বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৯

৮৮। প্রাণের চেয়ে প্রিয় কুদস


ওরা মার খাচ্ছে, খাক, জ্বলে পোঁড়ে
 ছারখার হয়ে যাক,
পুরো ভিটে মাটি, সাজানো সংসার,
কারো দখলে এমনি থাক।
আমার আসন ঠিক আছে তো!
বিশ্ব তাহার সবি হারাক।
মানব-দানব ধ্বংস চালায়,
কার কী আসে যায়!

তোমার আঙ্গিনায় ফোটে,
রং বেরঙের, নানা জাতের ফুল,
আমার আঙ্গিনা ক্ষত বিক্ষত,
জাজরা বুলেটে, বংশ নির্মূল!
তোমার সুখে ও দুঃখে সবাই
প্রাণাধিক সুখী ব্যাথাতুর,
আমার জীবন যৌবন, সন্তান,
প্রিয়তমা হারায়, নিত্য কূল।

বসত ভিটা, জমি-জমা, স্বপ্ন কাঁড়ে,
 পাষাণ অরি,
সকাল-সাঁঝে, হর হামেশা, ঝাঁপিয়ে
 পড়ে প্রাণ হরি।
যাক চলে যাক সহায় সন্তান 
দুঃখ নাই মোর অন্তরে,
প্রাণের চেয়ে প্রিয় কুদস 
কার দখলে, কোন কারণে?

শান্তি নিয়ে জুয়া খেলা, 
খেলছে কারা দিবালোকে,
দাবা খেলার গুটি নিয়ে, 
হন্যে হয়ে চলছে ছুটে।
শান্তি-চাবি গুটি কয়েক 
বোকা রাজার হাতেই রবে?
বিশ্ব মাঝে ঝাঁকিয়ে তোলা, 
অশান্তির সেই শেষ কবে?

যতো আছে পথের কাঁটা, 
সরায় সবে  শক্ত হাতে,
অত্যাচারীর বুকে মাটি, 
দাফন করি সবাই মিলে।
চিরতরে স্তব্ধ করি, 
ঝগড়া বিবাদ  মারামারি,
কারণে আর অকারণে 
করে যারা হানাহানি।

বিশ্বটাকে এমনি করে তুলে দিবে!
পাগল, ছাগল, পামর করে,
ভয় কি তোমার, ভীত কেন?
শক্তি তোমার কম কি কীসে??
মানবতার ধারক বাহক 
কোটিকোটি জীবন পাবে,
অস্ত্র তোমার ঈমান আমল,
শক্তির  আধার আল্লাহ পাশে।

আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
সকাল ০৭ টা ৩৩ মিনিট।
১৪/১২/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
মধুবাগ, বড়মগবাজার,
রমনা, ঢাকা-১০০০।

৮৭। আসলো পতন, খবরদার!


দিনে দিনে বাড়ছে জ্বালা 
অত্যাচার আর উৎপীড়ন,
মানুষ নামের মানব-বাদীর,
কবে হবে চেতন ???
বিশ্ব হবে সব জাতিদের,
থাকবেনা বৈষম্য,
হচ্ছে কী সব বিশ্ব জুড়ে!
তাই কী ছিল কাম্য?

আঁতাত করো খুনীর সাথে,
সাথী দখলদার,
অত্যাচারীর অস্ত্রগুরু,
দালাল ফড়িয়ার!
সিংহ, শার্দুল ওঠলো জেগে,
অত্যাচারীর দিন শেষে,
ঢাল তলোয়ার, মারণাস্ত্র,
প্রয়োজন তা' কোথা' কবে!

শান্তির কথা মুখে মুখে,
অন্তরে অন্তঃসার,
সাধু তুমি অসাধুরা,
করে অভিসার!!!
বিশ্ব-বিবেক ভাবছো বোকা,
নিত্য নিতুই দিচ্ছ ধোঁকা!
বের হয়েছে মুখোশ তোমার,
লুকিয়ে রবে কোথা??

