ইতিহাস। উনি কি এখনও সৃষ্টিশীল কাজ করেন? জবাব: অসাধারণ প্রশ্ন করেছেন — এটি ধর...
-
📖 উপন্যাস: রক্তে লেখা ভালোবাসা (ফিলিস্তিনে সওগাত ও কবিতার গল্প) ✍️ আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্) --- 🕌 ভূমিকা: এই উপন্যাস কল্পনার, কিন্...



















.png)

