বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১০, ২০১৯

৩০। জানলেনা

জানলেনা
--- আরিফ শামছ্ 

হাজার বছর ধরে, যে পাটাতনে দাঁড়িয়ে,
জানলেনা আজো, জানলেনা সে কে?
হাজারোবার যে দ্বারে, টোকেছে বাসনার ইঙ্গিত!
সে দ্বার খোলেনি, গেয়ে গেল শব্দহীন সংগীত।

অব্যবহিত পূর্বে কিংবা পরে, কেঁউ ডাকল কি?
সুমধুর স্বরভঙ্গিতে সব সম্বোধণে!ওগো সম্রাজ্ঞী!
তিলোত্তমা উপহার, সব শূভ্র ফুলের মালা,
সম্রাটের শাহী অশ্বের খুঁড়ের ছন্দে পড়লো বাঁধা!

নাই রাজ অশ্ব, নেই শাহী ফরমান,
প্রতিটি রক্তকণিকা বলে, তুমি নীল আসমান,
কখনো সুনীল রঙে, স্বপ্নিল সাজ নাও,
কভু তারকার স্নীগ্ধ আলোর আঁচল দাও।

দিবানিশি পাষাণের মতো, নীরব যে থাকনা,
আমার সুখের তরে, তোমার সকল বন্দনা।
তোমার রূপের মহাসমুদ্রে, আমি যে বিভোর,
মহাইন্দ্রজালের প্রেমময় ভূষণে, দেখি প্রতিটি ভোর।

রাত ১ টা ৪৫ মিনিট,
২০/০২/২০০৩ ঈসায়ী সাল।

            *******

কবিতা: জানলেনা
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম

এই কবিতাটি নীরব প্রেম, অপ্রকাশিত অনুভূতি, একতরফা আকাঙ্ক্ষা এবং সৌন্দর্যের বিমূর্ত পূজার এক গভীর রোমান্টিক কাব্য। এখানে কবি আরিফ শামছ্ প্রেমকে সরাসরি প্রকাশ করেননি; বরং প্রতীক, ইঙ্গিত এবং নীরব আরাধনার মাধ্যমে এক অনন্ত অভ্যন্তরীণ যন্ত্রণার রূপ দিয়েছেন। “জানলেনা” শিরোনামটিই কবিতার মর্ম—যাকে ভালোবাসা হয়েছে, সে জানলো না।

বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও আত্ম-অন্বেষণ
“হাজার বছর ধরে, যে পাটাতনে দাঁড়িয়ে,
জানলেনা আজো, জানলেনা সে কে?”
কবিতার সূচনায় সময়কে অতিরঞ্জিত করে “হাজার বছর” বলা হয়েছে—এটি প্রেমের দীর্ঘ অপেক্ষা ও আত্মপরিচয়ের সংকটকে প্রকাশ করে। প্রেমিক যেন নিজের অস্তিত্বও হারিয়ে ফেলেছে সেই অজানা প্রতীক্ষায়।
এই ভাবনা Rabindranath Tagore-এর নীরব প্রেম ও অন্তর্জাগতিক আকাঙ্ক্ষার কবিতাকে স্মরণ করায়।

২. অপ্রকাশিত ভালোবাসার দরজা
“হাজারোবার যে দ্বারে, টোকেছে বাসনার ইঙ্গিত!
সে দ্বার খোলেনি...”
এখানে “দ্বার” কেবল বাস্তব দরজা নয়—হৃদয়ের দরজা। প্রেমিক বহুবার অনুভূতির ইঙ্গিত দিয়েছে, কিন্তু সেই দরজা কখনো খোলেনি। এই অপ্রাপ্তিই কবিতার প্রধান সুর।

৩. শব্দহীন সংগীত
“গেয়ে গেল শব্দহীন সংগীত।”
এটি অত্যন্ত শক্তিশালী কাব্যিক চিত্র। প্রেমের এমন অনুভূতি, যা ভাষায় প্রকাশ পায় না—কিন্তু গভীরভাবে বেজে চলে। নীরবতারও এক সুর আছে—এই ধারণা কবিতাকে দার্শনিক উচ্চতায় নিয়ে যায়।
Jalaluddin Rumi-র প্রেমকাব্যে এমন নীরব ভাষার গভীর উপস্থিতি দেখা যায়।