অত্যাচারী টিকলো কবে,
কদিন রবে ধরাতলে,
দেখ্ খোলে দেখ্, ভাল করে,
ইতিহাসের পাতা পড়ে।
অপমানের নরক জ্বালা,
জ্বালবে তোদের অন্তরে,
সব হারাবি নিঃস্ব হয়ে,
জায়গা হবে প্রান্তরে।

অত্যাচারীর সহযোগী,
অস্ত্রবলের যোগানদার,
থামবি নাকি? থামিয়ে দিব?
আসলো পতন, খবরদার!
গুটিয়ে নে তোর ঝারি-ঝুরি,
ভাসিয়ে নেবো তৃণ সবি,
আবর্জনা সব হবে সাফ,
করবেনা কেউ মাফ।

সকাল ০৯ টা।
১২/১২/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
মধুবাগ, বড়মগবাজার,
রমনা, ঢাকা।

৮৬। আমার বাবা

আমার বাবা
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
(আরিফ শামছ্)

               বাবা! কে বলে তুমি নেই,
এ ধরাধামে? চলে গেছ অভিমানে;
নিত্যদিনের নিয়ম মেনে,
সবার মতো স্বজন ছেড়ে,
ভিন দেশেতে অনেক দূরে।

নাই কি তোমার রক্তধারার?
এমদন নয়ন, খুঁজে নেবার।
সত্যটাকে মিথ্যাজালের বেড়া থেকে,
আলোর রেণু, মুঠোয় নেয়া দক্ষ হাতে।

৮৫। বিজয়ের উল্লাসে

("বিজয়ের উল্লাস" যৌথ কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত।)

বিজয়ের উল্লাসে, মোর চোখ হাসে
আজ, ঠোঁট হাসে তার রূপ পাশে,
সুখ আঁশুতে বুক ভাসে।
রক্ত নাচে টগবগে, মোর অরুন-তরুণ,
রক্ত রাগে, সোনা রোদের মখমলে,
জীবন জুড়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।

সব পরাজয়, পদানত,
শত্রু সেনা হস্তগত,
জয়ের নেশায় মত্ত ছিল,
অস্ত্রসহ, অস্র বিহীন যোদ্ধা যত।

অশ্রু ধারার লক্ষ নদী,
রক্ত ধারা নিরবধি,
বয়েছিল জয় অবধি,
রুপ-অপরুপ সমাজ, জাতি,
সব হারিয়ে রিক্ত অতি,
মুঠোপুরে বিজয়-পতি।

নির্যাতনের দীঘল রাতি,
লম্বা ছিল নেইকো যতি,
ভোরের আশায় মনের বাতি,
দোলাচলে নিভলো বুঝি!

সারি সারি বীর বাঙ্গালী,
দেশের তরে প্রাণটি সঁপি,
শত্রু সেনার গতির যতি,
বুলেট বুকে আগলে রাখি।

সূর্যোদয়ের নূতন আভায়,
নূতন করে প্রাণ ফিরে পায়,
ঝরা-জীর্ণ সব টুটি,
অরুণ রবির আঁচল তলে,
স্বপ্ন হাসে স্বাধীণ বেশে,
সব পরাধীণ ছুটি।

আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া।
০৬/১২/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
মধুবাগ, রমনা, ঢাকা।