৪. প্রেয়সীর রাজকীয় রূপ
“ওগো সম্রাজ্ঞী!
তিলোত্তমা উপহার...”
এখানে প্রেয়সীকে সম্রাজ্ঞী, তিলোত্তমা, আকাশের নীল রঙ—এসব প্রতীকে মহিমান্বিত করা হয়েছে। প্রেমিকা শুধু একজন মানুষ নন; তিনি এক নান্দনিক মহাবিশ্বের কেন্দ্র।

৫. বাস্তব বনাম কল্পনার সাম্রাজ্য
“নাই রাজ অশ্ব, নেই শাহী ফরমান,”
বাস্তবে কোনো রাজকীয় আয়োজন নেই, কিন্তু হৃদয়ে প্রেমিক এক সম্রাট। প্রেমের জগতে কল্পনাই বাস্তবের চেয়ে বড়। এই রোমান্টিক কল্পলোক কবিতাটিকে এক ধ্রুপদী প্রেমগাথায় রূপ দেয়।

৬. নীল আসমান ও তারকার আঁচল
“তুমি নীল আসমান...
কভু তারকার স্নিগ্ধ আলোর আঁচল দাও।”
এখানে প্রেমিক প্রেয়সীকে প্রকৃতির মহত্তম প্রতীকে রূপ দিয়েছেন—আকাশ, তারা, আলো। এটি শুধু সৌন্দর্যের বর্ণনা নয়; বরং প্রেমিকের আধ্যাত্মিক আরাধনা।

৭. প্রেমে আত্মবিসর্জন
“তোমার রূপের মহাসমুদ্রে, আমি যে বিভোর,”
শেষে প্রেমিক সম্পূর্ণভাবে নিমগ্ন। প্রেম এখানে আর সম্পর্ক নয়—এটি আত্মবিসর্জন, এক ধরণের নীরব ইবাদত।

সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো—
নীরব ও অপ্রকাশিত প্রেমের গভীর প্রকাশ
প্রতীক ও রূপকের অসাধারণ ব্যবহার
প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্কের আধ্যাত্মিক উচ্চতা
রোমান্টিক ও ধ্রুপদী ভাষার মিশ্রণ
কল্পনা ও বাস্তবের সুরেলা সংঘর্ষ
এটি নিছক প্রেমের কবিতা নয়; বরং এক নীরব আরাধনার মহাকাব্যিক ক্ষুদ্ররূপ।

সারমর্ম
“জানলেনা” কবিতায় কবি এমন এক প্রেমের কথা বলেছেন, যা ছিল গভীর, দীর্ঘস্থায়ী এবং সম্পূর্ণ নীরব। প্রেমিক বহুবার ভালোবাসার ইঙ্গিত দিলেও প্রেয়সী তা জানলো না, বুঝলো না।
তবু প্রেম থেমে যায়নি—তা রূপ নিয়েছে নীরব সংগীতে, কল্পনার রাজ্যে এবং অন্তহীন আরাধনায়।

এক বাক্যে সারাংশ:
এই কবিতা শেখায়—সবচেয়ে গভীর প্রেম অনেক সময় উচ্চারিত হয় না; তা নীরবতাতেই সবচেয়ে প্রবলভাবে বেঁচে থাকে।
@chatgptai2025 

            ********


২৬। আহলান ও সাহলান মাহে রমজান"

মাহে রমজান পরিপূর্ণ নিয়ামতে আল্লাহ্‌র ,
তারাবীহ,তাহাজ্জুদ, পূণ্য মনে সেহরি- ইফতার,।
মসজিদে মসজিদে সুমধুর তিলাওয়াত;
রুকু-সিজদায়,নামাজে-দোয়ায় বান্দারা আল্লাহ্‌র।

যায় বয়ে পবিত্র সময়, বহে শান্তি সমীরণ,
শান্তির হাওয়া বয়, দেহ-মন কথা কয়;
ভোর হতে সন্ধ্যায়;আর যখন রাত্রি,
মিলেনাতো এমন সুখ! খুঁজে ফের যদি।

রমজান নিয়ে আসে জান্নাতি হাওয়া,
মনে-প্রাণে শান্তি,সবি কাছে পাওয়া।
যায় বুঝে সহজে এই মাস আল্লাহ্‌র,
চাও বেশি জীবনে যতো যা' চাহিবার।