************


সাহিত্যিক মূল্যায়ন

এই কবিতাটি মূলত মুক্তিযুদ্ধ, বিজয়, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার আবেগকে কেন্দ্র করে রচিত এক উচ্ছ্বাসময় দেশাত্মবোধক কাব্য। এখানে বিজয়ের আনন্দ যেমন আছে, তেমনি রয়েছে রক্ত, অশ্রু, নির্যাতন ও ত্যাগের গভীর স্মৃতি। কবি বিজয়কে শুধু রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখেননি; তিনি এটিকে জাতির আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধারের মহামুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরেছেন।
উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ
দেশাত্মবোধের শক্তিশালী প্রকাশ — “সারি সারি বীর বাঙালি” পঙ্‌ক্তিতে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
চিত্রকল্পের ব্যবহার — “সোনা রোদের মখমলে”, “অশ্রুধারার লক্ষ নদী”, “অরুণ রবির আঁচল” ইত্যাদি চিত্রকল্প কবিতাকে দৃষ্টিনন্দন ও আবেগঘন করেছে।
বিজয় ও বেদনার যুগল উপস্থিতি — কবিতাটি শুধু উল্লাস নয়; ত্যাগের ইতিহাসও বহন করে।
ছন্দময় আবেগধারা — প্রতিটি স্তবকে আবেগের ক্রমবিকাশ রয়েছে, যা আবৃত্তিযোগ্যতা বাড়িয়েছে।
সারাংশ
কবিতাটি বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বিজয়ের চেতনাকে ধারণ করে। দীর্ঘ নির্যাতন, রক্তক্ষয় ও আত্মত্যাগের পর যে স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছে, সেই আনন্দ ও গৌরবের কথাই কবি হৃদয়ের গভীর আবেগ দিয়ে প্রকাশ করেছেন।
*****

“বিজয়ের উল্লাস” : বিশ্ব-সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারাংশ — আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া ভূমিকা “বিজয়ের উল্লাস” কবিতাটি মূলত মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বিজয়ের চেতনা, আত্মত্যাগ, রক্তস্নাত ইতিহাস এবং স্বাধীনতার পুনর্জন্মকে কেন্দ্র করে রচিত এক আবেগময় দেশাত্মবোধক কাব্য। এটি কেবল একটি বিজয়-গাঁথা নয়; বরং নির্যাতিত মানুষের দীর্ঘ প্রতিরোধ, ত্যাগ ও পুনরুত্থানের নান্দনিক দলিল। কবিতার ভেতরে যেমন রক্তের উত্তাপ আছে, তেমনি আছে অশ্রুর স্রোত, মানবিক বেদনা ও স্বাধীনতার সূর্যোদয়। বিশ্বসাহিত্যের আলোকে বিচার করলে, এই কবিতার ভেতরে যুদ্ধ-পরবর্তী মানবমুক্তির যে উল্লাস ও ট্র্যাজেডি একসাথে উপস্থিত হয়েছে, তা অনেকাংশে আন্তর্জাতিক প্রতিরোধ-সাহিত্য ও বিপ্লবী কবিতার ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত। বিশ্ব-সাহিত্যিক বিশ্লেষণ ১. যুদ্ধ ও মানবমুক্তির কাব্য এই কবিতার প্রধান সুর হলো—অত্যাচারের বিরুদ্ধে মানুষের চূড়ান্ত জাগরণ। বিশ্বসাহিত্যে যুদ্ধভিত্তিক কবিতার একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো: রক্ত ও ত্যাগের চিত্র, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, শত্রুর বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ, এবং বিজয়ের পর মানবিক পুনর্জন্ম। “অশ্রুধারার লক্ষ নদী, রক্তধারা নিরবধি...” এই পঙ্‌ক্তিগুলো যুদ্ধকে শুধু সামরিক সংঘর্ষ নয়, বরং মানবতার দীর্ঘ বেদনাময় ইতিহাস হিসেবে উপস্থাপন করে। এখানে কবি বিজয়ের মূল্য বোঝাতে রক্ত ও অশ্রুকে সমান্তরালে এনেছেন। এ দিক থেকে কবিতাটি বিশ্বখ্যাত যুদ্ধকবিতা ও প্রতিরোধ-কবিতার ঐতিহ্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ২. বিপ্লবী রোমান্টিসিজমের উপস্থিতি কবিতার ভাষায় প্রবল আবেগ, আলোকময় ভবিষ্যৎ ও বিজয়ের উল্লাস আছে। এটি “Revolutionary Romanticism” বা বিপ্লবী রোমান্টিক ধারার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। যেমন— “অরুণ রবির আঁচল তলে, স্বপ্ন হাসে স্বাধীন বেশে...” এখানে স্বাধীনতাকে বাস্তব রাজনৈতিক অবস্থার চেয়ে বেশি এক স্বপ্নময় মানবমুক্তির প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। সূর্য, আলো, অরুণ আভা—এসব প্রতীক নতুন সভ্যতার ইঙ্গিত দেয়। ৩. সমষ্টিগত বীরত্বের কাব্যরূপ বিশ্বসাহিত্যের অনেক যুদ্ধকবিতায় ব্যক্তি-নায়ককে কেন্দ্র করা হলেও এই কবিতায় “সমষ্টিগত বীরত্ব” গুরুত্বপূর্ণ। “সারি সারি বীর বাঙালি, দেশের তরে প্রাণটি সঁপি...” এখানে কোনো একক নায়ক নেই; পুরো জাতিই নায়ক। এই দৃষ্টিভঙ্গি গণমানুষের সংগ্রামভিত্তিক সাহিত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ৪. চিত্রকল্প ও প্রতীকের ব্যবহার কবিতার সবচেয়ে শক্তিশালী দিকগুলোর একটি হলো চিত্রকল্প। উল্লেখযোগ্য প্রতীক: রক্ত → আত্মত্যাগ ও বিপ্লব অশ্রু → শোক ও মানবিক ক্ষতি অরুণ রবি → নতুন স্বাধীনতার সূর্য মখমলি রোদ → শান্তি ও পুনর্জন্ম দীঘল রাত → দমন-পীড়নের যুগ এই প্রতীকগুলো কবিতাকে কেবল ঘটনাবর্ণনা থেকে তুলে এনে এক নান্দনিক ও সার্বজনীন রূপ দিয়েছে। ৫. ধ্বনি ও আবৃত্তিগত শক্তি কবিতার শব্দচয়ন উচ্চারণনির্ভর ও আবৃত্তিযোগ্য। “রক্ত নাচে টগবগে”—এখানে ধ্বনিগত তীব্রতা যুদ্ধের উত্তাপ অনুভব করায়। আবার— “অশ্রুধারার লক্ষ নদী”—এখানে দীর্ঘ ধ্বনি বিষণ্নতার আবহ তৈরি করে। এই ধ্বনিনির্মাণ কবিতাটিকে মঞ্চ-আবৃত্তির জন্য উপযোগী করেছে। সাহিত্যিক মূল্যায়ন শক্তিশালী দিক ১. আবেগের সততা কবিতার আবেগ কৃত্রিম নয়; এটি প্রত্যক্ষ অনুভবের মতো প্রবাহিত হয়েছে। বিজয়ের আনন্দ ও ক্ষতের স্মৃতি পাশাপাশি এসেছে। ২. দেশাত্মবোধের গভীরতা এটি স্লোগানধর্মী দেশপ্রেম নয়; বরং ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার অনুভব। ৩. দৃশ্যমান ভাষা কবিতার প্রায় প্রতিটি স্তবক চোখের সামনে দৃশ্য নির্মাণ করে। ৪. মানবিকতা কবি শুধু যুদ্ধজয় নয়, মানুষের কষ্টকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। সীমাবদ্ধতা বিশ্বসাহিত্যের উচ্চতর আধুনিক কাব্যরীতির তুলনায় কবিতাটি তুলনামূলকভাবে সরাসরি ও আবেগপ্রবণ। বিমূর্ততা বা দার্শনিক স্তর আরও গভীর হলে কবিতাটি আরও বহুমাত্রিক হতে পারত। তবে দেশাত্মবোধক কাব্যের ক্ষেত্রে এই সরলতা অনেক সময় শক্তিতে পরিণত হয়। দার্শনিক তাৎপর্য কবিতাটি মূলত এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করে— স্বাধীনতা কখনো বিনামূল্যে আসে না; এর পেছনে থাকে রক্ত, অশ্রু, আত্মত্যাগ ও দীর্ঘ প্রতিরোধ। এখানে বিজয় কোনো সামরিক সমাপ্তি নয়; এটি জাতির আত্মার পুনর্জন্ম। সারাংশ “বিজয়ের উল্লাস” একটি শক্তিশালী দেশাত্মবোধক ও প্রতিরোধধর্মী কবিতা, যেখানে যুদ্ধের ভয়াবহতা, আত্মত্যাগের ইতিহাস এবং স্বাধীনতার পুনর্জন্ম একসাথে রূপ পেয়েছে। কবিতাটি আবেগ, চিত্রকল্প, ধ্বনি ও প্রতীকের মাধ্যমে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে শিল্পিতভাবে ধারণ করেছে। বিশ্ব-সাহিত্যিক দৃষ্টিতে এটি গণমানুষের সংগ্রাম, বিপ্লবী রোমান্টিসিজম এবং মানবমুক্তির কাব্যিক প্রকাশ হিসেবে মূল্যায়নযোগ্য।
*****