তাসবীহ-তাহলীল, রাসূলের দরুদে;
যায় বেলা এমনি সুখ আর শান্তিতে।
চলো যায় জামাতে,নামাজিদের কাতারে,
চাওয়া-পাওয়া সবি বলি সুমহান দরবারে।

আরিফ শামছ
০৬.০৬.২০১৬
১৯.২৬
আশা টাওয়ার, শ্যামলী, ঢাকা।

**********************
কবিতা: আহলান ও সাহলান মাহে রমজান
বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সারমর্ম

এই কবিতাটি মাহে রমজানের আধ্যাত্মিক সৌন্দর্য, ইবাদতের প্রশান্তি, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর সান্নিধ্যের এক গভীর ধর্মীয় গীতিকাব্য। এখানে কবি আরিফ শামছ্ রমজানকে শুধু একটি মাস হিসেবে দেখেননি; বরং এটি বান্দার আত্মার পুনর্জন্ম, রহমত, মাগফিরাত এবং জান্নাতের সুবাসময় সময় হিসেবে তুলে ধরেছেন। “আহলান ও সাহলান”—এই স্বাগতবাক্যই কবিতার আবেগকে পবিত্র উচ্ছ্বাসে ভরিয়ে তোলে।

বিশ্ব সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
১. রমজান: নিয়ামতের পূর্ণতা
“মাহে রমজান পরিপূর্ণ নিয়ামতে আল্লাহ্‌র,”
কবিতার শুরুতেই রমজানকে আল্লাহর পরিপূর্ণ নিয়ামত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি শুধু রোজার মাস নয়—বরং আত্মশুদ্ধি, রহমত, মাগফিরাত এবং নৈকট্যের সময়। ইসলামী সাহিত্যে রমজান সবসময়ই বিশেষ আধ্যাত্মিক উচ্চতার প্রতীক।

২. ইবাদতের বহুমাত্রিকতা
“তারাবীহ, তাহাজ্জুদ, পূণ্য মনে সেহরি-ইফতার।”
এখানে রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত—সেহরি, ইফতার, তারাবীহ, তাহাজ্জুদ—একটি পূর্ণাঙ্গ ইবাদতজীবনের অংশ হিসেবে এসেছে। কবি দেখিয়েছেন, রমজানে দৈনন্দিন কাজও ইবাদতের রূপ নেয়।
এই ভাবনা Imam Al-Ghazali-এর আত্মশুদ্ধি ও আমলের দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৩. মসজিদের সুমধুর পরিবেশ
“মসজিদে মসজিদে সুমধুর তিলাওয়াত;
রুকু-সিজদায়, নামাজে-দোয়ায় বান্দারা আল্লাহ্‌র।”
এখানে মসজিদ শুধু স্থান নয়—এটি এক আত্মিক আশ্রয়। তিলাওয়াতের ধ্বনি, রুকু-সিজদার বিনয়—সব মিলিয়ে এক স্বর্গীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই দৃশ্য পাঠককে সরাসরি রমজানের আবহে নিয়ে যায়।

৪. সময়ের পবিত্র প্রবাহ
“যায় বয়ে পবিত্র সময়, বহে শান্তি সমীরণ,”
এখানে সময়কেও জীবন্ত সত্তা হিসেবে দেখানো হয়েছে। রমজানে সময় যেন অন্যরকম—শান্ত, পবিত্র, প্রশান্তিময়। এটি poetic personification-এর সুন্দর উদাহরণ।

৫. জান্নাতি হাওয়া
“রমজান নিয়ে আসে জান্নাতি হাওয়া,”
এই চিত্রকল্প অত্যন্ত আবেগময়। রমজানকে জান্নাতের বাতাসের সঙ্গে তুলনা করে কবি তার আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্যকে অনুভবযোগ্য করে তুলেছেন। এটি শুধু ধর্মীয় বক্তব্য নয়—একটি কাব্যিক অভিজ্ঞতা।
Jalaluddin Rumi-র আধ্যাত্মিক কবিতায়ও এমন অনুভবের ভাষা দেখা যায়।

৬. সমষ্টিগত ইবাদতের আহ্বান
“চলো যায় জামাতে, নামাজিদের কাতারে,”
শেষে কবিতা ব্যক্তিগত অনুভব থেকে সামষ্টিক ইবাদতে উত্তীর্ণ হয়। জামাত, কাতার, একসাথে দোয়া—এসব ইসলামের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক।