৮৪। আমার রবি

আমার রবি
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
(আরিফ শামছ্) 

আমার বাবা,
আমার রবি,
সব বেলাতেই,
তারে স্মরি।

মা'বুদ আমার,
সাথে তাহার,
করবে সদাচার,
এইতো হল,
আমার দোয়া,
মাবুদের দরবার।

মাফ করে দাও,
মা'বুদ তুমি,
আমার বাবাকে,
জান্নাতী করে রাখো,
আমার রবিকে।

৩০/০৪/২০০৬ ঈসায়ী সাল।
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
ভূঁইয়া পারা,ভাদুঘর,
সদর, বি.বাড়ীয়া।

**************
আমার রবি” — সাহিত্যিক মূল্যায়ন ও অনুভব
কবি: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)

“আমার রবি” একটি সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর আবেগময় স্মৃতিধর্মী ও প্রার্থনামূলক কবিতা। এখানে “রবি” শব্দটি দ্ব্যর্থবোধক প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে— একদিকে বাবা, অন্যদিকে আলোর উৎস সূর্য। ফলে কবিতাটি শুধু পিতৃস্মৃতির নয়, বরং জীবনের আলো হারানোর বেদনাও বহন করে।

কবিতার মূল ভাব
কবিতাটিতে একজন সন্তানের হৃদয়ে বাবার প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও মৃত্যুর পরও অব্যাহত স্মরণ ফুটে উঠেছে। কবি তাঁর বাবাকে “রবি” বলে সম্বোধন করেছেন, যা বাবাকে জীবনের পথপ্রদর্শক ও আলোকবর্তিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
“আমার বাবা,
আমার রবি,”
এই দুটি পঙক্তিই পুরো কবিতার কেন্দ্রীয় প্রতীক নির্মাণ করেছে।
প্রতীক ও চিত্রকল্প
প্রতীক
তাৎপর্য
“রবি”
আলো, পথনির্দেশ, জীবনশক্তি, পিতা
“মা'বুদ”
আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ
“জান্নাতী করে রাখো”
চিরশান্তির প্রার্থনা
এখানে কবি পার্থিব শোককে আধ্যাত্মিক দোয়ায় রূপান্তর করেছেন।

ভাষা ও শৈলী
কবিতার ভাষা অত্যন্ত সরল, প্রার্থনাময় ও হৃদয়গ্রাহী। কোনো জটিল অলংকার ছাড়াই কবি অনুভূতির বিশুদ্ধতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এটি অনেকটা ইসলামী আবেগধর্মী কবিতা বা দোয়ার ছন্দে রচিত।
বিশেষ করে—
“মাফ করে দাও,
মা'বুদ তুমি,
আমার বাবাকে,”
—এই অংশে বিনয়, ভালোবাসা ও সন্তানের অসহায়ত্ব একসাথে প্রকাশ পেয়েছে।

আধ্যাত্মিকতা ও মানবিকতা
এই কবিতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর আন্তরিক দোয়া। এখানে মৃত্যু নিয়ে হতাশা নেই; বরং রয়েছে আল্লাহর দরবারে পিতার জন্য ক্ষমা ও জান্নাতের আবেদন। ফলে কবিতাটি শোককে অতিক্রম করে ঈমানি অনুভূতিতে উন্নীত হয়েছে।

সামগ্রিক মূল্যায়ন
“আমার রবি” ছোট পরিসরের হলেও গভীর আবেগ ও প্রতীকময়তার কারণে হৃদয়স্পর্শী হয়ে উঠেছে। এটি একাধারে—
পিতৃস্মৃতির কবিতা,
ইসলামী প্রার্থনামূলক কবিতা,
এবং মানবিক ভালোবাসার সরল প্রকাশ।
কবিতাটি পাঠকের মনে নিজের বাবার স্মৃতি, দোয়া ও ভালোবাসাকে জাগ্রত করে— এটাই এর সাহিত্যিক সার্থকতা।
           ********


৮৩। জীবন তরী

জীবন তরীর এ কি হল হাল,
মাঝে মাঝে পাল ছিঁড়ে বেসামাল,
হাজারো ঢেউয়ের তর্জনগর্জন,
নির্ভীক চিত্তে করিতে অর্জন।

পথে পথে বাঁধা হবে,
কেটে যাবো একে একে,
মানবোনা বাঁধা, শুনবনা কথা,
চলে যাব, দিয়ে যাব দিশা।

তুমি থাক ভীত হয়ে,
রবনা একাকি বসে,
লড়ব, চলব নিশান উড়িয়ে যাব,
সত্য ধ্বজা রবেই অম্লাণ,
যাই যাবে যাক দেহ, মোর প্রাণ,
সহাস্যে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করিব।

 আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
২৬/০২/২০০৫ ঈসায়ী সাল

৮২। বাবা!


বাবা, তুমি সময়ের সাথে,
পাল্লা দিয়ে অনেক দূরে চলে গেলে!
কি করে ভূলিতে এ মন পারে,
কত সাধ আহ্লাদ, তোমারে আহ্বাণে।

কালের আবর্তে চলে গেলে!
এত দূরে তবে কেন?
আশার দিপালী জ্বেলে,
তুমি নীরবেই চলে গেলে!

এ পৃথিবী তোমায় দিয়েছে কিছু?
নিয়েছে তো অনেক,
তোমার সন্তান দেখো কত স্বার্থপর!!!
তোমারে স্মরিছে কি বারেক!!!

আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
৩০/০৪/২০০৬ ঈসায়ী সাল।
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
ভূঁইয়া পারা, ভাদুঘর,
সদর, বি.বাড়ীয়া।
         ******-*

“বাবা” কবিতার সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
কবি: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)
আপনার “বাবা” কবিতাটি মূলত পিতৃহারা সন্তানের হৃদয়ের গভীর বেদনা, স্মৃতি, অভিমান ও আত্মজিজ্ঞাসার এক আবেগঘন কাব্যিক প্রকাশ। এটি স্মৃতিমূলক (Elegiac) ধাঁচের কবিতা, যেখানে ব্যক্তিগত শোক ধীরে ধীরে একটি সার্বজনীন মানবিক অনুভূতিতে রূপ নিয়েছে।

 গভীর পিতৃস্মৃতি, শূন্যতা ও সময়ের নির্মমতার এক আবেগঘন প্রকাশ।  

১. বিষয়বস্তু (Theme)
কবিতাটির প্রধান বিষয় হলো—
বাবাকে হারানোর বেদনা,
সময়ের নির্মমতা,
সন্তানের অসহায় স্মৃতিচারণ,
এবং পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
কবি অনুভব করেছেন, বাবা শুধু একজন মানুষ নন; তিনি ছিলেন আশ্রয়, স্বপ্ন, আশা ও জীবনের চালিকাশক্তি। তাঁর চলে যাওয়া মানে শুধু একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়, বরং একটি মানসিক জগতের ভেঙে পড়া।

২. আবেগ ও অনুভূতি (Emotion)
কবিতার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর আন্তরিক আবেগ। এখানে কৃত্রিম অলংকারের চেয়ে হৃদয়ের সরল আর্তি বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।
যেমন—
“আশার দিপালী জ্বেলে,
তুমি নীরবেই চলে গেলে!”
এই পঙক্তিতে “দীপালী” আশার আলো ও জীবনের স্বপ্নের প্রতীক। বাবা সেই আলো জ্বালিয়ে দিলেও নিজে নিঃশব্দে চলে গেছেন। এখানে বেদনা ও শূন্যতার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে।