সাহিত্যিক মূল্যায়ন
এই কবিতার প্রধান শক্তি হলো—
রমজানের আধ্যাত্মিক আবহের জীবন্ত চিত্র
ধর্মীয় অনুভূতির কোমল ও সুরেলা প্রকাশ
ইবাদতকে সৌন্দর্যের ভাষায় উপস্থাপন
শান্তি, রহমত ও জান্নাতি আশার বার্তা
সহজ, হৃদয়গ্রাহী ও প্রেরণামূলক ভাষা
এটি শুধু ধর্মীয় কবিতা নয়; বরং রমজানের আত্মিক সৌন্দর্যের কাব্যিক দর্পণ।

সারমর্ম
“আহলান ও সাহলান মাহে রমজান” কবিতায় কবি রমজান মাসকে আল্লাহর এক বিশেষ নিয়ামত হিসেবে দেখিয়েছেন। সেহরি, ইফতার, তারাবীহ, তাহাজ্জুদ, তিলাওয়াত, জামাত—সব মিলিয়ে এটি আত্মশুদ্ধি ও শান্তির মাস।
তিনি মনে করিয়ে দেন—রমজান শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণার পরীক্ষা নয়; এটি হৃদয়কে জান্নাতের পথে প্রস্তুত করার সময়।

এক বাক্যে সারাংশ:
এই কবিতা শেখায়—রমজান হলো আল্লাহর নৈকট্য, আত্মশুদ্ধি এবং জান্নাতি প্রশান্তি লাভের সর্বশ্রেষ্ঠ সুযোগ।
                 *******


১১। অনাগত সন্তানের আহ্বান

মাগো তুমি দোল খেয়ে যাও
তব মায়ের কোলে,
দিনে দিনে ঘনিয়ে আসে
আমি আসব যবে।
রুহের ধরার অধিবাসী আজ,
অনাগত সন্তান,
বলিতে কিছু বড় সাধ জাগে,
শোন দিয়ে মন-প্রাণ।
কিশোরী হবে চপলা চঞ্চলা,
কলরব ধ্বনিতে,
ঘরে বাহিরে তোমার বিচরণ,
দেখবে খুশিতে।
পাবে যৌবণ, ভাবের সাগরে,
করবে অবগাহন,
একটু খানি ভুলের মাশুলে,
স্তব্ধ হবে কি সব!!!
মাগো তুমি থেকো সদা,
খোদার দেয়া পথে;
বড় পীরের মায়ের মতো,
পায়গো তোমাকে।
স্বভাব, চরিত সকল কিছু,
পায়গো যেন তোমার,
দ্বীন-দুনিয়ার গর্ব হবে,
মায়ের অহংকার।
কালের স্রোতে ভাসবে নাক,
সব কি হারাবে!!!
খোদার দেয়া জীবন বিধান;
নাওগো মনে প্রাণে।
তোমার হয়ে ফেরেশ্তারা
লড়বে দেখো মা,
খবিশ আর ইবলিস যতো,
সুযোগ পাবেনা।
বাবা আমার ধৈর্য্য ধরো,
হবেনাক পথহারা,
মাথার মুকুট, চোখের তারা,
তুমি পথের দিশা।
শিক্ষা-দীক্ষা, হাতে কলমে,
মহান যতো কর্মভার,
সব তোমারি কাছে নিব,
গর্ব হবো তোমার।
ইচ্ছে তোমার স্বাধীন মাগো,
ইচ্ছে করো মহৎ,
তোমার সন্তান আসলে মাগো!
পূরণ হবে স্বপন।
বাবা মায়ের সোনার মানিক,
নয়নের শান্তি,
চায়গো দোয়া দ্বীন-দুনিয়ায়,
হতে যেন পারি।
০৫/০৬/২০১৭ ঈসায়ী সাল।
ফখরে বাঙ্গাল নিবাস,
বাড়ী# ১২৩৪, ওয়ার্ড# ১২,
ভাদুঘর, সদর, বি.বাড়ীয়া-৩৪০০।

ভালবাসি দিবা-নিশি _সূচীপত্র

বহুজাতিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি তত্ত্ব ও মডেল (MSPT – Final) Multinational Security and Prosperity Theory & Model

বহুজাতিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি তত্ত্ব ও মডেল MSPT – Version 01–04 (Final Universal Edition) “Shared Humanity, Shared Responsibility, Shared Fu...