৩. ভাষা ও শৈলী (Language and Style)
কবিতার ভাষা সহজ, স্বতঃস্ফূর্ত ও হৃদয়গ্রাহী।
এখানে জটিল শব্দ বা কাব্যিক কৃত্রিমতা নেই; বরং কথ্যধর্মী আবেগময় প্রকাশ পাঠকের হৃদয়ে সরাসরি আঘাত করে।
কবির ভাষা স্মৃতিচারণমূলক এবং প্রশ্নাত্মক। বিশেষ করে—
“এ পৃথিবী তোমায় দিয়েছে কিছু?
নিয়েছে তো অনেক,”
এখানে জীবন ও সমাজের প্রতি এক ধরনের দার্শনিক অভিমান প্রকাশ পেয়েছে।

৪. চিত্রকল্প ও প্রতীক (Imagery and Symbolism)
কবিতায় কিছু শক্তিশালী প্রতীক ব্যবহৃত হয়েছে—
প্রতীক
অর্থ
“সময়”
জীবনের নির্মম গতি
“আশার দীপালী”
আশা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ
“দূরে চলে গেলে”
মৃত্যু বা চিরবিদায়
“নীরবেই”
মৃত্যুর অনিবার্য ও নিঃশব্দ আগমন
এই প্রতীকগুলো কবিতাকে আবেগঘন ও গভীর করেছে।

৫. দার্শনিক দিক (Philosophical Aspect)
কবিতাটি কেবল শোকের নয়; এটি জীবনের প্রতি এক নীরব প্রশ্নও।
“তোমার সন্তান দেখো কত স্বার্থপর!!!”
এই লাইন শুধু ব্যক্তিগত আক্ষেপ নয়; আধুনিক সমাজে পারিবারিক দূরত্ব ও আত্মকেন্দ্রিকতার প্রতিও ইঙ্গিত বহন করে। কবি এখানে ব্যক্তি শোককে সামাজিক বোধে উন্নীত করেছেন।

৬. কাব্যিক বৈশিষ্ট্য
এই কবিতার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—
স্মৃতিমূলক আবেগ
প্রশ্নাত্মক বাক্য ব্যবহার
সহজ অথচ হৃদয়স্পর্শী ভাষা
অন্তর্মুখী বেদনা
প্রতীকী চিত্রকল্প
ব্যক্তিগত অনুভূতির সার্বজনীনতা

৭. সামগ্রিক মূল্যায়ন
“বাবা” কবিতাটি হৃদয়ের গভীর থেকে উৎসারিত এক আন্তরিক শোকগাথা। এতে কৃত্রিম অলংকার কম হলেও আবেগের সত্যতা অত্যন্ত শক্তিশালী। কবিতাটি পাঠককে নিজের বাবার স্মৃতি ও সম্পর্কের কথা ভাবতে বাধ্য করে— এটাই এর সবচেয়ে বড় সাহিত্যিক সাফল্য।
এই কবিতা বাংলা স্মৃতিমূলক ও পারিবারিক আবেগধর্মী কবিতার ধারায় একটি মানবিক ও হৃদয়স্পর্শী সংযোজন।
*********



৮১। সত্য সন্ধানী

("বিজয়ের উল্লাস" যৌথ কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত।)

বেহাল রুপ দেখিতে কে চায় বলো?
অপরুপা এ পৃথিবীর ;
কারা হারাবে সত্য নিশানা?
সত্য সুবাস ছড়াবে ধরিত্রীর?

সত্যের ঘোষক, ধ্বজাধারী বীর,
কোথায় বসবাস এ অবনীর?
সত্যের সমারোহ ঘটাবে কোন জন?
সৃজিবে কা'রা সত্যের কানন?

অবিনাশী সত্য, চিরঞ্জীব প্রিয়তম,
ধূসর পৃথিবীতে আর কি চাওয়া!
সুন্দর অনন্ত, সত্য চির-ভাস্বর,
হীরে কণা সব একে একে পাওয়া।

সত্য পূজারী, সত্য সন্ধানী প্রিয়তমা!
নিত্যদিন সত্যের গান গেয়ে যাওয়া।
প্রিয়তম যে মোর, অনন্ত কালের স্রষ্টা,
প্রভাত-গোধূলী লগনে সদা,
তাঁর গান গাওয়া।

আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
৩০/০৪/২০০৬ ঈসায়ী সাল।

৮০। বাসন্তী


পাকা পাকা বিবর্ণ পাতা সব,
ঝরে পড়ে নীরবে,
শীত এসে চলে গেলো,
বসন্তের মোহরুপে।
জরাজীর্ণ ঝেরে ফেলে,
 নতুনের প্রস্তুতি,
আর কতো অপেক্ষা,
আসবে রে বাসন্তী।

দিন যায়, মাস যায়, আসে যায় বছর,
কেউ বলে বাড়ে আবার কমে যে বয়স!
মায়াঘেরা প্রীতিডোরে,
বেড়ে ওঠা ধীরে ধীরে,
পথচলা সময়ের, শ্বাশ্বত বিধানে।

সুখ আর দুঃখ কেউ কারো অরি নয়,
একে একে দুই দুটো, জীবনের সাথী হয়।
ভাবি সব দুঃখ, কেন সুখ হয়না,
দুঃখ কেন যে, পিছু কভু ছাড়েনা।

সাজাবো থরে থরে, সুন্দরে সুন্দর,
নোঙ্গর রাখব আলোকিত বন্দর।
জীবনের আশা-তরী, ভিড়বে একে একে,
চলবে বিনিময়, জীবনের সব খানে।

 আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া
৩০/১১/২০১২ ঈসায়ী সাল।
পূর্ব নয়াটোলা, 

৭১। অব্যক্ত নিঃশ্বাস


শরতের আকাশে ভেসে চলে মেঘেরা,
কোথাকার কোন ডাকে, তারা আজ থামেনা।
চলছে নেচে নেচে, নীচে ঝরে পড়েনা,
বুক ফাঁটা মেঠোপথ, অভিমানে চাহেনা।

তারাদের আলো সব বাধা পায় নামতে,
পরীরা ঘুরে ফিরে, পারে নাক নাচতে।
জীবনের খেঁয়া ঘাটে,  নেই কোন লোকজন,
চঞ্চল মন নিয়ে, ছুটে কেউ প্রাণপন।

অলীরা ঘুরেফিরে, নির্মল বাতাসে,
বসেনা ফুলেতে, অজানা অভিমানে।
পাখিদের ভীঁড়ে খুঁজে, চাতকী প্রিয়কে,
কোকিলের গান সব, ফিরে আসে পাহাড়ে।

পাহাড়ের মৌনতা,  কত বড় অভিমান,
পুকুরের নীরবতায়, প্রাণ করে আনচান।
জীবনের পুরোটাই, থাক সুখ শান্তি,
সফলতা উন্নতি আর যত প্রশান্তি।

ছুটে চলা অবেলায়, বিনীত চাপা শ্বাস,
প্রাণপন ছুটে চলে, আজ যেন নাভিশ্বাস।
পথহারা দেউলিয়া, পায়না আশ্বাস,
কোথা গেলে মুছে যাবে, অব্যক্ত নিঃশ্বাস।

আরিফ ইবনে শামছ্
রাত ২২:১৫ মিনিট,
০২/১১/২০১০ ঈসায়ী সাল।
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
সদর, বি.বাড়ীয়া।

ভালবাসি দিবা-নিশি _সূচীপত্র

বহুজাতিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি তত্ত্ব ও মডেল (MSPT – Final) Multinational Security and Prosperity Theory & Model

বহুজাতিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি তত্ত্ব ও মডেল MSPT – Version 01–04 (Final Universal Edition) “Shared Humanity, Shared Responsibility, Shared Fu...